সম্পদ অর্থায়নে নীরব বিপ্লব
২০২৫ সালের অক্টোবরে নীরবে ইতিহাস গড়ে জাম্বিয়া। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম তামা উৎপাদনকারী খাতে কর্মরত চীনা খনি কোম্পানিগুলো এখন মার্কিন ডলারের পরিবর্তে চীনা ইউয়ানে কর ও রয়্যালটি পরিশোধ করতে পারবে বলে ঘোষণা দেয় ব্যাংক অব জাম্বিয়া। খনি খাতের অর্থ পরিশোধে রেনমিনবি গ্রহণকারী প্রথম আফ্রিকান দেশ হলো জাম্বিয়া। এর মধ্য দিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনায় সম্পদসমৃদ্ধ দেশগুলোর জন্য তৈরি হলো নতুন দৃষ্টান্ত।
সূচিপত্র
নীতির এই পরিবর্তন আকস্মিক ভূরাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে আসেনি। বরং এর পেছনে রয়েছে তীব্র অর্থনৈতিক প্রয়োজন। জাম্বিয়ায় মার্কিন ডলারের তারল্যের ঘাটতি তীব্র হয়েছে। একই সঙ্গে চীনা ঋণদাতাদের কাছে দেশটির ঋণের দায় ছয় বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। চীনা খনি কোম্পানিগুলোকে ইউয়ানে কর দেওয়ার সুযোগ দিয়ে লুসাকা এসব ঋণ পরিশোধের সরাসরি পথ তৈরি করেছে; এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষয় করা ব্যয়বহুল মুদ্রা বিনিময় এড়ানো সম্ভব হবে।
এই ব্যবস্থা ২০১৮ সালে চালু হওয়া একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কার্যকর হয়। সে বছর জাম্বিয়া প্রথমবারের মতো খনি কোম্পানিগুলোকে কর পরিশোধের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রি করতে বাধ্য করে। প্রাথমিকভাবে ওই নিয়মে শুধু খনিজ রয়্যালটি অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং নির্দিষ্ট মুদ্রা ছিল মার্কিন ডলার। ২০২০ সালে কর্তৃপক্ষ ডলারে পরিশোধের শর্ত বজায় রেখেই নিয়মটি সব ধরনের খনি করের ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত করে। সর্বশেষ পরিবর্তনে যুক্ত হয়েছে দুই মুদ্রায় পরিশোধের সুযোগ। প্রকাশিত বিনিময় হার অনুযায়ী কোম্পানিগুলো এখন ব্যাংক অব জাম্বিয়ার কাছে ডলার অথবা ইউয়ান বিক্রি করতে পারবে।
মুদ্রাব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রক্রিয়া
নতুন পরিশোধের সুযোগ চালু করতে ব্যাংক অব জাম্বিয়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে রেনমিনবি-য়াচা বিনিময় হার প্রকাশ শুরু করে। কর পরিশোধের সময় হলে খনি কোম্পানিগুলোর সামনে এখন সহজ একটি বিকল্প রয়েছে। তারা প্রকাশিত ডলার-য়াচা হারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে মার্কিন ডলার বিক্রি করতে পারে, অথবা রেনমিনবি-য়াচা হারে ইউয়ান বিক্রি করতে পারে। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব মুদ্রা তার রিজার্ভে রাখে।
এই ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে কয়েক বছরের নিয়ন্ত্রক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায়। ক্রমবর্ধমান ঋণসংকটের সময় সরকারি রিজার্ভ শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই ২০১৮ সালের বিধিমালায় প্রথম খনি কোম্পানিগুলোকে বৈদেশিক মুদ্রা জমা দিতে বাধ্য করা হয়। ইউয়ান গ্রহণের জন্য এই নিয়ম সম্প্রসারণ করে কর্তৃপক্ষ এমন একটি বদ্ধ আর্থিক চক্র তৈরি করেছে, যা মুদ্রার অন্তঃপ্রবাহ ও বহিঃপ্রবাহের মধ্যে সামঞ্জস্য আনে। চীনা খনি কোম্পানিগুলো প্রায়ই চীনে তামা রপ্তানির অর্থ রেনমিনবিতে পায়। এখন তারা সেই ইউয়ান সরাসরি জাম্বিয়া সরকারের কাছে দিতে পারে, যা দিয়ে সরকার চীনা ঋণ পরিশোধ করতে পারবে।
