পরিবহন খাতকে বিদ্যুতায়িত করতে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ঘোষণা সরকারের
কর ছাড়, গাড়ি বদল কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং গণপরিবহন পরিচালনাকারীদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার সমন্বয়ে দেশের সড়কে ৩ লাখ বৈদ্যুতিক যান নামানোর উচ্চাভিলাষী কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে থাই সরকার। ভূমি পরিবহন বিভাগের সঙ্গে আলোচনার পর কৌশলটি তুলে ধরেন উপপরিবহনমন্ত্রী সিরিপং আংকাসাকুলকিয়াত। এতে পেট্রোলচালিত যান থেকে সরে আসার ক্ষেত্রে দেশটির রূপান্তর ত্বরান্বিত করার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সূচিপত্র
- পরিবহন খাতকে বিদ্যুতায়িত করতে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ঘোষণা সরকারের
- ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক যানবাহনের জন্য দ্বিমুখী প্রণোদনা
- বিদ্যমান বৈদ্যুতিক যান নীতিকাঠামোর ওপর ভিত্তি
- বাণিজ্যিক যানবহরে গুরুত্ব ও ব্যাটারি উৎপাদন সম্প্রসারণ
- অবকাঠামো উন্নয়ন ও আঞ্চলিক নেতৃত্ব
- সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ
- বিদেশি বিনিয়োগ ও সরবরাহব্যবস্থার বিবেচনা
- অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাব
- মূল বিষয়গুলো
থাইল্যান্ডের সামগ্রিক বৈদ্যুতিক যানবাহন কৌশলের সর্বশেষ ধাপ এই উদ্যোগ। EV3.0 ও EV3.5 নীতির মতো বিদ্যমান কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে এটি বাণিজ্যিক যানবহর বিদ্যুতায়নের নির্দিষ্ট ঘাটতিগুলোও পূরণ করবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে রাজকীয় ডিক্রির মাধ্যমে জুনের শুরুতেই ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির গাড়িশিল্পের চিত্র পাল্টে দিতে পারে।
ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক যানবাহনের জন্য দ্বিমুখী প্রণোদনা
বিভিন্ন খাতের যানবাহন মালিকদের আর্থিক বাধা কমানোর লক্ষ্যে পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে পরিপূরক দুটি পদক্ষেপ রাখা হয়েছে। প্রথমত, ব্যক্তিগত গাড়ির বাইরে গণপরিবহন পরিচালনাকারীদেরও অন্তর্ভুক্ত করে বিদ্যমান গাড়ি বদল নীতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে সরকার। এতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ট্যাক্সি খাতকে। এই সম্প্রসারণের লক্ষ্য প্রায় ২৭ হাজার ডিজেলচালিত ট্যাক্সিকে বৈদ্যুতিক বা হাইব্রিড বিকল্পে রূপান্তর করা। এর মাধ্যমে শহরের বায়ুদূষণ কমানোর পাশাপাশি বাণিজ্যিক চালকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা উচ্চ জ্বালানি ব্যয়ের সমস্যাও মোকাবিলা করা হবে।
দ্বিতীয়ত, বার্ষিক যানবাহন করের হার ব্যাপকভাবে কমাতে ভূমি পরিবহন বিভাগ অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড যানবাহনের মালিকদের বার্ষিক কর সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ কমতে পারে, এমনকি প্রাথমিক রূপান্তরকালীন সময়ে পুরোপুরি মওকুফও হতে পারে। প্রচলিত অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিনের গাড়ি থেকে সরে আসার কথা ভাবছেন এমন গ্রাহকদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ, মালিকানার মোট ব্যয়, কমাতে এ আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।
উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছে পেট্রোলচালিত ট্যাক্সি। ডিজেল জ্বালানি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় সরকার প্রতিটি গাড়ির জন্য এককালীন ৫,০৪০ বাথ দিচ্ছে। এ সহায়তা পেতে ট্যাক্সি পরিচালনাকারীদের ৪২ দিনের সহায়তা সময়কালে অন্তত ২,৫০০ কিলোমিটার চলতে হবে। বিশেষায়িত DLT অ্যাপের মাধ্যমে এই শর্ত পূরণ হচ্ছে কি না, তা নজরদারি করা হবে। এতে নিষ্ক্রিয় গাড়ির বদলে সক্রিয় বাণিজ্যিক পরিচালনাকারীদের কাছে সহায়তা পৌঁছাবে এবং ভর্তুকির পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সুফল সর্বোচ্চ হবে।
