চুক্তির ফাঁদে: দীর্ঘমেয়াদি কয়লা চুক্তি কীভাবে এশিয়ার পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে উত্তরণ আটকে দিচ্ছে

পড়তে 13 মিনিট
চুক্তির ফাঁদে: দীর্ঘমেয়াদি কয়লা চুক্তি কীভাবে এশিয়ার পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে উত্তরণ আটকে দিচ্ছে

জলবায়ু লক্ষ্যের চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী চুক্তি

এশিয়াজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কয়লার সঙ্গে এমনভাবে আবদ্ধ, যা জলবায়ুনীতি বা বাজারের প্রবণতা দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন। কয়েক দশক মেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির কারণে গ্রিডে কম দামের বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু থাকছে। পাওয়ারিং পাস্ট কোল অ্যালায়েন্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ এ ধরনের চুক্তির আওতায় রয়েছে, যেগুলোর মেয়াদ গড়ে আরও প্রায় ৯ থেকে ১৮ বছর। এর ফলে তৈরি হয়েছে এক বৈপরীত্য। নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ছে, অথচ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন একরকম উচ্চই থেকে যাচ্ছে, কারণ চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুতের প্রয়োজন থাকুক বা না থাকুক, ক্রেতাদের কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রকে অর্থ দিতে হয়।

সূচিপত্র
  1. জলবায়ু লক্ষ্যের চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী চুক্তি
  2. ‘নাও বা দাম দাও’ চুক্তি যেভাবে কাজ করে
  3. অঞ্চলজুড়ে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের উৎপাদন কমানো বাড়ছে
  4. অনমনীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রনির্ভর গ্রিড
  5. দেশভিত্তিক চিত্র
  6. ইন্দোনেশিয়া
  7. ভিয়েতনাম
  8. ফিলিপাইন
  9. ভারত
  10. অর্থ, আইন এবং কে খরচ দেবে
  11. কেন আগেভাগে কেন্দ্র বন্ধের উদ্যোগ বারবার থমকে যায়
  12. বাজেটের ওপর চাপ না বাড়িয়ে চুক্তির জট খোলা
  13. চুক্তিতে নমনীয়তা আনুন
  14. উত্তরণ ক্রেডিট ও কার্বন বাজার ব্যবহার করুন
  15. জ্বালানি নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান
  16. কেন্দ্রগুলো কি বন্ধ করার জন্য সত্যিই খুব নতুন
  17. জেনে রাখুন

চুক্তির এই আবদ্ধতা আঞ্চলিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের তথ্যেও স্পষ্ট। গত এক দশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিদ্যুৎ সরবরাহে কয়লার অংশ প্রায় ৩৫ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ৪৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে বিশ্বে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার অংশ প্রায় ৩৯ শতাংশ থেকে কমে প্রায় ৩৪ শতাংশ হয়েছে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এখনো পিছিয়ে। এ অঞ্চলের বিদ্যুতের প্রায় ২৬ শতাংশ আসে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে, যা বৈশ্বিক গড় প্রায় ৪১ শতাংশের অনেক নিচে। এই ব্যবধান কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি ব্যবস্থার ব্যয় কমানোরও হাতছাড়া সুযোগ—বিশেষ করে সৌর, বায়ু ও জ্বালানি সংরক্ষণের খরচ যখন ক্রমেই কমছে।

চ্যালেঞ্জটি শুধু প্রযুক্তিগত নয়। এর সঙ্গে আইনি ও আর্থিক বিষয়ও জড়িত। বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকদের নিয়মিত আয় এবং কর্মীদের স্থিতিশীল কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই কয়লা চুক্তিগুলো করা হয়েছিল। নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য জায়গা করতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চুক্তিবদ্ধ কয়লাভিত্তিক উৎপাদন কমালে তাদের জরিমানা গুনতে হতে পারে, অথবা অলস পড়ে থাকা কেন্দ্রের নির্ধারিত চার্জ দিতে হতে পারে। একটি দেশের সব কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র মিলিয়ে এই দায় কয়েক শ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। তাই বিদ্যুতের জন্য বেশি অর্থ দিতে হলেও গ্রিড পরিচালনাকারীরা প্রায়ই আগে বায়ু বা সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন কমান।

‘নাও বা দাম দাও’ চুক্তি যেভাবে কাজ করে

উদীয়মান এশীয় বাজারের বেশির ভাগ কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে অর্থায়ন হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির ভিত্তিতে। অনেক চুক্তিতে তথাকথিত ‘নাও বা দাম দাও’ শর্ত রয়েছে, যাতে কেন্দ্র চালু থাকুক বা না থাকুক, ক্রেতাকে ন্যূনতম পরিমাণ বিদ্যুৎ বা সক্ষমতার জন্য অর্থ দিতে হয়। ২০ থেকে ৩০ বছরের আয় নিশ্চিত করে বিনিয়োগের ঝুঁকি কমানোই ছিল এর উদ্দেশ্য। গ্রিডের মেরুদণ্ড হিসেবে বড়, স্থিতিশীল কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র চালানোর পুরোনো ব্যবস্থার সঙ্গে এই কাঠামো মানানসই ছিল। কিন্তু আধুনিক ব্যবস্থায়, যেখানে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান অংশ আসছে পরিবর্তনশীল নবায়নযোগ্য উৎস থেকে এবং স্থির উৎপাদনের চেয়ে গ্রিডের নমনীয়তার প্রয়োজন বেশি, সেখানে এই ব্যবস্থা ভালোভাবে খাপ খায় না।

এ ধরনের চুক্তি বাতিল করা বা নতুন করে দর-কষাকষি করা কঠিন। চুক্তিগুলোর ধরন একেক রকম হলেও উৎপাদন কম হলে জরিমানার বিধান সাধারণ। প্রকল্পে বিদেশি ঋণদাতা ও বিনিয়োগকারীরা যুক্ত থাকলে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের জন্য জোরালো সুরক্ষাসংবলিত সরকারি সহায়তা চুক্তিও থাকতে পারে। নীতির কারণে কেন্দ্র আগেভাগে বন্ধ করতে হলে এসব চুক্তি থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি উঠতে পারে। বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বিরোধে জড়ানোর ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক সরকারগুলো জলবায়ু কৌশলে বন্ধের কথা থাকলেও তা বাধ্যতামূলক করতে দ্বিধা করে।

অঞ্চলজুড়ে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের উৎপাদন কমানো বাড়ছে

চুক্তিবদ্ধ কয়লাভিত্তিক উৎপাদন যখন গ্রিডের সক্ষমতার বড় অংশ দখল করে রাখে, তখন নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হয়। নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের উৎপাদন ইচ্ছাকৃতভাবে কমানোর এই প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানির সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো চীনেও আগের বছরের তুলনায় অক্টোবরে কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র থেকে উৎপাদন ৭.৩ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্লেষকদের সতর্কতা, দীর্ঘমেয়াদি কয়লা চুক্তি সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের উৎপাদন কমানোর পেছনে ভূমিকা রাখছে। উড ম্যাকেঞ্জির পূর্বাভাস, আগামী দশকে ২১টি প্রদেশে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন গড়ে ৫ শতাংশের বেশি কমানো হবে। জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মতো এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বড় অর্থনীতিগুলোও গত বছর নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের উৎপাদন বেশি কমানোর কথা জানিয়েছে।

উৎপাদন কমানোর সরাসরি আর্থিক ক্ষতি রয়েছে। বায়ু ও সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগকারীরা প্রত্যাশার চেয়ে কম আয় পান। এতে ভবিষ্যতে বিনিয়োগ কমে যেতে পারে। ভোক্তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হন, কারণ ব্যবস্থাকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বিদ্যুতের জন্য অর্থ দিতে হয়—কয়লা চুক্তির শর্ত পূরণে এবং পুরো উৎপাদন সরবরাহ করতে না পারা নবায়নযোগ্য প্রকল্পগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে। অনমনীয় কয়লা চুক্তি যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি অবকাঠামো অব্যবহৃত থাকা এবং ব্যবস্থার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও তত বাড়বে।

অনমনীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রনির্ভর গ্রিড

কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র দীর্ঘ সময় ধরে স্থিতিশীলভাবে চালানোর উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে, আর উৎপাদন বাড়ানো বা কমানো ব্যয়বহুল। অন্যদিকে, নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিবর্তনশীল। দুটির মধ্যে সমন্বয়ের জন্য উন্নত সময়সূচি, বেশি জ্বালানি সংরক্ষণ সক্ষমতা এবং নমনীয়তার মূল্য দেয় এমন চুক্তি দরকার। এসব পরিবর্তন না হলে চুক্তির জরিমানা ও কারিগরি চাপ এড়াতে বিদ্যুৎ সঞ্চালনকারীরা প্রায়ই কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র চালু রাখেন, তারপর দুপুরের সর্বোচ্চ চাহিদার সময় বা বাতাস বেশি থাকা রাতে সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের উৎপাদন কমান। আধুনিক গ্রিডের জন্য দরকার চাহিদা ব্যবস্থাপনা, আন্তসংযোগ উন্নয়ন, স্বল্প মেয়াদে প্রয়োজনে দ্রুত চালু করা যায় এমন গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র এবং ক্রমবর্ধমান হারে ব্যাটারি। একই সঙ্গে দরকার পুরোনো চুক্তিতে এমন সুযোগ, যাতে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ পর্যাপ্ত থাকলে কয়লাভিত্তিক উৎপাদন কমানো যায়।

বিজ্ঞাপন

দেশভিত্তিক চিত্র

প্রতিটি বাজারে কয়লা চুক্তির জটিলতা আলাদা, তবে কয়েকটি প্রবণতা বারবার দেখা যায়: চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে এখনো অনেক দেরি, নির্ধারিত চার্জ বেশি এবং কেন্দ্র বন্ধের অর্থায়ন নিয়ে নীতিগত অনিশ্চয়তা। গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো।

ইন্দোনেশিয়া

ইন্দোনেশিয়া কয়লার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল এবং দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় পরিচালিত বিপুলসংখ্যক কেন্দ্র রয়েছে। সরকার কয়লার ব্যবহার ধাপে ধাপে বন্ধ করার লক্ষ্য ঘোষণা করেছে এবং এ কাজে সহায়তার জন্য বহু শ কোটি ডলারের জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন পার্টনারশিপ গড়ে তোলা হয়েছে। তবে অগ্রগতি একরকম হয়নি। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৬.৭ গিগাওয়াট সক্ষমতা বন্ধের পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ধীরে ছাড় হওয়ায় ঝুঁকির মুখে। রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ সংস্থা পিএলএন এখনো কয়েকটি কেন্দ্রে অব্যবহৃত সক্ষমতার জন্য অর্থ দিচ্ছে। আগের বিনিয়োগ চক্রে অতিরিক্ত কেন্দ্র নির্মাণের ফলে এই বোঝা তৈরি হয়েছে, যার দায় শেষ পর্যন্ত ভোক্তা ও রাষ্ট্রের ওপর পড়ছে। এমবারের বিশ্লেষকদের মতে, ২০৪০ সালের মধ্যে কয়লার ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করতে হলে বছরে প্রায় ৩ গিগাওয়াট কয়লাভিত্তিক সক্ষমতা অবসর নিতে হবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা দ্রুত বাড়াতে হবে। বিশেষ করে ব্যাটারিসহ সৌরবিদ্যুৎ বাড়িয়ে ২০৪০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের প্রায় ৬৫ শতাংশ পরিচ্ছন্ন উৎস থেকে আনার প্রয়োজন হবে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের এনার্জি ট্রানজিশন মেকানিজমের সঙ্গে যুক্ত একটি চুক্তিসহ আগেভাগে কেন্দ্র বন্ধের লেনদেনও পরীক্ষা করছে ইন্দোনেশিয়া। এ মডেলে কম খরচে কয়লাভিত্তিক সম্পদের পুনঃঅর্থায়ন, বিনিয়োগকারীদের আগেভাগে অর্থ ফেরত এবং মূল চুক্তির নির্ধারিত সময়ের আগেই কেন্দ্র বন্ধ করার ওপর নির্ভর করা হয়।

ভিয়েতনাম

কয়লা থেকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে যাওয়ার উচ্চপর্যায়ের অঙ্গীকার করেছে ভিয়েতনাম; দেশটির বিনিয়োগ পরিবেশও তুলনামূলকভাবে অনুকূল। বিদ্যুৎ ঘাটতির আশঙ্কায় নীতিনির্ধারকেরা কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র দ্রুত বন্ধ করার বিষয়ে সতর্ক রয়েছেন। গবেষকদের মতে, নিকট মেয়াদে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হলো নতুন কয়লাভিত্তিক সক্ষমতা যোগ করা বন্ধ করা, বিদ্যমান নবায়নযোগ্য জ্বালানির আরও ভালো ব্যবহার এবং চুক্তি সংস্কার, যাতে জরিমানা ছাড়াই কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র কম সময় চালানো যায়। লক্ষ্য হলো বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রেখে আরও বায়ু ও সৌরবিদ্যুতের জন্য জায়গা তৈরি করা এবং উৎপাদন কমানোর ঝুঁকি হ্রাস করা।

ফিলিপাইন

২০২০ সালে ফিলিপাইন নতুন কয়লাভিত্তিক প্রকল্প নিষিদ্ধ করলেও পাইপলাইনে থাকা কেন্দ্রগুলো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিসহ এগিয়ে গেছে। বাতানে অবস্থিত জিএনপাওয়ার ডিঙ্গিনিন কেন্দ্রটি এই চুক্তিগত আবদ্ধতার উদাহরণ। বড় কোনো কয়লা চুক্তি আগেভাগে বাতিল করতে গেলে বকেয়া ঋণ, কর ও হারানো মুনাফাসহ কয়েক শ কোটি ডলার খরচ হতে পারে। সাধারণত এই ব্যয় বিদ্যুতের গ্রাহকদের ওপর পড়ে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়লাভিত্তিক সম্পদের উল্লেখযোগ্য অংশ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের হাতে। চুক্তি কিনে নেওয়ার জন্য সরকারি সংস্থা থাকা ধনী দেশগুলোর মতো, এ অঞ্চলের অনেক সরকারের সেই ব্যয় বহনের আর্থিক সামর্থ্য নেই। এ কারণেই যেকোনো কেন্দ্র বন্ধের পরিকল্পনায় মিশ্র অর্থায়ন ও বহুপক্ষীয় সহায়তা জরুরি।

ভারত

ভারত দ্রুত সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, তবু রাজ্য পর্যায়ের ক্রেতারা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদকদের সঙ্গে নতুন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়লে বিদ্যুৎ বিতরণকারীদের অব্যবহৃত কয়লাভিত্তিক সম্পদের ওপর বড় অঙ্কের নির্ধারিত চার্জ দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এমবার ও ক্লাইমেট ট্রেন্ডসসহ গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য, বিতরণ সংস্থাগুলোর সম্পদ পরিকল্পনা নতুন করে সাজাতে হবে এবং নমনীয় চুক্তির দিকে যেতে হবে, যাতে পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া গেলে সেটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া যায়। এই পরিবর্তন না হলে উৎপাদন কমানো এবং সম্পদ অচল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়বে।

বিজ্ঞাপন

অর্থ, আইন এবং কে খরচ দেবে

প্রতিটি কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের পেছনে রয়েছে একটি আর্থিক কাঠামো। অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ঋণদাতারা প্রকল্পে অর্থ দিয়েছেন এবং আয়োজক সরকার চুক্তি ও গ্যারান্টির মাধ্যমে সহায়তা করেছে। ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউটের গবেষণায় কঠিন এক বাস্তবতার কথা উঠে এসেছে। অনেক বিনিয়োগ চুক্তিতে এমন শর্ত আছে, যাতে নীতিগত পদক্ষেপের কারণে কোনো কেন্দ্র আগেভাগে বন্ধ হলে আয়োজক সরকারকে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পথে এটি বড় বাধা। সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের সরকারগুলো বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণের দায় নিতে চাইবে না, আবার আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বিনিয়োগকারীদের বিরোধের মুখোমুখি হতেও অনিচ্ছুক। অতীতের বিনিয়োগব্যবস্থার আইনি কাঠামো জলবায়ু লক্ষ্য মাথায় রেখে তৈরি করা হয়নি।

তবু পথ রয়েছে। সরকার কেন্দ্রের মালিক, ঋণদাতা ও উন্নয়ন ব্যাংকসহ সব পক্ষকে নিয়ে কাঠামোবদ্ধ আলোচনায় নেতৃত্ব দিতে পারে। চীন, জাপান ও কোরিয়ার মতো বড় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিজ দেশগুলোও সহায়তা করতে পারে, বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রকে এসব দেশের রাষ্ট্রসমর্থিত ব্যাংক অর্থায়ন করেছে। অচলাবস্থা কাটাতে বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংকগুলো সহজ শর্তের মূলধন, আইনি সহায়তা ও ঝুঁকি বিমা দিতে পারে। সব পক্ষের সমঝোতা ছাড়া আগেভাগে কেন্দ্র বন্ধ করা সচরাচর সম্ভব হয় না। তবে নজির তৈরি হচ্ছে; ইন্দোনেশিয়া ও চিলির কিছু চুক্তিতে সুদের হার কমানোর সঙ্গে দ্রুত নিঃসরণ হ্রাসের যোগসূত্র রাখা হয়েছে।

কেন আগেভাগে কেন্দ্র বন্ধের উদ্যোগ বারবার থমকে যায়

ধারণাটি সহজ: কেন্দ্র আগেভাগে বন্ধ করে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি দিয়ে তার জায়গা পূরণ করা। কিন্তু বাস্তবে পরিচালনার বাকি বছরগুলোর জন্য বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, অথবা চুক্তির শর্ত বদলাতে হবে। কয়লাভিত্তিক সম্পদ কিনে নেওয়ার কাজে সরকারি তহবিল ব্যবহারে দাতাদের নিয়মে সীমাবদ্ধতা আছে। কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র বন্ধ করতে মালিকদের অর্থ দিলে বেসরকারি ঋণদাতারা সুনামহানির ঝুঁকিতে পড়েন। এসব সীমাবদ্ধতায় আগেভাগে কেন্দ্র বন্ধের কর্মসূচি ধীর হয়েছে এবং পরিকল্পনাকারীরা অন্য উপায়ে মনোযোগ দিতে বাধ্য হয়েছেন। যেমন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা বাড়ানোর গতি ত্বরান্বিত করা এবং বিদ্যমান চুক্তির আওতায় কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের চালানোর সময় কমানোর চেষ্টা।

বিজ্ঞাপন

বাজেটের ওপর চাপ না বাড়িয়ে চুক্তির জট খোলা

পরিচ্ছন্ন জ্বালানির সক্ষমতা কম খরচে বাড়াতে কয়লা চুক্তি পুনর্গঠনের জন্য নতুন আর্থিক ও আইনি উপায় তৈরি হয়েছে। আরএমআইয়ের বিশ্লেষণে তিনটি বাস্তবসম্মত পথ তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমত, সম্পদের পুনঃঅর্থায়ন করে বিনিয়োগকারীদের আগেভাগে অর্থ ফেরত দিয়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি আগেভাগে শেষ করা, যাতে নির্ধারিত সময়ের কয়েক বছর আগেই কেন্দ্র বন্ধ হয়। দ্বিতীয়ত, কয়লা চুক্তির বদলে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি চুক্তি করা, যাতে ঋণ পরিশোধ ও আয় নতুন নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি সংরক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়, যা কয়লাভিত্তিক উৎপাদনের ঘাটতি পূরণ করবে। তৃতীয়ত, কেন্দ্র বন্ধের আগে নিঃসরণ কমাতে কয়লা চুক্তি পুনর্গঠন করা। উদাহরণস্বরূপ, ন্যূনতম বিদ্যুৎ কেনার পরিমাণ কমানো, বাধ্যতামূলকভাবে কেন্দ্র চালানোর সময় হ্রাস করা এবং নির্দিষ্ট অবসর গ্রহণের তারিখ ঠিক করার পাশাপাশি প্রকৃত বিদ্যুৎ সরবরাহের সঙ্গে অর্থ পরিশোধের যোগসূত্র রাখা।

এসব পদ্ধতিতে কয়লা থেকে উত্তরণের অর্থায়ন কাঠামো কাজে লাগে, যেখানে সহজ শর্তের ঋণের সঙ্গে বাণিজ্যিক মূলধন মেশানো হয়। এতে বিনিয়োগকারীরা মোটামুটি তাদের পাওনা পান, আর ভোক্তা ও করদাতাদের ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে থাকে। পরিকল্পিত উত্তরণ তহবিলের মতো কিছু কাঠামোতে বহু বছরের উত্তরণকাল তৈরি করা যায়; এ সময় পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে ওঠে এবং কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের চলার সময় দ্রুত কমে। সঠিক নীতিগত সহায়তা থাকলে এসব উপায় নির্দিষ্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৮০ শতাংশ বা তার বেশি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশেরও বেশি নিঃসরণ কমাতে পারে। মূল কথা হলো, এমন অর্থায়নযোগ্য প্যাকেজ তৈরি করা, যা বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা, কেন্দ্রের মালিক, ঋণদাতা ও নিয়ন্ত্রকদের প্রণোদনার মধ্যে সমন্বয় ঘটায়।

চুক্তিতে নমনীয়তা আনুন

অর্থায়নের মতোই চুক্তির নমনীয়তাও গুরুত্বপূর্ণ। কয়লাকেন্দ্রিক যুগে স্বাক্ষরিত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে প্রায়ই ধরে নেওয়া হয়, কেন্দ্রগুলো সার্বক্ষণিক বেসলোড সরবরাহ করবে এবং উচ্চ সক্ষমতায় চলবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া ব্যবস্থায় এসব বৈশিষ্ট্যই দায় হয়ে দাঁড়ায়। নিয়ন্ত্রকেরা নতুন ও পুনর্গঠিত চুক্তিতে অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনের অধিকার, ন্যূনতম বিদ্যুৎ কেনার পরিমাণ হ্রাস, নির্দিষ্ট উৎপাদনের বদলে নমনীয়তার জন্য পারিশ্রমিক এবং নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ পর্যাপ্ত থাকলে কয়লাভিত্তিক উৎপাদন বন্ধ রাখার সুযোগ বাধ্যতামূলক করতে পারেন। সঞ্চালন অবকাঠামোতে বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক আন্তসংযোগ বাড়ালে উদ্বৃত্ত সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের বাজার সম্প্রসারিত হবে। জ্বালানি সংরক্ষণ ও চাহিদা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য উৎপাদন বেশি থাকার সময়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার সরিয়ে নেওয়া যায়।

উত্তরণ ক্রেডিট ও কার্বন বাজার ব্যবহার করুন

এড়ানো নিঃসরণের আর্থিক মূল্য থাকলে আগেভাগে কেন্দ্র বন্ধের চুক্তিতে অর্থায়ন সহজ হয়। যাচাইযোগ্যভাবে কেন্দ্র বন্ধের সঙ্গে যুক্ত উত্তরণ ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়ন ও কেন্দ্র বন্ধের খরচ কমাতে পারে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের এনার্জি ট্রানজিশন মেকানিজমের মতো কর্মসূচির লক্ষ্য হলো কম খরচের মূলধনের সঙ্গে পরিমাপযোগ্য নিঃসরণ হ্রাস এবং কেন্দ্র বন্ধের সুস্পষ্ট সময়সীমা যুক্ত করা। ক্রেডিট যেন প্রকৃত ও অতিরিক্ত নিঃসরণ হ্রাসের প্রতিফলন ঘটায় এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশের জনগোষ্ঠী যেন বাস্তব সুফল পায়, তা নিশ্চিত করতে সতর্ক নকশা জরুরি।

বিজ্ঞাপন

জ্বালানি নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান

নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ ও কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ কয়লা বিতর্কে বড় ভূমিকা রাখে। পরিকল্পনা থাকলে এ সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব। নির্ভরযোগ্যতার জন্য শুধু বেসলোড কেন্দ্র যথেষ্ট নয়। সরবরাহ ও চাহিদার পরিবর্তনে দ্রুত সাড়া দিতে পারে এমন সম্পদ দরকার। ব্যাটারি, সেতুব্যবস্থা হিসেবে প্রয়োজনে নমনীয় গ্যাসভিত্তিক সক্ষমতা, গ্রিড উন্নয়ন এবং উন্নত পূর্বাভাস—সবই সহায়ক। নীতির মাধ্যমে নিকট মেয়াদে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রকে আরও নমনীয়ভাবে চালানো, ন্যূনতম স্থিতিশীল উৎপাদন কমানো এবং দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো-কমানোর সুযোগ রাখা যায়, যাতে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের অপচয় কমে।

প্রতিটি পরিকল্পনায় ন্যায্য উত্তরণকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কয়লার ওপর নির্ভরশীল প্রদেশ ও জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন শিল্পে বিনিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দরকার। সামাজিক বিপর্যয় কমাতে কেন্দ্র বন্ধের সময়সূচি ধাপে ধাপে সাজানো যায়। কোনো কেন্দ্র স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করলে আগেভাগে পদক্ষেপ নিলে তাৎক্ষণিক সুফল মিলতে পারে। কর্মী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সহায়তা উত্তরণ অর্থায়নের অংশ হওয়া উচিত, পরে ভাবার বিষয় নয়।

কেন্দ্রগুলো কি বন্ধ করার জন্য সত্যিই খুব নতুন

প্রায়ই দাবি করা হয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো বন্ধ করার জন্য খুব নতুন। নতুন বিশ্লেষণে এ ধারণা দুর্বল হয়ে পড়েছে। গ্লোবাল এনার্জি মনিটরের পূর্বাভাস, ২০৪০ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর গড় বয়স হবে প্রায় ২৮ বছর। পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে ব্যবস্থা পরিচালিত হলে তখন বেশির ভাগ কেন্দ্রই সাধারণত বন্ধ করার উপযুক্ত বয়সে পৌঁছাবে। নতুন কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র যোগ করা বন্ধ করা জরুরি। আর কোনো সক্ষমতা যোগ না হলে ২০৪০ সালে পুরো বহরের মধ্যে ২০ বছরের কম বয়সী কেন্দ্র থাকবে খুব অল্প। আর্থিক গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যথাযথ নীতি ও অর্থায়ন থাকলে কোনো কোনো কেন্দ্র কিশোর বয়সেই—অর্থাৎ ১৫ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে—বন্ধ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জ্বালানি সংরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে তার জায়গা পূরণ করা সাশ্রয়ী হতে পারে; এতে পাইকারি বিদ্যুতের দামও বাড়বে না।

গ্লোবাল এনার্জি মনিটরের গ্লোবাল কোল প্ল্যান্ট ট্র্যাকার পরিচালনাকারী ক্রিস্টিন শিয়ারার এ অঞ্চলের কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর বয়সই তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে—এমন ধারণার প্রতিবাদ করেছেন।

গ্লোবাল এনার্জি মনিটরের ক্রিস্টিন শিয়ারার: "দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ করার জন্য খুব নতুন—এই ধারণাটি ভুল।"

চুক্তি ও নীতির মধ্যে সমন্বয় হওয়ার পর অন্য অঞ্চলে দ্রুত কয়লার ব্যবহার বন্ধের অভিজ্ঞতার সঙ্গেও এই মত মেলে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ হলো পরীক্ষামূলক লেনদেনগুলোকে বড় পরিসরে চালু করা এবং নতুন চুক্তিতে—কয়লা বা পরিচ্ছন্ন জ্বালানি যে উৎসেরই হোক—শুরু থেকেই নমনীয়তা রাখা। সংস্কার না হলে এ অঞ্চলে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের জন্য দুবার খরচের ঝুঁকি রয়েছে: একবার নির্ধারিত চার্জে, আরেকবার অব্যবহৃত নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের খরচে। সংস্কার হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রেখেই নিঃসরণ দ্রুত কমানো, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নতি সম্ভব।

জেনে রাখুন

  • দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়লাভিত্তিক সক্ষমতার ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে আবদ্ধ; এসব চুক্তির মেয়াদ গড়ে আরও ৯ থেকে ১৮ বছর।
  • গত এক দশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার অংশ বেড়ে প্রায় ৪৫ শতাংশ হয়েছে, যেখানে বিশ্বে কয়লার অংশ কমে প্রায় ৩৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
  • দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিদ্যুতের প্রায় ২৬ শতাংশ আসে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে, যেখানে বৈশ্বিক হার প্রায় ৪১ শতাংশ; এর একটি কারণ, কয়লা চুক্তি পরিচ্ছন্ন বিদ্যুতের সুযোগ কমিয়ে দেয়।
  • দীর্ঘমেয়াদি কয়লা চুক্তি গ্রিডের নমনীয়তা সীমিত করায় চীন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়তি হারে কমানোর কথা জানিয়েছে।
  • কয়লা চুক্তি বাতিল করলে জরিমানা ও ক্ষতিপূরণের দাবি উঠতে পারে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা থাকলে এই ঝুঁকি বেশি, ফলে কেন্দ্র আগেভাগে বন্ধের কাজ ধীর হয়।
  • ইন্দোনেশিয়ার কয়লা ব্যবহার ধাপে ধাপে কমানোর পরিকল্পনা অর্থায়নের বিলম্বে ঝুঁকির মুখে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০৪০ সালের মধ্যে কয়লার ব্যবহার বন্ধ করতে বছরে প্রায় ৩ গিগাওয়াট সক্ষমতা অবসর নিতে হবে এবং মোট বিদ্যুতের প্রায় ৬৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আনতে হবে।
  • আরএমআইসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান চুক্তির জট খোলার উপায় তুলে ধরেছে; এর মধ্যে রয়েছে আগেভাগে চুক্তি বাতিল, পরিচ্ছন্ন জ্বালানির চুক্তি দিয়ে প্রতিস্থাপন এবং নিঃসরণ কমাতে চুক্তি পুনর্গঠন।
  • উত্তরণ অর্থায়ন ও কার্বন ক্রেডিট কেন্দ্র বন্ধের ব্যয় কমাতে পারে। নতুন চুক্তির নিয়মে নমনীয়তা ও অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
  • গ্লোবাল এনার্জি মনিটরের হিসাবে, ২০৪০ সালের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর গড় বয়স প্রচলিত অবসর গ্রহণের বয়সের কাছাকাছি পৌঁছাবে। সঠিক নীতি থাকলে আগেভাগে কেন্দ্র বন্ধ করা সম্ভব।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে