বৃদ্ধির প্রায় পুরোটাই পরিচালন ব্যয়ে
২০২৭ সালের বাজেটে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পাবে ৪৭.৭০৪ বিলিয়ন রিঙ্গিত। তবে বরাদ্দ ১.১৮৪ বিলিয়ন রিঙ্গিত বাড়লেও উন্নয়ন খাতে যোগ হয়েছে মাত্র ৫ মিলিয়ন রিঙ্গিত। ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম উপস্থাপিত এই বরাদ্দে ৯ হাজারের বেশি চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসককে স্থায়ী নিয়োগের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে রয়েছে পাঁচ বছরের মধ্যে বার্ষিক বরাদ্দে সবচেয়ে কম বৃদ্ধি।
সূচিপত্র
- বৃদ্ধির প্রায় পুরোটাই পরিচালন ব্যয়ে
- বড় বৃদ্ধির পর বরাদ্দ বাড়ার গতি কমেছে
- অতিরিক্ত বরাদ্দ কোথায় যাচ্ছে
- স্থায়ী নিয়োগ মানেই কর্মী ধরে রাখা নয়
- চুক্তির বাইরেও কর্মীসংকট
- ভাতা বাড়িয়ে নির্দিষ্ট কর্মীদের সহায়তা
- সরঞ্জামে বরাদ্দ বাড়লেও কিছু নির্মাণ খাতে কমেছে
- বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রোগী পাঠানোর ব্যবস্থা বাড়ছে, ক্লিনিক প্রকল্পে বরাদ্দ নেই
- ডিজিটাল নথি হাসপাতাল পর্যায়ে চালুর পথে
- মেডিআসাসে সাশ্রয়ী হওয়া নিয়ে প্রশ্ন
- প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার প্রস্তাব বাজেটের বাইরে
- মূল বিষয়গুলো
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২০২৭ সালের ফেডারেল ব্যয় প্রাক্কলন অনুযায়ী, স্বাস্থ্য খাতে পরিচালন ব্যয় ৪০,৯৫৪,৭৯৪,০০০ রিঙ্গিত এবং উন্নয়ন ব্যয় ৬,৭৪৯,৫০৪,৮০০ রিঙ্গিত। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের ৪৬,৫২০,২১৫,৬০০ রিঙ্গিতের তুলনায় বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় ২.৫৫ শতাংশ, যা সাধারণত ২.৫ শতাংশ ধরে উল্লেখ করা হয়।
অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রায় ৯৯.৬ শতাংশ যাচ্ছে পরিচালন ব্যয়ে। বেতন, ওষুধ, সরঞ্জাম এবং হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিচালনার মতো নিয়মিত খরচ এতে অন্তর্ভুক্ত। ২০২৬ সালের মূল প্রাক্কলনের তুলনায় উন্নয়ন বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় ০.০৭ শতাংশ।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুলকেফলি আহমদ বরাদ্দকে স্বাগত জানিয়ে স্থায়ী চিকিৎসক নিয়োগ, সরঞ্জাম কেনা, রোগী সহায়তা এবং মেরামতের বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। চিকিৎসা খাতের সংগঠনগুলোও কয়েকটি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে; তবে তারা সতর্ক করেছে, শুধু চাকরির নিরাপত্তা কর্মীদের চাকরি ছাড়া, অসম বণ্টন কিংবা বিশেষজ্ঞের ঘাটতির সমাধান করবে না।
এখানে মূল পার্থক্য হলো পদে অর্থায়ন করা আর সেই পদে কর্মী ধরে রাখা। ২০২৭ সালের পরিচালন বাজেটে ৩৩৩,০০০টি পদের উল্লেখ রয়েছে, যা ২০২৬ সালের সমান। তবে এই সংখ্যা থেকে কতটি পদে কর্মী আছেন তা জানা যায় না। প্রতিশ্রুত স্থায়ী নিয়োগের ফলে রোগীসেবায় অতিরিক্ত কতজন কর্মী যুক্ত হবেন, বাজেট নথিতেও তা ব্যাখ্যা করা হয়নি।
বড় বৃদ্ধির পর বরাদ্দ বাড়ার গতি কমেছে
