গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে নতুন প্রতিযোগিতা
উপকূল থেকে বহু দূরে, প্রশান্ত মহাসাগরের হাজার হাজার মিটার গভীরে পড়ে আছে আলুর আকারের পাথর, যেগুলোকে বলা হয় পলিমেটালিক নডিউল। এতে রয়েছে কোবাল্ট, নিকেল, ম্যাঙ্গানিজ, তামা এবং বিরল মৃত্তিকা উপাদানের সামান্য পরিমাণ। পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তর, বৈদ্যুতিক যান, বিদ্যুৎ গ্রিডে জ্বালানি সংরক্ষণ, উন্নত ইলেকট্রনিকস ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এসব ধাতু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চাহিদা বাড়ছে এবং স্থলভাগের খনিজ মজুতের ওপর চাপ পড়ছে—এ অবস্থায় নজর পড়েছে সমুদ্রতলে। কুক দ্বীপপুঞ্জে অনুসন্ধানী জাহাজ, গবেষণা জাহাজ ও সরকারি সংস্থাগুলো এখন পৃথিবীর সবচেয়ে সমৃদ্ধ সমুদ্রতলীয় খনিজভান্ডারগুলোর একটিতে মনোযোগ দিচ্ছে।
সূচিপত্র
- গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে নতুন প্রতিযোগিতা
- কুক দ্বীপপুঞ্জ কেন গুরুত্বপূর্ণ
- ওয়াশিংটন যা করছে
- বেইজিংয়ের পদক্ষেপ ও আঞ্চলিক প্রভাব
- সমুদ্রের নিয়ম কারা ঠিক করে
- বিজ্ঞান, প্রকৃতি ও অজানা বিষয়
- গভীর সমুদ্রে খনন যেভাবে কাজ করবে
- কুক দ্বীপপুঞ্জের জলসীমায় বিজ্ঞানীরা যা খুঁজে পাচ্ছেন
- কুক দ্বীপপুঞ্জের মানুষের মতামত ও সিদ্ধান্ত
- শিল্প ও অর্থনৈতিক স্বার্থ
- গুরুত্বপূর্ণ সময়রেখা ও সামনের সিদ্ধান্ত
- মূল কথা
সম্পদ, মানদণ্ড ও প্রভাব বিস্তারের বৃহত্তর প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে কুক দ্বীপপুঞ্জকে নিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। ওয়াশিংটন গবেষণায় অর্থায়ন করছে এবং সমুদ্রতলের ভূপ্রকৃতির মানচিত্র তৈরি করছে। বেইজিং আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা করেছে এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নিজেদের কোম্পানিগুলোকে প্রস্তুত করেছে। উভয় পক্ষই বিজ্ঞান ও দায়িত্বশীল উন্নয়নের কথা বলে তাদের সম্পৃক্ততার ব্যাখ্যা দিচ্ছে। নির্ভরযোগ্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহে উভয়ই কৌশলগত মূল্য দেখছে। এখানে শুধু পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির সরবরাহব্যবস্থাই নয়, গভীর সমুদ্র কীভাবে এবং কারা পরিচালনা করবে, সেই প্রশ্নও জড়িত।
কোথাও বাণিজ্যিকভাবে খনিজ উত্তোলন শুরু হয়নি। গভীর সমুদ্রে খনন বিতর্কিত। বিজ্ঞান আরও এগিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত কয়েক ডজন দেশ এ কাজে বিরতির আহ্বান জানিয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর মধ্যে অর্থনৈতিক সুযোগ ও পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কুক দ্বীপপুঞ্জে বর্তমানে সমুদ্রতল থেকে খনন নিষিদ্ধ। দেশটির কর্তৃপক্ষ তথ্য সংগ্রহ করছে, মূল্যায়ন চালাচ্ছে এবং কোনো কার্যক্রম কঠোর নিরাপত্তা মান পূরণ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক করছে।
কুক দ্বীপপুঞ্জ কেন গুরুত্বপূর্ণ
কুক দ্বীপপুঞ্জ হাওয়াই ও নিউজিল্যান্ডের প্রায় মাঝামাঝি অবস্থিত। দেশটির একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রায় ২০ লাখ বর্গকিলোমিটার, যা স্থলভাগের তুলনায় বহুগুণ বড়। কর্মকর্তাদের ধারণা, দেশটির জলসীমায় বিপুল পরিমাণ নডিউল রয়েছে। অভ্যন্তরীণ গবেষণার পাশাপাশি বাইরের বিশ্লেষণেও দেখা গেছে, গভীর সমুদ্রের সমতলভূমিতে ছড়িয়ে আছে কয়েক শ কোটি মেট্রিক টন নডিউল। প্রশান্ত মহাসাগরে এটি সম্ভবত অন্যতম বৃহৎ ঘনত্ব।
সমুদ্রতল জরিপ ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সরকার তিনটি প্রতিষ্ঠানকে অনুসন্ধান লাইসেন্স দিয়েছে। এর মধ্যে দুটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং একটি কুক দ্বীপপুঞ্জের মালিকানাধীন। সমুদ্রতলীয় খনিজ কর্তৃপক্ষ নীতি, পরিবেশগত প্রাথমিক অবস্থা নিরূপণ এবং বিধি মেনে চলার বিষয়গুলো তদারক করে। আপাতত খনন নিষিদ্ধ। নেতারা বলছেন, অনুসন্ধানের বাইরে যেকোনো পদক্ষেপ নিতে হলে কঠোর বৈজ্ঞানিক যাচাই, স্বচ্ছ নিয়ম এবং সামুদ্রিক পরিবেশ ও দেশের জীবিকাসমূহের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
ওয়াশিংটন যা করছে
এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমুদ্রতলীয় খনিজ নিয়ে কাজ ত্বরান্বিত করতে মার্কিন সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়ে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন। ১৯৮০ সালের একটি আইনের আওতায় অনুমতিপত্র দেওয়ার পথ খুলে দেয় আদেশটি; আইনটি বর্তমান বৈশ্বিক নিয়মকানুনের আগের। যুক্তরাষ্ট্রের জলসীমার ভেতরে এবং জাতীয় অধিক্ষেত্রের বাইরে—দুই ক্ষেত্রেই অনুসন্ধানে সহায়তা করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ পদক্ষেপে জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের অনানুষ্ঠানিক সামঞ্জস্য থেকে সরে আসা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এ চুক্তি অনুসমর্থন করেনি।
নীতিগত এ পরিবর্তনের পাশাপাশি ওয়াশিংটন কুক দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে গবেষণা, মানচিত্র তৈরি ও কারিগরি সহায়তাভিত্তিক অংশীদারত্ব শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণা জাহাজ কুক দ্বীপপুঞ্জের সমুদ্রতলের কিছু অংশ জরিপ করছে। দেশটি যাতে নিজস্ব বিকল্পগুলো যাচাই করতে পারে, সে জন্য এ উদ্যোগে স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি ও তথ্য সংগ্রহে অর্থায়ন রয়েছে। দুই দেশের সরকারের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ প্রচেষ্টার লক্ষ্য বিজ্ঞানকে এগিয়ে নেওয়া, তত্ত্বাবধান জোরদার করা এবং দায়িত্বশীল উন্নয়নে সহায়তা করা। বিবৃতিতে অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও পরিবেশ সুরক্ষায় অভিন্ন স্বার্থের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে বিবৃতিটি পাওয়া যাবে এখানে।
যৌথ বিবৃতিতে উচ্চ মানদণ্ড ও স্বচ্ছতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কুক দ্বীপপুঞ্জের গবেষণায় সক্রিয় যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকাও তুলে ধরা হয়েছে। নির্বাহী আদেশের কিছুদিন পর দ্য মেটালস কোম্পানির একটি মার্কিন সহযোগী প্রতিষ্ঠান দেশটির অভ্যন্তরীণ আইনের আওতায় আন্তর্জাতিক জলসীমায় খননের লাইসেন্সের আবেদন করে। এ আবেদন বর্তমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করেছে এবং অধিক্ষেত্র নিয়ে সম্ভাব্য আইনি ও কূটনৈতিক বিরোধের ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
একসঙ্গে আমরা সমুদ্রতলীয় খনিজের দায়িত্বশীল উন্নয়ন এবং গভীর সমুদ্র সম্পর্কে বৈশ্বিক বৈজ্ঞানিক জ্ঞান এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করছি। একই সঙ্গে সমুদ্রতলের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার উচ্চ মানদণ্ড প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ওপরের কথাগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও কুক দ্বীপপুঞ্জের বিবৃতিতে রয়েছে, যেখানে সহযোগিতার ভিত্তি হিসেবে বিজ্ঞানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বৈশ্বিক কাঠামোর বাইরে খননের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগের সঙ্গে এ পদ্ধতির সহাবস্থান সম্ভব কি না, তা এখন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অংশীদারদের কাছে কেন্দ্রীয় প্রশ্ন।
বেইজিংয়ের পদক্ষেপ ও আঞ্চলিক প্রভাব
আন্তর্জাতিক সমুদ্রতল কর্তৃপক্ষের (ISA) পরিচালনায় আন্তর্জাতিক সমুদ্রতল অনুসন্ধানে চীনের দীর্ঘদিনের উপস্থিতি রয়েছে। দেশটির সরকারের সমর্থনপুষ্ট সংস্থাগুলোর হাতে অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেশি অনুসন্ধান চুক্তি রয়েছে। চীন গবেষণা জাহাজ, সংগ্রহ প্রযুক্তি ও সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরিতে বিনিয়োগ করেছে এবং ISA-র নিয়ম প্রণয়নে প্রভাব গড়ে তুলেছে। ফেব্রুয়ারিতে কুক দ্বীপপুঞ্জ চীনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করে। এর মাধ্যমে সমুদ্রতল গবেষণা, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে একটি যৌথ কমিটি এবং সহযোগিতা কর্মসূচি গড়ে ওঠে। কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, এ চুক্তি খননের অধিকার দেয়নি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিয়ম বহাল রয়েছে।
কুক দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে সমুদ্র আইনসহ আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ইঙ্গিত দিয়েছে চীন। আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিরিবাতির সঙ্গেও সম্পদ বিষয়ে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার সম্ভাবনা যাচাই করেছে বেইজিং। আরও স্বচ্ছতার দাবির পর কুক দ্বীপপুঞ্জ সরকার চীনের সঙ্গে কর্মপরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করে। পরিকল্পনায় কয়েক মিলিয়ন ডলারের এককালীন অনুদান এবং সমুদ্র জরিপবিদ্যা, রসদ ও মহাসাগর গবেষণার মতো ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়। এতে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কোনো বিধান ছিল না।
ওয়াশিংটনের বৈজ্ঞানিক অংশীদারত্ব এবং বেইজিংয়ের কারিগরি সহযোগিতা—এ দুই ধারায় কুক দ্বীপপুঞ্জের সামনে প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তাব, গবেষণার জন্য বাড়তি সম্পদ এবং আলোচনায় বেশি দর-কষাকষির ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে জটিল তথ্য বিশ্লেষণ, বাইরের পক্ষের এজেন্ডা প্রতিহত করা এবং নিজস্ব অগ্রাধিকার বজায় রাখার দায়িত্বে থাকা ছোট প্রশাসনের ওপর চাপও বেড়েছে।
সমুদ্রের নিয়ম কারা ঠিক করে
সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশনের আওতায় গঠিত ISA জাতীয় অধিক্ষেত্রের বাইরে থাকা সমুদ্রতলে খনিজ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। তারা কয়েক ডজন অনুসন্ধান চুক্তি দিয়েছে, তবে খননের কোনো লাইসেন্স দেয়নি। বিস্তারিত খননবিধি নিয়ে আলোচনা বহু বছর ধরে চলছে। অনেক সরকার ও বিজ্ঞানীর মতে, পরিবেশগত ঝুঁকি আরও ভালোভাবে বোঝা না যাওয়া পর্যন্ত সংস্থাটির ধীরে এগোনো বা অগ্রগতি স্থগিত রাখা উচিত। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশসহ ক্রমবর্ধমানসংখ্যক দেশ খনন স্থগিত রাখার আহ্বানকে সমর্থন করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র সমুদ্র আইনবিষয়ক চুক্তির পক্ষ নয় এবং ISA-র সদস্যও নয়। তবু কয়েক দশক ধরে ওয়াশিংটন চুক্তিটির নৌ চলাচল ও সামুদ্রিক নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলেছে। জাতীয় জলসীমার বাইরে ISA ব্যবস্থার পরিবর্তে অভ্যন্তরীণ অনুমতিপত্র দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে সাম্প্রতিক নির্বাহী আদেশ সেই সামঞ্জস্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে। আইনি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, একতরফা লাইসেন্স দেওয়া বৈশ্বিক কাঠামোকে দুর্বল করতে পারে, অন্য দেশগুলোকেও একই পদক্ষেপে উৎসাহিত করতে পারে এবং ভবিষ্যতে অভিন্ন নিয়মে ফেরার পথ জটিল করে তুলতে পারে।
অন্যদিকে, চীন ISA-র কার্যক্রমে পুরোপুরি অংশ নেয় এবং প্রায়ই তাদের পদ্ধতিকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে তুলে ধরে। কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করেছেন, সমুদ্রতলে ব্যবহৃত দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি সামরিক মানচিত্র তৈরি, নজরদারি এবং সমুদ্রতলের অবকাঠামো-সংক্রান্ত কাজেও লাগতে পারে। চীনা, মার্কিন বা অন্য কোনো দেশের পতাকাবাহী জাহাজ যে দেশেরই হোক, বড় আকারের যেকোনো সমুদ্রতলীয় কার্যক্রম সীমান্ত ছাড়িয়ে কৌশলগত, পরিবেশগত ও আইনি প্রশ্ন তৈরি করে।
বিজ্ঞান, প্রকৃতি ও অজানা বিষয়
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, গভীর সমুদ্রে খননের ফলে ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্রের মারাত্মক এবং সম্ভবত অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। গভীর সমুদ্র অন্ধকার, শীতল এবং সেখানে পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া ধীর। প্রজাতিগুলো প্রায়ই ধীরে বেড়ে ওঠে ও বংশবিস্তার করে। খননের ফলে তৈরি পলির মেঘ প্রাণের ওপর ঢেকে যেতে পারে, বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়াতে পারে এবং পানির স্তরজুড়ে ধাতু বহন করতে পারে। শব্দ ও কম্পন ক্ষীণ সংকেতের ওপর নির্ভরশীল প্রাণীদের ব্যাহত করতে পারে। আলো অন্ধকারে অভিযোজিত প্রাণীদের আচরণ বদলে দিতে পারে। পৃষ্ঠে নডিউল থেকে আলাদা করা বর্জ্যপানি সম্ভবত আবার সমুদ্রে ছাড়া হবে, ফলে দ্বিতীয় একটি মেঘ তৈরি হবে, যার প্রভাব অজানা।
গভীর সমুদ্রে খনন যেভাবে কাজ করবে
সম্ভাব্য প্রধান লক্ষ্য হলো গভীর সমুদ্রতলের নরম পলির ওপর পড়ে থাকা নডিউল। একটি খননব্যবস্থা সমুদ্রতলে বড় আকারের রোবটচালিত সংগ্রাহক বসাবে। যন্ত্রটি নডিউল তুলে একটি রাইজার পাইপের মাধ্যমে পৃষ্ঠের জাহাজে পাঠাবে, এরপর পানি সমুদ্রে ফিরিয়ে দেবে। এ প্রক্রিয়ায় সংগ্রাহকের চলার পথে পলি ও জীবজগৎ বিঘ্নিত হয়। পাম্প ও সহায়ক জাহাজের শব্দও যোগ হয়, আর সমুদ্রতল ও মধ্যজলের স্তরে বর্জ্যপানি ছাড়ার স্থান—দুই জায়গা থেকেই পলির মেঘ তৈরি হয়।
প্রকৌশলীদের যুক্তি, স্থলভাগের অনেক খনির তুলনায় গভীর সমুদ্রের কার্যক্রমে বন উজাড়, মানুষকে উচ্ছেদ এবং খনিবর্জ্য জমিয়ে রাখার বাঁধ এড়ানো যেতে পারে। বিরোধীদের বক্তব্য, স্পঞ্জ, প্রবাল থেকে শুরু করে অণুজীব পর্যন্ত দীর্ঘজীবী বাস্তুতন্ত্র এমন ঝুঁকির মুখে পড়বে, যা এখনো যথাযথভাবে পরিমাপ করা হয়নি। মৎস্যসম্পদ নিয়ে উদ্বেগ শুধু খনন এলাকার ঠিক ওপরের জলসীমায় সীমাবদ্ধ নয়। টুনা ও অন্যান্য পেলাজিক প্রজাতি প্রশান্ত মহাসাগরজুড়ে পরিযান করে এবং খাদ্যজালের ওপর নির্ভরশীল, যা ব্যাপক বিঘ্নে পরিবর্তিত হতে পারে।
কুক দ্বীপপুঞ্জের জলসীমায় বিজ্ঞানীরা যা খুঁজে পাচ্ছেন
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি সামুদ্রিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট পরিচালিত এবং মার্কিন সংস্থাগুলোর সহায়তাপুষ্ট অনুসন্ধানী জাহাজ ই ভি নটিলাস স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে কুক দ্বীপপুঞ্জের গভীর সমুদ্রের আবাসস্থলের ছবি ধারণে কাজ করেছে। অভিযানে প্রবাল, স্পঞ্জ ও গর্তে বসবাসকারী প্রাণীর তথ্য নথিবদ্ধ করা হয়েছে। দেশের সামুদ্রিক সুরক্ষিত এলাকার সমুদ্রতলীয় বৈশিষ্ট্যের উচ্চ-রেজোলিউশনের দৃশ্যও ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় পরিবেশবাদী গোষ্ঠীগুলো এ তথ্যকে স্বাগত জানিয়েছে, তবে ক্যামেরায় সহজে ধরা পড়ে না এমন প্রাণ সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে ডিএনএ ও পরিবেশগত ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছে। সমুদ্রতলীয় খনিজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছবির মান বড় প্রজাতিগুলো শনাক্ত করতে এবং প্রাথমিক মানচিত্র আরও নিখুঁত করতে সহায়তা করবে।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক বিজ্ঞানের অধ্যাপক ডগলাস ম্যাককলি খননের ফলে তৈরি পলির মেঘের ঝুঁকি এবং গভীর সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রের সহনশীলতা নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁর মতে, দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। তিনি বিশেষ করে বর্জ্যপানি নির্গমন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ না করার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেন।
“যে খননের প্রস্তাব করা হচ্ছে, তা পৃথিবীর সবচেয়ে ভঙ্গুর অথবা সবচেয়ে কম সহনশীল বাস্তুতন্ত্রগুলোর কয়েকটিতে হবে,” বলেন ম্যাককলি। গভীর সমুদ্রে নতুন করে শুরু হওয়া এ দৌড়কে তিনি “প্যান্ডোরার বাক্স অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে খুলে দেওয়া” বলেও আখ্যা দেন।
প্রকৌশলী ও নিয়ন্ত্রকেরা নজরদারির মানদণ্ড পরীক্ষা করছেন। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা হাওয়াই ও মেক্সিকোর মধ্যবর্তী ক্ল্যারিয়ন-ক্লিপারটন অঞ্চলে দূষক ও জৈবিক প্রভাব পর্যবেক্ষণের জন্য ঝুঁকিভিত্তিক কাঠামো ও পদ্ধতি তৈরি করেছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় কয়েকটি দেশের সেখানে চুক্তি রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রজুড়ে এখনো বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। কিছু পুরোনো পরীক্ষামূলক স্থানে কয়েক দশক পরও সামান্য পুনরুদ্ধার দেখা গেছে। অনেক লাইসেন্স এলাকার বৈজ্ঞানিক প্রাথমিক তথ্য অসম্পূর্ণ। ক্ষতির কোন মাত্রাকে গ্রহণযোগ্য বলা হবে, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
কুক দ্বীপপুঞ্জের মানুষের মতামত ও সিদ্ধান্ত
কুক দ্বীপপুঞ্জে সমুদ্রতলীয় খনন নিয়ে জনমত বিভক্ত। কেউ কেউ স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতার জন্য আয়ের পথ দেখছেন। অন্যরা এমন সমুদ্রের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা করছেন, যা তাদের সংস্কৃতি ও জীবিকার ভিত্তি। লাইসেন্সপ্রাপ্ত এলাকায় ছবি ও নমুনা সংগ্রহ করে ফিরে আসা জাহাজগুলোকে ঘিরে সম্প্রতি বিক্ষোভ হয়েছে। ব্যানারে মোয়ানা, অর্থাৎ সমুদ্রে, খনন না করার সতর্কবার্তা ছিল। নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো স্বাধীন তদারকি, গবেষণার জন্য আরও সময় এবং জনসাধারণের সঙ্গে জোরালো পরামর্শের আহ্বান জানিয়েছে।
সমুদ্রতলীয় খনিজ কর্তৃপক্ষের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এডওয়ার্ড হারম্যান দেশের বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, কুক দ্বীপপুঞ্জ সামুদ্রিক বিজ্ঞান নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে। এ পর্যায়ে তিনি খননের বদলে গবেষণার ওপর জোর দিয়েছেন। সরকার বলেছে, বিজ্ঞান স্পষ্ট হলে এবং জনগণের মতামত শোনা হলেই কেবল সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তে ইপুকারেয়া সোসাইটির পরিচালক আলানা মাতামারু স্মিথের যুক্তি, যারা মুনাফার প্রত্যাশা করে তাদের হাতে তথ্যের রূপ দেওয়া উচিত নয়। যেকোনো সিদ্ধান্তের আগে তিনি আরও শক্তিশালী স্বাধীন যাচাই এবং জনসাধারণের বিস্তৃত অংশগ্রহণ চান। বহু বছর ধরে বাইরের আগ্রহের পর তিনি উদ্বিগ্ন, বড় শক্তিগুলোর অগ্রাধিকারের ভিড়ে ছোট একটি দেশের মানুষের কণ্ঠস্বর চাপা পড়ে যেতে পারে।
নিজের উদ্বেগের কথা তুলে ধরে স্মিথ বলেন, গবেষণার কাজ প্রায়ই বাণিজ্যিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। “দিন শেষে গবেষণাটা এখনো খনন কোম্পানিগুলোই করছে, পাশাপাশি তথ্য দিতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের আসার ওপরও নির্ভর করছে,” তিনি বলেন। “বিশ্বের এই পরাক্রমশালী রাষ্ট্রগুলোর সামনে আমরা ছোট্ট কুক দ্বীপপুঞ্জ।”
আঞ্চলিক রাজনীতিও চাপ বাড়াচ্ছে। কুক দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে সাংবিধানিক সম্পর্ক থাকা নিউজিল্যান্ড চীনের সঙ্গে চুক্তি পরামর্শ ছাড়া সই হওয়ায় আপত্তি জানায়। ওয়েলিংটন বাজেট সহায়তা স্থগিত করলেও পরে বিজ্ঞান ও তত্ত্বাবধানকে গুরুত্ব দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সহযোগিতাকে স্বাগত জানায়। আঞ্চলিক এক ফোরামে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন, কুক দ্বীপপুঞ্জের উচিত নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার স্বাধীনতা থাকা এবং চাইলে সমুদ্রতল থেকে জাতীয় সম্পদ গড়ে তোলা। দেশটির নেতাদের সামনে কঠিন ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ: অংশীদার বৈচিত্র্য আনা, বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং তাদের আবাসভূমির পরিচয় গড়ে তোলা সমুদ্রকে সুরক্ষিত রাখা।
শিল্প ও অর্থনৈতিক স্বার্থ
ক্ল্যারিয়ন-ক্লিপারটন অঞ্চল কোম্পানি ও সরকারগুলোর নজর কেড়েছে। কারণ, বিশাল এলাকাজুড়ে সেখানে নডিউলের ঘনত্ব বেশি এবং অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ভূপ্রকৃতি বেশ সরল। দ্য মেটালস কোম্পানি তাদের দাবিকৃত এলাকার কিছু অংশের সম্পদ-পরিমাণের হিসাব প্রকাশ করেছে এবং সংগ্রহব্যবস্থার পরীক্ষা চালিয়েছে। অর্থায়নকারীদের যুক্তি, বৈদ্যুতিক যান ও জ্বালানি সংরক্ষণের জন্য কোবাল্ট ও নিকেলের চাহিদা দামকে চড়া রাখবে। স্থলভাগে উচ্চ সামাজিক ও পরিবেশগত ব্যয়সম্পন্ন উৎসের বিকল্প বা সম্পূরক জোগান হিসেবে তারা প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রতলকে দেখছে।
সমালোচকদের বক্তব্য, উপাদানবিজ্ঞানে পরিবর্তন আসছে। ব্যাটারির রসায়নে কোবাল্টের ব্যবহার কমছে। পুনর্ব্যবহার ও বিকল্প উপাদানের ব্যবহার নতুন করে খননের চাপ কমাতে পারে। কোম্পানিগুলো চাহিদা বা খরচের হিসাব ভুল করলে ব্যয়বহুল জাহাজ ও সংগ্রাহকগুলো অলস পড়ে থাকতে পারে। কুক দ্বীপপুঞ্জের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক মডেলিং শুধু ধাতুর দামের ওপর নির্ভর করে না। এতে পরিবেশ সুরক্ষার ব্যবস্থা, নজরদারির খরচ, জরুরি তহবিল, ক্ষতির দায় এবং সামুদ্রিক এলাকার দীর্ঘমেয়াদি তত্ত্বাবধান বিবেচনায় নিতে হবে। আয় ভাগাভাগির যেকোনো মডেলকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অগ্রাধিকার ও দেশের সুরক্ষিত এলাকার নিয়মের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
অবকাঠামোগত ঝুঁকিও রয়েছে। সমুদ্রতলের কেবল বৈশ্বিক ইন্টারনেটের ধমনি। প্রকৌশলীরা সতর্ক করেছেন, ভারী যন্ত্রপাতি ও পলি নাড়াচাড়া কেবলগুলোর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যদি কেবলপথ ও কার্যক্রম একই জায়গায় পড়ে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলো যোগাযোগ ও বাণিজ্যের জন্য অল্প কয়েকটি সংযোগের ওপর নির্ভরশীল। পরিকল্পনা, আগাম নোটিশ ও মানচিত্র ভাগাভাগির মাধ্যমে শক্তিশালী আঞ্চলিক আচরণবিধি ঝুঁকি কমাতে পারে, তবে এসব চর্চা এখনো মানসম্মত রূপ পায়নি।
গুরুত্বপূর্ণ সময়রেখা ও সামনের সিদ্ধান্ত
বিস্তারিত খননবিধি নিয়ে ISA-র আলোচনা চলছে। অনুসন্ধান চুক্তিধারী কোম্পানিগুলো উৎপাদনের আবেদন কখন ও কীভাবে করতে পারবে, সে বিষয়ে স্পষ্টতা চায়। বিজ্ঞান এগিয়ে যাওয়া ও নজরদারি উন্নত হওয়ার মধ্যে একদল দেশ খনন স্থগিত রাখার আহ্বান জানাচ্ছে। কুক দ্বীপপুঞ্জে তথ্য সংগ্রহ ও পরিবেশগত মূল্যায়নের কাজ চলছে। দেশটির সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বিজ্ঞানের দৃঢ়তা, জনগোষ্ঠীর অবস্থান এবং যেকোনো প্রয়োগব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর। ওয়াশিংটনে জাতীয় জলসীমার বাইরে অভ্যন্তরীণ লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগে মামলা ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বেইজিং সম্ভবত গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে সক্ষমতা, চুক্তি এবং আঞ্চলিক সম্পর্ক আরও গড়ে তুলবে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় নেতারা বলছেন, স্বচ্ছতা, স্বাধীন বিজ্ঞান এবং স্থানীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতি সম্মানই হবে গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি।
মূল কথা
- পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও উন্নত প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সমুদ্রতলীয় খনিজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কুক দ্বীপপুঞ্জ।
- দেশটিতে আপাতত খনন নিষিদ্ধ; বৈজ্ঞানিক মানচিত্র তৈরি, পরিবেশগত প্রাথমিক অবস্থা নিরূপণ ও জনআলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
- গভীর সমুদ্রে খনন ত্বরান্বিত করতে ওয়াশিংটন নির্বাহী আদেশ দিয়েছে এবং কুক দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে গবেষণাকেন্দ্রিক অংশীদারত্ব শুরু করেছে।
- বেইজিং কুক দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে সমুদ্রতল গবেষণায় যৌথ কর্মসূচি গড়েছে এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার আওতায় একাধিক অনুসন্ধান চুক্তি রয়েছে।
- ভঙ্গুর গভীর সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রে পলির মেঘ, শব্দ ও বর্জ্যপানি নির্গমনের মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন।
- আন্তর্জাতিক সমুদ্রতল কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞান ও নিয়মকানুন বিকশিত হওয়ার সময় কয়েক ডজন দেশ গভীর সমুদ্রে খনন স্থগিত রাখার পক্ষে।
- কুক দ্বীপপুঞ্জের স্থানীয় মানুষের মত বিভক্ত; বিক্ষোভ, স্বাধীন তদারকির দাবি এবং অর্থনৈতিক সুযোগের পক্ষে যুক্তি রয়েছে।
- ক্ল্যারিয়ন-ক্লিপারটন অঞ্চলে শিল্পের আগ্রহ প্রবল, তবে কারিগরি, আইনি ও আর্থিক অনিশ্চয়তা এখনো অনেক।