এতে দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। আগে জাম্বিয়া খনি কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ডলার পাওয়ার পর ঋণ পরিশোধের জন্য তা আবার ইউয়ানে রূপান্তর করত। প্রতিটি লেনদেনে ব্যাংক ফি এবং বিনিময় হারের ব্যবধানজনিত ব্যয় হতো। মুদ্রা ঘুরিয়ে আবার বিনিময়ের এই ধাপ বাদ পড়ায় প্রতিটি অর্থ স্থানান্তরে সাশ্রয় হবে। তারল্যসংকটে থাকা একটি দেশের জন্য এই সাশ্রয় গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থনৈতিক চাপ ও বাস্তবসম্মত সমাধান
ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টল ল স্কুলের প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক ড. চার্লস ম্যাক রাজনৈতিক পক্ষাবলম্বনের বদলে অর্থনৈতিক বাস্তববাদিতার আলোকে এই পদক্ষেপকে দেখছেন। তাঁর মতে, তীব্র তারল্যসংকটেরই প্রতিক্রিয়া এই সিদ্ধান্ত।
তীব্র তারল্যচাপের মুখে থাকা কোনো সরকারের জন্য তার সবচেয়ে বড় ঋণদাতা ও বাণিজ্যিক অংশীদারের মুদ্রা গ্রহণ করা লেনদেনের খরচ কমানো, লেনদেন ভারসাম্যের চাপ সামলানো এবং আরও দক্ষতার সঙ্গে ঋণ পরিশোধের একটি যৌক্তিক উপায়।
ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড পার্টি ফর ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেছে। দলটির গণমাধ্যমবিষয়ক পরিচালক মার্ক সিমুউয়ে এই নীতিকে কাঠামোগত অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতি বাস্তববাদী প্রতিক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, জাম্বিয়ার সবচেয়ে বড় দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতা চীন, পাশাপাশি দেশটির তামা রপ্তানির প্রধান ক্রেতাও।
জাম্বিয়ার বাণিজ্যিক বাস্তবতা, ঋণের ধরন এবং খনি খাতের কাঠামোর ভিত্তিতে নেওয়া এই নীতিগত অবস্থান একটি বাস্তববাদী, কৌশলগত ও অর্থনৈতিক বিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত।
ঋণ পরিশোধের বাইরেও সুনির্দিষ্ট কিছু সুবিধার কথা তুলে ধরেছেন সিমুউয়ে। ইউয়ান ব্যবহার করলে মুদ্রা বিনিময়ের সময় বিনিময় হারের ওঠানামার ঝুঁকি কমে। নিউইয়র্কভিত্তিক তৃতীয় পক্ষের ক্লিয়ারিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত লেনদেন ব্যয়ও কমে, ফলে সরকার ও বেসরকারি খাতের কার্যক্রম সহজ হয়।
মহাদেশজুড়ে একই প্রবণতা
ইউয়ানের দিকে ঝুঁকছে শুধু জাম্বিয়া নয়। কেনিয়া এরই মধ্যে একই পথে এগিয়েছে। দেশটি চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের কাছ থেকে নেওয়া পাঁচ বিলিয়ন ডলারের রেলওয়ে ঋণ ইউয়ানে নির্ধারিত দায়ে রূপান্তর করেছে। নাইরোবির আশা, অপ্রয়োজনীয় মুদ্রা বিনিময় বাদ দেওয়ায় এই পুনর্গঠন থেকে বছরে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে।
ইথিওপিয়াও এ ধরনের ব্যবস্থা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে। জাম্বিয়া নিজেও ইঙ্গিত দিয়েছে, আরও কিছু ঋণ ইউয়ানে রূপান্তর করা হতে পারে। বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি অব্যাহত থাকায় ডলারে নির্ধারিত ঋণের বিকল্প খুঁজছে বিভিন্ন দেশ। আফ্রিকাজুড়ে বৃহত্তর পরিবর্তনের অংশ এসব পদক্ষেপ।
এই প্রবণতা বাণিজ্যের পরিবর্তিত ধরনকেও তুলে ধরে। অধিকাংশ আফ্রিকান দেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হয়ে উঠেছে চীন। দেশটি মহাদেশের অধিকাংশ খনিজ রপ্তানি কেনে এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের মাধ্যমে অবকাঠামো সরবরাহ করে। বাণিজ্যিক সম্পর্ক গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব প্রবাহের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আর্থিক কাঠামোও বদলাচ্ছে।
বেইজিংয়ের মুদ্রাসংক্রান্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষা
চীনের জন্য আফ্রিকার খনি ও সরকারি অর্থায়নে ইউয়ানের ব্যবহার বাড়া দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের পথে অগ্রগতি। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বেইজিং তার মুদ্রার আন্তর্জাতিক ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এর লক্ষ্য বৈশ্বিকভাবে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং সম্ভাব্য পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা থেকে নিজেদের আর্থিক খাতকে সুরক্ষিত রাখা।
এই অগ্রগতি হয়েছে ধীরগতিতে। বৈশ্বিক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইউয়ানের অংশ এখনো দুই শতাংশের কম। তবে গত পাঁচ বছরে বাণিজ্য অর্থায়নে এর অংশ প্রায় দুই শতাংশ থেকে বেড়ে সাত শতাংশের কাছাকাছি হয়েছে। এই উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বাস্তব সুযোগের মেলবন্ধন ঘটানোর পরীক্ষাক্ষেত্র হয়ে উঠেছে আফ্রিকা।
সম্পদসমৃদ্ধ অথচ ঋণভারাক্রান্ত অর্থনীতির কারণে ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ানোর জন্য মহাদেশটি আদর্শ ক্ষেত্র। চীনের কাছে উল্লেখযোগ্য ঋণ রয়েছে এবং দেশটিতে পণ্য রপ্তানি করে—এমন দেশগুলো ডলার পুরোপুরি এড়িয়ে স্বাভাবিক মুদ্রা প্রবাহের চক্র তৈরি করতে পারে। আফ্রিকান এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক এবং দক্ষিণ আফ্রিকার স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ইতিমধ্যে চীনের ক্রস-বর্ডার ইন্টারব্যাংক পেমেন্ট সিস্টেমে যুক্ত হয়েছে। SWIFT নেটওয়ার্কের বিকল্প এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা সরাসরি রেনমিনবিতে লেনদেন নিষ্পত্তি করতে পারেন।
দক্ষতা ও নির্ভরতার মধ্যে ভারসাম্য
ইউয়ান গ্রহণের অর্থনৈতিক যুক্তি জোরালো মনে হলেও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। চীনা মুদ্রার ওপর বেশি নির্ভরতা বেইজিংয়ের ওপর নির্ভরতা আরও বাড়াতে পারে এবং ভবিষ্যতে নীতিগত নমনীয়তা সীমিত করতে পারে। ডলারের তুলনায় ইউয়ানের বিনিময়যোগ্যতা কম; এর বিনিময় হার শুধু বাজারের শক্তির ওপর নয়, চীনের নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপরও নির্ভরশীল।
সম্পদনির্ভর দেশগুলোকে তাৎক্ষণিক ব্যয় সাশ্রয়ের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত বিবেচনার ভারসাম্য করতে হবে। বিপুল ইউয়ান রিজার্ভ জমলে চীনের আর্থিক বাজারে প্রবেশাধিকার সীমিত হওয়ার ক্ষেত্রে নির্ভরতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। কোনো একক অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি না করে বহু মুদ্রার পোর্টফোলিও পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে উন্নত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
জাম্বিয়ায় ডেন্টনসের স্থানীয় ইউনিটের জ্যেষ্ঠ অংশীদার জোসেফ জালাসি বলেন, এই ব্যবস্থা সফলভাবে বাস্তবায়ন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা নীতি এবং মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির ওপর নির্ভর করছে। খনি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা বজায় রাখতে স্বচ্ছ কার্যপদ্ধতিগত নির্দেশনা অত্যাবশ্যক হবে।
আগামীর জন্য একটি দৃষ্টান্ত
এসব সতর্কতা সত্ত্বেও একই পরিস্থিতির মুখে থাকা আফ্রিকার অন্য দেশগুলোর জন্য জাম্বিয়ার এই পরীক্ষা একটি বাস্তবসম্মত দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। এই মডেলের জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট শর্ত দরকার: চীনের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, চীনা ঋণদাতাদের কাছে বড় অঙ্কের ঋণ এবং বহু মুদ্রায় কার্যক্রম পরিচালনার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা।
চীনে স্বর্ণ রপ্তানি এবং ক্রমবর্ধমান অবকাঠামো ঋণের কারণে ঘানা হতে পারে পরবর্তী সম্ভাব্য দেশ। খনি খাতে উল্লেখযোগ্য চীনা বিনিয়োগ রয়েছে তানজানিয়ায়; প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়লে দেশটিও একই পথে এগোতে পারে। আঞ্চলিক এই নজির ইঙ্গিত দিচ্ছে, জাম্বিয়ায় পরীক্ষামূলক কর্মসূচি হিসেবে শুরু হওয়া উদ্যোগ আগামী বছরগুলোতে মহাদেশের বিভিন্ন খনি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এই রূপান্তর সরকারি অর্থায়নের বাইরেও বিস্তৃত। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বহুজাতিক খনি কোম্পানিগুলোকে এখন বহু মুদ্রায় লেনদেনের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। কানাডার ফার্স্ট কোয়ান্টাম মিনারেলস ও ব্যারিক গোল্ড—যারা জাম্বিয়ার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ তামা উৎপাদন করে—প্রচলিত ডলার পরিশোধের পাশাপাশি নতুন ইউয়ান ব্যবস্থার সঙ্গেও মানিয়ে নিতে হবে। চায়না ননফেরাস মাইনিংসহ চীনা কোম্পানিগুলোর অর্থায়ন, রপ্তানি আয় ও করের দায়ের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই সামঞ্জস্য রয়েছে।
২০০৯ সালের পর বার্ষিক হিসাবে তামার দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ফলে এসব মুদ্রাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের গুরুত্বও বেড়েছে। উৎপাদনশীল খনি সম্পদের প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে, আর কর পরিশোধের কার্যগত দক্ষতা মহাদেশজুড়ে বিনিয়োগের প্রবাহকে প্রভাবিত করতে পারে।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৫ সালের অক্টোবরে খনি খাতের কর ও রয়্যালটি বাবদ চীনা ইউয়ান গ্রহণকারী প্রথম আফ্রিকান দেশ হয় জাম্বিয়া
- চীনা খনি কোম্পানিগুলো এখন রেনমিনবিতে কর পরিশোধ করতে পারে, যার ফলে জাম্বিয়ার চীনা ঋণ শোধের সরাসরি পথ তৈরি হয়েছে
- লেনদেন সহজ করতে ব্যাংক অব জাম্বিয়া আনুষ্ঠানিক রেনমিনবি-য়াচা বিনিময় হার প্রকাশ করে
- কেনিয়া চীনা রেলওয়ে ঋণের পাঁচ বিলিয়ন ডলার ইউয়ানে নির্ধারিত ঋণে রূপান্তর করেছে; এতে বছরে ২৫০ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয়ের আশা করা হচ্ছে
- ইথিওপিয়া একই ধরনের ঋণব্যবস্থা খতিয়ে দেখছে, যা ইউয়ান ব্যবহারের দিকে মহাদেশজুড়ে বৃহত্তর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়
- বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ভূরাজনৈতিক পক্ষাবলম্বনের বদলে ডলারের তারল্যসংকটের বাস্তবসম্মত প্রতিক্রিয়া
- উল্লেখযোগ্য চীনা বাণিজ্য ও ঋণসম্পর্ক রয়েছে—এমন আফ্রিকার অন্য সম্পদসমৃদ্ধ দেশগুলোর জন্য এই নীতি সম্ভাব্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে






