মাটির পরীক্ষায় কৃষিজমিতে উঠে এল নদীদূষণের সংকট
১০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, চিয়াং রাইয়ের কোক, সাই ও রুয়াক নদী অববাহিকায় পরীক্ষিত কৃষিজমির প্রায় ২০ শতাংশে ভূমি উন্নয়ন বিভাগের মাটির মানদণ্ডের চেয়ে বেশি আর্সেনিক রয়েছে। আরও ৫০ শতাংশ জমিতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। মাত্র ৩০ শতাংশ জমি বিভাগের সর্বনিম্ন ঘনত্বের শ্রেণিতে পড়েছে।
সূচিপত্র
- মাটির পরীক্ষায় কৃষিজমিতে উঠে এল নদীদূষণের সংকট
- লাল, হলুদ ও সবুজ শ্রেণির অর্থ
- মে সাইয়ের কৃষকেরা সেচের বিস্তৃত ঝুঁকিতে
- বন্যার পলি দূষণ বয়ে নিয়ে যেতে পারে ভেতরের জমিতে
- ফসলের বিধিনিষেধের সঙ্গে দরকার মানচিত্র ও আয়ের সহায়তা
- দূষিত নদীর পানির বিকল্প চান কৃষকেরা
- উজানের খনি সংকটকে আঞ্চলিক মাত্রা দিয়েছে
- স্বাস্থ্য সতর্কতা ও পদক্ষেপের দাবি বেড়েছে
- দূষিত পলি নিয়ে সিদ্ধান্ত এখনো বাকি
- সারকথা
চিয়াং রাই ভূমি উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক পারিন্যানন থংখাম নিশ্চিত করেছেন, চিয়াং রাই সেচ দপ্তরের অর্থায়নে পরিচালিত তদন্তে ২০০টির বেশি মাটি ও পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নদীর তীর থেকে ১০০ মিটার থেকে দুই কিলোমিটার দূরত্বের বিভিন্ন স্থান থেকে ১৫ থেকে ২০ সেন্টিমিটার গভীরতার মাটির নমুনা নেওয়া হয়।
এই ফলাফলে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ দূষিত জলপথ ছাড়িয়ে কৃষি উৎপাদনে ব্যবহৃত জমিতেও ছড়িয়েছে। উচ্চ দূষণের এলাকার কৃষকদের নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যশস্য চাষ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন কর্মকর্তারা। অন্যদিকে, গবেষকেরা জনসাধারণের জন্য দূষণের মানচিত্র প্রকাশ, আক্রান্ত মাটির শোধন এবং স্বাভাবিক চাষাবাদ চালিয়ে যেতে না পারা কৃষকদের আর্থিক সহায়তার আহ্বান জানাচ্ছেন।
শতাংশের হিসাবটি পরীক্ষিত কৃষিজমির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, চিয়াং রাইয়ের সব কৃষিজমির ক্ষেত্রে নয়। ২০০টির বেশি নমুনার মধ্যে পানির নমুনাও রয়েছে, তাই এ সংখ্যা দিয়ে দূষিত মাটির নমুনার সঠিক সংখ্যা হিসাব করা যাবে না। এগুলো প্রাথমিক ফলাফল, সব আক্রান্ত খামারের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন নয়।
কৃষকের পাশাপাশি ভোক্তাদের জন্যও এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। মাটিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি কৃষির মাধ্যমে দূষণের সংস্পর্শে আসার সম্ভাব্য পথ নির্দেশ করে, তবে কাটা ধান, শাকসবজি বা অন্যান্য ফসলে আর্সেনিকের মাত্রা প্রমাণ করে না। গবেষকেরা যেসব পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন, তার মধ্যে কৃষিপণ্যের পরীক্ষা অব্যাহত রাখাও রয়েছে।
লাল, হলুদ ও সবুজ শ্রেণির অর্থ
মাটিতে আর্সেনিকের ঘনত্ব অনুযায়ী বিভাগটি মাটিকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে। সবুজ মাটিতে প্রতি কিলোগ্রামে ১৪ মিলিগ্রামের কম আর্সেনিক থাকে। হলুদ মাটিতে প্রতি কিলোগ্রামে ১৪ থেকে ২৫ মিলিগ্রাম থাকে এবং তা পর্যবেক্ষণ করতে হয়। লাল মাটিতে প্রতি কিলোগ্রামে ২৫ মিলিগ্রামের বেশি আর্সেনিক থাকে, যা বিভাগের মানদণ্ড অতিক্রম করে।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, পরীক্ষিত কৃষিজমির প্রায় ৭০ শতাংশ হয় মানদণ্ডের বেশি দূষিত, নয়তো পর্যবেক্ষণের আওতায়; সবুজ শ্রেণিতে রয়েছে ৩০ শতাংশ। লাল শ্রেণির তুলনায় হলুদ এলাকার অংশ আড়াই গুণ। অর্থাৎ সবচেয়ে দূষিত স্থানগুলোর বাইরেও বিস্তৃত এলাকায় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
কর্মকর্তারা লাল এলাকার নমুনা প্রতি দুই থেকে তিন মাসে এবং হলুদ এলাকার নমুনা প্রতি ছয় মাসে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এর আগে প্রকাশিত এক ঘোষণায় বছরে দুই থেকে তিনবার পরীক্ষার বিস্তৃত কর্মসূচির কথা বলা হয়েছিল। পরবর্তী সময়সূচিতে দূষণের শ্রেণি অনুযায়ী পর্যবেক্ষণের ব্যবধান নির্দিষ্ট করা হয়েছে; লাল এলাকার পরীক্ষা হবে আরও ঘন ঘন।
এই শ্রেণিবিভাগ মাটি ব্যবস্থাপনার সীমা নির্দেশ করে, কোনো ব্যক্তি কতটা আর্সেনিক গ্রহণ করতে পারেন তার পরিমাপ নয়। প্রতি কিলোগ্রামে মিলিগ্রাম দিয়ে নির্দিষ্ট ভরের মাটিতে আর্সেনিকের পরিমাণ বোঝানো হয়। প্রতি লিটারে মিলিগ্রামে প্রকাশিত নদীর পরিমাপ পানিতে দূষণের ঘনত্ব নির্দেশ করে; তা মাটির পরিমাপের সঙ্গে সরাসরি তুলনীয় নয়।
মে সাইয়ের কৃষকেরা সেচের বিস্তৃত ঝুঁকিতে
মে সাই সেচব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বিশেষভাবে তীব্র। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাই নদীতে আর্সেনিকের মাত্রা প্রতি লিটারে ০.২৮৪ মিলিগ্রামে পৌঁছেছে, যা ওই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত নির্দেশক মাত্রার ২৮.৪ গুণ। সিসার মাত্রা নাকি মানদণ্ডের পাঁচ গুণে পৌঁছেছে। এসব পরিমাপ কৃষিজমিতে নদীর পানি ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে জরুরি করে তুলেছে, যদিও এগুলো প্রতিটি পানির প্রবেশমুখ বা প্রতিটি নমুনা সংগ্রহের দিনের পরিস্থিতি তুলে ধরে না।
মে সাইয়ের পাঁচটি উপজেলায় ৬০,৫০০ রাইয়ের বেশি কৃষিজমি ঝুঁকির মুখে বলে শনাক্ত হয়েছে: মে সাই, সি মুয়াং চুম, পং ফা, উইয়াং ফাং খাম ও কো চাং। মৌসুমি ধান এবং আলু, মিষ্টি ভুট্টা, রসুন, পেঁয়াজ, পশুখাদ্যের জন্য ভুট্টা, ঢেঁড়স ও সয়াবিনের মতো ফসল চাষে কৃষকেরা RC1, RC2 ও RC3 সেচখালের পানির ওপর নির্ভর করেন।
ঝুঁকির মুখে থাকা জমিকে মাটির মানদণ্ড অতিক্রম করেছে বলে নিশ্চিত হওয়া জমির সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়। আলাদাভাবে, একটি কমিউনিটি পিটিশনে সম্ভাব্য দূষিত প্রায় ১৬,০০০ হেক্টর কৃষিজমিতে মাটি পর্যবেক্ষণের দাবি জানানো হয়েছিল। এই পরিসংখ্যান দুটি ভিন্ন ভৌগোলিক পরিধি ও দাবির কথা বলে; ইতিমধ্যে দূষিত প্রমাণিত জমির পরিমাণ নিয়ে পরস্পরবিরোধী হিসাব নয়।
বান মুয়াং চুম পানি ব্যবহারকারী গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান থংখাম ইনপ্রম কৃষক ও ক্রেতাদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন:
কৃষকেরা আর্সেনিক, সিসা ও ক্যাডমিয়ামের তাৎক্ষণিক সংকটে পড়েছেন। এসব বিষাক্ত পদার্থ মাটি ও আমাদের ফলানো খাবারে জমা হয়। এতে কৃষক এবং আমাদের পণ্য কেনা ভোক্তা—উভয়ের মধ্যেই ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
বন্যার পলি দূষণ বয়ে নিয়ে যেতে পারে ভেতরের জমিতে
নদী থেকে দূরত্ব বেশি হলেই দূষণ কম হবে, এমন নয়। নদী থেকে দুই কিলোমিটারের মধ্যে মাটি পরীক্ষা করা বিজ্ঞানীরা জানান, কিছু স্থানে তীরের পাশের এলাকার তুলনায় দূরের জমিতে বিষাক্ত ধাতুর ঘনত্ব বেশি পাওয়া গেছে। তাদের মতে, বন্যার পানি দূষিত পলি ভেতরের জমিতে বয়ে নিয়ে যাওয়ায় এমনটা হয়েছে।
এই পর্যবেক্ষণ ব্যাখ্যা করে, কেন পরীক্ষা নদীর খাতে সীমাবদ্ধ না রেখে কৃষিজমিতেও চালাতে হবে। পানি নেমে গেলেও জমা কাদা থেকে যায়। বারবার সেচ ও বন্যার পানিও আরও পলি জমাতে পারে। ফলে মাটি ব্যবস্থাপনা নির্ভর করে উজান থেকে নতুন করে কী আসছে তার ওপর।
স্টিমসন সেন্টারের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া কর্মসূচির পরিচালক ব্রায়ান আইলার পানি, পলি ও আশপাশের মাটি পরীক্ষা করার আহ্বান জানান। নদীগুলোর দূষণের তুলনামূলক মাত্রা তুলে ধরে তিনি বলেন:
চিয়াং মাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষিত নদীগুলোর মধ্যে সাই নদীতেই দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। কোক নদীর চেয়ে অনেক বেশি, যদিও কোক নদীর অবস্থাও খারাপ।
প্রতিক্রিয়ার একটি বাস্তব ঘাটতি তুলে ধরেছেন পারিন্যানন: নদীর পানি পলিতে ব্যাপক ঘোলা হয়ে গেলে সেচের পানি নেওয়া বন্ধ করার স্পষ্ট মানদণ্ড সংস্থাগুলোর নেই। চোখে পড়ার মতো ঘোলাভাব আর্সেনিকের সুনির্দিষ্ট পরিমাপ নয়। তবে দূষিত কাদা নিয়ে উদ্বেগের কারণে জমিতে নতুন পলি জমা ঠেকাতে পানি নেওয়ার নিয়ম এবং সময়মতো পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফসলের বিধিনিষেধের সঙ্গে দরকার মানচিত্র ও আয়ের সহায়তা
চিয়াং রাই ভূমি উন্নয়ন কেন্দ্র বিকল্প চাষব্যবস্থা নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সঙ্গে কাজ করছে। উচ্চ দূষণের এলাকার কৃষকদের খাদ্যশস্য, বিশেষ করে পাতা বা ফলের জন্য চাষ করা ফসল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে জ্বালানি ফসলের কথা বিবেচনা করতে বলা হচ্ছে, যেগুলোতে দূষক জমার সম্ভাবনা কম হতে পারে।
এসব বিকল্প বিবেচনাধীন; প্রতিটি জমির জন্য পরীক্ষিত সমাধান হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না। কোন প্রজাতি উপযোগী, কীভাবে চাষ করতে হবে এবং ফসল কী কাজে ব্যবহার করা যাবে, সে বিষয়ে কৃষকদের নির্দেশনা দরকার। পাশাপাশি স্থানীয় দূষণের মাত্রায় প্রস্তাবিত ফসল উপযোগী কি না, তা নির্ধারণের জন্য পরীক্ষাও প্রয়োজন।
চিয়াং রাই রাচাভাট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের সহকারী অধ্যাপক সাথিয়ান চান্তা কৃষিজমির লাল, হলুদ ও সবুজ এলাকার বিস্তারিত মানচিত্র তৈরির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, লাল এলাকায় খাদ্যশস্য চাষ করা উচিত নয় এবং ধাতুর আরও সঞ্চয় ঠেকাতে দূষিত মাটি শোধনের আহ্বান জানান।
হলুদ এলাকার জন্য স্পষ্ট ফসল নির্দেশিকা এবং স্বাভাবিক ফসল চাষে বাধাপ্রাপ্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও আহ্বান জানান সাথিয়ান। অক্টোবরের ফলাফলের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন কোনো ক্ষতিপূরণ কর্মসূচি নিশ্চিত করা হয়নি। ধান ও ভুট্টার ওপর নির্ভরতা, সংস্থাগুলোর সীমিত বাজেট এবং সেচের পানির অনিশ্চয়তার কারণে উৎপাদনব্যবস্থায় হঠাৎ পরিবর্তন কঠিন।
কার্যকর ভৌগোলিক পরিসরে ফলাফল প্রকাশ করা হলে পরীক্ষাগারের তথ্য থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে। অববাহিকাভিত্তিক শতাংশের হিসাব কোনো কৃষককে জানাতে পারে না, তার জমি কোন শ্রেণিতে পড়ে, সেচ চালিয়ে যাওয়া উচিত কি না বা সেখানে কোন ফসল লাগানোর সুপারিশ করছে সংস্থা।
দূষিত নদীর পানির বিকল্প চান কৃষকেরা
২০২৫ সালের ২৫ মে RC1 সেচখাল কার্যালয় পরিদর্শনের সময় কৃষকেরা কৃষি ও সমবায়বিষয়ক উপমন্ত্রী পিয়ারাত থিয়াপাইরাতের কাছে অভিযোগ জমা দেন। কৃষকেরা খামারে সৌরবিদ্যুৎচালিত ভূগর্ভস্থ পানির কূপ, মে খাম জলাধারের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা এবং উজানের খনিদূষণ ও বর্জ্য ফেলা বন্ধে আন্তর্জাতিক আলোচনার প্রস্তাব দেন।
জলাধার-সংক্রান্ত প্রস্তাবে ভৌগোলিক জটিলতা রয়েছে: মে ফা লুয়াং জেলায় পরিকল্পিত জলাধারটি ক্ষতিগ্রস্ত মে সাইয়ের পাঁচটি উপজেলার সেবা এলাকার বাইরে। থংখাম জলাধার থেকে RC1-এ পানি পৌঁছে দিতে সংযোগকারী পাইপলাইন নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন এবং উজানের কমিউনিটিগুলোর সঙ্গে এ ধারণা নিয়ে আলোচনা করছেন।
এগুলো এখনো প্রস্তাব, নিশ্চিত বিকল্প পানির সরবরাহ নয়। কূপ বা পাইপলাইন কোনোটিরই সমাপ্তির তারিখ জানানো হয়নি। দূষিত নদীর পানির বিকল্প হিসেবে প্রস্তাবিত যেকোনো উৎসকে কৃষিকাজের উপযোগী বলে বিবেচনার আগে পরীক্ষা করাও প্রয়োজন।
উদ্ভিদে ভারী ধাতু শোষণ ঠেকাতে কৃষি পদ্ধতি নিয়ে গবেষণার নির্দেশ দিয়েছেন পিয়ারাত। এ কাজ ফসলের মাধ্যমে দূষণের সংস্পর্শ কমানোর দিকে নজর দেয়; আর পানির নতুন উৎস সেচের মাধ্যমে দূষণ অব্যাহত থাকা ঠেকাতে পারে। তবে কোনো ব্যবস্থাই একা প্রমাণ করে না যে মাটিতে ইতিমধ্যে জমা ধাতু অপসারণ করা হয়েছে।
উজানের খনি সংকটকে আঞ্চলিক মাত্রা দিয়েছে
২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত স্টিমসন সেন্টারের এক বিশ্লেষণে মিয়ানমারের নদী অববাহিকাজুড়ে ৫১৩টি বিরল মৃত্তিকা খনির স্থান শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলো মেকং, সালউইন ও ইরাবতী নদীব্যবস্থায় পানি সরবরাহ করে। এর মধ্যে ২০২৫ সালে ৪০টি খনি চালু হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। রুয়াক, ল্ওয়ে ও কোক নদীর পাশে শনাক্ত ৫৮টি খনির মধ্যে ৪৪টি ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চালু হয়েছে, যা ওই গোষ্ঠীর প্রায় ৭৬ শতাংশ।
এই সম্প্রসারণ উজান থেকে, বিশেষ করে ইউনাইটেড ওয়া স্টেট আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন শান রাজ্যের কিছু অংশ থেকে দূষণ আসার উদ্বেগকে জোরালো করে। স্যাটেলাইটভিত্তিক তালিকায় খনির অবস্থান ও বিস্তারের তথ্য রয়েছে। তবে এর ভিত্তিতে নির্দিষ্ট করে বলা যায় না, চিয়াং রাইয়ের কোনো নির্দিষ্ট জমিতে মাপা আর্সেনিক কোন খনি থেকে এসেছে।
বিশ্লেষণে বর্ণিত খননপদ্ধতিতে খনিজ আহরণের জন্য পাহাড়ের ঢালে রাসায়নিক দ্রবণ প্রবেশ করানো হয় এবং নিচের জলাশয়ে তরল সংগ্রহ করা হয়। পরিত্যক্ত জলাশয়ে দূষিত বর্জ্যপানি থেকে যেতে পারে, যা ভারী বৃষ্টিতে উপচে পড়তে পারে। ফলে বৃষ্টি নদীর দূষণ পাতলা করার পাশাপাশি আরও বর্জ্য ধুয়ে জলধারায় ফেলতে পারে।
বিরল মৃত্তিকা খনিজের জন্য চীনের চাহিদা, নিজ দেশে খননের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে তাদের আধিপত্য মিয়ানমারে খনি সম্প্রসারণের পেছনের বাণিজ্যিক চাপ ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে। সীমান্তের ওপারের খনি সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না থাইল্যান্ড। তাই যেসব বিকল্পের আহ্বান জানানো হচ্ছে, তার মধ্যে আলোচনা ও বাণিজ্যিক পদক্ষেপ রয়েছে।
পিপলস পার্টির সংসদ সদস্য ফাত্তারাপং লীলাফাত খনিজ আমদানির ওপর নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডের ২০১৭ সালের খনিজ আইনের ১০৪ ধারা বিবেচনার আহ্বান জানান। এক প্রতিবেদনে বলা হয়, থাইল্যান্ডে নিবন্ধিত ৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান মিয়ানমার থেকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ আমদানি করছে। এ সংখ্যা বাণিজ্যে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের হিসাব; প্রত্যেক আমদানিকারক দূষণকারী খনি থেকে খনিজ নিয়েছে, তার প্রমাণ নয়।
স্বাস্থ্য সতর্কতা ও পদক্ষেপের দাবি বেড়েছে
কয়েক মাস ধরে প্রতিক্রিয়ার বিস্তার ঘটেছে: কৃষকদের বিকল্প সেচের পানির দাবি থেকে শুরু করে পরীক্ষা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও আঞ্চলিক আলোচনার বৃহত্তর আহ্বান পর্যন্ত। উল্লেখযোগ্য তারিখগুলো হলো:
- ২৫ মে, ২০২৫: থংখাম পিয়ারাতের কাছে কৃষকদের অভিযোগ ও বিকল্প পানির প্রস্তাব জমা দেন।
- ২২ সেপ্টেম্বর: স্টিমসন সেন্টার মিয়ানমারের নদী অববাহিকায় ৫১৩টি খনির স্থান শনাক্ত করে বিশ্লেষণ প্রকাশ করে।
- অক্টোবরের শুরুতে: কোক, সাই, রুয়াক ও মেকং নদী সুরক্ষা নেটওয়ার্ক থাইল্যান্ডের নতুন সরকারের কাছে পিটিশন জমা দেয়।
- ৮ অক্টোবর: রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ মে সাইয়ের পাঁচটি উপজেলার বাসিন্দাদের সাই নদীর অপরিশোধিত পানি এবং নদীতে ধরা জলজ প্রাণী এড়িয়ে চলার সতর্কতা দেয়।
- ১০ অক্টোবর: চিয়াং রাই ভূমি উন্নয়ন কেন্দ্র কৃষিজমির মাটি পরীক্ষার প্রাথমিক ফল প্রকাশ করে।
কমিউনিটি নেটওয়ার্কের পিটিশনে প্রায় ১৬,০০০ হেক্টর জমিতে পর্যবেক্ষণ, বিকল্প পানির উৎস এবং ভারী ধাতু পরীক্ষার জন্য প্রাদেশিক সুবিধা গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়। দূষণমুক্ত বলে প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে খনিজ আমদানি বন্ধ রাখা এবং থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও চীনের মধ্যে আলোচনারও দাবি জানানো হয়।
কৃষি, মৎস্য ও পর্যটন খাতে মোট ক্ষতির প্রাক্কলন ১.৩ বিলিয়ন বাত, যা প্রায় ৪ কোটি ডলার বলে প্রতিবেদন করা হয়েছে। এটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক ক্ষতির হিসাব; অক্টোবরের মাটি মূল্যায়নে লাল শ্রেণিতে পড়া জমিগুলোর ক্ষতির হিসাব নয়, কিংবা ঘোষিত ক্ষতিপূরণ বাজেটও নয়।
স্বাস্থ্য সতর্কতায় নদীর অপরিশোধিত পানি ও নদীতে ধরা জলজ প্রাণীর কথা বলা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে চিয়াং রাইয়ের সব কৃষিপণ্য অনিরাপদ বলে প্রমাণিত হয়েছে। কোন পণ্য আক্রান্ত, তা নির্ধারণে গবেষকেরা যে কৃষিপণ্যের পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন, তা প্রয়োজন।
দূষিত পলি নিয়ে সিদ্ধান্ত এখনো বাকি
দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ ও সিয়াম সিমেন্ট গ্রুপের একটি প্রস্তাবে দূষিত মাটি ও পলি সিমেন্টজাত পণ্যের সঙ্গে মেশানোর কথা রয়েছে। গবেষকেরা কর্তৃপক্ষকে এসব পণ্যের নির্দিষ্ট ব্যবহার জানাতে এবং এর ফলে তৈরি উপকরণ আবাসন বা পরিবেশে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে কি না, তা মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
মে ফা লুয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. সুয়েবসাকুল কিতনুকর্ন স্বচ্ছতা, সরকারি সংস্থা, শিক্ষাবিদ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আক্রান্ত কমিউনিটির অংশগ্রহণ এবং পরিবেশের মান ও কৃষিপণ্যের নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানান। ড্রেজিং, পলি আটকে রাখার ব্যবস্থা ও পানি শোধনের মাধ্যমে সংগৃহীত পলি নিয়েও আরও গবেষণার দাবি জানিয়েছেন গবেষকেরা।
পলিকে নির্মাণসামগ্রীতে পরিণত করলেই দূষক নিরাপদে আবদ্ধ হয়েছে, এমনটা প্রমাণ হয় না। উপকরণটি নির্ধারিত কাজে ব্যবহারের সময় ধাতু বেরিয়ে আসতে পারে কি না এবং কোনো বিধিনিষেধ দরকার কি না, তা মূল্যায়নে নির্ধারণ করতে হবে। কোনো পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা মূল্যায়ন বা অনুমোদিত ব্যবহারের চূড়ান্ত তালিকা পাওয়া যায়নি।
তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তগুলো পরিবেশের পাশাপাশি কৃষিসংক্রান্তও: কোন জমিতে বিধিনিষেধ দরকার, কোন ফসল চাষ করা যাবে, কৃষকেরা কীভাবে উপযোগী পানি পাবেন এবং আয় সহায়তা দেওয়া হবে কি না। লাল এলাকার পরবর্তী নমুনা দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এবং হলুদ এলাকার নমুনা ছয় মাসের মধ্যে নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে ওই পরীক্ষাগুলোর সুনির্দিষ্ট তারিখ, ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত বা বিকল্প পানির অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হওয়ার সময় জানানো হয়নি।
সারকথা
- পরীক্ষিত কৃষিজমির প্রায় ২০ শতাংশে আর্সেনিকের মাত্রা বিভাগের মাটির মানদণ্ড অতিক্রম করেছে; ৫০ শতাংশে পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন এবং ৩০ শতাংশ সবুজ শ্রেণিতে পড়েছে।
- তদন্তে ২০০টির বেশি মাটি ও পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এই শতাংশ চিয়াং রাইয়ের সব কৃষিজমির প্রতিনিধিত্ব করে না।
- লাল এলাকার নমুনা প্রতি দুই থেকে তিন মাসে এবং হলুদ এলাকার নমুনা প্রতি ছয় মাসে নেওয়া হবে।
- গবেষকেরা জনসাধারণের জন্য দূষণের মানচিত্র, ফসলবিষয়ক নির্দেশনা, মাটি শোধন এবং আক্রান্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ চান।
- কৃষকেরা ভূগর্ভস্থ পানির কূপ ও জলাধার থেকে পানি সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছেন, তবে বিকল্প পানি সরবরাহের সময়সূচি নিশ্চিত নয়।
- কৃষিপণ্যের পরীক্ষা এবং দূষিত পলির জন্য প্রস্তাবিত সিমেন্টের ব্যবহার নিরাপদ কি না, তা নির্ধারণ এখনো জরুরি কাজ।






