মুখ দিয়ে পেমেন্টের সেবা ছাড়লেও ছবি সব সময় মুছে যায় না
টসের ফেসপে সেবা ছেড়ে যাওয়ার পরও গ্রাহকেরা অন্তত একটি লেনদেন করে থাকলে তাদের আসল মুখের ছবি এক বছর সংরক্ষণ করে। নেভার পে তার ফেসসাইন সেবা থেকে প্রত্যাহারের পর ৯০ দিন আসল ছবি রাখে। দুই প্রতিষ্ঠানই বলেছে, গ্রাহক সেবা ব্যবহার বন্ধ করার পরও আসতে পারে এমন পেমেন্ট-সংক্রান্ত অভিযোগের জবাব দিতে এই সময় পর্যন্ত তথ্য রাখা হয়।
সূচিপত্র
- মুখ দিয়ে পেমেন্টের সেবা ছাড়লেও ছবি সব সময় মুছে যায় না
- কেন প্রতিষ্ঠানগুলো ছবি রাখে
- ছবি ও বায়োমেট্রিক টেমপ্লেটের আইনি বিবেচনা আলাদা
- দ্রুত বিস্তার, তবে নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য
- সেবার বিস্তারের সঙ্গে প্রত্যাহারের সংখ্যাও বেড়েছে
- ক্ষতিপূরণের ১০টি ঘটনা মানেই শনাক্তকরণে ১০টি ভুল নয়
- নিরাপত্তার দাবি সমস্যার কেবল এক দিকের সমাধান করে
- অভিযোগের নথি ও ক্ষতিপূরণের নিয়মে ঘাটতি রয়েছে
- গোপনীয়তা তদারকি আছে, তবে সংরক্ষণের মানদণ্ড অনির্ধারিত
- মূল বিষয়গুলো
টসের সংরক্ষণসূচি বেশ নির্দিষ্ট: লেনদেনের ইতিহাস থাকা ব্যবহারকারীদের ছবি সেবা ছাড়ার পরদিন রাত ১টায় আলাদা ডেটাবেসে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং ৩৬৬তম দিনে সকাল ১০টায় ধ্বংস করা হয়। নিবন্ধন করলেও কখনো লেনদেন করেননি এমন ব্যবহারকারীদের ছবি সেবা ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ধ্বংস করা হয়।
এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সম্মতি প্রত্যাহার করলে মুখ-সংক্রান্ত অন্য ধরনের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে মুছে যায়: কাউকে শনাক্ত করতে ব্যবহৃত সংখ্যাভিত্তিক বৈশিষ্ট্যগুলো। ব্যবহারকারী সেবা ছাড়লে বা সম্মতি প্রত্যাহার করলে টস ও নেভার পে—দুই প্রতিষ্ঠানই এসব বায়োমেট্রিক টেমপ্লেট মুছে ফেলে। ফলে শনাক্তকরণের টেমপ্লেট মুছে যাওয়ার পরও আসল ছবি থেকে যেতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিধিমালায় সাধারণ মুখের ছবি এবং কাউকে শনাক্ত করার জন্য প্রযুক্তিগতভাবে তৈরি তথ্যের মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে। বিতর্কটি মুখ দিয়ে পেমেন্টের সেবা সম্পূর্ণভাবে গোপনীয়তা আইনের বাইরে চলে কি না, তা নিয়ে নয়। বরং প্রশ্ন হলো, বর্তমান বিধিমালা সংরক্ষিত ছবিগুলোকে যথেষ্টভাবে নিয়ন্ত্রণ করে কি না, প্রতিষ্ঠানগুলোর কত দিন সেগুলো রাখা উচিত এবং পেমেন্টের ভুল কীভাবে নথিভুক্ত করা হবে।
ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতা পার্ক সাং-হিয়ক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, টসের সংরক্ষণনীতির বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ আগের বছরের সেপ্টেম্বরে আর্থিক তদারকি পরিষেবায় জমা দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগটির বিবরণে বলা হয়, প্রায় এক বছর পরও সেটির নিষ্পত্তি হয়নি। নিষ্পত্তির কোনো তারিখ জানানো হয়নি।
কেন প্রতিষ্ঠানগুলো ছবি রাখে
টস বলেছে, গ্রাহকেরা সাধারণত পেমেন্ট-সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে যতটা সময় নেন, তাদের সংরক্ষণকাল সেই সময়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত। ব্যবহারকারী সেবা ছাড়ার পর ৯০ দিন ছবি রাখার কারণ হিসেবেও নেভার পে পেমেন্টের ভুল নিয়ে পরবর্তী সময়ে অভিযোগ আসার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছে।
দুই নীতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। এক বছর নেভার পের ৯০ দিনের প্রায় চার গুণ, যদিও টস শুধু মাসের সংখ্যা উল্লেখ না করে ৩৬৬তম দিনে ছবি ধ্বংসের কথা বলেছে। এই সময়সীমাগুলোর কোনোটি শিল্পখাতের সাধারণ মানদণ্ড বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত সময়সীমা—এমন প্রমাণ বিবরণগুলোতে নেই।
সেবা ছাড়ার পর টস সংরক্ষিত ছবিগুলো সক্রিয় ডেটাবেস থেকে আলাদা করে। এটি তথ্য সংরক্ষণের একটি সুরক্ষাব্যবস্থা, তবে মুছে ফেলা নয়। সাবেক গ্রাহকের ক্ষেত্রে মূল বিষয়টি হলো, মুখ দিয়ে পেমেন্টের সেবার সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটি ছবিটি রেখে দেয়।
অভিযোগ মোকাবিলার যুক্তিতে একটি ব্যবহারিক প্রশ্নের উত্তর নেই: অন্য লেনদেনের নথির বদলে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত আসল ছবিই কেন রাখতে হবে? টসে এক বছর বা নেভার পেতে ৯০ দিন সংরক্ষণ কেন প্রয়োজন, তা ব্যাখ্যা করে কোনো বিস্তারিত মূল্যায়নের উল্লেখ নেই। বিবরণগুলোতে এসব ছবি সংরক্ষণের জন্য পেমেন্ট-নির্দিষ্ট কোনো আইনগত সর্বোচ্চ সময়সীমাও চিহ্নিত করা হয়নি।
ছবি ও বায়োমেট্রিক টেমপ্লেটের আইনি বিবেচনা আলাদা
বায়োমেট্রিক টেমপ্লেট হলো মুখের বৈশিষ্ট্যের সংখ্যাভিত্তিক রূপ, যা সফটওয়্যার একটি মুখের সঙ্গে আরেকটি মুখ মেলাতে ব্যবহার করে। এটি সাধারণ ছবির থেকে আলাদা, যদিও ছবি থেকে এমন টেমপ্লেট তৈরি করা যায়।
এখানে বর্ণিত দক্ষিণ কোরিয়ার গোপনীয়তা কাঠামো অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত বা প্রমাণীকরণের জন্য প্রযুক্তিগতভাবে তৈরি মুখের বৈশিষ্ট্য-সংক্রান্ত তথ্য সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য। এ ক্ষেত্রে আলাদা সম্মতি ও এনক্রিপশনের শর্ত প্রযোজ্য। সাধারণ ক্যামেরায় তোলা ছবি ব্যক্তিগত তথ্য, তবে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে একই সংবেদনশীল তথ্যের শ্রেণিতে পড়ে না।
এই পার্থক্য থেকেই বোঝা যায়, প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে শনাক্তকরণের টেমপ্লেট তাৎক্ষণিকভাবে মুছে ফেলেও আসল ছবি রাখতে পারে। এর অর্থ এই নয় যে ছবির কোনো গোপনীয়তা সুরক্ষা নেই, কিংবা যেকোনো সংরক্ষণকাল স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনসম্মত। বরং দুই ধরনের তথ্যকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়; ফলে আসল ছবি কত দিন রাখা হবে এবং তার যৌক্তিকতা কী—তা-ই এই বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে।
বিষয়টি উত্থাপনকারী ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতা পার্ক সতর্ক করে বলেছেন, ছবি সংরক্ষণ করলে পেমেন্ট সেবার বাইরেও ঝুঁকি তৈরি হয়:
