সিঙ্গাপুরের ডিজিটাল খুচরা বাজার নতুন উচ্চতায়
ডিজিটাল কেনাকাটার মাধ্যমের প্রতি ভোক্তাদের আগ্রহ অব্যাহত থাকায় ২০২৫ সালে সিঙ্গাপুরের ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম বাজার ২১ শতাংশ বেড়ে মোট ৫.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে (৭.৫ বিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার) পৌঁছেছে। এই জোরালো প্রবৃদ্ধিতে নগররাষ্ট্রটি বৃহত্তর দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় ডিজিটাল অর্থনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মোমেন্টাম ওয়ার্কসের তথ্য অনুযায়ী, এ অঞ্চলে প্ল্যাটফর্মগুলোর মোট পণ্যদ্রব্যের মূল্য (জিএমভি) আগের বছরের তুলনায় ২২.৮ শতাংশ বেড়ে ১৫৭.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সূচিপত্র
পরিসংখ্যানে দ্রুত পরিণত হতে থাকা একটি বাজারের চিত্র উঠে এসেছে। জনসংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও আঞ্চলিক মোট বাজারে সিঙ্গাপুরের অবদান উল্লেখযোগ্য। কোম্পানির ওয়েবসাইট, বহুব্র্যান্ডের খুচরা বিক্রেতা এবং সামাজিক বাণিজ্যের মতো প্ল্যাটফর্মবহির্ভূত মাধ্যম যোগ করলে ২০২৫ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মোট ই-কমার্স জিএমভি ১৮৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছায়।
বাজার দখলের লড়াই
সিঙ্গাপুরের ডিজিটাল বাজারে শোপির আধিপত্য অব্যাহত রয়েছে। প্ল্যাটফর্মটির দখলে ই-কমার্স বাজারের ৫২ শতাংশ। ৩৬ শতাংশ বাজার নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে লাজাদা। অ্যামাজন ও টিকটক শপের দখলে রয়েছে ৬ শতাংশ করে। এই তিন স্তরের কাঠামো বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারের প্রবণতারই প্রতিফলন, যেখানে শোপি, লাজাদা ও টিকটক শপ (টোকোপিডিয়াসহ) সম্মিলিতভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্ল্যাটফর্ম ই-কমার্স বাজারের ৯৮.৮ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে।
মূল প্রতিষ্ঠান সি লিমিটেড শোপিকে ভর্তুকিনির্ভর স্টার্টআপ থেকে মুনাফা অর্জনকারী শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করেছে। প্ল্যাটফর্মটি আগ্রাসী মূল্যযুদ্ধ থেকে সরে এসে প্রতিটি লেনদেনের অর্থনৈতিক হিসাব এবং সুশৃঙ্খল বাস্তবায়নে মনোযোগ দিয়েছে। শুধু ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকেই শোপির জিএমভি ছিল ৩২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮.৪ শতাংশ বেশি। সি লিমিটেডের এখন ধারণা, ২০২৫ সালের পুরো বছরের জিএমভি প্রবৃদ্ধি ২৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে।
সি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরেস্ট লি কোম্পানির সর্বশেষ আয়বিষয়ক কনফারেন্স কলে কৌশলগত এই পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, কোম্পানি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে মুনাফা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রবৃদ্ধির সুযোগও কাজে লাগানো সম্ভব।
আঞ্চলিক প্রবণতা ও প্রবৃদ্ধির ধরন
সিঙ্গাপুরে উল্লেখযোগ্য দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি হলেও অঞ্চলটির সবচেয়ে দ্রুত সম্প্রসারণশীল বাজার ছিল না দেশটি। জিএমভি যথাক্রমে ৫১.৮ ও ৪৭.৬ শতাংশ বেড়ে প্রবৃদ্ধিতে নেতৃত্ব দিয়েছে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া। থাইল্যান্ডের বাজার আগের বছরের ২৩.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৩৫.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে মালয়েশিয়ার বাজার ১১.৫ বিলিয়ন থেকে বেড়ে হয়েছে ১৭ বিলিয়ন ডলার।
ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনেও প্রবৃদ্ধির হার ২০ শতাংশ ছাড়িয়েছে, যা সিঙ্গাপুরের প্রবণতার সঙ্গে মেলে। আঞ্চলিক জিএমভির ৩৭ শতাংশ নিয়ে ইন্দোনেশিয়া অঞ্চলটির বৃহত্তম বাজার হিসেবে রয়েছে; দেশটির জিএমভি ৫৭.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে প্রবৃদ্ধি নাটকীয়ভাবে কমে মাত্র ২.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ভৌত পণ্যের ব্যবসা থেকে বুকালাপাকের সরে আসা এবং টিকটক শপ অধিগ্রহণের পর টোকোপিডিয়ার কার্যক্রম পুনর্বিন্যাসের পর এই মন্থরতা দেখা দেয়।
বাজার একীভূত হওয়ায় ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সুযোগ কমে এসেছে। একক দেশের প্ল্যাটফর্ম ও স্টার্টআপগুলো ক্রমেই মার্কেটপ্লেস মডেল ছেড়ে খুচরা বিক্রেতা বা সেবাদাতা হিসেবে কাজ করছে। প্রভাবশালী তিন প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও মূলধনী সুবিধার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে না পেরে তারা এই পথ বেছে নিচ্ছে।
টিকটক শপের চ্যালেঞ্জ
বিশেষ করে সিঙ্গাপুরের বাইরের বাজারগুলোতে শোপির আধিপত্যের সবচেয়ে গতিশীল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে টিকটক শপ। প্ল্যাটফর্মটির আঞ্চলিক জিএমভি ২০২৪ সালের ২২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ২০২৫ সালে ৪৫.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। টোকোপিডিয়াকে যুক্ত করলে শোপির জিএমভির তুলনায় টিকটক শপের অংশ দাঁড়ায় ৬৫.৭ শতাংশ। এতে বোঝা যায়, প্রতিযোগিতার ব্যবধান দ্রুত কমছে।
ভাইরাল ভিডিও কনটেন্টের সঙ্গে তাৎক্ষণিক কেনাকাটার সুবিধা মিলিয়ে তৈরি করা তাদের “শপটারটেইনমেন্ট” মডেলই প্ল্যাটফর্মটির সাফল্যের মূল কারণ। ভিয়েতনামে টিকটক শপের বাজার দখল এখন ৪০ শতাংশের বেশি, যা ২০২৩ সালে ছিল ২৪ শতাংশ। ফলে শোপির সঙ্গে প্রায় দ্বৈত আধিপত্য তৈরি হয়েছে; চাপে পড়ে লাজাদা ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠান টিকির সম্মিলিত বাজার অংশ নেমে এসেছে ৩ শতাংশে।
দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর ব্যবধান কমছে, বিশেষ করে ভিয়েতনামে, যেখানে টিকটক শপের বাজার দখল এখন ৪০ শতাংশের বেশি।
তবে টিকটক শপে প্রতিটি পার্সেলের গড় মূল্য শোপির চেয়ে কম। এতে পণ্যের ঝুড়ির আকার ও পণ্যের মিশ্রণে পার্থক্যের ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যা মুনাফার ওপর প্রভাব ফেলে। লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক কেনাকাটায় টিকটক এগিয়ে থাকলেও ভোক্তা ইলেকট্রনিকস ও গৃহস্থালি যন্ত্রপাতির মতো উচ্চমূল্যের পণ্যে শোপির সুবিধা রয়েছে, যেখানে নির্ভরযোগ্যতা ও ওয়ারেন্টি-সুবিধা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
কনটেন্ট বাণিজ্য ও এআইয়ের সংযুক্তি
ভিডিওনির্ভর কেনাকাটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ই-কমার্স কৌশলের কেন্দ্রে চলে এসেছে। লাইভ স্ট্রিমিং, ভিডিও ক্লিপ ও অ্যাফিলিয়েট লিংকসহ কনটেন্ট বাণিজ্য থেকে এখন আনুমানিক ৪৯.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের জিএমভি আসে, যা প্ল্যাটফর্মগুলোর মোট লেনদেনের ৩২ শতাংশ। এই পরিবর্তনে প্রচলিত মার্কেটপ্লেসগুলোকে তাদের কৌশল বদলাতে হয়েছে।
শোপি শোপি লাইভের পরিসর বাড়িয়ে, বিক্রেতাদের প্রণোদনা বৃদ্ধি করে এবং বাইরের কনটেন্ট প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে অংশীদারত্ব করে সাড়া দিয়েছে। প্ল্যাটফর্মটি শোপিভিআইপি নামে স্তরভিত্তিক আনুগত্য কর্মসূচিও চালু করেছে, যার সদস্যসংখ্যা ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ৭০ লাখ ছাড়িয়েছে। সদস্যরা দৈনিক ভাউচার, অগ্রাধিকারভিত্তিক গ্রাহকসেবা ও বাড়তি ক্যাশব্যাক পান। এতে এমন একটি বাজারে অন্য প্ল্যাটফর্মে যাওয়ার খরচ বাড়ে, যেখানে সাধারণত সহজেই দামের তুলনা করা যায়।
পরবর্তী অগ্রগতি আসতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে। শিল্পটি এমন এক পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে প্রতিযোগিতা দ্রুত সম্প্রসারণ থেকে সরে গিয়ে চাহিদা সৃষ্টি, সরবরাহব্যবস্থা ও মুনাফার ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দিকে যাচ্ছে। এআই সরঞ্জাম কনটেন্ট তৈরি ও চাহিদা সৃষ্টিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্ল্যাটফর্মগুলো দ্রুত ভিডিও কনটেন্ট তৈরি ও সুপারিশ আরও কার্যকর করতে অ্যালগরিদম ব্যবহার করছে।
এআই সক্ষমতা বাড়াতে গুগলের সঙ্গে অংশীদারত্ব করেছে শোপি, আর লাজাদা ব্যবহার করছে মূল প্রতিষ্ঠান আলিবাবার নিজস্ব প্রযুক্তি। মোমেন্টাম ওয়ার্কসের প্রতিষ্ঠাতা লি জিয়াংগান মনে করেন, প্ল্যাটফর্মগুলো তাদের কার্যক্রমে এআই কতটা অগ্রাধিকার দেয়, তার ওপরই সাফল্য নির্ভর করবে।
সিঙ্গাপুরের ক্রেতারা কী কেনেন
সিঙ্গাপুরের ভোক্তাদের আচরণে দেশটির উচ্চ ক্রয়ক্ষমতা ও উন্নত ডিজিটাল অবকাঠামোর প্রতিফলন দেখা যায়। ২০২৪ সালে ব্যবহারকারীপ্রতি গড় আয় ১,৪০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মাথাপিছু অনলাইন ব্যয়ে সিঙ্গাপুর শীর্ষে। মোবাইল বাণিজ্যই প্রধান, মোট কেনাকাটার ৬৩ শতাংশের বেশি স্মার্টফোনে সম্পন্ন হয়।
প্ল্যাটফর্মভেদে পণ্যের পছন্দও আলাদা। শোপিতে জিএমভির হিসাবে ঘর ও জীবনধারাসংক্রান্ত পণ্য সবচেয়ে বড় বিভাগ, এরপর রয়েছে স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যপণ্য। টিকটক শপে চিত্রটি উল্টো: স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যপণ্য শীর্ষে। দৃশ্যত আকর্ষণীয় পণ্য এবং তাৎক্ষণিক কেনাকাটায় প্ল্যাটফর্মটির শক্তিই এ পার্থক্যের কারণ।
অনলাইন বিক্রির ৪৭ শতাংশই ভোক্তা ইলেকট্রনিকস ও টেলিযোগাযোগ সরঞ্জামের, আর আসবাব ও গৃহস্থালি যন্ত্রপাতির হিস্যা ৩০ শতাংশ। সিঙ্গাপুরে অনলাইনে প্রতিটি অর্ডারের গড় মূল্য প্রায় ১৩৭ মার্কিন ডলার। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের প্রায় ৬০ শতাংশ সপ্তাহে অন্তত একবার অনলাইনে কেনাকাটা করেন।
বিনামূল্যে পণ্য সরবরাহ কেনাকাটায় সবচেয়ে বড় প্রভাবক; ৫৭ শতাংশ ভোক্তা এ বিষয়টির কথা বলেছেন। পরদিন পণ্য পৌঁছে দেওয়া এখন আর বাড়তি সুবিধা নয়, বরং ক্রমেই সাধারণ প্রত্যাশায় পরিণত হচ্ছে। এতে সরবরাহ অবকাঠামোয় বড় বিনিয়োগের চাপ বাড়ছে।
মুনাফা ও আর্থিক স্বাস্থ্য
শিল্পটির পরিবর্তন শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ফলাফলেও স্পষ্ট। ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে সি লিমিটেডের নিট মুনাফা হয়েছে ৪১০.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭২.৯ শতাংশ বেশি। আগের বছর ৪৪৭.৮ মিলিয়ন ডলার থাকলেও পুরো বছরের নিট মুনাফা বেড়ে ১.৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
শোপির সমন্বিত সুদ, কর, অবচয় ও পরিশোধন-পূর্ব আয় (ইবিআইটিডিএ) ইতিবাচক হয়েছে এবং ক্রমাগত উন্নতি করছে। আগের বছরগুলোর নগদ অর্থ পুড়িয়ে দ্রুত সম্প্রসারণের পর্যায় থেকে এটি নাটকীয় পরিবর্তন। লেনদেনভিত্তিক ফি ও বিজ্ঞাপন থেকে আসা প্ল্যাটফর্মটির মূল মার্কেটপ্লেস আয় তৃতীয় প্রান্তিকে আগের বছরের তুলনায় ৫২.৮ শতাংশ বেড়ে ৩.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।
এদিকে প্রধান নির্বাহী জেমস ডংয়ের নেতৃত্বে ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো পুরো বছর মুনাফা করেছে লাজাদা। তিনি ব্র্যান্ডটিকে উচ্চমানের পণ্যের সমাহার ও প্রিমিয়াম বিক্রেতাদের দিকে মনোযোগ দিতে নতুনভাবে সাজিয়েছেন। সাশ্রয়ী পণ্যের বাজারে শোপির সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা থেকে সরে আসার এই কৌশল লাজাদাকে উচ্চমূল্যের পণ্যে টেকসই অবস্থান তৈরি করতে সাহায্য করেছে।
ইতিবাচক প্রবণতা সত্ত্বেও পুরো শিল্পে দাম এখনো কৃত্রিমভাবে কম। প্ল্যাটফর্ম, বিক্রেতা ও ব্র্যান্ডের অর্থায়নে দেওয়া ভর্তুকি, ভাউচার ও ছাড়ের ওপরই এ অঞ্চলের ই-কমার্সের সাশ্রয়ী মূল্য অনেকাংশে নির্ভরশীল; কাঠামোগতভাবে কম খরচের ওপর নয়। এ থেকে বোঝা যায়, প্রকৃত সর্বনিম্ন মূল্য এখনো নির্ধারিত হয়নি। ভবিষ্যতে মুনাফা বাড়াতে আরও দক্ষতা অর্জন বা দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে।
সীমান্তপারের বাণিজ্য ও নিয়ন্ত্রক পরিবেশ
৬০০টিরও বেশি বন্দরের সঙ্গে সংযোগ থাকায় সরবরাহব্যবস্থার কেন্দ্র হিসেবে সিঙ্গাপুরের কৌশলগত অবস্থান আঞ্চলিক ই-কমার্স কার্যক্রমের জন্য দেশটিকে আদর্শ ঘাঁটি করে তুলেছে। সীমান্তপারের প্ল্যাটফর্মগুলো কেনাকাটার বাধা কমিয়ে এবং বিদেশি সরবরাহব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার বাড়িয়ে নিজেদের উপস্থিতি জোরদার করছে।
ভোক্তাদের সুরক্ষা বজায় রেখে প্রবৃদ্ধিতে সহায়তার জন্য নিয়ন্ত্রক কাঠামোও বিকশিত হয়েছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে কমমূল্যের আমদানিপণ্যে পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) চালু করে সিঙ্গাপুর বিদেশি অনলাইন বিক্রেতা ও স্থানীয় ব্যবসার মধ্যে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র সমান করেছে। ২০২৪ সালের মধ্যে জিএসটির হার ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ শতাংশ হয়েছে, যা ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অর্থনীতিতে সরকারি অর্থায়ন জোরদারে দেশটির প্রচেষ্টার প্রতিফলন।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (এসএমই) ই-কমার্স গ্রহণে সরকারি উদ্যোগগুলো সহায়তা দিয়ে চলেছে। এসএমইজ গো ডিজিটাল কর্মসূচিতে ধাপে ধাপে ডিজিটাল পরিকল্পনা ও আগাম অনুমোদিত ই-কমার্স সমাধানের জন্য অনুদান দেওয়া হয়। প্রোডাক্টিভিটি সলিউশনস গ্র্যান্টের আওতায় সফটওয়্যার ও ডিজিটাল বিপণন সরঞ্জাম গ্রহণে যৌথ অর্থায়ন করা হয়। এসব কর্মসূচির সহায়তায় কয়েক হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসা অনলাইনে উপস্থিতি গড়ে তুলেছে।
গ্র্যাবও গ্র্যাবমার্টের মাধ্যমে ই-কমার্সে প্রবেশ করেছে। মুদি পণ্যের বাইরে সৌন্দর্যপণ্য, ওষুধ ও মদ পর্যন্ত এর পরিসর বিস্তৃত হয়েছে। প্রচলিত গুদামভিত্তিক ই-কমার্সের বদলে গ্র্যাব শেষ ধাপের পণ্য সরবরাহে নিজস্ব চালক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। আগে অফলাইনে কেনা হতো, এমন ঘনঘন প্রয়োজনীয় পণ্যের কেনাকাটাই এর লক্ষ্য।
মূল কথা
- ২০২৫ সালে সিঙ্গাপুরের ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম বাজার ২১ শতাংশ বেড়ে ৫.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। অনেক উন্নত বাজারের চেয়ে প্রবৃদ্ধি বেশি হলেও থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার দ্রুত প্রবৃদ্ধির চেয়ে কম।
- সিঙ্গাপুরে ৫২ শতাংশ বাজার নিয়ে শোপি শীর্ষে রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে এর জিএমভি ৮৩.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে আঞ্চলিক জিএমভি ৪৫.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে দ্রুত ব্যবধান কমাচ্ছে টিকটক শপ।
- শিল্পটি ভর্তুকিনির্ভর সম্প্রসারণ থেকে মুনাফায় মনোযোগী হয়েছে। শোপি ও লাজাদা উভয়ের ইবিআইটিডিএ ইতিবাচক হয়েছে এবং সি লিমিটেডের বার্ষিক নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।
- লাইভ স্ট্রিমিং ও ভিডিও কেনাকাটার প্রসারে কনটেন্ট বাণিজ্য এখন প্ল্যাটফর্ম জিএমভির ৩২ শতাংশ। সামাজিক যোগাযোগের বৈশিষ্ট্য যুক্ত করতে বাধ্য হচ্ছে প্রচলিত মার্কেটপ্লেসগুলো।
- চাহিদা সৃষ্টি ও সরবরাহব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বড় পরিবর্তন আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উন্নত সরঞ্জাম কাজে লাগাতে প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব করছে প্ল্যাটফর্মগুলো।
- সিঙ্গাপুরে মাথাপিছু উচ্চ ব্যয় (ব্যবহারকারীপ্রতি গড় আয় ১,৪০০ মার্কিন ডলারের বেশি) এবং মোবাইলনির্ভর কেনাকাটা (লেনদেনের ৬৩ শতাংশ) দেশটিকে আঞ্চলিক সম্প্রসারণের আগে প্রিমিয়াম কৌশল পরীক্ষার আকর্ষণীয় বাজার করে তুলেছে।
- বাজারটি তিন প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে একীভূত হয়েছে; প্ল্যাটফর্মভিত্তিক বাণিজ্যের ৯৮.৮ শতাংশ তাদের দখলে। উল্লেখযোগ্য মূলধন বা প্রযুক্তিগত সুবিধা ছাড়া নতুন প্রতিষ্ঠানের প্রবেশের সুযোগ সীমিত।






