ছাদ ঝুলে পড়ার সতর্কসংকেতের পর ধসে আহত ৩৮
দেগুতে একটি পণ্য বিক্রির অনুষ্ঠানে ছাদ ধসে ৩৮ জন আহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় নিরাপত্তা তদারকির দুটি ঘাটতি সামনে এসেছে: ১৯৯৪ সালে নির্মিত ভবনটি বাধ্যতামূলক নিয়মিত পরিদর্শনের আওতায় ছিল না, আর জেলা কার্যালয় জানতই না যে সেখানে অনুষ্ঠান হচ্ছে। এক বাসিন্দার অভিযোগ, ২০১৯ বা ২০২০ সাল থেকেই ছাদের সাপোর্টগুলো দৃশ্যত ক্ষয়ে যাচ্ছিল।
সূচিপত্র
- ছাদ ঝুলে পড়ার সতর্কসংকেতের পর ধসে আহত ৩৮
- ধসে পড়েছিল ঝুলন্ত ছাদ, কংক্রিটের কাঠামো নয়
- বহু বছর আগের ক্ষয়ের কথা জানালেন এক বাসিন্দা
- এক মাসের বিক্রয় কার্যক্রমের খবর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি
- আসবাবপত্রের কারণে পালানোর সময় আঘাত কম হয়েছে
- বাধ্যতামূলক নিয়মিত পরিদর্শনের আওতার বাইরে ছোট ভবন
- ভিডিও, সংযোগস্থল ও মেরামতের নথি পরীক্ষা করছে পুলিশ
- ভাড়া থেকে তদন্ত: ঘটনার ধারাবাহিকতা
- নিরাপত্তা পরিদর্শন ও প্রেসিডেন্টের প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক
- মূল তথ্য
১০ অক্টোবর সকাল প্রায় ১০টা ১৬ মিনিটে বুক-গুর গোয়ানউম-দং এলাকার চারতলা ভবনটির দ্বিতীয় তলায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। সেখানে থাকা ৬৬ জনই বাইরে বেরিয়ে আসেন। উপস্থিতদের বেশির ভাগই বয়স্ক ছিলেন; তাঁদের বয়স ৬০ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে বলে বিভিন্ন বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরদিন সকাল নাগাদ পুলিশ নিশ্চিত হয়, ১৮ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং পাঁচজন ভর্তি ছিলেন। গুরুতর বা জীবন-সংশয়ী আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। আহত ৩৮ জন ছিলেন ভেতরে থাকা মোট মানুষের প্রায় ৫৮ শতাংশ; উপস্থিতির হিসাবে এ হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের ধারণা, প্রবেশপথ থেকে দেখলে কক্ষের বাঁ পাশে মঞ্চের ওপরের অংশ থেকে ধস শুরু হয়, এরপর ছাদের অন্য অংশগুলো ধারাবাহিকভাবে পড়ে যায়। বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের স্থাপন করা একটি ইনডোর ক্যামেরায় দুর্ঘটনাটি ধারণ করা হয়।
মূল প্রশ্ন হলো, ছাদের বয়স, নির্মাণের ত্রুটি, অতিরিক্ত ওজন, নাকি সংযোগস্থল নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে এটি ধসে পড়েছে। আগের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বাসিন্দাদের বর্ণনা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, তবে এখনো সেগুলোকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। কাউকে ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি করা উচিত কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পুলিশ স্থাপন ও মেরামতের ইতিহাস, উদ্ধার করা ধ্বংসাবশেষ এবং ভিডিও প্রমাণ পরীক্ষা করছে।
ধসে পড়েছিল ঝুলন্ত ছাদ, কংক্রিটের কাঠামো নয়
ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাটি ছিল একটি ঝুলন্ত ছাদ—ভবনের মূল ছাদের নিচে বসানো এমন একটি পৃষ্ঠ, যা পাইপ, তার ও অন্যান্য সরঞ্জাম আড়াল করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছাদের প্যানেল ও সেগুলো ধরে রাখা স্টিলের কাঠামো একসঙ্গেই পড়ে যায়। ভবনের কংক্রিটের মূল কাঠামো ধসে পড়েছে, এমন কোনো বর্ণনা নেই।
পুলিশ সাজসজ্জার তিনটি স্তরের কথা জানিয়েছে: স্থানীয়ভাবে টেক্স নামে পরিচিত ছাদের টাইলস, জিপসাম বোর্ড এবং কাগজের আস্তরণযুক্ত প্লাইউড। এসব স্তর খুলে পড়ার পর কক্ষের ওপরে উন্মুক্ত কংক্রিট দেখা যায়; আর বোর্ড ও ধাতব অংশ মেঝে ও আসবাবের ওপর ছড়িয়ে পড়ে।
তদন্তটি বোঝার ক্ষেত্রে এ পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। ঝুলন্ত ছাদকে ওপরে নিরাপদে ধরে রাখতে হ্যাঙ্গার, ফ্রেম, ক্লিপ ও অন্যান্য সংযোগের ওপর নির্ভর করতে হয়। স্থাপনাটির কোন অংশটি প্রথমে নষ্ট হয়েছিল এবং এর অবস্থা বা নির্মাণপ্রক্রিয়া দুর্ঘটনায় ভূমিকা রেখেছিল কি না, তা তদন্তকারীদের নির্ধারণ করতে হবে।
ক্লিপ খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন কর্মকর্তারা। প্রশাসনের একজন কর্মকর্তাও বলেছেন, পুরোনো সাপোর্টের তার ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোনো ব্যাখ্যাই নিশ্চিত হয়নি। প্রাথমিক একটি বিবরণে প্রবেশপথ থেকে সবচেয়ে দূরের অংশের কাছে স্টিলের ক্লিপ খুলে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। পরে পুলিশের বিবরণে মঞ্চের ওপর থেকে ধস শুরু হওয়ার কথা বলা হলেও চূড়ান্ত কারণ জানানো হয়নি।
দেগু মহানগর পুলিশের ফরেনসিক তদন্ত বিভাগের প্রধান পার্ক মিয়ং-হো বলেন, উপকরণের ওজন, কাঠামোগত ত্রুটি এবং ক্ষয়—এসব বিষয় আলাদা করে দেখবে তদন্ত। তাই ধস কোথা থেকে শুরু হয়েছে তা শনাক্ত করাই কেন ঘটেছে, তা নির্ধারণের প্রথম ধাপ।
বহু বছর আগের ক্ষয়ের কথা জানালেন এক বাসিন্দা
৫১ বছর বয়সী কিম পদবির এক বাসিন্দা ১১ অক্টোবর ঘটনাস্থলে আগের সতর্কসংকেতগুলোর কথা জানান। দ্বিতীয় তলায় প্রায় এক দশক ধরে বিলিয়ার্ড হল চলেছিল। কিম বলেন, ক্রেতারা ছাদের কিছু অংশ ঝুলে পড়তে দেখেছিলেন।
কিমের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৯ বা ২০২০ সালেই ছাদ ধরে রাখা তার ক্ষয়ে গিয়ে নিচে ঝুলে পড়েছিল। বাঁকা ছাদ দেখে ক্রেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন এবং মেরামত করা প্রয়োজন কি না জানতে চেয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
কিমের অভিযোগ, বিলিয়ার্ড হলের পরিচালনাকারী হালকা স্টিলের কাঠামো ব্যবহার করে মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, কিন্তু খরচের কারণে ভবনমালিক রাজি হননি। ব্যবসা বন্ধ হওয়ার আগে রং করা ও অন্যান্য অস্থায়ী কাজের মাধ্যমে ক্ষয়প্রাপ্ত অংশ আড়াল করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। এগুলো এক বাসিন্দার অভিযোগ; পুলিশ এখনো এমন কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
বাসিন্দাদের ধারণা, দীর্ঘদিন ভবনটি খালি থাকায় ছাদ মেরামত ছাড়াই পড়ে ছিল। তবে এটি এখনো অনুমান, যা যাচাই করতে রক্ষণাবেক্ষণের নথি বা অন্য প্রমাণ দরকার। দুর্ঘটনার পরও দ্বিতীয় তলায় একটি বিলিয়ার্ড হলের সাইনবোর্ড লাগানো ছিল।