সংরক্ষিত অবস্থায় এগুলো ফাঁস হলে অন্য সেবায় প্রমাণীকরণের জন্য বা ডিপফেক-সংক্রান্ত অপরাধে অপব্যবহার করা হতে পারে।
এই সতর্কবার্তায় তথ্য ফাঁস হলে কী ঘটতে পারে, তা বলা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের সংরক্ষিত মুখের ছবি ফাঁস হয়েছে বা এ ধরনের অপরাধে ব্যবহৃত হয়েছে—বিবরণগুলোতে এমন প্রমাণ নেই।
দ্রুত বিস্তার, তবে নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য
মুখ দিয়ে পেমেন্টে নিবন্ধিত মুখের সঙ্গে কার্ড বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যুক্ত করা হয়। নিবন্ধনের পর গ্রাহক মানিব্যাগ বা স্মার্টফোন না দেখিয়েই টার্মিনালের ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে পেমেন্ট করতে পারেন। পুরো প্রক্রিয়ায় এক সেকেন্ডেরও কম সময় লাগে বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম মুখ দিয়ে পেমেন্টের সেবা চালু করে শিনহান কার্ড, ২০২০ সালে। শুরুতে সেবাটির ব্যবহার তেমন গতি পায়নি। পরে টস ও নেভার পে যথাক্রমে ফেসপে ও ফেসসাইনের মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারিত করে। টস নিবন্ধনের সময় ৫,০০০ বা ১০,০০০ ওন মূল্যের কুপন দিয়েছে, আর নেভার পে পয়েন্ট ও পেমেন্ট ব্যালান্সের সঙ্গে সেবাটি যুক্ত করেছে।
প্রতিবেদনগুলোতে নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা নিয়ে পার্থক্য রয়েছে। একটি বিবরণে বলা হয়েছে, আগের বছরের শেষ দিকে টস ফেসপের নিবন্ধন ছিল ১০ লাখ, জুলাইয়ে ৭০ লাখ এবং আগস্টে ৮৪ লাখ। ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবরের তারিখে প্রকাশিত আরেকটি বিবরণে বলা হয়েছে, টস ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেসপে চালু করে এবং ২০২৬ সালের আগস্টে মোট নিবন্ধন ৭০ লাখ ছাড়ানোর কথা জানায়।
অক্টোবরের সংখ্যাটি একটি নিম্নসীমা, তাই তা ৮৪ লাখের সঙ্গে অপরিহার্যভাবে সাংঘর্ষিক নয়। তবে হিসাবের পদ্ধতি বা তথ্য প্রকাশের তারিখ একই কি না, তা বিবরণগুলোতে ব্যাখ্যা করা হয়নি। প্রথম বিবরণের আপেক্ষিক তারিখগুলোতে স্পষ্ট করে কোনো সাল উল্লেখ নেই; সেগুলোকে অক্টোবরের বিবরণের তারিখের সঙ্গে একই ধরে নেওয়া উচিত নয়।
প্রথম সেটের সংখ্যাগুলোর হিসাবে নিবন্ধন ১০ লাখ থেকে বেড়ে ৮৪ লাখ হয়েছে—অর্থাৎ বৃদ্ধি ৭৪ লাখ এবং মোট সংখ্যা আগের স্তরের ৮.৪ গুণ। অক্টোবরের বিবরণে উদ্ধৃত টসের অভ্যন্তরীণ তথ্য আরও বলছে, ২০২৬ সালের জুনে ফেসপে দিয়ে একবারও পেমেন্ট করেছেন এমন মানুষের প্রায় ৬০ শতাংশ আবার সেবাটি ব্যবহার করেছেন। নিবন্ধন ও পুনর্ব্যবহারের হিসাব আলাদা বিষয়; তাই কোনো সংখ্যাই নিয়মিত সেবাটি ব্যবহার করেন এমন গ্রাহকের সংখ্যা জানায় না।
সেবার বিস্তারের সঙ্গে প্রত্যাহারের সংখ্যাও বেড়েছে
সংরক্ষণনীতি নিয়ে বিরোধের বিবরণে বলা হয়েছে, ফেসপের সম্মতি প্রত্যাহারের সংখ্যা এপ্রিলে ১৫,১৭৬ থেকে মে মাসে বেড়ে ৪৫,৬০৫ হয়েছে। বৃদ্ধি ৩০,৪২৯; মে মাসের মোট সংখ্যা এপ্রিলের প্রায় তিন গুণ।
