ইয়েমেন উপকূলে হামলার পর লোহিত সাগরে ভারতীয় জাহাজ ডুবি, সব নাবিক উদ্ধার

পড়তে 4 মিনিট
ইয়েমেন উপকূলে হামলার পর লোহিত সাগরে ভারতীয় জাহাজ ডুবি, সব নাবিক উদ্ধার

ইয়েমেন উপকূলের কাছে হামলার পর ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ ডুবে গেছে

ভারতীয় পতাকাবাহী যান্ত্রিক পালতোলা জাহাজ এমএসভি ফায়েজ নূর ওলিয়া হুথি-নিয়ন্ত্রিত হোদেইদাহ বন্দরের প্রায় ১৩ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে হামলার শিকার হয়ে লোহিত সাগরে উল্টে ডুবে যায়। ঘটনাটি ৪ আগস্ট ঘটে এবং জাহাজের ১৪ জন নাবিককে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারের প্রয়োজন হয়। ইয়েমেনের নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের যৌথ অভিযানে জাহাজে থাকা সবাই নিরাপদে পৌঁছান।

সূচিপত্র
  1. ইয়েমেন উপকূলের কাছে হামলার পর ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ ডুবে গেছে
  2. ভারত সরকারের কঠোর নিন্দা
  3. আঞ্চলিক নৌপথে ঝুঁকি বেড়েছে
  4. সামুদ্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের পটভূমি
  5. বাণিজ্য ও নিরাপত্তায় বিস্তৃত প্রভাব
  6. উদ্ধার অভিযানের বিবরণ
  7. মূল তথ্য

নাবিকদের মধ্যে ১৩ জন ভারতীয় এবং একজন ইয়েমেনি নাগরিক ছিলেন। তাদের মোখা বন্দরে নেওয়ার পর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। ঘটনা বা পরবর্তী উদ্ধার অভিযানে কেউ আহত হননি।

বিজ্ঞাপন

ইয়েমেনের সরকারপন্থী ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস হামলার জন্য বিস্ফোরকবোঝাই একটি নৌযানকে দায়ী করেছে। ভারতীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, জাহাজটি একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই এলাকায় সামুদ্রিক ঘটনা পর্যবেক্ষণকারী কর্তৃপক্ষ হামলার সঠিক পদ্ধতি খতিয়ে দেখছে।

ভারত সরকারের কঠোর নিন্দা

নৌপরিবহনমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে এ ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি এটিকে নিরস্ত্র বেসামরিক জাহাজে বিনা উসকানিতে হামলা বলে অভিহিত করেন এবং উদ্ধার হওয়া নাবিকদের সহায়তায় সমন্বয় করতে সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

নিরস্ত্র যান্ত্রিক পালতোলা জাহাজে এই বিনা উসকানির হামলার তীব্র নিন্দা জানায় ভারত। আমাদের জনগণের নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এতে ১৩ ভারতীয় নাবিককে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় এবং অভিযানে ভূমিকার জন্য ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানানো হয়। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, রিয়াদে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করছে।

আঞ্চলিক নৌপথে ঝুঁকি বেড়েছে

লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি ভূমধ্যসাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের প্রায় ১২ শতাংশ সাধারণত এই পথ দিয়ে যায়। এখানে বিঘ্ন ঘটলে অনেক জাহাজ পরিচালনাকারীকে উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে জাহাজ চালাতে হয়, এতে যাত্রার সময় বাড়ে এবং জ্বালানি ও বিমা খরচ বেড়ে যায়।

২০ জুলাই সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচল লক্ষ্য করে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হামলা বেড়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্যাংকার ও অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজকে ঘিরে বেশ কয়েকটি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। সর্বশেষ ঘটনাটি ওই এলাকায় কাজ করা জাহাজমালিক ও বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সামুদ্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের পটভূমি

ইয়েমেন এখনো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এবং দেশটির পশ্চিম উপকূলের হোদেইদাহসহ কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী হুথি বাহিনীর মধ্যে বিভক্ত। তারেক সালেহের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে উপকূলীয় এলাকায় সক্রিয় এবং ভারতীয় জাহাজে হামলার জন্য হুথিদের দায়ী করেছে। এই নির্দিষ্ট ঘটনা নিয়ে হুথিরা প্রকাশ্যে কোনো বিবৃতি দেয়নি।

বৈশ্বিক সমুদ্রযাত্রায় ভারতের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে; দেশটির সক্রিয় বাণিজ্যিক নাবিকের সংখ্যা ৩ লাখ ২০ হাজারের বেশি। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে পাহারা দিতে এবং হুমকির জবাব দিতে অপারেশন সংকল্পের আওতায় নয়াদিল্লি এ অঞ্চলে নৌবাহিনীর জাহাজ মোতায়েন রেখেছে। ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা সরকারের অগ্রাধিকার।

বাণিজ্য ও নিরাপত্তায় বিস্তৃত প্রভাব

বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক জলপথে পণ্য চলাচলের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়ে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নির্বিঘ্ন নৌচলাচল পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে। এ অঞ্চল পর্যবেক্ষণকারী অন্যান্য সরকার ও সামুদ্রিক সংস্থাও একই ধরনের বিবৃতি দিয়েছে।

এ অঞ্চলের পরিস্থিতির প্রতি তেল ও কনটেইনার বাজার সংবেদনশীলতা দেখিয়েছে। বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়াতে কিছু জাহাজ পরিচালনাকারী ইতিমধ্যে রুট বা সময়সূচি পরিবর্তন করেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের বিমা প্রিমিয়াম বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

উদ্ধার অভিযানের বিবরণ

জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর ইয়েমেনের কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর ইউনিট দ্রুত সাড়া দেয়। ১৪ জন নাবিককে তীরে নিয়ে একটি নিরাপদ স্থানে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, উদ্ধার হওয়া নাবিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে রিয়াদে অবস্থিত দূতাবাস সরাসরি ইয়েমেনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করেছে।

সোনোয়াল সামুদ্রিক প্রশাসন অধিদপ্তরকে ওই অঞ্চলে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা প্রটোকল পর্যালোচনা করতে এবং নাবিকদের প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত সহায়তা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

মূল তথ্য

  • ৪ আগস্ট ইয়েমেন উপকূলে হামলার পর এমএসভি ফায়েজ নূর ওলিয়া ডুবে যায়।
  • ১৩ ভারতীয়সহ ১৪ জন নাবিককে আহত হওয়া ছাড়াই উদ্ধার করা হয়।
  • ভারত এ ঘটনাকে বাণিজ্যিক জাহাজে বিনা উসকানিতে হামলা বলে নিন্দা জানিয়েছে।
  • ইয়েমেনের সরকারপন্থী বাহিনী হামলার জন্য হুথি যোদ্ধাদের দায়ী করেছে।
  • লোহিত সাগরের নৌপথ দিয়ে বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের প্রায় ১২ শতাংশ যায়।
  • নাবিকদের নিরাপত্তায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ইয়েমেনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রেখেছে।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে