বিতর্কিত অবকাঠামো পরিকল্পনা
সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর তীব্র সমালোচনা সত্ত্বেও তাইওয়ানের পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় (এমওটিসি) ইয়িলান কাউন্টি পর্যন্ত উচ্চগতির রেল (এইচএসআর) নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় অনড় রয়েছে। ৩৫০ বিলিয়ন তাইওয়ানি ডলারের বেশি ব্যয়ের এই প্রকল্প অবকাঠামো খাতে অগ্রাধিকার, আর্থিক দায়বদ্ধতা এবং রাজধানীর সঙ্গে পূর্ব উপকূল যুক্ত করার সবচেয়ে ভালো উপায় নিয়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সরকারের যুক্তি, ভবিষ্যতের যাত্রী ধারণক্ষমতা ও অর্থনৈতিক সংযোগ বাড়াতে এই সম্প্রসারণ জরুরি। তবে বিরোধীদের মতে, কম খরচে সমাধান করা সম্ভব এমন একটি সমস্যার জন্য এটি অতিরিক্ত ব্যয়বহুল উদ্যোগ।
সূচিপত্র
প্রকল্পের বিবরণ ও পরিধি
উত্তর তাইওয়ানের পরিবহনব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত সম্প্রসারণটি একটি বিশাল প্রকৌশল উদ্যোগ। পরিকল্পনায় তাইপের এইচএসআর নানগাং স্টেশন থেকে ইয়িলান কাউন্টি পর্যন্ত ৬০.৬ কিলোমিটারের একটি করিডর নির্মাণের কথা রয়েছে। পথে নিউ তাইপে সিটির শিজি, পিংসি, শুয়াংশি ও গংলিয়াও জেলা পেরিয়ে এটি ইয়িলানের তোউচেং টাউনশিপে পৌঁছাবে। মোট দূরত্বের মধ্যে ৫৯.৬ কিলোমিটার সম্পূর্ণ নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। প্রকল্পে ইয়িলান কাউন্টি সরকারের ভবন চত্বরের দক্ষিণ-পূর্বে একটি নতুন স্টেশন এবং আরও দক্ষিণে একটি রক্ষণাবেক্ষণ ডিপো থাকবে। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে নির্মাণকাজ প্রায় ১১ বছর চলবে বলে কর্তৃপক্ষের ধারণা। রেলওয়ে ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পের মোট ব্যয় ৩৫২.১৮ বিলিয়ন তাইওয়ানি ডলার। এই হিসাবে মূল্যস্ফীতি ও নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধির সম্ভাবনাও ধরা হয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও সূচনা
ইয়িলানের সঙ্গে রেল যোগাযোগ উন্নত করার উদ্যোগ নতুন নয়। বছরের পর বছর ধরে বাসিন্দা ও যাত্রীরা পূর্ব উপকূলমুখী মহাসড়কে, বিশেষ করে সপ্তাহান্ত ও ছুটির দিনে, তীব্র যানজটের মুখে পড়েছেন। ২০১৯ সালেও এমওটিসি স্থবির হয়ে পড়া তাইপে-ইয়িলান রেললাইন প্রকল্পের বিকল্প হিসেবে উত্তরে এইচএসআর সম্প্রসারণের প্রস্তাব তোলে। ফেইচুই জলাধারের অববাহিকা ঘিরে পরিবেশগত উদ্বেগের কারণে ওই সরাসরি রেল প্রকল্পটি বছরের পর বছর অচল ছিল। সরকারের বক্তব্য ছিল, উচ্চগতির রেল সম্প্রসারণের ব্যয় বেশি হতে পারে, তবে এটি সংবেদনশীল জলাধার এলাকা এড়িয়ে যেতে পারবে এবং বেশি গতির মাধ্যমে দীর্ঘ পথের অসুবিধা পুষিয়ে দেবে। তবে এইচএসআর করপোরেশন শুরুতে জানিয়েছিল, তাদের নির্মাণ-পরিচালনা-হস্তান্তর (বিওটি) চুক্তির আওতা কেবল তাইপে থেকে কাওশিয়ুং পর্যন্ত। এতে ব্যবস্থাটির কার্যপরিধি বাড়ানোর জটিলতা স্পষ্ট হয়।
সরকারের যুক্তি ও কৌশলগত সুবিধা