বিদ্যমান বৈদ্যুতিক যান নীতিকাঠামোর ওপর ভিত্তি
নতুন পদক্ষেপগুলো থাইল্যান্ডের বিদ্যমান ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক যানবাহন প্রণোদনা কাঠামোর পরিপূরক। বাজারের প্রবৃদ্ধি বাড়াতে এই কাঠামো ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। ২০২২ সালে চালু হওয়া EV3.0 নীতি এবং এর উত্তরসূরি, ২০২৪-২০২৭ সালের জন্য অনুমোদিত EV3.5, ভর্তুকি, আবগারি কর হ্রাস ও আমদানি শুল্ক সমন্বয়ের মাধ্যমে বর্তমান সম্প্রসারণের ভিত্তি তৈরি করেছে।
২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি কার্যকর হওয়া EV3.5 কাঠামোর আওতায় ব্যাটারির সক্ষমতা ও কেনার বছরের ওপর নির্ভর করে সরকার প্রতি গাড়িতে ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ বাথ ভর্তুকি দেয়। ৭০ লাখ বাথের কম দামের বৈদ্যুতিক যাত্রীবাহী গাড়ির আবগারি করও ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৪ ও ২০২৫ সালে আমদানি করা সম্পূর্ণ সংযোজিত গাড়ির ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ কমানোর সুযোগ রয়েছে। তবে এসব সুবিধা পেতে স্থানীয় সংযোজনের কঠোর শর্ত মানতে হবে: ২০২৬ সালের মধ্যে আমদানি করা প্রতি দুটি গাড়ির বিপরীতে নির্মাতাদের দেশে একটি গাড়ি উৎপাদন করতে হবে; ২০২৭ সাল নাগাদ অনুপাত হবে প্রতি তিনটি আমদানির বিপরীতে একটি।
থাইল্যান্ড বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্টের মহাসচিব এবং জাতীয় বৈদ্যুতিক যান নীতি কমিটির সচিব নারিত থেরদসিরাসুকদি সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বৃহত্তর পরিকল্পনার কথা ব্যাখ্যা করেন।
আজ অনুমোদিত পদক্ষেপগুলো যাত্রীবাহী গাড়ির জন্য আগে নেওয়া EV3 ও EV3.5-এর তথাকথিত ব্যবস্থাগুলো সম্পূর্ণ করবে। এবার নজর দেওয়া হচ্ছে বড় বাণিজ্যিক যানবাহনের দিকে। আমাদের বিশ্বাস, এতে বৈদ্যুতিক ট্রাক ও বাসের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে, পরিবহন ও উৎপাদন খাতের দূষণ কমবে এবং কোম্পানিগুলোর নিট-শূন্য নির্গমন লক্ষ্যে পৌঁছানোর উদ্যোগে সহায়তা মিলবে।
২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, EV3 কর্মসূচির আওতায় ১৪টি নির্মাতা ৭৮,৫৫৪টি বৈদ্যুতিক গাড়ি নিবন্ধন করেছে। প্রণোদনা কর্মসূচিতে শিল্পখাতের জোরালো অংশগ্রহণেরই প্রতিফলন এটি।
বাণিজ্যিক যানবহরে গুরুত্ব ও ব্যাটারি উৎপাদন সম্প্রসারণ
জাতীয় বৈদ্যুতিক যান নীতি কমিটির সাম্প্রতিক অনুমোদনগুলো বাণিজ্যিক যানবাহন বিদ্যুতায়ন ও দেশে ব্যাটারি উৎপাদনের দিকে কৌশলগত মোড় নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়। ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক যান দিয়ে বড় ট্রাক ও বাসের বহর রূপান্তরকারী কোম্পানিগুলোকে বিশেষ করছাড় দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে কমিটি, যা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। দেশে উৎপাদিত বৈদ্যুতিক ট্রাক ও বাস কিনলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৃত গাড়ির দামের দ্বিগুণ পরিমাণ ব্যয় কর থেকে বাদ দিতে পারবে। আমদানি করা গাড়ির ক্ষেত্রে করছাড় হবে দামের দেড় গুণ।
