বড় অংশীদারিত্ব, তবে দাম এখনো অপ্রকাশিত
গ্রেটার সানরাইজে ওসাকা গ্যাস অস্ট্রেলিয়ার ১০ শতাংশ অংশীদারিত্ব কিনতে বাধ্যতামূলক চুক্তি সই করেছে টিমর গ্যাপ। এর ফলে টিমর-লেস্তের জাতীয় তেল কোম্পানিটির মালিকানা ৫৬.৫৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৬.৫৬ শতাংশ হবে। ২০২৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঘোষিত চুক্তি অনুযায়ী, উডসাইড এনার্জির হাতে অবশিষ্ট ৩৩.৪৪ শতাংশ থাকবে। তবে চুক্তি সম্পন্ন করতে সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন এখনো প্রয়োজন।
সূচিপত্র
- বড় অংশীদারিত্ব, তবে দাম এখনো অপ্রকাশিত
- চুক্তিতে যা রয়েছে
- বড় সম্পদ, তবে উন্নয়ন অনুমোদিত নয়
- টিমর এলএনজি পরিকল্পনায় অগ্রগতি চায় টিমর গ্যাপ
- ক্রয়মূল্যের বাইরেও অর্থায়ন নিয়ে উদ্বেগ
- আগের পেট্রোলিয়াম তহবিলের ঋণও ঝুঁকির অংশ
- চীনের সঙ্গে আগের আলোচনা থেকে অংশীদার খোঁজার প্রচেষ্টা স্পষ্ট
- এখনো যেসব সিদ্ধান্ত ও তারিখের দিকে নজর রাখতে হবে
- মূল বিষয়গুলো
ক্রয়মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। টিমর গ্যাপের প্রেসিডেন্ট ও নির্বাহী পরিচালক রুই মারিয়া আলভেস সোয়ারেস বলেন, অনুমোদনের জন্য চুক্তিটি অস্ট্রেলিয়া ও টিমর-লেস্তে সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর টিমর-লেস্তের পেট্রোলিয়াম ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী বলেন, দাম এখনো প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তিনি স্বীকার করেন, বড় অংশীদারিত্বের কারণে রাষ্ট্রের অর্থায়নের চাহিদাও বাড়বে।
প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য গ্রেটার সানরাইজের গ্যাস টিমর-লেস্তেতে আনার উদ্যোগে এই অধিগ্রহণ টিমর গ্যাপের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে দেশটির ওপর এমন একটি সম্পদ উন্নয়নের ব্যয়ের দায়ও বাড়বে, যাতে আনুমানিক ৫.১৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ও ২২৫.৯ মিলিয়ন ব্যারেল কনডেনসেট রয়েছে।
এই লাভ-ক্ষতির হিসাবই ২৯ সেপ্টেম্বর লা'ও হামুতুকের প্রকাশিত স্বচ্ছতা-সংক্রান্ত দাবির কেন্দ্রে রয়েছে। নাগরিক সমাজের সংগঠনটি সরকার ও টিমর গ্যাপের কাছে অধিগ্রহণ ব্যয়, অর্থায়নের ব্যবস্থা এবং সরকারি সম্পদের ঝুঁকি প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের উদ্বেগ, গ্যাস থেকে রাষ্ট্রের আয় আসার আগেই বড় মালিকানার কারণে ব্যয়ের দায় বাড়বে।
অন্য কর্মকাণ্ডে মনোযোগ বাড়াতে ওসাকা গ্যাস তাদের অংশীদারিত্ব বিক্রি করছে। তাদের সরে যাওয়া থেকে প্রমাণ হয় না যে গ্রেটার সানরাইজ বাণিজ্যিকভাবে লাভজনকভাবে উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। একইভাবে, টিমর গ্যাপের কেনাকাটাও প্রমাণ করে না যে প্রকল্পটি লাভজনক হবে। চুক্তিটি মালিকানার কাঠামো বদলাচ্ছে; তবে প্রকল্পের অর্থায়ন, প্রক্রিয়াজাতকরণের স্থান কিংবা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত করেনি।
চুক্তিতে যা রয়েছে
এই লেনদেনে ওসাকা গ্যাস অস্ট্রেলিয়ার দুটি বিদ্যমান উৎপাদন-অংশীদারি চুক্তি—পিএসসি ০৩-১৯ ও পিএসসি ০৩-২০—এবং অস্ট্রেলিয়ার দুটি রিটেনশন লিজ—এনটি/আরএল২ ও এনটি/আরএল৪—এর অংশীদারিত্ব অন্তর্ভুক্ত। টিমর-লেস্তে ও অস্ট্রেলিয়ার সামুদ্রিক সীমান্ত চুক্তির আওতায় একটি একক উৎপাদন-অংশীদারি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে এসব অংশীদারিত্ব।
উৎপাদন-অংশীদারি চুক্তিতে নির্ধারিত হয়, পেট্রোলিয়াম কোম্পানিগুলো কী শর্তে সম্পদ উন্নয়ন করবে এবং সংশ্লিষ্ট সরকারের সঙ্গে উৎপাদন কীভাবে ভাগ করবে। পরিকল্পিত একক চুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অধিগ্রহণে কয়েকটি বিদ্যমান আইনি দলিলের অধীন থাকা অংশীদারিত্ব অন্তর্ভুক্ত। অংশীদারিত্ব কেনা এবং প্রকল্পের চুক্তিগত কাঠামো সম্পন্ন করা আলাদা পদক্ষেপ।
চুক্তি সম্পন্ন হলে টিমর গ্যাপের মালিকানার সুনির্দিষ্ট হার হবে ৬৬.৫৬ শতাংশ। একটি প্রতিবেদনে উডসাইডের ৩৩.৪৪ শতাংশ অংশীদারিত্ব উল্লেখ করে টিমর গ্যাপের হার ৬৬.৫ শতাংশ বলা হয়েছে। এই হার দুটির যোগফল ১০০ শতাংশ হয় না; ঘোষণায় দেওয়া ৬৬.৫৬ শতাংশের অঙ্কটি হয়। অধিগ্রহণে টিমর গ্যাপের অংশীদারিত্ব ১০ শতাংশ-পয়েন্ট বাড়বে, যা বিদ্যমান ৫৬.৫৬ শতাংশ মালিকানার তুলনায় প্রায় ১৭.৭ শতাংশ বৃদ্ধি।
অর্থাৎ এই যৌথ উদ্যোগে টিমর গ্যাপের হাতে থাকবে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অংশীদারিত্ব। প্রকল্পটির মনোনীত অপারেটর উডসাইডও উল্লেখযোগ্য অংশীদার হিসেবে থাকবে। অংশীদারিত্বের হার বাড়লেই ক্ষেত্রগুলো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি ও বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তগুলোর সমাধান হয় না।
বড় সম্পদ, তবে উন্নয়ন অনুমোদিত নয়
গ্রেটার সানরাইজের অন্তর্ভুক্ত সানরাইজ ও ট্রুবাডুর গ্যাস ও কনডেনসেট ক্ষেত্র, যেগুলো ১৯৭৪ সালে আবিষ্কৃত হয়। প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, ক্ষেত্রগুলো ডারউইন থেকে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। টিমর-লেস্তের তুলনায় অবস্থানটি বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে: একটি বিবরণে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে, অন্যটিতে ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে।
গ্যাসের আনুমানিক পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে ৫.১৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট বলা হয়েছে। অধিগ্রহণ ঘোষণায় কনডেনসেটের পরিমাণ ২২৫.৯ মিলিয়ন ব্যারেল বলা হয়েছে; অন্য একটি বিবরণে তা ২২৬ মিলিয়ন ব্যারেল—যা রাউন্ড করে বলা অঙ্কের পার্থক্য। কনডেনসেট হলো প্রাকৃতিক গ্যাসের সঙ্গে পাওয়া তরল হাইড্রোকার্বন, যা বিক্রির আয়ের আলাদা উৎস হতে পারে।
এই পরিমাণগুলোকে শর্তাধীন সম্পদ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ এগুলো আবিষ্কৃত সম্পদ, তবে বাণিজ্যিকভাবে উন্নয়নের জন্য এখনো কিছু শর্ত পূরণ হতে হবে। এগুলোকে উৎপাদন বা ভবিষ্যৎ আয়ের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা উচিত নয়।
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের একটি প্রতিবেদনে ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদন শুরুর সম্ভাব্য সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাধ্যতামূলক ক্রয়চুক্তিটি এখনো অনুমোদনসাপেক্ষ, আর অংশীদাররা উন্নয়ন পরিকল্পনা ও চূড়ান্ত বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের বিষয়ে কাজ করছেন। তাই উৎপাদনের সময়সীমাটি প্রত্যাশা, নিশ্চিত শুরুর তারিখ নয়।
