এখন এই উৎপাদন লাইন কেন গুরুত্বপূর্ণ
বৈদ্যুতিক যানবাহনকে রূপান্তরের প্রতিযোগিতায় চীন নিয়েছে একটি নির্ণায়ক পদক্ষেপ। গুয়াংঝো অটোমোবাইল গ্রুপ (জিএসি) বড় আকারের, যানবাহনে ব্যবহারের উপযোগী অল-সলিড-স্টেট ব্যাটারি সেলের জন্য দেশটির প্রথম উৎপাদন লাইন সম্পন্ন করেছে। পরীক্ষার জন্য কারখানাটিতে ইতিমধ্যে ছোট ব্যাচে ৬০ অ্যাম্পিয়ার-আওয়ার (Ah) সেল তৈরি হচ্ছে। অধিকাংশ গবেষণাগার ও পাইলট প্রকল্প যে ধাপে পৌঁছাতে পারেনি, এই উৎপাদন সেই সীমা অতিক্রম করেছে। এই সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি মূলধারার বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ; প্রযুক্তিটিকে গবেষণাগার থেকে শিল্প উৎপাদনের পরিসরে নিয়ে এসেছে। এই অগ্রগতি এমন ব্যাটারির নতুন পর্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেগুলোতে উচ্চতর শক্তিঘনত্ব, দ্রুত চার্জ এবং উন্নত নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
সূচিপত্র
- এখন এই উৎপাদন লাইন কেন গুরুত্বপূর্ণ
- অল-সলিড-স্টেট ব্যাটারি কী
- শক্তিঘনত্ব ও চলার দূরত্ব
- নিরাপত্তা ও তাপ সহনশীলতা
- জিএসির নতুন উৎপাদন লাইনের ভেতরে
- ক্ষেত্রফলভিত্তিক ধারণক্ষমতা কেন গুরুত্বপূর্ণ
- চালকেরা কবে গাড়িতে এই ব্যাটারি দেখতে পাবেন
- সলিড-স্টেট প্রযুক্তিকে শিল্প উৎপাদনে নেওয়ার চীনা উদ্যোগ
- প্রতিযোগিতায় আর কারা আছে
- যেসব চ্যালেঞ্জের সমাধান এখনো বাকি
- ১,০০০ কিলোমিটার চলার ইভি চালক ও বিদ্যুৎ গ্রিডের জন্য কী বদল আনবে
- মূল কথা
জিএসির উৎপাদন লাইন ৬০ Ah-এর বেশি ধারণক্ষমতার সেল তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এবং প্রতি বর্গসেন্টিমিটারে সর্বোচ্চ ৭.৭ মিলিঅ্যাম্পিয়ার-আওয়ার (mAh/cm2) ক্ষেত্রফলভিত্তিক ধারণক্ষমতার কথা জানিয়েছে। প্রচলিত তরল ইলেকট্রোলাইটের অনেক উৎপাদন লাইনে এই মান প্রায় ৫ mAh/cm2। বেশি ক্ষেত্রফলভিত্তিক ধারণক্ষমতা পুরু ইলেকট্রোড ব্যবহারের সুযোগ দেয়, যা একই জায়গায় বেশি শক্তি সঞ্চয় করে। জিএসির দাবি, বর্তমান লিথিয়াম-আয়ন সেলের তুলনায় শক্তিঘনত্ব প্রায় দ্বিগুণ। এর ফলে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার চলতে সক্ষম একটি ইভি পুরো চার্জে ১,০০০ কিলোমিটারের বেশি যেতে পারে। ২০২৬ সালে পরীক্ষামূলক গাড়িতে এসব ব্যাটারি বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে কোম্পানিটির। যাচাই ও খরচের ওপর নির্ভর করে ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ব্যাপক উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্যও রয়েছে।
