আন্তর্জাতিক রসায়ন অলিম্পিয়াডে চীন ও ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে প্রথম ভিয়েতনাম, শিক্ষার্থীদের আটটি পদক

পড়তে 8 মিনিট
Vietnam wins four golds at International Chemistry Olympiad | …

রসায়নে যৌথভাবে প্রথম ভিয়েতনাম

২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক রসায়ন অলিম্পিয়াডে চারটি স্বর্ণপদক এবং আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে চারটি রৌপ্যপদক জিতেছেন ভিয়েতনামের শিক্ষার্থীরা। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় দেশটির অন্যতম সেরা সম্মিলিত ফল এটি।

সূচিপত্র
  1. রসায়নে যৌথভাবে প্রথম ভিয়েতনাম
  2. কেন কঠিন ছিল রসায়ন প্রতিযোগিতা?
  3. জীববিজ্ঞানে চার শিক্ষার্থীর রৌপ্যপদক
  4. কেন জীববিজ্ঞানে বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান দরকার
  5. বাছাই ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা সাফল্য
  6. এশিয়ার বৃহত্তর বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় এই ফলের তাৎপর্য
  7. পদকের বাইরেও কেন গুরুত্বপূর্ণ রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের মেধা
  8. আটটি পদক ভিয়েতনামের শিক্ষা সম্পর্কে কী বলে
  9. মূল তথ্য

তাশখন্দে অনুষ্ঠিত ৫৮তম IChO-তে ভিয়েতনামের রসায়ন দলের চার সদস্যই স্বর্ণপদক পেয়েছেন। রসায়নে সর্বোচ্চসংখ্যক স্বর্ণপদক জেতার দিক থেকে চীন ও ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে প্রথম হয়েছে ভিয়েতনাম। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ মন্ত্রণালয়ের অধীন মান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ রোববার এ ফল ঘোষণা করে।

রসায়নে এই সাফল্য সাম্প্রতিক বছরগুলোর অসাধারণ ধারাবাহিকতারও প্রমাণ। ২০২০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ভিয়েতনাম IChO-তে ২৮ জন শিক্ষার্থী পাঠিয়েছে। তাঁরা জিতেছেন ২৫টি স্বর্ণ ও তিনটি রৌপ্যপদক। ২০২৬ সালের দলের প্রত্যেক প্রতিযোগী সর্বোচ্চ পদকশ্রেণিতে জায়গা করে নিয়েছেন। এতে প্রতিযোগিতায় ভিয়েতনাম শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর কাতারে রয়েছে।

চার স্বর্ণপদকজয়ী হলেন নুয়েন মান তুয়ান, নুয়েন থে মিন ও ত্রান হোয়াং নাম। তাঁরা সবাই হ্যানয়ের আমস্টারডাম হাই স্কুল ফর দ্য গিফটেডের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। চতুর্থ পদকজয়ী দিন সুয়ান ফুক ফু থো প্রদেশের ভিন ফুক হাই স্কুল ফর দ্য গিফটেডের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

কেন কঠিন ছিল রসায়ন প্রতিযোগিতা?

১০ থেকে ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত IChO-তে ৯৩টি দেশ ও অঞ্চলের মাধ্যমিক পর্যায়ের ৩৬৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। প্রত্যেককে পাঁচ ঘণ্টার একটি তাত্ত্বিক এবং পাঁচ ঘণ্টার একটি ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়।

দুই পর্বেই শুধু সূত্র মনে রাখা বা বিক্রিয়া মুখস্থ করার চেয়ে অনেক বেশি দক্ষতার পরীক্ষা নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ, বৈজ্ঞানিক যুক্তি সাজানো, প্রাকৃতিক ও শিল্পপ্রক্রিয়া ব্যাখ্যা এবং রাসায়নিক নীতি কাজে লাগিয়ে অপরিচিত সমস্যা সমাধান করতে হয়। ব্যবহারিক পরীক্ষায়ও সতর্কভাবে পরিমাপ ও নির্ভুল পরীক্ষাগারকাজ জরুরি ছিল। কারণ, সামান্য ভুলও পরীক্ষার পরবর্তী কয়েকটি ধাপে প্রভাব ফেলতে পারে।

এ বছরের প্রশ্নগুলো রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞানের সমসাময়িক কয়েকটি ক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। এর মধ্যে ছিল অ্যামোনিয়া উৎপাদন, নিউক্লীয় রসায়ন এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের পুনর্ব্যবহার। সার ও রাসায়নিক উৎপাদনে অ্যামোনিয়া ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। কার্বন ডাই-অক্সাইড রূপান্তর নিয়ে গবেষণা শিল্পকারখানার নির্গমন কমানোর প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত। নিউক্লীয় রসায়নে পরমাণুর নিউক্লিয়াসে পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা করা হয়; জ্বালানি, চিকিৎসা ও পদার্থবিজ্ঞান গবেষণায় এর প্রয়োগ রয়েছে।

প্রতিযোগিতার এ ধরন বিজ্ঞান শিক্ষার বৃহত্তর পরিবর্তনের প্রতিফলন। ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শ্রেণিকক্ষের জ্ঞানকে বাস্তব উৎপাদনব্যবস্থা, পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ ও কারিগরি সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত করার প্রত্যাশা করা হয়। কোনো বিক্রিয়া কেন ঘটে তা বোঝা, প্রমাণ যাচাই করা এবং নতুন পরিস্থিতিতে সঠিক পদ্ধতি প্রয়োগ করাও তাঁদের জানতে হয়।

বিজ্ঞাপন

জীববিজ্ঞানে চার শিক্ষার্থীর রৌপ্যপদক

লিথুয়ানিয়ার ভিলনিয়াসে অনুষ্ঠিত ৩৭তম আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডেও সব সদস্যের পদক জয়ের সাফল্য পেয়েছে ভিয়েতনাম। জাতীয় দলের চার সদস্যই রৌপ্যপদক জিতেছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন রৌপ্যপদকজয়ীদের সর্বোচ্চ স্কোর করা সাতজনের তালিকায় ছিলেন। দলের সম্মিলিত স্কোরে শীর্ষ আট দেশের মধ্যে জায়গা পেয়েছে ভিয়েতনাম।

জীববিজ্ঞানের পদকজয়ীরা হলেন বাক নিন প্রদেশের বাক জিয়াং হাই স্কুল ফর দ্য গিফটেডের থান ডাক চিন ও ফুং কুয়াং হুং; হ্যানয়ের ভিয়েতনাম ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধীন হাই স্কুল ফর গিফটেড স্টুডেন্টসের নুয়েন থান আন; এবং হ্যানয়ের আমস্টারডাম হাই স্কুল ফর দ্য গিফটেডের নুয়েন লুয়ং থাই জুয়ি। চারজনই দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

১২ থেকে ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত IBO-তে ৮৬টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ৩০০ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। ছয়টি পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি দলও এতে অংশ নেয়। পরীক্ষায় ছিল ১৮০ মিনিটের দুটি তাত্ত্বিক প্রশ্নপত্র এবং ৯০ মিনিটের চারটি পরীক্ষাগার স্টেশন।

তাত্ত্বিক প্রশ্নপত্রে বৈশ্বিক বাস্তব সমস্যা-সংশ্লিষ্ট ১০০টি প্রশ্ন ছিল। শিক্ষার্থীরা পরিবেশদূষণ, সবুজ প্রবৃদ্ধি, কার্বন নিরপেক্ষতা, জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমন, জনস্বাস্থ্য এবং জটিল মানব রোগ নির্ণয়ের মতো বিষয় নিয়ে কাজ করেন।

কেন জীববিজ্ঞানে বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান দরকার

ব্যবহারিক পরীক্ষায় চারটি বিষয়ের দক্ষতা যাচাই করা হয়: প্রাণরসায়ন ও আণবিক জীববিজ্ঞান, মানব ও প্রাণী-শারীরবৃত্ত, প্রাণীর শারীরস্থান ও শ্রেণিবিন্যাস এবং উদ্ভিদ জৈবতথ্যবিজ্ঞান। এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের জীবনের বিভিন্ন স্তর নিয়ে কাজ করতে হয়—অণু ও কোষ থেকে শুরু করে অঙ্গ, জীব এবং বাস্তুতন্ত্র পর্যন্ত।