চূড়ান্ত বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত হলো সেই পর্যায়, যখন প্রকল্পের অংশীদাররা আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়ন ব্যয়ে অর্থ বিনিয়োগে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়। গ্রেটার সানরাইজের ক্ষেত্রে মালিকানা হস্তান্তরের লেনদেনটি সেই সিদ্ধান্তের দিকে একটি পদক্ষেপ, সিদ্ধান্তটি নিজে নয়।
টিমর এলএনজি পরিকল্পনায় অগ্রগতি চায় টিমর গ্যাপ
টিমর গ্যাপ বলেছে, টিমর এলএনজি উন্নয়ন পরিকল্পনা বেছে নেওয়ার অপেক্ষমাণ কাজ এগিয়ে নিতে অধিগ্রহণটি সহায়ক হওয়া উচিত। সরকারের লক্ষ্য, পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস টিমর-লেস্তেতে আনা, যেখানে রপ্তানির জন্য তা প্রক্রিয়াজাত করতে নতুন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্ল্যান্ট তৈরি করা হবে। জাহাজে পরিবহনের উপযোগী করতে প্রাকৃতিক গ্যাস ঠান্ডা করে তরলে পরিণত করাকে এলএনজি বলা হয়।
টিমর গ্যাপের প্রধান নির্বাহী সোয়ারেস আরও বলেন, এই কেনাকাটায় অবশিষ্ট অংশীদারদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়তে পারে। সানরাইজ যৌথ উদ্যোগে সম্ভাব্য প্রভাব বর্ণনা করে তিনি বলেন:
আমরা আরও আশা করি, এই অধিগ্রহণ সানরাইজ যৌথ উদ্যোগের অংশীদারদের মধ্যে সমন্বয় বাড়াবে। এতে তারা আরও কার্যকরভাবে একসঙ্গে কাজ করে চূড়ান্ত বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবেন। এই সিদ্ধান্ত গ্রেটার সানরাইজ সম্পদের মূল্য উন্মোচন করবে এবং তাতে টিমর-লেস্তের জনগণ, সানরাইজ যৌথ উদ্যোগের সদস্য ও অন্য সব অংশীজন উপকৃত হবেন।
বিবৃতিতে টিমর গ্যাপের প্রত্যাশা তুলে ধরা হয়েছে, নির্দিষ্ট কোনো প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতিতে সব পক্ষের অঙ্গীকার নয়। উন্নয়ন নিয়ে মূল বিরোধ হলো, টিমর-লেস্তেতে নতুন এলএনজি প্ল্যান্ট তৈরি করা হবে, নাকি গ্যাস ডারউইনের বিদ্যমান এলএনজি হাবে পাঠানো হবে।
যুক্তরাজ্যের প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান উডের অংশ উড অস্ট্রেলিয়াকে ২০২৪ সালের এপ্রিলে ক্ষেত্রগুলোর সম্ভাব্য উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে সমীক্ষা করতে নিয়োগ দেওয়া হয়। উড অস্ট্রেলিয়া প্রকল্পটির অপারেটর ও অবশিষ্ট অংশীদার উডসাইড এনার্জি থেকে আলাদা প্রতিষ্ঠান। অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত বিবরণে চূড়ান্ত উন্নয়ন পরিকল্পনা ইতিমধ্যে বেছে নেওয়া হয়েছে, এমন প্রমাণ নেই।
ক্রয়মূল্যের বাইরেও অর্থায়ন নিয়ে উদ্বেগ
লা'ও হামুতুকের তথ্য প্রকাশের দাবি ওসাকা গ্যাসকে দেওয়া অপ্রকাশিত অর্থের বাইরেও বিস্তৃত। অধিগ্রহণের অর্থ কোথা থেকে আসবে, অর্থায়নের কাঠামো কী হবে, ভবিষ্যতে কী বিনিয়োগের দায় তৈরি হবে এবং উন্নয়ন ব্যয় বাড়লে ঝুঁকির ভার কার ওপর পড়বে—এসব তথ্য জানতে চায় সংগঠনটি।
