জ্বালানি সংকটে বিতর্কিত আলোচনার তাগিদ
বিতর্কিত দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে তেল অনুসন্ধানের কথা বিবেচনা করছেন প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র। এ নিয়ে ফিলিপাইন এক নাজুক কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, এমন পদক্ষেপে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হতে পারে এবং বছরের পর বছর সামুদ্রিক হয়রানির জন্য বেইজিং পুরস্কৃত হবে। গত মাসে অনুষ্ঠিত ১১তম দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ প্রক্রিয়ায় নতুন করে এ আলোচনা শুরু হয়। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সৃষ্ট বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতার গুরুত্ব স্বীকার করে দুই দেশ।
সূচিপত্র
ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার পর মার্কোস জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। ওই সময় বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় ফিলিপাইনে পেট্রলের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছিল। মূল্যবৃদ্ধিতে অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। পরিবহনকর্মী, কৃষক ও স্বল্প আয়ের পরিবারকে ২৩৮ বিলিয়ন ফিলিপাইন পেসো (PHP) ভর্তুকি দেওয়ার ‘আপলিফট’ পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধ্য হয়েছে সরকার। মালাম্পায়া গ্যাসক্ষেত্রের মজুত ফুরিয়ে আসছে এবং দেশের পেট্রোলিয়ামের চাহিদার ৯০ শতাংশের বেশি আমদানি করতে হয়। তাই পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরের অনাবিষ্কৃত মজুতকে সম্ভাব্য জীবনরক্ষাকারী হিসেবে দেখছে প্রশাসন।
ব্লুমবার্গ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কোস বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দুই পক্ষকে যৌথ উন্নয়ন নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে উৎসাহ জোগাতে পারে। তিনি স্বীকার করেন, আঞ্চলিক বিরোধ ঐতিহাসিকভাবেই এমন সহযোগিতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর কথায়, “এ নিয়ে আমরা অনেক দিন ধরে আলোচনা করছি, কিন্তু আঞ্চলিক বিরোধ বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।” পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তেরেসা লাজারো জানান, আলোচনা আবার শুরু করার আনুষ্ঠানিক নির্দেশ এখনো দেওয়া হয়নি, তবে এমন পদক্ষেপ শিগগির আসতে পারে।
স্বচ্ছতার দাবি, বিপজ্জনক দৃষ্টান্তের সতর্কতা
আলোচনার স্বচ্ছতা এবং বিতর্কিত জলসীমায় ফিলিপাইনের নৌযানকে হয়রানি অব্যাহত রাখা একটি দেশের সঙ্গে অংশীদারত্বের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধী আইনপ্রণেতারা তীব্র সমালোচনা করেছেন। প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য চেল ডিওকনো আলোচনার গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পররাষ্ট্র ও জ্বালানি নীতিতে স্বচ্ছতাই পরিচালনার মূলনীতি হওয়া উচিত। যেকোনো চুক্তি সংবিধান লঙ্ঘন করছে কি না, তা নিশ্চিত করতে তদারকি শুনানির উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
প্রতিনিধি পরিষদের আরেক সদস্য পার্সি সেনদানা সম্ভাব্য চুক্তিকে অসদাচরণকে পুরস্কৃত করার শামিল বলে বর্ণনা করেন। তিনি পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরে ফিলিপাইনের টহল নৌযানের বিরুদ্ধে চীনা কোস্টগার্ডের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসনের কথা উল্লেখ করেন। দক্ষিণ চীন সাগরের যে অংশ ম্যানিলার একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত, সেটিই পশ্চিম ফিলিপাইন সাগর। সেনদানা বলেন, “আমরা ভুল বার্তা দিচ্ছি এবং আরও শক্তিশালী দেশগুলোকে ছাড় আদায়ে বিরোধ বাড়াতে উৎসাহিত করছি। আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার দাবি জানানোর বদলে আমরা চীনের লঙ্ঘনের সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছি।”
সিনেটর জে.ভি. এজেরসিতোও একই মনোভাব প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, “যে আপনার সার্বভৌমত্বকে অসম্মান, ক্ষুণ্ন এবং আপনার ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা করছে, তার সঙ্গে ফিলিপাইন কীভাবে যৌথ অনুসন্ধানের চুক্তি করতে পারে?” তিনি আরও বলেন, “যেকোনো সম্পর্কের ভিত্তি হলো আস্থা। আমি দুঃখিত, তবে চীন সরকারকে বিশ্বাস করি না—এ কথা বলার ক্ষেত্রে আমি সত্যিই বরাবরই এক।”
ঐতিহাসিক নজির ও আইনি বাধা
বর্তমান আলোচনা নিয়ে সংশয়ের বড় কারণ কয়েক দশকের ব্যর্থ সহযোগিতা প্রচেষ্টা ও আইনি জটিলতা। ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে যৌথভাবে তেল ও গ্যাস উন্নয়নে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেন। পরে এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ ওঠে: এতে ২০১৬ সালের আন্তর্জাতিক সালিশি রায় ক্ষুণ্ন হয়েছে। ওই রায়ে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের বিস্তৃত দাবিকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
এর আগের সহযোগিতা প্রচেষ্টাগুলো আরও বেশি বিতর্কিত ছিল। আরোয়ো প্রশাসনের সময় ফিলিপাইন ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি ২০০৪ সালে বিতর্কিত জলসীমায় ভূকম্পন জরিপের জন্য চায়না ন্যাশনাল অফশোর অয়েল করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তি করে। ২০০৫ সালে ভিয়েতনামকে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে এর পরিসর বাড়ানো হয়, যার নাম ছিল ‘জয়েন্ট মেরিন সিসমিক আন্ডারটেকিং’। দুর্নীতির অভিযোগ এবং ৬০/৪০ বিধি নিয়ে সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের মুখে চুক্তিটি ভেঙে পড়ে। এ বিধি অনুযায়ী, প্রাকৃতিক সম্পদ প্রকল্পে ফিলিপাইনের প্রতিষ্ঠানের অন্তত ৬০ শতাংশ মূলধনের মালিকানা থাকতে হবে এবং সরকারের কাছে নিট মুনাফার ৬০ শতাংশ থাকতে হবে। ২০২৩ সালে ফিলিপাইনের সুপ্রিম কোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০৫ সালের চুক্তি বাতিল করে, কারণ এতে শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানি যুক্ত ছিল। ভবিষ্যতের যেকোনো চুক্তির পথে এটি বড় আইনি বাধা তৈরি করেছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো নতুন যৌথ উন্নয়ন চুক্তিতে সাংবিধানিক বিধিনিষেধ মানার পাশাপাশি ২০১৬ সালের সালিশি রায়ের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, নাইন-ড্যাশ লাইনের ভেতরে চীনের ঐতিহাসিক অধিকারের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের কার্যত অর্থ হলো, পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরে ফিলিপাইন ও চীনের সামুদ্রিক অধিকার পরস্পরকে অতিক্রম করে না। ফলে সমুদ্র আইনবিষয়ক জাতিসংঘ সনদের আওতায় যৌথ উন্নয়নের আইনি কাঠামো জটিল হয়ে পড়েছে।
চাপ প্রয়োগ ও অসদিচরণের ধারাবাহিকতা
সমালোচকদের মতে, দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের চাপ প্রয়োগের নথিভুক্ত ইতিহাস বেইজিংকে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনার আস্থা নষ্ট করেছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বেলফার সেন্টারের একাডেমিক গবেষণায় চীনের আচরণের ধারাবাহিক ধরন শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০১১ সালে রিড ব্যাংকের কাছে তেল অনুসন্ধানকারী ফিলিপাইনের নৌযান তাড়িয়ে দেওয়া এবং ২০১২ সালে স্কারবরো শোলের কাছে ফিলিপাইনের নৌবাহিনীর নৌযান অবরোধ করা।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। ২৫ আগস্ট সাবিনা শোলের কাছে মানবিক সহায়তা মিশনের সময় চীনা নৌযানগুলো বিএফএআর-এর জাহাজ বিআরপি দাতু সানদেকে ঘিরে ফেলে ও ধাক্কা দেয়। পরদিন সেকেন্ড থমাস শোলে অবস্থানরত কর্মীদের কাছে সরবরাহ পৌঁছে দেওয়ার মিশন আটকে দিতে চীন প্রায় ৪০টি নৌযান মোতায়েন করে। ২০২৬ সালের এপ্রিলে ফিলিপাইনের কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করে, সেকেন্ড থমাস শোলের কাছে চীনা নৌকা থেকে সায়ানাইড বহন করা হচ্ছিল। তাদের সতর্কতা, স্থানীয় মাছের সংখ্যা এবং অগভীর হয়ে আটকে থাকা যুদ্ধজাহাজ বিআরপি সিয়েরা মাদ্রেকে ঘিরে থাকা প্রবালপ্রাচীরের ক্ষতি করতে নাশকতার কাজে ওই রাসায়নিক ব্যবহার করা হতে পারে।
প্রতিদিনের হয়রানির পটভূমিতে এসব ঘটনা ঘটছে। ফিলিপাইন কোস্টগার্ড সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের বিরুদ্ধে ১৮৯টি প্রতিবাদের নথি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে জলকামান হামলা, বিপজ্জনকভাবে নৌযান চালানো এবং নৌ চলাচলে বাধা দেওয়া। ম্যানিলাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্ট্র্যাটবেস ইনস্টিটিউট চীনকে নির্ভরযোগ্য অংশীদার বা দায়িত্বশীল পক্ষ—কোনোটিই নয় বলে বর্ণনা করেছে। তাদের সতর্কতা, তেল অংশীদারত্বে গেলে দেশ অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকিতে পড়বে।
যে রাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে এবং ফিলিপাইনের সার্বভৌম অধিকার লঙ্ঘন করে, তার কোনো চুক্তি মেনে চলার প্রত্যাশা করা যায় না।
স্ট্র্যাটবেস ইনস্টিটিউটের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকারের উচিত চুক্তিটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা এবং তার বদলে সমমনোভাবাপন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্বে জ্বালানি সম্পদ উন্নয়ন করা।
ভূরাজনৈতিক প্রভাব ও বিকল্প কৌশল
তেল সহযোগিতা নিয়ে বিতর্ক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে যুক্ত। মার্কোস যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করেছেন এবং চীনের আগ্রাসন প্রকাশ্যে তুলে ধরার স্বচ্ছতা নীতি অনুসরণ করেছেন। তবে জ্বালানি সংকটের কারণে অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। ব্লুমবার্গকে প্রেসিডেন্ট বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন করে সাজানো “নিশ্চিতভাবেই হবে”; এর পেছনে রয়েছে বৈশ্বিক জোটের “অত্যন্ত গুরুতর পুনর্গঠন”।
তবে সম্পর্কের এই সম্ভাব্য উষ্ণতা অন্য দাবিদার দেশ ও মিত্রদের সঙ্গে টানাপোড়েন তৈরি করছে। ফিলিপাইনের সামুদ্রিক আইন, বিশেষত মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যের ওপর ঐতিহাসিক দাবি পুনর্ব্যক্ত করা আইন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে মালয়েশিয়া। আঞ্চলিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পরস্পর অতিক্রমকারী দাবির কারণে চীনের সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ জটিল হয়ে পড়েছে। বছরে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রক্ষায় চীনের অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়া প্রায়ই মৃদু প্রতিক্রিয়া জানায়।
জ্বালানি নিরাপত্তায় বিকল্প পথের কথা বলছেন কিছু পর্যবেক্ষক। বৈরী দাবিদার দেশের সঙ্গে অংশীদারত্বের বদলে ফিলিপাইন জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া বা ফিলিপাইনের সাংবিধানিক বিধিনিষেধ মেনে কাজ করতে আগ্রহী পশ্চিমা জ্বালানি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সহযোগিতায় সম্পদ উন্নয়ন করতে পারে। বিতর্কিত জলসীমা পর্যবেক্ষণে স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জে প্রথম নিবেদিত কমান্ড সেন্টার চালু করে ফিলিপাইন কোস্টগার্ড একতরফাভাবে সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপও নিয়েছে।
যেকোনো সম্ভাব্য যৌথ তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ফিলিপাইনের সংবিধান ও বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে মেনে চলবে বলে আশ্বস্ত করে উদ্বেগ প্রশমনের চেষ্টা করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর ফিলিপাইনের সার্বভৌম অধিকার রয়েছে এবং যেকোনো সমঝোতার ভিত্তি হবে ফিলিপাইনের সার্বভৌমত্বের প্রাধান্য। তবে সমালোচকদের মতে, ২০২৪ সালে সেকেন্ড থমাস শোলে সরবরাহ মিশন নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাজারোর আলোচনায় হওয়া অস্থায়ী সমঝোতা ইতিমধ্যে উদ্বেগজনক নজির তৈরি করেছে। এতে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে ২০১৬ সালের সালিশি রায়কে পাশ কাটানো হয়েছে।
জ্বালানি ও নিরাপত্তার দ্বিধা
রাজনৈতিক বিতর্কের মূলে রয়েছে কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতা। ফিলিপাইনের সবচেয়ে জনবহুল দ্বীপ লুজনের জ্বালানির উল্লেখযোগ্য অংশ জোগায় মালাম্পায়া গ্যাসক্ষেত্র, যার মজুত শিগগির ফুরিয়ে আসছে। ফিলিপাইনের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে অবস্থিত, তবে চীনের দাবির মুখে থাকা রিড ব্যাংকে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে, যা এই ঘাটতি পুষিয়ে দিতে পারে। চীনকে অসন্তুষ্ট করার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বৃহৎ কোম্পানিগুলো ঐতিহাসিকভাবে এলাকাটি এড়িয়ে চলেছে। ফলে উন্নয়নের বিকল্প সীমিত হয়ে পড়েছে ম্যানিলার।
২০২৩ সালে বেইজিংয়ে রাষ্ট্রীয় সফরের সময় মার্কোস ও শি যৌথ অনুসন্ধান নিয়ে যোগাযোগের পথ খোলা রাখতে একমত হন। তবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে উত্তেজনা বাড়ায় আলোচনা থেমে যায়। সামুদ্রিক ব্যবহারিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে ফিলিপাইনের বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে বিতর্কিত এলাকায় ফিলিপাইনের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করা হবে—এমন ইঙ্গিত দেয়, এমন যেকোনো কাঠামো বেইজিং ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্পদ আহরণ ও সামরিক অবস্থান—দুই কারণেই চীন দক্ষিণ চীন সাগরকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের হিসাবে, এই অঞ্চলে ১৯০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস ও ১১ বিলিয়ন ব্যারেল তেল রয়েছে। এই জলসীমার নিয়ন্ত্রণ চীনকে সম্ভাব্য সংঘাতের সময় তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা আটকে দেওয়ার সুযোগ দিতে পারে। ফলে ওয়াশিংটন ও ম্যানিলা—উভয়ের জন্যই জ্বালানি সহযোগিতা রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল।
মূল বিষয়গুলো
- মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ বিঘ্নের কারণে সৃষ্ট জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট মার্কোস জুনিয়র দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সঙ্গে যৌথ তেল অনুসন্ধানের কথা বিবেচনা করছেন।
- বিরোধী আইনপ্রণেতা ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা, এই চুক্তিতে ২০১৬ সালের সালিশি রায় ক্ষুণ্ন হতে পারে এবং চীনের চাপ প্রয়োগকে পুরস্কৃত করা হতে পারে। এর মধ্যে সাবিনা শোল ও সেকেন্ড থমাস শোলে ফিলিপাইনের নৌযানকে সাম্প্রতিক হয়রানির ঘটনাও রয়েছে।
- চীন ও ভিয়েতনামের সঙ্গে ২০০৫ সালের যৌথ ভূকম্পন জরিপ চুক্তি ২০২৩ সালে ফিলিপাইনের সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে। এতে সাংবিধানিক বাধা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যার আওতায় সম্পদ প্রকল্পে ফিলিপাইনের প্রতিষ্ঠানের ৬০ শতাংশ মালিকানা থাকতে হবে।
- আরোয়ো ও দুতার্তে প্রশাসনের সময় জ্বালানি সহযোগিতার ঐতিহাসিক প্রচেষ্টা দুর্নীতির অভিযোগ, সার্বভৌমত্ব নিয়ে উদ্বেগ এবং সংবিধানের ৬০/৪০ বিধি মানতে ব্যর্থতার কারণে ভেঙে পড়ে।
- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, যেকোনো নতুন চুক্তি ফিলিপাইনের আইন ও সার্বভৌমত্ব মেনে চলবে। অন্যদিকে সমালোচকেরা চীনের নাইন-ড্যাশ লাইনের দাবিকে বৈধতা দেয়—এমন ছাড় ঠেকাতে স্বচ্ছতা ও তদারকি শুনানির দাবি জানিয়েছেন।
- বিকল্প কৌশলের মধ্যে রয়েছে চীন ছাড়া অন্য অংশীদারের সঙ্গে রিড ব্যাংকের সম্পদ উন্নয়ন, অথবা বেইজিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বদলে ফিলিপাইন কোস্টগার্ডের একতরফা সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ।






