পুনর্গঠন ব্যয় প্রাথমিক ক্ষতির চেয়ে অনেক বেশি
২০২৬ সালের ২৬ আগস্টের হিমালয় অঞ্চলের বন্যা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে নেপালের প্রয়োজন ৪.৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর প্রায় পুরোটাই প্রথম ছয় মাসের পর পুনর্গঠনের কাজে লাগবে। সরকার ৫ অক্টোবর মূল অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শেষ করে। তখন পর্যন্ত ১,৪৫৫ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়, ৫,২৮৫ জন নিখোঁজ ছিলেন এবং ১৩,৭৯৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল। প্রয়োজন হলে জরুরি উদ্ধারকাজ চলবে।
সূচিপত্র
- পুনর্গঠন ব্যয় প্রাথমিক ক্ষতির চেয়ে অনেক বেশি
- কী ঘটেছিল, এবং কখন উদ্ধারকাজের ধরন বদলেছিল
- আর্থিক হিসাবগুলোতে কেন পার্থক্য
- সরকারি মূল্যায়নে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বিস্তৃত চিত্র
- নিখোঁজ ব্যক্তিরা পরিবারকে আইনি অনিশ্চয়তায় ফেলেছেন
- পুনর্গঠনের প্রধান কাজ বিদ্যুৎ ও পরিবহন
- কৃষিজমি, স্কুল ও দোকানের ক্ষতিতে বাস্তুচ্যুতি দীর্ঘ হচ্ছে
- বন্যাকবলিত উপত্যকার বাইরেও অর্থনৈতিক প্রভাব
- জলবায়ু অর্থায়ন মোট ব্যয়ের সামান্য অংশ মেটাবে
- বৈজ্ঞানিক অনিশ্চয়তা ও বন্যার চলমান ঝুঁকি
- মূল বিষয়গুলো
আর্থিক চ্যালেঞ্জটি শুধু ধ্বংস হওয়া ভবন প্রতিস্থাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক, কৃষিজমি ও বাণিজ্যপথ একই সঙ্গে ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে কোনো কোনো পরিবারের বাড়ি অক্ষত থাকলেও স্বাভাবিক জীবনে ফেরা কঠিন হয়ে পড়েছে। পুনর্গঠন ব্যয়ের হিসাব নেপালের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় এক-দশমাংশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী প্রথমে বলেছিলেন, প্রথম ছয় মাসের পুনরুদ্ধারকাজে প্রয়োজন ৫৭.৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠনে প্রায় ৪.৭১ বিলিয়ন ডলার। মোট ৪.৭৮ বিলিয়ন ডলারকে প্রায় ৬.৬৭ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার হিসেবেও দেখানো হয়েছিল। এগুলো একই অঙ্কের মুদ্রা-রূপান্তর, আলাদা হিসাব নয়।
পরবর্তী সময়ে সরকার ৫০৪টি পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন পরিকল্পনার জন্য ৫৫৯.১৭ বিলিয়ন নেপালি রুপি বরাদ্দের সুপারিশ করে। এই সুপারিশ থেকে বোঝা যায় না যে পুনরুদ্ধারের পুরো ব্যয় মেটানোর অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে। যেসব প্রকল্পের ব্যয় বা অগ্রাধিকার এখনো নির্ধারিত হয়নি, সেগুলোর জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রত্যাশা রয়েছে।
এদিকে পরিবারগুলোর সামনে আরও তাৎক্ষণিক একটি বাধা রয়েছে: হাজারো নিখোঁজ ব্যক্তিকে আইনত মৃত ঘোষণা করা হয়নি। মৃত্যুসনদ ছাড়া স্বজনদের ক্ষতিপূরণ পাওয়া, বিমার দাবি করা বা সম্পত্তি হস্তান্তর করা কঠিন হতে পারে। ফলে এই দুর্যোগে পুনরুদ্ধারের দুটি পরস্পর-সম্পর্কিত কাজ সামনে এসেছে—পুনর্গঠনে অর্থায়ন এবং যাঁরা সহায়তা পাওয়ার অধিকারী, তাঁদের কাছে সেই সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।
কী ঘটেছিল, এবং কখন উদ্ধারকাজের ধরন বদলেছিল
২৬ আগস্ট সকালে বন্যা শুরু হয়। হিমবাহের বরফ ও পাথরের স্তূপ ধসে পানি, পলি ও ধ্বংসাবশেষ নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমালয়ের নদী উপত্যকাগুলো দিয়ে নেমে আসে। ভোতে কোশি, আপার ত্রিশূলি এবং নারায়ণী-গণ্ডক নদীপ্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভাটির জনপদ, সীমান্ত স্থাপনা ও অবকাঠামো প্লাবিত হয়।
তাৎক্ষণিক কারণ সম্পর্কে বর্ণনায় পার্থক্য রয়েছে। কোনো কোনো বিবরণে বলা হয়েছে, লাংটাং লিরুং থেকে বরফ ও পাথরের ধস নেমে সাময়িকভাবে একটি নদীর প্রবাহ আটকে দিয়েছিল, পরে সেই বাধা ভেঙে যায়। অন্য বিবরণে বলা হয়েছে, ধসটি সরাসরি বিধ্বংসী ঢেউয়ে পরিণত হয়। সুনির্দিষ্ট ঘটনাক্রম এবং উষ্ণায়নের ভূমিকা বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
সাড়া দেওয়ার কাজটি কয়েকটি স্পষ্ট পর্যায়ের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে:
- ২৬ আগস্ট: সীমান্তের কাছের জনপদ ও ভাটির নদীপথসংলগ্ন এলাকায় মূল বন্যা আঘাত হানে।
- ২৮ আগস্ট: অস্থায়ী ধ্বংসাবশেষের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবরের পর উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়।
- ১৩ সেপ্টেম্বর: নেপাল দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি ও প্রয়োজন নিরূপণ প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যাতে ক্ষতি, লোকসান ও পুনরুদ্ধারের প্রাথমিক পরিসংখ্যান দেওয়া হয়।
- ১৭ সেপ্টেম্বর: কৃষ্ণভিরে বিকল্প পথে দুই দিকের যান চলাচল আবার শুরু হয়। এতে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হলেও পথটি আবার বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়ে যায়।
- ৫ অক্টোবর: প্রায় ৪০ দিন পর সরকার মূল অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শেষ করে এবং পুনর্বাসনের দিকে মনোযোগ দেয়।
- ৯ অক্টোবর: দুর্যোগের ছয় সপ্তাহ পরও বিচ্ছিন্নতা, মানসিক আঘাত ও জরুরি প্রয়োজন অব্যাহত থাকার কথা জানায় ইউনিসেফ।
জাতীয় জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্রের প্রধান ফণীন্দ্র পৌডেল অভিযানের পরিবর্তন ব্যাখ্যা করে বলেন:
আমরা অনুসন্ধান ও উদ্ধার পর্যায় থেকে অনুসন্ধান ও পুনর্বাসন পর্যায়ে যাচ্ছি।
জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান ধরম রাজ উপ্রেতি বলেন, মরদেহের জন্য সক্রিয় অনুসন্ধান বন্ধ হবে। তবে পুনর্বাসনের কাজ চলাকালে দেহাবশেষ ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র পাওয়া গেলে সেগুলো উদ্ধার করা হবে। এই সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে নিখোঁজ প্রত্যেককে শনাক্ত করা হয়েছে বা আইনত মৃত হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
আর্থিক হিসাবগুলোতে কেন পার্থক্য
সরকারের দ্রুত মূল্যায়নে দুর্যোগের মোট প্রভাব ধরা হয়েছে ৪০৮.২৯ বিলিয়ন নেপালি রুপি, যা প্রায় ২.৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ২৭৪.৪৮ বিলিয়ন রুপি সরাসরি অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং ১৩৩.৮১ বিলিয়ন রুপি ব্যবসা ও আয় ব্যাহত হওয়ার মতো লোকসান। পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন আরও বেশি: ৭২৩.৩২ বিলিয়ন রুপি, যা প্রায় ৪.৭৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ডলারের এই রূপান্তরে ৯ সেপ্টেম্বরের নেপাল রাষ্ট্র ব্যাংকের বিনিময় হার—প্রতি মার্কিন ডলারে ১৫১.৪৮ নেপালি রুপি—ব্যবহার করা হয়েছে। মূল্যায়নে প্রাথমিক পুনরুদ্ধারের জন্য ৮.৭৩ বিলিয়ন রুপি এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠনের জন্য ৭১৪.৫৮ বিলিয়ন রুপি ধরা হয়েছে। হিসাবের অঙ্ক গোল করে লেখার কারণে উপাদানগুলো যোগ করলে সামান্য পার্থক্য হতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের বৈশ্বিক দ্রুত দুর্যোগ-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, যা তাদের নেপাল উন্নয়ন হালনাগাদ প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত, সরাসরি অবকাঠামোগত ক্ষতি ১.৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে অনুমান করেছে। নেপালের প্রাথমিক মূল্যায়নে তুলনীয় অঙ্কটি ১.৮১ বিলিয়ন ডলার। ভবিষ্যৎ ঝুঁকি থেকে বেশি সুরক্ষা দিয়ে পরিষেবা পুনর্গঠনের পুরো ব্যয় এই দুই হিসাবের কোনোটিতেই অন্তর্ভুক্ত নয়।
পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন সরকারের ২.৭০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি ও লোকসানের হিসাবের প্রায় ১.৮ গুণ। এর অর্থ এই নয় যে ধ্বংস হওয়া সব সম্পদ প্রতিস্থাপনে ৮০ শতাংশ বেশি ব্যয় হবে। পুনরুদ্ধারের হিসাবে পরিষেবা পুনঃস্থাপন, সুরক্ষা বাড়ানো এবং হারানো সম্পদের মূল্যের বাইরের প্রয়োজনগুলোও অন্তর্ভুক্ত।
জাতীয় পরিকল্পনা কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান গুনাখর ভাট্টার নেতৃত্বাধীন একটি কমিটিকে আরও পূর্ণাঙ্গ দুর্যোগ-পরবর্তী প্রয়োজন নিরূপণ প্রতিবেদন তৈরির জন্য ছয় সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছিল। ওই কাজের পর দাতা সম্মেলনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক দ্রুত মূল্যায়নে পরিবারভিত্তিক জরিপ বা বিস্তারিত প্রকৌশল পরিদর্শনের বদলে বিদ্যমান নথি, দূরবর্তী মানচিত্র ও স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এর অঙ্কগুলো এখনো কাজের সুবিধার্থে তৈরি প্রাথমিক হিসাব, চূড়ান্ত পুনর্গঠন বাজেট নয়।
সরকারি মূল্যায়নে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বিস্তৃত চিত্র
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির নেপালের বন্যা মূল্যায়নে সরকার অনুমোদিত এক হিসাব অনুযায়ী, ছয় জেলার ১৭টি পৌর এলাকায় ৮৪,২৭০ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জেলাগুলো হলো রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান, গোরখা ও তানাহুন।
ক্ষতিগ্রস্ত আবাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৩৩,০০০ মানুষের প্রাথমিক হিসাবের চেয়ে এই সংখ্যা বেশি। ছোট ওই গোষ্ঠীকে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ক্ষতিগ্রস্ত, বাস্তুচ্যুত অথবা বাড়িঘর হারানো হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই শ্রেণিগুলোকে সমার্থক হিসেবে দেখা উচিত নয়। দ্রুত মূল্যায়নে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির জনসংখ্যার হিসাবের তুলনায় কম পৌর এলাকা ও জেলা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির হিসাবে ভবনের সম্ভাব্য ক্ষতি ১৫৮.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার অনিশ্চয়তার সীমা প্লাস বা মাইনাস ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ সম্ভাব্য পরিসর প্রায় ১১১ মিলিয়ন থেকে ২০৬ মিলিয়ন ডলার। অবকাঠামো, কৃষিজমি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মানবিক প্রয়োজনের পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।
সংস্থাটি বলেছে, এ পরিসংখ্যান প্রাথমিক মডেলভিত্তিক ফল, যা মাঠপর্যায়ে যাচাই করা প্রয়োজন। এগুলো নিশ্চিত ক্ষয়ক্ষতি, বাস্তুচ্যুতি বা পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার প্রমাণ নয়। রাসুয়া ও নুয়াকোট উপত্যকায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের জন্য প্রায় ১৭০ মিলিয়ন ডলারের আলাদা হিসাবকেও জাতীয় মোট লোকসান হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
মূল্যায়ন করা ভবনগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ধ্বংসাবশেষের পরিমাণ জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির হিসাবে ৫৫৬,২০০ টন। ব্যক্তিগত জিনিসপত্র, গাছপালা, পাথর ও পলি মিলিয়ে বৃহত্তর নির্দেশক মোট হিসাব ২.২ মিলিয়ন টন। জমি, সড়ক ও পাড়া-মহল্লা আবার ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে এই ধ্বংসাবশেষ সরানোও প্রয়োজন।
নেপালের ২০২১ সালের আদমশুমারিভিত্তিক একটি সূচক অনুযায়ী, বন্যাকবলিত পৌর এলাকার প্রায় ৭৬ শতাংশ বাসিন্দা এমন পৌর এলাকায় থাকেন, যেখানে বন্যার আগে থেকেই ঝুঁকির মাত্রা জাতীয় গড়ের বেশি ছিল। অর্থাৎ দুর্যোগটি এমন অনেক জনগোষ্ঠীকে আঘাত করেছে, যারা আগে থেকেই প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে ছিল।
নিখোঁজ ব্যক্তিরা পরিবারকে আইনি অনিশ্চয়তায় ফেলেছেন
উদ্ধার অভিযানের সঙ্গে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা বদলেছে। নেপালে আগের এক হিসাবে ১,৩৮৫টি মরদেহ উদ্ধার এবং প্রায় ৫,১৩০ জন নিখোঁজ থাকার কথা বলা হয়েছিল। ২৩ সেপ্টেম্বরের হালনাগাদ তথ্যে ১,৪৫১টি মরদেহ উদ্ধারের কথা জানানো হয় এবং নিখোঁজের সংখ্যা ৬,০০০-এর বেশি বলা হয়। ৫ অক্টোবরের হিসাবে মৃত্যু ১,৪৫৫ এবং নিখোঁজ ৫,২৮৫ জন। এই প্রাথমিক নথিগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা প্রয়োজন; এগুলো একসঙ্গে যোগ করা যাবে না।
৯ অক্টোবরের হালনাগাদ তথ্যে ইউনিসেফ গোল করে বলেছিল, অন্তত ১,৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ৮৪টি শিশু; নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ৫,৩০০। তিব্বতে আলাদা করে ৪৩ জনের মৃত্যু এবং ৫১৯ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর ছিল। দুর্যোগকবলিত এলাকায় বিদেশি নিখোঁজের সংখ্যা আগের প্রতিবেদনে প্রায় ৮০০ বলা হয়েছিল; অন্য এক প্রাথমিক হিসাবে ৩৫ দেশের প্রায় ৬০০ জনের কথা জানানো হয়। পরবর্তী জাতীয়তা-ভিত্তিক তথ্যে ৩৩ জন ব্রিটিশ, ৮০ জন মার্কিন নাগরিক এবং ৫০ জনের বেশি ইউক্রেনীয়ের কথা ছিল। অস্ট্রেলীয়দের আগের এক হিসাবে আটজনকে খুঁজে পাওয়ার পরও ৩৫ জনের খোঁজ মেলেনি।
শনাক্তকাজ ধীরগতিতে এগিয়েছে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, উদ্ধার করা ১,৪৪৫টি মরদেহের মধ্যে ডিএনএ পরীক্ষার পর ১১২টি পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং শনাক্তকরণের অপেক্ষায় ১,৩৩৩টি সাময়িকভাবে দাফন করা হয়েছে। এই সংখ্যা পরবর্তী সময়ে নিশ্চিত হওয়া মৃত্যুর মোট হিসাব থেকে আলাদা এবং উদ্ধার কার্যক্রমের ভিন্ন একটি পর্যায়কে তুলে ধরে।
নেপালের দেওয়ানি বিধির ৪০ ধারায় সাধারণত ১২ বছর নিখোঁজ থাকার পর কোনো ব্যক্তিকে মৃত বলে ধরে নেওয়া হয়। ব্যতিক্রম থাকলেও, এই ধরনের দুর্যোগের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বিধানের কথা আইনের প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ নেই। পরিবারগুলোর ভাষ্য, এই অনিশ্চয়তার কারণে মৃত্যুসনদ ও আর্থিক সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না।
উপলভ্য সহায়তার মধ্যে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য সর্বোচ্চ ২৫,০০০ নেপালি রুপি, পরিবারের প্রথম মৃত্যুর জন্য প্রায় ২০০,০০০ রুপি এবং পরবর্তী প্রতিটি মৃত্যুর জন্য ১০০,০০০ রুপি রয়েছে। অর্থ পেতে নথিপত্র প্রয়োজন। ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় স্বীকার করেছে এবং প্রয়োজনে আইন সংশোধনে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে আইন সংশোধন সম্পন্ন হয়েছে বা সমাধানের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে, এমন কোনো তথ্য নেই।
পুনর্গঠনের প্রধান কাজ বিদ্যুৎ ও পরিবহন
বিশ্বব্যাংকের অবকাঠামোগত ক্ষতির হিসাবে ১.৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ ৮৩ শতাংশই অবকাঠামো খাতের। আবাসিক ভবনের ক্ষতি ১৮৫ মিলিয়ন ডলার এবং অন্যান্য ভবনের ১০১ মিলিয়ন ডলার। ক্ষতিতে রাসুয়া জেলার অংশ প্রায় ১.০৭ বিলিয়ন ডলার; এরপর নুয়াকোটে ৫৫১ মিলিয়ন এবং ধাদিংয়ে প্রায় ৩৯ মিলিয়ন ডলার।
কোন প্রকল্প ও সক্ষমতার শ্রেণি হিসাবে ধরা হচ্ছে, তার ওপর বিদ্যুৎ খাতের অঙ্কে পার্থক্য রয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। দ্রুত মূল্যায়নে ৭৫৯ মেগাওয়াট সক্ষমতাসহ ১৩টি ক্ষতিগ্রস্ত প্রকল্পের কথা রয়েছে; সরকারের অন্য একটি প্রাথমিক হিসাবে সক্ষমতা ৭৮৩ মেগাওয়াট বলা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের বিভাজিত হিসাবে ২৫৬ মেগাওয়াট সক্ষমতার চালু সাতটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, নির্মাণাধীন প্রায় ৩৯৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার পাঁচটি প্রকল্প এবং ২৫ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কথা রয়েছে। সঞ্চালন ব্যবস্থার ক্ষতিতে আরও ১৪৯.৬ মেগাওয়াট সক্ষমতার সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। প্রায় ৪৩০.৭ মেগাওয়াটের মোট হিসাবটি ক্ষতিগ্রস্ত চালু বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালনকে বোঝায়; এতে নির্মাণাধীন প্রকল্পের সব সক্ষমতা যোগ করা হয়নি।
জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ ২৩ সেপ্টেম্বর সংসদকে জানান, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় ৮০০ জনের বেশি কর্মীর খোঁজ তখনো মেলেনি। দ্রুত মূল্যায়নে জ্বালানি খাতের পুনরুদ্ধার প্রয়োজন ধরা হয়েছে ৩৯০.৬২ বিলিয়ন নেপালি রুপি, যা জাতীয় পুনরুদ্ধার হিসাবের প্রায় ৫৪ শতাংশ।
৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ গালছি-রাসুওয়াগড়ি বাণিজ্যপথের ৫৫ কিলোমিটারের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৪০ কিলোমিটার ধুয়ে গেছে। অর্থাৎ পথটির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এবং প্রায় অর্ধেক ধ্বংস হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ৩৭টি যান চলাচলযোগ্য সেতু ও ৬৮টি ঝুলন্ত সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ত্রাণ পৌঁছানো এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার—দুই কাজেই এই যোগাযোগব্যবস্থা পুনঃস্থাপন জরুরি।
কৃষিজমি, স্কুল ও দোকানের ক্ষতিতে বাস্তুচ্যুতি দীর্ঘ হচ্ছে
দ্রুত মূল্যায়নে ৭,৫৭০টি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবন এবং আনুমানিক ৮,৩১৭টি পরিবারের হিসাব রয়েছে। অন্যান্য প্রতিবেদনে আবাসন ধ্বংসের উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন পরিসংখ্যান পাওয়া যায়; কোথাও প্রায় ৭,৫০০টি বাড়ি ধ্বংস এবং ২০,০০০টি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি সংখ্যাকে একই ধরনের ভবনের হিসাব ধরে নিলে এসব তথ্যের মধ্যে সমন্বয় করা যাবে না।
মূল্যায়নে ৪৮টি সরকারি স্থাপনা, ১৮টি স্কুল ও সাতটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা রয়েছে। স্কুলগুলোতে ৩০৮টি কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এর মধ্যে ১৫৬টি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত। স্থায়ীভাবে পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি পুনরুদ্ধার তহবিলে অস্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্র, শিক্ষা উপকরণ ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে।
কৃষিজমির ক্ষতি হয়েছে ১,৮০৬ হেক্টর। এর মধ্যে ১,৬৬৯ হেক্টর ধানক্ষেত এবং ১৩৭ হেক্টর সবজিখেত। কৃষক নানিমায়া সেঞ্চুরি তাঁর দুটি জমি, ধানের ফসল এবং কাটার জন্য প্রায় প্রস্তুত একটি কলাবাগান হারিয়েছেন। তাঁর খামার থেকে খাবার ও আয়—দুটিই আসত। বন্যার ব্যাপ্তি সম্পর্কে তিনি বলেন:
"আমার সারা জীবনে এমন বন্যা কখনো দেখিনি," তিনি বলেন।
ইউনিসেফের ৯ অক্টোবরের মানবিক পরিস্থিতি হালনাগাদে রাসুয়ার চলমান মানসিক আঘাত ও দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। সেখানে বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠী এখনো আকাশপথে পাঠানো ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিস ফেডারেশনের দুর্যোগ, জলবায়ু ও সংকট বিভাগের পরিচালক ক্যারোলিন হল্ট বলেন, পুনরুদ্ধার মানে শুধু তাৎক্ষণিকভাবে বেঁচে থাকা নয়:
"মানুষের শুধু বেঁচে থাকার সহায়তা নয়, ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থাও দরকার। তারা কোথায় থাকবে, কীভাবে আয় করবে এবং তাদের সন্তানরা কখন স্কুলে ফিরতে পারবে—তা জানা প্রয়োজন," তিনি বলেন।
গবেষক সারা স্নাইডারম্যান ও অ্যামি লি জনসনের মতে, পুনর্গঠনে জীবিকা, স্থানীয় সিদ্ধান্ত এবং আদিবাসীদের অধিকার বিবেচনায় নিতে হবে। দ্রুত মূল্যায়নে অন্তর্ভুক্ত ১৫টি পৌর এলাকার নয়টিতে বাসিন্দাদের প্রায় ৩৮ থেকে ৯০ শতাংশ বিভিন্ন আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর মানুষ। স্থানান্তর বন্যার ঝুঁকি কমাতে পারে, তবে পরিবারগুলোকে কৃষিজমি, কাজ ও পৈতৃক এলাকা থেকে বিচ্ছিন্নও করতে পারে।
বন্যাকবলিত উপত্যকার বাইরেও অর্থনৈতিক প্রভাব
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মাঝামাঝি শেষ হওয়া অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হবে ৩.৭ শতাংশ; পরের বছর তা বেড়ে ৫.২ শতাংশ হতে পারে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের পূর্বাভাস ৪.১ শতাংশ, যা আগের হিসাবের চেয়ে ০.৪ শতাংশীয় পয়েন্ট কম। দুই পূর্বাভাসই সরকারের ৬ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার নিচে।
জ্বালানি, পরিবহন, বাণিজ্য ও পর্যটন খাতের মাধ্যমেই প্রধানত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। চীনের সঙ্গে নেপালের পণ্য আমদানির ১০.৮ শতাংশ এবং পণ্য রপ্তানির ৪৭.৩ শতাংশ রাসুওয়াগড়ি সীমান্তপথ দিয়ে হয়। ফলে বন্যাকবলিত এলাকার বাইরের ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
২০০টির বেশি হোটেল ও রেস্তোরাঁ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের পর্যটন মৌসুমের আগে লাংটাং, গোসাইকুণ্ড ও কৈলাস মানস সরোবর করিডরের যোগাযোগ ব্যাহত হয়। রপ্তানিমুখী জলবিদ্যুৎ সক্ষমতার প্রায় ৬০ মেগাওয়াট হারানোয় বিদ্যুৎ রপ্তানিও চাপে পড়েছে।
পুনর্গঠনের জন্য আমদানি করা যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম ও নির্মাণসামগ্রীর চাহিদা বাড়বে। বিশ্বব্যাংকের প্রত্যাশা, প্রবাসী আয় বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ধরে রাখতে সহায়তা করবে। তবে জাতীয় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও স্থানীয় বাজারে বিঘ্ন, ফসলহানি ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে পরিবারের খরচ বেড়ে যেতে পারে।
জলবায়ু অর্থায়ন মোট ব্যয়ের সামান্য অংশ মেটাবে
বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে নেপালের অবদান প্রায় ০.১ শতাংশ। নেপাল সরকার বলছে, অনেক বেশি নির্গমনের জন্য দায়ী দেশগুলোর পুনরুদ্ধারের ব্যয় ভাগ করে নেওয়া উচিত। ইউনিসেফের মতে, বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় হিমালয় অঞ্চলে উষ্ণায়নের গতি প্রায় দ্বিগুণ।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ অতিরিক্ত ঋণের বদলে অনুদানের আহ্বান জানান। বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন:
"জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগে কোনো দরিদ্র দেশের অবকাঠামো ধ্বংস হলে তার জবাব আরেকটি বড় ঋণ বা বিচ্ছিন্ন ছোট অনুদান হতে পারে না," তিনি বলেন।
চ্যাথাম হাউসের জলবায়ু অর্থায়ন বিশ্লেষণে ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান মোকাবিলায় জাতিসংঘের তহবিলের কাছে নেপালের ২০ মিলিয়ন ডলারের আবেদনের কথা রয়েছে, যা প্রতি প্রকল্পে সর্বোচ্চ বরাদ্দের সমান। এই অর্থ ৪.৭৮ বিলিয়ন ডলারের পুনরুদ্ধার প্রয়োজনের মাত্র প্রায় ০.৪২ শতাংশ মেটাবে।
বিশ্লেষণটিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চ নাগাদ ২৭টি দেশ তহবিলটিতে ৮২২.০৬ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যার প্রায় অর্ধেক পাওয়া গেছে। প্রথম দফার অর্থায়নে প্রায় ২.৮ বিলিয়ন ডলারের আবেদনের বিপরীতে ৩৪২ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছিল। এগুলো বৈশ্বিক তহবিলের পরিসংখ্যান, নেপালের জন্য বরাদ্দ নয়। ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বন্যা পুনরুদ্ধারের জন্য নির্দিষ্টভাবে ৮২০ মিলিয়ন ডলারের বেশি প্রতিশ্রুতির যে আলাদা প্রতিবেদন রয়েছে, সেটিকে ওই বৈশ্বিক মোট অঙ্কের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। এসব বিবরণে অভিন্ন তহবিল হিসাব বা অর্থ ছাড়ের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।
চীন তার সামর্থ্য অনুযায়ী নেপালকে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদের তথ্য ভাগাভাগি এবং আগাম সতর্কতা জোরদার করতে নেপাল, ভারত ও চীনকে নিয়ে হিমালয় জলবায়ু সহনশীলতা ব্যবস্থা গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন শাহ।
বৈজ্ঞানিক অনিশ্চয়তা ও বন্যার চলমান ঝুঁকি
উষ্ণায়ন ও হিমালয়ের হিমবাহ সরে যাওয়ার মধ্যকার সম্পর্কের প্রমাণ থাকলেও, তা দিয়ে এই ধসের সুনির্দিষ্ট কারণ প্রতিষ্ঠিত হয় না। আগের বিবরণে বলা হয়েছিল, সীমিত সম্পদের কারণে তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেননি। পরবর্তী জলবায়ু অর্থায়ন বিশ্লেষণে দুর্যোগটির পেছনে একাধিক ধারাবাহিক জলবায়ুজনিত কারণ শনাক্ত করা একটি গবেষণার উল্লেখ রয়েছে। তবে এই অগ্রগতি থেকে চূড়ান্ত ব্যাখ্যা নিয়ে ঐকমত্য হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
বন্যার ঢেউয়ের গতির হিসাবেও পার্থক্য রয়েছে। এক বিবরণে কিছু জায়গায় ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ কিলোমিটার বেগের কথা বলা হয়েছে; চ্যাথাম হাউসের হিসাবে তা ঘণ্টায় প্রায় ১৮৮ কিলোমিটার। কোনোটিকেই এককভাবে চূড়ান্ত পরিমাপ হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।
চ্যাথাম হাউস ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের জলবায়ু-সংক্রান্ত পরামর্শমূলক মতামত এবং যথেষ্ট প্রত্যক্ষ ও নিশ্চিত কারণগত সম্পর্কের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছে। এই মতামত আইনি প্রেক্ষাপট তুলে ধরে; তবে এটি নেপালের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় নয়, কিংবা এই বন্যার দায় নির্ধারণও করে না।
নেপাল থুলাগি, লোয়ার বারুন, লুমডিং সো এবং হোঙ্গু-২—এই চারটি হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদ নিয়ে বিস্তারিত গবেষণার পরিকল্পনা করেছে। এরপর নালা ও নিয়ন্ত্রিত ফটক দিয়ে পানি বের করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেন্সর, পূর্বাভাস, সতর্কতা ব্যবস্থা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রস্তুতিসহ এই কর্মসূচিতে ছয় বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এগুলো প্রতিরোধমূলক প্রকল্প; আগস্টের দুর্যোগের কারণ ওই হ্রদগুলোর কোনো একটি ছিল—এমন প্রমাণ নয়।
সি. স্কট ওয়াটসন ও তাঁর সহকর্মীদের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বন্যার সম্ভাব্য ঝুঁকিতে থাকা নির্মিত এলাকার পরিমাণ ২০১৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ৪৬ শতাংশ বেড়েছে। নেপালের হিমালয় অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রায় ৩ লাখ মানুষের বসবাস বলে অনুমান করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে ১ লাখের বেশি মানুষ হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদের ভাটিতে থাকেন। নিকটতম পানিনিষ্কাশনপথ থেকে উচ্চতা নির্ণয়ের পদ্ধতিতে নদীর তুলনায় ভবনের উচ্চতার ভিত্তিতে ঝুঁকি যাচাই করা হয়; এটি বিস্তারিত ঝুঁকির মানচিত্রের বিকল্প নয়।
পরে গোরখার বুধী গণ্ডকী নদীতে আরেকটি বন্যায় চারজন নিখোঁজ হন এবং ৩৫টি বাড়ি ও তিনটি সেতু ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের শিবিরে থাকা অন্তত ১৮ জন কর্মী পালিয়ে বাঁচেন। সেনাবাহিনী জাগত থেকে ছয়জনকে আকাশপথে সরিয়ে নেয়। কর্তৃপক্ষ ভূমিধসে নদীর প্রবাহ আটকে যাওয়ার আশঙ্কা করলেও সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি।
পরবর্তী আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হিসেবে ৯ থেকে ২০ নভেম্বর আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য কপ-৩১-এর কথা বলা হয়েছে। নেপালের অসমাপ্ত তাৎক্ষণিক কাজগুলো হলো বিস্তারিত প্রয়োজন নিরূপণ, অর্থায়নের সিদ্ধান্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিদের আইনি স্বীকৃতি এবং আরও নিরাপদ পুনর্গঠন পরিকল্পনা। ঘোষণাগুলোতে কোনো কাজ শেষ করার নিশ্চিত তারিখ দেওয়া হয়নি।
মূল বিষয়গুলো
- বন্যার পর পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনে নেপালের প্রয়োজন ৪.৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার; এর বেশির ভাগই প্রথম ছয় মাসের পরের কাজের জন্য।
- ৫ অক্টোবরের হিসাবে ১,৪৫৫ জনের মৃত্যু, ৫,২৮৫ জন নিখোঁজ এবং ১৩,৭৯৫ জনকে উদ্ধারের কথা জানানো হয়।
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির হিসাবে ছয় জেলার ১৭টি পৌর এলাকায় আনুমানিক ৮৪,২৭০ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
- বিশ্বব্যাংকের হিসাবে অবকাঠামোগত ক্ষতি ১.৬৬ বিলিয়ন ডলার, যার ৮৩ শতাংশ অবকাঠামো খাতে।
- মৃত্যুসনদ না থাকায় পরিবারগুলো ক্ষতিপূরণ, বিমার দাবি ও উত্তরাধিকার প্রক্রিয়ায় বাধার মুখে পড়ছে।
- জলবায়ু তহবিলে নেপালের ২০ মিলিয়ন ডলারের আবেদন আনুমানিক পুনরুদ্ধার প্রয়োজনের প্রায় ০.৪২ শতাংশ মেটাতে পারবে।
- বিস্তারিত মূল্যায়ন, অর্থায়ন এবং ভবিষ্যৎ বন্যার ঝুঁকি কমানোর পরিকল্পনা এখনো অসমাপ্ত।






