বেতার যোগাযোগে শুরু হলো নতুন যুগ
চীনের পূর্বাঞ্চলীয় জিয়াংসু প্রদেশের নানজিংয়ে দেশটির প্রথম প্রি-৬জি পরীক্ষামূলক নেটওয়ার্ক আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পরবর্তী প্রজন্মের বেতার প্রযুক্তি নিয়ে তাত্ত্বিক গবেষণা থেকে বাস্তব ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাইয়ের দিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রযাত্রার ইঙ্গিত মিলেছে। ২০২৬ সালের গ্লোবাল ৬জি সম্মেলন চলাকালে ২১ এপ্রিল নেটওয়ার্কটির কার্যক্রম শুরু হয়। এটি উন্নত ৬জি উদ্ভাবনকে সরাসরি বিদ্যমান ৫জি অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করেছে, ফলে বর্তমান সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ মানদণ্ডের মধ্যে একটি কার্যকর সেতু তৈরি হয়েছে। ২০১৮ সালে জিয়াংসু প্রদেশ ও নানজিং শহরের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত গবেষণা প্ল্যাটফর্ম পার্পল মাউন্টেন ল্যাবরেটরিজ এটি তৈরি করেছে। চালু এই পরীক্ষামূলক ব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো ষষ্ঠ প্রজন্মের প্রযুক্তির ধারণাকে পঞ্চম প্রজন্মের সচল কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
সূচিপত্র
এই মাইলফলক চীনের টেলিযোগাযোগ কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করছে। আগের প্রজন্মগুলোর পরিবর্তনে যেখানে সম্পূর্ণ নতুন অবকাঠামো স্থাপন করতে হতো, সেখানে প্রি-৬জি পদ্ধতিতে বিদ্যমান নেটওয়ার্কের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখেই উন্নত সক্ষমতা পরীক্ষা করতে পারবেন প্রকৌশলীরা। ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চলা চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা পর্বের শুরুতে এই নেটওয়ার্ক চালু হলো। ওই পরিকল্পনায় কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম নেটওয়ার্কিং এবং নিজস্ব সেমিকন্ডাক্টর উন্নয়নের পাশাপাশি উন্নত টেলিযোগাযোগকে কৌশলগত অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
প্রি-৬জি ধারণাটি কী
প্রি-৬জি বলতে এমন একটি অন্তর্বর্তী স্থাপত্যকে বোঝায়, যেখানে প্রাথমিক পর্যায়ের ষষ্ঠ প্রজন্মের প্রযুক্তি বর্তমান ৫জি ব্যবস্থায় যুক্ত করা হয়। আগের প্রজন্মগুলোর মধ্যকার বৈপ্লবিক পরিবর্তনের তুলনায় এই বিবর্তনধর্মী পদ্ধতিতে নেটওয়ার্ক অপারেটররা সম্পূর্ণ অবকাঠামো প্রতিস্থাপনের বদলে বিদ্যমান ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে পারেন। অভিজ্ঞ টেলিযোগাযোগ বাজার বিশ্লেষক মা জিহুয়ার মতে, প্রি-৬জি পর্যায়টি বাস্তব পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। এখানে বাস্তব পরিস্থিতিতে ৬জির কিছু মানদণ্ড যাচাই করা যায়, পাশাপাশি তাৎক্ষণিক বাণিজ্যিক সুবিধার জন্য বর্তমান নেটওয়ার্কের কার্যক্ষমতাও বাড়ানো সম্ভব।
চীনজুড়ে ৫জি অবকাঠামোতে ইতোমধ্যে বিপুল বিনিয়োগ হয়েছে। এ কারণে এই পদ্ধতি বিশেষভাবে মূল্যবান। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় ৪৯ লাখ ৫৮ হাজার ৫জি বেস স্টেশন রয়েছে, যা বিশ্বের বৃহত্তম ৫জি নেটওয়ার্ক। এ ছাড়া দেশজুড়ে ৩৩০টি শহরে এখন ৫জি-অ্যাডভান্সড সেবা চালু রয়েছে। প্রি-৬জি কৌশল এই বিদ্যমান ভিত্তিকে কাজে লাগায়। ফলে পুরো অবকাঠামো বদলানোর ব্যয় ও বিঘ্ন এড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ ৬জি চালুর জন্য প্রযুক্তিগত পরিমণ্ডল প্রস্তুত করা যায়।
এই সমন্বয়ের ফলে একটি মিশ্র পরিবেশ তৈরি হয়, যেখানে পুরোনো ৫জি সরঞ্জাম সাধারণ ট্রাফিক সামলায়, আর নতুন প্রি-৬জি নোড বিশেষায়িত উচ্চ কার্যক্ষমতার কাজ পরিচালনা করে। এই দ্বৈত-ব্যবস্থার কার্যক্রমে নিরবচ্ছিন্ন সেবা বজায় থাকে এবং ভবিষ্যতে ৬জি মানদণ্ড নির্ধারণ করবে এমন প্রযুক্তি পরিমার্জনের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষামূলক প্ল্যাটফর্মও পাওয়া যায়। শিল্প খাতের পর্যবেক্ষকদের মতে, আনুষ্ঠানিক স্পেসিফিকেশন চূড়ান্ত হওয়ার কয়েক বছর আগেই বাস্তব পরিচালন তথ্য পাওয়া গেলে বৈশ্বিক মানদণ্ড নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় এই পদ্ধতি উল্লেখযোগ্য সুবিধা দিতে পারে।
কারিগরি বৈশিষ্ট্য ও সক্ষমতা
নানজিংয়ের পরীক্ষামূলক নেটওয়ার্কে এমন কার্যক্ষমতা পাওয়া যাচ্ছে, যা বর্তমান বাণিজ্যিক সেবার তুলনায় অনেক বেশি। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের মাধ্যমে এর সক্ষমতা বিদ্যমান ৫জি নেটওয়ার্কের চেয়ে ১০ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এই স্থাপত্যে বিপুল পরিমাণ তথ্য আদান-প্রদানের উপযোগী অতি উচ্চ ব্যান্ডউইডথ চ্যানেল, আগে পৌঁছানো কঠিন ছিল এমন এলাকায় বিস্তৃত কভারেজ এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগের জন্য সুনির্দিষ্ট সময় নিশ্চিতকারী নির্ধারিত স্বল্প-বিলম্বের সংযোগ রয়েছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো অবকাঠামো পর্যায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিজস্ব সমন্বয়। বর্তমান ব্যবস্থায় এআই সাধারণত ওপরের স্তর বা অ্যাপ্লিকেশনভিত্তিক সেবা হিসেবে কাজ করে। এর বিপরীতে প্রি-৬জি স্থাপত্যে যন্ত্রবুদ্ধিমত্তা সরাসরি নেটওয়ার্কের কাঠামোর মধ্যে যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বাইরের কম্পিউটিং সম্পদের প্রয়োজন ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পদ ব্যবস্থাপনা, আগাম রক্ষণাবেক্ষণ এবং বুদ্ধিদীপ্ত ট্রাফিক পরিচালনা সম্ভব হয়। এআই-সমন্বিত এই পদ্ধতিতে নেটওয়ার্ক পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত খাপ খাওয়াতে পারে এবং মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যান্ডউইডথ ও প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা বরাদ্দ করতে পারে।
এই ব্যবস্থায় হলোগ্রাফিক যোগাযোগ এবং এমবডিড ইন্টেলিজেন্সের প্রয়োগও সম্ভব, যেগুলোর জন্য উচ্চ তথ্য পরিবহন সক্ষমতার পাশাপাশি অতি সামান্য বিলম্ব প্রয়োজন। এসব সক্ষমতার জন্য উন্নত সিগন্যাল প্রক্রিয়াকরণ এবং আধুনিক অ্যান্টেনা প্রযুক্তি দরকার, যা ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক ৬জি মানদণ্ডের ভিত্তি হতে পারে। এসব বৈশিষ্ট্য এখনই কার্যকর করে চীনা গবেষকেরা বাস্তব প্রয়োগের নানা চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাচ্ছেন, যা পরীক্ষাগারের পরীক্ষা থেকে পাওয়া সম্ভব নয়।
বাস্তব প্রয়োগ ও পরীক্ষার ক্ষেত্র
কারিগরি বৈশিষ্ট্য প্রকৌশলীদের কাছে আকর্ষণীয় হলেও, বিভিন্ন খাতে এর বাস্তব প্রয়োগই দেখায় যে নেটওয়ার্কটি কীভাবে কাজে লাগবে। বর্তমানে চারটি প্রধান ক্ষেত্রে পরিকল্পিতভাবে এর কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে: কম উচ্চতায় পরিদর্শন, শিল্প উৎপাদন, এমবডিড ইন্টেলিজেন্স এবং হলোগ্রাফিক যোগাযোগ। প্রতিটি ক্ষেত্রেই নেটওয়ার্কের উন্নত সক্ষমতার ভিন্ন দিক পরীক্ষা করা হচ্ছে, পাশাপাশি বর্তমান পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা পর্বে বাস্তব বাণিজ্যিক চাহিদাও পূরণ করা হচ্ছে।
