দুই ভাগে বিভক্ত এক দেশ
ভারত জনমিতিক পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। ঐক্যবদ্ধ "জনমিতিক লভ্যাংশের" বহুল প্রচারিত বয়ানটি ভেঙে আঞ্চলিক বৈচিত্র্যের জটিল চিত্রে রূপ নিচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (IIMAD) এবং পপুলেশন ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়ার (PFI) নতুন এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশটি আর জনসংখ্যার একক গতিপথে এগোচ্ছে না। বরং দ্রুত বর্ধনশীল তরুণ উত্তরাঞ্চল এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠী ও স্থিতিশীল জনসংখ্যার দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে গভীর বিভাজন দেখা যাচ্ছে। এই জনমিতিক বিভেদের অর্থনীতি, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর মৌলিক ভিত্তির ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে।
সূচিপত্র
"ভারতের জনমিতিক ভবিষ্যৎ উন্মোচন: রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর জনসংখ্যা প্রক্ষেপণ, ২০২১-২০৫১" শীর্ষক প্রতিবেদনে কোহর্ট-কম্পোনেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে, ২০২১ সালে ভারতের জনসংখ্যা ১৩৫ কোটি থেকে বেড়ে ২০৫১ সাল নাগাদ প্রায় ১৫৯ কোটিতে দাঁড়াবে। এই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করছে, ভারত বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল দেশ থাকবে। তবে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার কমে দাঁড়াবে মাত্র ০.৫ শতাংশে। এই মন্থরতা কার্যত কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিক ও একাডেমিক আলোচনায় আধিপত্য বিস্তার করা "জনসংখ্যা বিস্ফোরণ" নিয়ে আতঙ্কের অবসান ঘটাচ্ছে। তবে ভারতের জনসংখ্যা স্থিতিশীল হওয়ার লক্ষ্য, যা ২০০০ সালের জাতীয় জনসংখ্যা নীতিতে মূলত ২০৪৫ সালের মধ্যে অর্জনের কথা ছিল, এখন অধরা বলেই মনে হচ্ছে এবং এতে আরও দুই দশক সময় লাগতে পারে।
বিপরীতমুখী গতিপথ
তথ্য-উপাত্তে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য যে বিষয়টি উঠে এসেছে, তা হলো হিন্দিভাষী বলয় ও দক্ষিণের রাজ্যগুলোর মধ্যে তীব্র বৈপরীত্য। বিহার, উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান ও মধ্য প্রদেশসহ উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে বার্ষিক গড় জনসংখ্যা প্রবৃদ্ধির হার জাতীয় গড়ের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হবে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। ১.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণ নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বিহার, এরপর উত্তর প্রদেশে এই হার ০.৯ শতাংশ। আগামী কয়েক দশকে সামগ্রিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির সিংহভাগই হবে এই রাজ্যগুলোতে।
এর বিপরীতে, দক্ষিণের রাজ্য—কেরালা, তামিলনাড়ু, অন্ধ্র প্রদেশ ও তেলেঙ্গানায়—প্রবৃদ্ধির হার জাতীয় গড়ের বেশ নিচে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব অঞ্চলে প্রজনন হার কমে আসার প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন হয়েছে এবং তারা জনসংখ্যা স্থিতিশীলতার পর্যায়ে পৌঁছানোর কাছাকাছি, যেখানে প্রবৃদ্ধির হার প্রায় শূন্য। শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ জাতীয় জনসংখ্যায় দক্ষিণাঞ্চলের অংশ ২০ শতাংশ থেকে কমে ১৭ শতাংশে দাঁড়াবে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। বিপরীতে, উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের সম্মিলিত অংশ ৪৮.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫২.৭ শতাংশে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে ভারতের জনমিতিক ভারকেন্দ্র কার্যত উত্তর দিকে সরে যাবে।
ভারতের সামনে দারুণ এক সুযোগের সময় রয়েছে, তবে তা আর প্রায় দুই দশকই থাকবে," বলেন পপুলেশন ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়ার নির্বাহী পরিচালক পুনম মুত্তরেজা। "তরুণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সামর্থ্য আমাদের আছে। তবে এর সুফল পেতে চাইলে কিশোর-কিশোরীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যৌনস্বাস্থ্যে এখনই বিনিয়োগ করতে হবে।
বয়সের ব্যবধান স্পষ্ট হচ্ছে
প্রবৃদ্ধির হারের এই বৈপরীত্য অঞ্চলগুলোর মধ্যে প্রজন্মগত ব্যবধান তৈরি করছে। ২০৩৬ সাল নাগাদ তামিলনাড়ুর গড় বয়সী পুরুষের বয়স বিহারের গড় বয়সী পুরুষের চেয়ে ১২ বছরের বেশি হবে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। কেরালা ১৯৯৮ সালেই প্রতিস্থাপন-স্তরের প্রজনন হার—প্রতি নারীর ২.১ সন্তান—অর্জন করেছে। বিহার এই মাইলফলকে পৌঁছাবে ২০৩৯ সালের আগে নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর অর্থ, দক্ষিণাঞ্চল যখন বয়স্ক সমাজের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে, উত্তরাঞ্চলে তখনও বিপুলসংখ্যক তরুণ থাকবে। ২০১১ সালে ভারতের জনসংখ্যা পিরামিডের ভিত্তি ছিল প্রশস্ত, যা একটি তরুণ জনগোষ্ঠীর চিরাচরিত চিত্র। ২০৫১ সাল নাগাদ জাতীয় পর্যায়ে পিরামিডটি আরও আয়তাকার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা বয়সের ভারসাম্যপূর্ণ, তবে ক্রমশ বয়স্ক হয়ে ওঠা জনসংখ্যার প্রতিফলন। তবে এই জাতীয় গড়ের আড়ালে রয়েছে ভিন্ন বাস্তবতা: উত্তরে জনসংখ্যার ভিত্তি তরুণদের ভারে প্রশস্ত থাকবে, আর দক্ষিণে প্রবীণ নাগরিকদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় ওপরের অংশ ভারী হবে।
প্রতিনিধিত্ব নিয়ে রাজনৈতিক লড়াই
জনসংখ্যার এই অসমতা ২০২৬ সালের নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়ার আগে উচ্চঝুঁকির রাজনৈতিক সংকটকে উসকে দিচ্ছে। জনসংখ্যার তথ্যের ভিত্তিতে সংসদীয় আসনের সীমানা নতুন করে নির্ধারণের এই প্রক্রিয়াকে ডিলিমিটেশন বলা হয়। ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, জনসংখ্যার ভিত্তিতে রাজ্যগুলোকে লোকসভায়—সংসদের নিম্নকক্ষে—আসন বরাদ্দ করতে হবে। তবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে উৎসাহিত করতে ১৯৭১ সালের আদমশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে আসন বরাদ্দ স্থির রাখা হয়েছে। ২০২৬ সালে অনুষ্ঠেয় আদমশুমারির পর এই স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। এতে দক্ষিণের রাজ্যগুলো আশঙ্কা করছে, তাদের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যাপকভাবে কমে যাবে।
প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, বর্তমান জনসংখ্যার ভিত্তিতে সীমানা পুনর্নির্ধারণ হলে ক্ষমতার বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে। উত্তর প্রদেশ, বিহার ও মধ্য প্রদেশের মতো উত্তরাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে আসন বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, কেরালা, তামিলনাড়ু ও অন্ধ্র প্রদেশের মতো দক্ষিণের রাজ্যগুলো প্রতিনিধিত্ব হারাতে পারে। হিসাব অনুযায়ী, উত্তরের রাজ্যগুলো ৪৩টি পর্যন্ত আসন পেতে পারে, আর দক্ষিণের রাজ্যগুলো হারাতে পারে ২৪টি আসন। দক্ষিণের নেতাদের মতে, পরিবার পরিকল্পনা ও উন্নয়ন নীতি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য তাদের শাস্তি দেওয়ার শামিল হবে এটি। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন এই পরিস্থিতিকে "দক্ষিণ ভারতের মাথার ওপর ঝুলে থাকা ড্যামোক্লিসের তরবারি" বলে বর্ণনা করেছেন।
দক্ষিণের রাজ্যগুলোর যুক্তি, জাতীয় জিডিপি ও কর রাজস্বে তাদের অবদান জনসংখ্যার অনুপাতের তুলনায় বেশি। উদাহরণস্বরূপ, ভারতের জিডিপিতে তামিলনাড়ুর অবদান প্রায় ৮.৪ শতাংশ, অথচ জনসংখ্যায় এর অংশ মাত্র ৬.৫ শতাংশ। শুধু জনসংখ্যার ভিত্তিতে তাদের সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব কমানো অন্যায্য এবং "সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয়তা"র ধারণাকে দুর্বল করে বলে তাদের দাবি। অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলের নেতারা বলছেন, "এক ব্যক্তি, এক ভোট"—গণতন্ত্রের এই নীতি অনুযায়ী বৃহত্তর জনসংখ্যার জন্য প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো দরকার। এসব অঞ্চলে অবকাঠামো ও উন্নয়নের চাহিদাও তুলনামূলক বেশি।
অর্থনৈতিক প্রভাব ও শ্রমিকের চলাচল
জনমিতিক বিভাজন ভারতের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিচ্ছে, বিশেষত শ্রমবাজার ও অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের ক্ষেত্রে। দক্ষিণাঞ্চলে কর্মক্ষম বয়সী মানুষের সংখ্যা কমে আসা এবং জনগোষ্ঠী বয়স্ক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে শ্রমিকের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। বিপরীতে, উত্তরে বিপুলসংখ্যক তরুণ শ্রমিক চাকরির বাজারে প্রবেশ করছে। এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণমুখী অভিবাসনের নতুন প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। বিহার ও উত্তর প্রদেশের মতো রাজ্য থেকে শ্রমিকেরা বেঙ্গালুরু, চেন্নাই ও হায়দরাবাদের মতো দক্ষিণের অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পাড়ি জমাচ্ছেন।
কখনো "প্রতিস্থাপন অভিবাসন" নামে পরিচিত এই চলাচলকে কিছু অর্থনীতিবিদ দেশের জনমিতিক ভারসাম্যহীনতা সামাল দেওয়ার প্রয়োজনীয় উপায় হিসেবে দেখেন। অভিবাসীরা দক্ষিণে শ্রমিকের ঘাটতি পূরণ, স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখা এবং উত্তরের নিজ রাজ্যে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুযোগ তৈরি করতে পারেন। তবে এই প্রবাহ দক্ষিণের কয়েকটি রাজ্যে স্থানীয়তাবাদী মনোভাব ও রাজনৈতিক বক্তব্যও উসকে দিয়েছে। সেখানে স্থানীয়দের মধ্যে চাকরি ও সম্পদের প্রতিযোগিতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কর্ণাটকের মতো রাজ্য স্থানীয়দের জন্য চাকরি সংরক্ষণের আইন করার কথাও বিবেচনা করেছে, যদিও এ ধরনের পদক্ষেপ আইনি ও সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।
জনমিতির পরিবর্তনে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে ভারতের অভিবাসনের ধরনও বদলে যাচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে, দক্ষিণের রাজ্য কেরালা উপসাগরীয় দেশগুলোর শ্রমিকের একটি বড় উৎস ছিল। কেরালায় কর্মক্ষম বয়সী মানুষের সংখ্যা কমে আসায় উপসাগরীয় দেশগুলোতে অভিবাসনের প্রবাহ উত্তর দিকে সরে যাচ্ছে। তথ্য-উপাত্তে দেখা যায়, কেরালা ও তামিলনাড়ুর শ্রমিকদের জন্য দেওয়া বহির্গমন ছাড়পত্রের সংখ্যা দ্রুত কমেছে। অন্যদিকে, পশ্চিম এশিয়াগামী শ্রমিকদের মধ্যে উত্তর প্রদেশ ও বিহারের মতো উত্তরাঞ্চলের রাজ্যগুলোর অংশ এখন উল্লেখযোগ্য এবং বাড়ছে। এই পরিবর্তন রেমিট্যান্সের ওপর প্রভাব ফেলছে, যা ভারতের অনেক রাজ্যের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ
জনমিতিক পরিবর্তনের ছাপ ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। প্রজনন হার কমে আসায় স্কুলপড়ুয়া শিশুর সংখ্যা কমছে, ফলে শিক্ষার্থী ভর্তির হারও হ্রাস পাচ্ছে। ইউনিফায়েড ডিস্ট্রিক্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ফর এডুকেশনের (UDISE+) তথ্য অনুযায়ী, প্রাক্-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তিতে বড় ধরনের পতন হয়েছে। ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১ কোটি ৩৪ লাখ। এর ফলে সারা দেশে প্রায় ৮০ হাজার স্কুল বন্ধ বা একীভূত করতে হয়েছে, যার মধ্যে ৭০ হাজার সরকারি স্কুল।
শিক্ষার্থী ভর্তির হার কমার প্রভাব ভৌগোলিকভাবে অসম। শিশু কম থাকায় দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে "অর্থনৈতিকভাবে অলাভজনক" স্কুল বন্ধ হচ্ছে। অন্যদিকে, আগের প্রজন্মের তুলনায় সন্তান কম থাকা সত্ত্বেও উত্তরাঞ্চলের অভিভাবকেরা উন্নত মানের শিক্ষার আশায় সরকারি স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান হারে বেসরকারি স্কুলে পাঠাচ্ছেন। এই প্রবণতা দেখায়, সরকারকে শিক্ষাব্যবস্থার অবকাঠামোতে পরিবর্তন আনতে হবে। দক্ষিণে স্কুলের অবকাঠামোকে পেশাগত প্রশিক্ষণ বা প্রবীণদের সেবার মতো অন্য কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। অন্যদিকে, চাহিদা সামলাতে উত্তরে সরকারি শিক্ষার মান বাড়ানো প্রয়োজন।
কর্মসংস্থানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। ভারতের কর্মক্ষম বয়সী জনসংখ্যা—১৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সীরা—২০৪১ সালে সর্বোচ্চ ১০১ কোটিতে পৌঁছাবে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। এই জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগাতে অর্থনীতিতে প্রতি বছর লাখ লাখ নতুন চাকরি তৈরি করতে হবে। তবে বর্তমান তথ্য-উপাত্তে তরুণদের মধ্যে উচ্চ বেকারত্ব এবং দক্ষতার সঙ্গে চাকরির চাহিদার অমিল দেখা যাচ্ছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের শ্রমশক্তির মাত্র ২০ শতাংশ দক্ষ, যেখানে উন্নত দেশগুলোতে বৈশ্বিক গড় ৮০ শতাংশ। দক্ষতা উন্নয়নে জরুরি বিনিয়োগ এবং শ্রমঘন উৎপাদন খাতকে চাঙা করতে কাঠামোগত অর্থনৈতিক সংস্কার না হলে, ভারত তার জনমিতিক লভ্যাংশকে জনমিতিক বিপর্যয়ে পরিণত করার ঝুঁকিতে রয়েছে। তখন বিপুলসংখ্যক বেকার তরুণ সামাজিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে।
যা জানা জরুরি
- ভারতের জনসংখ্যা ২০২১ সালের ১৩৬ কোটি থেকে বেড়ে ২০৫১ সাল নাগাদ ১৫৯ কোটিতে পৌঁছাবে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। প্রবৃদ্ধির হার কমে দাঁড়াবে ০.৫ শতাংশে।
- উত্তরের রাজ্যগুলোতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ও তরুণ জনগোষ্ঠী, আর দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে নিম্ন প্রবৃদ্ধি ও বয়স্ক জনগোষ্ঠী নিয়ে তীব্র জনমিতিক বিভাজন রয়েছে।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির উল্লেখযোগ্য অংশ আসবে বিহার ও উত্তর প্রদেশ থেকে, আর কেরালা ও তামিলনাড়ুতে জনসংখ্যা স্থিতিশীল হওয়া ও কমে আসার চিত্র দেখা যাচ্ছে।
- ২০২৬ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় দক্ষিণের রাজ্যগুলোর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কমে এবং উত্তরের প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- ২০১৮ সালের পর থেকে স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তি ১ কোটি ৩৪ লাখ কমেছে, যার ফলে কয়েক হাজার স্কুল বন্ধ হয়েছে।
- বয়স্ক জনগোষ্ঠীর দক্ষিণের অর্থনীতিতে শ্রমিকের ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের প্রবাহ দক্ষিণমুখী হচ্ছে।
- ভারতের জনমিতিক লভ্যাংশের সুযোগ ২০৪১ সালের দিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ জন্য এখনই কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নে জোর দিতে হবে।






