বিশ্বজুড়ে মেমোরির ঘাটতি যেভাবে বদলে দিচ্ছে প্রযুক্তি শিল্পকে
মেমোরি চিপ আধুনিক কম্পিউটিংয়ের ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহের লাইনের মতো কাজ করে। এনভিডিয়ার মতো প্রতিষ্ঠানের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ইঞ্জিন যত শক্তিশালী হচ্ছে, সেগুলোর তত বেশি মেমোরি প্রয়োজন হচ্ছে—প্রচলিত ধরনের মেমোরির পাশাপাশি হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি বা এইচবিএম নামে পরিচিত উন্নত এক ধরনের মেমোরিও। চাহিদার এই উল্লম্ফনে বিশ্বজুড়ে তীব্র ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব ডেটা সেন্টার থেকে ভোক্তা ইলেকট্রনিকস পর্যন্ত প্রযুক্তি সরবরাহশৃঙ্খলের সব স্তরে ছড়িয়ে পড়ছে।
সূচিপত্র
- বিশ্বজুড়ে মেমোরির ঘাটতি যেভাবে বদলে দিচ্ছে প্রযুক্তি শিল্পকে
- চীনের ডিআরএএম প্রতিদ্বন্দ্বীর উত্থান
- ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিতে কয়েক শ কোটি ডলারের বাজি
- পুরোনো পণ্য থেকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে
- হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরির প্রতিযোগিতা
- বৈশ্বিক মূল সরঞ্জাম নির্মাতারা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাধ্য
- ভূরাজনৈতিক বাধা ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা
- প্রযুক্তিগত ব্যবধানের চ্যালেঞ্জ
- বাণিজ্যিক গোপনীয়তা চুরির অভিযোগ ও আইনি লড়াই
- চীনের বৃহত্তর সেমিকন্ডাক্টর কৌশল
- বিশ্বের মেমোরি বাজারের ভবিষ্যৎ
- সামনের পথ
- মূল বিষয়গুলো
এখন একটি এআই সার্ভারে যত ডায়নামিক র্যান্ডম-অ্যাকসেস মেমোরি বা ডিআরএএম লাগে, তা পুরো একটি বহরের ল্যাপটপের চেয়েও বেশি। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রেন্ডফোর্সের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গত প্রান্তিকের তুলনায় চলতি প্রান্তিকে প্রচলিত ডিআরএএমের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে। এআই ডেটা সেন্টারগুলোর এই নজিরবিহীন চাহিদা চিপ উৎপাদন সক্ষমতার এমন অংশ দখল করছে, যা অন্যথায় কম্পিউটার, ভিডিও গেম কনসোল ও স্মার্টফোন নির্মাতাদের জন্য বরাদ্দ হতো। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের দাম বাড়ছে এবং নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
এই অস্থির পরিস্থিতিতে এগিয়ে আসছে চীনের মেমোরি চিপ নির্মাতা জাতীয় চ্যাম্পিয়ন চ্যাংশিন মেমোরি টেকনোলজিস, সংক্ষেপে সিএক্সএমটি। উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পর প্রতিষ্ঠানটি ৪০০ কোটি ডলারের শেয়ার ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকা শিল্পটিকে ওলটপালট করার চেষ্টা করছে তারা। এ শতাব্দীর চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সবচেয়ে বড় শেয়ার ছাড়গুলোর একটি হতে যাচ্ছে এটি; বিশ্ব সেমিকন্ডাক্টর খাতের জন্যও আসছে এক সংকটময় মুহূর্তে।
চীনের ডিআরএএম প্রতিদ্বন্দ্বীর উত্থান
২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং হেফেইয়ে সদর দপ্তর থাকা সিএক্সএমটি সরকারি সহায়তা ও কৌশলগত প্রযুক্তি অধিগ্রহণের সমন্বয়ে দ্রুত চীনের বৃহত্তম ডিআরএএম উৎপাদক হয়ে উঠেছে। বিলুপ্ত জার্মান মেমোরি চিপ নির্মাতা কিমোন্ডার কাছ থেকে পেটেন্ট অধিগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি শুরুতে নিজেদের ভিত্তি তৈরি করে, যা উন্নয়নের প্রাথমিক পথ খুলে দেয়। উৎপাদনের পরিমাণের হিসাবে সিএক্সএমটি ইতিমধ্যে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম ডিআরএএম নির্মাতা। স্মার্টফোন ও পিসি থেকে শুরু করে চীনের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবহৃত সার্ভার—সবকিছুর জন্যই মেমোরি সরবরাহ করে তারা।
২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে সিএক্সএমটির বাজার অংশীদারত্ব দাঁড়ায় ৪.১ শতাংশে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রেন্ডফোর্সের পূর্বাভাস বলছে, ২০২৭ সালের মধ্যে তা বেড়ে ৭ থেকে ১০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির আয় বছরওয়ারি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে এবং তারা আবার মুনাফায় ফেরার আশা করছে। এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে ডিআরএএমের দাম বেড়ে যাওয়া; এআই অবকাঠামো, ক্লাউড সেবা প্রদানকারী এবং ডিভাইস নির্মাতারা সীমিত মেমোরি চিপের সরবরাহের জন্য প্রতিযোগিতা করছে।
প্রতিষ্ঠিত শিল্পনেতাদের নজর এ দ্রুত উত্থান এড়ায়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে হাইনিক্স এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মাইক্রন টেকনোলজি বহু বছর ধরে বৈশ্বিক মেমোরি বাজার নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। চীনের একজন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীর আবির্ভাব এই নাজুক ভারসাম্য নষ্ট করার হুমকি তৈরি করেছে, বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টরে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে বেইজিংয়ের শিল্পনীতির বড় ধরনের সহায়তা পাচ্ছে সিএক্সএমটি।
ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিতে কয়েক শ কোটি ডলারের বাজি
সাংহাইয়ের স্টার মার্কেটে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার তোলার পরিকল্পনা নিয়ে দেশের পুঁজিবাজারে প্রবেশের প্রক্রিয়া দ্রুত করছে সিএক্সএমটি। চায়না সিকিউরিটিজ রেগুলেটরি কমিশনে (সিএসআরসি) “তালিকাভুক্তি নির্দেশনা”র জন্য নিবন্ধন করে জুলাইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আইপিও প্রক্রিয়া শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্লেষকেরা আশা করছেন, এ বছরই প্রস্তাবটি সম্পন্ন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কয়েক বছরের মধ্যে এটি হবে দেশের বৃহত্তম সেমিকন্ডাক্টর শেয়ার ছাড়গুলোর একটি।
প্রস্তাবটির প্রধান আন্ডাররাইটার হিসেবে চায়না ইন্টারন্যাশনাল ক্যাপিটাল করপোরেশন বা সিআইসিসি এবং সিটিআইসি সিকিউরিটিজকে নিয়োগ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সর্বশেষ অর্থায়ন পর্বে সিএক্সএমটির মূল্যায়ন হয়েছে বলে জানা গেছে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি ইউয়ান, যা প্রায় ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। এই উচ্চ মূল্যায়ন এআই যুগে প্রতিষ্ঠানের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং মেমোরি প্রযুক্তির কৌশলগত গুরুত্ব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন।
আইপিও থেকে তোলা অর্থ দিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে অর্থায়ন করবে সিএক্সএমটি। প্রতিষ্ঠানটি ওয়েফার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, চিপ তৈরির লাইন আধুনিক করা এবং পরবর্তী প্রজন্মের ডিআরএএম উন্নয়নে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রতিষ্ঠানটির মূল বক্তব্য হলো, উন্নত ডিআরএএম ও এআই-ভিত্তিক মেমোরি প্রযুক্তিতে চীন বর্তমানে বিদেশি সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরশীল; এই খাতে সেমিকন্ডাক্টরে চীনের স্বনির্ভরতার প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করতে সিএক্সএমটির ভূমিকা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই মেমোরি উৎপাদনে চীনের স্বনির্ভরতা অর্জনের পথে এই আইপিও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা কঠোর হওয়ায় চীনের এআই চিপ নির্মাতাদের উন্নত ডিআরএএম ও এইচবিএম উপাদান সংগ্রহে ক্রমেই বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। হুয়াওয়ে, আলিবাবা ও বাইদুর মতো বড় চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নিজেদের এআই অ্যাকসিলারেটর তৈরি করছে; তবে এগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মেমোরি সংগ্রহ করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ, যা মোকাবিলার লক্ষ্য সিএক্সএমটির।
পুরোনো পণ্য থেকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে
শুরুতে ডিডিআর৪ মেমোরির মতো পুরোনো পণ্যে মনোযোগ দিলেও, সম্প্রতি ডিডিআর৫ ও হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি প্রযুক্তি উন্নয়নে প্রচেষ্টা সরিয়ে নিয়েছে সিএক্সএমটি। বাজারের বাস্তবতা ও কৌশলগত অগ্রাধিকার—দুটিই এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে। ডিডিআর৪ এখনো অনেক ভোক্তা ডিভাইসে ব্যবহৃত হয়, তবে এতে মুনাফার হার কম এবং প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাও সীমিত। প্রকৃত সুযোগ—এবং প্রকৃত চ্যালেঞ্জ—লুকিয়ে রয়েছে এআই সিস্টেমে ব্যবহৃত উন্নত মেমোরি পণ্যে।
শিল্প খাত পর্যবেক্ষকদের বর্ণনায়, সিএক্সএমটি মোবাইল ডিআরএএমকে তাদের প্রধান পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে। ২০২৬ সাল পর্যন্ত বছরওয়ারি উৎপাদিত বিটের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে নেতৃত্ব ধরে রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। চীনের স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ও পিসি নির্মাতাদের দেশীয় মেমোরি সরবরাহকারীর চাহিদার সঙ্গে এই মনোযোগ ভালোভাবে মিলে যায়। পাশাপাশি, সাশ্রয়ী দামের ডিভাইসের প্রসার ঘটছে—এমন রপ্তানি বাজারেও সিএক্সএমটির অবস্থান তৈরি হচ্ছে।
হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরির প্রতিযোগিতা
বড় ভাষা মডেল প্রশিক্ষণ এবং উন্নত এআই অ্যাপ্লিকেশন চালানোর জন্য হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে। প্রচলিত ডিআরএএমের বিপরীতে, এইচবিএমে জায়গা বাঁচাতে ও বিদ্যুৎ খরচ কমাতে মেমোরি চিপগুলোকে উল্লম্বভাবে স্তূপ করা হয়; এতে ব্যান্ডউইথও অনেক বেড়ে যায়। জটিল এআই অ্যাপ্লিকেশন থেকে তৈরি বিপুল পরিমাণ ডেটা প্রক্রিয়াকরণের জন্য এই কাঠামো আদর্শ।
বর্তমানে বৈশ্বিক এইচবিএম বাজারের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠানের হাতে: দক্ষিণ কোরিয়ার এসকে হাইনিক্স, যারা সম্প্রতি পর্যন্ত এআই চিপ জায়ান্ট এনভিডিয়ার একমাত্র এইচবিএম সরবরাহকারী ছিল; স্যামসাং; এবং তুলনামূলকভাবে কম অংশে যুক্তরাষ্ট্রের মাইক্রন টেকনোলজি। তিন প্রতিষ্ঠানই সর্বশেষ মানের এইচবিএম৩ চিপ তৈরি করছে এবং এ বছর গ্রাহকদের কাছে পঞ্চম প্রজন্মের এইচবিএম বা এইচবিএম৩ই পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে। এসকে হাইনিক্সের একারই পূর্বাভাস, ২০২৫ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি বছর এইচবিএম বাজার প্রায় ৩০ শতাংশ করে বাড়বে।
এই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থেকে প্রবেশ করলেও অনেকের ধারণার চেয়ে দ্রুত এগোচ্ছে সিএক্সএমটি। প্রতিষ্ঠানটি এইচবিএম২-এর গণউৎপাদন শুরু করেছে, যা বাজারের নেতাদের তুলনায় প্রায় তিন প্রজন্ম পিছিয়ে। তবে সাম্প্রতিক সূত্রের দাবি, চীনা মেমোরি নির্মাতারা আগের পূর্বাভাসের চেয়ে দ্রুত এইচবিএম প্রযুক্তির উন্নতি করেছে। জানা গেছে, সিএক্সএমটি এইচবিএম৩ নিয়ে কাজ করছে এবং ২০২৬ সালে গণউৎপাদনের পরিকল্পনা করছে; ২০২৭ সালের লক্ষ্য এইচবিএম৩ই। তা অর্জন করতে পারলে সিএক্সএমটির সঙ্গে এইচবিএম খাতের নেতাদের ব্যবধান কমে তিন থেকে চার বছরে দাঁড়াবে।
শিল্পের একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি এই অগ্রগতির কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন: “এআই সেমিকন্ডাক্টর বাজার বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এইচবিএম ও সার্ভার ডিআরএএমের গুরুত্ব বেড়েছে। এ কারণেই চীনের বৃহত্তম ডিআরএএম উৎপাদক সিএক্সএমটিকে নিয়ে প্রত্যাশা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিধিনিষেধের কারণে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মেমোরি চিপের ঘাটতি চীনের এআই উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সীমিত করছে। ফলে সিএক্সএমটি ও ওয়াইএমটিসির মতো প্রতিষ্ঠান এইচবিএমসহ অন্যান্য উন্নত এআই মেমোরি সমাধানে গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদার করছে।”
বৈশ্বিক মূল সরঞ্জাম নির্মাতারা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাধ্য
মেমোরির ঘাটতির বাস্তব প্রভাব এআই খাতের বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও পড়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম ব্যক্তিগত কম্পিউটার নির্মাতাদের একটি এইচপি ডিআরএএম সরবরাহের ঘাটতির কারণে চীনা মেমোরি নির্মাতাদের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছে বলে জানা গেছে। ব্যারনসের বিশ্লেষক তাই কিমের ভাষ্য, মাইক্রন ও স্যামসাংয়ের মতো প্রচলিত সরবরাহকারীদের কাছ থেকে সরবরাহ পেতে সমস্যায় পড়ছে এইচপি। তাই উপাদান সরবরাহকারীদের তালিকায় চীনা মেমোরি নির্মাতাদের যুক্ত করার কথা ভাবছে প্রতিষ্ঠানটি।
চীনা মেমোরি ব্যবহার করে এশিয়া ও ইউরোপে “সীমিত” পরিমাণ পণ্য পাঠাতে চাইছে এইচপি বলে জানা গেছে। এটি একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন, কারণ প্রয়োজনের তাগিদে—নিজেদের পছন্দে নয়—চীনা সরবরাহকারীদের কাছ থেকে মেমোরি সংগ্রহের কথা কোনো বড় পশ্চিমা পিসি নির্মাতা এই প্রথম সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। পরিস্থিতি থেকে বোঝা যায়, মেমোরির ঘাটতি কতটা তীব্র হয়েছে এবং তা প্রযুক্তি শিল্পজুড়ে সরবরাহশৃঙ্খল-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলোকে কীভাবে বদলে দিচ্ছে।
এনভিডিয়ার তৈরি নিজস্ব প্রযুক্তিনির্ভর এআই চিপের মতো নয়, মেমোরি চিপ এমন পণ্য যা সহজেই অন্যটির বদলে ব্যবহার করা যায়। তবে চীনা সরবরাহকারীদের কথা ভাবছে—এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে চীন থেকে সেমিকন্ডাক্টর সংগ্রহে যুক্তরাষ্ট্রের বিধিবিধান মেনে চলতে হবে। বর্তমান মেমোরি সরবরাহ পরিস্থিতি এবং বিপুল চাহিদার কথা বিবেচনা করে বিশ্লেষকদের ধারণা, চীনা মেমোরি নির্মাতাদের কাছ থেকে সরবরাহ নেওয়ার বিষয়ে নতুন বিধি চালু হতে পারে। এতে বৈশ্বিক মূল সরঞ্জাম নির্মাতাদের অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে।
ভূরাজনৈতিক বাধা ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা
প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও উচ্চাভিলাষী প্রবৃদ্ধি পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও সিএক্সএমটির সামনে বড় ভূরাজনৈতিক বাধা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরপর কয়েকটি প্রশাসন চীনা চিপ নির্মাতাদের ওপর বিধিনিষেধ কঠোর করেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র নতুন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ঘোষণা করে, যার লক্ষ্য ছিল হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি এবং সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের নানা ধরনের সরঞ্জামে চীনের প্রবেশাধিকার সীমিত করা। এর মধ্যে এইচবিএম তৈরি ও প্যাকেজিংয়ের জন্য অপরিহার্য যন্ত্রপাতিও রয়েছে।
নতুন নিয়মে ১৪০টির বেশি চীনা চিপ নির্মাতা ও চিপ তৈরির সরঞ্জাম নির্মাতাকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এন্টিটি লিস্টে যুক্ত করা হয়, যা কার্যত তাদের মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহারে বাধা দেয়। বিশ্বে তিনটি প্রতিষ্ঠান—এসকে হাইনিক্স, স্যামসাং ও মাইক্রন—যে এইচবিএম খাতের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহপথ নিয়ন্ত্রণ করে, তা কাজে লাগিয়ে চীনের এআই উন্নয়ন আরও সীমিত করাই ছিল এই বিধিনিষেধের উদ্দেশ্য।
রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের তাৎক্ষণিক কার্যকরী প্রভাব রয়েছে। জানা গেছে, এইচবিএম ও ডিআরএএম উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন সরঞ্জাম মজুত করেছে সিএক্সএমটি—যা সম্ভবত ২০২৬ বা ২০২৭ সাল পর্যন্ত কার্যক্রম চালানোর জন্য যথেষ্ট। তবে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা আগামী বছরগুলোতে উন্নত ডিআরএএম ও এইচবিএম উৎপাদনের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের সক্ষমতা সীমিত করবে। ডিসেম্বরের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে এইচবিএম তৈরি ও প্যাকেজিংয়ের জন্য অপরিহার্য সরঞ্জামের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়; এর মধ্যে থ্রু-সিলিকন ভিয়া, এচিং এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার যন্ত্রপাতি রয়েছে।
আরও বড় ক্ষতি হতে পারে এ কারণে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর সরঞ্জাম প্রতিষ্ঠানের যেসব রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী সিএক্সএমটিতে কাজ করতেন, বিধিনিষেধ কঠোর হওয়ার মধ্যে তাদের প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যেতে বলা হয়েছে। এ দক্ষতা ও সহায়তা হারানোর ফলে ডিআরএএম ও এইচবিএম উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ধীর হয়ে যেতে পারে।
প্রযুক্তিগত ব্যবধানের চ্যালেঞ্জ
প্রযুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে বৈশ্বিক নেতাদের সঙ্গে ব্যবধান ঘোচাতে সিএক্সএমটির সামনে বড় বাধা রয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ডি১ওয়াই ও ডি১জেড নোডে ডিআরএএম তৈরি করতে পারে, যে প্রযুক্তিগুলো ১৭ থেকে ১৩ ন্যানোমিটার পরিসরে পড়ে। এই নোডগুলো এইচবিএম২ই ও এইচবিএম৩ প্রজন্মে ব্যবহৃত হয়। সিএক্সএমটির গবেষণা ও উন্নয়ন দল ডি১আলফা ও ডি১বিটা নামের ১৫ ন্যানোমিটারের কম আকারের ডিআরএএম নোড উন্নয়নে কাজ করছে বলে ধারণা করা হয়। এইচবিএম৩ই তৈরির জন্য এসব নোড অপরিহার্য, তবে এক্সট্রিম আলট্রাভায়োলেট লিথোগ্রাফি বা ইইউভি ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
বড় মেমোরি নির্মাতাদের অত্যাধুনিক ডিআরএএম ও এইচবিএম উন্নয়নে ইইউভি এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এই প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার না থাকলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন বা এসএমআইসি যে সমস্যায় পড়েছে, সিএক্সএমটির ক্ষেত্রেও তেমন হতে পারে—উৎপাদন ফলন, ডাইয়ের আকার এবং উৎপাদন সম্প্রসারণে উন্নতি করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে পারে তারা। অত্যাধুনিক ডিআরএএম ও এইচবিএম তৈরির পথে এই বাধা সিএক্সএমটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবন্ধকতা হয়ে থাকতে পারে।
বাণিজ্যিক গোপনীয়তা চুরির অভিযোগ ও আইনি লড়াই
প্রযুক্তিগত ও ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি, বাজারের অংশীদারত্ব বাড়ানোর প্রচেষ্টায় আইনি বাধারও মুখে পড়েছে সিএক্সএমটি। মেমোরি চিপ খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে হাইনিক্সের দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার কৌঁসুলিরা অভিযোগ করেছেন, সিএক্সএমটির উত্থানের পেছনে স্যামসাংয়ের সাবেক কর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া বাণিজ্যিক গোপনীয়তা চুরির ভূমিকা রয়েছে।
মালিকানাধীন ডিআরএএম প্রক্রিয়া প্রযুক্তি সিএক্সএমটির কাছে ফাঁস করার অভিযোগে স্যামসাংয়ের একাধিক সাবেক কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার কৌঁসুলিরা। স্যামসাংয়ের ইঙ্গিত, এসব অভিযোগ ১০ ন্যানোমিটারের মতো উন্নত নোডে সিএক্সএমটির সাম্প্রতিক অগ্রগতির সঙ্গে সম্পর্কিত। পরিস্থিতি তুলে ধরে যে অত্যাধুনিক মেমোরি উন্নয়ন কতটা কঠিন ও সম্পদসাপেক্ষ; পাশাপাশি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, সিএক্সএমটির দ্রুত প্রযুক্তিগত অগ্রগতি পুরোপুরি বৈধ উপায়েই হয়েছে কি না।
“বৈধ গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে হোক বা বিতর্কিত প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে, আধুনিক ডিআরএএম উৎপাদনে অগ্রগতি ধীর, ব্যয়বহুল এবং নানা বাধায় সীমিত। তাই আগ্রাসী সম্প্রসারণ পরিকল্পনা থাকলেও ব্যবহারযোগ্য সরবরাহ দ্রুত বাড়বে—এ নিশ্চয়তা নেই,” মেমোরি বাজার পর্যবেক্ষণকারী এক শিল্প বিশ্লেষক বলেন।
এই অভিযোগ সিএক্সএমটির আন্তর্জাতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষায় জটিলতার আরেকটি স্তর যোগ করেছে। আইনি সমস্যা মিটিয়ে ফেললেও সুনামের ক্ষতির কারণে বৈশ্বিক গ্রাহকেরা সিএক্সএমটির কাছ থেকে মেমোরি নিতে দ্বিধা করতে পারেন—বিশেষ করে মেধাস্বত্ব সুরক্ষা ও সরবরাহশৃঙ্খলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন পশ্চিমা বাজারের গ্রাহকেরা।
চীনের বৃহত্তর সেমিকন্ডাক্টর কৌশল
সিএক্সএমটি বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে না; সেমিকন্ডাক্টরে স্বনির্ভরতা অর্জনে চীনের বৃহত্তর কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এটি। ইয়াংসি মেমোরি টেকনোলজিসের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি: ইয়াংসি যেখানে ন্যান্ড ফ্ল্যাশ মেমোরিতে মনোযোগ দিচ্ছে, সিএক্সএমটির লক্ষ্য ডিআরএএম। একসঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানগুলো বেইজিংয়ের সমন্বিত প্রচেষ্টার মূলভিত্তি, যার লক্ষ্য এমন স্বনির্ভর মেমোরি সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা বিদেশেও প্রতিযোগিতা করতে পারে।
ইয়াংসি মেমোরি টেকনোলজিস, সংক্ষেপে ওয়াইএমটিসি, ন্যান্ড ফ্ল্যাশের চালানে ইতিমধ্যে ১৩ শতাংশ বাজার অংশীদারত্ব অর্জন করেছে বলে জানা গেছে। উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ওপর ভর করে ২০২৬ সালে বিশ্ব চালানে ১৫ শতাংশ অংশীদারত্ব অর্জনের লক্ষ্য নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। উহানে তৃতীয় চিপ কারখানা স্থাপনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে তারা। দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন বাড়াতে উচ্চ ঝুঁকি ও বিপুল মূলধননির্ভর বিনিয়োগে বেইজিং কতটা আগ্রহী, এ প্রকল্প তারই প্রতিফলন। বাজার অংশীদারত্ব, নতুন কারখানা এবং নিষেধাজ্ঞা-প্রতিরোধী সরঞ্জামের সমন্বয় থেকে বোঝা যায়, চীনা মেমোরি প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু ওয়াশিংটনের চাপেই টিকে থাকছে না, বরং দেশীয় সক্ষমতা বাড়াতে সেই চাপকেই অনুঘটক হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বীদের চ্যালেঞ্জ জানানোর ভিত্তি মজবুত করতে ওয়াইএমটিসি ও সিএক্সএমটি—দুই প্রতিষ্ঠানই পুঁজিবাজারের দিকে তাকাচ্ছে। ইয়াংসি মেমোরি টেকনোলজিস চীনের মূল ভূখণ্ডে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের কথা বিবেচনা করছে; অন্যদিকে সিএক্সএমটির লক্ষ্য সাংহাইয়ে ৪২০ কোটি ডলারের শেয়ার তালিকাভুক্ত করা। এসব আইপিওর মাধ্যমে বেইজিং সংকেত দিচ্ছে যে, স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সের সঙ্গে পাল্লা দিতে তাদের মেমোরি খাতের চ্যাম্পিয়নদের পর্যাপ্ত মূলধন দিতে চায়। নতুন কারখানা ও প্রযুক্তি উন্নয়নে এসব প্রতিষ্ঠান প্রতি বছর কয়েক শ কোটি ডলার বিনিয়োগ করে।
বিশ্বের মেমোরি বাজারের ভবিষ্যৎ
বৈশ্বিক মেমোরি বাজারের আমূল রূপান্তরের সময়ে সম্প্রসারণ করছে সিএক্সএমটি। চাহিদার ধরনে কাঠামোগত পরিবর্তনের কারণে উদ্বৃত্ত ও ঘাটতির প্রচলিত চক্র ব্যাহত হচ্ছে। এআইয়ের কাজে বিপুল মেমোরি ব্যবহার হচ্ছে—শুধু উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এইচবিএম নয়, সার্ভার, স্টোরেজ সিস্টেম ও সহায়ক অবকাঠামোর জন্য প্রচলিত ডিআরএএমও।
বড় গ্রাহকেরা ক্রমেই দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি করছে, ফলে খোলাবাজারে পৌঁছানো মেমোরির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এর অর্থ, সিএক্সএমটির সম্প্রসারণ মধ্যমেয়াদে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু ডিডিআর৫-এর দাম এখনো বেশি কেন—তা নিয়ে উদ্বিগ্ন পিসি নির্মাতা বা ভোক্তাদের তাৎক্ষণিক স্বস্তি দেওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং স্বল্পমেয়াদে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, কারণ সিএক্সএমটির মতো প্রতিষ্ঠান উৎপাদন বাড়ানোর সময় স্যামসাং, মাইক্রন ও এসকে হাইনিক্সের সঙ্গে একই উৎপাদন সরঞ্জাম, উপকরণ ও প্রকৌশলী প্রতিভার জন্য প্রতিযোগিতা করবে।
বাজারে এর ফল ইতিমধ্যে দেখা যাচ্ছে: দাম বাড়ছে, সরবরাহ পেতে বেশি সময় লাগছে এবং বাজারের কম দামের অংশে বিকল্প কমছে। শিল্প খাতের পর্যবেক্ষকদের পূর্বাভাস, মেমোরি সরবরাহের সংকট ২০২৮ সাল বা তার পরেও চলতে পারে। এসকে হাইনিক্স ও মাইক্রনের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের নতুন কারখানাগুলো ২০২৭ সালের শেষের আগে উৎপাদনে আসবে না।
সামনের পথ
এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সিএক্সএমটির আবির্ভাব একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বৈশ্বিক নেতাদের সঙ্গে প্রযুক্তিগত ব্যবধান আনুমানিক ছয় থেকে আট বছর থেকে কমে মাত্র তিন থেকে চার বছরে আসার মতো দ্রুত অগ্রগতি প্রযুক্তি উন্নয়নে চীনের রাষ্ট্র-সমর্থিত পদ্ধতির কার্যকারিতা দেখায়।
সিএক্সএমটির তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হলো সফলভাবে আইপিও সম্পন্ন করা এবং সংগৃহীত অর্থ সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় ব্যবহার করা। জটিল আইনি ও নিয়ন্ত্রক পরিস্থিতিও সামলাতে হবে প্রতিষ্ঠানটিকে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এন্টিটি লিস্টে নতুন করে যুক্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে, যা বৈশ্বিক বাজার ও প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার আরও সীমিত করবে। দীর্ঘমেয়াদে সিএক্সএমটিকে দেখাতে হবে, তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম পণ্যের নতুন সংস্করণ আনতে পারে এবং এইচবিএম৪ বাজারে আনা ও এইচবিএম৪ইয়ের পরিকল্পনা করা এসকে হাইনিক্সের মতো প্রতিষ্ঠানের আগ্রাসী গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে।
বৈশ্বিক মেমোরি বাজারের জন্য এর তাৎপর্য গভীর। উৎপাদন দক্ষতার সঙ্গে বাড়াতে পারলে সিএক্সএমটি শেষ পর্যন্ত চাহিদার প্রবৃদ্ধির কিছুটা ভার নিতে পারে, যে প্রবৃদ্ধি এখন দাম বাড়াচ্ছে। বহু বছর ধরে তিনটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে থাকা বাজারে এটি আরেকটি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীও যোগ করবে, যা সাধারণত প্রতিযোগিতার জন্য ইতিবাচক। তবে ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে বাণিজ্য উত্তেজনা, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীনের কৌশলগত প্রতিযোগিতার আবহেই এই ঘটনা এগোবে।
ভোক্তা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য এর অর্থ মিশ্র। মেমোরির উচ্চ দাম থেকে তাৎক্ষণিক স্বস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহ পরিস্থিতি অন্তত সঠিক দিকে এগোচ্ছে। দোকানের তাকের র্যামের দাম কমবে কি না, তা নির্ভর করবে বৈশ্বিক উৎপাদন কত দ্রুত মেমোরির জন্য হঠাৎ বেড়ে যাওয়া শিল্পের চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে পারে এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় ঐতিহ্যগতভাবে বৈশ্বিক বাজারটি কতটা বিভক্ত হয়ে পড়ে—তার ওপর।
মূল বিষয়গুলো
- সম্প্রসারণ ও প্রযুক্তি উন্নয়নে অর্থায়নের জন্য সাংহাইয়ের স্টার মার্কেটে ৪২০ কোটি ডলারের আইপিওর প্রস্তুতি নিচ্ছে সিএক্সএমটি।
- প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম ডিআরএএম নির্মাতা হয়েছে; ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে এর বাজার অংশীদারত্ব ছিল ৪.১ শতাংশ।
- এআই-চালিত চাহিদার কারণে চলতি প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে ডিআরএএমের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।
- ২০২৬ সালে এইচবিএম৩ এবং ২০২৭ সালে এইচবিএম৩ই উৎপাদনের লক্ষ্য সিএক্সএমটির; এতে বৈশ্বিক নেতাদের সঙ্গে ব্যবধান কমে তিন থেকে চার বছরে দাঁড়াবে।
- প্রচলিত সরবরাহকারীদের কাছ থেকে ডিআরএএমের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় এইচপি চীনা মেমোরি সরবরাহকারীদের দ্বারস্থ হয়েছে বলে জানা গেছে।
- যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ সিএক্সএমটির উন্নত উৎপাদন সরঞ্জামে প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে এবং প্রতিষ্ঠানটির কারখানা থেকে রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
- সিএক্সএমটির সুবিধা করে দিতে বাণিজ্যিক গোপনীয়তা চুরির অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়ার কৌঁসুলিরা স্যামসাংয়ের সাবেক কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছেন।
- আইপিও থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে ওয়েফার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো ও পরবর্তী প্রজন্মের মেমোরি প্রযুক্তি উন্নয়নের পরিকল্পনা সিএক্সএমটির।