এই সংখ্যাগুলো প্রত্যাহারের অনুরোধ বেড়েছে বলে দেখায়, তবে প্রত্যাহারের হার জানায় না। প্রতি মাসে সক্রিয় বা সম্মতিদাতা ব্যবহারকারীর তুলনাযোগ্য সংখ্যা দেওয়া হয়নি। ছবি সংরক্ষণ, গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ বা পেমেন্টের সমস্যার কারণে কতজন প্রত্যাহার করেছেন, তাও এই সংখ্যা থেকে বোঝা যায় না।
২০২৬ সালের অক্টোবরের বিবরণে বর্ণিত বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের ফলে দৈনন্দিন আরও অনেক জায়গায় মুখ দিয়ে পেমেন্ট চালু হতে পারে। প্রায় ৫,০০০টি ক্ষুদ্র ও মাঝারি সুপারমার্কেট এবং ৭০০টি চিকেন ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য টার্মিনার সরবরাহের উদ্যোগ চলছিল। এগুলো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা, ইতিমধ্যে লেনদেন হচ্ছে এমন দোকানের নিশ্চিত সংখ্যা নয়।
সেবার এই বিস্তারে পেমেন্ট প্রমাণীকরণ বন্ধ করা এবং সংশ্লিষ্ট সব তথ্য মুছে ফেলার পার্থক্যটি ক্রমেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। লাখ লাখ নিবন্ধনের পাশাপাশি সেবা ছাড়ার পর টেমপ্লেট তাৎক্ষণিকভাবে মুছে ফেলা এবং ছবি রেখে দেওয়া—দুই ঘটনাই ঘটতে পারে। প্রত্যাহার করলে প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকা সব ধরনের তথ্যের ক্ষেত্রে একই প্রভাব পড়ে না।
ক্ষতিপূরণের ১০টি ঘটনা মানেই শনাক্তকরণে ১০টি ভুল নয়
ফেসপে পেমেন্টে ভুল নিয়ে অভিযোগের ঘটনায় টস ১০ বার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে একটি ঘটনা ছিল, দোকানের কর্মী গ্রাহকের হয়ে ফেসপে বোতাম চাপার পর পেমেন্ট হয়ে যায়।
টস বলেছে, ক্ষতিপূরণ দেওয়া মানেই প্রতিটি ঘটনায় প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল বা দায়টি প্রতিষ্ঠানের—এমন নয়। প্রতিষ্ঠানটির ব্যাখ্যা, ব্যবসার শুরুর দিকে সমস্যায় গ্রাহকের নিজের ভূমিকা ছিল কি না তা নির্ধারণের আগেই তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল।
২০২৬ সালের অক্টোবরের বিবরণে টস আলাদাভাবে বলেছে, একজনের মুখকে অন্যজনের মুখ ভেবে ভুল করে ভুল অ্যাকাউন্ট থেকে পেমেন্ট নেওয়ার কোনো ক্ষতিপূরণ-দাবি তারা পায়নি। এই বক্তব্য পেমেন্ট-সংক্রান্ত কোনো অভিযোগই আসেনি—এমন দাবির চেয়ে সীমিত।
এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিবন্ধিত ব্যক্তিকে কোনো ব্যবস্থা ঠিকভাবে শনাক্ত করলেও পেমেন্ট করতে চাননি এমন কাউকে বেছে নিতে পারে। টস স্বীকার করেছে, ক্যামেরার সামনে যদি কেবল অন্য কোনো নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর মুখ আসে, তাহলে সেই ব্যবহারকারীর পেমেন্ট হয়ে যেতে পারে। এটি সফটওয়্যারের দুই ব্যক্তির পরিচয় গুলিয়ে ফেলার থেকে আলাদা ঘটনা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবি ছড়িয়েছে যে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কারও অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কাটা হয়েছে বা তার ছবি ব্যবহার করে পেমেন্ট করা হয়েছে। এগুলো অভিযোগ; বিবরণগুলোতে যাচাই করা প্রযুক্তিগত তথ্য নয়। তাই ক্ষতিপূরণের ১০টি ঘটনা, পরিচয় গুলিয়ে ফেলার ক্ষতিপূরণ-দাবি পাওয়ার কথা টসের অস্বীকার এবং ক্যামেরা দিয়ে ব্যবহারকারী বাছাইয়ের বর্ণিত পরিস্থিতিকে শনাক্তকরণের ভুলের একটিমাত্র সংখ্যায় মিলিয়ে ফেলা উচিত নয়।
নিরাপত্তার দাবি সমস্যার কেবল এক দিকের সমাধান করে
টসের দাবি, তাদের মুখের প্রমাণীকরণের নির্ভুলতা ৯৯.৯৯ শতাংশ। নেভার পে বলেছে, তাদের মুখ শনাক্তকরণের নির্ভুলতা ৯৯ শতাংশের বেশি। এগুলো প্রতিষ্ঠানগুলোর দেওয়া হিসাব। পরীক্ষার অভিন্ন শর্ত, সংজ্ঞা বা স্বাধীন মূল্যায়নের ফল না থাকায় এ দিয়ে দুই সেবার সরাসরি তুলনামূলক অবস্থান নির্ধারণ করা যায় না।
দুই সেবাই নিরাপত্তার কয়েকটি ধাপের কথা জানিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মুখ শনাক্তকরণ, ছবির মান যাচাই, পরিবর্তিত বা কারসাজি করা ইনপুট শনাক্ত করা, পরিচয় মেলানো এবং অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত করা। লাইভনেস ডিটেকশন যাচাই করে ক্যামেরায় সত্যিকারের মানুষ দেখা যাচ্ছে, নাকি ছবি বা ভিডিও। জালিয়াতি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা সন্দেহজনক ধরন আছে কি না, তা দেখতে লেনদেন পরীক্ষা করে।
টস একই রকম দেখতে মুখ আলাদা করার একটি মডেল এবং কিছু ক্ষেত্রে, যেমন অভিন্ন যমজের ক্ষেত্রে, দ্বিতীয় ধাপের প্রমাণীকরণের কথাও জানিয়েছে। নেভার পের গ্রাহক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ক্যামেরায় একসঙ্গে একাধিক মুখ এলে পেমেন্ট ব্যর্থ হতে পারে।
এই নিয়ন্ত্রণগুলো ভিন্ন ভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলা করে। লাইভনেস যাচাইয়ের লক্ষ্য হলো মানুষের বদলে ছবি ব্যবহার করে পেমেন্টের চেষ্টা ঠেকানো। পরিচয় মেলানোর কাজ হলো ব্যক্তি কে, তা যাচাই করা। এই বিবরণগুলোর কোনোটিই একা প্রমাণ করে না যে ক্যামেরা যাকে বেছে নিয়েছে, তিনি কেনাকাটার অনুমতি দিতে চেয়েছিলেন।
প্রতিষ্ঠানগুলো এনক্রিপশন এবং মুখের তথ্যকে সংখ্যাভিত্তিক বৈশিষ্ট্যে রূপান্তর করার কথাও জানিয়েছে। টস বলেছে, নেটওয়ার্ক-বিচ্ছিন্ন পরিবেশে মুখ-সংক্রান্ত তথ্য রাখা হয় এবং এনক্রিপশনহীন আসল তথ্য ধ্বংস করা হয়। এর অর্থ এই নয় যে সব আসল ছবি তাৎক্ষণিকভাবে মুছে ফেলা হয়: প্রত্যাহার-সংক্রান্ত নীতির আওতায় এনক্রিপ্ট করা ছবিও রাখা হতে পারে।
অভিযোগের নথি ও ক্ষতিপূরণের নিয়মে ঘাটতি রয়েছে
পার্কের দপ্তরে জমা দেওয়া আর্থিক তদারকি পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, আগের এক বছরে মুখ শনাক্তকরণের পেমেন্ট নিয়ে ছয়টি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। এই সংখ্যার সঙ্গে টসের ১০টি ক্ষতিপূরণের ঘটনার সরাসরি তুলনা করা যায় না। একটিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পাওয়া অভিযোগ গোনা হয়েছে; অন্যটিতে প্রতিষ্ঠানটি যতবার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে, তা গোনা হয়েছে।
মুখ দিয়ে পেমেন্টের ভুল নিয়ন্ত্রক সংস্থার সরকারি দুর্ঘটনা-প্রতিবেদনের পরিসংখ্যানে দেখা যায় না বলেও জানানো হয়েছে, কারণ শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী সেগুলো ওই প্রতিবেদন-সংক্রান্ত শর্তের আওতায় পড়ে না। তাই পরিসংখ্যানে কোনো ঘটনা না থাকার অর্থ এই নয় যে কোনো অভিযোগ ঘটেনি।
আইনি পার্থক্যটি অনুমোদন-সংক্রান্ত। ইলেকট্রনিক আর্থিক লেনদেন আইনের প্রাসঙ্গিক ক্ষতিপূরণ-শ্রেণি সম্পর্কে বিবরণে বলা হয়েছে, জালিয়াতিমূলক পেমেন্টের ঘটনায় অননুমোদিত তৃতীয় পক্ষের করা লেনদেনকে কেন্দ্র করে নিয়মটি প্রযোজ্য। এমন তৃতীয় পক্ষের অপব্যবহার না থাকলে পেমেন্টের ভুলকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই ধরনের দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।
টস বলেছে, জালিয়াতিমূলক লেনদেনের ক্ষতির জন্য তারা পূর্ণ ক্ষতিপূরণ নীতি অনুসরণ করে। নেভার পে এমন গ্রাহকদের জন্য আলাদা সহায়তা-প্রক্রিয়া রেখেছে, যারা তাদের করা নয় এমন ফেসসাইন পেমেন্টের কথা জানান। এসব ব্যবস্থার অর্থ এই নয় যে বিরোধপূর্ণ সব পেমেন্টের আইনি মর্যাদা এক বা সবার ক্ষেত্রে একইভাবে সাড়া দেওয়া হবে।
অমীমাংসিত প্রশ্ন হলো, কোনো ব্যক্তিকে ঠিকভাবে শনাক্ত করা হলেও তিনি পেমেন্ট করতে না চাইলে তার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কাটা হলে সেটিকে কীভাবে ধারাবাহিকভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হবে। এই প্রশ্নের নিষ্পত্তিতে নতুন কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন-শ্রেণি, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্ত বা নির্ধারিত শুনানির কথা বিবরণগুলোতে নেই।
গোপনীয়তা তদারকি আছে, তবে সংরক্ষণের মানদণ্ড অনির্ধারিত
ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা কমিশন ২০২৪ সালের মার্চে টসের মুখ দিয়ে পেমেন্ট সেবা নিয়ে আগেই যথাযথতা পর্যালোচনা করেছিল। প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় যাচাই করা মুখের সঙ্গে পেমেন্ট টার্মিনালে ধারণ করা মুখ মেলানোর প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবস্থাপনা ছিল পর্যালোচনার বিষয়। এতে বোঝা যায়, ২০২৬ সালের অক্টোবরের বিবরণে উল্লিখিত আনুষ্ঠানিক চালুর তারিখের আগেই সেবাটি গোপনীয়তা-সংক্রান্ত যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছিল।
সংরক্ষিত ছবি নিয়ে আলাদা একটি হস্তক্ষেপে ভিন্ন পদ্ধতির উদাহরণ পাওয়া যায়। সংরক্ষণ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বর্ণিত বছরের মে মাসে কমিশন মোবাইল ফোন চালুর সময় তুলনা করার পর আসল ছবি ও মুখ-সংক্রান্ত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংসের সুপারিশ করে। এই সুপারিশ ফোন চালুর প্রক্রিয়া নিয়ে, মুখ দিয়ে পেমেন্টের জন্য বাধ্যতামূলক সংরক্ষণসীমা নয়।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও ঘটনাগুলো হলো:
- ২০২০: শিনহান কার্ড দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম মুখ দিয়ে পেমেন্টের সেবা চালু করে।
- মার্চ ২০২৪: ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা কমিশন টসের প্রস্তাবিত মুখ দিয়ে পেমেন্টের গোপনীয়তা-ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে।
- সেপ্টেম্বর ২০২৫: ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর তারিখের বিবরণ অনুযায়ী, টস আনুষ্ঠানিকভাবে ফেসপে চালু করে।
- জুন ২০২৬: টসের অভ্যন্তরীণ হিসাবে ফেসপে দিয়ে অন্তত একবার পেমেন্ট করেছেন এমন মানুষের মধ্যে পুনর্ব্যবহারের হার প্রায় ৬০ শতাংশ ছিল।
- আগস্ট ২০২৬: অক্টোবরের বিবরণে টস মোট নিবন্ধন ৭০ লাখ ছাড়ানোর কথা জানায়; আরেক প্রতিবেদনে আগস্টে ৮৪ লাখের হিসাব দেওয়া হয়েছে, তবে সেখানে সাল স্পষ্ট করে উল্লেখ নেই।
আন্তর্জাতিক তুলনার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা দরকার। সান ফ্রান্সিসকোর মতো জায়গায় পুলিশ ও সরকারি সংস্থার মুখ শনাক্তকরণে বিধিনিষেধের বিষয়টি ব্যক্তিমালিকানাধীন খুচরা পেমেন্টের ব্যবহারের থেকে আলাদা। ইউরোপের জেনারেল ডেটা প্রোটেকশন রেগুলেশন পরিচয় শনাক্ত করতে বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপ করে, তবে টস ও নেভার পের নীতির সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা যায়—এমন বিদেশি ছবি সংরক্ষণের সময়সীমা বিবরণগুলোতে দেওয়া হয়নি।
পার্ক মুখের ছবি সংরক্ষণের সুস্পষ্ট সময়সীমা ও ব্যবস্থাপনার মানদণ্ড নির্ধারণের পাশাপাশি পেমেন্ট-সংক্রান্ত অভিযোগের আরও নিবিড় নজরদারির আহ্বান জানিয়েছেন। আইন প্রণয়ন, প্রতিষ্ঠানের নীতি সংশোধন বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্তের কোনো সময়সূচি উল্লেখ করা হয়নি। আপাতত জানা তথ্য হলো, ব্যবহারকারীরা প্রমাণীকরণের সম্মতি প্রত্যাহার করলেও আসল ছবি সংরক্ষিত থাকতে পারে এবং পেমেন্ট-সংক্রান্ত সব বিরোধ একই সরকারি প্রতিবেদনব্যবস্থায় নথিভুক্ত হয় না।
মূল বিষয়গুলো
- কোনো লেনদেনের ইতিহাস থাকা ব্যবহারকারী সেবা ছাড়লে টস তাদের আসল মুখের ছবি রাখে এবং ৩৬৬তম দিনে সকাল ১০টায় তা ধ্বংস করে।
- যেসব ব্যবহারকারী কখনো লেনদেন করেননি, তাদের ছবি টস তাৎক্ষণিকভাবে মুছে ফেলে। নেভার পে সেবা ছাড়ার পর ৯০ দিন আসল ছবি রাখে।
- ব্যবহারকারী সেবা ছাড়লে বা সম্মতি প্রত্যাহার করলে দুই প্রতিষ্ঠানই বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ টেমপ্লেট তাৎক্ষণিকভাবে মুছে ফেলে।
- পেমেন্ট-সংক্রান্ত অভিযোগের ১০টি ঘটনায় টস ক্ষতিপূরণ দিয়েছে বলে জানা গেছে, তবে প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, সব ঘটনায় প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল না।
- বর্ণিত সময়কালে আর্থিক তদারকি পরিষেবায় ছয়টি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছিল। মুখ দিয়ে পেমেন্টের ভুল তাদের সরকারি দুর্ঘটনা-প্রতিবেদনের পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত নয়।
- নিবন্ধনের সংখ্যা ও তারিখের বিবরণে আগস্টের হিসাব ভিন্ন, তাই সেগুলো থেকে পুরোপুরি তুলনাযোগ্য একটি মোট সংখ্যা পাওয়া যায় না।
- মুখ দিয়ে পেমেন্টের ছবির জন্য নির্দিষ্ট কোনো সর্বোচ্চ সংরক্ষণসীমা বা নীতি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির সময়সীমার উল্লেখ নেই।