প্রাঙ্গণটির আগের ইতিহাস নিয়ে বিবরণগুলো এক নয়। কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের বছরের মার্চে সেখানে একটি পণ্য বিক্রির অনুষ্ঠান হয়েছিল, এরপর প্রায় এক বছর সাত মাস জায়গাটি খালি ছিল। আরেকটি বিবরণে বলা হয়েছে, ওই মার্চে বিলিয়ার্ড হল বন্ধ হয়; অন্যদিকে বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘ সময় জায়গাটি খুব কম ব্যবহৃত হয়েছিল। ছাদটি কখন বসানো হয়েছিল এবং পরে কী কী মেরামত হয়েছিল, তা যাচাই করছে পুলিশ। এ তথ্যগুলো ভিন্ন বর্ণনার মীমাংসায় প্রয়োজন।
এক মাসের বিক্রয় কার্যক্রমের খবর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি
শুধু এ (A) নামে চিহ্নিত প্রতিষ্ঠানটি ৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত দ্বিতীয় তলাটি ভাড়া নেয়। সাবেক বিলিয়ার্ড হলটি ব্যবহার করে তারা বৈদ্যুতিক কম্বল, রান্নাঘরের সামগ্রী ও অন্যান্য গৃহস্থালি পণ্য বিক্রি করছিল। টিস্যু, ডিটারজেন্ট ও ডিমসহ বিনা মূল্যের জিনিস দিয়ে উপস্থিতদের আকৃষ্ট করা হয়েছিল।
বুক-গুর কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠানটি জেলা কার্যালয়ে বিক্রয় ব্যবসার কোনো বিজ্ঞপ্তি জমা দেয়নি। কর্মকর্তারা আরও বলেন, দুর্ঘটনার আগে সেখানে এ অনুষ্ঠান চলছিল—এ বিষয়ে তাঁরা অবগত ছিলেন না। একই প্রতিষ্ঠান আগের বছরের মার্চে ওই প্রাঙ্গণে প্রায় এক মাস ধরে একই ধরনের অনুষ্ঠান করেছিল বলে জানা গেছে।
দেগু ও দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যান্য স্থানেও একই ধরনের অস্থায়ী বিক্রয় কার্যক্রমের কথা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রবীণদের কেন্দ্র ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব অনুষ্ঠানের খবর ছড়াতে পারে; উপস্থিতি বাড়াতে বিনা মূল্যের পণ্যও দেওয়া হয়। তবে এই বিবরণ থেকে ওই নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানে প্রত্যেককে কীভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তা জানা যায় না।
স্বল্পমেয়াদি ভাড়া এবং বিজ্ঞপ্তি না দেওয়ার কারণে স্থানীয় প্রশাসনের নজরে অনুষ্ঠানস্থলটি আসেনি—এতে বিষয়টি ব্যাখ্যা হতে পারে। তবে শুধু এ তথ্য দিয়ে ছাদ ধসের কারণ নির্ধারণ করা যায় না বা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ভবনটি অনিরাপদ জানত, তা প্রমাণ হয় না। প্রাঙ্গণ, এর ব্যবস্থাপনা এবং অনুষ্ঠানের আগে কোনো নিরাপত্তা পরীক্ষা হয়েছিল কি না—এসব তদন্তের ওপরই ওই বিষয়গুলো নির্ভর করছে।
আসবাবপত্রের কারণে পালানোর সময় আঘাত কম হয়েছে
ভেতরে থাকা লোকজন জানান, উপস্থিতরা বের হওয়ার জন্য ছুটতে থাকলে ছাদের অংশগুলো একের পর এক পড়ে যায়। শুধু এ (A) নামে পরিচিত ৭০ বছর বয়সী এক উপস্থিত ব্যক্তি ঘটনার মুহূর্তটি এভাবে বর্ণনা করেন:
ভবনের ভেতরে কয়েক ডজন বয়স্ক মানুষ ছিলেন। ছাদের সাজসজ্জার উপকরণ একের পর এক আমাদের মাথার ওপর ঝরে পড়তে শুরু করে।
পড়ে যাওয়া কিছু উপকরণ ডেস্ক ও চেয়ারে আটকে যায়। দেগু গাংবুক ফায়ার স্টেশনের ঘটনাস্থল পরিচালনার প্রধান হোয়াং চিল-সক ব্যাখ্যা করেন, আসবাবপত্র কীভাবে আরও গুরুতর আঘাত এড়াতে সহায়তা করেছে:
ভাগ্যক্রমে ছাদের টাইলসের নিচে ডেস্ক ও চেয়ার ছিল। সেগুলোর কারণে ফাঁকা জায়গা তৈরি হওয়ায় আহতদের মধ্যে গুরুতর আঘাত পাননি কেউ।
৫০ বছর বয়সী বলে বর্ণিত, পার্ক পদবির এক পাশের লন্ড্রি পরিচালনাকারী বলেন, সরু সিঁড়ি দিয়ে বের হওয়া বিপজ্জনক ছিল। মাথায় আঘাত পেয়ে রক্ত পড়ছিল এমন এক বয়স্ক ব্যক্তিকে দেখার কথাও তিনি স্মরণ করেন। অন্য বিবরণে পালানোর সময় ঘষা লেগে ক্ষত এবং পড়ে যাওয়া উপকরণে আঘাতের কথা বলা হয়েছে।
উদ্ধার ও তল্লাশির জন্য ফায়ার সার্ভিস ১৮টি গাড়ি ও ৫৫ জন কর্মী পাঠায়। অতিরিক্ত কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা পুলিশ ও দমকলকর্মীরা পরীক্ষা করেন এবং ঘটনাস্থলের আশপাশে চলাচল সীমিত করেন।
প্রাথমিকভাবে কতজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে ভিন্ন সংখ্যা রয়েছে। বেশির ভাগ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ৯ জন, আর একটিতে ১২ জনের কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিক এক বিবরণে ৯ জনের হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার কথাও ছিল। তবে আহতদের সঙ্গে পুলিশের পরবর্তী যোগাযোগে ১১ অক্টোবর নাগাদ ১৮ জন চিকিৎসা নিয়েছেন বলে নিশ্চিত হয়। এসব সংখ্যা ভিন্ন পরিমাপ বা প্রতিবেদনের পর্যায় নির্দেশ করে; এগুলোকে একই অর্থে ব্যবহার করা উচিত নয়।
বাধ্যতামূলক নিয়মিত পরিদর্শনের আওতার বাইরে ছোট ভবন
ভবনটি ১৯৯৪ সালে ব্যবহারের অনুমোদন পায় এবং এর মোট আয়তন ৮৯২ বর্গমিটার। প্রথম দুই তলা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হতো, আর ওপরের দুই তলায় থাকতেন মালিক। নিচতলার একটি খাবারের দোকান সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ব্যবসা বন্ধ করে এবং সেখানে মালামাল সরানোর কাজের অপেক্ষা চলছিল বলে জানা গেছে।
বুক-গু জানায়, প্রযোজ্য ভবনবিধি অনুযায়ী সম্পত্তিটি বাধ্যতামূলক নিয়মিত নিরাপত্তা পরিদর্শনের আওতাভুক্ত ছিল না। কোনো স্বাধীন নিরাপত্তা পরিদর্শনও হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তবে সম্পূর্ণ পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণের ইতিহাস তদন্তকারীদের যাচাই করতে হবে।
প্রতিবেদনগুলোতে বর্ণিত পরিদর্শনব্যবস্থা ভবনের আয়তন ও ব্যবহার অনুযায়ী কিছু ভবনকে আওতায় আনে। এর মধ্যে অন্তত ৩,০০০ বর্গমিটারের কিছু যৌথ মালিকানাধীন ভবন এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত কিছু ভবন রয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলের ভবনটির আয়তন ওই সীমার এক-তৃতীয়াংশেরও কম ছিল, তবে বিধিতে শুধু আয়তনই একমাত্র মানদণ্ড নয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার ভবন ব্যবস্থাপনা আইনের ১৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, নিরাপত্তার দুর্বলতা বা দুর্যোগের ঝুঁকি আছে বলে বিবেচিত হলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কিছু ছোট ভবন পরিদর্শন করতে পারে। ব্যবহারের অনুমোদন পাওয়ার ৩০ বছরের বেশি পেরিয়েছে, এমন যোগ্য ভবনও এর অন্তর্ভুক্ত। কোন ভবনগুলো এর আওতায় পড়বে, তা নির্ধারণে স্থানীয় বিধিও ভূমিকা রাখে। প্রতিবেদনে এ ক্ষমতাকে বিবেচনাধীন ক্ষমতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, সব পুরোনো ভবনের জন্য স্বয়ংক্রিয় পরিদর্শন বাধ্যবাধকতা হিসেবে নয়।
এ ঘটনায় বাস্তব ঘাটতিটি নির্দিষ্ট: নিয়মিত বাধ্যতামূলক পরিদর্শনের বাইরে থাকা পুরোনো একটি জায়গা আবার ব্যবহার শুরু হয় এবং সেখানে ৬৬ জনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান হয়, অথচ জেলা কর্তৃপক্ষ তা জানত না। নিয়মিত পরিদর্শন থেকে অব্যাহতি পাওয়ার অর্থ এই নয় যে ছাদটি নিরাপদ ছিল; একইভাবে ভবনমালিক বা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছিল কি না, সেটিও এর মাধ্যমে নির্ধারিত হয় না।
ভিডিও, সংযোগস্থল ও মেরামতের নথি পরীক্ষা করছে পুলিশ
দেগু পুলিশ মহানগর তদন্ত ইউনিটের প্রধানের নেতৃত্বে ৩৩ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে। দলটিতে গুরুতর দুর্ঘটনা তদন্ত এবং ফরেনসিক কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা রয়েছেন।
১১ অক্টোবর সকাল প্রায় ৯টায় জাতীয় ফরেনসিক সার্ভিস, দেগু নগর কর্তৃপক্ষ, বুক-গু কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশের ফরেনসিক কর্মীদের অংশগ্রহণে যৌথ পরীক্ষা শুরু হয়। এতে প্রায় ১০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। পরীক্ষার স্থায়িত্ব নিয়ে প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য রয়েছে: প্রাথমিক প্রতিবেদনে প্রায় এক ঘণ্টার কথা বলা হয়, আর পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রায় দুই ঘণ্টার কথা উল্লেখ করা হয়।
বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের স্থাপন করা ইনডোর ক্যামেরাটি উদ্ধার করেছে তদন্তকারীরা। ভবনের অন্য তলা ও বাইরের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়েছে। ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে এসব রেকর্ডিং মিলিয়ে দেখলে ঘটনার ধারাবাহিকতা পুনর্গঠন এবং প্রথমে কোন অংশটি নষ্ট হয়েছিল, আর পরবর্তী ধসের ফলে কোন ক্ষতি হয়েছে—তা আলাদা করতে সহায়তা হতে পারে।
পুলিশ নির্মাণের মান, সাপোর্ট ও আটকানোর উপকরণের অবস্থা, স্থাপনের তারিখ, মেরামতের কাজ এবং রক্ষণাবেক্ষণ খতিয়ে দেখছে। প্রতিষ্ঠান বা ভবনের প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে পেশাগত অবহেলায় আঘাত করার অভিযোগ আনা যায় কি না, তাও বিবেচনা করছে তারা। এর অর্থ, দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অপরাধ ধরে না নিয়ে, আঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় সতর্কতা পালনে ব্যর্থতার প্রমাণ তদন্তকারীদের প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
১১ অক্টোবরের প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে আসামি করা হয়নি। বিস্তারিত ফরেনসিক ফল পেতে প্রায় দুই সপ্তাহ লাগতে পারে বলে আশা করা হয়েছিল, তবে প্রকাশের নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানানো হয়নি।
ভাড়া থেকে তদন্ত: ঘটনার ধারাবাহিকতা
প্রতিবেদনে উল্লিখিত তারিখগুলো আগের নিরাপত্তা উদ্বেগ, জায়গাটি আবার ব্যবহার শুরু এবং ধসের পর কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের যোগসূত্র দেখায়। একই সঙ্গে ধারাবাহিকতার কোন অংশগুলো নিয়ে মতভেদ বা অসম্পূর্ণতা আছে, তাও স্পষ্ট হয়।
- ১৯৯৪: চারতলা, ৮৯২ বর্গমিটারের ভবনটি ব্যবহারের অনুমোদন পায়।
- ২০১৯ থেকে ২০২০: বাসিন্দা কিমের অভিযোগ, সাপোর্টের তার ক্ষয়ে যাচ্ছিল এবং ছাদের অংশ ঝুলে পড়েছিল।
- আগের বছরের মার্চ: একই প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠানটি এক মাস ধরে বিক্রয় অনুষ্ঠান করেছিল বলে জানা গেছে।
- ৩ অক্টোবর: বর্তমান ভাড়া ও গৃহস্থালি পণ্য বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়।
- ১০ অক্টোবর, সকাল প্রায় ১০টা ১৬ মিনিট: অনুষ্ঠানের সময় ছাদের উপকরণ ধসে পড়ে; ৬৬ জন বেরিয়ে আসেন এবং ৩৮ জন আহত হন।
- ১১ অক্টোবর, সকাল প্রায় ৯টা: পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থা যৌথ ফরেনসিক পরীক্ষা শুরু করে।
- পরীক্ষার প্রায় দুই সপ্তাহ পর: বিস্তারিত ফরেনসিক ফল প্রকাশের আশা করা হয়েছিল, তবে নির্দিষ্ট তারিখ ছিল না।
বিক্রয় অনুষ্ঠান দুটির মধ্যে প্রায় এক বছর সাত মাসের ব্যবধানের দাবি থেকে এ প্রমাণ হয় না যে ওই সময়ে কোনো রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। কক্ষটি খালি থাকার সময়ে কী হয়েছিল, তা নির্ধারণে নথি ও সাক্ষ্য প্রয়োজন হবে।
নিরাপত্তা পরিদর্শন ও প্রেসিডেন্টের প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক
১১ অক্টোবরের প্রতিবেদন প্রকাশের সপ্তাহে বুক-গু ভবনটির অন্য তলাগুলোর ছাদের স্থাপনা পরিদর্শনের পরিকল্পনা করে। জেলা প্রধান লি গুন-সু বলেন, নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে পুলিশ ও দমকল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁরা সহযোগিতা করবেন এবং দুর্ঘটনার পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা হয়েছিল কি না নিশ্চিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেবেন।
দেগুর মেয়র চু গিয়ং-হো ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শহরজুড়ে পুরোনো স্থাপনাগুলো পরীক্ষা করার ঘোষণা দেন। পরিদর্শনের পরিধি ও সময় নিয়ে নগর কর্তৃপক্ষ জেলা ও কাউন্টি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে। প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রকাশিত বিবরণগুলোতে শহরজুড়ে পরিদর্শনের কোনো সমাপ্ত ফল বা চূড়ান্ত সময়সূচি জানানো হয়নি।
কোরিয়ান রেড ক্রস কাছেই দুর্যোগকালীন মানসিক পুনরুদ্ধার সহায়তা কেন্দ্র খোলে। ১১ অক্টোবর সকাল নাগাদ ২০ জন বাসিন্দা সেখানে পরামর্শ নিয়েছিলেন। এতে শারীরিক আঘাতের চিকিৎসার বাইরেও সহায়তা দেওয়া হয়।
দুর্ঘটনাটি রাজনৈতিক বিতর্কেরও বিষয় হয়ে ওঠে। ১১ অক্টোবরের এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং আগের দিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাইরেউং গলফ কোর্সে গিয়েছিলেন এবং সেখানেই ধসের খবর পান। কার্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি হতাহতের সংখ্যা ও আঘাতের তীব্রতা নিয়ে ভারপ্রাপ্ত জাতীয় পুলিশ সংস্থার কমিশনার কিম জং-চোলের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। এরপর উদ্ধারকাজকে অগ্রাধিকার দিতে এবং দ্রুত ও নিরাপদভাবে সাড়া দিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেন।
পিপল পাওয়ার পার্টির আইনপ্রণেতা জু জিন-উ প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপের বিস্তারিত বিবরণ দাবি করেন। তাঁর দাবি, লি বিকেল ৪টা ৪৯ মিনিটে গলফ কোর্স ছেড়ে যান এবং নিরাপত্তা গাড়ির ছবি ও ভিডিও তাঁর কাছে রয়েছে। জু আরও বলেন, প্রাথমিক উদ্ধার অভিযান সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে শেষ হয়েছিল এবং প্রেসিডেন্টের বিবৃতি দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে প্রকাশিত হয়। এগুলো তাঁর দাবি; জনসমক্ষে বিবৃতি দেওয়ার সময় থেকে প্রথম নির্দেশ কখন দেওয়া হয়েছিল, তা নির্ধারণ করা যায় না।
রাজনৈতিক তর্কে ব্যক্তিগত ছুটির দিনের কর্মসূচি ব্যবহারে আপত্তি জানায় প্রেসিডেন্টের কার্যালয়। ডেমোক্রেটিক পার্টির মুখপাত্র চো গ্যে-ওন বলেন, দলটির এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত অবস্থান নেই; তবে গলফের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য কূটনীতির সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন। ডিসেম্বরে সম্ভাব্য শীর্ষ সম্মেলন ঘিরে গলফ কূটনীতির আলোচনা সম্ভাব্য যুক্তি হিসেবে উঠেছিল, নিশ্চিত কোনো বৈঠক হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। লি কখন ফোন করেছিলেন এবং নির্দেশ দিয়েছিলেন, সেই সুনির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।
মূল তথ্য
- ১০ অক্টোবর দেগুতে গৃহস্থালি পণ্যের বিক্রয় অনুষ্ঠানে ছাদ ধসে ৬৬ জনের মধ্যে ৩৮ জন আহত হন।
- ১৮ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং পাঁচজন ভর্তি হন; গুরুতর আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি।
- ঝুলন্ত ছাদের উপকরণ ও সাপোর্ট পড়ে যায়, ভবনের কংক্রিটের মূল কাঠামো নয়।
- এক বাসিন্দার অভিযোগ, ২০১৯ বা ২০২০ সালেই ক্ষয় স্পষ্ট ছিল; তবে দুর্ঘটনার কারণ এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
- বিক্রয় অনুষ্ঠানের খবর বুক-গুকে জানানো হয়নি এবং ভবনটি বাধ্যতামূলক নিয়মিত পরিদর্শনের আওতায় ছিল না।
- নির্মাণ, পুরোনো উপকরণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সম্ভাব্য অবহেলা তদন্ত করছে ৩৩ সদস্যের একটি দল।
- বিস্তারিত ফরেনসিক ফল প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে আসার কথা ছিল; কর্তৃপক্ষ আরও নিরাপত্তা পরিদর্শনের পরিকল্পনা করেছিল।






