আসল মূল্য টাকায় নয়, অভ্যাসে
সিঙ্গাপুরের বেভারেজ কনটেইনার রিটার্ন স্কিম (বিসিআরএস) ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল চালু হলে ভোক্তারা তাৎক্ষণিক একটি পরিবর্তন দেখতে পাবেন: বোতল বা ক্যানজাত প্রতিটি পানীয়ের জন্য শুরুতেই ১০ সেন্ট বেশি দিতে হবে। প্লাস্টিক ও ধাতব পাত্রে ১৫০ মিলিলিটার থেকে ৩ লিটার পর্যন্ত আগে থেকে প্যাকেটজাত পানীয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এই ফেরতযোগ্য জামানত এমন একটি নীতির সবচেয়ে দৃশ্যমান দিক, যার পরিধি সাধারণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চেয়ে অনেক বিস্তৃত। আর্থিক ব্যবস্থাটি সহজ মনে হলেও এর প্রকৃত লক্ষ্য হলো দৈনন্দিন অভ্যাসে এমন পরিবর্তন আনা, যাতে টেকসই আচরণ ঐচ্ছিক না থেকে স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে ওঠে।
সূচিপত্র
টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশবিষয়ক জ্যেষ্ঠ প্রতিমন্ত্রী ড. জানিল পুথুচেরি বলেছেন, এই স্কিম সিঙ্গাপুরের বৃত্তাকার অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আচরণবিজ্ঞানীরা এর মধ্যে আরও সূক্ষ্ম একটি প্রক্রিয়া দেখতে পান। খালি পাত্রের সঙ্গে সামান্য আর্থিক মূল্য জুড়ে দিয়ে স্কিমটি আবর্জনাকে অসমাপ্ত লেনদেনে পরিণত করে; এতে তৈরি হয় এমন এক মানসিক বিরতি, যা মানুষকে পদক্ষেপ নিতে উদ্বুদ্ধ করে। সময়ের সঙ্গে এই বিরতি অভ্যাসে পরিণত হয় এবং প্রতিনিয়ত সচেতন প্রেরণার প্রয়োজন ছাড়াই পরিবেশগত দায়িত্বকে দৈনন্দিন জীবনের ছন্দে জুড়ে দেয়। সক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে স্বতঃস্ফূর্ত অভ্যাস গড়ে তোলার এই পরিবর্তনই সিঙ্গাপুরের পদ্ধতির মূল কৌশল।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাও এই পদ্ধতির পক্ষে। উত্তর ইউরোপের দেশগুলো কয়েক দশক ধরে জামানত-ফেরত ব্যবস্থা চালু রেখেছে এবং ৯০ শতাংশের বেশি পাত্র ফেরত পেয়েছে। এসব অঞ্চলের সাফল্যের কারণ কঠোর প্রয়োগ নয়, বরং ব্যবস্থাটিকে স্বাভাবিক করে তোলা। বোতল ফেরত দেওয়া মানুষের দৈনন্দিন কাজের অংশ হয়ে ওঠে। আঞ্চলিক তুলনার ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতাও উল্লেখযোগ্য: ব্যবস্থা চালুর পর পাত্র ফেরতের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং ফেরতের অর্থের পরিমাণ কম হলেও মানুষের অংশগ্রহণ উচ্চ রয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা দেখায়, ব্যবস্থা সহজলভ্য হয়ে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হলে মানুষ প্রণোদনার কথা ভাবা বন্ধ করে দেয়। আচরণটি স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে ওঠে।
পরিচালন কাঠামো: কেনা থেকে অর্থ ফেরত
এই স্কিমের কার্যক্রমে একাধিক অংশীজন একটি সুপরিকল্পিত সময়সীমার মধ্যে কাজ করবেন। ১ এপ্রিল থেকে যোগ্য পানীয় কিনলে ভোক্তাদের খুচরা মূল্যের সঙ্গে ১০ সেন্টের জামানতও দিতে হবে। সিঙ্গাপুরের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই জামানতের ওপর জিএসটি প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ ভোক্তারা কেবল পানীয়টির ওপর ৯ শতাংশ কর দেবেন, ফেরতযোগ্য অর্থের ওপর নয়। চালান ও রসিদে এই দুই অঙ্ক যথাযথভাবে আলাদা দেখাতে সরবরাহকারীদের হিসাবরক্ষণ ও বিক্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা হালনাগাদ করতে হবে।
বর্তমান মজুত পণ্য সরানোর জটিলতা বিবেচনায় নিয়ে কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক তিন মাসের পরিবর্তে পরিবর্তনকাল ছয় মাস করেছে, যা ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। এ সময় খুচরা বিক্রেতারা বিসিআরএস-চিহ্নিত পাত্রে (১০ সেন্ট জামানতসহ) এবং পুরোনো, চিহ্নবিহীন মজুত পণ্য (জামানত ছাড়া) উভয়ই বিক্রি করতে পারবেন। ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন শুরু হবে; এরপর কেবল চিহ্নিত পাত্র বিক্রি করা যাবে। পানীয় উৎপাদকেরা বিদ্যমান মজুত শেষ করতে এবং সরবরাহব্যবস্থা সমন্বয়ে আরও সময় চাওয়ার পর এই সময়সীমা বাড়ানো হয়।
এই স্কিমে আকৃতি নির্বিশেষে ১৫০ মিলিলিটার থেকে ৩ লিটার পর্যন্ত প্লাস্টিকের বোতল ও ধাতব ক্যানে থাকা সব আগে থেকে প্যাকেটজাত পানীয় অন্তর্ভুক্ত। সদ্য তৈরি পানীয় এবং বিশেষ চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তৈরি খাবার এর আওতামুক্ত। জাতীয় পরিবেশ সংস্থা (এনইএ) বেভারেজ কনটেইনার রিটার্ন স্কিম লিমিটেডকে (বিসিআরএস লিমিটেড) সাত বছরের জন্য, ২০৩৩ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত, কার্যক্রম তদারকির লাইসেন্স দিয়েছে। পানীয় খাতের বড় প্রতিষ্ঠান কোকা-কোলা সিঙ্গাপুর বেভারেজেস, এফঅ্যান্ডএন ফুডস এবং পোক্কা মিলে অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটি গঠন করেছে। লাইসেন্সধারী পরিচালনাকারী হিসেবে বিসিআরএস লিমিটেড সব পানীয় উৎপাদকের পক্ষে পাত্র সংগ্রহ করে পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা করবে এবং কার্যক্রম-সংক্রান্ত তথ্য সুরক্ষায় তথ্য-সুরক্ষা ব্যবস্থা বজায় রাখবে।
অবকাঠামো ও সহজলভ্যতা: প্রযুক্তির সঙ্গে দৈনন্দিন জীবনের মেলবন্ধন
জামানত-ফেরত ব্যবস্থার সাফল্য নির্ভর করে সেটি কতটা সহজলভ্য তার ওপর। সিঙ্গাপুরে শুরুতে সুপারমার্কেট, হাউজিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (এইচডিবি) আবাসিক ভবনের খোলা নিচতলা এবং নগরকেন্দ্রসহ কৌশলগত বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১,০০০টি পাত্র ফেরত দেওয়ার কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম বছরের মধ্যে এই নেটওয়ার্ক ২,০০০ স্থানে সম্প্রসারিত হবে। এতে এইচডিবির ৯০ শতাংশ বাসিন্দা ফেরতকেন্দ্র থেকে পাঁচ মিনিটের হাঁটা দূরত্বে থাকবেন। এই নৈকট্য পুনর্ব্যবহারে অংশগ্রহণে বাধা হয়ে দাঁড়ানো ঝক্কি কমাবে।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা রিভার্স ভেন্ডিং মেশিনের ওপর নির্ভর করবে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো। নরওয়ের প্রতিষ্ঠান টমরা সিঙ্গাপুরের মধ্যাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অন্তত ৩৫০টি মেশিন বসাবে। কার্যক্রমে সহায়তার জন্য তারা কালাংয়ে নতুন কার্যালয় ও গুদামও স্থাপন করেছে। সুইডেনের আরভিএম সিস্টেমস পূর্বাঞ্চলে কাজ করবে, আর স্থানীয় প্রতিষ্ঠান এসজি রিসাইকেল পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের দায়িত্বে থাকবে। এসব স্বয়ংক্রিয় মেশিন পাত্র গুঁড়ো করে সংরক্ষণ করবে। ছোট মেশিনে সর্বোচ্চ ১,০০০টি এবং বড় মডেলে ২,০০০টি পাত্র রাখা যাবে। টমরা জানিয়েছে, চাহিদা থাকলে ৮,০০০ পাত্র ধারণক্ষমতার মেশিনও চালু করা হতে পারে।
অর্থ ফেরতের ক্ষেত্রে ডিজিটাল সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ভোক্তারা মেশিনে শিক্ষার্থী ও বয়োজ্যেষ্ঠদের কনসেশন কার্ডসহ ইজেড-লিংক কার্ড ছোঁয়ালে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ জমা হবে। চালুর কাছাকাছি সময়ে আরও ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতির ঘোষণা দেওয়া হবে। সিঙ্গাপুরের চারটি সরকারি ভাষায় প্রতিটি মেশিনে নির্দেশনা থাকবে, যাতে বিস্তৃত জনগোষ্ঠী এটি ব্যবহার করতে পারেন। সংগৃহীত পাত্র মেশিন থেকে সরানো, স্থান পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং পাত্র পরিবহনের কাজে টমরা স্থানীয় পরিচ্ছন্নতাসেবা প্রতিষ্ঠান ছায়ে থিয়াম মেইনটেন্যান্সের সঙ্গে কাজ করবে। পাত্রগুলো বিসিআরএস লিমিটেড ও বর্জ্য সংগ্রহকারী কোরা এনভায়রনমেন্টের যৌথ পরিচালনায় থাকা কেন্দ্রীয় বাছাই কেন্দ্রে নেওয়া হবে। এতে একটি আবর্তনশীল ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, যার মাধ্যমে বছরে এক বিলিয়নের বেশি পাত্র থেকে আনুমানিক ১৬,০০০ টন উপকরণ পুনরুদ্ধার করা হবে।
ব্যবসায়িক সমন্বয়: ব্যয়, উদ্বেগ ও ক্ষতিপূরণ
ভোক্তারা জামানত ব্যবস্থার দিকে নজর দিলেও উৎপাদকদের উল্লেখযোগ্য পরিচালনাগত পরিবর্তন আনতে হবে। সব উৎপাদক ও আমদানিকারককে বিসিআরএস লিমিটেডে নিবন্ধন করতে হবে, এককালীন ৫০০ ডলার নিবন্ধন ফি দিতে হবে এবং পাত্রে জামানতের চিহ্ন ও সিঙ্গাপুর-নির্দিষ্ট বারকোড লাগাতে হবে। আমদানিকারকদের ক্ষেত্রে প্রায়ই আমদানি করা পানীয়ে হাতে স্টিকার লাগাতে হয়, ফলে শ্রমব্যয় বাড়ে এবং সরবরাহব্যবস্থার কাজ আরও জটিল হয়।
এই শর্তগুলো ছোট উৎপাদকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কেউ কেউ সতর্ক করে বলেছেন, নিয়ম মেনে চলার ব্যয়ের কারণে প্রতিটি পানীয়ের খুচরা দাম ২৫ থেকে ৭০ সেন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে। নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির গবেষণায় এই উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত কাজ ও ব্যয়ের অসম প্রভাব বাজারের ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পড়তে পারে।
ড. জানিল প্রকৃত ব্যয়ের হিসাব ব্যাখ্যা করে বলেছেন, এককালীন বাস্তবায়ন ব্যয়ের বাইরে সরবরাহ ও পুনর্ব্যবহারের জন্য উৎপাদকদের চলতি খরচ পাত্রপ্রতি প্রায় ৩ থেকে ৪ সেন্ট। এর সঙ্গে লেবেল লাগানোর ব্যয় যোগ করলে—বিদেশে বড় পরিসরে কাজের সময় যা পাত্রপ্রতি ৩ সেন্ট, আর দেশের ভেতরে ছোট চালানের ক্ষেত্রে আরও বেশি—মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রতি পণ্যে প্রায় ৬ থেকে ৭ সেন্ট। অনুরূপ ব্যবস্থা চালু থাকা অন্যান্য এখতিয়ারের ফি-এর সঙ্গে এই ব্যয় তুলনীয়। ড. জানিল আরও বলেন, পানীয়ের পাত্রের ৮০ শতাংশের প্রতিনিধিত্বকারী উৎপাদকেরা স্টিকার ছাড়াই শর্ত পূরণের জন্য পাত্রের নকশা বদলাতে পারবেন, ফলে ব্যয় আরও কমবে।
প্রাথমিক চাপ কমাতে এনইএ সর্বোচ্চ ২,৫০০ ডলারের উৎপাদক পরিবর্তনকালীন অনুদান চালু করেছে, যা নিবন্ধিত সব পানীয় উৎপাদকের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য। এই অনুদান থেকে নিবন্ধন ফি, উৎপাদক ফি ও স্কিমের স্টিকারের খরচ মেটানো হবে; যোগ্য খরচ বিল তৈরির সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করা হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেসব উৎপাদক কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সময়ের সঙ্গে ব্যয় কমাতে বিসিআরএস লিমিটেডের সঙ্গে কাজ করবেন, তাদের জন্য নমনীয়তা ও সহায়তা রাখা হবে।
বৈশ্বিক মডেল ও স্থানীয় প্রেক্ষাপট
বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে কার্যকর প্রমাণিত একটি বৈশ্বিক উদ্যোগে যোগ দিচ্ছে সিঙ্গাপুর। উত্তর ইউরোপের দেশগুলো কয়েক দশক ধরে জামানত-ফেরত ব্যবস্থা চালিয়ে আসছে এবং ৯০ শতাংশের বেশি পাত্র ফেরত পেয়েছে। এসব অঞ্চলের সাফল্যের কারণ কঠোর প্রয়োগ নয়, বরং ব্যবস্থাটিকে স্বাভাবিক করে তোলা। বোতল ফেরত দেওয়া সামাজিক রীতি ও দৈনন্দিন অভ্যাসের অংশ হয়ে ওঠে।
আঞ্চলিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা তুলনামূলকভাবে কাছের। অধিকাংশ রাজ্যে পাত্রের জামানত ব্যবস্থা চালুর পর ফেরতের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং যত্রতত্র বর্জ্য কমেছে। ফেরতের অর্থের পরিমাণ কম হলেও মানুষের অংশগ্রহণ উচ্চ রয়েছে। এতে বোঝা যায়, আর্থিক প্রণোদনার চেয়ে সহজলভ্যতা ও দৃশ্যমানতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবস্থা একবার দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মিশে গেলে আচরণ স্বতঃস্ফূর্ত ও স্বনির্ভর হয়ে ওঠে।
সিঙ্গাপুরের পরিকল্পনায় জনপরিসরের ব্যবহারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফেরতকেন্দ্র কেবল সুপারমার্কেটে সীমাবদ্ধ না রেখে আবাসিক ভবনের খোলা নিচতলা ও নগরকেন্দ্রে বসানোর মাধ্যমে পুনর্ব্যবহারকে ঘরের ব্যক্তিগত কাজ থেকে সবার অংশগ্রহণমূলক জনচর্চায় রূপ দেওয়া হচ্ছে। দৃশ্যমানতা সামাজিক রীতিকে আরও জোরদার করে। বাসিন্দারা যখন প্রতিবেশীদের পাত্র ফেরত দিতে দেখেন, তখন এ আচরণ স্বীকৃতি পায় এবং ব্যতিক্রম না থেকে প্রত্যাশিত হয়ে ওঠে। সামষ্টিক ব্যবহারের এলাকায় রিভার্স ভেন্ডিং মেশিন থাকা পরিবেশগত দায়িত্বের কথা নিয়মিত মনে করিয়ে দেয়।
এই স্কিমে ন্যায্যতার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। কিছু এলাকায় পাত্র ফেরত দেওয়া সহজ হলেও অন্য এলাকায় কঠিন হলে, কিংবা কোনো কোনো গোষ্ঠীর জন্য মেশিন ব্যবহার করা কঠিন হলে, মানুষের অংশগ্রহণ স্বাভাবিকভাবেই অসম হবে। সরকারি আবাসনের ৯০ শতাংশ বাসিন্দাকে ফেরতকেন্দ্র থেকে পাঁচ মিনিটের দূরত্বে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করে নীতিনির্ধারকেরা পরিবেশগত দায়িত্বকে সময়, পরিচিতি বা প্রবেশাধিকারের ভিত্তিতে অসম বোঝা না বানিয়ে সবার সম্মিলিত প্রত্যাশায় পরিণত করতে চান।
বৃত্তাকার অর্থনীতিতে উত্তরণের তাগিদ
এই স্কিমের পেছনে রয়েছে পরিবেশের জরুরি বাস্তবতা। সিঙ্গাপুরের একমাত্র ল্যান্ডফিল সেমাকাউ দ্রুত ভরে যাচ্ছে। প্রতিবছর উৎপন্ন গৃহস্থালি বর্জ্যের এক-তৃতীয়াংশ প্যাকেজিং বর্জ্য, অথচ প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের হার প্রায় ৫ শতাংশ। পদক্ষেপ না নিলে বর্তমান ভোগের ধরন থেকে সৃষ্ট পরিবেশগত, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যয়ের বোঝা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বইতে হবে।
ভোক্তার ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া পলিইথিলিন টেরেফথালেট (পিইটি) ও অ্যালুমিনিয়ামের পরিচ্ছন্ন, অনুসরণযোগ্য প্রবাহ তৈরি করে বিসিআরএস পুনর্ব্যবহৃত পলিমার তৈরির জন্য মানসম্মত কাঁচামাল জোগাবে। এতে সিঙ্গাপুরের নিট-শূন্য নিঃসরণ অঙ্গীকার পূরণে সহায়তা হবে এবং নতুন কাঁচামালের ওপর নির্ভরতা কমবে। উৎপাদকদের বর্ধিত দায়বদ্ধতার কাঠামো নিশ্চিত করে যে বাজারে পাত্র সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোই সেগুলো সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের দায় নেবে। এতে পুনর্ব্যবহার সহজ করে এমন নকশা পরিবর্তনে উৎসাহ তৈরি হবে।
এই উদ্যোগের আচরণগত লক্ষ্য সম্পর্কে ড. জানিল জোর দিয়ে বলেছেন:
মূল কথা হলো, এটি শুধু পানীয়ের পাত্র সংগ্রহের কোনো ব্যবস্থা নয়। আমাদের প্রত্যেককে অভ্যাস ও আচরণ বদলানোর আহ্বান এটি।
শুরুতে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে প্রথম কয়েক মাসে ফেরতের ধরন ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামত পর্যবেক্ষণ করে নতুন ফেরতকেন্দ্রের অবস্থান উন্নত করার মাধ্যমে অভিযোজনমূলক শিক্ষা গ্রহণে সরকার অঙ্গীকার করেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে তৃণমূল সংগঠন, স্কুল, যুবগোষ্ঠী ও করপোরেট অংশীদারদের লক্ষ্য করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হবে।
শেষ পর্যন্ত, দহন থেকে কতটা বর্জ্য সরানো গেল, শুধু তা দিয়ে পানীয়ের পাত্র ফেরত দেওয়ার এই স্কিমের সাফল্য বিচার করা উচিত নয়। এর গভীরতর সাফল্য নির্ভর করবে টেকসই আচরণকে স্বাভাবিক করে তোলা এবং শহরের প্রতি সম্মিলিত দায়িত্ববোধ জোরদার করার ওপর। সড়ক, ব্যবস্থা ও অবকাঠামোর মাধ্যমে শহর মানুষের আচরণ গড়ে তোলে; কোন কাজ সহজ ও প্রত্যাশিত মনে হবে, সেগুলোও তা নির্ধারণ করে। আচরণবিজ্ঞানকে বিবেচনায় রেখে নীতি তৈরি হলে মানুষকে পরিবর্তনে রাজি করানোর চেয়ে, তাদের আগে থেকেই ধারণ করা মূল্যবোধ অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ তৈরি করাই টেকসইতার মূল হয়ে ওঠে।
মূল বিষয়গুলো
- বেভারেজ কনটেইনার রিটার্ন স্কিম ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল চালু হবে। পরিবর্তনকাল চলবে ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত; এ সময় চিহ্নিত ও চিহ্নবিহীন উভয় ধরনের পাত্র বিক্রি করা যাবে
- প্লাস্টিক ও ধাতব পাত্রে থাকা (১৫০ মিলিলিটার থেকে ৩ লিটার) আগে থেকে প্যাকেটজাত পানীয় কিনলে ভোক্তারা ১০ সেন্টের ফেরতযোগ্য জামানত দেবেন। ১,০০০টির বেশি ফেরতকেন্দ্রে অর্থ ফেরত নেওয়া যাবে; প্রথম বছরের মধ্যে কেন্দ্রের সংখ্যা ২,০০০ হবে
- নরওয়ের টমরা, সুইডেনের আরভিএম সিস্টেমস এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠান এসজি রিসাইকেলের সরবরাহ করা রিভার্স ভেন্ডিং মেশিন পাত্র গ্রহণ করবে এবং প্রধানত ইজেড-লিংক কার্ডের মাধ্যমে অর্থ ফেরত দেবে
- এইচডিবির ৯০ শতাংশ বাসিন্দা ফেরতকেন্দ্র থেকে পাঁচ মিনিটের হাঁটা দূরত্বে থাকবেন। মেশিন থাকবে সুপারমার্কেট, আবাসিক ভবনের খোলা নিচতলা ও নগরকেন্দ্রে
- কোকা-কোলা, এফঅ্যান্ডএন ফুডস ও পোক্কার অলাভজনক কনসোর্টিয়াম বিসিআরএস লিমিটেড জাতীয় পরিবেশ সংস্থার কাছ থেকে সাত বছরের লাইসেন্স নিয়ে স্কিমটি পরিচালনা করবে
- নিয়ম মেনে চলতে উৎপাদকদের পাত্রপ্রতি আনুমানিক ৬ থেকে ৭ সেন্ট ব্যয় হবে। প্রাথমিক নিবন্ধন ও লেবেলিং খরচ মেটাতে সর্বোচ্চ ২,৫০০ ডলারের এককালীন সরকারি অনুদান পাওয়া যাবে
- স্কিমের লক্ষ্য তৃতীয় বছরে ৮০ শতাংশ পাত্র ফেরত পাওয়া এবং এক বিলিয়নের বেশি পাত্র থেকে বছরে ১৬,০০০ টনের বেশি উপকরণ পুনরুদ্ধার করা
- জামানতের ওপর জিএসটি প্রযোজ্য নয়। করযোগ্য পানীয় বিক্রির অঙ্ক থেকে ফেরতযোগ্য অর্থ আলাদা দেখাতে সরবরাহকারীদের চালান তৈরির ব্যবস্থা হালনাগাদ করতে হবে
- পুনর্ব্যবহারের বাইরেও এ নীতির লক্ষ্য পরিবেশগত দায়িত্বকে দৈনন্দিন অভ্যাস ও জনপরিসরের অংশ করে টেকসই আচরণকে স্বাভাবিক করে তোলা






