৩ লাখ ৮০ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নিয়ে বৈশ্বিক শিক্ষাশক্তি হিসেবে উত্থান চীনের

পড়তে 7 মিনিট
৩ লাখ ৮০ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নিয়ে বৈশ্বিক শিক্ষাশক্তি হিসেবে উত্থান চীনের

বৈশ্বিক শিক্ষায় নতুন যুগ

আন্তর্জাতিক শিক্ষার অঙ্গনে চীন দৃঢ়ভাবে এক শক্তিধর দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ১৯১টি দেশ ও অঞ্চলের ৩ লাখ ৮০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ডিগ্রি, গবেষণা বা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। আগের বছরের তুলনায় এ সংখ্যা ১৫ শতাংশ বেশি, যা মহামারির পর জোরালো পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দেয় এবং বৈশ্বিক শিক্ষা বাজারে চীনকে নতুন প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরে। এ উল্লম্ফন বিশ্বজুড়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গির মৌলিক পরিবর্তন প্রতিফলিত করে। ঐতিহ্যগত ইংরেজিভাষী গন্তব্যের বাইরে এসে তারা এমন এক এশীয় পরাশক্তির দিকে ঝুঁকছেন, যেখানে বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে সাশ্রয়ী ব্যয় ও কৌশলগত ভূরাজনৈতিক সমন্বয় রয়েছে।

সূচিপত্র
  1. বৈশ্বিক শিক্ষায় নতুন যুগ
  2. ভর্তিতে রেকর্ড ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্য
  3. বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে আকর্ষণ ও অর্থনৈতিক সুবিধা
  4. শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়
  5. বৈশ্বিক পরিবর্তন ও বিকল্প গন্তব্য
  6. দেশীয় চাপ ও নীতির বিবর্তন
  7. বৃত্তি কূটনীতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
  8. অভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়া
  9. মূল বিষয়গুলো

ভর্তিতে রেকর্ড ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্য

২০২৬ সালের চায়না স্টাডি অ্যাব্রড ফোরামে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিনিময় বিভাগের শি রু প্রকাশিত সর্বশেষ ভর্তি-তথ্যে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক বৈচিত্র্য দেখা যায়। মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে এশিয়ার শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি, ৬১.১ শতাংশ। এরপর আফ্রিকা থেকে ১৬.২ শতাংশ, ইউরোপ থেকে ১৫.৬ শতাংশ এবং আমেরিকা ও ওশেনিয়া মিলিয়ে ৭.১ শতাংশ শিক্ষার্থী রয়েছেন। ডিগ্রি নিতে আসা ২ লাখ ৫ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী ৩৫ শতাংশ, যা চীনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উন্নত গবেষণার সুযোগের প্রতি বাড়তে থাকা আগ্রহ নির্দেশ করে।

কয়েক দশকের পরিকল্পিত নীতি প্রণয়নের ফলেই এ বৈচিত্র্য তৈরি হয়েছে। ট্রিয়ার ইউনিভার্সিটির গবেষণা অনুযায়ী, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) চীনে পড়তে আসা বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। ২০১৬ সালে বেল্ট অ্যান্ড রোডের ৬৮টি দেশের মধ্যে ৬৪টি দেশ থেকে ২ লাখের বেশি শিক্ষার্থী চীনে আসেন। শুধু পাকিস্তান থেকেই এসেছিলেন প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষার্থী, যা ২০১২ সালের প্রায় ৯ হাজার ৫০০ জনের তুলনায় অনেক বেশি। চীনা সরকারি বৃত্তিপ্রাপ্তরা এখন মোট আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর প্রায় ৮ শতাংশ। বিআরআইভুক্ত দেশগুলোর জন্য প্রতিবছর ১০ হাজার আসন সংরক্ষিত থাকে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে আকর্ষণ ও অর্থনৈতিক সুবিধা

ডিগ্রি নিতে আসা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে প্রকৌশল এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় বিষয়; মোট ভর্তির ২৭.৮ শতাংশ এ বিষয়ে। ফলিত প্রযুক্তি ও কম্পিউটার-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা চীনের শিল্পসক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কারিগরি জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করছে। গত কয়েক দশকের তুলনায় এটি একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। তখন বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রায় ৪০ শতাংশ মূলত চীনা ভাষা শিখতে দেশটিতে আসতেন। ২০১২ সালের পর থেকে এ হার ১৫ শতাংশ কমেছে; একই সময়ে কারিগরি ও পেশাগত ডিগ্রির গুরুত্ব বেড়েছে।

অর্থনৈতিক সুবিধাও বেশ আকর্ষণীয়। যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বার্ষিক ফি ২০ হাজার পাউন্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, চীনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বছরে গড়ে ১ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ পাউন্ড খরচ হয়। এ সাশ্রয়ী ব্যয়ের সঙ্গে টাইমস হায়ার এডুকেশনের বৈশ্বিক শীর্ষ ১০০ তালিকায় চীনের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান মিলিয়ে এমন একটি সুবিধাজনক প্রস্তাব তৈরি হয়েছে, যার সঙ্গে পাল্লা দেওয়া পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কঠিন। সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও পেকিং বিশ্ববিদ্যালয় এখন বিশ্বে যথাক্রমে ১২তম ও ১৪তম স্থানে রয়েছে, যা রাসেল গ্রুপ ও আইভি লিগের অনেক প্রতিষ্ঠানকেও ছাড়িয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়