প্রাণরসায়নে জীবের জীবনধারণে সহায়ক রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করা হয়। আণবিক জীববিজ্ঞানের মূল বিষয় জিনগত উপাদান এবং কোষ কীভাবে জৈবিক তথ্য ব্যবহার করে। শারীরবৃত্তে অঙ্গ ও জীবদেহের কার্যপ্রণালি বিশ্লেষণ করা হয়। অন্যদিকে, শ্রেণিবিন্যাসে জীবের বৈশিষ্ট্য ও বিবর্তনীয় সম্পর্ক পরীক্ষা করে তাদের শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। উদ্ভিদ জৈবতথ্যবিজ্ঞানে কম্পিউটিং ও তথ্য বিশ্লেষণ কাজে লাগিয়ে উদ্ভিদের জিন, বৈশিষ্ট্য এবং জৈবিক প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করা হয়।

বিষয়ের এই ব্যাপ্তির কারণে IBO-কে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে কঠিন আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান প্রতিযোগিতাগুলোর একটি বলে মনে করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের জীববিজ্ঞানে শক্ত ভিত্তির পাশাপাশি রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান, গণিত ও পরিবেশবিজ্ঞানের সহায়ক জ্ঞানও দরকার। পরীক্ষাগারের দক্ষতাও জরুরি, কারণ তাত্ত্বিক প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়ে দুর্বল পরীক্ষণ-পদ্ধতির ঘাটতি পূরণ করা যায় না।

দূষণ, জনস্বাস্থ্য ও রোগ গবেষণায় জীববিজ্ঞানের পরীক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া থেকে বোঝা যায়, স্কুল পর্যায়ের বিজ্ঞান প্রতিযোগিতাগুলো বাস্তব জীবনের প্রয়োজনের সঙ্গে ক্রমেই যুক্ত হচ্ছে। কার্বন নিরপেক্ষতা বা রোগ নির্ণয় নিয়ে প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের জীববিজ্ঞানের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে জনসমাজ, হাসপাতাল, গবেষক ও সরকারের বাস্তব সমস্যা সমাধানের অনুশীলন করায়।

বিজ্ঞাপন

বাছাই ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা সাফল্য

শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ মন্ত্রণালয় বলেছে, দুই প্রতিযোগিতায় পদক জয় শিক্ষার্থীদের বৈজ্ঞানিক প্রতিভা শনাক্ত, বাছাই ও প্রশিক্ষণে ভিয়েতনামের শিক্ষা খাতের কাজের প্রতিফলন। জাতীয় দল গঠনের প্রক্রিয়া বেশ কঠিন। এতে শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, যুক্তি, পরীক্ষাগারের দক্ষতা এবং সময়ের চাপে কঠিন বিষয় সামলানোর সক্ষমতা যাচাই করা হয়।

এ প্রক্রিয়ায় বিশেষায়িত স্কুলগুলো বড় ভূমিকা রাখে। হ্যানয়ের আমস্টারডাম হাই স্কুল ফর দ্য গিফটেড থেকে রসায়নের তিন স্বর্ণপদকজয়ী এবং জীববিজ্ঞানের এক রৌপ্যপদকজয়ী এসেছেন। দলের অন্য সদস্যরা ফু থো, বাক নিন প্রদেশ এবং হ্যানয়ের ভিয়েতনাম ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়েন।

এসব স্কুলে রয়েছে উচ্চতর পাঠ্যক্রম, অভিজ্ঞ শিক্ষক এবং মাধ্যমিকের নিয়মিত পাঠ্যসূচির বাইরের প্রশিক্ষণের সুযোগ। আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডের প্রস্তুতি নিতে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিষয় পড়েন, পরীক্ষণ অনুশীলন করেন এবং আগের প্রতিযোগিতার সমস্যা সমাধান করেন। এ প্রস্তুতিতে অধ্যবসায়ও দরকার, কারণ অনেক প্রশ্নে নিয়মিত অনুশীলনের বদলে অপরিচিত পরিস্থিতিতে জ্ঞান প্রয়োগের দক্ষতা যাচাই করা হয়।

