থাইল্যান্ডের বিদ্রোহকবলিত দক্ষিণে সমন্বিত অগ্নিসংযোগের ৫১টি ঘটনা

পড়তে 9 মিনিট
থাইল্যান্ডের বিদ্রোহকবলিত দক্ষিণে সমন্বিত অগ্নিসংযোগের ৫১টি ঘটনা

তিন প্রদেশে ৫০টির বেশি হামলার খবর

শনিবার গভীর রাতে থাইল্যান্ডের দক্ষিণ সীমান্ত অঞ্চলে সমন্বিত অগ্নিসংযোগ, বোমা হামলা ও নাশকতার ঢেউ আঘাত হানে। কর্তৃপক্ষ নারাথিওয়াত, ইয়ালা ও পাত্তানি—এই তিন প্রদেশে ৫১টি ঘটনার খবর দিয়েছে। স্থানীয় সময় ২২ আগস্ট রাত প্রায় ২০টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত হামলাগুলো ঘটে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অঞ্চলটি বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহের মুখে রয়েছে।

সূচিপত্র
  1. তিন প্রদেশে ৫০টির বেশি হামলার খবর
  2. রাতের ঘটনাগুলো কীভাবে ঘটেছিল?
  3. কর্তৃপক্ষ কীভাবে সাড়া দিয়েছে?
  4. দক্ষিণাঞ্চল হামলার ঝুঁকিতে কেন?
  5. হামলার সময় কী ইঙ্গিত দেয়?
  6. শান্তি আলোচনা কোন পর্যায়ে?
  7. সরকারি সফরে হামলার প্রভাব কী হতে পারে?
  8. এরপর কী?
  9. মূল বিষয়গুলো

থাইল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা অভিযান কমান্ড, যা আইএসওসি নামে পরিচিত, বলেছে ঘটনাগুলোর লক্ষ্য ছিল অস্থিরতা সৃষ্টি করা বলে মনে হচ্ছে। হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল স্থানীয় সরকারি দপ্তর, যানবাহন, একটি সুবিধাজনক পণ্যের দোকান, টেলিযোগাযোগ টাওয়ার, বিদ্যুতের খুঁটি ও রেল অবকাঠামো।

অধিকাংশ ঘটনা ঘটেছে মালয়েশিয়ার নিকটতম প্রদেশ নারাথিওয়াতে। ইয়ালা ও পাত্তানিতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। নারাথিওয়াতের সঙ্গে এই দুই প্রদেশ মিলে থাইল্যান্ডের দীর্ঘদিনের দক্ষিণাঞ্চলীয় সংঘাতের প্রধান কেন্দ্র গঠন করেছে।

তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষ হামলার দায় স্বীকার করেনি। কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে কোনো সন্দেহভাজনের পরিচয় জানায়নি বা সব হামলার পেছনে একটি সংগঠন ছিল কি না, তা নিশ্চিত করেনি।

হতাহতের সংখ্যা নিয়ে খবরে সামান্য পার্থক্য ছিল। থাই সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক বিবৃতিতে বলা হয়, অন্তত দুজন আহত হয়েছেন; অন্য একটি খবরে তিনজন বেসামরিক নাগরিক আহত হওয়ার কথা বলা হয়। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

রাতের ঘটনাগুলো কীভাবে ঘটেছিল?

হামলাগুলোতে আগুন, বিস্ফোরণ ও অন্যান্য ধরনের নাশকতা একসঙ্গে ঘটানো হয়। নারাথিওয়াতের মুয়াং জেলায় বোমা বিস্ফোরণে দুই নারী আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া যায়। আরেকটি ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনিক সংস্থার কার্যালয় থেকে একটি গাড়ি নিয়ে যাওয়ার পর ভবনটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুড়ে যাওয়া পিকআপ ট্রাকটি পরে একটি সড়কে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

স্থানীয় সরকারের কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। একটি সুবিধাজনক পণ্যের দোকানেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, আর সড়কের মাঝখানে জ্বলন্ত টায়ার ফেলে রাখা হয়। টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ও বিদ্যুতের খুঁটির কাছাকাছি ক্ষয়ক্ষতির খবর দিয়েছে কর্তৃপক্ষ, যা যোগাযোগ ও মৌলিক পরিষেবার ওপর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আইএসওসি যেটিকে নাশকতামূলক বোমা হামলা বলেছে, তাতে রেললাইনের ক্ষতি পাওয়ার পর নারাথিওয়াতের কিছু অংশে সাময়িকভাবে রেল চলাচল বন্ধ ছিল। দক্ষিণের প্রদেশগুলোতে রেললাইন প্রায়ই হামলার লক্ষ্য হয়, কারণ এতে যাতায়াত, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা বাহিনীর চলাচল ব্যাহত হতে পারে।

থাই পিবিএসে প্রচারিত দৃশ্যে দেখা যায়, দমকলকর্মীরা একটি সেভেন ইলেভেন দোকানের ভেতরের আগুন নেভাচ্ছেন এবং সড়কে জ্বলন্ত টায়ারের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনছেন। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হলে পুলিশ যানবাহনে তল্লাশি চালায়।

একটি আঞ্চলিক প্রতিবেদনে নারাথিওয়াতে ২২টি, ইয়ালায় ১৮টি এবং পাত্তানিতে ১১টি ঘটনার হিসাব দেওয়া হয়। অন্য একটি প্রতিবেদনে ৭০টির বেশি সমন্বিত হামলার কথা বলা হয়, যদিও বহুল উদ্ধৃত সামরিক হিসাবটি ছিল ৫১। পৃথক অগ্নিকাণ্ড, বিস্ফোরণ, সড়ক অবরোধ এবং পরে তল্লাশিতে পাওয়া ক্ষয়ক্ষতিকে গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কি না, তার ওপর সংখ্যার এই পার্থক্য নির্ভর করতে পারে।

কর্তৃপক্ষ কীভাবে সাড়া দিয়েছে?

নারাথিওয়াত কর্তৃপক্ষ শনিবার গভীর রাত থেকে রোববার সকাল ০৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করে। জরুরি কারণে বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে স্থানীয় সামরিক, পুলিশ বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অনুমতি নিতে বাসিন্দাদের বলা হয়।

রোববার সকালে কারফিউ তুলে নেওয়া হয়। কর্মকর্তারা জানান, ততক্ষণে নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। বিস্ফোরিত না হওয়া ডিভাইস বা সন্দেহজনক বস্তু খুঁজতে নিরাপত্তা দল সরকারি ভবন, সড়ক, রেললাইন, যোগাযোগস্থল ও অন্যান্য স্থান তল্লাশি চালিয়ে যায়।

হামলার স্থানগুলোর কাছে পাওয়া অপরিচিত প্যাকেট বা অন্য কোনো বস্তুতে হাত না দিতে জনসাধারণকে সতর্ক করেছেন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। সমন্বিত বোমা হামলা ও অগ্নিসংযোগের পর এ ধরনের সতর্কতা নিয়মিত দেওয়া হয়, কারণ প্রাথমিক বিস্ফোরণের পর কাছে আসা মানুষকে আহত করার জন্যও কিছু ডিভাইস তৈরি করা হতে পারে।

দক্ষিণাঞ্চলে নিরাপত্তা অভিযান তদারককারী থাইল্যান্ডের চতুর্থ সেনা অঞ্চল বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিবেশী মালয়েশিয়ার কিছু অংশেও সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়, যদিও মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কেলান্তান রাজ্যে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশ ঘটেনি।

থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া তাদের অভিন্ন সীমান্তের নিরাপত্তা দেখভালের জন্য আঞ্চলিক সীমান্ত কমিটির মাধ্যমে সহযোগিতা করে। সীমান্ত পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন, কারণ গ্রামীণ গ্রাম, বাগান ও বনাঞ্চলঘেরা ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে জনবসতি, সড়ক ও বাণিজ্যপথ বিস্তৃত।

বিজ্ঞাপন

দক্ষিণাঞ্চল হামলার ঝুঁকিতে কেন?

দক্ষিণতম প্রদেশগুলোতে প্রধানত জাতিগত মালয় মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস; অন্যদিকে থাইল্যান্ডের অধিকাংশ মানুষ বৌদ্ধ। আধুনিক থাই রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগে এই অঞ্চল স্বাধীন মালয় সালতানাত পাত্তানির সঙ্গে যুক্ত ছিল।

বিদ্রোহের বর্তমান পর্যায় শুরু হয় ২০০৪ সালে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন, স্থানীয় পরিচয়ের জোরালো স্বীকৃতি এবং ব্যাংকক যেভাবে অঞ্চলটি শাসন করে তাতে পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছে। সংঘাতে বেসামরিক নাগরিক, সেনা, পুলিশ কর্মকর্তা, সরকারি কর্মী ও সন্দেহভাজন যোদ্ধাসহ ৭,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

সহিংসতা সাধারণত পাত্তানি, ইয়ালা ও নারাথিওয়াতেই সীমাবদ্ধ থেকেছে, যদিও কাছের প্রদেশগুলোতেও মাঝেমধ্যে ঘটনা ঘটেছে। হামলার ধরনগুলোর মধ্যে রয়েছে গুলিবর্ষণ, সড়কপাশে বোমা পেতে রাখা, অগ্নিসংযোগ, তল্লাশিচৌকিতে হামলা এবং জনপরিকাঠামোয় নাশকতা।

সংঘাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রধান বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন হিসেবে বারিসান রেভোলুসি নাসিওনালকে চিহ্নিত করা হয়েছে, সংক্ষেপে যার নাম বিআরএন। গোষ্ঠীটি শান্তি আলোচনায় অংশ নিয়েছে। তবে শনিবারের সহিংসতার পর কেউ দায় স্বীকার না করায় সর্বশেষ হামলাগুলো কারা সংগঠিত করেছে, সেই প্রশ্ন রয়ে গেছে।

স্থানীয় সরকারি দপ্তরগুলো বিশেষভাবে সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তু। গ্রাম ও জেলায় এসব দপ্তর থাই রাষ্ট্রের উপস্থিতির প্রতীক। তাই এগুলোতে হামলা হলে নথিপত্র ও জনসেবা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং বাসিন্দাদের সুরক্ষা দিতে কর্তৃপক্ষের সক্ষমতার ওপর তাঁদের আস্থা কমতে পারে।

হামলার সময় কী ইঙ্গিত দেয়?

সামরিক বাহিনীর বর্ণনা অনুযায়ী, হামলার ব্যাপকতা ও প্রায় একই সময়ে সংঘটিত হওয়া উচ্চমাত্রার পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়। চার ঘণ্টার মধ্যে বহু স্থানে আগুন ধরিয়ে দিলে কর্তৃপক্ষকে সাড়া দেওয়ার দলগুলো ভাগ করে দিতে হয় এবং দমকল ও জরুরি পরিষেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েও ব্যাপক প্রাণহানি ছাড়াই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা যায়। টাওয়ার বা বিদ্যুতের খুঁটিতে আগুন ধরালে নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হতে পারে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বাসিন্দা, কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর যোগাযোগ কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

দক্ষিণাঞ্চলের বিদ্রোহীরা এর আগে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সফরের আগে নিরাপত্তাকর্মী ও সরকারি সম্পত্তিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। গত মাসে নারাথিওয়াতের একটি তল্লাশিচৌকিতে বন্দুক ও বোমা হামলায় পাঁচ সেনা নিহত হন। ওই হামলার পর কর্তৃপক্ষ শান্তি আলোচনার একটি নির্ধারিত পর্ব স্থগিত করে।

থাই আঞ্চলিক সেনা কমান্ডার নরাথিপ পোইনক বলেন, স্থানীয় কার্যালয়ে হামলা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া গোয়েন্দা তথ্য কর্মকর্তারা প্রায় দুই মাস ধরে পেয়েছিলেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল, যদিও পরিকল্পিত ঘটনাগুলোর সুনির্দিষ্ট তারিখ বা স্থান কর্মকর্তারা জানতেন না।

দক্ষিণ সীমান্তের বিভিন্ন প্রদেশের নানা স্থানে অস্থিরতা সৃষ্টির লক্ষ্যে একাধিক সমন্বিত ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা অভিযান কমান্ড।

বিবৃতিটি হামলাকারীদের নিশ্চিত ঘোষণা নয়, বরং কর্তৃপক্ষের মূল্যায়ন তুলে ধরে। ঘটনাগুলো বিআরএন পরিচালনা করেছে, স্থানীয় সেলগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করেছে, নাকি একাধিক নেটওয়ার্ক জড়িত ছিল—তা তদন্তকারীদের নির্ধারণ করতে হবে।

শান্তি আলোচনা কোন পর্যায়ে?

২০১৩ সাল থেকে থাইল্যান্ড ও দক্ষিণাঞ্চলের বিদ্রোহীদের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতা করে আসছে মালয়েশিয়া। ব্যাংককে সরকার পরিবর্তন এবং সরকারি কর্মকর্তা ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে মতবিরোধ থাকায় আলোচনা বারবার থমকে গেছে।

সম্ভাব্য স্বায়ত্তশাসনের মাত্রা, থাই নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং বিদ্রোহে জড়িত ব্যক্তিদের আইনি অবস্থান নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। অব্যাহত হামলা ও গ্রেপ্তারের কারণে আস্থাও দুর্বল হয়েছে।

সহিংসতা বাড়ার পর বিআরএনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা আবার শুরু হওয়ার কথা ছিল, তবে জুলাইয়ের তল্লাশিচৌকির হামলার কারণে কর্তৃপক্ষ প্রক্রিয়াটি পিছিয়ে দেয়। থাইল্যান্ডের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান এবং সরকারের শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতিনিধি থানুত সুওয়ার্নানন্দ বলেছেন, তিনি দাবিদাওয়ার সীমিত আদান-প্রদান থেকে সরে আসতে চান।

তাঁর ঘোষিত পদ্ধতি হলো পাত্তানি, ইয়ালা ও নারাথিওয়াতের জনগোষ্ঠীর অভিযোগ নিরসনে বিআরএনকে সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা। এর জন্য আলোচনায় শুধু সামরিক অভিযান বা আনুষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন নয়, শিক্ষা, স্থানীয় প্রশাসন, ভাষার অধিকার, অর্থনৈতিক সুযোগ ও নিরাপত্তার মতো বাস্তব বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

বড় আকারের হামলা এ কাজকে আরও কঠিন করে তোলে। এতে নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের ওপর চাপ বাড়ে, অন্যদিকে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো নাশকতাকে অঞ্চলটির ওপর রাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই—তা দেখানোর উপায় হিসেবে দেখতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সরকারি সফরে হামলার প্রভাব কী হতে পারে?

প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের আগামী সপ্তাহে প্রতিবেশী সংখলা প্রদেশের হাত ইয়াই সফরের কথা রয়েছে। দুই দিনের এই সফরে বিনিয়োগ, বন্যা প্রতিরোধ ও নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

হাত ইয়াই দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও পরিবহন-সংযোগস্থল, যদিও বিদ্রোহে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তিন প্রদেশের বাইরে এর অবস্থান। সর্বশেষ ঘটনাগুলোর কারণে সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার পাশাপাশি সফরে নিরাপত্তা বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অঞ্চলে বিনিয়োগের জন্য নির্ভরযোগ্য সড়ক, রেলপথ, যোগাযোগব্যবস্থা ও জন প্রশাসন দরকার। বারবার হামলায় বিমার খরচ বাড়তে পারে, বাণিজ্য ব্যাহত হতে পারে এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে নিরুৎসাহ সৃষ্টি হতে পারে—বিশেষ করে গ্রামীণ জেলাগুলোতে, যেখানে জনসেবা পৌঁছে দেওয়া আগে থেকেই কঠিন।

নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন জীবনের মধ্যে ভারসাম্যও সরকারকে বজায় রাখতে হবে। কারফিউ ও তল্লাশিচৌকি তাৎক্ষণিক ঝুঁকি কমাতে পারে, তবে দীর্ঘস্থায়ী বিধিনিষেধে বাসিন্দাদের এ ধারণা আরও দৃঢ় হতে পারে যে অঞ্চলটি মূলত সামরিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই শাসন করা হচ্ছে।

রোববার সকাল থেকে হামলা অব্যাহত থাকার কোনো খবর দেয়নি কর্মকর্তারা। তিন প্রদেশজুড়ে তদন্ত, প্রমাণ সংগ্রহ ও আরও নিরাপত্তা তল্লাশি চলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এরপর কী?

তদন্তকারীরা পুড়ে যাওয়া ভবন, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো, বিস্ফোরকের অবশিষ্টাংশ এবং পরিত্যক্ত যানবাহন থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করবেন। হামলার সময়, লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন ও ব্যবহৃত পদ্ধতি দেখে ঘটনাগুলো একটি অভিযানের অংশ ছিল কি না, তা কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করতে পারে।

প্রকাশ্যে কেউ দায় স্বীকার না করায় হামলার জন্য দায়ী পক্ষ শনাক্ত করা কঠিন। দক্ষিণ থাইল্যান্ডে হামলার পর কখনো বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো বিবৃতি দেয়, আবার কিছু ঘটনার দায় কেউ স্বীকার করে না। ফরেনসিক ও গোয়েন্দা মূল্যায়ন শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষারোপ না করার বিষয়েও কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে।

বাসিন্দাদের তাৎক্ষণিক উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে পরিবহন, যোগাযোগ ও সরকারি দপ্তরে প্রবেশাধিকার এবং বিস্ফোরিত না হওয়া ডিভাইসের ঝুঁকি। কারফিউ শেষ হয়েছে, তবে সামরিক বাহিনীর সতর্কবার্তায় বোঝা যায় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা এখনো বহাল রয়েছে।

আলোচনার জন্য সংবেদনশীল এক সময়ে হামলাগুলো ঘটেছে। সংলাপে ফিরতে হলে সহিংসতা সত্ত্বেও সরকার ও বিআরএনকে যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে এবং একই সঙ্গে বছরের পর বছর হত্যাকাণ্ড ও নাশকতার মধ্যে থাকা বেসামরিক নাগরিকদের উদ্বেগেরও সমাধান করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

মূল বিষয়গুলো

  • কর্তৃপক্ষ ২২ আগস্ট সমন্বিত অগ্নিসংযোগ ও দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে চালানো ৫১টি ঘটনার হিসাব দিয়েছে।
  • হামলায় নারাথিওয়াত, ইয়ালা ও পাত্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে নারাথিওয়াতে।
  • স্থানীয় সরকারি দপ্তর, যানবাহন, একটি সুবিধাজনক পণ্যের দোকান, যোগাযোগ টাওয়ার, বিদ্যুতের খুঁটি ও রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
  • আহত বেসামরিক নাগরিকের সংখ্যা দুই বা তিন বলে বিভিন্ন খবরে উল্লেখ করা হয়েছে; হাসপাতালে ভর্তি ব্যক্তিদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
  • নারাথিওয়াতে রাতভর কারফিউ জারি করা হয়েছিল, যা রোববার সকালে শেষ হয়েছে।
  • কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি।
  • জুলাইয়ে তল্লাশিচৌকিতে হামলায় পাঁচ সেনা নিহত হওয়ার পর সহিংসতা বেড়েছে; এর মধ্যে শান্তি আলোচনা আরও চাপে পড়েছে।
  • বিনিয়োগ, বন্যা ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের আগামী সপ্তাহে কাছের হাত ইয়াই সফরের কথা রয়েছে।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে