কোরিয়ার মাংস রপ্তানিতে মাইলফলক
দক্ষিণ কোরিয়া তার পশুপালনশিল্পে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। গত সপ্তাহে গিয়ংজুতে এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনে দুই সরকার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার শর্ত চূড়ান্ত করার পর জেজু দ্বীপ থেকে সিঙ্গাপুরে গরু ও শূকরের মাংস রপ্তানি শুরু হয়েছে। এর আগে আগস্টে সিঙ্গাপুরের কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে পরিদর্শন করে এবং কোরিয়ার স্বাস্থ্যবিধি ও কোয়ারেন্টিনব্যবস্থাকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়। অনুমোদন পাওয়ায় এখন জেজুর ঠান্ডা ও হিমায়িত গরু এবং শূকরের মাংস সিঙ্গাপুরে প্রবেশ করতে পারবে। কোরিয়া থেকে প্রক্রিয়াজাত ডিমের পণ্যও রপ্তানির অনুমতি পেয়েছে। এই চুক্তির ফলে কোরীয় উৎপাদকদের জন্য উচ্চ আয়ের, আমদানিনির্ভর একটি বাজার উন্মুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এশিয়ার অন্যতম আধুনিক খাবারের সংস্কৃতির কেন্দ্র সিঙ্গাপুরে জেজুর প্রিমিয়াম হানউ গরুর মাংস পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সূচিপত্র
- কোরিয়ার মাংস রপ্তানিতে মাইলফলক
- সিঙ্গাপুর ঠিক কী অনুমোদন দিয়েছে
- জেজু কেন যোগ্য
- অনুমোদনের পরিধি ও পণ্যের উৎস শনাক্তের সুরক্ষা
- সম্মেলনের সমঝোতা থেকে প্রথম কনটেইনার
- সিঙ্গাপুরে কোরীয় গরু ও শূকরের মাংসের সম্ভাবনা
- মানদণ্ড ও চলমান বিধিপালন
- প্রিমিয়াম চাহিদা মেটাতে গবাদিপশুর জাত উন্নয়ন
- জেজু ও অন্যান্য অঞ্চলের পরবর্তী পদক্ষেপ
- মূল বিষয়গুলো
হংকং, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, লাওস ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর সিঙ্গাপুর কোরীয় গরুর মাংসের ষষ্ঠ বাজার। দেশটি মাংসের চাহিদার বেশির ভাগই আমদানির মাধ্যমে মেটায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিঙ্গাপুরের মাংসের বাজার বছরে প্রায় ৫ থেকে ৬ শতাংশ হারে বেড়েছে। নীতিগত এই অগ্রগতির সুফল ইতিমধ্যে বাস্তব বাণিজ্যে দেখা গেছে। কোরিয়ার কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, চুক্তির প্রায় এক মাস পর জেজুর হানউ গরুর মাংস ও শূকরের মাংসের প্রথম চালানটি সিঙ্গাপুরে পৌঁছায়। চালানটিতে ছিল ৪ দশমিক ৫ টন মাংস, যার মূল্য প্রায় ২৮ কোটি ওন (প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার ডলার)। দ্রুত এই সরবরাহ থেকে বোঝা যায়, অনুমোদনের আগেই প্রস্তুতি কতটা এগিয়ে ছিল।
অনুমোদনের পরিধি সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত। এ পর্যায়ে শুধু জেজু দ্বীপের পণ্য রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। দ্বীপটির প্রত্যয়িত প্রাণিস্বাস্থ্য পরিস্থিতি এবং সিঙ্গাপুরের মূল্যায়ন করা স্থাপনাগুলোর বিষয়টি এতে প্রতিফলিত হয়েছে। সিঙ্গাপুরের খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্যমতে, কোরিয়ার পাঁচটি প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুরে অনুমোদিত মাংস ও ডিমের পণ্য রপ্তানির স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর বিবরণ নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বীকৃতির ডেটাবেসে তালিকাভুক্ত রয়েছে। কোরীয় কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, আগস্টের সরেজমিন পরিদর্শনের পর দুই পক্ষ তালিকাভিত্তিক অনুমোদন পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। এ প্রক্রিয়ায় কোরিয়া নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা সিঙ্গাপুরের অনুমোদনের জন্য জমা দেয়। এতে স্বাস্থ্যবিধি ও পণ্যের উৎস শনাক্তকরণে কঠোর নজরদারি বজায় রেখেই ভবিষ্যতে নতুন প্রতিষ্ঠান যুক্ত করার প্রক্রিয়া সহজ হবে।
সিঙ্গাপুর ঠিক কী অনুমোদন দিয়েছে
সিঙ্গাপুরের খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাংস ব্যবসায়ীদের জানিয়েছে, খাদ্যনিরাপত্তা ও প্রাণিস্বাস্থ্যসংক্রান্ত আমদানি মান পূরণকারী নির্দিষ্ট কয়েক ধরনের পণ্য এখন কোরিয়া থেকে সরবরাহ করা যাবে। অনুমোদনটি নির্দিষ্ট উৎস ও পণ্যের তালিকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। গরু ও শূকরের মাংসের স্বীকৃত উৎস হিসেবে রয়েছে জেজু।
- জেজু দ্বীপের ঠান্ডা ও হিমায়িত গরুর মাংস এবং গরুর মাংসজাত পণ্য
- জেজু দ্বীপের ঠান্ডা ও হিমায়িত শূকরের মাংস এবং শূকরের মাংসজাত পণ্য
- কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের প্রক্রিয়াজাত ডিমের পণ্য
এ পর্যন্ত কোরিয়ার পাঁচটি প্রতিষ্ঠান স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরের শর্ত পূরণ করে এবং তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত হলে আরও কারখানা বিবেচনা করা হতে পারে। সিঙ্গাপুরের আমদানিকারকদের কেবল স্বীকৃত স্থাপনা থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে হবে এবং প্রতিটি চালানের নথিপত্র ও পরিদর্শনসংক্রান্ত নিয়ম মানতে হবে।
জেজু কেন যোগ্য
বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউওএএইচ) ২০২৫ সালের মে মাসে জেজুকে ক্ষুরা রোগমুক্ত হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। ক্ষুরা রোগ একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত অসুখ, যা গরু ও শূকরের মতো দ্বিখুরবিশিষ্ট প্রাণীকে আক্রান্ত করে। যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না হলে জীবিত প্রাণী, মাংস ও অন্যান্য প্রাণিজ পণ্যের মাধ্যমে রোগটি ছড়াতে পারে। তাই আন্তর্জাতিকভাবে যাচাইকৃত রোগমুক্ত মর্যাদা নেই এমন অঞ্চল থেকে অনেক দেশ আমদানি সীমিত করে।
মাংস আমদানির ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর কঠোর স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি বিধি প্রয়োগ করে। গরু ও শূকরের মাংস রপ্তানিকারকদের প্রমাণ করতে হয় যে পণ্যের উৎস ডব্লিউওএএইচের মান পূরণ করে, নিরীক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থার অধীনে জবাই ও প্রক্রিয়াজাত করা হয় এবং পরিবহনের সময় শীতল সরবরাহব্যবস্থার অখণ্ডতা বজায় থাকে। দ্বীপ হওয়ার ভৌগোলিক সুবিধা, শক্তিশালী জীবাণুনিরাপত্তা এবং ডব্লিউওএএইচের সাম্প্রতিক স্বীকৃতির সমন্বয়ে সিঙ্গাপুরের অনুমোদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত পূরণ করেছে জেজু।
অনুমোদনের পরিধি ও পণ্যের উৎস শনাক্তের সুরক্ষা
জেজুর স্বীকৃত স্থাপনায় জবাই ও প্রক্রিয়াজাত করা মাংসই কেবল রপ্তানির যোগ্য। প্রতিটি চালানের সঙ্গে সরকারি পশুচিকিৎসা স্বাস্থ্য সনদ, প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি এবং উৎপাদনের তারিখ থাকতে হবে। প্রবেশমুখে সিল ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণও যাচাই করা হবে। এর ফলে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যাচ পর্যন্ত পণ্যের উৎস শনাক্ত করা যাবে এবং কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করা সম্ভব হবে।
কোরিয়ার খাদ্যনিরাপত্তা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থার ওপর আস্থার প্রতিফলন হিসেবে প্রক্রিয়াজাত ডিমের পণ্যও রপ্তানির অনুমতি পেয়েছে। এ ধরনের পণ্যের মধ্যে সাধারণত পাস্তুরিত ও দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য পণ্য থাকে। এ ক্ষেত্রে কোরিয়া জানিয়েছে, তারা ধোঁয়ায় প্রক্রিয়াজাত ডিমের মতো পণ্যও সরবরাহ করবে। মাংসের মতোই এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি ও পণ্যভিত্তিক রপ্তানি শর্ত প্রযোজ্য।
সম্মেলনের সমঝোতা থেকে প্রথম কনটেইনার
গিয়ংজুতে এপেক বৈঠকের ফাঁকে প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং ও প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওংয়ের দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় এই অগ্রগতি আসে। কর্মকর্তারা জেজুর গরু ও শূকরের মাংস এবং প্রক্রিয়াজাত ডিমের পণ্যের স্বাস্থ্য ও কোয়ারেন্টিনসংক্রান্ত শর্ত চূড়ান্ত করেন। এর ভিত্তি ছিল আগস্টে সিঙ্গাপুরের দলের পরিদর্শন। অনুমোদন জারির পরপরই যাতে স্থাপনা ও নথিপত্র প্রস্তুত থাকে, তা নিশ্চিত করতে কোরিয়ার কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা মন্ত্রণালয় জেজু প্রাদেশিক সরকার ও শিল্পখাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করে।
কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কোরীয় কর্তৃপক্ষ জেজু বন্দরে প্রথম চালান তোলার কাজ তদারক করে। হানউ গরুর মাংস ও শূকরের মাংস মিলিয়ে মোট ৪ দশমিক ৫ টনের প্রথম চালানটির মূল্য ছিল প্রায় ২৮ কোটি ওন। চুক্তির প্রায় এক মাস পর এটি সিঙ্গাপুরে পৌঁছায়। প্রথম এই সরবরাহের মাধ্যমে আমদানিকারক ও খুচরা বিক্রেতারা নথিপত্র, শীতল সরবরাহব্যবস্থা এবং বিতরণপ্রক্রিয়া বাস্তবে যাচাই করার সুযোগ পাবেন। এর ভিত্তিতেই নিয়মিত চালান পাঠানোর পথ তৈরি হবে।
কৃষি, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের খাদ্যনীতি ব্যুরোর পরিচালক পার্ক জং-হুন বলেন, দোকান ও রেস্তোরাঁয় পণ্য পৌঁছানোর পর পরিচিতি বাড়াতে সরকার স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবে।
সিঙ্গাপুরের অনেক মানুষ যাতে কোরীয় পশুপণ্য সম্পর্কে পরিচিত হন এবং সহজেই উপভোগ করতে পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্রচার ও বিপণনমূলক আয়োজনে আমরা সহায়তা করব।
সিঙ্গাপুরে কোরীয় গরু ও শূকরের মাংসের সম্ভাবনা
সিঙ্গাপুরের খাবারের জগতে ধারাবাহিকতা ও প্রিমিয়াম মানের কদর রয়েছে। দেশটির স্টেকহাউস ও কোরীয় গ্রিল রেস্তোরাঁয় ইতিমধ্যে জাপানি ওয়াগিউ এবং উচ্চমানের মার্কিন গরুর মাংস পরিবেশন করা হয়। কোরীয় কনটেন্টের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কোরীয় খাবারের প্রতি আগ্রহও বেড়েছে। ফলে সামগিয়পসাল (টেবিলে গ্রিল করা শূকরের পেটের মাংস) মূলধারার খাবারে পরিণত হয়েছে। অনুমোদনের এক বছর আগে সিঙ্গাপুরের সমসাময়িক কোরীয় রেস্তোরাঁ না ওহ-তে বিশেষ ছাড়ে দুই দিনের জন্য জেজুর হানউ পরিবেশন করা হয়েছিল, যা ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সেই আয়োজন থেকেই চাহিদার আভাস মিলেছিল। এখন আনুষ্ঠানিক স্বাস্থ্যগত অনুমোদন পাওয়ায় রেস্তোরাঁ ও খুচরা বিক্রেতারা নিয়মিতভাবে মেনু ও দোকানের তাকগুলোতে জেজুর গরু ও শূকরের মাংস রাখতে পারবেন।
শিল্পখাতের নেতারা এই বাজার উন্মুক্ত হওয়াকে মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার স্বীকৃতি এবং দেশের বাইরের বাজারে প্রবৃদ্ধির সুযোগ হিসেবে দেখছেন। কোরিয়া পিগ প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান লি কি-হং বলেন, কঠোর মান পূরণে উৎপাদক ও নিয়ন্ত্রকদের বছরের পর বছর কাজের প্রতিফলন ঘটেছে এ পদক্ষেপে।
হানডন একটি জাতীয় ব্র্যান্ডে পরিণত হচ্ছে। কোরীয় শূকরের মাংসের বাজার এশিয়ার পাশাপাশি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে আমরা কাজ চালিয়ে যাব।
প্রাথমিক বাণিজ্যিক চুক্তিগুলো থেকে বোঝা যায়, পণ্যগুলোকে প্রিমিয়াম পর্যায়ে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। জেজুর মাংস উৎপাদক দেহান এফঅ্যান্ডবি সিঙ্গাপুরের লজিস্টিকস ও বিতরণ অংশীদার কুলিনার সঙ্গে চুক্তি করেছে। এ চুক্তি অনুযায়ী জেজুতে জবাই করা সর্বোচ্চ ২০০টি কোরীয় গরু এবং বছরে প্রায় ৫২ মেট্রিক টন শূকরের মাংস সরবরাহ করা হবে। এতে শুরুতে উচ্চমানের রেস্তোরাঁ ও বিশেষায়িত মুদি দোকানে মনোযোগ দেওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। সরবরাহ বাড়লে এবং ক্রেতারা স্বাদের সঙ্গে পরিচিত হলে খুচরা বিক্রেতারা পণ্যের কাট ও ধরন আরও বাড়াতে পারেন। ঠান্ডা প্রাইম স্টেক থেকে শুরু করে বারবিকিউয়ের উপযোগী হিমায়িত মাংসের অংশও তখন পাওয়া যেতে পারে।
মানদণ্ড ও চলমান বিধিপালন
সিঙ্গাপুরের খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা কঠোর আমদানি নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। নথিপত্র পর্যালোচনা ও সরেজমিন পরিদর্শনে উত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠানকেই কেবল স্বীকৃতি দেওয়া হয়। মান বজায় না থাকলে স্বীকৃতি স্থগিত করা হতে পারে। চালানের নথিপত্র যাচাই করা হয় এবং প্রবেশমুখে সেগুলো পরিদর্শন বা নমুনা পরীক্ষা করা হতে পারে। প্রতিটি পণ্যভাগকে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলিয়ে শনাক্ত করা যায়, এমন রেকর্ড আমদানিকারকদের রাখতে হবে। পরিবহন ও গুদামজাতের সময় সংরক্ষণ তাপমাত্রার নিয়মও মানতে হবে।
কোরীয় কর্মকর্তাদের বর্ণিত তালিকাভিত্তিক পদ্ধতির আওতায় সিঙ্গাপুর কোরিয়ার উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া প্রতিষ্ঠানের তালিকা অনুমোদন করতে পারে। স্বীকৃতি পেতে স্থাপনাগুলোতে শক্তিশালী ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বিন্দু পরিকল্পনা, স্বাস্থ্যবিধি কর্মসূচি এবং পণ্যের উৎস শনাক্তের ব্যবস্থা থাকতে হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার ডেটাবেসে আমদানিকারকেরা স্বীকৃতি যাচাই করতে পারবেন। প্রতিটি চালানের সঙ্গে সঠিক স্বাস্থ্য সনদ ও সরকারি সিলের নম্বর আছে কি না, তাও নিশ্চিত করতে হবে। জেজুর প্রক্রিয়াজাতকরণ কক্ষ থেকে সিঙ্গাপুরের গুদাম পর্যন্ত শীতল সরবরাহব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
প্রাণিস্বাস্থ্যের শক্তিশালী ভিত্তি ঝুঁকি কমায় এবং ক্রেতাদের আশ্বস্ত করে। জেজুর ক্ষুরা রোগমুক্ত মর্যাদার পেছনে রয়েছে ধারাবাহিক নজরদারি, ডব্লিউওএএইচের মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ টিকাদান নিষেধাজ্ঞা এবং গবাদিপশুর চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ। এ রোগ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি নয়। তবে রোগের প্রাদুর্ভাব বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটাতে পারে এবং প্রাণিকল্যাণের ক্ষতি করতে পারে। সিঙ্গাপুরের বাজারে প্রবেশাধিকার বজায় রাখতে এই মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা জরুরি।
প্রিমিয়াম চাহিদা মেটাতে গবাদিপশুর জাত উন্নয়ন
গরুর মাংস উৎপাদনের পেছনের বিজ্ঞানেও বিনিয়োগ করছে কোরিয়া। কোরিয়া এগ্রিকালচার টেকনোলজি প্রমোশন এজেন্সি হানউ গবাদিপশুর জন্য জিনোম বিশ্লেষণ সেবা চালুর পরিকল্পনা করেছে। এর আওতায় হাজার হাজার জিনগত চিহ্ন বিশ্লেষণ করে মাংসে চর্বির সূক্ষ্ম বুনন, কোমলতা ও উৎপাদন-ফলনের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রজনন সিদ্ধান্তে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। লক্ষ্য হলো দ্রুত ভালো পশু নির্বাচন, বাজারজাত করতে সময় কমানো এবং প্রাণিকল্যাণে আপস না করে পণ্যের মানে ধারাবাহিকতা বাড়ানো। তথ্যনির্ভর প্রজননের মাধ্যমে খাদ্য রূপান্তরের দক্ষতাও বাড়ানো এবং উৎপাদিত প্রতি কেজি মাংসে নির্গমন কমানো সম্ভব।
প্রিমিয়াম বাজারে সারা বছর নির্ভরযোগ্য মান প্রত্যাশা করা হয়। জিনগত প্রযুক্তি, উন্নত খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং খামারে ডিজিটাল নজরদারির লক্ষ্য সেই প্রত্যাশা পূরণ। জেজুর মতো রপ্তানিমুখী কর্মসূচিতে পশুর জাত উন্নয়ন শেফ ও ক্রেতাদের কাছে পরিচিত স্বাদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। এতে সিঙ্গাপুরের প্রতিযোগিতামূলক খাবারের বাজারে হানউ ও জেজুর শূকরের মাংস ওয়াগিউ এবং ইউএসডিএ প্রাইমের পাশে নিজেদের স্বতন্ত্র অবস্থান তুলে ধরতে পারবে।
জেজু ও অন্যান্য অঞ্চলের পরবর্তী পদক্ষেপ
প্রক্রিয়াজাত ডিমের পণ্য অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় মাংসের বাইরেও বাণিজ্যের পরিধি বেড়েছে। বেকারি, দ্রুত খাবারের রান্নাঘর এবং নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ উপকরণ প্রয়োজন এমন উৎপাদনকারীরা প্রক্রিয়াজাত ডিম ব্যবহার করতে পারেন। চালানের পরিমাণ বাড়লে মাংসের সঙ্গে এ পণ্যগুলো পাঠালে রসদ ব্যবহারের দক্ষতা বাড়বে এবং রপ্তানিকারকদের খরচ কমবে। কোরীয় সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সিঙ্গাপুরের বাজারে প্রচারে তারা সহায়তা করবে, যাতে ভোক্তারা ধোঁয়ায় প্রক্রিয়াজাত ডিমের মতো পণ্য সম্পর্কে জানতে পারেন এবং সেগুলো ঘরে কীভাবে ব্যবহার করতে হয় তা শিখতে পারেন।
খাদ্য রপ্তানিকারকদের অশুল্ক বাধা কমাতেও উদ্যোগ নিচ্ছে সিউল। কৃষি মন্ত্রণালয় একটি সহায়তা কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনা করেছে, যা দেশভিত্তিক আমদানি বিধি সংগ্রহ করবে এবং বিদেশি বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতার তথ্য জানাবে। সিঙ্গাপুরে কঠোর মান পূরণে সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারলে কোরীয় সরবরাহকারীরা জেজুতে আরও প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন করতে পারে। নজরদারির তথ্য অনুমতি দিলে সময়ের সঙ্গে অন্য রোগমুক্ত অঞ্চলের জন্যও অনুমোদন চাইতে পারে তারা। আপাতত শুধু জেজুকে নিয়ে এই মডেল আস্থা তৈরি, নির্ভরযোগ্য শীতল সরবরাহব্যবস্থার সক্ষমতা দেখানো এবং সিঙ্গাপুরের ক্রেতাদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্ডার পেতে একটি সুনির্দিষ্ট পথ তৈরি করেছে।
মূল বিষয়গুলো
- আগস্টে পরিদর্শন ও এপেক বৈঠকে আলোচনার পর সিঙ্গাপুর জেজুর ঠান্ডা ও হিমায়িত গরু এবং শূকরের মাংস, পাশাপাশি কোরিয়ার প্রক্রিয়াজাত ডিমের পণ্য অনুমোদন করেছে।
- গরু ও শূকরের মাংসের একমাত্র অনুমোদিত উৎস জেজু; ডব্লিউওএএইচের স্বীকৃত ক্ষুরা রোগমুক্ত মর্যাদার প্রতিফলন এটি।
- অনুমোদিত পণ্য সিঙ্গাপুরে রপ্তানির জন্য কোরিয়ার পাঁচটি প্রতিষ্ঠান স্বীকৃতি পেয়েছে; কারখানার অনুমোদন ব্যবস্থাপনায় তালিকাভুক্তি পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।
- চুক্তির প্রায় এক মাস পর প্রথম চালানটি পৌঁছায়। এতে ছিল ৪ দশমিক ৫ টন পণ্য, যার মূল্য প্রায় ২৮ কোটি ওন।
- সিঙ্গাপুর কোরীয় গরুর মাংসের ষষ্ঠ বাজার। দেশটির মাংসের বাজার বছরে প্রায় ৫ থেকে ৬ শতাংশ হারে বাড়ছে।
- প্রাথমিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের মধ্যে রয়েছে জেজুর এক উৎপাদকের কাছ থেকে সিঙ্গাপুরের পরিবেশক কুলিনার মাধ্যমে গরু ও শূকরের মাংস সরবরাহ; লক্ষ্য প্রিমিয়াম বাজার।
- রপ্তানি বাড়ার সঙ্গে পণ্যের মানে ধারাবাহিকতা ও স্থায়িত্ব উন্নত করতে কোরিয়া হানউ গবাদিপশুর জিনোম গবেষণায় বিনিয়োগ করছে।
- সিঙ্গাপুরে ব্যবসা বিস্তারের সময় অশুল্ক বাধা মোকাবিলায় সরকার প্রচার এবং নতুন সহায়তার পরিকল্পনা করছে।