আনোয়ার প্রশাসনের আমলে প্রতিবছর স্বাস্থ্য বরাদ্দ বেড়েছে, তবে ২০২৪ সালের বাজেটের পর বৃদ্ধির হার কমেছে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পেশ করা প্রথম মাদানি বাজেটে বরাদ্দ প্রায় ১২ শতাংশ বেড়ে ৩৬.৩ বিলিয়ন রিঙ্গিত হয়। ২০২৪ সালের বাজেটে বৃদ্ধি ছিল ১৩.৫ শতাংশ; এরপর ২০২৫ সালে তা কমে ৯.৮ শতাংশ এবং ২০২৬ সালে ২.৮ শতাংশে দাঁড়ায়।
২০২৭ সালের বাজেটেও এই গতি কমার ধারা অব্যাহত রয়েছে। প্রায় ২.৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি ২০২২ সালের বাজেটের পর সবচেয়ে কম। সে বছর মন্ত্রণালয় পেয়েছিল ৩২.৪ বিলিয়ন রিঙ্গিত, যা আগের চেয়ে ৪৬৮ মিলিয়ন রিঙ্গিত বা ১.৫ শতাংশ বেশি। তবে তুলনার ক্ষেত্রে প্রেক্ষাপট জরুরি: ২০২১ সালের অক্টোবরে উপস্থাপিত ২০২২ সালের বাজেটে মহামারি মোকাবিলার জন্য আলাদা করে আরও ৪ বিলিয়ন রিঙ্গিত বরাদ্দ করা হয়েছিল।
উন্নয়ন ব্যয়ের তুলনাও নির্ভর করে কোন ভিত্তিকে ধরা হচ্ছে তার ওপর। সরকারি প্রাক্কলনে ২০২৬ সালের মূল উন্নয়ন বরাদ্দ ছিল ৬.৭৪৪৫ বিলিয়ন রিঙ্গিত। সে হিসাবে ২০২৭ সালে বৃদ্ধি প্রায় ৫ মিলিয়ন রিঙ্গিত। তবে ২০২৬ সালের সংশোধিত ৬.৬১৪৮ বিলিয়ন রিঙ্গিতের সঙ্গে তুলনা করলে বৃদ্ধি প্রায় ১৩৪.৭ মিলিয়ন রিঙ্গিত বা ২ শতাংশ। প্রায় স্থবিরতার কথাটি মূল বার্ষিক বরাদ্দের সঙ্গে তুলনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সংশোধিত ব্যয় প্রাক্কলনের ক্ষেত্রে নয়।
অতিরিক্ত বরাদ্দ কোথায় যাচ্ছে
বিস্তারিত বরাদ্দে দেখা যায়, বিদ্যমান ও নতুন সেবা চালাতে মন্ত্রণালয় কীভাবে অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে। নতুন স্থাপনা চালুর পরিচালন ব্যয় ৫০ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ৭৫৩.৫৯ মিলিয়ন রিঙ্গিত হয়েছে, অর্থাৎ বেড়েছে ৭০৩.৫৯ মিলিয়ন। ২০২৭ সালের বরাদ্দের প্রায় ৭০৩.৬ মিলিয়ন রিঙ্গিত কর্মীদের বেতন ও সংশ্লিষ্ট অর্থ পরিশোধের জন্য নির্ধারিত হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রগুলোর চিকিৎসা সরঞ্জামের বরাদ্দ ৩৫০ মিলিয়ন রিঙ্গিত বেড়ে ৪.৪০৩ বিলিয়ন থেকে ৪.৭৫৩ বিলিয়ন রিঙ্গিত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পরিচালন বাজেটে বেতন ও সংশ্লিষ্ট ব্যয় ২৪.৮৪২ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ২৫.২৯০ বিলিয়ন রিঙ্গিত হয়েছে; বৃদ্ধি ৪৪৮.৮৪ মিলিয়ন বা প্রায় ১.৮ শতাংশ। মন্ত্রণালয়ের মোট বরাদ্দের প্রায় ৫৩ শতাংশ এ খাতে যায়।
এই পরিসংখ্যানগুলো আলাদা আলাদা প্রশ্নের উত্তর দেয়; এগুলোকে যোগ করে নতুন প্রতিশ্রুতির মোট অঙ্ক হিসেবে দেখানো উচিত নয়। নতুন স্থাপনা চালুর বরাদ্দ নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ব্যয় বোঝায়, আর বেতন খাতের মোট অঙ্ক ব্যয়ের ধরন অনুযায়ী হিসাব করে। একই বেতন ব্যয় দুই বিবরণেই থাকতে পারে।
বেতন খাতে বৃদ্ধির কতটা বিদ্যমান কর্মীদের পারিশ্রমিক বাড়াবে, আর কতটা নতুন নিয়োগ বা স্থাপনা পরিচালনায় ব্যয় হবে, নথিতে তা উল্লেখ নেই। ফলে শুধু বেতন বরাদ্দ বাড়ার ভিত্তিতে কর্মী ধরে রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
স্থায়ী নিয়োগ মানেই কর্মী ধরে রাখা নয়
আনোয়ার ঘোষণা করেছেন, ২০২৭ সালে ৯ হাজারের বেশি চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসককে স্থায়ী পদে নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হবে। এর মধ্যে থাকবেন হাউসম্যানশিপ সফলভাবে সম্পন্ন করা চিকিৎসকেরাও। মেডিকেল অফিসার হিসেবে কাজ শুরুর আগে তত্ত্বাবধানে নেওয়া ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণকে হাউসম্যানশিপ বলা হয়।
বাজেট উপস্থাপনের সময় আনোয়ার এ ঘোষণাকে চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসকদের সমস্যার অবসান হিসেবে তুলে ধরেন:
২০২৭ সালে ৯ হাজারের বেশি চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসককে স্থায়ী পদে নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হবে। অর্থাৎ এরপর হাউসম্যানশিপ সফলভাবে সম্পন্ন করা চিকিৎসকদের মেডিকেল অফিসার হিসেবে স্থায়ী নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হবে।
সরকার জানিয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে ১৫ হাজারের বেশি চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসককে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ২০২৬ সালে ৪ হাজার জন রয়েছেন। ২০১৬ সালে চিকিৎসকের উদ্বৃত্তের প্রেক্ষাপটে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা চালু হয়েছিল। এখনকার চ্যালেঞ্জের একটি হলো, চিকিৎসকেরা স্থায়ী পদ গ্রহণ করছেন না।
স্থায়ী পদে নিয়োগের প্রস্তাব পেয়েও কাজে যোগ না দেওয়া চিকিৎসকের হার ২০২২ সালে ছিল ২ শতাংশ বা ৭৮ জন। ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২০ শতাংশ বা ১,১১৮ জনে এবং ২০২৫ সালে ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান দেখায়, নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া আর বাস্তবে পদে কর্মী থাকা এক বিষয় নয়।
মালয়েশিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (এমএমএ) সভাপতি ডা. সিভানাইসান লেচুমানান বলেছেন, এ ঘোষণা চাকরির নিরাপত্তা ও পেশাগত ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চয়তা দেবে। তবে সংগঠনটি বাস্তবায়নের বিস্তারিত, ন্যায্য কর্মস্থল বণ্টন এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ নিয়ে স্পষ্টতা চেয়েছে। সরকারি চাকরি ছেড়ে যাওয়া সাবেক চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসকেরা ফিরতে পারবেন কি না, তা-ও জানতে চেয়েছে সংগঠনটি।
চুক্তির বাইরেও কর্মীসংকট
গ্যালেন সেন্টার ফর হেলথ অ্যান্ড সোশ্যাল পলিসির হিসাব অনুযায়ী, সরকারি স্বাস্থ্য খাতে ৫০ হাজারের বেশি পদে কর্মী নেই। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী আজরুল মোহাম্মদ খালিব বলেন, ২০২৬ সালের শুরুর দিকে ৫ হাজার প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকের পদের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন মাত্র প্রায় ৫০০ মেডিকেল স্নাতক। অর্থাৎ প্রতি ১০টি বিজ্ঞাপিত পদের জন্য আবেদনকারী ছিলেন প্রায় একজন।
এই নিয়োগসংক্রান্ত পরিসংখ্যানটি প্রশিক্ষণে প্রবেশের বিষয়; বিদ্যমান চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসকদের স্থায়ী পদ দেওয়ার আলাদা প্রতিশ্রুতি নয়। তবে এটি এমন একটি সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে, যা শুধু চাকরির ধরন বদলে সমাধান করা যায় না: সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় নতুন কর্মীর ধারাবাহিক প্রবেশ নিশ্চিত করা।
এমএমএ আলাদাভাবে প্রায় ১১ হাজার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতির কথা জানিয়ে বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষণ, পেশাগত উন্নতি, পারিশ্রমিক ও কর্মপরিবেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। এই হিসাবগুলো ভিন্ন ধরনের কর্মীসংকট বোঝায়; এগুলোকে পরস্পর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা মোট সংখ্যা ধরে যোগ করা উচিত নয়।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মী নিয়োগও উদ্বেগের বিষয়। ৮ অক্টোবর জুলকেফলি পার্লামেন্টে জানান, ২০২৬ সালে সাবাহ ও সারাওয়াকে স্থায়ী পদে নিয়োগের প্রস্তাব পাওয়া ১,০৫৫ জন মেডিকেল অফিসারের মধ্যে ৩৮২ জন কাজে যোগ দেননি। এই হার প্রায় ৩৬ শতাংশ। দুই রাজ্যে ভালো প্রণোদনা ও পেশাগত সুযোগ, আগের শতাংশভিত্তিক আঞ্চলিক প্রণোদনা ভাতা পুনর্বহাল এবং প্রতিটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের কর্মীচাহিদা দেখানো জাতীয় ড্যাশবোর্ড তৈরির আহ্বান জানিয়েছে এমএমএ।
আজরুল কয়েক বছর মেয়াদি, অর্থায়ন নিশ্চিত করা নিয়োগ ও কর্মী ধরে রাখার কর্মসূচি এবং নিয়োগ, পদায়ন, বেতন, কল্যাণ ও পেশাগত উন্নতি ব্যবস্থাপনার জন্য স্বাধীন স্বাস্থ্যসেবা কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, পর্যাপ্ত কর্মী না থাকায় পাসির গুদাং হাসপাতাল এখনো পুরোপুরি চালু করা যায়নি।
ভাতা বাড়িয়ে নির্দিষ্ট কর্মীদের সহায়তা
২০২৭ সালের বাজেটে অতিরিক্ত প্রাথমিক যোগ্যতাসম্পন্ন নার্স ও প্যারামেডিকদের মাসিক প্রণোদনা ১০০ থেকে বাড়িয়ে ২০০ রিঙ্গিত করা হয়েছে। এ উদ্যোগে ৪৭ হাজার কর্মী উপকৃত হবেন। প্রত্যেকে মাসে অতিরিক্ত ১০০ রিঙ্গিত পেলে এবং পুরো ৪৭ হাজার কর্মী এক বছর এই সুবিধা পেলে বার্ষিক ব্যয় হবে ৫৬.৪ মিলিয়ন রিঙ্গিত।
এয়ার হেলথ সার্ভিস ইনসেনটিভ পেমেন্টও ৩০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ রিঙ্গিত করা হয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর সারাওয়াকের মিরিতে লং লেল্লাংয়ে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ফ্লাইং ডক্টর সার্ভিসের ফ্লাইটে থাকা পাঁচজনই নিহত হওয়ার পর এ ঘোষণা আসে। তাঁদের মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চার কর্মী ছিলেন।
বাজেট উপস্থাপনের সময় স্বাস্থ্যকর্মীদের ধরে রাখতে সবার জন্য প্রযোজ্য নতুন পারিশ্রমিক প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়নি; চিকিৎসকদের জন্য তুলনীয় কোনো নতুন বেতন উদ্যোগও চিহ্নিত করা যায়নি। তাই নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য ভাতা বৃদ্ধি বিভিন্ন পেশাজীবী গোষ্ঠীর ভালো বেতন ও কর্মপরিবেশের অমীমাংসিত দাবির বিকল্প নয়; বরং পাশাপাশি থাকা উদ্যোগ।
সরঞ্জামে বরাদ্দ বাড়লেও কিছু নির্মাণ খাতে কমেছে
জীর্ণ ক্লিনিক ও কর্মীদের কোয়ার্টারসহ হাসপাতাল ও ক্লিনিকের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতে সরকার ১.২ বিলিয়ন রিঙ্গিত বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে। এমএমএ বলেছে, ২০২৬ সালের তুলনায় এ বরাদ্দ অপরিবর্তিত। বিশেষজ্ঞ ক্লিনিক কমপ্লেক্স ও জোহর বাহরুর সুলতানাহ আমিনাহ হাসপাতালে ডে-কেয়ার সেন্টার, কুচিংয়ে বিশেষায়িত দন্তচিকিৎসা ক্লিনিক এবং গেরিক ও রেমবাউয়ে সহযোগী স্বাস্থ্যসেবা কমপ্লেক্সসহ নয়টি নতুন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
উন্নয়ন ব্যয়ের বিস্তারিত প্রাক্কলনে সরঞ্জাম ও যানবাহন খাতে বরাদ্দ ২০২৬ সালের সংশোধিত ৭১৭.৫ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ৯৬৮.৭ মিলিয়ন রিঙ্গিত হয়েছে। উন্নয়ন ও মেরামত বরাদ্দ ৩৬৭ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ৪২৯.৫ মিলিয়ন হয়েছে। তবে হাসপাতাল স্থাপনা খাতে বরাদ্দ ৮৭৮.১ মিলিয়ন থেকে কমে ৮২৩.৭ মিলিয়ন রিঙ্গিত হয়েছে; নতুন হাসপাতাল নির্মাণের বরাদ্দও ৬২৪.১ মিলিয়ন থেকে কমে ৪৬২ মিলিয়ন হয়েছে।
সরঞ্জাম কেনার ঘোষণার পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন বিবরণে অমিল রয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় ৭৭০ মিলিয়নের বেশি রিঙ্গিত বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে; পরে জুলকেফলি ৯৬৮ মিলিয়ন রিঙ্গিতের কথা উল্লেখ করেন। সরঞ্জাম ও যানবাহন খাতের বিস্তারিত বরাদ্দ ৯৬৮.৭ মিলিয়ন রিঙ্গিত। এসব অঙ্ককে অভিন্ন ধরে নেওয়া উচিত নয়; কোন ব্যয়ের পরিধি কোন অঙ্কে অন্তর্ভুক্ত, তা মেলানোর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
ঘোষিত কেনাকাটার মধ্যে রয়েছে ৪০০টি অ্যাম্বুলেন্স এবং হেমোডায়ালাইসিসের সরঞ্জাম উন্নত করা। কিডনি যথেষ্ট পরিমাণে রক্ত পরিশোধন করতে না পারলে এই পদ্ধতিতে রক্ত ছেঁকে পরিষ্কার করা হয়। ইউনিভার্সিটি সায়েন্স মালয়েশিয়ার বিশেষায়িত হাসপাতালে রোবোটিক প্রযুক্তি এবং মন্ত্রণালয়ের ১৮টি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে পরীক্ষাগার ও ক্লিনিক্যাল সিমুলেশন সরঞ্জামও কেনা হবে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রোগী পাঠানোর ব্যবস্থা বাড়ছে, ক্লিনিক প্রকল্পে বরাদ্দ নেই
২০২৭ সালের বাজেটে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সরকারি রোগীদের চিকিৎসা করানোর জন্য বরাদ্দ বাড়িয়ে ২০০ মিলিয়ন রিঙ্গিত করা হয়েছে। প্রোটেক্টহেলথ জানিয়েছে, এই অর্থ তাদের হাসপাতাল সেবা আউটসোর্সিং কর্মসূচিতে ব্যয় হবে। অপেক্ষার সময় কমাতে নির্বাচিত চিকিৎসা ও সেবার জন্য সরকারি রোগীদের অংশগ্রহণকারী বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সম্প্রসারিত ব্যবস্থায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, বিশেষায়িত চিকিৎসা এবং বেসরকারি বিশেষজ্ঞদের সেবা দেওয়া সেশন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মালয়েশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট হসপিটালসের সভাপতি ডা. কুলজিত সিং বরাদ্দ এবং বেসরকারি বিশেষজ্ঞদের জন্য সর্বোচ্চ সম্পৃক্ততার মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
তবে আরেকটি সেবার অবস্থা ভিন্ন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ২০২৭ সালের প্রাক্কলনে মাদানি মেডিকেল স্কিমের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। ২০২৬ সালে এ প্রকল্পের অর্থায়ন ১০০ মিলিয়ন থেকে কমে ৫০ মিলিয়ন রিঙ্গিত হয়েছিল। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জালিহা মোস্তফার অধীনে ২০২৩ সালের জুনে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এ প্রকল্পে কম আয়ের যোগ্য ব্যক্তিদের বেসরকারি সাধারণ চিকিৎসকের ক্লিনিকে সামান্য ও স্বল্পমেয়াদি অসুস্থতার চিকিৎসায় ভর্তুকি দেওয়া হয়। দীর্ঘমেয়াদি রোগের নিয়মিত ফলোআপ চিকিৎসা এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।
বরাদ্দ না থাকাকে প্রকল্পটি বন্ধ হওয়া হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে কুয়ালালামপুর হাসপাতালের পরিচালক ডা. হরিকৃষ্ণ কে আর নায়ার ১০ অক্টোবর মাদানি মেডিকেল স্কিমের আওতায় সহজতর চিকিৎসার কেস অন্যত্র পাঠানোর কথা উল্লেখ করে বলেন, এর বরাদ্দ বেড়েছে। এ বক্তব্য বরাদ্দের অনুপস্থিতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক; সম্ভবত তিনি ভিন্ন কোনো আউটসোর্সিং ব্যবস্থার কথা বলেছেন। প্রকল্পটির বর্তমান অবস্থা এবং দুই কর্মসূচির পার্থক্য স্পষ্ট করা দরকার।
পেকা বি৪০-এর জন্য ৮০ মিলিয়ন, মালয়েশিয়া হেলথকেয়ার ট্রাভেল কাউন্সিলের জন্য ২০ মিলিয়ন এবং ন্যাশনাল সেন্টার ফর এক্সেলেন্স ইন মেন্টাল হেলথের জন্য ২১.৬ মিলিয়ন রিঙ্গিত বরাদ্দ অপরিবর্তিত রয়েছে। মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্স ফান্ড বেড়ে ৬০ মিলিয়ন রিঙ্গিত হয়েছে। থ্যালাসেমিয়ার বিনা মূল্যের স্ক্রিনিং এখন থেকে রোগীর জীবনসঙ্গী ও সন্তানদেরও দেওয়া হবে।
ডিজিটাল নথি হাসপাতাল পর্যায়ে চালুর পথে
স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড চালুর জন্য মালয়েশিয়ান কমিউনিকেশনস অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া কমিশন ১ বিলিয়ন রিঙ্গিত বিনিয়োগ করবে। এটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত ৪৭.৭ বিলিয়ন রিঙ্গিত বরাদ্দ থেকে আলাদা একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি; তাই ওই মোট বরাদ্দের অংশ বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
কুয়ালালামপুর হাসপাতালে হরিকৃষ্ণ বলেন, ১৫৬ বছর পুরোনো হাসপাতালটি পুরোপুরি কম্পিউটারভিত্তিক স্বাস্থ্য তথ্যব্যবস্থার দিকে যাওয়ায় অবকাঠামোগত কাজের মধ্যে লিফট বদলানো এবং বিদ্যুৎব্যবস্থা আধুনিক করা রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ১৬টি হাসপাতাল এই ব্যবস্থা চালুর তালিকায় রয়েছে এবং উদ্যোগটির জন্য ২০০ মিলিয়ন রিঙ্গিত বরাদ্দ করা হয়েছে। এই বরাদ্দের সঙ্গে বৃহত্তর ১ বিলিয়ন রিঙ্গিতের প্রতিশ্রুতির সম্পর্ক ব্যাখ্যা করা হয়নি।
হরিকৃষ্ণ বলেন, ডিজিটাল তথ্যে বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞরা প্রবেশাধিকার পাবেন। ফলে রোগীদের প্রতিবার পরামর্শ নেওয়ার সময় একই চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য আবার বলতে হবে না। তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত অর্থায়নে নতুন ওষুধ এবং আরও বেশি চিকিৎসা পদ্ধতি চালু করা যাবে।
বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় আলাদা একটি ডিজিটাল পরিবর্তন আসার কথা। কুলজিত বলেন, ই-সিকেএপিএস পোর্টালের মাধ্যমে ২০২৭ সাল থেকে সম্পূর্ণ অনলাইনে লাইসেন্স দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে; এতে প্রক্রিয়াকরণের সময় সর্বোচ্চ ৬৫ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে। এটি একটি লক্ষ্য, পরিমাপ করা ফল নয়।
মেডিআসাসে সাশ্রয়ী হওয়া নিয়ে প্রশ্ন
সরকার সাশ্রয়ী স্বাস্থ্য সুরক্ষা পরিকল্পনা হিসেবে মেডিআসাস চালুর ঘোষণা দিয়েছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে এটি চালুর কথা রয়েছে। রোগনির্ণয় ও চিকিৎসার ধরন অনুযায়ী হাসপাতালে অর্থ পরিশোধের প্রস্তাব করা হয়েছে; প্রতিটি সেবার জন্য আলাদা বিল করার তুলনায় এতে খরচ আরও অনুমানযোগ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৫৫ বছরের কম বয়সীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডে কর্মচারীদের সঞ্চয় স্কিমের ‘আকাউন্ট সেজাহতেরায়’ জমা অর্থ থেকে প্রিমিয়াম দেওয়ার সুযোগের বিরোধিতা করেছে গ্যালেন সেন্টার। তাদের যুক্তি, এতে অবসরের সময় আর্থিক নিরাপত্তা দুর্বল হবে। প্রথম বছরে ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের যোগ্য কর্মীদের ২০০ রিঙ্গিত ভর্তুকি দেওয়ার প্রস্তাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংস্থাটি।
আজরুল বলেন, ভর্তুকি শেষ হওয়ার পর সাশ্রয়ী থাকার সমস্যার সমাধান না করেই এটি মানুষকে পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত হতে উৎসাহিত করতে পারে। কোন কোন বিষয়ের জন্য সুবিধা পাওয়া যাবে না, প্রিমিয়াম বাড়ার সম্ভাবনা, বিলের কোন অংশ রোগীকে দিতে হবে এবং বিমার আওতায় না থাকা ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ঘোষণায় এসব উদ্বেগের সমাধান হয়নি, কিংবা প্রতিটি পরিবারের জন্য পরিকল্পনাটির চলমান খরচও স্পষ্ট করা হয়নি।
অন্যান্য উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে প্রসবোত্তর সেবার জন্য আয়কর ছাড় বাড়ানো এবং বয়স্কদের সেবায় সার্ভিস ট্যাক্স ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬ শতাংশ করা। বছরে ৯৬,০০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত সেবা ফি পুরোপুরি করমুক্ত থাকবে। গ্যালেন সেন্টার এই করছাড়কে স্বাগত জানালেও বলেছে, যেসব পরিবারের বেসরকারি সেবা নেওয়ার সামর্থ্য নেই বা আয়কর ছাড় থেকে সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নেই, তাদের সহায়তায় এর প্রভাব সীমিত।
আজরুল বাড়িতে সেবা, কমিউনিটি নার্সিং, পুনর্বাসন, পরিবারের পরিচর্যাকারীদের সাময়িক অবকাশ, আবাসিক সেবা এবং উপশমমূলক চিকিৎসা অন্তর্ভুক্ত করে টেকসই অর্থায়নসহ একটি জাতীয় কাঠামো তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। বিদ্যমান বেসরকারি সেবার খরচ কমানো আর যারা সেবা কিনতে পারেন না তাদের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার প্রস্তাব বাজেটের বাইরে
সিগারেটের আবগারি শুল্ক আরেক দফা না বাড়ানো এবং চিনির ভর্তুকি তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি না থাকায় গ্যালেন সেন্টার সমালোচনা করেছে। ২০২৭ সালে সিগারেটের শুল্ক প্রতি শলাকায় ৪২ সেন থেকে বাড়িয়ে ৬৫ সেন এবং এরপর প্রতিবছর বাড়িয়ে ২০৩১ সালের মধ্যে ৯৫ সেন করার প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি।
গ্যালেন সেন্টারের হিসাবে, তাদের প্রস্তাবিত তামাক করের সূচি থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে ২ বিলিয়ন রিঙ্গিতের বেশি অতিরিক্ত রাজস্ব আসতে পারে। চিনি উৎপাদনকারীদের বার্ষিক ভর্তুকি ৪০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন রিঙ্গিত বলে সংস্থাটি অনুমান করেছে। এগুলো সংস্থাটির প্রাক্কলন ও সুপারিশ; ২০২৭ সালের বাজেটে গৃহীত রাজস্ব ব্যবস্থা বা নিশ্চিত সাশ্রয় নয়।
দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ ও নিয়মিত ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি সাধারণ চিকিৎসকদের ভূমিকা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে এমএমএ। মাদানি মেডিকেল স্কিমের বরাদ্দ না থাকার প্রেক্ষাপটে এ প্রস্তাবটি গুরুত্বপূর্ণ, যদিও প্রকল্পটির আওতায় দীর্ঘমেয়াদি রোগের নিয়মিত চিকিৎসা নয়, সামান্য ও স্বল্পমেয়াদি অসুস্থতার সেবা দেওয়া হতো।
পরবর্তী পদক্ষেপগুলো কয়েকটি তারিখের সঙ্গে যুক্ত:
- ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: সারাওয়াকে ফ্লাইং ডক্টর সার্ভিসের হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হন।
- ৮ অক্টোবর, ২০২৬: সাবাহ ও সারাওয়াকে স্থায়ী পদে যোগ না দেওয়া চিকিৎসকের সংখ্যা প্রকাশ করেন জুলকেফলি।
- ৯ অক্টোবর, ২০২৬: আনোয়ার ২০২৭ সালের বাজেট উপস্থাপন করেন এবং ৯ হাজারের বেশি চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসককে স্থায়ী নিয়োগের ঘোষণা দেন।
- ১০ অক্টোবর, ২০২৬: কেএইচএল অবকাঠামো ও ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা তুলে ধরে।
- জানুয়ারি ২০২৭: মেডিআসাস চালুর কথা রয়েছে।
- ২০২৭ সালের মধ্যে: স্থায়ী চিকিৎসক নিয়োগ, ১৬টি হাসপাতালে স্বাস্থ্য তথ্যব্যবস্থা চালু এবং বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স অনলাইনে দেওয়ার কাজ এগোনোর কথা।
বাস্তবায়ন সম্পর্কে এখনো যেসব তথ্য দরকার, তার মধ্যে রয়েছে নিয়োগের প্রস্তাব বাস্তবে কতজন গ্রহণ করেন, সাবেক চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসকেরা ফিরতে পারবেন কি না, মেডিআসাসের প্রিমিয়াম ও সুরক্ষা এবং মাদানি মেডিকেল স্কিমের অবস্থা। রোগীদের অপেক্ষার সময় এবং কর্মী নিয়ে চালু থাকা সেবার সক্ষমতা দেখাবে, ঘোষিত উদ্যোগে সেবার পরিমাণ বেড়েছে কি না।
মূল বিষয়গুলো
- মন্ত্রণালয় ৪৭.৭০৪ বিলিয়ন রিঙ্গিত পাবে, যা ২০২৬ সালের তুলনায় প্রায় ২.৫৫ শতাংশ বেশি।
- অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রায় পুরোটাই পরিচালন ব্যয়ে যাচ্ছে; ২০২৬ সালের মূল বরাদ্দের তুলনায় উন্নয়ন বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় ৫ মিলিয়ন রিঙ্গিত।
- ৯ হাজারের বেশি চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসককে স্থায়ী পদের প্রস্তাব দেওয়া হবে, তবে কর্মী নিয়োগ ও ধরে রাখার ঘাটতি রয়ে গেছে।
- বাজেটে ৪০০টি অ্যাম্বুলেন্স, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র মেরামত এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রোগী পাঠানোর জন্য ২০০ মিলিয়ন রিঙ্গিত রাখা হয়েছে।
- মাদানি মেডিকেল স্কিমের জন্য ২০২৭ সালে কোনো বরাদ্দ নেই; তবে হাসপাতালটির বক্তব্যে প্রকল্পটি চালু থাকার যে ইঙ্গিত, তা স্পষ্ট করা দরকার।
- মেডিআসাস ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে চালুর কথা রয়েছে; সাশ্রয়ী হওয়া ও অবসরকালীন সঞ্চয় নিয়ে উদ্বেগের সমাধান হয়নি।






