ফরাসি তদন্তে আজারবাইজানে থ্যালেসের চুক্তি যাচাই
থ্যালেসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদেশি চুক্তিতে সন্দেহভাজন দুর্নীতির অভিযোগে ২০২৩ সালের জুন থেকে তদন্ত করছে ফ্রান্সের ন্যাশনাল ফিন্যান্সিয়াল প্রসিকিউটরস অফিস। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির আজারবাইজানে কার্যক্রমও রয়েছে। বিদেশে সামরিক ও বেসামরিক সরঞ্জাম বিক্রিতে সন্দেহভাজন অনিয়মের তদন্তের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের জুনে তদন্তকারীরা কোম্পানির বিভিন্ন স্থাপনায় তল্লাশি চালান।
সূচিপত্র
তদন্তে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ৪৮ বছর বয়সী ফরাসি ও তুর্কি নাগরিক মেহমেত সাহান। ২০১৪ সালের মে থেকে ২০২১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তিনি বাকুতে কোম্পানির প্রতিনিধি কার্যালয়ের প্রধান ছিলেন। সাবেক নিয়োগকর্তার অভিযোগের পর ২০২২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি আজারবাইজানে আটক হওয়া সাহান কোম্পানির পরিচালন তহবিল থেকে প্রায় ৫০ লাখ ইউরো আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আত্মসাৎ ও নথি জালিয়াতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ২০২৬ সালের এপ্রিলে আজারবাইজানের একটি আদালত তাঁর ১০ বছরের কারাদণ্ড বহাল রাখে। সাহানের দাবি, থ্যালেসের স্থানীয় ব্যবসায়িক সম্পর্ক ঘিরে সন্দেহভাজন দুর্নীতির খোঁজ নেওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থ্যালেস নাকচ করেছে। কোম্পানিটির বক্তব্য, আজারবাইজানের রায়গুলোতে প্রমাণিত হয়েছে যে সাহানের অনিয়মের শিকার তারা।
এগুলো দুটি পৃথক আইনি কার্যক্রম: একজন সাবেক কর্মীর বিরুদ্ধে আজারবাইজানের মামলা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে ফ্রান্সের তদন্ত। ফরাসি তদন্ত নিজে থেকে সাহানের অভিযোগ প্রমাণ করে না, আবার তাঁর দণ্ডাদেশও ফরাসি কৌঁসুলিরা কী খতিয়ে দেখছেন, তার মীমাংসা করে না।
ফরাসি কৌঁসুলিরা যা তদন্ত করছেন
ফরাসি তদন্তের বিষয় হলো ফ্রান্সের বাইরে সামরিক ও বেসামরিক সরঞ্জাম বিক্রিতে সন্দেহভাজন অনিয়ম। থ্যালেসের যেসব দেশের চুক্তি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, আজারবাইজান তাদের একটি। তবে সাহানের সঙ্গে বিরোধের চেয়ে তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত।
তদন্ত শুরুর এক বছর পর, ২০২৪ সালের জুনে তল্লাশি চালানো হয়। প্রতিবেদনগুলোতে কয়েকটি দেশে কোম্পানির কার্যালয়ে তল্লাশির কথা বলা হয়েছে। মামলার বিবরণে কোন চুক্তি, গ্রাহক, অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা এবং তল্লাশিতে পাওয়া প্রমাণের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, তা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক উপাদান সংগ্রহের সুযোগ দেয় তল্লাশি। এটি দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নয়। ফরাসি তদন্তের কোনো ফলাফল বা তা শেষ হওয়ার তারিখ জানানো হয়নি।
চলমান তদন্ত নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে থ্যালেস। আলাদাভাবে, কোম্পানিটিকে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত করা অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে নাকচ করেছে তারা এবং অবৈধ আচরণের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ: কৌঁসুলিদের তদন্ত নিয়ে আলোচনা না করা স্বীকারোক্তি নয়, আবার কোম্পানির অস্বীকৃতিও তদন্তাধীন অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি করে না।
আঞ্চলিক দায়িত্ব থেকে কারাবাস