বর্তমান এইচএসআর পরিকল্পনার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে রেলওয়ে ব্যুরো বলেছে, গতি, ধারণক্ষমতা ও পরিবেশ সুরক্ষার মধ্যে এটি সবচেয়ে ভালো ভারসাম্য রাখে। ব্যুরোর ভাষ্য, মন্ত্রিসভার পর্যালোচনার জন্য এইচএসআর পরিকল্পনা জমা দেওয়ার আগে সম্প্রসারণ প্রস্তাব ও সরাসরি টিআর রেল বিকল্প—দুটিই কঠোরভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছিল। সরাসরি রেল বিকল্পটির সামনে বড় বাধা ছিল। প্রাথমিক পথরেখাটি ফেইচুই জলাধারের পানি-সংগ্রহ এলাকায় পড়ত, যা পরিবেশবাদী গোষ্ঠীগুলোর তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়ে। উত্তর-পূর্ব উপকূল ধরে সরাসরি রেলপথের পথ বদলানোও বাস্তবসম্মত বলে বিবেচিত হয়নি, কারণ এতে যাত্রার সময় খুব সামান্য কমত এবং অনেক আবাসিক ভবন ভাঙতে হতো।
এর বিপরীতে, এইচএসআর সম্প্রসারণের বেশির ভাগ পথ মাটির নিচ দিয়ে যাবে। কর্মকর্তাদের পূর্বাভাস, এইচএসআর লাইনে তাইপে থেকে ইয়িলান যেতে সময় ৯০ মিনিট থেকে কমে মাত্র ২৮ মিনিট হবে। আরও গুরুত্বপূর্ণ, এতে মোট রেল ধারণক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি বাড়বে; ফলে কেবল স্বল্পমেয়াদি গতি নয়, দীর্ঘমেয়াদি চাহিদারও মোকাবিলা করা যাবে। রেলওয়ে ব্যুরোর উপমহাপরিচালক ইয়াং চেং-চুন জোর দিয়ে বলেছেন, তাইওয়ান হাই-স্পিড রেল ও তাইওয়ান রেলওয়ে করপোরেশনের ব্যবস্থাগুলো পরস্পরের পরিপূরক। এইচএসআর সম্প্রসারণের ফলে তাইপে ও ইয়িলান কাউন্টির মধ্যে একই দিনে যাতায়াত সম্ভব হবে।
সাবেক কর্মকর্তাদের সমালোচনা
এসব যুক্তি সত্ত্বেও সরকারের নিজস্ব মহলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা প্রকল্পটির বিরোধিতা করছেন। সাবেক মন্ত্রী চ্যাং চিং-সেন এবং সাবেক পরিবহনমন্ত্রী হো চেন-তান প্রকাশ্যে প্রকল্পটি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তুলনামূলকভাবে স্বল্প দূরত্বের জন্য উচ্চগতির অবকাঠামোতে প্রায় ৪০০ বিলিয়ন তাইওয়ানি ডলার বিনিয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চ্যাং। তাঁর যুক্তি, প্রচলিত রেলপথের হিসাবে ইয়িলান তাইপে থেকে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে; তাই এই ব্যয়ের যৌক্তিকতা নেই।
হো চেন-তান দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি টিআর রেল প্রকল্পের পক্ষে কথা বলে আসছেন। তাঁর মতে, এইচএসআর সম্প্রসারণ ব্যয়সাশ্রয়ী নয় এবং বিদ্যমান প্রচলিত রেল নেটওয়ার্কের আর্থিক স্থিতিশীলতার ক্ষতি করতে পারে। তিনি সতর্ক করেছেন, প্রকল্পটি হয়তো কখনোই ব্যয় তুলে আনতে পারবে না, ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর ঋণের বোঝা চাপতে পারে। তাঁদের সমালোচনায় একটি মৌলিক মতপার্থক্য উঠে এসেছে: সমাধানের জন্য উচ্চগতির প্রযুক্তি দরকার, নাকি প্রচলিত রেল নেটওয়ার্ককে আরও কার্যকর করাই যথেষ্ট।
শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্বেগ ও আর্থিক ঝুঁকি
বিতর্কটি শ্রম খাতেও ছড়িয়েছে। তাইওয়ান রেলওয়ে ইউনিয়ন ও নাগরিক সমাজের গোষ্ঠীগুলো জোরালো আপত্তি জানিয়েছে। ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের মতে, এইচএসআর সম্প্রসারণ তাইওয়ান রেলওয়ে করপোরেশনের (টিআরসি) অস্তিত্বের জন্য হুমকি। তাঁদের আশঙ্কা, উচ্চগতির এই রেল যাত্রী টেনে নেবে, ফলে টিআরসির বার্ষিক আয় আনুমানিক ৮০০ মিলিয়ন তাইওয়ানি ডলার কমে যেতে পারে। ৩০ বছরে এই ঘাটতি ৫৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা করপোরেশনের আর্থিক সুস্থতা ও রেলকর্মীদের চাকরির নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলবে।
তাইওয়ান রেলওয়ে ইউনিয়নের মহাসচিব চু চিহ-ইউ বলেন, "এইচএসআর লাইন অনুমোদিত হলে টিআরসির সর্বোচ্চ ৮০০ মিলিয়ন তাইওয়ানি ডলার ক্ষতি হতে পারে। ৩০ বছরে এই ক্ষতির পরিমাণ ৫৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।"
সমালোচকেরা যাত্রীদের যাতায়াতের বাস্তব দিকটিও তুলে ধরেছেন। এইচএসআর দ্রুত হলেও ইয়িলানে পৌঁছানোর পর নির্দিষ্ট গন্তব্যে যেতে যাত্রীদের স্থানীয় ট্রেন বা বাসে উঠতে হবে। ইউনিয়নের নির্বাহী পরিচালক উ শিহ-চাওর যুক্তি, এইচএসআরের যাত্রীদেরও যেহেতু অন্য পরিবহনে বদল করতে হবে, তাই বেশির ভাগের জন্য এটি আসলে দ্রুততর বিকল্প হবে না। তাঁর মতে, নতুন সরাসরি রেললাইনের তুলনায় এইচএসআরে সময় মাত্র ২০ মিনিট কম লাগবে, অথচ ব্যয় হবে অনেক বেশি।
পরিবেশগত শর্ত ও জমি অধিগ্রহণ
বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছাতে প্রকল্পটিকে জটিল নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া পেরোতে হয়েছে। গত বছর এটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হয়, তবে কঠোর কিছু শর্তের মুখে পড়ে। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়ন কমিটি রেলওয়ে ব্যুরোকে জমি অধিগ্রহণের পদ্ধতি পরিমার্জনের শর্তে অনুমোদন দেয়। কমিটি নির্দেশ দেয়, অধিগ্রহণ ও আনুষ্ঠানিক ভূমি-ব্যবহার জোন নির্ধারণের মাধ্যমে স্টেশন এবং আশপাশের বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকার জমি ব্যবহারের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এর উদ্দেশ্য, অপরিকল্পিত জমি অধিগ্রহণের ফলে ইয়িলান কাউন্টির নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা যেন ব্যাহত না হয়।
এ ছাড়া, কমিটি জমি অধিগ্রহণের আরও বিস্তারিত পরিকল্পনা এবং ঠিকাদারদের কাজের মান যাচাইয়ের ব্যবস্থা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে। কয়েকজন কমিটি সদস্য পরিচালনাকারী ও ঠিকাদারদের কাজের মান যাচাইয়ের ব্যবস্থা স্পষ্ট করা এবং তাইওয়ান রেলওয়ে করপোরেশনের আর্থিক সমীক্ষা করারও প্রস্তাব দেন। পরিবেশগত কঠোরতার অংশ হিসেবে কমিটি শর্ত দিয়েছে, প্রকল্পের সবুজায়ন উদ্যোগে লাগানো গাছ কার্বন ক্রেডিটের হিসাবে ধরা যাবে না, যাতে পরিবেশগত সুফল দুবার গণনা না হয়।
পরিচালনার ভবিষ্যৎ ও প্রযুক্তির সমন্বয়
সামনের দিকে, ইয়িলান সম্প্রসারণকে বৃহত্তর নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত উন্নয়নের প্রয়োজন হবে। নতুন লাইনের ব্যবস্থাপনা কোনো আলাদা প্রতিষ্ঠানের বদলে তাইওয়ান হাই-স্পিড রেল করপোরেশনের হাতে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি নতুন প্রজন্মের ট্রেন চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। জাপানের এন৭০০এস শিনকানসেনের আদলে তৈরি এন৭০০এসটি মডেলের ট্রেন আগামী বছর তাইওয়ানে আসতে শুরু করবে এবং ২০২৭ সালে চলাচল শুরু করবে বলে পরিকল্পনা রয়েছে। ট্রেনগুলোতে কমলা ও কালো রঙের ছোঁয়াসহ উজ্জ্বল সাদা নকশা থাকবে এবং এগুলোতে যাত্রী ধারণক্ষমতা ও আরাম বাড়ানোর ব্যবস্থা থাকবে।
এই ট্রেনগুলো চালুর পরিকল্পনা সরকারের এমন একটি পরিপূরক ব্যবস্থার ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে এইচএসআর দীর্ঘ দূরত্বের বিপুল যাত্রী পরিবহন করবে, আর টিআরসি গুরুত্ব দেবে আঞ্চলিক যোগাযোগে। হুয়ালিয়েন-তাইতুং লাইনে বিদ্যুতায়ন ও দ্বিতীয় রেললাইন বসানো এবং দক্ষিণ তাইওয়ানের সাউথ লিংক লাইন উন্নত করার মতো অন্যান্য প্রকল্পেও ব্যুরো তাইওয়ান রেলওয়ে করপোরেশনের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অবকাঠামো নিয়ে এই সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বোঝা যায়, দ্বীপটির পরিবহন নেটওয়ার্ক আধুনিক করার বৃহত্তর পরিকল্পনার একটি অংশ হিসেবে সরকার ইয়িলান সম্প্রসারণকে দেখছে।
সামনের পথ
প্রস্তাবটি চূড়ান্ত পর্যালোচনার জন্য নির্বাহী ইউয়ানে যাওয়ায় সরকারকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মন্ত্রণালয় বলছে, প্রকল্পটি ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য জরুরি একটি বড় জাতীয় উদ্যোগ এবং জনমত বিবেচনায় নেওয়া হবে। তবে অভিজ্ঞ নীতিনির্ধারক ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর ধারাবাহিক বিরোধিতা প্রকল্পটির ঝুঁকির দিকটি তুলে ধরছে। আগামী কয়েক মাসে বোঝা যাবে, সরকার উচ্চগতির রেল সম্প্রসারণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেবে, নাকি সমালোচকদের পছন্দের সরাসরি রেল বিকল্পে সমর্থন দেবে। সিদ্ধান্তটি আগামী কয়েক দশকের জন্য পূর্ব তাইওয়ানের পরিবহনব্যবস্থার রূপ নির্ধারণ করবে।
মূল বিষয়গুলো
- এমওটিসি তাইপের নানগাং থেকে ইয়িলানের তোউচেং পর্যন্ত ৬০.৬ কিলোমিটার এইচএসআর সম্প্রসারণের প্রস্তাব করেছে।
- নির্মাণে আনুমানিক ৩৫২.১৮ বিলিয়ন তাইওয়ানি ডলার ব্যয় হবে এবং কাজ চলবে ১১ বছর।
- যাত্রার সময় ৯০ মিনিট থেকে কমে প্রায় ২৮ মিনিট হবে।
- সমালোচকদের মতে, ৫০ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য ব্যয় অনেক বেশি; তাঁরা সরাসরি রেললাইনের পক্ষে।
- প্রচলিত রেল পরিষেবায় বছরে ৮০০ মিলিয়ন তাইওয়ানি ডলার আয় কমতে পারে বলে তাইওয়ান রেলওয়ে ইউনিয়ন সতর্ক করেছে।
- জমি অধিগ্রহণের শর্তসহ প্রকল্পটি পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হয়েছে।
- নতুন প্রজন্মের এন৭০০এসটি ট্রেন ২০২৭ সালে চলাচল শুরু করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।