যোগ্য বাণিজ্যিক যানবাহনের মধ্যে রয়েছে কনটেইনার ট্রাক, তরল পদার্থ পরিবহনের গাড়ি, বিপজ্জনক পদার্থ বহনকারী যান, বিশেষ ট্রাক, টো ট্রাক এবং শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণবিহীন বৈদ্যুতিক বাস। ভারী পরিবহন খাতের শহুরে নির্গমনে উল্লেখযোগ্য অবদান কমানোর পাশাপাশি এ প্রণোদনার লক্ষ্য থাইল্যান্ডের 30@30 নীতির লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করা: ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে উৎপাদিত যানবাহনের ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক করা।
যানবাহন ব্যবহারে প্রণোদনার পাশাপাশি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির তহবিলের মাধ্যমে ব্যাটারি সেল উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার করেছে সরকার। বিনিয়োগ প্রণোদনার যোগ্য হতে ব্যাটারি নির্মাতাদের প্রতি কেজিতে অন্তত ১৫০ ওয়াট-ঘণ্টা শক্তিঘনত্ব এবং কমপক্ষে ১,০০০ চক্রের কার্যকাল প্রমাণ করতে হবে। কোম্পানিগুলোকে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ প্রস্তাব জমা দিতে হবে। জাতীয় বৈদ্যুতিক যানব্যবস্থা টেকসই ও সংকট মোকাবিলায় সক্ষম করতে স্থানীয় ব্যাটারি উৎপাদন জরুরি বলে জোর দিয়েছে সরকার।
অবকাঠামো উন্নয়ন ও আঞ্চলিক নেতৃত্ব
বৈদ্যুতিক যান ব্যবহারে থাইল্যান্ডের গতি বাড়ানোর উদ্যোগ এমন এক বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে চলছে, যেখানে বৈদ্যুতিক যান সরবরাহব্যবস্থায় প্রভাবশালী অবস্থান গড়তে আসিয়ান দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। দেশটি বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শীর্ষ গাড়ি উৎপাদক এবং বিশ্বের শীর্ষ ১০ উৎপাদনকেন্দ্রের একটি। ফলে এই রূপান্তরের জন্য রয়েছে শক্তিশালী শিল্পভিত্তি।
জ্বালানি খাতের বৃহৎ প্রতিষ্ঠান PTT ও EGAT চার্জিং অবকাঠামো সম্প্রসারণে নেতৃত্ব দিচ্ছে। PTT-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান Arun Plus ২০৩০ সালের মধ্যে ৭ হাজারের বেশি চার্জিং পয়েন্ট স্থাপনের লক্ষ্য নিয়েছে। আর EGAT-এর Elex প্রকল্পের লক্ষ্য মহাসড়কে দ্রুত চার্জিং নেটওয়ার্ক গড়ে দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রা সহজ করা। গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চার্জিং স্টেশন স্থাপন নিশ্চিত করতে জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও পরিবহন মন্ত্রণালয় সমন্বয় করছে। এতে চার্জ ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমবে, যা সম্ভাব্য ক্রেতাদের নিরুৎসাহিত করতে পারে।
তবে আঞ্চলিক তুলনায় সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ, দুটিই দেখা যায়। থাইল্যান্ডে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার অনুপ্রবেশের হার প্রায় ২০ শতাংশ হলেও সিঙ্গাপুরে নতুন নিবন্ধনের ৪০ শতাংশ ছাড়িয়েছে এ হার; সেখানে গাড়িপ্রতি সর্বোচ্চ ৪০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলারের ভর্তুকি এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে, মালয়েশিয়ায় বছরওয়ারি প্রবৃদ্ধি ১০০ শতাংশ হলেও ২০২৫ সালের শেষে আমদানি করা বৈদ্যুতিক গাড়ির করছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনার স্থিতিশীলতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা দেখায়।
সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ
উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা সত্ত্বেও প্রস্তাবিত গাড়ি বদল কর্মসূচির কাঠামো ও শেষ পর্যন্ত কারা এর সুবিধা পাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, গাড়ি নির্মাতাদের মাধ্যমে দেওয়া প্রণোদনার একাংশ উৎপাদনের আগের ধাপেই আটকে যেতে পারে। এতে সরাসরি ভোক্তা-সুবিধা না দিয়ে বাজারদর বিকৃত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। কিছু খাতে বৈদ্যুতিক গাড়ির অর্থায়ন হার প্রায় শূন্যের কাছাকাছি থাকায়, গাড়ি বদল কর্মসূচির প্রস্তাবিত ৩.৫ শতাংশ ঋণহার বিদ্যমান বাজার সুবিধার তুলনায় সামান্যই বাড়তি প্রণোদনা দিতে পারে।
থাইল্যান্ডের বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি মিশ্রণে সমান্তরাল সংস্কার ছাড়া এই রূপান্তরের নিট কার্বন প্রভাব নিয়েও পরিবেশবাদীরা প্রশ্ন তুলেছেন। বর্তমানে দেশের অর্ধেকের বেশি বিদ্যুৎ আসে প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে। ফলে শুধু যানবাহন বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে মোট নির্গমন কতটা কমবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ ছাড়া, মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি ও বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি ব্যবস্থাপনার পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা না থাকায় ভবিষ্যতে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ দেখা দিতে পারে।
গাড়ি বদলের যোগ্য পুরোনো
গাড়ি বলতে কী বোঝানো হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। এতে বাস্তবায়নের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। স্বচ্ছভাবে গাড়ি ভাঙার ব্যবস্থা না থাকলে এসব যান দ্বিতীয় হাতের বাজারে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা উচ্চ নির্গমনকারী যান সক্রিয় ব্যবহার থেকে সরিয়ে নেওয়ার পরিবেশগত লক্ষ্যকে দুর্বল করবে। গণপরিবহন চালানোর লাইসেন্স থাই নাগরিকদের মধ্যেই সীমিত করেছে সরকার। এতে দেশীয় শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত হলেও যোগ্য বাণিজ্যিক বৈদ্যুতিক গাড়িচালকের সংখ্যা কমে যেতে পারে।
বিদেশি বিনিয়োগ ও সরবরাহব্যবস্থার বিবেচনা
থাইল্যান্ডের প্রণোদনা কাঠামো বিদেশি উৎপাদন বিনিয়োগ আকর্ষণে সফল হয়েছে। চীনা গাড়ি নির্মাতা BYD ও Great Wall Motor স্থানীয় উৎপাদনকেন্দ্রে সম্মিলিতভাবে ১.৪৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের অঙ্গীকার করেছে। BYD-এর রায়ং কারখানায় ২০২৪ সাল থেকে বছরে ১ লাখ ৫০ হাজার গাড়ি উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। Changan Automobile-ও ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
তবে বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা, মাত্রাতিরিক্ত বা দ্রুত চালু করা প্রণোদনা বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ ও শ্রমিকসংকট তৈরি করতে পারে। এতে ব্যয় বেড়ে স্থানীয় সম্পদের ওপর চাপ পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। JLL-এ এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের উৎপাদন কৌশলবিষয়ক প্রধান মাইকেল ইগনাটিয়াডিসের মতে, বিনিয়োগের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রণোদনাযুক্ত বাজার বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। তবে বাজার পরিস্থিতি বদলালে ভবিষ্যতে প্রণোদনা কমে যাওয়া বা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিও নির্মাতাদের বিবেচনায় রাখতে হবে।
নীতিতে আরও বলা হয়েছে, থাইল্যান্ডে তৈরি
পণ্যের অন্তত ৪০ শতাংশ উপকরণ ও যন্ত্রাংশ স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করতে হবে। দেশীয় শিল্পকে সহায়তা করার পাশাপাশি নির্মাতাদের চীনা সরবরাহব্যবস্থা থেকে নির্ভরতা কমাতে এবং সম্ভাব্য শুল্ক জটিলতা এড়াতে এ শর্ত দেওয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার PPN DTP কর্মসূচির অনুরূপ শর্তের সঙ্গে স্থানীয় উপকরণের এ ন্যূনতম হার সামঞ্জস্যপূর্ণ। সেখানে ভ্যাট ছাড় সরাসরি দেশীয় যন্ত্রাংশের ব্যবহারের মাত্রার সঙ্গে যুক্ত।
অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাব
আরও ৩ লাখ বৈদ্যুতিক যান রাস্তায় নামানোর সরকারি উদ্যোগ শুধু পরিবেশগত নীতি নয়; বিশ্বজুড়ে বিদ্যুতায়নের প্রবণতার মধ্যে থাইল্যান্ডের গাড়িশিল্পে নেতৃত্ব ধরে রাখার লক্ষ্যে এটি একটি কৌশলগত অর্থনৈতিক পরিবর্তন। এশিয়ার ডেট্রয়েট
নামে পরিচিত গাড়িশিল্প রপ্তানি আয় ও উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থানে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। তাই দীর্ঘমেয়াদি শিল্প প্রতিযোগিতা সক্ষমতার জন্য বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনে রূপান্তর জরুরি।
শুধু কর প্রণোদনার ফলে ইতিমধ্যে ১৯ বিলিয়ন বাথের বেশি ব্যয়ে ১ লাখ ৩৪ হাজারেরও বেশি গাড়ি নিবন্ধিত হয়েছে। এতে সরকারের অঙ্গীকারের আর্থিক পরিসর স্পষ্ট। আগের প্রণোদনা কর্মসূচিগুলোতে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পাওয়া ব্যবহৃত গাড়ির বাজার ও বাণিজ্যিক যানবহরকে লক্ষ্য করে নতুন পদক্ষেপগুলো এই ভিত্তির ওপর আরও এগোতে চায়।
স্মার্ট গ্রিড প্রযুক্তি ও যানবাহন-থেকে-গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরীক্ষামূলক প্রকল্পও চলছে। বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকলে বৈদ্যুতিক গাড়ি থেকে গ্রিডে বিদ্যুৎ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা পরীক্ষা করছে EGAT ও Nissan। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য গ্রিডের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি শুধু যাতায়াতের বাইরেও বৈদ্যুতিক গাড়ির মালিকানার সুবিধা বাড়ানো।
মূল বিষয়গুলো
- কর ছাড় ও সম্প্রসারিত গাড়ি বদল কর্মসূচির মাধ্যমে ৩ লাখ নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি নামানোর লক্ষ্য পরিবহন মন্ত্রণালয়ের; রাজকীয় ডিক্রির মাধ্যমে জুন নাগাদ কার্যকর হতে পারে
- রূপান্তরকালীন সময়ে বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ির বার্ষিক কর ৮০ শতাংশ কমতে বা পুরোপুরি মওকুফ হতে পারে
- গাড়ি বদল কর্মসূচিতে ২৭ হাজার ডিজেল ট্যাক্সিকে বৈদ্যুতিক গাড়িতে রূপান্তরের লক্ষ্য রাখা হয়েছে; বিদ্যমান সহায়তা কর্মসূচির আওতায় পেট্রোল ট্যাক্সি পরিচালনাকারীরা গাড়িপ্রতি ৫,০৪০ বাথ পাচ্ছেন
- থাইল্যান্ডের 30@30 নীতির লক্ষ্য বহাল রয়েছে: ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে উৎপাদিত গাড়ির ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক করা এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে শতভাগ শূন্য-নির্গমন যান ব্যবহারের পথে এগোনো
- EV3.5 নীতির আওতায় ২০২৭ সাল পর্যন্ত গাড়িপ্রতি ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ বাথ ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে; যোগ্য নির্মাতাদের আমদানি শুল্ক সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ কমানোর সুযোগ রয়েছে
- দেশে উৎপাদিত বৈদ্যুতিক ট্রাক ও বাস বাণিজ্যিক যানবহরের জন্য কেনার ক্ষেত্রে BOI-এর নতুন প্রণোদনায় দ্বিগুণ করছাড় দেওয়া হচ্ছে
- শক্তিঘনত্ব ও কার্যকালের কঠোর শর্ত পূরণ করলে ব্যাটারি সেল নির্মাতারা প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির তহবিলের অনুদান পেতে পারেন
- ডিজেল জ্বালানি সহায়তার জন্য ৫৫ হাজারের বেশি পরিবহন পরিচালনাকারী ও ২ লাখ ৬ হাজার যানবাহন নিবন্ধিত হয়েছে, যা বাণিজ্যিক খাতের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়
- সমালোচকদের সতর্কতা, বিদ্যুৎ খাত সংস্কার ছাড়া দাম বিকৃত হওয়া, পরিবেশগত সুফল অস্পষ্ট থাকা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি ও ব্যাটারির জন্য পর্যাপ্ত পরিকল্পনা না থাকার ঝুঁকি রয়েছে