বাকুতে থ্যালেসের প্রতিনিধি কার্যালয়ের পরিচালনায় প্রায় সাত বছর কাটিয়েছেন সাহান। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তাঁর দায়িত্বের পরিধি ইউক্রেন ও জর্জিয়া পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ফলে ২০২১ সালের এপ্রিলে তাঁর চাকরি শেষ হওয়ার আগে তাঁর ভূমিকা আজারবাইজানের বাইরেও বিস্তৃত হয়েছিল।
চার সন্তানের বাবা সাহান এর এক বছরেরও কম সময় পর আটক হন। তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক অভিযোগ এবং কারাদণ্ডের রায় দেওয়া বিচারপ্রক্রিয়ার ন্যায্যতা—দুটিই তিনি এখন প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।
ঘটনাক্রমে তাঁর কর্মজীবন, আটক এবং ফরাসি তদন্তের সময়রেখা আলাদা হলেও একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত:
- মে ২০১৪: বাকুতে থ্যালেসের প্রতিনিধি কার্যালয়ের পরিচালনার দায়িত্ব নেন সাহান।
- জানুয়ারি ২০২০: তাঁর দায়িত্ব ইউক্রেন ও জর্জিয়া পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
- এপ্রিল ২০২১: বাকুর কার্যালয়ে তাঁর দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হয়।
- ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২: আজারবাইজানের কর্তৃপক্ষ তাঁকে আটক করে।
- জুন ২০২৩: বিদেশে থ্যালেসের চুক্তি নিয়ে তদন্ত শুরু করে ফ্রান্সের ন্যাশনাল ফিন্যান্সিয়াল প্রসিকিউটরস অফিস।
- জুন ২০২৪: থ্যালেসের বিভিন্ন স্থাপনায় তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা।
- এপ্রিল ২০২৬: সাহানের ১০ বছরের সাজা বহাল রাখে আজারবাইজানের একটি আদালত।
তারিখভিত্তিক এই ঘটনাক্রমে দেখা যায়, তাঁর আটক হওয়া এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলের রায়ের মধ্যে চার বছরেরও বেশি সময়ের ব্যবধান রয়েছে। তাঁর কারাবাস প্রায় পাঁচ বছরে গড়িয়েছে—এমন বর্ণনা কখন লেখা হয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে। নির্দিষ্ট শুরুর তারিখ ২০২২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি।
সাহানের অভিযোগে উঠে আসা স্থানীয় অংশীদাররা
তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার কারণ হিসেবে সাহান আজারবাইজানে থ্যালেসের ব্যবসায় ব্যবহৃত মধ্যস্থতাকারী ও অংশীদারদের কথা বলেছেন। তাঁর দাবি, কোম্পানিটি বাকুভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ভিইএস কনসালটেন্সি এবং লুক্সেমবার্গভিত্তিক শিল্প-অংশীদার কনসেপ্ট ডটকমের ওপর নির্ভর করত।
দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই ১৯৬১ সালে জন্ম নেওয়া আজারবাইজানি নাগরিক খাগানি বাশিরভের সংশ্লিষ্টতা ছিল। ২০০৮ সালে তিনি ফরাসি নাগরিকত্ব পান। শেয়ারহোল্ডার বা পরিচালক হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। এই অভিন্ন যোগসূত্র সাহানের বর্ণনার একটি নির্দিষ্ট অংশ; তবে শুধু এ থেকেই প্রমাণ হয় না যে কোনো প্রতিষ্ঠান অনিয়মে জড়িত ছিল।
২০২০ সালের এক সাক্ষাৎকারে প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা এভাবে বর্ণনা করেছিলেন বাশিরভ:
২০০২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে আজারবাইজানে থ্যালেসের একজন পরামর্শক।
তাঁর উল্লেখ করা সময়ের সঙ্গে বাকুতে সাহানের নেতৃত্বের প্রথম তিন বছর মিলে যায়। একই সঙ্গে, সাহান দায়িত্ব নেওয়ার অনেক আগেই তাঁর কথিত পরামর্শক সম্পর্ক শুরু হয়েছিল। এই দুই প্রতিষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট কাজ, প্রাপ্ত অর্থ এবং চুক্তিগত দায়িত্ব কী ছিল, তা নিয়ে মামলার প্রতিবেদনগুলোতে কিছু প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
থ্যালেস জানিয়েছে, যেসব দেশে তাদের নিজস্ব দক্ষতা অপর্যাপ্ত ছিল, সেখানে তারা স্থানীয় অংশীদারদের কাজে লাগাত। কোম্পানির ভাষ্য, এ ধরনের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করা শিল্পখাতে প্রচলিত রীতি; তবে তারা মান-অনুবর্তিতা-সংক্রান্ত ঝুঁকির মুখে থাকতে পারেন বলে স্বীকার করেছে:
দুর্নীতি বা প্রভাব খাটানোর ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি থাকা তৃতীয় পক্ষগুলোর মধ্যে বিবেচিত।
সিদ্ধান্তে অনুচিত প্রভাব ফেলতে সুবিধা দেওয়া দুর্নীতির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের ওপর প্রবেশাধিকার বা প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে সুবিধা আদায় করাকে প্রভাব খাটানো বলা হয়। কোনো মধ্যস্থতাকারী এসব ঝুঁকির মুখে থাকলেই অপরাধ প্রমাণিত হয় না। তবে বিদেশি চুক্তি নিয়ে তদন্তে তার দেওয়া সেবা এবং অর্থ পরিশোধের কারণ কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা এতে বোঝা যায়।
ফৌজদারি মামলা নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই বয়ান
আজারবাইজানের আদালতগুলো আত্মসাৎ ও নথি জালিয়াতির দায়ে সাহানকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। আর্থিক অভিযোগটি প্রায় ৫০ লাখ ইউরো পরিচালন তহবিল আত্মসাতের; এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। থ্যালেসের বক্তব্য, রায়গুলো চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করেছে যে তিনি নথি জাল করেছেন এবং কোম্পানির অর্থ সরিয়ে নিয়েছেন।
সাহান ভিন্ন বয়ান দিয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস, আজারবাইজানে থ্যালেসের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত সম্ভাব্য দুর্নীতির নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখার চেষ্টা করায় তাঁর পতন হয়েছে। নিজের বিরুদ্ধে চলা বিচারপ্রক্রিয়াকে তিনি "বিচারিক প্রহসন" বলে বর্ণনা করেছেন। এটি তাঁর অভিযোগ, কোম্পানির চুক্তি তদন্তকারী ফরাসি কৌঁসুলিদের কোনো সিদ্ধান্ত নয়।
তাঁর সাজা-সংক্রান্ত ৪০ লাখ ইউরোর আর্থিক আদেশের বর্ণনাও প্রতিবেদনভেদে আলাদা। একটি প্রতিবেদনে একে জরিমানা বলা হয়েছে; অন্যটিতে বলা হয়েছে, আদালত ৪০ লাখ ইউরো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। জরিমানা শাস্তিমূলক আর্থিক দণ্ড, আর ক্ষতিপূরণ সাধারণত কোনো ক্ষতির প্রতিকার হিসেবে দেওয়া হয়। রায়ের সুনির্দিষ্ট ভাষা জানা না থাকলে এ দুটি বর্ণনাকে এক অর্থে নেওয়া উচিত নয়।
অভিযোগ অনুযায়ী আত্মসাৎ করা প্রায় ৫০ লাখ ইউরো এবং আদালতের নির্দেশে দেওয়া ৪০ লাখ ইউরো দুটি পৃথক অঙ্ক। আদালত পরের অঙ্কটি কীভাবে নির্ধারণ করেছে বা তা অভিযোগে উল্লেখিত ক্ষতির চেয়ে কেন কম, প্রতিবেদনগুলোতে তার ব্যাখ্যা নেই।
থ্যালেস আরও বলেছে, তথ্যের ইচ্ছাকৃত বিকৃতি তাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং তারা এর নিন্দা জানায়। কোম্পানির এ অবস্থান সাহানের প্রতিশোধের অভিযোগের সরাসরি বিরোধী। স্থানীয় অংশীদারদের খতিয়ে দেখার সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে আজারবাইজানে মামলা হওয়ার কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক ফরাসি তদন্তের কোনো প্রকাশিত অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ ও ফ্রান্সের প্রতি আবেদন
কারাগারে সাহানের শারীরিক অবস্থার অবনতির আশঙ্কা তাঁর আইনি বিরোধের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তাঁর আইনজীবীরা তাঁকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ এবং ফরাসি রাষ্ট্রের কাছেও আবেদন করেছেন।
নিজের পরিস্থিতি নিয়ে লিখিত বার্তায় সাহান আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে আটক অবস্থায় তিনি বেঁচে ফিরতে পারবেন না:
আমার জীবন ঝুঁকির মধ্যে।
কোনো সুনির্দিষ্ট রোগনির্ণয়, স্বাধীন চিকিৎসা মূল্যায়ন বা বিস্তারিত চিকিৎসার নথি প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর বক্তব্যে আবেদনের জরুরিতা বোঝা যায়, তবে তা থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থা বা তিনি যে চিকিৎসা পাচ্ছেন, সে বিষয়ে স্বাধীন মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা তাঁর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। মামলার মূল বিষয় বা তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে আলোচনা করতে তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে কনস্যুলার বা চিকিৎসা সহায়তা কী দেওয়া হয়েছে এবং তাঁকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার অনুরোধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কি না, তা অজানা রয়ে গেছে।
থ্যালেসের ২৭ শতাংশ মালিকানা ফরাসি রাষ্ট্রের। ফলে বিদেশে কারাবন্দি এক ফরাসি নাগরিক এবং একটি বড় প্রতিরক্ষা কোম্পানিকে ঘিরে বিরোধটিতে জনস্বার্থের দিকও যুক্ত হয়েছে। এই অংশীদারত্ব কথিত আচরণের জন্য সরকারের দায় প্রতিষ্ঠা করে না, কিংবা কোনো আইনি কার্যক্রমের ফলও নির্ধারণ করে না।
কূটনৈতিক নজির, তবে সমাধানের ঘোষণা নেই
আজারবাইজানে আটক আরেক ফরাসি নাগরিক মার্টিন রায়ান ২৩ সেপ্টেম্বর ক্ষমা পেয়েছিলেন। দুই রুশ ধনকুবেরের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার শর্তযুক্ত এক বন্দিবিনিময় চুক্তিতে ফ্রান্স তাঁর মুক্তি নিশ্চিত করে। এ ব্যবস্থা ইউরোপীয় অংশীদারদের ক্ষুব্ধ করেছিল। এই নজির বর্ণনায় ব্যবহৃত প্রতিবেদনে ২৩ সেপ্টেম্বরের চুক্তিটি কোন বছরের, তা উল্লেখ করা হয়নি।
রায়ানের মুক্তির ঘটনা দেখায়, আজারবাইজানে আটক আরেক ফরাসি নাগরিকের ক্ষেত্রে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়েছিল। তবে এতে প্রমাণ হয় না যে সাহানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা বিবেচনা করা হচ্ছে; তাঁর পরিস্থিতি ও দণ্ডাদেশ ভিন্ন।
সাহানের জন্য কোনো ক্ষমা, মুক্তির চুক্তি বা দেশে ফেরানোর তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। ২০২৬ সালের এপ্রিলে তাঁর সাজা বহাল রাখার রায়ের পরবর্তী শুনানি বা সিদ্ধান্তের সময়সীমাও জানানো হয়নি।
মূল অমীমাংসিত প্রশ্নগুলো আলাদা: থ্যালেসের বিদেশি ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে ফরাসি তদন্তকারীরা কী তথ্য প্রতিষ্ঠা করবেন, সাহান আর কোনো আইনি প্রতিকার পাবেন কি না এবং তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ কীভাবে মোকাবিলা করা হবে। পূর্ণাঙ্গ বিবরণে এসব প্রশ্নকে পৃথক রাখতে হবে, পাশাপাশি স্বীকার করতে হবে যে এগুলো একই সাবেক নির্বাহী এবং আজারবাইজানে কোম্পানির কার্যক্রমকে ঘিরে একত্র হয়েছে।
মূল বিষয়গুলো
- ফরাসি আর্থিক কৌঁসুলিরা ২০২৩ সালের জুনে বিদেশে থ্যালেসের চুক্তি নিয়ে তদন্ত শুরু করেন; এর মধ্যে আজারবাইজানের ব্যবসাও রয়েছে।
- ২০২৪ সালের জুনে কোম্পানির বিভিন্ন স্থাপনায় তল্লাশি চালানো হয়; ফরাসি তদন্তের কোনো ফলাফল জানানো হয়নি।
- মেহমেত সাহান ২০২২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে আটক রয়েছেন। ২০২৬ সালের এপ্রিলে আজারবাইজানের একটি আদালত তাঁর ১০ বছরের সাজা বহাল রাখে।
- প্রায় ৫০ লাখ ইউরো আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে সাহান সন্দেহভাজন দুর্নীতি খতিয়ে দেখার কারণে প্রতিশোধ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন। থ্যালেস তাঁর বক্তব্য নাকচ করেছে।
- সাজা-সংক্রান্ত ৪০ লাখ ইউরোর আদেশকে প্রতিবেদনগুলোতে জরিমানা বা ক্ষতিপূরণ—দুইভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
- স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে সাহানের আইনজীবীরা তাঁকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ফ্রান্স বলেছে, তারা তাঁর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে; তবে মুক্তির কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।