ক্যাটল ও বিওয়াইডির মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রচলিত ইভি ব্যাটারির বৈশ্বিক সরবরাহে চীন ইতিমধ্যে শীর্ষে রয়েছে। এই উৎপাদন লাইনের মাধ্যমে এক দশক ধরে বহু গাড়ি নির্মাতা যে প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে, তাতে শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার অবস্থান তৈরি করছে জিএসি। অল-সলিড-স্টেট নকশার বাণিজ্যিকীকরণ ত্বরান্বিত করতে ব্যাটারি নির্মাতা ও গাড়ি কোম্পানিগুলোকে নিয়ে একটি যৌথ প্ল্যাটফর্মও চালু করেছে দেশটি। প্রতিযোগিতামূলক খরচে নির্ভরযোগ্য কর্মক্ষমতাসহ প্রযুক্তিটির উৎপাদন বাড়াতে পারলে পরবর্তী প্রজন্মের ইভিগুলো প্রতি চার্জে আরও দূর যেতে পারবে, দ্রুত চার্জ হবে এবং আরও শক্তিশালী নিরাপত্তাব্যবস্থা দিতে পারবে।
অল-সলিড-স্টেট ব্যাটারি কী
প্রচলিত লিথিয়াম-আয়ন সেলের তরল ইলেকট্রোলাইটের বদলে অল-সলিড-স্টেট ব্যাটারিতে কঠিন পদার্থ ব্যবহার করা হয়। চার্জ ও ডিসচার্জের সময় ধনাত্মক ও ঋণাত্মক ইলেকট্রোডের মধ্যে আয়ন পরিবহনের মাধ্যম হলো ইলেকট্রোলাইট। তরল ইলেকট্রোলাইট কার্যকর হলেও তা দাহ্য এবং শক্তিকে আরও ঘনভাবে সঞ্চয়ের সুযোগ সীমিত করে। কঠিন ইলেকট্রোলাইট উপাদানগুলোকে আরও ঘনভাবে সাজানোর সুযোগ দেয় এবং তাপীয় স্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে। কঠিন ইলেকট্রোলাইট ব্যবহারে প্রতি একক আয়তন ও ওজনে বেশি শক্তি সঞ্চয় করা সম্ভব হয়; পাশাপাশি সেল ক্ষতিগ্রস্ত হলে আগুন লাগার ঝুঁকিও কমতে পারে।
শক্তিঘনত্ব ও চলার দূরত্ব
শক্তিঘনত্ব হলো ব্যাটারির আকার বা ওজনের তুলনায় তাতে সঞ্চিত শক্তির পরিমাণ। গাড়ি কত দূর চলতে পারবে, তাতে সবচেয়ে সরাসরি প্রভাব ফেলে এই বৈশিষ্ট্য। জিএসির দাবি, প্রচলিত সেলের তুলনায় এর শক্তিঘনত্ব প্রায় দ্বিগুণ। নির্দিষ্ট আকারের ব্যাটারি প্যাকে বর্তমান কোনো ইভি যদি প্রায় ৩১১ মাইল চলে, তবে একই মাপের প্যাকে এই সলিড-স্টেট সেল ব্যবহার করলে তা প্রায় ৬২১ মাইল যেতে পারে। চীনে চলার দূরত্বের হিসাব প্রায়ই CLTC পরীক্ষাচক্রের ভিত্তিতে করা হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত EPA পরীক্ষাচক্রের তুলনায় সাধারণত বেশি আশাব্যঞ্জক। CLTC অনুযায়ী ১,০০০ কিলোমিটারের দাবি বাস্তব ব্যবহারে বা EPA-সমতুল্য হিসাবে প্রায় ৬৫০ থেকে ৭৫০ কিলোমিটার (প্রায় ৪০০ থেকে ৪৬৫ মাইল) হতে পারে। তবু এটি বড় ধরনের উন্নতি।
নিরাপত্তা ও তাপ সহনশীলতা
কঠিন ইলেকট্রোলাইট তরল ইলেকট্রোলাইটের তুলনায় কম চুইয়ে পড়ে এবং কম সহজে আগুন ধরে; পাশাপাশি এগুলো বেশি তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। জিএসির ভাষ্য, এর সেল ৩০০ থেকে ৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় স্থিতিশীল থাকে। প্রচলিত অনেক লিথিয়াম-আয়ন সেলের ক্ষেত্রে এই সীমা প্রায় ২০০ ডিগ্রি। বেশি তাপ সহনশীলতা দ্রুত চার্জ বা বেশি লোডের সময় অপব্যবহারজনিত ক্ষতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং তাপ ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে পারে। লিথিয়াম থেকে সূচের মতো যে কাঠামো তৈরি হয়, যেগুলো ডেনড্রাইট নামে পরিচিত এবং সেলের ক্ষতি করতে পারে, সেগুলোর গঠনও সীমিত করার লক্ষ্য রয়েছে এই প্রযুক্তির। সঠিক উপাদান ও উৎপাদনপ্রক্রিয়া ব্যবহার করা গেলে সলিড-স্টেট নকশা একই সঙ্গে কর্মক্ষমতা ও নিরাপত্তার মান বাড়াতে পারে।
জিএসির নতুন উৎপাদন লাইনের ভেতরে
জিএসির উৎপাদন লাইন বড় আকারের ৬০ Ah সেল তৈরিতে মনোযোগী, যা পূর্ণ আকারের ইভির জন্য সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক শ্রেণি। কোম্পানিটি এমন একটি শুকনো অ্যানোড প্রক্রিয়ার কথা বলেছে, যেখানে কয়েকটি ধাপ একটানা একটি কার্যক্রমে সম্পন্ন হয়। প্রচলিত ঋণাত্মক ইলেকট্রোড উৎপাদনে সক্রিয় উপাদান স্লারিতে মেশানো হয়, ধাতব ফয়েলের ওপর প্রলেপ দেওয়া হয় এবং ইলেকট্রোডকে প্রয়োজনীয় পুরুত্বে রোল করা হয়। ধাপগুলোর মাঝে থাকে শুকানো ও দ্রাবক পুনরুদ্ধারের কাজ। স্লারি তৈরি, প্রলেপ দেওয়া ও রোল করার কাজ এক ধাপে একীভূত করে সময় ও শক্তির ব্যবহার কমেছে বলে জানিয়েছে জিএসি। দ্রাবক শুকানোর ধাপ বাদ দিলে বড় পরিসরে নিঃসরণ ও খরচও কমানো সম্ভব।
উৎপাদন লাইনের ৭.৭ mAh/cm2 ক্ষেত্রফলভিত্তিক ধারণক্ষমতার দাবিটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে বোঝা যায়, ব্যর্থ না হয়েও ইলেকট্রোড আরও পুরু করা সম্ভব। ইলেকট্রোড পুরু হলে উপাদানের ভেতর দিয়ে আয়নের চলাচল কঠিন হতে পারে। পুরুত্ব, পরিবাহিতা, যান্ত্রিক দৃঢ়তা ও সমতার মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হয় নির্মাতাদের। উচ্চ ক্ষেত্রফলভিত্তিক ধারণক্ষমতায় পৌঁছানো এই গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ যে, উৎপাদনপ্রক্রিয়াটি চার্জ-চক্রের আয়ুষ্কালের লক্ষ্য পূরণ করেও উচ্চ শক্তিঘনত্ব দিতে পারবে।
ক্ষেত্রফলভিত্তিক ধারণক্ষমতা কেন গুরুত্বপূর্ণ
ইলেকট্রোডের নির্দিষ্ট একটি ক্ষেত্রফল কতটা চার্জ ধারণ করতে পারে, সেটিই ক্ষেত্রফলভিত্তিক ধারণক্ষমতা। সেলের আকার না বাড়িয়ে তাতে কত শক্তি রাখা যাবে, তা এর ওপর নির্ভর করে। বেশি মান হলে নির্দিষ্ট শক্তির লক্ষ্য পূরণে কম সেল ব্যবহার করা যায়। এতে ব্যাটারি প্যাকের নকশা সহজ হয়, তার ও সংযোগকারীর সংখ্যা কমে এবং প্রতি কিলোওয়াট-আওয়ারের খরচ হ্রাস পায়। গাড়ি নির্মাতাদের জন্য যন্ত্রাংশ কমলে ওজনও কমতে পারে এবং নির্ভরযোগ্যতা বাড়ে, কারণ ত্রুটি হওয়ার সম্ভাব্য জায়গা থাকে কম।
চালকেরা কবে গাড়িতে এই ব্যাটারি দেখতে পাবেন
বাস্তব সড়কের পরিস্থিতিতে কর্মক্ষমতা, স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা যাচাই করতে ২০২৬ সালে পরীক্ষামূলক গাড়িতে সেলগুলো বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে জিএসির। পরীক্ষার ফল গবেষণাগারের প্রত্যাশার সঙ্গে মিললে ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে ব্যাপক উৎপাদনে যাওয়ার আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। শুরুতে বেশি দামের মডেল বা সীমিত সংখ্যায় তৈরি গাড়িতে এগুলো দেখা যেতে পারে। খরচ কমলে এবং সরবরাহ বাড়লে পরে আরও বিস্তৃত মডেলসম্ভারে যুক্ত হবে। বাজারে অন্যান্য ব্যাটারি প্রযুক্তির অগ্রগতিও এভাবেই হয়েছে।
১,০০০ কিলোমিটারের বেশি চলার দাবিতে নজর পড়বে। তবে চালকদের পরীক্ষাচক্রের পার্থক্য মাথায় রাখা উচিত। মূল বিষয় হলো ব্যবহারিক সক্ষমতার বড় পরিবর্তন। শক্তিঘনত্ব দ্বিগুণ হলে গাড়ি নির্মাতারা একই আকারের প্যাকে বেশি চলার দূরত্ব দিতে পারেন, অথবা কাছাকাছি চলার দূরত্ব রেখে আরও ছোট, হালকা ও সস্তা প্যাক বেছে নিতে পারেন। দুই পথেই বৈদ্যুতিক গাড়ি চালানোর মোট খরচ ও সুবিধা উন্নত হতে পারে।
সলিড-স্টেট প্রযুক্তিকে শিল্প উৎপাদনে নেওয়ার চীনা উদ্যোগ
অল-সলিড-স্টেট ব্যাটারির দ্রুত উন্নয়নে সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। উপাদান সরবরাহকারী, ব্যাটারি নির্মাতা ও গাড়ি নির্মাতাদের প্রযুক্তিগত পথ, নিরাপত্তার মান এবং উৎপাদন সরঞ্জাম নিয়ে সমন্বয়ের জন্য একটি জাতীয় যৌথ উদ্ভাবন প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হয়েছে। চীনের বিশ্লেষকেরা সলিড-স্টেট সেল তৈরির সরঞ্জামের বাজার দ্রুত সম্প্রসারণের সম্ভাবনা দেখছেন। তাঁদের পূর্বাভাস, পরিকল্পনা অনুযায়ী বাণিজ্যিকীকরণ এগোলে ২০২৭ সালের মধ্যে এই সরঞ্জামের বিক্রি প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছাবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ২৭ বিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়ে যাবে। অতীতের ব্যাটারি প্রযুক্তির বিভিন্ন পর্যায়ে নীতিগত সমর্থন, সমন্বিত গবেষণা এবং দেশীয় সরবরাহব্যবস্থা চীনকে এগিয়ে রেখেছে। এবারও সেই উপাদানগুলো কাজে লাগানো হচ্ছে।
প্রতিযোগিতায় আর কারা আছে
এই মাইলফলক জিএসির হলেও চীনের আরও কয়েকটি কোম্পানি সমান্তরালে এগোচ্ছে। বিওয়াইডি প্রথম প্রজন্মের সলিড-স্টেট প্যাক নিয়ে বাস্তব পরিস্থিতিতে পরীক্ষা চালাচ্ছে। এটির শক্তিঘনত্ব প্রতি কিলোগ্রামে প্রায় ৪০০ ওয়াট-আওয়ার বলে জানা গেছে। ২০২৭ সালের মধ্যে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু এবং ২০৩০ সালের দিকে আরও বিস্তৃতভাবে গাড়িতে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এসএআইসি ও তাদের অংশীদার ছিংতাও সাংহাইয়ে অল-সলিড-স্টেট কারখানার মূল উৎপাদন লাইন সম্পন্ন করেছে। গশান হাই-টেকের পরীক্ষামূলক উৎপাদন লাইন রয়েছে এবং উচ্চ ঘনত্বের সলিড-স্টেট সেল নিয়ে সড়ক পরীক্ষা চলছে। অংশীদারের মাধ্যমে এনআইও ১৫০ কিলোওয়াট-আওয়ারের সেমি-সলিড প্যাক ব্যবহার শুরু করেছে। উচ্চ শক্তিঘনত্বের সেল গাড়িতে যুক্ত করার অভিজ্ঞতা তৈরিতে এটি একটি মধ্যবর্তী পদক্ষেপ।
চীনের বাইরে টয়োটা ও নিশান ২০২০-এর দশকের শেষভাগে উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে স্তরায়িত অল-সলিড-স্টেট সেলের প্রোটোটাইপ লাইন তৈরি করছে। স্যামসাং এসডিআই ও এলজি এনার্জি সলিউশন সলিড-স্টেট গবেষণা ও উন্নয়ন এবং পরীক্ষামূলক উৎপাদনকেন্দ্রে বিনিয়োগ করছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সলিড পাওয়ার অংশীদারদের জন্য সালফাইড ইলেকট্রোলাইট উৎপাদন বাড়াচ্ছে। এসব কর্মসূচির প্রাথমিক গাড়ি উৎপাদনে যুক্ত হওয়ার সময়সীমা মূলত ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে। উৎপাদনের সাফল্যের হার বাড়লে এবং খরচ কমলে পরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে উৎপাদন সম্ভব হবে।
যেসব চ্যালেঞ্জের সমাধান এখনো বাকি
পরীক্ষামূলক উৎপাদন লাইন থেকে বছরে লাখ লাখ সেল উৎপাদনে যাওয়া কঠিন। হাজার হাজার চার্জ-চক্র জুড়ে ইলেকট্রোডের সঙ্গে স্থিতিশীল থেকেও কঠিন ইলেকট্রোলাইটকে উচ্চ আয়নিক পরিবাহিতা দিতে হবে। কঠিন ইলেকট্রোলাইট ও ইলেকট্রোডের সংযোগস্থলে ঘনিষ্ঠ সংযোগ বজায় রাখতে হবে এবং ব্যবহারের সময় সেখানে প্রতিরোধী স্তর তৈরি হওয়া চলবে না। কিছু কঠিন ইলেকট্রোলাইট, বিশেষ করে সালফাইডভিত্তিক উপাদান, উৎপাদনের সময় আর্দ্রতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের দাবি রাখে। উৎপাদন ফলন, অর্থাৎ একটি লাইন থেকে কতগুলো ভালো সেল পাওয়া যায়, খরচ কমাতে হলে তা শিল্পের প্রয়োজনীয় পর্যায়ে তুলতে হবে।
সরবরাহব্যবস্থারও পরীক্ষা হবে। প্রচুর পরিমাণে কঠিন ইলেকট্রোলাইট পাউডার এবং লিথিয়াম ধাতু বা সিলিকনসমৃদ্ধ অ্যানোড প্রয়োজন হবে। মেশানো, চাপ প্রয়োগ ও স্তরায়ণসহ উৎপাদনের সরঞ্জামকে উচ্চ গতিতে খুব কঠোর সহনসীমা বজায় রাখতে হবে। নতুন উপাদান পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে। এসব বিনিয়োগের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। তাই দীর্ঘ চলার দূরত্ব বা ওজন কমানোর সুবিধা যেখানে বেশি ব্যাটারি খরচকে যৌক্তিক করে, গাড়ি নির্মাতারা শুরুতে সেসব মডেলেই প্রযুক্তিটির ব্যবহার সীমিত রাখতে পারেন।
গাড়িতে সেলগুলো কী অর্জন করবে, সে বিষয়ে জিএসির নেতৃত্ব স্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। জিএসির অ্যাডভান্সড প্ল্যাটফর্ম টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের নতুন জ্বালানি শক্তি গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ছি হোংশং কোম্পানিটির প্রত্যাশিত উন্নতির কথা বলেছেন।
ছি হোংশং বলেন, নতুন সলিড-স্টেট সেলের শক্তিঘনত্ব বিদ্যমান লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির প্রায় দ্বিগুণ। বর্তমানে যে গাড়িগুলো ৫০০ কিলোমিটারের কিছু বেশি চলে, এই সেল ব্যবহার করলে সেগুলো ১,০০০ কিলোমিটারের বেশি যেতে পারে।
এই বক্তব্যেই প্রযুক্তিটির সম্ভাবনা ধরা পড়ে। উৎপাদিত গাড়িতে, বিভিন্ন জলবায়ুতে এবং বছরের পর বছর ব্যবহারের পরও এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করা, পাশাপাশি ব্যাপক ক্রেতাগোষ্ঠীর সাধ্যের মধ্যে খরচ রাখা, এখন সামনে থাকা কাজ।
১,০০০ কিলোমিটার চলার ইভি চালক ও বিদ্যুৎ গ্রিডের জন্য কী বদল আনবে
বাস্তবে ১,০০০ কিলোমিটার চলতে সক্ষম ইভি মানুষের ভ্রমণের পরিকল্পনা বদলে দেবে। অনেক চালককে মাসে মাত্র কয়েকবার চার্জ দিতে হবে। আগে পরিকল্পনার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করা দীর্ঘ গ্রামীণ পথ একবারেই পাড়ি দেওয়া সহজ হবে। এই চলার দূরত্ব গাড়ি নির্মাতাদের সুবিধা কমানো ছাড়াই ব্যাটারির আকার ছোট করার সুযোগ দেবে। ছোট প্যাকের খরচ ও ওজন কম, আর এতে কাঁচামালও লাগে কম। এই পথে সলিড-স্টেট সেলের সুবিধা দ্রুত আরও সাশ্রয়ী দামের গাড়িতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
চার্জিং নেটওয়ার্কের গুরুত্ব অবশ্য থেকেই যাবে। উচ্চ শক্তিঘনত্বের সেলেরও দীর্ঘ যাত্রাকে সুবিধাজনক রাখতে দ্রুত চার্জের প্রয়োজন। চীনে ইতিমধ্যে আরও দ্রুত চার্জিংকেন্দ্র গড়ে উঠছে। পরবর্তী প্রজন্মের গাড়ির জন্য নতুন মেগাওয়াট-শ্রেণির ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। কম তাপ ব্যবস্থাপনায় বেশি হারে চার্জ নিতে পারে এমন সলিড-স্টেট নকশা বিরতির সময় কমাতে এবং ব্যাটারি প্যাকের ওপর চাপ হ্রাস করতে পারে। সেল পর্যায়ে উন্নত দক্ষতা ও স্থিতিশীলতা চার্জিং নেটওয়ার্কের এসব উন্নয়নকে আরও কার্যকর করে তোলে।
মূল কথা
- জিএসি ৬০ Ah-এর বেশি ধারণক্ষমতার, বড় আকারের ও যানবাহনে ব্যবহারের উপযোগী ইভি সেলের জন্য চীনের প্রথম উৎপাদন লাইন সম্পন্ন করেছে এবং ছোট ব্যাচে উৎপাদন চালাচ্ছে।
- উৎপাদন লাইনটির ক্ষেত্রফলভিত্তিক ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ ৭.৭ mAh/cm2 বলে জানানো হয়েছে; লক্ষ্য হলো বর্তমান লিথিয়াম-আয়ন সেলের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ শক্তিঘনত্ব অর্জন।
- ২০২৬ সালে গাড়িতে বসিয়ে পরীক্ষা করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে ব্যাপক উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
- CLTC অনুযায়ী ১,০০০ কিলোমিটার চলার দাবি আরও রক্ষণশীল বাস্তব ব্যবহারের হিসাবে প্রায় ৪০০ থেকে ৪৬৫ মাইলের সমান।
- শুকনো অ্যানোড তৈরির প্রক্রিয়ায় একাধিক ধাপ একীভূত করা হয়েছে, ফলে সময় ও শক্তির ব্যবহার কমে এবং খরচও কমতে পারে।
- বাণিজ্যিকীকরণ ত্বরান্বিত করতে চীন একটি জাতীয় যৌথ প্ল্যাটফর্ম গঠন করেছে। সলিড-স্টেট উৎপাদন লাইনের সরঞ্জাম বিক্রি ২০৩০ সাল পর্যন্ত দ্রুত বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
- চীনে বিওয়াইডি, এসএআইসি, গশান ও এনআইও এই প্রযুক্তি নিয়ে এগোচ্ছে। অন্যদিকে টয়োটা, নিশান, স্যামসাং এসডিআই, এলজি এনার্জি সলিউশন ও সলিড পাওয়ার দেশের বাইরে কাজ করছে।
- উৎপাদন বাড়াতে ফলন, স্থিতিশীল সংযোগস্থল, কঠিন ইলেকট্রোলাইট ও অ্যানোডের সরবরাহব্যবস্থা এবং নানা পরিস্থিতিতে প্রমাণিত স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে অগ্রগতি প্রয়োজন।