কম উচ্চতায় পরিদর্শনের ক্ষেত্রে মূলত নজরদারি, অবকাঠামো পর্যবেক্ষণ এবং পণ্য সরবরাহের কাজে ড্রোন বহর ব্যবহার করা হয়। ত্রিমাত্রিক পরিসরে দ্রুত চলাচলকারী যন্ত্রগুলো যাতে মান বজায় রেখে কাজ করতে পারে, সে জন্য স্থিতিশীল ও উচ্চ ব্যান্ডউইডথের সংযোগ প্রয়োজন। এখানে নির্ধারিত বিলম্বের বৈশিষ্ট্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আকাশযানের তাৎক্ষণিক নিয়ন্ত্রণের জন্য মিলিসেকেন্ডে মাপা ধারাবাহিক সাড়ার সময় দরকার। এই খাতে সফল প্রয়োগ নগর আকাশপথে যাতায়াত ও স্বয়ংক্রিয় সরবরাহব্যবস্থাসহ চীনের বিকাশমান নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতিকে এগিয়ে নেবে।
শিল্প উৎপাদনের প্রয়োগে জটিল উৎপাদন লাইনের জন্য বেতার নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে প্রচলিত কারখানার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় তারযুক্ত সংযোগের ওপর ব্যাপক নির্ভরতা রয়েছে। প্রি-৬জি নেটওয়ার্কের লক্ষ্য হলো দেখানো যে গতি ও নির্ভরযোগ্যতার দিক থেকে বেতার ব্যবস্থা তারযুক্ত সংযোগের সমকক্ষ বা তার চেয়েও উন্নত হতে পারে। এই সক্ষমতা কারখানার বিন্যাসে আরও নমনীয়তা আনবে এবং আধুনিক উৎপাদনে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা চলমান রোবট ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়াবে।
কৌশলগত প্রেক্ষাপট ও বৈশ্বিক প্রভাব
টেলিযোগাযোগের বিবর্তনে চীনের নেতৃত্ব ধরে রাখতে পরিকল্পিত জাতীয় কৌশলের অংশ হিসেবে নানজিংয়ের এই নেটওয়ার্ক চালু করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি গবেষণা শেষ হওয়ার পর ৬জি কারিগরি পরীক্ষার দ্বিতীয় ধাপের সঙ্গে এটি মিলে গেছে। ওই গবেষণায় ৩০০টিরও বেশি প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এসেছে। এই অগ্রযাত্রা তিন ধাপের রোডম্যাপ অনুসরণ করে: প্রথমে প্রধান কারিগরি দিকগুলো নির্ধারণ, এরপর নির্দিষ্ট প্রয়োগের জন্য প্রোটোটাইপ তৈরি এবং সবশেষে বাণিজ্যিক ব্যবহারের আগের পর্যায়ের সরঞ্জাম দিয়ে নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার পরীক্ষা।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নির্ধারণের সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৮ সালের শেষ ভাগের আগে আনুষ্ঠানিক ৬জি স্পেসিফিকেশন চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে ভবিষ্যৎ মানদণ্ডে প্রভাব রাখার জন্য বর্তমান প্রি-৬জি পর্যায়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক ৬জি পেটেন্ট আবেদনের প্রায় ৪০ শতাংশই বর্তমানে চীনের। তাই পরবর্তী প্রজন্মের কারিগরি মান নির্ধারণে দেশটির প্রভাবশালী ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। নানজিংয়ের নেটওয়ার্ক থেকে পাওয়া বাস্তব পরিচালন তথ্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিয়ে আলোচনায় চীনের প্রস্তাবগুলোর পক্ষে প্রমাণ জোগাবে।
নেটওয়ার্ক চালুর সঙ্গে ৪৮ কোটি ৫০ লাখ ডলারের নানজিং ৬জি ফিউচার ইন্ডাস্ট্রি ফান্ড ক্লাস্টারও গঠন করা হয়েছে। মূল প্রযুক্তির উন্নয়ন, বিভিন্ন প্রয়োগের সমন্বয় এবং দক্ষ জনবল গড়ে তোলায় এই তহবিল ব্যয় হবে। জাতীয় পরিকল্পনার নথিতে টেলিযোগাযোগকে যে কৌশলগত অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, এই অর্থায়ন তা প্রতিফলিত করে। দেশীয় সম্পদের বাইরেও হুয়াওয়ে, কোয়ালকম, চায়না মোবাইল ও এরিকসনের মতো প্রযুক্তি অংশীদার এই পরিমণ্ডলে যুক্ত রয়েছে। প্রযুক্তি খাতে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা থাকলেও উন্নয়ন প্রচেষ্টার আন্তর্জাতিক সহযোগিতার দিকটি তুলে ধরে নানজিংয়ে এরিকসনের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম।
৫জির ভিত্তি থেকে ৬জির ভবিষ্যৎ
৫জি থেকে ৬জিতে উত্তরণ মানে কেবল ধাপে ধাপে গতি বাড়ানো নয়। পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্কের মূল লক্ষ্য ছিল মোবাইল ব্রডব্যান্ড উন্নত করা এবং ইন্টারনেট অব থিংসকে সহায়তা দেওয়া। ষষ্ঠ প্রজন্মের লক্ষ্য আরও বিস্তৃত: মহাকাশ, আকাশ ও স্থলজুড়ে সমন্বিত কভারেজ, সবকিছুর বুদ্ধিদীপ্ত আন্তঃসংযোগ এবং ডিজিটাল টুইন সক্ষমতা। সেবার আওতা মানুষ, যন্ত্র ও পণ্যের বাইরেও প্রসারিত হয়ে বিভিন্ন পরিবেশে কাজ করা বুদ্ধিদীপ্ত এজেন্ট ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করবে।
শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি উপমন্ত্রী ঝাং ইউনমিং এই প্রস্তুতির ব্যাপকতা তুলে ধরেছেন। মন্ত্রণালয় মূল প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা জোরদার করার পাশাপাশি সমন্বিতভাবে কারিগরি উন্নয়ন, মানদণ্ড প্রণয়ন এবং প্রয়োগের বিস্তার এগিয়ে নিচ্ছে। এই সমন্বিত উদ্যোগের লক্ষ্য মানদণ্ড নির্ধারণ ও শিল্পায়নের জন্য দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তোলা, যাতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড চূড়ান্ত হলে চীনের শিল্প খাত পরিণত বাণিজ্যিক সমাধান নিয়ে প্রস্তুত থাকে।
বর্তমান পরীক্ষার পর্যায়ে তাৎক্ষণিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতির প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা পর্বে নতুন উপকরণ, নতুন জ্বালানি, মহাকাশ ও নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতির মতো খাত উন্নত যোগাযোগ সক্ষমতার চাহিদা বাড়াবে। প্রি-৬জি নেটওয়ার্ক আজকের এই উদীয়মান চাহিদা পূরণ করছে এবং আগামী দিনের অবকাঠামো নকশায় কাজে লাগবে এমন পরিচালন অভিজ্ঞতাও তৈরি করছে।
মূল বিষয়গুলো
- চীনের প্রথম প্রি-৬জি পরীক্ষামূলক নেটওয়ার্ক ২১ এপ্রিল জিয়াংসু প্রদেশের নানজিংয়ে চালু হয়েছে; এতে বিদ্যমান ৫জি অবকাঠামোর সঙ্গে ৬জি প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে
- নেটওয়ার্কটির সক্ষমতা বর্তমান ৫জি ব্যবস্থার চেয়ে ১০ গুণ পর্যন্ত বেশি; এতে এআইয়ের নিজস্ব সমন্বয়, অতি উচ্চ ব্যান্ডউইডথ এবং নির্ধারিত স্বল্প-বিলম্বের সংযোগ রয়েছে
- বর্তমান প্রয়োগের মধ্যে রয়েছে কম উচ্চতায় ড্রোন দিয়ে পরিদর্শন, শিল্প উৎপাদনের নিয়ন্ত্রণ, রোবটের জন্য এমবডিড ইন্টেলিজেন্স এবং হলোগ্রাফিক যোগাযোগ
- এই চালুর মধ্য দিয়ে পরীক্ষাগারের পরীক্ষা থেকে পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা যাচাইয়ের পর্যায়ে উত্তরণ ঘটেছে; এতে ২০২৬-২০৩০ সালের জন্য চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অগ্রাধিকারগুলো এগিয়ে যাবে
- চীনে প্রায় ৪৯ লাখ ৫৮ হাজার ৫জি বেস স্টেশন রয়েছে এবং বৈশ্বিক ৬জি পেটেন্ট আবেদনের প্রায় ৪০ শতাংশ দেশটির
- আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক ৬জি মানদণ্ড ২০২৮ সালের শেষ ভাগে চূড়ান্ত হওয়ার কথা; বর্তমান পরীক্ষাগুলোর লক্ষ্য কারিগরি স্পেসিফিকেশন ও মানদণ্ড নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় প্রভাব রাখা