তাদের হিসাব অনুযায়ী, অতিরিক্ত অংশীদারিত্বের ফলে গ্রেটার সানরাইজে টিমর গ্যাপের মূলধনী ব্যয়ের দায় প্রায় ৭.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ৮.৭ বিলিয়ন ডলার হতে পারে। বৃদ্ধি ১.৩ বিলিয়ন ডলার, বা প্রায় ১৭.৬ শতাংশ। এই হার টিমর গ্যাপের মালিকানার আপেক্ষিক ১৭.৭ শতাংশ বৃদ্ধির কাছাকাছি।
এই অঙ্কগুলো লা'ও হামুতুকের হিসাব; প্রকাশিত প্রকল্প বাজেট বা অনুমোদিত অর্থায়ন প্যাকেজ নয়। এগুলো সম্ভাব্য উন্নয়ন ব্যয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত, যা ক্রয়মূল্য থেকে আলাদা। লেনদেনের শর্ত এবং উন্নয়ন ব্যয়ের হিসাবের ভিত্তি প্রকাশ না করা পর্যন্ত অতিরিক্ত মোট আর্থিক দায় নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
পেট্রোলিয়াম ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর স্বীকার করেন, রাষ্ট্রের অংশীদারিত্ব বাড়লে অর্থায়নের চাহিদাও বাড়বে। ওই বক্তব্যে কোনো অঙ্ক বা অর্থায়নের উৎস জানানো হয়নি।
লা'ও হামুতুক আরও বলেছে, গ্রেটার সানরাইজে বরাদ্দ করা অর্থ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা অন্য সরকারি অগ্রাধিকারের সঙ্গে তুলনা করে মূল্যায়ন করতে হবে। তাদের তালিকায় রয়েছে কৃষি, মৎস্য, স্থানীয় শিল্প, খাদ্য উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং যুব কর্মসংস্থান। এটি সরকারি সম্পদের বিকল্প ব্যবহারের প্রশ্ন; অধিগ্রহণের কারণে কোনো নির্দিষ্ট কর্মসূচির অর্থায়ন ইতিমধ্যে কমেছে—এমন প্রমাণ নয়।
আগের পেট্রোলিয়াম তহবিলের ঋণও ঝুঁকির অংশ
নতুন কেনাকাটার আগে ২০১৮ সালে পেট্রোলিয়াম তহবিল থেকে নেওয়া ৬৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ ব্যবহার করে শেল ও কনোকোফিলিপসের কাছ থেকে গ্রেটার সানরাইজের অংশীদারিত্ব কিনেছিল টিমর গ্যাপ। নতুন লেনদেনকে বিদ্যমান দায়ের পাশাপাশি বিবেচনা করা উচিত, বিচ্ছিন্নভাবে নয়—এ দাবির পক্ষে লা'ও হামুতুক ওই ঋণের কথা উল্লেখ করেছে।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, মূল ঋণচুক্তিতে ২০২৮ সাল থেকে টিমর গ্যাপের বছরে ১২০ মিলিয়ন ডলারের বেশি কিস্তি পরিশোধ শুরুর কথা রয়েছে। একটি প্রস্তাবে প্রথম কিস্তি ২০৩৩ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া এবং ঋণের মেয়াদ ২০৩৭ থেকে বাড়িয়ে ২০৪২ সাল করার কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লিখিত এই পরিবর্তনগুলো প্রস্তাব, নিশ্চিত সংশোধন নয়।
প্রস্তাবিত বিলম্বে দুই তারিখই পাঁচ বছর পিছিয়ে যাবে। এতে ঋণ পরিশোধের সময়ের সঙ্গে ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের সম্ভাব্য উৎপাদনকালও নতুনভাবে সম্পর্কিত হবে। প্রকল্পের আয় দিয়ে কিস্তি পরিশোধ সম্ভব হবে কি না, তা নির্ভর করবে প্রকৃত উৎপাদন শুরুর সময়, উন্নয়ন ব্যয়, বিক্রির ব্যবস্থা এবং অর্থায়নের শর্তের ওপর।
লা'ও হামুতুকের বক্তব্য, টিমর গ্যাপ ও উডসাইড বিনিয়োগের হিসাবি মূল্য শূন্যে নামিয়েছে, আর টিমর-লেস্তের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্য ৩৯ শতাংশ কমিয়ে হিসাব করেছে। এগুলো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা পৃথক হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান কী মূল্যায়ন করেছে এবং কী অনুমান ব্যবহার করেছে, তা না জেনে এগুলোকে একক মূল্যায়নে একত্র করা যায় না।
কোনো সম্পদের হিসাবি মূল্য কমানোকে রাইট-ডাউন বলা হয়। শুধু এ কারণে প্রমাণ হয় না যে সম্পদটির ভবিষ্যতে কোনো সম্ভাব্য মূল্য নেই। তবে এ পরিস্থিতিতে নতুন সরকারি ব্যয়ের ভিত্তি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ: অতীতের ব্যয় ও প্রত্যাশা থেকে আলাদা করে আরও ইকুইটি কেনার সিদ্ধান্ত মূল্যায়ন করতে হবে।
চীনের সঙ্গে আগের আলোচনা থেকে অংশীদার খোঁজার প্রচেষ্টা স্পষ্ট
মালিকানা চুক্তির আগে টিমর-লেস্তে উন্নয়নের জন্য অন্য সম্ভাব্য অংশীদারত্বের পথও খতিয়ে দেখেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস-হোর্তা বলেন, বেসরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দেশটির আলোচনা হয়েছে। চীনা ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে কয়েকজন প্রতিনিধি দেশটি সফরও করেন।
চীনা জ্বালানি কোম্পানি সিনোপেক প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রামোস-হোর্তা বলেন:
সিনোপেক যোগাযোগ করেছে।
ওই আলোচনা নিয়ে সিনোপেক কোনো মন্তব্য করেনি। রামোস-হোর্তা আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সমঝোতা না হলে টিমর-লেস্তে চীনা বা কুয়েতি অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। এসব বক্তব্যে সম্ভাব্য অংশীদারত্বের কথা বলা হয়েছে; সম্পন্ন বিনিয়োগ বা গ্রেটার সানরাইজে নিশ্চিত কোনো ভূমিকার কথা নয়।
২০২৪ সালের অক্টোবরের বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বায়ু-উন্দান থেকে গ্যাস রপ্তানি বন্ধ হওয়ার পর পেট্রোলিয়াম আয়ের আরেকটি উৎস গড়ে তোলার চাপ বেড়েছিল। ওই বিবরণে ২০১৮ সালের গ্রেটার সানরাইজ থেকে ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের একটি অনুমানের কথাও বলা হয়। এটি অতীতের অনুমান, বর্তমান মূল্যায়ন কিংবা সরকারের হাতে আসবে এমন অর্থের প্রতিশ্রুতি নয়।
পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সম্পদের আনুমানিক পরিমাণ, সম্ভাব্য আয় এবং সরকারি আয় এক বিষয় নয়। গ্যাস বিক্রির আগে অবকাঠামো ও অর্থায়ন প্রয়োজন। শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র কত অর্থ পাবে, তা নির্ভর করবে ব্যয়, বাণিজ্যিক ব্যবস্থা এবং প্রযোজ্য চুক্তির ওপর।
এখনো যেসব সিদ্ধান্ত ও তারিখের দিকে নজর রাখতে হবে
ওসাকা গ্যাসের সঙ্গে লেনদেনে পরবর্তী নিশ্চিত পদক্ষেপ হলো প্রয়োজনীয় সরকারি ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদন নেওয়া এবং চুক্তি সম্পন্ন করার অন্যান্য শর্ত পূরণ করা। কোনো অনুমোদনের শেষ সময়সীমা বা চুক্তি সম্পন্নের তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। ক্রয়মূল্য ও অর্থায়নের ব্যবস্থাও এখনো অপ্রকাশিত।
প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতিতে কয়েকটি আলাদা সিদ্ধান্তের ধাপ রয়েছে: একক উৎপাদন-অংশীদারি চুক্তি চূড়ান্ত করা, উন্নয়ন পরিকল্পনা বেছে নেওয়া, অর্থায়নের ব্যবস্থা করা এবং চূড়ান্ত বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো। অধিগ্রহণ ঘোষণায় এসব ধাপ সম্পন্ন হয়েছে, এমন ইঙ্গিত নেই।
নতুন চুক্তিটি আগের ঋণ, উন্নয়ন-সংক্রান্ত আলোচনা ও ভবিষ্যৎ দায়ের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত, তা গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলোতে দেখা যায়:
- ২০১৮: পেট্রোলিয়াম তহবিল থেকে ৬৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ নিয়ে শেল ও কনোকোফিলিপসের কাছ থেকে অংশীদারিত্ব কেনে টিমর গ্যাপ।
- এপ্রিল ২০২৪: গ্রেটার সানরাইজের সম্ভাব্য উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে সমীক্ষার দায়িত্ব পায় উড অস্ট্রেলিয়া।
- অক্টোবর ২০২৪: চীনা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও অন্য সম্ভাব্য অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগের কথা জানান রামোস-হোর্তা।
- ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ওসাকা গ্যাস অস্ট্রেলিয়ার ১০ শতাংশ অংশীদারিত্ব কেনার বাধ্যতামূলক চুক্তির ঘোষণা দেয় টিমর গ্যাপ।
- ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬: পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী বলেন, দাম এখনো প্রকাশ করা যাবে না এবং রাষ্ট্রের অর্থায়নের চাহিদা বাড়বে।
- ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬: লা'ও হামুতুক লেনদেনের তথ্য প্রকাশ ও যাচাইয়ের আহ্বান জানায়।
- ২০২৮: মূল চুক্তি অনুযায়ী আগের ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হওয়ার কথা।
- ২০২৮ থেকে ২০৩০: একটি প্রতিবেদনে এই সময়কে সম্ভাব্য উৎপাদনকাল বলা হয়েছে; তবে উন্নয়নে নিশ্চিত অঙ্গীকার নেই।
ক্রয়মূল্য, অর্থায়নের কাঠামো, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের দায় এবং অর্থনৈতিক মূল্যায়ন পর্যালোচনার জন্য লা'ও হামুতুক সংসদ ও তদারকি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। আইনগতভাবে প্রকাশযোগ্য নথিপত্র প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এসব তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত মালিকানা বৃদ্ধির পরিমাণ হিসাব করা গেলেও এর পূর্ণ ব্যয় ও সম্ভাব্য সরকারি আয় নির্ধারণ করা যাবে না।
মূল বিষয়গুলো
- অনুমোদন ও চুক্তি সম্পন্নের অন্যান্য শর্তসাপেক্ষে গ্রেটার সানরাইজে ওসাকা গ্যাস অস্ট্রেলিয়ার ১০ শতাংশ অংশীদারিত্ব কিনতে সম্মত হয়েছে টিমর গ্যাপ।
- টিমর গ্যাপের মালিকানা ৫৬.৫৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৬.৫৬ শতাংশ হবে; উডসাইডের হাতে থাকবে ৩৩.৪৪ শতাংশ।
- ক্রয়মূল্য ও অর্থায়নের ব্যবস্থা প্রকাশ করা হয়নি।
- গ্রেটার সানরাইজে আনুমানিক ৫.১৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ও ২২৫.৯ মিলিয়ন ব্যারেল কনডেনসেটের শর্তাধীন সম্পদ রয়েছে।
- অধিগ্রহণে টিমর এলএনজি পরিকল্পনা বেছে নেওয়ার কাজ এগোবে বলে টিমর গ্যাপের প্রত্যাশা, তবে চূড়ান্ত বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত এখনো বাকি।
- লা'ও হামুতুকের হিসাব অনুযায়ী, সম্ভাব্য মূলধনী ব্যয়ের দায় প্রায় ৭.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ৮.৭ বিলিয়ন ডলার হতে পারে।
- আগের ৬৫০ মিলিয়ন ডলারের পেট্রোলিয়াম তহবিলের ঋণের কিস্তি ২০২৮ সাল থেকে নির্ধারিত; তা পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব নিশ্চিত হয়নি।






