জাভার উচ্চভূমিতে নির্জন জীবনের ভেতরে
ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভার মোজোকার্তো শহরের কাছে সুম্বেরজো গ্রামের ওপরের বনাঞ্চলে একটি পাহাড়ি গুহাকে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজের বাড়ি বানিয়েছেন ৭০ বছর বয়সী সুদারমাজি। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট ছাড়া তাঁর জীবন; পান করার জন্য বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করেন। আনজাসমোরো শৃঙ্গ থেকে নেমে আসা একটি ঝরনার দিকে মুখ করা প্রাকৃতিক গুহাকক্ষে দিনের বেশির ভাগ সময় তিনি একা কাটান। গুহার একটি ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর নিরিবিলি জীবন নিয়ে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। এমন নিঃসঙ্গতায় বসবাসকারী একজন বয়স্ক মানুষকে ঘিরে সেই আগ্রহের সঙ্গে মিশেছে প্রশংসা ও উদ্বেগ।
সূচিপত্র
- জাভার উচ্চভূমিতে নির্জন জীবনের ভেতরে
- সুদারমাজির গুহাটি কতটা দুর্গম?
- ভূপ্রকৃতির গড়ে তোলা এক আবাস
- বৃষ্টির পানি থেকে ধ্যান: দৈনন্দিন জীবন
- খাবার ও রসদ
- নির্জনতা বেছে নেওয়ার কারণ কী? জাভার সাংস্কৃতিক সূত্র
- নির্জনতা বনাম বিচ্ছিন্নতা
- ৭০ বছর বয়সে গুহায় স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা
- জাভায় বর্ষার ঝুঁকি ও ভূমিধস
- স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও প্রতিবেশীরা যা বলছেন
- ভাইরাল পরিচিতি ঘিরে মনোযোগ ও নৈতিক প্রশ্ন
- যা জানা জরুরি
তাঁর আবাসে পৌঁছাতে যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হয়। দর্শনার্থীরা মোটরবাইকে সরু, খাড়া ও প্রায়ই পিচ্ছিল মাটির পথ ধরে প্রায় ৩৫ মিনিট যাওয়ার পর পায়ে হেঁটে ৫০ মিটার ঢাল বেয়ে নিচে নামেন। কেউ কেউ আরও দীর্ঘ পথ বেছে নেন—বনের ভেতর দিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার পদযাত্রা। গিরিখাতের উঁচুতে পাহাড়ের গায়ে খোদাই হয়ে থাকা গুহাটির নিচ দিয়ে পানি বয়ে যায়। দুর্গম ভূখণ্ডটি যেন দেয়াল হয়ে আধুনিক বিশ্বকে দূরে সরিয়ে রেখেছে।
ভেতরের মূল কক্ষটি প্রায় ৩৫ বর্গমিটার। পাতলা, পুরোনো একটি গদি তাঁর বিছানা; মাঝে মাঝে আসা অতিথিদের জন্য এক পাশে রাখা আছে একটি বোনা মাদুর। রান্নার জায়গার কাছে ছোট কাঠের চুলায় পাথর কালো হয়ে গেছে। সরু একটি পথ গুহার আরও ভেতরে নিরিবিলি ধ্যানের একটি কুঠুরিতে গেছে, যেখানে দুটি মূর্তি ও সামান্য নৈবেদ্য ব্যক্তিগত সাধনার ইঙ্গিত দেয়। পানির জন্য গুহার দেয়াল বেয়ে টপটপ করে পড়া পানির নিচে বালতি রাখেন, তারপর প্রয়োজনমতো তা সংগ্রহ করেন। কয়েকটি মুরগি পালন করেন, খাবার উপযোগী গাছপালা সংগ্রহ করেন এবং দরকার হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পুরোনো মোটরবাইকে গ্রামে যান। স্থানীয় বন বিভাগের কর্মকর্তা তারমিদি বলেছেন, সুদারমাজি ১৯৮৩ সালের দিকে এখানে বসবাস শুরু করেন। তবে গ্রামের এক প্রধানের ধারণা, তাঁর এই বসবাস ৫০, এমনকি ৬০ বছরও হতে পারে। গ্রামের এক নারী একসময় তাঁকে সহায়তা করতেন; তিনি মারা যাওয়ার পরও সুদারমাজি সেখানেই থেকে যান।
সুদারমাজির গুহাটি কতটা দুর্গম?
এ ক্ষেত্রে দুর্গমতা শুধু মানচিত্রের দূরত্বের বিষয় নয়। ভৌগোলিক অবস্থানই তাঁকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। গুহাটির মুখ একটি সরু উপত্যকার দিকে, যেখানে আনজাসমোরো পর্বতমালা থেকে নেমে আসা ঝরনাগুলো এসে মিশেছে। খাড়া ঢাল ঘন গাছপালায় ঢাকা, ফলে রসদ পৌঁছানো, পথ মেরামত করা বা জরুরি অবস্থায় কাউকে সরিয়ে নেওয়া কঠিন। সাধারণ একটি যাত্রাই হয়ে ওঠে অভিযান, বিশেষ করে ভারী বৃষ্টির সময়, যখন পথ পিচ্ছিল হয় এবং ঢাল বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
কেন দর্শনার্থীদের মনে হয় এখানে সময় যেন ধীরে চলে, তা এই পরিবেশ থেকেই বোঝা যায়। বনের এই অংশে বিদ্যুতের তার, পাম্প বা পাইপ পৌঁছায়নি। এখানে শুধু পানির শব্দ, পোকামাকড়ের ডাক আর মাঝেমধ্যে পাহাড়ি শৈলশিরার ওপারে যেতে না-পারা মোটরবাইকের আওয়াজ শোনা যায়। বাস্তবিক অর্থে, নিঃসঙ্গতা তাঁকে ব্যক্তিগত পরিসর দিলেও চিকিৎসা ও নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ায়। তিনি আহত বা অসুস্থ হলে সাহায্য পৌঁছাতে সময় লাগবে।
ভূপ্রকৃতির গড়ে তোলা এক আবাস
গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের পাহাড়ি গুহাগুলো প্রায়ই তৈরি হয়, যখন পানি পাথরের ফাটল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ধীরে ধীরে ফাঁপা জায়গা তৈরি করে। বাইরের বাতাসের তুলনায় ভেতরটা ঠান্ডা থাকতে পারে। আর্দ্রতা ঘনীভূত হয়ে ফোঁটা ফোঁটা করে ঝরে, যা সুদারমাজির বাড়ির ভেতরের বালতিগুলো ভরে। এই অবিরাম স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ রান্না, কাপড় শুকানো থেকে শুরু করে বিছানা ব্যবহারযোগ্য রাখা পর্যন্ত দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করে। এতে বোঝা যায়, তাঁর পানির উৎস নির্ভরযোগ্য হলেও এর যত্ন নেওয়া জরুরি।
বৃষ্টির পানি থেকে ধ্যান: দৈনন্দিন জীবন
দর্শনার্থীদের বর্ণনায় উঠে আসে সরলতায় গড়া এক দৈনন্দিন রুটিন। কাছাকাছি থেকে কুড়িয়ে আনা কাঠে চুলা জ্বলে। দিনের আলোর সঙ্গে মিলিয়ে চলে সাধারণ খাবারের আয়োজন। প্রবেশপথ থেকে কিছুটা দূরে ধ্যানের জায়গাটি, যেখানে আলো মৃদু ও বাতাস স্থির। জাভার আধ্যাত্মিক চর্চায় মূর্তি ও নৈবেদ্য পরিচিত অনুষঙ্গ; যেখানে কেউ প্রার্থনা বা ধ্যান করেন, সেখানে এগুলো শ্রদ্ধার প্রতীক।
গুহাটি বাইরের জগৎ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন নয়। মাঝেমধ্যে মানুষ নিচে নেমে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে, চাল বা সবজি দিতে কিংবা তাঁর খোঁজখবর নিতে আসে। এই সংক্ষিপ্ত যোগাযোগগুলো গ্রামের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং বাস্তবিক অর্থে তিনি যা সংগ্রহ ও চাষ করতে পারেন, তার পরিপূরক হয়।
খাবার ও রসদ
মুরগি থেকে ডিম পাওয়া যায়, কখনো মাংসও। বনে বুনো শাকসবজি সংগ্রহ করা যায়। বর্ষার মাসগুলোতে বৃষ্টির পানির অভাব হয় না, আর শুষ্ক সময়েও গুহার দেয়াল থেকে পানি চুঁইয়ে পড়ে। বনে মেলে না এমন জিনিসের জন্য তিনি পুরোনো মোটরবাইকে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে যান। পথটি কঠিন, তাই আবহাওয়া ও শারীরিক অবস্থার কথা ভেবে তিনি সম্ভবত যাতায়াতের পরিকল্পনা করেন।
নির্জনতা বেছে নেওয়ার কারণ কী? জাভার সাংস্কৃতিক সূত্র
এই জীবন বেছে নেওয়ার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে রাজি হননি সুদারমাজি; তাঁর এই সিদ্ধান্তকে সম্মান করা উচিত। জাভার আধ্যাত্মিক পরিমণ্ডলে গুহা ও বনের কুটির দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে; মানুষ সেখানে ধ্যান করতে বা ব্যক্তিগত ব্রত পালনের জন্য নিরিবিলি খোঁজেন। ধ্যানের কোণ ও নৈবেদ্যের উপস্থিতি আধ্যাত্মিক অনুষঙ্গের ইঙ্গিত দেয়, যদিও তাঁর উদ্দেশ্য একমাত্র তিনিই জানেন।
জাভার ঐতিহ্যে আত্মমননের জন্য নির্জনে সরে যাওয়ার একটি ধারণা রয়েছে, যা প্রায়ই ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগের ভাবনার সঙ্গে যুক্ত। এ ধরনের চর্চা শুধু জাভার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পাহাড়ি নির্জনবাস থেকে মরুভূমির আশ্রম—এশিয়া ও তার বাইরেও এর প্রতিধ্বনি রয়েছে। যাঁরা নির্জনতা বেছে নেন, তাঁরা কথা বলতে চাইলে প্রায়ই স্বচ্ছতা ও সরলতার কথা বলেন। নীরবতাও হয়ে ওঠে দৈনন্দিন জীবনের অংশ।
নির্জনতা বনাম বিচ্ছিন্নতা
নিজের ইচ্ছায় নির্জনে থাকা স্বাস্থ্যকর হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিরাপদ ও সহায়তাপূর্ণ পরিবেশে একা কাটানো সময় মানসিক চাপ কমাতে এবং মনোযোগ বাড়াতে পারে। বিচ্ছিন্নতা অনিচ্ছাকৃত হলে বা মৌলিক চাহিদা অনিশ্চিত থাকলে ঝুঁকি বাড়ে। বয়সও আরেকটি বিষয়, কারণ অসুস্থতা বা আঘাত পেলে সাহায্য দূরে থাকায় দ্রুত বিপদ তৈরি হতে পারে। এ দিক থেকে মাঝেমধ্যে মানুষের আসা এবং তাঁর নিয়মিত গ্রামে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
৭০ বছর বয়সে গুহায় স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা
দুর্গম কোনো স্থানে পানিই প্রথম অগ্রাধিকার। মাটি ও পাথর চুঁইয়ে আসা বৃষ্টির পানিতে পশুর বিষ্ঠা বা দূষিত ভূমি থেকে জীবাণু মিশতে পারে। পানি ফুটিয়ে পানযোগ্য করাই সবচেয়ে সহজ উপায়, আর কাঠের চুলায় তা সম্ভব। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় গুহায় ইঁদুর বা পোকামাকড় থেকেও পানি দূষিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পানি সাবধানে সংরক্ষণ, বালতি পরিষ্কার রাখা এবং পানি ফুটিয়ে নিলে এসব ঝুঁকি কমানো যায়।
এরপরের উদ্বেগ খাবারের বৈচিত্র্য। ডিম, শাকসবজি এবং মাঝে মাঝে চাল বা অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার কিনে নিলে মৌলিক চাহিদা মেটে। তবে খাদ্যতালিকা সীমিত হলে দীর্ঘ মেয়াদে আয়োডিনের মতো খনিজ বা ভিটামিনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে শাকসবজি কম পাওয়া গেলে। দুর্গম পরিবেশে সাধারণ বিপদও বড় হয়ে দেখা দেয়। ভেজা ঢালে গোড়ালি মচকে যাওয়া, ক্ষত থেকে সংক্রমণ বা চুলার ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে শরীরে ঢুকে পড়া—দ্রুত চিকিৎসা না পেলে এসব পরিস্থিতি জটিল হতে পারে।
জাভায় বর্ষার ঝুঁকি ও ভূমিধস
জাভায় বর্ষাকাল শুরু হয় সেপ্টেম্বরের দিকে এবং বৃষ্টি এপ্রিল পর্যন্ত চলতে পারে। ভারী বর্ষণে ঢাল ধসে পড়ে, বিশেষ করে খাড়া ভূখণ্ড ও নরম মাটির জেলাগুলোতে। ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্য জাভায় ভূমিধসে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে; বানজারনেগারা ও সিলাকাপে অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকারী দলগুলো কাজ চালানোর সময় অব্যাহত বৃষ্টি, জমে থাকা ধ্বংসাবশেষ এবং নতুন করে ভূমিধসের ঝুঁকির কথা জানিয়েছে। এসব ঘটনা মোজোকার্তো থেকে অনেক দূরে হলেও, বৃষ্টি বাড়লে পাহাড়ি ঢাল কত দ্রুত বদলে যেতে পারে, তা দেখায়। নিচে ঝরনা বয়ে যাওয়া গিরিখাতের গুহাটির দিকে ঝড়ের সময় সতর্ক নজর রাখা জরুরি।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও প্রতিবেশীরা যা বলছেন
স্থানীয় বন বিভাগের কর্মী ও গ্রামের নেতারা বহু বছর ধরেই গুহাবাসীর কথা জানেন। বন বিভাগের কর্মকর্তা তারমিদি বলেছেন, সুদারমাজি ১৯৮৩ সালের দিকে গুহায় থাকতে শুরু করেন। গ্রামের এক প্রধানের ধারণা, তাঁর এই বসবাস আরও দীর্ঘ—সম্ভবত ৫০ থেকে ৬০ বছর। আশপাশের এলাকার মানুষ মাঝেমধ্যে খাবার নিয়ে আসেন এবং তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন; বিশেষ করে পথটি যেকোনো দর্শনার্থীর জন্যই কঠিন বলে।
বন বিভাগের কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রামের এক নারী একসময় তাঁকে সহায়তা করতেন। তিনি মারা যাওয়ার পর সুদারমাজি গুহাতেই থেকে যান। একা থাকলেও অন্যদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের যোগসূত্রটি কীভাবে বজায় রয়েছে, তা বুঝতে এই ইতিহাস সাহায্য করে।
ভাইরাল পরিচিতি ঘিরে মনোযোগ ও নৈতিক প্রশ্ন
সুদারমাজি ও তাঁর গুহার একটি ছোট ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে প্রচুর দর্শক আকৃষ্ট হয়েছেন এবং নিরাপত্তা, মর্যাদা ও বিদ্যুৎ-সংযোগবিহীন জীবন বেছে নেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে নানা মন্তব্য এসেছে। জনসাধারণের কৌতূহল ইতিবাচক মনোযোগ এনে দিতে পারে। তবে এতে খাড়া ও পিচ্ছিল পথে অপ্রস্তুত দর্শনার্থীদের আনাগোনা বাড়তে পারে, যা গুহাবাসী এবং ওই পথে যাওয়ার চেষ্টা করা মানুষ—উভয়ের ঝুঁকি বাড়ায়।
এই আগ্রহ অব্যাহত থাকলে সম্মানজনক আচরণ জরুরি হবে। দুর্গম স্থানে যেতে চাইলে দর্শনার্থীদের জায়গাটির পরিবেশ নষ্ট না করার দিকে খেয়াল রাখা, ছবি তোলা বা প্রকাশের আগে অনুমতি নেওয়া এবং পশুপাখিকে আকৃষ্ট করতে পারে এমন খাবার বা আবর্জনা না ফেলে আসা উচিত। বাসিন্দা যে নির্জনতা রক্ষা করতে চান, মানুষের আগ্রহ যেন তা নষ্ট না করে—সে জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পথটিতে মানুষের চলাচল কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তাও বিবেচনা করতে পারে।
যা জানা জরুরি
- ৭০ বছর বয়সী সুদারমাজি পূর্ব জাভার মোজোকার্তো শহরের বাইরে সুম্বেরজো গ্রামের কাছে একটি গুহায় ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করছেন।
- তিনি বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট ছাড়া থাকেন এবং পান করা ও দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য গুহার দেয়াল চুঁইয়ে আসা বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করেন।
- খাড়া ও পিচ্ছিল পথে মোটরবাইকে ৩৫ মিনিট যাওয়ার পর ৫০ মিটার নিচে নামলে গুহায় পৌঁছানো যায়; বিকল্প হিসেবে বনের ভেতর দিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার পদযাত্রা রয়েছে।
- মূল কক্ষটি প্রায় ৩৫ বর্গমিটার। সেখানে রয়েছে সাধারণ একটি গদি, দর্শনার্থীদের জন্য একটি মাদুর এবং রান্নার জন্য ছোট কাঠের চুলা।
- সরু একটি পথ ধ্যানের জায়গায় গেছে; সেখানে দুটি মূর্তি ও নৈবেদ্য রয়েছে, যা ব্যক্তিগত সাধনার ইঙ্গিত দেয়।
- তিনি মুরগি পালন করেন, বুনো শাকসবজি সংগ্রহ করেন এবং মাঝেমধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে গ্রামে যান। দর্শনার্থীরা কখনো কখনো খাবার নিয়ে আসেন।
- বন বিভাগের এক কর্মকর্তা তাঁর গুহায় বসবাস শুরুর সময় ১৯৮৩ সালের দিকে বলে উল্লেখ করেছেন। গ্রামের এক প্রধানের ধারণা, তিনি সেখানে ৫০ থেকে ৬০ বছর ধরে থাকতে পারেন; গ্রামের এক নারী একসময় তাঁকে সহায়তা করতেন।
- গুহার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তাঁর বয়সে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
- জাভার বর্ষাকালে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ে। সম্প্রতি মধ্য জাভায় ভূমিধসে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা খাড়া ভূখণ্ডের বিপদ তুলে ধরে।
- জায়গাটিতে পৌঁছানো এখনও কঠিন এবং বৃষ্টির সময় ঝুঁকিপূর্ণ। তাই স্থানীয়ভাবে এ বিষয়ে সচেতন থাকা ও সম্মানজনক আচরণ করা জরুরি।