পরিসংখ্যানের বাইরেও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এই শিক্ষার্থী অভিবাসনের মানবিক দিক তুলে ধরে। জিনজিয়াং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির হৃদ্‌রোগবিদ্যার স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী জাহিদ খান চীনে পাকিস্তানি মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান ঢেউয়ের একজন প্রতিনিধি। বর্তমানে প্রায় ২৯ হাজার পাকিস্তানি শিক্ষার্থী চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়ছেন; এদের ৪৫ শতাংশ চিকিৎসাবিদ্যার শিক্ষার্থী।

এখানকার সবকিছু—গবেষণাগার, হাসপাতাল ও অধ্যাপক—সত্যিই চমৎকার। গবেষণার জন্য আপনার যা প্রয়োজন, তারা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সরবরাহ করেন।

স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য খান প্রথম ২০১৩ সালে জিনজিয়াংয়ে আসেন। কোভিড-১৯ মহামারির সময় পাকিস্তানে কাজ করার পর উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য তিনি আবার চীনে ফেরেন। তাঁর মতে, সুশৃঙ্খল ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ, আধুনিক রোগনির্ণয় যন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ এবং নিয়মিত পরামর্শ পেশাগত দক্ষতা বাড়ায়। পিএইচডি শেষ করে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সেবায় পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা তাঁর। চীনের শিক্ষাবিষয়ক কূটনীতি যে জ্ঞান বিনিময় গড়ে তুলতে চায়, তাঁর এই পরিকল্পনা তারই প্রতিফলন।

ইথিওপিয়ায় ২৫তম চাইনিজ ব্রিজ চীনা ভাষা দক্ষতা প্রতিযোগিতায় সম্প্রতি আদ্দিস আবাবা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। তাঁরা মার্শাল আর্ট, ক্যালিগ্রাফি ও ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনার মাধ্যমে ভাষাগত দক্ষতা তুলে ধরেন। চীনা রাষ্ট্রদূত চেন হাই বলেন, ভাষাশিক্ষার্থীরা ক্রমেই সাংস্কৃতিক বিনিময়ের বন্ধুত্বপূর্ণ দূত হয়ে উঠছেন। ভারপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি স্যামুয়েল কিফলে বলেন, চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে পড়াশোনা ইথিওপিয়া ও চীনের তরুণদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ তৈরি করছে।

বিজ্ঞাপন

বৈশ্বিক পরিবর্তন ও বিকল্প গন্তব্য

চীনের উত্থানের পাশাপাশি ঐতিহ্যগত গন্তব্যগুলোর আকর্ষণ কমছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে এশীয় শিক্ষার্থীদের আগমন প্রায় ২৪ শতাংশ কমেছে। মহামারির সময় বাদ দিলে আগস্টে এটাই সর্বনিম্ন সংখ্যা। ভিসা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব এবং ২০২৫ সালে ৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিলসহ নানা বিধিনিষেধের পর এ পতন দেখা গেছে।

নর্থ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক মেডেলিন জাভোদনি ২০২৫ সালের মে মাসের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলেন, এ সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে কলেজ বন্ধ হয়ে যেতে পারে; আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ছোট লিবারেল আর্টস কলেজগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ন্যাফসার এক বিশ্লেষণে নতুন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি ৭০০ কোটি ডলারের ব্যয় এবং ৬০ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান হারাতে পারে।

বিজ্ঞাপন

দেশীয় চাপ ও নীতির বিবর্তন

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এসব সাফল্য সত্ত্বেও, শিক্ষার ক্ষেত্রে উন্মুক্ততা নিয়ে চীন অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে রয়েছে। ২০২৫ সালে ১ কোটি ২২ লাখ চীনা স্নাতক কর্মবাজারে প্রবেশ করেন এবং তরুণদের বেকারত্ব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছায়। এ পরিস্থিতিতে কিছু চীনা নাগরিক বিদেশি শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। চাকরির প্রস্তাব ছাড়াই বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের গবেষকদের আকৃষ্ট করতে ২০২৫ সালে চীন কে ভিসা চালু করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে পোস্টের বন্যা বয়ে যায়; কিছু পোস্টে বিদেশিবিদ্বেষও ছিল।

আমার মনে হয়, এই ভিসা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, আর আমার শিল্পখাতের অনেকেই একই মত পোষণ করেন। পুরো বিষয়টি আমার মতো মানুষের মুখে তিক্ত স্বাদ রেখে যায়, যারা কঠোর পরিশ্রম করে ধাপে ধাপে ওপরে উঠেছেন। চীনে প্রতিভাবান মানুষের অভাব নেই। আমাদের অভাব চাকরির সুযোগ ও সম্পদের।

চেংদুর ৩৩ বছর বয়সী প্রযুক্তি খাতের কর্মী ঝেং ইফানের এই বক্তব্য চীনের বৈশ্বিক শিক্ষাগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যকার টানাপোড়েন তুলে ধরে। একইভাবে, শেনঝেনের ২৭ বছর বয়সী বিনিয়োগ পরামর্শক জ্যাকি ইয়াং বলেন, অনেক চীনা নাগরিককে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হয়, অথচ বিদেশিরা সহজেই এমন সুযোগ-সুবিধা পান, যা পেতে স্থানীয়দের কঠোর লড়াই করতে হয়।

এর জবাবে চীন আন্তর্দেশীয় শিক্ষা (টিএনই) সম্প্রসারণের কৌশল নিয়েছে। দেশটিতে এখন এক হাজারের বেশি যৌথ উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস রয়েছে; এর মধ্যে ৩৭৩টি সহযোগী প্রতিষ্ঠান স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দিচ্ছে। ২০২৫ সালে চালু হওয়া নতুন নিয়ন্ত্রক কাঠামোয় যৌথ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর ভর্তির সীমা তুলে নেওয়া হয়েছে। এতে প্রচলিত ৪+০ মডেলের বাইরেও নমনীয়তা এসেছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর স্মার্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃত্তি কূটনীতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

চীনের শিক্ষাকৌশলে বৃত্তি কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০২৪ সালের চীন-আফ্রিকা সহযোগিতা ফোরাম সম্মেলনে চীন আফ্রিকান শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন করে ৬০ হাজার বৃত্তির ঘোষণা দেয়। গাম্বিয়ায় সম্প্রতি গাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ জন মেধাবী শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হার্বার্ট রবিনসন এই উদ্যোগকে প্রতিভা ও গাম্বিয়ার তরুণদের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ হিসেবে বর্ণনা করেন।

শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ওমর কে.বি. সামুরা এ সহায়তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে অনেক শিক্ষার্থীর চার বছরের কোর্স শেষ করতে ছয় থেকে সাত বছর লেগে যায়; অনেককে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজও করতে হয়। বৃত্তি এমন সব চাপ কমায়, যা প্রায়ই বিলম্ব আর অগ্রগতির মধ্যকার সীমারেখা ঝাপসা করে দেয়।

বিজ্ঞাপন

অভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়া

সিনহুয়া ইনস্টিটিউট প্রকাশিত “চীনে পড়াশোনা: মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যৎসম্পন্ন একটি সম্প্রদায় গঠনে অবদান” শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব শিক্ষাবিনিময়কে বৃহত্তর কূটনৈতিক লক্ষ্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈচিত্র্যময় শিক্ষার সুযোগ এবং বিনিময়ের বিস্তৃত মাধ্যমের মধ্য দিয়ে চীন নতুন প্রজন্মের প্রচেষ্টায় নিজের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিশ্বের কাজে লাগানোর সুযোগ করে দেয়। এর মাধ্যমে সভ্যতাগুলোর মধ্যে বিনিময় ও পারস্পরিক শিক্ষার নতুন সেতু গড়ে ওঠে।

কিউএসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সাল পর্যন্ত চীনে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রতিবছর ২.৫ শতাংশ করে বাড়বে এবং প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজারে পৌঁছাবে। ইউরোপ বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু গন্তব্যের তুলনায় এ প্রবৃদ্ধির হার কম হলেও, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এটি সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দেয়। প্রায় ৩ হাজার ইংরেজি মাধ্যমে পড়ানো কর্মসূচি এ প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করছে। ইংরেজি সরকারি ভাষা নয়, এমন দেশগুলোর মধ্যে চীন এখন এ ধরনের কর্মসূচির সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী।

মূল বিষয়গুলো

  • ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ১৯১টি দেশ থেকে ৩ লাখ ৮০ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে স্বাগত জানিয়েছে চীন; আগের বছরের তুলনায় যা ১৫ শতাংশ বেশি
  • প্রকৌশল এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের (এসটিইএম) বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের পছন্দে এগিয়ে; ডিগ্রিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের ২৭.৮ শতাংশ এসব বিষয়ে ভর্তি হন
  • আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ৬১ শতাংশ এশিয়ার, এরপর আফ্রিকার শিক্ষার্থী ১৬ শতাংশ
  • টিউশন ফি বছরে গড়ে ১ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ পাউন্ড, যা পশ্চিমা বিকল্পগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম
  • বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ হাজার হাজার বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে চীনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়ে এসেছে
  • আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তিতে চীন এখন বিশ্বে তৃতীয়; সামনে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য
  • তরুণদের বেকারত্ব ও সম্পদ বণ্টন নিয়ে দেশের ভেতরের উদ্বেগ শিক্ষাক্ষেত্রে উন্মুক্ততা নিয়ে টানাপোড়েন তৈরি করছে
  • আন্তর্দেশীয় শিক্ষার অংশীদারত্ব এক হাজারের বেশি যৌথ উদ্যোগ ও শাখা ক্যাম্পাসে সম্প্রসারিত হয়েছে
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে