প্রযুক্তির তীব্র প্রতিযোগিতায় ভঙ্গুর এক সমঝোতা
কয়েক মাস ধরে শুল্ক বৃদ্ধি, রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা ও উত্তেজনাপূর্ণ বাক্যবিনিময়ের পর ওয়াশিংটন ও বেইজিং সীমিত এক সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে। এই বিরতি পরিবর্তনের চিত্রটি স্পষ্ট করে। চীন দ্রুত অনুকরণকারী থেকে প্রযুক্তির সব ক্ষেত্রে শক্তিধর দেশে পরিণত হয়েছে। মৌলিক বিজ্ঞান ও অনেক অত্যাধুনিক সক্ষমতায় এখনো এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন ছড়িয়ে পড়েছে কারখানা, গবেষণাগার, ডেটা সেন্টার ও নৌপথে। দেশগুলো কীভাবে জ্বালানি সংগ্রহ করে, ডেটা সংরক্ষণ করে এবং ডিজিটাল বিশ্ব পরিচালনার নিয়ম তৈরি করে, তাতেও এর প্রভাব পড়ছে।
সূচিপত্র
- প্রযুক্তির তীব্র প্রতিযোগিতায় ভঙ্গুর এক সমঝোতা
- চীন কীভাবে গতি ও উৎপাদনের ব্যাপকতা গড়েছে
- উৎপাদন সক্ষমতা ও সরবরাহব্যবস্থা
- স্থানীয় প্রতিযোগিতা ও বিশ্ববাজারে যাওয়ার তাগিদ
- চীনা বৈশিষ্ট্যের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
- জ্বালানি ও অবকাঠামো পরিকল্পনা
- ওপেন সোর্স ও মডেলে প্রবেশাধিকার
- চিপ ও পরিবর্তনশীল রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ
- যেসব ক্ষেত্রে এখনো এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র
- অত্যাধুনিক গবেষণা ও বেসরকারি পুঁজি
- মিত্রদের সঙ্গে মানদণ্ড নির্ধারণ ও মূল্যবোধ
- দ্রুত বিচ্ছিন্নতার খরচ
- নিরাপত্তা ও তার বিনিময়মূল্য
- সরবরাহব্যবস্থা ও বাজারে প্রভাব
- যুক্তরাষ্ট্র এখন কী শিখতে ও করতে পারে
- হার্ডওয়্যার নির্মাণজ্ঞান ও কারখানার গতি
- এআই যুগের জন্য বিদ্যুৎ
- ওপেন সোর্স ও ব্যবহারিক এআই
- আরও স্থিতিস্থাপক চিপ সরবরাহ
- যেসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা এখনো যৌক্তিক
- বিশ্বের বাকি অংশের জন্য এর অর্থ
- মূল বিষয়
চীনের উত্থান আকস্মিক নয়। স্মার্টফোন ও টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম থেকে শুরু করে সৌর প্যানেল, ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক যান—দেশটি দুই দশক ধরে অতুলনীয় হার্ডওয়্যার উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলেছে। দীর্ঘমেয়াদি শিল্প পরিকল্পনার সঙ্গে দেশে তীব্র বাজার প্রতিযোগিতার সমন্বয় করেছে তারা। এর ফলে তৈরি হয়েছে গতি, ব্যাপক উৎপাদনক্ষমতা এবং সরবরাহকারীদের ঘন নেটওয়ার্ক, যা দ্রুত ধারণাকে গণ-উৎপাদনে রূপ দিতে পারে। চীনা সৌর মডিউল ও ব্যাটারি সেলের আধিপত্য, দেশটির বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতাদের দ্রুত উত্থান এবং শিল্প রোবট ও উচ্চগতির রেলে ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিতে এই গতি স্পষ্ট।
যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ যাচাই এবং কৌশলগত শিল্পের জন্য নতুন ভর্তুকির মাধ্যমে পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব ব্যবস্থায় অত্যাধুনিক কিছু চিপ ও উৎপাদন সরঞ্জামের হস্তান্তর ধীর হয়েছে। পাশাপাশি কোম্পানিগুলোকে সরবরাহব্যবস্থা বৈচিত্র্যময় করতেও উৎসাহিত করেছে। তবে পরবর্তী পর্যায়ে কে জিতবে, তা শুধু নীতির ওপর নির্ভর করে না। প্রকৃত প্রতিযোগিতা হলো—কে বিজ্ঞানকে উৎপাদনে রূপ দিতে, নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো ব্যাপক পরিসরে কাজে লাগাতে এবং অন্যরা গ্রহণ করবে এমন মানদণ্ড নির্ধারণ করতে পারে।
পরবর্তী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরে দেওয়া দলীয় বিবৃতিতে চীনা নেতা শি জিনপিং এই সময়কে কৌশলগত প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার দৌড় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উন্নত উৎপাদন এগিয়ে নেওয়ার এবং গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের হাতিয়ার ব্যবহারের সংকল্পের কথা জানান।
চীনকে সুযোগের এই জানালাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের শক্তি সংহত ও বিস্তৃত করতে হবে, প্রতিবন্ধকতা ভেঙে এগোতে হবে এবং কৌশলগত উদ্যোগ অর্জন করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে যুগান্তকারী অগ্রগতি অর্জনে সরকার অসাধারণ পদক্ষেপ নেবে এবং রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা পর্যালোচনা ব্যবস্থা উন্নত করবে।
এই বার্তায় বেইজিংয়ের মডেলটি ফুটে উঠেছে: সুস্পষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখে অর্থায়ন, নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহব্যবস্থাকে একত্র করা, তারপর দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো। এটি রপ্তানি বিধি ও খনিজ মজুত আরও জোরালোভাবে ব্যবহারের ইঙ্গিতও দেয়। মনে করিয়ে দেয়, প্রযুক্তিগত শক্তি উপকরণ, জ্বালানি ও বন্দরের নিয়ন্ত্রণ থেকে আলাদা নয়।
চীন কীভাবে গতি ও উৎপাদনের ব্যাপকতা গড়েছে
জাতীয় কৌশলের সঙ্গে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া তৃণমূল পর্যায়ের বাস্তুতন্ত্রের সমন্বয় করেছে চীন। দেশটির উৎপাদনকেন্দ্রগুলোতে সরবরাহকারী, দক্ষ শ্রমিক ও পরিবহনব্যবস্থা কাছাকাছি ঘনভাবে গড়ে উঠেছে। এই ঘনত্বে কোম্পানিগুলোর নকশা থেকে যন্ত্রপাতি তৈরি, তারপর সংযোজন পর্যন্ত যেতে বাধা কমে। এতে খরচ কমে এবং বাজারে পণ্য আনতে সময়ও লাগে কম।
উৎপাদন সক্ষমতা ও সরবরাহব্যবস্থা
শেনজেন এই মডেলের প্রতীক। ছোট এক মাছধরা গ্রাম থেকে শহরটি এখন এমন এক হার্ডওয়্যার বাস্তুতন্ত্রের কেন্দ্র, যা সার্কিট বোর্ডের দোকান থেকে সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি তৈরি ও চূড়ান্ত সংযোজন পর্যন্ত বিস্তৃত। একসময় নকল গ্যাজেটের জন্য পরিচিত হুয়াচিয়াংবেই এলাকা এখন যন্ত্রাংশ, প্রোটোটাইপ ও নতুন ধারণার বাজার হিসেবে কাজ করছে। উদ্যোক্তারা কয়েক দিনের মধ্যেই যন্ত্রাংশ সংগ্রহ, নকশা পরীক্ষা এবং স্বল্পসংখ্যক পণ্যের অর্ডার দিতে পারেন। হুয়াওয়ে ও ডিজেআইয়ের মতো কোম্পানি এই পরিবেশেই বেড়ে উঠেছে; দ্রুত নকশা উন্নয়ন এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উৎপাদন বাড়াতে শিখেছে।
পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপে চীনা সরবরাহকারীদের আধিপত্য রয়েছে। বৈশ্বিক সৌর প্যানেল উৎপাদনে তাদের অংশ অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে অনেক বেশি। ব্যাটারি সেল, মডিউল ও প্যাকের উৎপাদনও চীনা কারখানায় কেন্দ্রীভূত। বায়ু টারবাইনের যন্ত্রাংশ ও বিদ্যুৎ-ইলেকট্রনিকসেও একই ধারা দেখা যাচ্ছে। ব্যাপক উৎপাদন অভিজ্ঞতা বাড়ায়, আর অভিজ্ঞতা আবার উৎপাদনের ব্যাপকতাকে জোরদার করে। কারখানাগুলো প্রক্রিয়া উন্নত করে, ত্রুটি কমায় এবং খরচ নামিয়ে আনে। এরপর বিশ্বের ক্রেতারা সবচেয়ে কম দামের ও সহজলভ্য বিকল্পটি বেছে নেন, যা প্রায়ই আসে চীনা বন্দর থেকে।
স্থানীয় প্রতিযোগিতা ও বিশ্ববাজারে যাওয়ার তাগিদ
চীনের অভ্যন্তরে প্রতিযোগিতা নিরলস। ‘ইনভোলিউশন’ নামে পরিচিত এই প্রবণতায় কোম্পানিগুলো বৈশিষ্ট্যে পাল্লা দিতে, দাম কমাতে এবং ঘন ঘন নতুন মডেল বাজারে আনতে ছুটে চলে। স্থানীয় সরকারগুলো ধৈর্যশীল বিনিয়োগকারীর মতো কাজ করে। কারখানা ও গবেষণাকেন্দ্র আকৃষ্ট করতে তারা জমি, করছাড় ও অবকাঠামো দেয়। এই সহায়তা অসম হতে পারে, কখনো অপচয়ও ঘটে; তবু উৎপাদন বাড়ানোর সবচেয়ে কঠিন পর্যায়ে কোম্পানিগুলোকে টিকে থাকতে সাহায্য করে। ফলে এমন এক বাজার তৈরি হয়েছে, যেখানে কেবল দ্রুততম ও সবচেয়ে দক্ষরাই টিকে থাকে। এরপর বিজয়ীরা প্রবৃদ্ধির সন্ধানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকায় সাশ্রয়ী পণ্য এবং বিক্রয়োত্তর জোরালো সহায়তা নিয়ে প্রবেশ করে।
বৈদ্যুতিক যান দেখায়, এই সূত্র কীভাবে কাজ করে। চীনে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বড়, চার্জিং নেটওয়ার্ক রয়েছে এবং সফটওয়্যারসমৃদ্ধ গাড়ি নিয়ে ভোক্তাদের আগ্রহও আছে। চীনা নির্মাতারা ছোট শহরগুলোতেও বাজার সম্প্রসারণ করেছে এবং শক্তিশালী সেবা নেটওয়ার্ক গড়েছে। দেশের বাজারে বিপুল বিক্রির ভিত্তিতে তারা প্রতিযোগিতামূলক মডেল বিদেশে নিয়ে গেছে। এখন বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের এমন এক প্রতিযোগীর মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যে ব্যাটারি নিয়ন্ত্রণ করে, উৎপাদন খরচ কমায় এবং নিয়মিত সফটওয়্যার উন্নয়নের মাধ্যমে গাড়ি হালনাগাদ করে।
চীনা বৈশিষ্ট্যের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
প্রতিযোগিতার পরবর্তী পর্যায়ের কেন্দ্রে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। অত্যাধুনিক মডেল নিয়ে গবেষণা ও বেসরকারি বিনিয়োগে এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র। চীন এগোচ্ছে ব্যাপক পরিসর, জ্বালানি পরিকল্পনা ও ব্যবহারিক প্রয়োগে জোর দিয়ে। দুই পথই নির্ধারণ করছে কারখানা, হাসপাতাল, নগরসেবা ও খামারে এআই কীভাবে পৌঁছাবে।
জ্বালানি ও অবকাঠামো পরিকল্পনা
এআই প্রশিক্ষণ ও অনুমান-প্রক্রিয়ার জন্য বিদ্যুৎ চায়; সারাক্ষণ চলা সার্ভার র্যাক ঠান্ডা রাখতেও লাগে বিদ্যুৎ। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বাজারনির্ভর এবং অঞ্চলভেদে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। ডেটা সেন্টার নির্মাতারা প্রায়ই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করেন। বিদ্যুৎ গ্রিডের সীমাবদ্ধতা বাস্তব। ২০২৪ সালে উত্তর ভার্জিনিয়ায় সার্জ-প্রোটেকশন ব্যবস্থার ত্রুটিতে একগুচ্ছ ডেটা সেন্টার বন্ধ হয়ে যায়। দ্রুত বাড়তে থাকা কেন্দ্রগুলোর ক্ষেত্রে ব্যবস্থার সক্ষমতা কতটা সীমিত হতে পারে, এটি তারই ইঙ্গিত।
চীনের পদ্ধতিতে শিল্পনীতি ও গ্রিড পরিকল্পনার সমন্বয় রয়েছে। ‘ইস্টার্ন ডেটা, ওয়েস্টার্ন কম্পিউটিং’ কর্মসূচির আওতায় জলবিদ্যুৎ ও বায়ুবিদ্যুতের প্রাচুর্য রয়েছে—এমন অঞ্চলে বড় আকারের ডেটা সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে। এতে পূর্বাঞ্চলের ওপর চাপ কমে এবং অভ্যন্তরীণ প্রদেশগুলোতে বিনিয়োগ আসে। প্রাদেশিক পরিকল্পনাবিদেরা বিদ্যুৎ সরবরাহ উন্নয়ন, ফাইবার সংযোগ এবং শীতলীকরণের পানির ব্যবস্থা সমন্বয় করেন। ফলে এআই ব্যবহারের প্রসারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ার উপযোগী একটি ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে।
ওপেন সোর্স ও মডেলে প্রবেশাধিকার
চীনের এআই সম্প্রদায় ওপেন সোর্স পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। কোম্পানি ও গবেষণাগারগুলো মডেলের ওজন, প্রশিক্ষণের পদ্ধতি এবং সীমিত হার্ডওয়্যারে অনুমান-প্রক্রিয়া চালানোর অপ্টিমাইজেশন কৌশল ভাগ করে। এতে এআই গ্রাহকসেবা, শিল্পক্ষেত্রে গুণমান যাচাই, শিক্ষার উপকরণ এবং যন্ত্রে সরাসরি ব্যবহারযোগ্য সহকারীর মতো ব্যবহারিক সমাধান দ্রুত এগোয়। ২০২৫ সালের শুরুর দিকে ডিপসিকের মতো বড় ভাষা মডেল প্রকাশের পর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ডেভেলপাররা চীনা প্রকল্পে যুক্ত হন। ওপেন মডেলে প্রবেশাধিকার ছোট প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিপুল বাজেট ছাড়াই নিজেদের প্রয়োজনমতো ব্যবস্থা উন্নত করার সুযোগ দেয়।
ওপেন সোর্সের কিছু বিনিময়মূল্যও আছে। সহজলভ্যতা সক্ষমতাকে দেশের সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়ে দেয় এবং কম সম্পদসম্পন্ন পক্ষের প্রবেশমূল্য কমায়। উদ্ভাবন উৎসাহিত করার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা কীভাবে রক্ষা করা যায়, তা নিয়ে অনেক দেশের নীতিনির্ধারকেরা ভাবছেন। ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থায় প্রকৃত সংবেদনশীল প্রযুক্তিকে নিয়মিত গবেষণা থেকে আলাদা করা হবে এবং অগ্রগতি ধীর করে দেয় এমন সর্বাত্মক বিধিনিষেধ এড়ানো হবে।
চিপ ও পরিবর্তনশীল রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ
সেমিকন্ডাক্টর এখনো সবচেয়ে বিতর্কিত ক্ষেত্র। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চিপ এবং সেগুলো তৈরির সরঞ্জামের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ এখনো বহাল। তবে চীনা উৎপাদকেরা কিছু ব্যবধান কমিয়ে আনছে। হুয়াওয়ের অ্যাসেন্ড ৯১০ শ্রেণির অ্যাক্সিলারেটর এখন যুক্তরাষ্ট্রের আগের প্রজন্মের চিপের সক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং আকর্ষণীয় সফটওয়্যার ব্যবস্থার সঙ্গে বাজারে আসছে। চীনা কোম্পানিগুলো উৎপাদনে ভালো ফলন বাড়াতে এবং দাম কম রাখতে পারলে, শীর্ষস্থানীয় এআই গবেষণাগারের বাইরের ক্রেতারা প্রশিক্ষণ ও অনুমান-প্রক্রিয়ার জন্য সেগুলো বেছে নিতে পারেন।
এআইয়ের বিস্তার ধীর করার কৌশল নতুন করে সাজিয়েছে ওয়াশিংটন। পুরো বাজার বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা না করে উন্নত ব্যবস্থা কোথায় যাবে এবং কীভাবে ব্যবহৃত হবে, তা নিয়ন্ত্রণের দিকে এগোচ্ছে তারা। শিল্পখাতের চাপ এবং এখন তৃতীয় দেশগুলোর চীনা ও যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহের মধ্যে বেছে নেওয়ার বাস্তবতা এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে। নীতির ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ হবে। নিয়ম যদি কঠোর থেকে শিথিল, আবার শিথিল থেকে কঠোর হয়, বৈশ্বিক কোম্পানিগুলো পাশাপাশি একাধিক ব্যবস্থা গড়ে ঝুঁকি কমাবে।
যেসব ক্ষেত্রে এখনো এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র
দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ এমন শক্তিগুলো এখনো যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় গবেষণাগার ও গভীর পুঁজিবাজার এমন এক ধারা গড়ে তুলেছে, যা ধারণাকে কোম্পানিতে রূপ দেয়। শীর্ষস্থানীয় প্ল্যাটফর্ম কোম্পানিগুলো সবচেয়ে সক্ষম সাধারণ-উদ্দেশ্যের এআই মডেল প্রশিক্ষণ দেয়। সফটওয়্যার-দক্ষতা, চিপ নকশায় বিশেষজ্ঞতা এবং উন্মুক্ত গবেষণা সম্প্রদায় এখনো বিশ্বমানের।
অত্যাধুনিক গবেষণা ও বেসরকারি পুঁজি
যুক্তরাষ্ট্রে এআইয়ে বেসরকারি বিনিয়োগ চীনের চেয়ে অনেক বেশি। এই পুঁজিতে চিপ নকশা, ক্লাউড সেবা এবং বিজ্ঞান ও প্রতিরক্ষার জন্য বিশেষায়িত মডেলে অর্থায়ন হয়। স্টার্টআপগুলো নতুন উপকরণ, জৈবপ্রযুক্তি ও ফিউশনে আবিষ্কারের কাজে এআই ব্যবহার করছে। আন্তবিষয়ক গবেষণা ও উচ্চঝুঁকির অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি এসব অত্যাধুনিক ক্ষেত্রে কাজে লাগে।
মিত্রদের সঙ্গে মানদণ্ড নির্ধারণ ও মূল্যবোধ
জোটও একটি বাড়তি সুবিধা। যুক্তরাষ্ট্র যখন ইউরোপ ও এশিয়ার অংশীদারদের সঙ্গে নীতি সমন্বয় করে, তখন নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও সুরক্ষার মানদণ্ড গড়ে তুলতে সহায়তা করে। উন্মুক্ত ডিজিটাল পরিবেশ উদ্ভাবন ও খোলামেলা বিতর্ককে সহায়তা করে। তবে এতে অপতথ্যের সংস্পর্শ বা ডেটা চুরির মতো ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহব্যবস্থার নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নীতিতে সমন্বয়কারী গণতান্ত্রিক সরকারগুলো বাজারকে গতিশীল রেখেও নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে পারে।
দ্রুত বিচ্ছিন্নতার খরচ
দুই ব্যবস্থার মধ্যে কিছু বিচ্ছিন্নতা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকিপূর্ণ নির্দিষ্ট প্রযুক্তি আটকে দিতে দুই দেশই বিনিয়োগ যাচাই এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। লক্ষ্যভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ যুক্তিযুক্ত হতে পারে। কিন্তু বাণিজ্য ও প্রযুক্তি সম্পর্কের সাধারণ ভাঙন দুই পক্ষের এবং বাকি বিশ্বের জন্যও বড় খরচ ডেকে আনে।
নিরাপত্তা ও তার বিনিময়মূল্য
নেটওয়ার্ক থেকে সরঞ্জাম বাদ দেওয়া বা নির্দিষ্ট অ্যাপ নিষিদ্ধ করলে কিছু ঝুঁকি কমে। তবে কম দামের সরঞ্জামের ওপর নির্ভরশীল ছোট টেলিকম অপারেটর ও কোম্পানিগুলোর প্রকৃত খরচও তৈরি হয়। আগে থেকে বসানো হার্ডওয়্যার বদলানো ধীর ও ব্যয়বহুল। পাল্টা পদক্ষেপের আশঙ্কাও রয়েছে। বেইজিং যদি বাজারে প্রবেশ সীমিত করে বা নিজেদের রপ্তানি বিধি আরও কঠোর করে, তাহলে বৈশ্বিক কোম্পানিগুলো পরস্পরবিরোধী আইনি ব্যবস্থার মধ্যে পড়বে।
সরবরাহব্যবস্থা ও বাজারে প্রভাব
সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহব্যবস্থাই সবচেয়ে স্পষ্ট উদ্বেগের জায়গা। নিয়ন্ত্রণের কারণে চীন যদি নিজস্ব সরঞ্জাম ও উপকরণে বিনিয়োগ আরও বাড়ায়, তবে দীর্ঘমেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বী সরবরাহ দ্রুত গড়ে উঠতে পারে। বিদেশি উৎপাদকেরা তখন ইলেকট্রনিকসের সবচেয়ে বড় চূড়ান্ত বাজারে তাদের অবশিষ্ট অংশও হারাতে পারেন। মানদণ্ডের খণ্ডিতকরণ ও একাধিক সমান্তরাল বাস্তুতন্ত্র দক্ষতা কমায় এবং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করতে পারে। কাজের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত পণ্য কিনতে চায়—এমন দেশগুলো হয়তো দুই রাজধানীর বিধিনিষেধে তাদের পছন্দের সুযোগ সংকুচিত হতে দেখবে।
যুক্তরাষ্ট্র এখন কী শিখতে ও করতে পারে
চীনের উত্থান এমন কিছু ব্যবহারিক শিক্ষা সামনে আনে, যা যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির সঙ্গে খাপ খায়। লক্ষ্য চীনের ব্যবস্থা অনুকরণ করা নয়। লক্ষ্য হলো গবেষণাগার থেকে কারখানায় পৌঁছানোর প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করা, উপকরণ নিশ্চিত করা এবং দৈনন্দিন শিল্পে উদ্ভাবনকে বাস্তব রূপ দেওয়া।
হার্ডওয়্যার নির্মাণজ্ঞান ও কারখানার গতি
পণ্যে নেতৃত্ব অনেক সময় নির্ভর করে দলগুলো কত দ্রুত বাস্তব পণ্যের নকশা উন্নত করতে পারে তার ওপর। এর অর্থ হাতে-কলমে প্রকৌশল দক্ষতা ফিরিয়ে আনা, উন্নত প্যাকেজিং ও সংযোজনের সক্ষমতা বাড়ানো এবং নকশাবিদদের সঙ্গে উৎপাদনকর্মীদের দূরত্ব কমানো। শিল্পভিত্তিক শিক্ষানবিশ কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রোটোটাইপ কেন্দ্র ও স্বল্পসংখ্যক পণ্য তৈরিতে সরকারি সহায়তা ধারণাকে দ্রুত ক্রেতার কাছে পৌঁছাতে পারে।
এআই যুগের জন্য বিদ্যুৎ
এআইয়ের প্রবৃদ্ধি মডেলের নকশার মতোই বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করবে। যুক্তরাষ্ট্র পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে, ডেটা সেন্টার গুচ্ছের গ্রিড সংযোগ সহজ করতে এবং নতুন সক্ষমতার সঙ্গে গ্রিড উন্নয়নের সমন্বয় করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ চুক্তি, জ্বালানি সংরক্ষণ এবং অপচয় হওয়া তাপের পুনর্ব্যবহার কার্যক্রম স্থিতিশীল করতে ও খরচ কমাতে পারে। পরিকল্পনায় ডেটা অবকাঠামো, ফাইবার ও পানির ব্যবহার স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত।
ওপেন সোর্স ও ব্যবহারিক এআই
উন্মুক্ত বাস্তুতন্ত্র শেখার গতি বাড়ায়। সংস্থা ও কোম্পানিগুলো এমন দায়িত্বশীল ওপেন সোর্স মডেল, সরঞ্জাম ও ডেটাসেটে সহায়তা করতে পারে, যা ছোট ডেভেলপাররা নিজেদের প্রয়োজনমতো মানিয়ে নিতে পারবেন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সরকারি সেবার বাস্তব সমস্যা সমাধান করে—এমন এআইকে সরকারি ক্রয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে। এতে শুধু বেঞ্চমার্কের ফল নয়, দক্ষতা ও বাস্তব মূল্যও পুরস্কৃত হবে।
আরও স্থিতিস্থাপক চিপ সরবরাহ
মিত্র দেশগুলোর অর্থনীতিতে চিপ উৎপাদন, প্যাকেজিং ও উপকরণের উৎস বৈচিত্র্যময় করলে একক কোনো জায়গায় ব্যর্থতার ঝুঁকি কমবে। সবচেয়ে সংবেদনশীল সক্ষমতায় সীমিত, স্পষ্ট রপ্তানি বিধি ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার চেয়ে বেশি কার্যকর হবে। যাচাই ও লাইসেন্সিংয়ে অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করলে নিয়মিত শিল্প সহযোগিতা ব্যাহত না করেই ফাঁকফোকর বন্ধ করা সম্ভব।
- নকশাবিদদের সরবরাহকারী ও চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনকারীদের সঙ্গে যুক্ত করে এমন আঞ্চলিক প্রোটোটাইপ কেন্দ্র গড়ে তুলুন।
- দক্ষ অভিবাসন বাড়ান এবং প্রকৌশলী, গবেষক ও কারিগরদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করুন।
- উন্মুক্ত বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গোপনীয়তা, সুরক্ষা ও নিরাপত্তায় মিত্রদের সঙ্গে অভিন্ন মানদণ্ড গ্রহণ করুন।
- নিরাপদ ক্লাউড সেবা থেকে দেশীয় ব্যাটারি কারখানা পর্যন্ত নতুন শিল্প গড়ে তুলতে সরকারি চাহিদা কাজে লাগান।
যেসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা এখনো যৌক্তিক
প্রতিদ্বন্দ্বিতা অভিন্ন স্বার্থ মুছে দেয় না। কিছু ক্ষেত্রে সহযোগিতা, অথবা অন্তত সমন্বয়, দুই পক্ষ ও বৃহত্তর বিশ্বের জন্যই উপকারী। জলবায়ু প্রযুক্তি সেই তালিকার শীর্ষে। গ্রিডের স্থিতিশীলতা, কার্বন পরিমাপ ও মিথেন নির্গমন কমাতে যৌথ কাজ বৃহত্তর উত্তেজনা থাকলেও সুফল দেবে। সুস্পষ্ট সুরক্ষাব্যবস্থাসহ বৈজ্ঞানিক বিনিময় স্বাস্থ্য গবেষণা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় অগ্রগতি ঘটাতে পারে। নেটওয়ার্কের আন্তঃসংযোগ ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণী সংস্থাগুলোতে সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কঠোর করা এবং কৌশলগত খনিজের মজুত গড়ার চীনা পরিকল্পনা উপকরণ নিয়ে আরও কঠিন প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও তার অংশীদারেরা বিভিন্ন স্থানে খনন, পরিশোধন ও পুনর্ব্যবহারকে সহায়তা করে বাজার স্থিতিশীল করতে পারে। লাইসেন্সিং ব্যবস্থা, সুরক্ষাসহ প্রযুক্তি বিনিময় এবং সংবেদনশীল সরবরাহব্যবস্থায় যৌথ পরিদর্শন অবিশ্বাস কমাতে পারে।
বিশ্বের বাকি অংশের জন্য এর অর্থ
তৃতীয় দেশগুলোর সামনে কঠিন হিসাব। অনেক কোম্পানির দুই বাস্তুতন্ত্রেই প্রবেশাধিকার প্রয়োজন। তারা সাশ্রয়ী হার্ডওয়্যার, নির্ভরযোগ্য সফটওয়্যার ও অনুমানযোগ্য নিয়ম চায়। দাম ও সরবরাহের সময়সীমায় চীনা পণ্য প্রায়ই এগিয়ে থাকে। কর্মক্ষমতা ও ডেভেলপার সরঞ্জামে যুক্তরাষ্ট্রের প্ল্যাটফর্মগুলো প্রায়ই এগিয়ে। চীনা চিপ নির্মাতাদের উন্নতি এবং ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণ সংশোধনের ফলে আরও বেশি ক্রেতা দুই পক্ষের পণ্যতালিকা থেকে বেছে নিতে পারবেন, কখনো একই প্রকল্পের মধ্যেই। এই পছন্দ দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়ায়, তবে আইনি ঝুঁকিও তৈরি করে।
চীনা স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে—এমনভাবে বিদেশি বিধিনিষেধ মেনে চলা কোম্পানির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বেইজিং নতুন আইনি হাতিয়ারের সঙ্গে প্রযুক্তি উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে যুক্ত করতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ রপ্তানি বিধি ও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ওপর জোর দিচ্ছে। দুই দেশের মাঝখানে থাকা কোম্পানিগুলো স্পষ্টতা চাইবে। তারা দুই বিচারব্যবস্থাতেই বিধিপালন দল গড়বে এবং প্রকল্পের প্রতিটি পর্যায়ে কোন আইন প্রযোজ্য, তা স্পষ্ট করে লেখা আছে—এমন চুক্তিও চাইবে।
মূল বিষয়
- হার্ডওয়্যার উৎপাদনের ব্যাপকতা, রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা ও তীব্র অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে চীন বৈদ্যুতিক যান, সৌরশক্তি, ব্যাটারি ও রোবটিকসে বৈশ্বিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
- বেইজিংয়ের নতুন পাঁচ বছরের পরিকল্পনায় উন্নত উৎপাদন ও কৌশলগত প্রযুক্তিতে জোর আরও বাড়ানো হয়েছে; পাশাপাশি থাকছে কঠোরতর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ও খনিজ মজুত।
- এআইয়ের অত্যাধুনিক উন্নয়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগে যুক্তরাষ্ট্র এখনো এগিয়ে; মানদণ্ড গড়ে তুলতে এবং উন্মুক্ত ডিজিটাল পরিবেশ রক্ষায় তারা জোটের সুবিধা কাজে লাগাতে পারে।
- এআই সম্প্রসারণ বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল। চীন ডেটা সেন্টারের সঙ্গে জ্বালানি পরিকল্পনার সমন্বয় করেছে; যুক্তরাষ্ট্রকে সক্ষমতা ও গ্রিডের স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে হবে।
- চীনের ওপেন সোর্স এআই প্রবেশাধিকার বাড়ায় ও ব্যবহার দ্রুত করে। যুক্তরাষ্ট্র দায়িত্বশীল উন্মুক্ততাকে উৎসাহিত করতে এবং ব্যবহারিক প্রয়োগে মনোযোগ দিতে পারে।
- সেমিকন্ডাক্টর প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে। উন্নত সক্ষমতা কোথায় যাবে, তা আরও লক্ষ্যভিত্তিকভাবে পরিচালনার দিকে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এগোচ্ছে; সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা থেকে সরে আসছে।
- দ্রুত বিচ্ছিন্নতার বড় খরচ রয়েছে। লক্ষ্যভিত্তিক ও সমন্বিত বিধি সরবরাহব্যবস্থা ও উদ্ভাবনে কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রেখে ঝুঁকি কমায়।
- ওয়াশিংটনের করণীয়: হার্ডওয়্যার দক্ষতা ফিরিয়ে আনা, প্রোটোটাইপ তৈরির গতি বাড়ানো, মিত্রদের সঙ্গে চিপ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং এআই প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বিদ্যুৎ পরিকল্পনার সমন্বয় করা।
- জলবায়ু, স্বাস্থ্য ও মানদণ্ড নিয়ে বেছে বেছে সহযোগিতা উত্তেজনা কমাতে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা চললেও বৈশ্বিক সুফল দিতে পারে।






