দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রমণ
কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হাম প্রাদুর্ভাবের মুখে পড়েছে জাপান। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ২৩৬ জনের আক্রান্ত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে। ১৪ এপ্রিল জাপান ইনস্টিটিউট ফর হেলথ সিকিউরিটি এ সংখ্যা প্রকাশ করে। ২০২৫ সালের একই সময়ে শনাক্ত ৬৬টি ঘটনার তুলনায় এটি ৩.৬ গুণ বেশি। সংক্রমণের দ্রুত বৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন কর্মকর্তারা জানান, ৮ মার্চের মধ্যে প্রথম ১০০টি ঘটনা শনাক্ত হয়েছিল; পরের ১০০টি শনাক্ত হতে সময় লাগে মাত্র চার সপ্তাহ। শুধু ৩০ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিলের মধ্যে চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ৩৪টি নতুন সংক্রমণ নিশ্চিত করেছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সংক্রমণ আরও জোরালো হচ্ছে।
সূচিপত্র
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০১৫ সালে জাপানকে হামমুক্ত ঘোষণা করে। এ মর্যাদার অর্থ, অন্তত টানা ১২ মাস দেশটিতে স্থানীয়ভাবে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ায়নি। তবে এই অর্জনের পরও বিদেশি দর্শনার্থী ও বিদেশফেরত যাত্রীদের মাধ্যমে আসা সংক্রমণে বারবার স্থানীয় প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বর্তমান প্রবণতা থেকে মনে হচ্ছে, ২০২০ সালের পর দেশটিতে ভাইরাসটি এখন সবচেয়ে দ্রুত ছড়াচ্ছে। কিছু পরিসংখ্যানে ২০০৮ সালের পর সবচেয়ে গুরুতর প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে; সে বছর বর্তমান গণনাপদ্ধতিতে ১,১০০টির বেশি সংক্রমণ নথিভুক্ত হয়েছিল।
সংক্রমণের ভৌগোলিক বিস্তার ও আক্রান্তদের বয়স
প্রাদুর্ভাব শুধু রাজধানীতে সীমাবদ্ধ নয়। টোকিওতে সর্বোচ্চ ৭২টি সংক্রমণ শনাক্ত হলেও দূরবর্তী কয়েকটি প্রিফেকচারেও বড় সংক্রমণগুচ্ছ দেখা গেছে; এর মধ্যে কাগোশিমায় ২৭টি এবং আইচিতে ২৩টি ঘটনা রয়েছে। ভৌগোলিকভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় তা নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা জটিল হয়ে উঠছে। পাশাপাশি, এতে একাধিক পৃথক সংক্রমণ-সূচনা অথবা আক্রান্ত ব্যক্তিদের ব্যাপক অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
রোগীদের বয়সের ধরনটি আরও উদ্বেগজনক। শিশুদের মধ্যে দেখা যাওয়া প্রচলিত রোগের চিত্রের বিপরীতে, বর্তমান সংক্রমণ বৃদ্ধিতে মূলত তরুণ প্রাপ্তবয়স্করা আক্রান্ত হচ্ছেন। ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সীরা মোট সংক্রমণের ২৮ শতাংশ, আর ১৫ থেকে ১৯ এবং ৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সীরা প্রত্যেকে ২২ শতাংশ। এ বণ্টন থেকে বোঝা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক মিলনস্থলে ভাইরাসটি ছড়াচ্ছে। জনবহুল শহুরে পরিবেশে এর ফলে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।
বিদেশ থেকে আসা সংক্রমণ ও স্থানীয় বিস্তার
কর্মকর্তাদের মতে, কোভিড-১৯ মহামারির বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণে আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় আবার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। প্রায় ১৪ শতাংশ রোগী, অর্থাৎ ২৮ জন, বিদেশে সংক্রমিত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিদেশ থেকে আসা সংক্রমণের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে ১২টি ঘটনা শনাক্ত হয়েছে, যা সর্বোচ্চ; এরপর রয়েছে নিউজিল্যান্ড। বাকি ৮৬ শতাংশ সংক্রমণ দেশে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে ছড়িয়েছে। অর্থাৎ, প্রথম বিদেশফেরত আক্রান্তরা দেশে আসার পর ভাইরাসটি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে দক্ষতার সঙ্গে ছড়াচ্ছে।
সাপ্পোরোর একটি ঘটনা থেকে বোঝা যায়, সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা লোকজনকে শনাক্ত করতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। ফেব্রুয়ারিতে ৩০-এর কোঠার এক ব্যক্তির ২৪ জানুয়ারি উপসর্গ দেখা দেয়। এরপর ২৬ জানুয়ারি তিনি হানেদা বিমানবন্দর থেকে বিমানে নিউ চিতোসে বিমানবন্দরে যান। ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সাপ্পোরোর একটি হোটেলে অবস্থানকালে তিনি একাধিক রেস্তোরাঁয় যান; পরে টোকিওতে ফিরে আসেন। কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি কতজনের সংস্পর্শে এসেছেন তা নির্দিষ্ট করে বলা যায়নি। এ ঘটনা দেখায়, একজন বিদেশফেরত আক্রান্ত ব্যক্তি পরিবহনব্যবস্থা ও আতিথেয়তা খাতের নানা স্থানে অনেকের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন।
হামের বিপদ সম্পর্কে জানা জরুরি
হাম পরিচিত সংক্রামক রোগগুলোর মধ্যে অন্যতম সংক্রামক। ভাইরাসের সংস্পর্শে আসা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাহীন ব্যক্তিদের মধ্যে সংক্রমণের হার আনুমানিক ৯০ শতাংশ। অনেক শ্বাসতন্ত্রের রোগের মতো নয়, হামের ভাইরাস বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্র কণার মাধ্যমে ছড়ায়, যা কয়েক ঘণ্টা বাতাসে থাকতে পারে; সরাসরি সংস্পর্শেও এটি ছড়ায়। রোগের সুপ্তিকাল গড়ে ১০ দিন। বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার প্রায় চার দিন আগেই আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের সংক্রমিত করতে পারেন। এ সময় উপসর্গগুলো অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ সর্দি-কাশির মতো মনে হয়।
সাধারণত জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশি ও চোখ লাল হওয়ার মধ্য দিয়ে রোগের লক্ষণ শুরু হয়; এরপর শরীরে ছড়িয়ে পড়ে ফুসকুড়ি। অধিকাংশ রোগী দুই সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হলেও উদ্বেগজনক হারে জটিলতা দেখা দেয়। প্রতি ১,০০০ রোগীর মধ্যে প্রায় একজনের মস্তিষ্কে প্রদাহ বা এনসেফালাইটিস হয়, যা স্থায়ী স্নায়বিক ক্ষতি বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে। নিউমোনিয়া ও মধ্যকর্ণের সংক্রমণ আরও সাধারণ জটিলতা। বিরল ক্ষেত্রে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীদের কয়েক বছর পর সাবঅ্যাকিউট স্ক্লেরোজিং প্যানএনসেফালাইটিস বা এসএসপিই দেখা দিতে পারে। এটি মস্তিষ্কের একটি প্রাণঘাতী অবক্ষয়জনিত রোগ। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হাম চিকিৎসার জন্য কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই; রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় চিকিৎসা কেবল সহায়তামূলক সেবায় সীমিত থাকে।
রোগটিকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না, কারণ অর্থনৈতিকভাবে উন্নত দেশেও প্রতি ১,০০০ রোগীর মধ্যে একজন মারা যান। অতিরিক্ত ভীত হওয়ার দরকার নেই, তবে মনে রাখতে হবে যে যেকোনো সময় যে কেউ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।
জাতীয় সংক্রামক রোগ গবেষণা ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক ইউসুকে কোবায়াশি এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামোর মান যেমনই হোক, হাম সবার জন্যই হুমকি হয়ে রয়েছে।
টিকাদানের ঘাটতি ও সুরক্ষার উপায়
জাপানের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে হাম-রুবেলার যৌথ টিকা দুই ডোজে দেওয়া হয়। গোষ্ঠীগত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় ৯৫ শতাংশ টিকাদান কভারেজ নিশ্চিত করতে এই দুই ডোজ দেওয়া হয়। প্রথম ডোজ দেওয়া হয় এক বছর বয়সে; দ্বিতীয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির আগের বছরে। দুই ডোজই বিনা মূল্যে দেওয়া হয়। এই সময়সূচি বর্তমান শিশুদের সুরক্ষা দিলেও বয়স্ক প্রজন্মের মধ্যে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি প্রকাশ পেয়েছে।
১৯৭২ সালের ১ অক্টোবর থেকে ১৯৯০ সালের ১ এপ্রিলের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রাপ্তবয়স্করা বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাঁদের শৈশবে জাপানের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে মাত্র এক ডোজ টিকা দেওয়া হতো; বর্তমানে ছড়ানো ভাইরাসের বিরুদ্ধে তা যথেষ্ট সুরক্ষা নাও দিতে পারে। ১৯৭২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বা তার আগে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিরা নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি শুরুর আগের প্রজন্মের, তাই তাঁদের টিকা বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার কোনো নথি নাও থাকতে পারে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এ বয়সসীমার মানুষদের মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যবিষয়ক হ্যান্ডবুক বা চিকিৎসার নথি দেখে টিকাদানের অবস্থা যাচাই করতে বলছে। নথি না থাকলে বা তাতে অসম্পূর্ণ টিকাদানের তথ্য থাকলে বাদ পড়া ডোজ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করতে বলছে।
আন্তর্জাতিক ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন—বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বা ইউরোপের মতো সক্রিয় প্রাদুর্ভাব রয়েছে এমন অঞ্চলে—এমন ব্যক্তিদের যাত্রার অন্তত দুই সপ্তাহ আগে টিকা নিয়ে পরামর্শ করার সুপারিশ করেছেন কর্মকর্তারা। টিকা থেকে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে ন্যূনতম এ সময় লাগে। স্বাস্থ্যকর্মী, নিয়মিত শিশুর সংস্পর্শে আসেন এমন ব্যক্তি এবং জনাকীর্ণ পরিবেশে কাজ করেন—এমন ব্যক্তিদের দুই ডোজ নেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
বিশ্বজুড়ে সংক্রমণের প্রত্যাবর্তন
জাপানের পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী সংকটেরই প্রতিফলন। ইউরোপে যুক্তরাজ্য, স্পেন ও অস্ট্রিয়াসহ ছয়টি দেশ টানা সংক্রমণের পর ২০২৪ সালে হাম নির্মূলের মর্যাদা হারায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নে ২০২৪ সালে ৩৫,২১২টি সংক্রমণ নথিভুক্ত হয়, যা আগের বছরের তুলনায় ১০ গুণ বেশি। এক বছরের কম বয়সী শিশুরা ছিল সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঝুঁকিতে। শুধু রোমানিয়াতেই ৩০,০০০-এর বেশি ঘটনা নথিভুক্ত হয়।
আমেরিকা মহাদেশেও একইভাবে সংক্রমণ বিস্ফোরক হারে বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় ২০২৬ সালের শুরুর দিকে সংক্রমণ ৪০ গুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছে প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশন। মেক্সিকোতে ২,৭০০-এর বেশি ঘটনা নিশ্চিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে সংক্রমিত হয়েছেন ১,৭১৪ জন, যা কয়েক দশকের মধ্যে দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব। ২০২৫ সালে সংক্রমণ বেড়ে ৫,০০০ ছাড়ানো এবং একাধিক শিশুর মৃত্যুর পর কানাডা হাম নির্মূলের মর্যাদা হারায়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কোভিড-১৯ মহামারির সময় টিকাদানের হার কমে যাওয়া, পরে টিকাদান কর্মসূচিতে পিছিয়ে পড়া এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণ পুনরায় চালু হওয়ায় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি প্রকাশ পাওয়া—এই বৈশ্বিক প্রবণতার কারণ।
কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ ও জনসাধারণের জন্য পরামর্শ
জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিদেশ থেকে ফেরা ব্যক্তিদের উপসর্গের দিকে নজর রাখতে পরামর্শ দিয়েছে। সক্রিয় সংক্রমণ রয়েছে এমন অঞ্চলে ভ্রমণের আগে টিকাদানের নথি যাচাই করার আহ্বানও জানিয়েছে। বাড়তি রোগীর চাপ এবং অ্যান্টিবডি পরীক্ষার চাহিদাসহ স্বাস্থ্যসেবাব্যবস্থায় সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় পৌর সরকারগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে।
চিকিৎসাকেন্দ্রে সংক্রমণ ছড়ানো ঠেকাতে সন্দেহভাজন রোগীদের জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জ্বর ও ফুসকুড়ি দেখা দিলে সরাসরি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে যেতে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ অপেক্ষাকক্ষে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের সংক্রমিত করার আশঙ্কা রয়েছে। এর বদলে, প্রয়োজনীয় বিচ্ছিন্নতাব্যবস্থার ব্যবস্থা করতে আগে থেকে ক্লিনিক বা জ্বরের রোগীদের বহির্বিভাগে ফোন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হামের প্রাথমিক উপসর্গ সাধারণ সর্দি-কাশির মতো হওয়ায় রোগনির্ণয়ের আগেই অজান্তে অন্যদের সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তাই এ পদ্ধতি বিশেষভাবে জরুরি।
প্রাদুর্ভাবে অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়ছে। ভ্রমণ খাতের বিশ্লেষকেরা পরিবার ও শিক্ষাসফরের ক্ষেত্রে বুকিং বাতিলের হার বাড়ার কথা জানিয়েছেন। শিল্প খাতের পর্যবেক্ষকদের ধারণা, স্বল্প মেয়াদে শহরভিত্তিক পর্যটনে মন্দাভাব দেখা দিতে পারে; পর্যটকেরা কম সংক্রমণঝুঁকির গ্রামীণ গন্তব্য ও খোলা জায়গার আকর্ষণগুলোর দিকে যেতে পারেন। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীরা টিকা নেওয়ার অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা যাচাইয়ের পরীক্ষার চাহিদা দ্রুত বাড়ার কথা জানিয়েছেন। বর্তমান সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ২০ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এ চাহিদা বেশি।
মূল কথা
- ২০২৬ সালের ৫ এপ্রিল পর্যন্ত জাপানে হামে আক্রান্ত ২৩৬ জন নিশ্চিত হয়েছেন, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে শনাক্ত ৬৬টি ঘটনার তুলনায় ৩.৬ গুণ বেশি।
- টোকিওতে ৭২টি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। কাগোশিমায় ২৭টি এবং আইচিতে ২৩টি সংক্রমণগুচ্ছ রয়েছে। আক্রান্তদের বেশির ভাগের বয়স ১৫ থেকে ৩৯ বছরের মধ্যে।
- প্রায় ১৪ শতাংশ সংক্রমণ বিদেশে হয়েছে; এর বেশির ভাগই ইন্দোনেশিয়ায়। বর্তমান সংক্রমণের অধিকাংশই স্থানীয়ভাবে ছড়িয়েছে।
- ২০১৫ সাল থেকে সাম্প্রতিক বছরগুলো পর্যন্ত জাপান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হাম নির্মূলের মর্যাদা ধরে রেখেছিল; বর্তমান প্রাদুর্ভাবে অন্তত ২০২০ সালের পর দ্রুততম হারে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে।
- হামযুক্ত টিকার দুই ডোজ কার্যকর সুরক্ষা দেয়। ১৯৭২ সালের অক্টোবর থেকে ১৯৯০ সালের এপ্রিলের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রাপ্তবয়স্করা হয়তো মাত্র এক ডোজ পেয়েছেন; তাঁদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা যাচাই করা উচিত।
- সন্দেহভাজন রোগীদের সরাসরি ক্লিনিকে না গিয়ে আগে ফোনে পরামর্শ নিতে বলেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা, যাতে অন্য রোগীদের মধ্যে সংক্রমণ না ছড়ায়।