রসায়নে ভিয়েতনামের ধারাবাহিক সাফল্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ২৮ জন অংশগ্রহণকারীর কাছ থেকে ২৫টি স্বর্ণপদক পাওয়া মানে, দেশটি একটি ব্যতিক্রমী দলের ওপর নির্ভর না করে ধারাবাহিকভাবে উচ্চ স্কোর করা প্রতিযোগী তৈরি করেছে। ২০২৬ সালের চারটি স্বর্ণপদক সেই অর্জনের ধারায় নতুন সাফল্য যোগ করেছে। পাশাপাশি এ ফল এশিয়ার বিজ্ঞানশিক্ষায় বড় শক্তি চীন ও ভারতের সঙ্গে ভিয়েতনামের সরাসরি প্রতিযোগিতার অবস্থানও তুলে ধরেছে।

এশিয়ার বৃহত্তর বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় এই ফলের তাৎপর্য

রসায়নে যৌথভাবে প্রথম হওয়া IChO-তে এশিয়ার শক্তিশালী অংশগ্রহণের দিকটি তুলে ধরে। চীন, ভারত ও ভিয়েতনাম—তিন দেশই চারজন করে স্বর্ণপদকজয়ী পেয়েছে। ভারত জানিয়েছে, প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শুরুর পর চারটি স্বর্ণপদক তাদের সেরা ফল। চীনও শীর্ষস্থান ভাগ করে নিয়েছে।

তবে এই তুলনা সতর্কতার সঙ্গে করা উচিত, কারণ শুধু পদকের সংখ্যা দিয়ে দলগুলোর সব পার্থক্য বোঝা যায় না। অলিম্পিয়াডের র‌্যাঙ্কিং নির্ভর করতে পারে স্কোরের বণ্টন, কতটি পদক দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিযোগীদের ব্যক্তিগত ফলের ওপর। তবু চার সদস্যের জাতীয় দলের সবার স্বর্ণপদক জয় ধারাবাহিকতার শক্ত প্রমাণ।

জীববিজ্ঞানে চারটি পদকই রৌপ্য হলেও ভিয়েতনাম শীর্ষ দলগুলোর মধ্যে জায়গা পেয়েছে। রৌপ্যপদকজয়ীদের মধ্যে তিন শিক্ষার্থীর ওপরের দিকে থাকা ইঙ্গিত দেয়, দলটি সর্বোচ্চ স্কোর করা প্রতিযোগীদের কাছাকাছি ছিল। এতে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের একাধিক শাখায় ভিয়েতনামের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে।

২০২৬ সালের অন্যান্য বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের ফলও এ অঞ্চলে নজর কেড়েছে। ভারত রসায়নে চারটি স্বর্ণ এবং জীববিজ্ঞানে একটি স্বর্ণ ও তিনটি রৌপ্যপদক পেয়েছে। অন্যদিকে, ভিয়েতনামের দল রসায়নে চারটি স্বর্ণ ও জীববিজ্ঞানে চারটি রৌপ্যপদক জিতেছে। এসব ফল দেখায়, জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থাগুলো নিবিড় বিজ্ঞান প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ করছে এবং মাধ্যমিক শিক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও শক্তিশালী যোগসূত্র গড়ার চেষ্টা করছে।

বিজ্ঞাপন

পদকের বাইরেও কেন গুরুত্বপূর্ণ রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের মেধা

আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডের পদক ব্যক্তিগত অর্জন, তবে এর গুরুত্ব পদকজয়ী শিক্ষার্থীদের বাইরেও বিস্তৃত। চিকিৎসা, কৃষি, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, পরিবেশ সুরক্ষা, খাদ্য উৎপাদন, উপাদান গবেষণা ও শিল্প উৎপাদনের মতো জাতীয় উন্নয়নের বড় ক্ষেত্রগুলোতে রসায়ন ও জীববিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এসব প্রতিযোগিতার প্রশিক্ষণে শিক্ষার্থীরা প্রমাণ যাচাই, ধারণা পরীক্ষা এবং সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করতে শেখেন। পরীক্ষাগার ও প্রকৌশল দলের পাশাপাশি জটিল তথ্যের ভিত্তিতে নির্ভুল সিদ্ধান্ত নিতে হয়—এমন ক্ষেত্রেও এসব দক্ষতা কাজে লাগে। অ্যামোনিয়া অনুঘটক, কার্বন ডাই-অক্সাইড রূপান্তর বা আণবিক রোগ নির্ণয় নিয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা জ্বালানি, স্বাস্থ্য ও জলবায়ু গবেষণার নানা সমস্যার সঙ্গেও পরিচিত হন।

ভিয়েতনাম সরকার পলিটব্যুরোর ৭১ NQ TW ও ৫৭ NQ TW প্রস্তাবনার আওতায় শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনবিষয়ক জাতীয় নীতির সঙ্গে এই ফলকে যুক্ত করেছে। রসায়ন ও সংশ্লিষ্ট বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর বড় ভাণ্ডার গড়ে তোলাই ঘোষিত লক্ষ্য।

এই লক্ষ্য অর্জনে প্রতিযোগিতায় সাফল্যের চেয়েও বেশি কিছু প্রয়োজন। মেধাবী শিক্ষার্থীদের গবেষণায় যুক্ত রাখা, পরীক্ষাগারের সুযোগ বাড়ানো, শিক্ষকদের সহায়তা করা এবং স্নাতকদের বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প খাত ও সরকারি গবেষণায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে ভিয়েতনামকে। অলিম্পিয়াড দলগুলো বিজ্ঞানের প্রতিভা বিকাশের প্রাথমিক উৎস হতে পারে। তাদের প্রশিক্ষণ বিশেষায়িত শিক্ষার মান উন্নয়নেও সহায়তা করতে পারে।

আটটি পদক ভিয়েতনামের শিক্ষা সম্পর্কে কী বলে

২০২৬ সালের ফলাফলে দুটি পরিপূরক সাফল্য দেখা যায়। রসায়নে সব কটি স্বর্ণপদক জিতে যৌথভাবে প্রথম হয়েছে ভিয়েতনাম। জীববিজ্ঞানে পেয়েছে চারটি রৌপ্যপদক এবং দলের স্কোরে শীর্ষ আটে জায়গা। সম্মিলিতভাবে এসব ফল রাসায়নিক বিশ্লেষণে নির্ভুলতা এবং জীবজগতের বিস্তৃত অধ্যয়ন—দুই ক্ষেত্রেই ভিয়েতনামের দক্ষতা তুলে ধরে।

তাত্ত্বিক জ্ঞানের সঙ্গে ব্যবহারিক দক্ষতা মিলিয়ে নেওয়ার গুরুত্বও এসব ফল দেখায়। দুই প্রতিযোগিতাতেই শিক্ষার্থীদের কঠিন লিখিত প্রশ্ন সমাধানের পাশাপাশি পরীক্ষাগারের দক্ষতাও দেখাতে হয়েছে। তাঁদের সাফল্য ইঙ্গিত দেয়, ভিয়েতনামের সেরা বিজ্ঞান শিক্ষাক্রমগুলো শিক্ষার্থীদের শুধু জ্ঞান পুনরাবৃত্তি নয়, তা কাজে লাগানোর প্রস্তুতিও দিচ্ছে।

আট শিক্ষার্থীর জন্য এসব পদক মাধ্যমিকের শেষ বছরে দীর্ঘদিনের পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের পরিসমাপ্তি। ভিয়েতনামের জন্য এগুলো তরুণ বৈজ্ঞানিক প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করার সক্ষমতার প্রকাশ্য মাপকাঠি।

মূল তথ্য

  • ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক রসায়ন অলিম্পিয়াডে ভিয়েতনাম চারটি স্বর্ণপদক জিতেছে।
  • ভিয়েতনামের রসায়ন দলের চার প্রতিযোগীই স্বর্ণপদক পেয়েছেন।
  • রসায়নে স্বর্ণপদকের সংখ্যায় চীন ও ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে প্রথম হয়েছে ভিয়েতনাম।
  • ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে ভিয়েতনাম চারটি রৌপ্যপদক জিতেছে।
  • ভিয়েতনামের জীববিজ্ঞান দলের তিন শিক্ষার্থী রৌপ্যপদকজয়ীদের সর্বোচ্চ স্কোর করা সাতজনের মধ্যে ছিলেন।
  • ২০২০ সাল থেকে রসায়ন দলের ২৮ প্রতিযোগী ২৫টি স্বর্ণ ও তিনটি রৌপ্যপদক জিতেছেন।
  • রসায়ন প্রতিযোগিতা তাশখন্দে এবং জীববিজ্ঞান প্রতিযোগিতা ভিলনিয়াসে অনুষ্ঠিত হয়।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে