ওয়াঘা-আটারি সীমান্তে বিরল এক সুযোগ
মে মাসের প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর প্রথমবারের মতো শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা গুরু নানকের ৫৫৬তম জন্মবার্ষিকী পালনে স্থলপথে পাকিস্তানে প্রবেশ করেছেন ভারতের শিখ তীর্থযাত্রীরা। পাকিস্তান ২,১০০টির বেশি ভিসা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৪ নভেম্বর প্রায় ২,০০০ তীর্থযাত্রী দেশটিতে প্রবেশ করেছেন। লাহোরের কাছে ওয়াঘা-আটারি সীমান্তে কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে তাঁদের স্বাগত জানান, আর সীমান্তরক্ষীরা দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে চলাচল নিশ্চিত করেন।
সূচিপত্র
- ওয়াঘা-আটারি সীমান্তে বিরল এক সুযোগ
- কারা যাচ্ছেন, আর কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
- যেসব স্থানে প্রার্থনা করবেন তীর্থযাত্রীরা
- মে মাসে কী ঘটেছিল এবং কেন সীমান্ত বন্ধ হয়
- কেন ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত গুরুত্বপূর্ণ
- কর্তারপুর করিডর এবং এর কার্যক্রম বন্ধ
- ওয়াঘার সীমান্তে পরিস্থিতি
- ১৯৭৪ সালের প্রটোকলের আওতায় ধর্মীয় কূটনীতি
- ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের জন্য এর তাৎপর্য
- মূল বিষয়গুলো
মে মাসে চার দিন ধরে চলা পাল্টাপাল্টি হামলার পর সীমান্তে এটিই বেসামরিক মানুষের সবচেয়ে বড় যাতায়াত। ১৯৯৯ সালের পর প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ওই লড়াইয়ে ৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন এবং নিয়মিত যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য স্থলসীমান্ত বন্ধ ছিল। ভারতীয় শিখদের প্রধান সীমান্ত চৌকি দিয়ে না গিয়েই একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থানে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া পৃথক পথ, কর্তারপুর করিডরও বন্ধ ছিল। অনেক তীর্থযাত্রী মালপত্র ও উপহার নিয়ে হেঁটে সীমান্ত পার হন; তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো এই যাত্রা করছেন।
তীর্থযাত্রীরা পাকিস্তানের বিভিন্ন তীর্থস্থানে ১০ দিন কাটাবেন। মূল গন্তব্য পাঞ্জাবের নানকানা সাহিব, গুরু নানকের জন্মস্থান। সেখানে গুরুদ্বার জন্মস্থান-এ ধর্মীয় অনুষ্ঠান হবে। তাঁরা লাহোরের বিভিন্ন স্থানেও প্রার্থনা করবেন এবং যাবেন কর্তারপুরে, যেখানে শিখদের বিশ্বাস অনুযায়ী গুরু তাঁর জীবনের শেষ বছরগুলো কাটিয়েছিলেন। অনেকের কাছে এই সফর একই সঙ্গে ধর্মীয় ভক্তি এবং ১৯৪৭ সালের দেশভাগে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়া পূর্বপুরুষের শহরগুলোতে ফেরার সুযোগ। নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশন বলেছে, এই ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক বোঝাপড়াকে সমর্থন করেছে।
কারা যাচ্ছেন, আর কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
শিখদের বর্ষপঞ্জিতে গুরু নানক গুরপুরব অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। ভারত, পাকিস্তান এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত শিখ সম্প্রদায় কীর্তন, শোভাযাত্রা এবং লঙ্গর নামে পরিচিত সামূহিক রান্নাঘরের আয়োজন করে দিনটি পালন করে। ভারতের শিখদের কাছে বর্তমান পাকিস্তানে থাকা তীর্থস্থানে যাওয়ার সুযোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ শিখ ধর্মের সবচেয়ে শ্রদ্ধেয় কয়েকটি স্থান সীমান্তের পশ্চিমে অবস্থিত।
ধর্মীয় তীর্থস্থানে সফরের বিষয়ে ১৯৭৪ সালের দ্বিপক্ষীয় প্রটোকল এ ধরনের যাত্রার কাঠামো নির্ধারণ করে। এই ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট উৎসব উপলক্ষে দলগুলোকে ভিসা দেওয়া হয়। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ইভাকুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ড ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সফরের ব্যবস্থাপনা সমন্বয় করে। ভারতে শিখ সংগঠনগুলো তীর্থযাত্রীদের দল গঠনে সহায়তা করে। এ সপ্তাহের সফরসূচিতে ১০ দিন ধরে প্রার্থনা, বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে।
যেসব স্থানে প্রার্থনা করবেন তীর্থযাত্রীরা
- নানকানা সাহিবের গুরুদ্বার জন্মস্থান
- লাহোরের গুরুদ্বার ডেরা সাহিব
- হাসান আবদালের গুরুদ্বার পাঞ্জা সাহিব
- কর্তারপুরের গুরুদ্বার দরবার সাহিব
এই স্থানগুলো গুরু নানকের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এবং শিখ ধর্মের প্রাথমিক বিকাশের স্মারক। সীমান্তের দুই পাশে এগুলোর অবস্থান শিখদের ধর্মাচরণের অংশ হিসেবে সীমান্ত পেরিয়ে তীর্থযাত্রাকে গুরুত্বপূর্ণ করে রেখেছে।
মে মাসে কী ঘটেছিল এবং কেন সীমান্ত বন্ধ হয়
২২ এপ্রিল ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পহেলগাম শহরে হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হওয়ার পর উত্তেজনা বেড়ে যায়। নয়াদিল্লি হামলাকারীদের মদদ দেওয়ার জন্য ইসলামাবাদকে দায়ী করে। পাকিস্তান অভিযোগ অস্বীকার করে তদন্তের আহ্বান জানায়। মে মাসের শুরুতে দুই পক্ষ চার দিন ধরে গোলাবর্ষণ, ড্রোন হামলা এবং সীমিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এ সময় ৭০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়, যা ১৯৯৯ সালের কারগিল সংঘাতের পর সবচেয়ে বিপজ্জনক সংঘাতের ঘটনা।
পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে তিনি যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করেছেন। এরপর কয়েক মাসের জন্য ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত দিয়ে যাত্রী চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং কর্তারপুর করিডরের কার্যক্রমও থেমে যায়। দূতাবাসগুলো তাদের কার্যক্রম কমিয়ে আনে, আর অন্যান্য ক্ষেত্রেও সংলাপ স্থবির হয়ে পড়ে। মঙ্গলবার শিখ তীর্থযাত্রীদের এই যাতায়াত ধর্মীয় বর্ষপঞ্জির সঙ্গে যুক্ত বিশেষ ব্যতিক্রম হিসেবে হয়েছে।
কেন ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত গুরুত্বপূর্ণ
লাহোর ও অমৃতসরকে যুক্ত করা ওয়াঘা-আটারি ফটকটি দুই দেশের মধ্যে যাত্রীদের জন্য একমাত্র চালু স্থলসীমান্ত। এটি কঠোর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা; সাধারণত কূটনীতিক, চিকিৎসার জন্য যাতায়াতকারী, সীমিত পণ্য এবং সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত দল চলাচল করে। যাতায়াত বন্ধ হলে দুই পাশে বসবাসকারী পরিবারগুলো সরাসরি যোগাযোগের জন্য হাতে গোনা যে কটি পথ রয়েছে, তার একটি হারায়।
কর্তারপুর করিডর এবং এর কার্যক্রম বন্ধ
ভারতের ডেরা বাবা নানক থেকে পাকিস্তানের কর্তারপুরে গুরুদ্বার দরবার সাহিব পর্যন্ত নির্দিষ্ট পথ হিসেবে কর্তারপুর করিডর চালু হয় ২০১৯ সালের নভেম্বরে। ভারতীয় নাগরিকেরা অনলাইনে অনুমতিপত্রের আবেদন করে পাকিস্তানি ভিসা ছাড়াই এক দিনের জন্য তীর্থস্থানে যেতে পারেন। বেড়া দেওয়া একটি পথ ধরে কৃষিজমির ওপর দিয়ে অল্প দূরত্ব পেরিয়ে সরাসরি কমপ্লেক্সে পৌঁছানো যায়। সূর্যাস্তে সফর শেষ হয়।
কঠোর সীমান্ত-নিয়ন্ত্রণের অঞ্চলে ধর্মীয় তীর্থে যাওয়ার সুযোগের প্রতীক হয়ে ওঠে করিডরটি। কয়েক দশক ধরে নাগালের বাইরে থাকা, মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরের একটি স্থানে প্রবীণ ভক্তদের যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল এটি। মে মাসের সংঘর্ষের পর থেকে পথটি বন্ধ রয়েছে। ফলে দলবদ্ধ তীর্থযাত্রার জন্য নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানে দেওয়া সীমিত ভিসার ওপর চাহিদা আরও বেড়েছে।
ওয়াঘার সীমান্তে পরিস্থিতি
সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরদারিতে ভারতের পাশে ভোরেই সারিবদ্ধ হন তীর্থযাত্রীরা। তাঁদের অনেকের মাথায় গেরুয়া ও গাঢ় নীল পাগড়ি, কেউ কেউ মাথায় করে মালপত্র বহন করছিলেন। পাকিস্তানের পাশে পাঞ্জাবের সংখ্যালঘুবিষয়ক দপ্তর এবং ইভাকুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ডের কর্মকর্তারা ফুলের মালা ও গোলাপের পাপড়ি দিয়ে তাঁদের স্বাগত জানান।
পাকিস্তানের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাসির মুশতাক বলেন, উৎসব উপলক্ষে সীমান্ত খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি সম্মান এবং রাজনৈতিক বিরোধ সত্ত্বেও সাংস্কৃতিক সংযোগ বজায় রাখার আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরে।
নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশন ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় নৈতিকতা ও সংস্কৃতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে।
আন্তধর্মীয় ও আন্তসাংস্কৃতিক সম্প্রীতি এবং বোঝাপড়া বাড়ানোর প্রচেষ্টার সঙ্গে ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ।
পাকিস্তানে প্রবেশের পর সীমান্তে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এক শিখ তীর্থযাত্রী অনেকের অনুভূত স্বস্তি ও আশার কথা তুলে ধরেন।
মনে হচ্ছে না যে আমরা অন্য কোনো দেশে আছি। আশা করি, পাকিস্তান থেকে আসা দর্শনার্থীরাও ভারতে একই রকম স্বাগত পাবেন।
১৯৭৪ সালের প্রটোকলের আওতায় ধর্মীয় কূটনীতি
১৯৭৪ সালের ভারত-পাকিস্তান ধর্মীয় তীর্থস্থানে সফর-সংক্রান্ত প্রটোকলে হিন্দু, মুসলিম ও শিখদের দলবদ্ধ সফরের বার্ষিক সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগে সীমান্তের ওপারে পড়ে যাওয়া নিজ নিজ ধর্মের পবিত্র স্থানগুলোতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের যাতায়াত সহজ করতে নথিটি তৈরি করা হয়েছিল। তীর্থযাত্রীরা সাধারণ পর্যটকের মতো সফর করেন না। তাঁদের দলবদ্ধভাবে নিবন্ধন করা হয়, নির্দিষ্ট ভিসা দেওয়া হয়, আয়োজক দেশের কর্মকর্তারা তাঁদের সঙ্গে থাকেন এবং গুরুদ্বার বা বিশ্রামাগারে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ইভাকুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ড শিখ ও হিন্দুদের ধর্মীয় স্থানগুলোর ব্যবস্থাপনা করে। নানকানা সাহিব, পাঞ্জা সাহিব ও কাটাস রাজের মতো তীর্থস্থানে যাতায়াত, নিরাপত্তা ও আবাসনের ব্যবস্থা করে বোর্ডটি। ভারতে শিরোমণি গুরুদ্বার প্রবন্ধক কমিটির মতো শিখ প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই যাত্রীদের তালিকা তৈরি এবং তাঁদের সফরের সহায়তা সমন্বয় করে। ধর্মীয় তীর্থে যাওয়ার সুযোগকে রাজনীতির বাইরে রাখায় দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও প্রটোকলটি টিকে আছে।
এ সপ্তাহের সীমান্ত পারাপার সেই ধারারই অংশ। নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে সীমিত পরিসরে সীমান্ত খুলেছে, তবে অন্য বেশির ভাগ বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে। উপাসনায় মনোযোগ অক্ষুণ্ন রাখতে দুই পক্ষের আয়োজক ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো কয়েক সপ্তাহ ধরে যাত্রাপথ, ভিড় সামলানো এবং আবাসনের পরিকল্পনা করেছে।
ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের জন্য এর তাৎপর্য
শিখ তীর্থযাত্রীদের যাতায়াত একটি ধর্মীয় উৎসব ঘিরে সীমিত শিথিলতার ইঙ্গিত দেয়, ব্যাপকভাবে সীমান্ত খুলে দেওয়ার নয়। বাণিজ্যে বিধিনিষেধ রয়েছে, উচ্চপর্যায়ের আলোচনা বন্ধ এবং কর্তারপুর করিডরও চালু হয়নি। তবু সংবেদনশীল একটি সীমান্ত চৌকিতে দৃশ্যমান সহযোগিতার ফলে এমন একটি সুযোগ তৈরি হয়, যেখানে স্থানীয় কর্মকর্তারা কথা বলতে পারেন, বাস্তব সমস্যার সমাধানে একসঙ্গে কাজ করতে পারেন এবং অবিশ্বাস কিছুটা কমাতে পারেন।
দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে কাজ করা বিশ্লেষকেরা দীর্ঘ কূটনৈতিক অচলাবস্থার সময় যোগাযোগ বজায় রাখে, এমন ছোট পদক্ষেপের দিকে প্রায়ই নজর দেন। ধর্ম ও সংস্কৃতিকেন্দ্রিক আয়োজনও সেই ধরনের পদক্ষেপের মধ্যে পড়ে। বর্তমান উৎসবটি কোনো ঘটনা ছাড়াই শেষ হলে কর্মকর্তারা কর্তারপুরে করিডর চালু করা, ভবিষ্যতে তীর্থযাত্রীর দলের আকার বাড়ানো, কিংবা চিকিৎসার জন্য যাতায়াতকারী ও বিচ্ছিন্ন পরিবারগুলোর ছোট পরিসরের সফর আবার চালুর বিষয় বিবেচনা করতে পারেন।
আপাতত মনোযোগ গুরু নানক গুরপুরব উপলক্ষে সীমান্ত পেরিয়ে আসা তীর্থযাত্রীদের দিকে। তাঁদের অনেকেই এমন তীর্থস্থানের নতুন স্মৃতি নিয়ে বাড়ি ফিরবেন, যেগুলো আগে শুধু ছবি ও গল্পে দেখেছেন। ওয়াঘায় দেখা দৃশ্য ও মানুষের মধ্যে যোগাযোগ রাতারাতি নীতির পরিবর্তন না আনলেও রাজনৈতিক পালাবদলের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সম্পর্কগুলোকে নতুন করে জাগিয়ে তোলে।
মূল বিষয়গুলো
- মে মাসের সংঘর্ষের পর এটিই প্রথম বড় আকারের সীমান্ত পারাপার; ৪ নভেম্বর প্রায় ২,০০০ ভারতীয় শিখ তীর্থযাত্রী পাকিস্তানে প্রবেশ করেন।
- ধর্মীয় তীর্থস্থানে সফর-সংক্রান্ত ১৯৭৪ সালের প্রটোকলের আওতায় পাকিস্তান ২,১০০টির বেশি ভিসা দেয়।
- গুরু নানকের ৫৫৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ১০ দিনের উৎসবে যোগ দিচ্ছেন তীর্থযাত্রীরা।
- সফরসূচির গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে নানকানা সাহিব, লাহোরের ডেরা সাহিব, পাঞ্জা সাহিব এবং কর্তারপুর।
- তীর্থযাত্রীদের জন্য ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত খুলেছে, তবে সাধারণ যাতায়াত বন্ধ রয়েছে।
- মে মাসের সংঘাতের পর থেকে কর্তারপুর করিডর বন্ধ রয়েছে।
- ২২ এপ্রিল পহেলগামে হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হওয়ার পর মে মাসে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে; চার দিনের পাল্টাপাল্টি হামলায় পরে ৭০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
- পাকিস্তান হাইকমিশন ভিসা দেওয়াকে আন্তধর্মীয় ও আন্তসাংস্কৃতিক সম্প্রীতি সমর্থনের পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরে।
- পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, উৎসব উপলক্ষে সীমান্ত খুলে দেওয়া ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রতি সম্মান দেখায়।
- অনেক তীর্থযাত্রী সীমান্ত পেরিয়ে আরও বন্ধুত্বপূর্ণ যাতায়াতের আশা প্রকাশ করেন।






