একটি বিভ্রাটে জাপানজুড়ে বড় ব্র্যান্ডগুলোর অনলাইন সেবা বন্ধ
জাপানে লজিস্টিকস ও অনলাইন অর্ডার প্রক্রিয়াকরণের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান আসকুলে র্যানসমওয়্যার হামলায় দেশটির পরিচিত কয়েকটি খুচরা বিক্রেতার ডিজিটাল কেনাকাটা ব্যাহত হয়েছে। মুজির মালিক রিওহিন কেইকাকু জাপানে তাদের অনলাইন স্টোর স্থগিত করেছে। গৃহস্থালি পণ্যের চেইন লফট এবং ডিপার্টমেন্ট স্টোর গ্রুপ সোগো ও সেইবুও অনলাইন বিক্রি ও পণ্য পাঠানোর কিছু কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। সরাসরি দোকানগুলো চালু থাকলেও, আক্রান্ত ওয়েবসাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে অনেক ক্রেতা অর্ডার দিতে, পার্সেলের অবস্থান জানতে বা অ্যাকাউন্টের বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহার করতে পারছেন না।
সূচিপত্র
- একটি বিভ্রাটে জাপানজুড়ে বড় ব্র্যান্ডগুলোর অনলাইন সেবা বন্ধ
- আসকুলে কী ঘটেছে
- সিস্টেম বন্ধ রাখা হয়েছে
- তিনটি প্ল্যাটফর্ম আক্রান্ত
- কোন খুচরা বিক্রেতারা আক্রান্ত, কীভাবে
- ভোক্তা ও ব্যবসার ওপর প্রভাব
- ব্যক্তিগত তথ্য কি ঝুঁকিতে
- বাজার ও আর্থিক প্রভাব
- জাপানে সাম্প্রতিক সাইবার ঘটনার ধারাবাহিকতা
- এক বিক্রেতার বিভ্রাটে কেন অনেক খুচরা বিক্রেতা আক্রান্ত
- খুচরা বিক্রেতারা যে পদক্ষেপ নিতে পারেন
- র্যানসমওয়্যার কীভাবে লজিস্টিকস ও অর্ডার সিস্টেমে বিঘ্ন ঘটায়
- পুনরুদ্ধারে কত সময় লাগে এবং কেন
- এখনই ভোক্তারা যা করতে পারেন
- সংক্ষেপে
সপ্তাহান্তে (১৯ অক্টোবর) শনাক্ত হওয়া এ ঘটনায় সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দেয়। এর জেরে আসকুল তাদের প্ল্যাটফর্মগুলোতে অনলাইন অর্ডার নেওয়া ও পণ্য পাঠানো বন্ধ করে দেয়। ব্যক্তিগত বা গ্রাহকের তথ্য কেউ দেখতে পেরেছে কি না, তা-সহ হামলার পরিধি তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সেবা কবে ফিরবে, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি। এ ঘটনা দেখিয়েছে, অভিন্ন অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল অনেক ব্র্যান্ডের অর্ডার পরিচালনা ও গুদাম থেকে ক্রেতার কাছে পণ্য পৌঁছানোর কাজে একটি প্রযুক্তি ও লজিস্টিকস অংশীদারই কীভাবে একক ব্যর্থতার উৎস হয়ে উঠতে পারে।
রিওহিন কেইকাকু জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব সিস্টেম আক্রান্ত হয়নি। স্থগিতের প্রভাব পড়েছে মুজির জাপানের অনলাইন স্টোর এবং মোবাইল অ্যাপের কিছু অংশে। তবে সরাসরি দোকানে পণ্য সরবরাহ ও দোকানগুলোর লজিস্টিকস স্বাভাবিক রয়েছে। অন্য খুচরা বিক্রেতারাও একই ধরনের সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছে: ক্রেতারা ত্রুটির বার্তা দেখছেন, কার্টে অর্ডার আটকে যাচ্ছে, কিংবা পণ্যের পেজ খুলছে না। জাপানের ভোক্তা খাতে সাইবার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এ বিভ্রাট ঘটল। এর এক মাসেরও কম আগে আসাহি গ্রুপে পৃথক এক সাইবার ঘটনায় বিয়ার উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশে বিলম্ব ঘটে।
আসকুলে কী ঘটেছে
আসকুল জানিয়েছে, ১৯ অক্টোবর র্যানসমওয়্যার সংক্রমণের কারণে সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দেয়। প্রতিষ্ঠানটি তাদের মূল প্ল্যাটফর্মগুলোতে অর্ডার গ্রহণ ও পণ্য পাঠানো স্থগিত করেছে এবং তথ্যের ওপর কী প্রভাব পড়েছে, তা এখনো যাচাই করছে। ঘটনার কিছু সময়ের জন্য প্রতিষ্ঠানটির করপোরেট ওয়েবসাইটও খোলা যায়নি। গ্রাহক ও অংশীদারদের কাছে ক্ষমা চেয়ে প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করেছে যে, সেবা ফিরিয়ে আনতে সতর্ক তদন্ত ও পুনরুদ্ধারের ধাপ প্রয়োজন, যা তাড়াহুড়া করে করা সম্ভব নয়।
সিস্টেম বন্ধ রাখা হয়েছে
নতুন অর্ডার ও ব্যবহারকারী নিবন্ধন বন্ধ রাখা হয়েছে। বিভ্রাটের সময়ের কাছাকাছি যেসব অর্ডার পাঠানো হয়নি, সেগুলো বাতিল করা হয়েছে। আসকুল ফেরত প্রক্রিয়াকরণ, রসিদ পাঠানো, ক্যাটালগের অনুরোধ এবং ওষুধের অর্ডারও স্থগিত করেছে। গ্রাহক সহায়তা চ্যানেলগুলোতে চাপ তৈরি হয়েছে; কিছু সময় হেল্পডেস্ক ও অনলাইন অনুসন্ধান ফরম পাওয়া যায়নি বলে খবর পাওয়া গেছে। র্যানসমওয়্যার হামলার জবাবে এমন জরুরি ব্যবস্থা সাধারণত নেওয়া হয়। এতে প্রতিষ্ঠানগুলো হামলা নিয়ন্ত্রণে রাখা, এর বিস্তার ঠেকানো এবং তথ্য সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করে; একই সময়ে ফরেনসিক দলগুলো কোন কোন সিস্টেম বা তথ্য আক্রান্ত হয়েছে, তা নির্ধারণ করে।
তিনটি প্ল্যাটফর্ম আক্রান্ত
আসকুলের অফিস সরঞ্জামের ওয়েব স্টোর, ভোক্তাদের জন্য লোহাকো মার্কেটপ্লেস এবং করপোরেট গ্রাহকদের জন্য সোলোয়েল অ্যারেনা সেবা—তিনটিই এ বিভ্রাটে আক্রান্ত হয়েছে। এসব সাইট দেশজুড়ে বিস্তৃত একটি লজিস্টিকস সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত, যা ডিজিটাল স্টোরফ্রন্টকে বিতরণকেন্দ্র, লেবেল প্রিন্টার এবং পণ্য পৌঁছে দেওয়ার শেষ ধাপের পরিবহনকারীদের সঙ্গে সংযুক্ত করে। কেন্দ্রীয় অর্ডার ব্যবস্থাপনা ও গুদাম সিস্টেম বন্ধ হয়ে গেলে অর্ডার নেওয়া, পণ্য বাছাই ও মোড়কজাত করা এবং পাঠানো—সবই থেমে যায়।
কোন খুচরা বিক্রেতারা আক্রান্ত, কীভাবে
আসকুলে হামলার পর মুজির জাপানি অনলাইন স্টোর বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সরাসরি দোকানগুলো এবং দোকানে কেনা পণ্য পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও দেশের ভেতরে অনলাইন সেবায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অ্যাপের কিছু সুবিধা বন্ধ, পণ্যের পেজ নাও খুলতে পারে এবং সাবস্ক্রিপশন সেবা স্থগিত রয়েছে। কোন কোন অর্ডার আক্রান্ত হয়েছে, তা পর্যালোচনা করছে মুজি। সেবা স্থগিতের আগে দেওয়া কেনাকাটায় প্রভাব পড়লে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের ইমেইলে জানানো হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পুরো সেবা কবে ফিরবে, সে তারিখ ঠিক হয়নি।
লফট অনলাইন কার্যক্রম স্থগিত করেছে এবং কবে তা আবার শুরু হবে, এখনো জানে না বলে জানিয়েছে। আসকুলের লজিস্টিকস সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত নির্বাচিত পণ্যের অনলাইন বিক্রি বন্ধ করেছে সোগো ও সেইবু। ক্রেতাদের জন্য তাৎক্ষণিক প্রভাব হলো নতুন অর্ডার দিতে না পারা; পাশাপাশি যেসব পণ্য এখনো পাঠানো হয়নি, সেগুলোর ক্ষেত্রে বিলম্ব বা বাতিলের ঘটনা ঘটছে। খুচরা বিক্রেতারা সরাসরি দোকানে লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছে, তবে অনেকের জন্য অনলাইন কেনাকাটার সুবিধা ব্যাহত হয়েছে।
ভোক্তা ও ব্যবসার ওপর প্রভাব
ক্রেতাদের অর্ডার বাতিল হচ্ছে, পণ্য পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে এবং অ্যাপ ও অ্যাকাউন্ট সেবায় প্রবেশ সীমিত। আসকুলের পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল খুচরা বিক্রেতারা পণ্য পাঠানোর সময় নিশ্চিত করতে পারছে না; কিছু প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সহায়তা লাইনে অতিরিক্ত চাপ পড়েছে। অফিস ও স্থাপনার সরঞ্জামের জন্য আসকুলের ওপর নির্ভরশীল করপোরেট ক্রেতারাও আক্রান্ত। আসকুল বিপুলসংখ্যক ব্যক্তি ও ব্যবসায়িক গ্রাহককে সেবা দেয়। তাই এ মাত্রার বিভ্রাট ছোট অফিস থেকে বড় প্রতিষ্ঠান—সবার দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত করতে পারে।
সময়টিও চাপ বাড়াচ্ছে। জাপানে কেনাকাটার ব্যস্ত মৌসুম ঘনিয়ে আসছে। এ সময়ে খুচরা বিক্রেতারা সাধারণত স্থিতিশীল ডিজিটাল চাহিদার ভিত্তিতে প্রচার ও মজুতের পরিকল্পনা করে। কেন্দ্রীয় লজিস্টিকস প্ল্যাটফর্ম আটকে গেলে দ্রুত পণ্যের জট তৈরি হতে পারে। হাতে করা বিকল্প ব্যবস্থায় সামান্যই স্বস্তি মেলে, কারণ আধুনিক অর্ডার ও গুদাম সিস্টেম মজুতের ডেটাবেস, শিপিং লেবেল প্রিন্টার এবং পরিবহনকারীদের বুকিং টুলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। স্বাভাবিক সময়ে এই সমন্বিত নকশা কাজের গতি ও নির্ভুলতা বাড়ায়, কিন্তু র্যানসমওয়্যারে মূল সিস্টেম আটকে গেলে সহজ বিকল্পের সুযোগও কম থাকে।
ব্যক্তিগত তথ্য কি ঝুঁকিতে
হামলার সময় ব্যক্তিগত বা করপোরেট গ্রাহকের তথ্য কেউ দেখতে পেরেছে কি না, তা তদন্ত করছে আসকুল। তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেনি। সাইবার ঘটনায় কখনো কখনো লগইন তথ্য চুরি হতে পারে, কিংবা ঠিকানা, ফোন নম্বর ও অর্ডারের ইতিহাস প্রকাশ হয়ে যেতে পারে। অ্যাকাউন্টের তথ্য, পাসওয়ার্ড বা অর্থ পরিশোধের বিবরণ চেয়ে পাঠানো অযাচিত ইমেইল বা বার্তার বিষয়ে ভোক্তাদের সতর্ক থাকা উচিত। কেউ একাধিক সাইটে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে থাকলে তা বদলে নেওয়া বিচক্ষণতার কাজ। অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা ও সেবা পুনরুদ্ধার বিষয়ে নির্দেশনার জন্য আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস।
কোনো র্যানসমওয়্যার গোষ্ঠী প্রকাশ্যে হামলার দায় স্বীকার করেনি, আর কোনো মুক্তিপণের দাবি পেয়েছে কি না, তা প্রতিষ্ঠানগুলো জানায়নি। হামলাকারীরা অনেক সময় বিস্তারিত তথ্য বা নমুনা প্রকাশ করতে অপেক্ষা করে, তাই তদন্ত এগোনোর সঙ্গে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জাপানের লজিস্টিকস খাতেও অ্যাকাউন্ট দখলের চেষ্টা দেখা গেছে। বড় একটি ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানে অননুমোদিত লগইনের খবর পাওয়া গেছে। সেগুলোর কারণ ছিল একই লগইন তথ্য বারবার ব্যবহার করা, ব্যবসায়িক সিস্টেমে অনুপ্রবেশ নয়। একই ভোক্তা গোষ্ঠীকে অপরাধীরা আর কীভাবে লক্ষ্যবস্তু করে, তা এ ঘটনা দেখায়।
বাজার ও আর্থিক প্রভাব
এ বিভ্রাটে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দর কমেছে। ঘটনার পর প্রথম লেনদেনের দিনে আসকুলের শেয়ার সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ এবং রিওহিন কেইকাকুর শেয়ার সর্বোচ্চ ৬.৬ শতাংশ কমে। আর্থিক প্রভাব মূল্যায়ন করছে আসকুল। অক্টোবরের শেষ দিকে (২৮ অক্টোবর) প্রকাশের কথা থাকা মাসিক আয়ের তথ্য প্রকাশ পিছিয়ে দিতে হতে পারে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিভ্রাট দীর্ঘায়িত হলে আসকুলের ফলাফলে বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা, কারণ গ্রাহকেরা সীমাবদ্ধতায় থাকা সরবরাহকারীর বদলে অন্য প্রতিষ্ঠানে অর্ডার দিতে পারেন। রিওহিন কেইকাকুর অনলাইন বিক্রির ওপর নির্ভরতা কিছু প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় কম। দোকানগুলোতে ক্রেতার ভিড় থাকলে মুজিতে আয়ের ওপর প্রভাব সীমিত হতে পারে।
ঘটনা মোকাবিলা, ফরেনসিক তদন্ত ও সিস্টেম পুনর্গঠনে প্রতিষ্ঠানগুলোর খরচ হয়; গ্রাহককে অর্থ ফেরত বা ক্রেডিট দেওয়ার মতো সহায়তাতেও ব্যয় হতে পারে। সাইট বন্ধ থাকার কারণে চুক্তিগত জরিমানা বা বিজ্ঞাপনের ব্যয়ও বিফলে যেতে পারে। এ ধরনের ঘটনায় বৃহত্তর খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো সতর্ক নজর রাখে, কারণ দীর্ঘস্থায়ী বিভ্রাট ভোক্তার আচরণ ও ওই প্রান্তিকের বিপণন পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
জাপানে সাম্প্রতিক সাইবার ঘটনার ধারাবাহিকতা
সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে আসাহি গ্রুপে হামলার পরই আসকুলে এ বিভ্রাট ঘটল। বিয়ার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, পরে একটি অপরাধী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে চিহ্নিত সাইবার ঘটনায় উৎপাদন লাইন ব্যাহত হয় এবং পণ্য বাজারে ছাড়তে দেরি হয়। সিস্টেম পুনরুদ্ধারের সময় আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশও পিছিয়ে দেওয়া হয়। পৃথক আরেক ঘটনায়, বড় একটি পার্সেল পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছিল, গ্রাহকদের কিছু অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত লগইন হয়েছিল; চুরি হওয়া লগইন তথ্যের সূত্র ধরে এ ঘটনা ঘটে। তবে মূল ব্যবসায়িক সিস্টেম আক্রান্ত হয়নি। ২০২৪ সালে বড় একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিকর র্যানসমওয়্যার হামলার শিকার হয়, যার তথ্য পরে জনসমক্ষে প্রকাশ পায়।
এসব ঘটনা দেখায়, হামলাকারীরা এখন লক্ষ্যবস্তু বদলাচ্ছে। ভোগ্যপণ্য, লজিস্টিকস প্ল্যাটফর্ম ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে মূল্যবান তথ্য থাকে এবং তাদের কার্যক্রম সময়নির্ভর। অপরাধী গোষ্ঠীগুলো তথ্য ও জরুরির এই সমন্বয়কেই লক্ষ্য করে। পুনরুদ্ধারে ধৈর্য ও পদ্ধতিগত কাজ প্রয়োজন, যা আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করে। এ কারণেই প্রতিষ্ঠানগুলো হামলা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা পরীক্ষা করে, ব্যাকআপ থেকে সিস্টেম ফেরানোর অনুশীলন করে এবং বিভ্রাটের সময় সীমিত কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার উপায় তৈরি রাখে।
এক বিক্রেতার বিভ্রাটে কেন অনেক খুচরা বিক্রেতা আক্রান্ত
অনেক খুচরা বিক্রেতা অর্ডার ব্যবস্থাপনা, অর্থ পরিশোধ ও পণ্য সরবরাহের কাজ বিশেষজ্ঞ সেবাদাতাদের কাছে দেয়। এতে খরচ কমে, পণ্য দ্রুত পৌঁছায় এবং দেশজুড়ে অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ মেলে। তবে এর বিনিময়ে একটি ঝুঁকি তৈরি হয়: নির্ভরতা একটি কেন্দ্রে জমা হওয়া। কেন্দ্রীয় কোনো সংযোগস্থল অচল হলে একসঙ্গে অনেক ব্র্যান্ডের কাজ থেমে যায়। অর্ডার গ্রহণ, গুদামের কার্যক্রম এবং পণ্য পৌঁছে দেওয়ার শেষ ধাপের পরিবহনকারীদের সঙ্গে সংযোগ—সবই আসকুলের কাজের পরিধিতে পড়ে। এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে প্ল্যাটফর্মের প্রতিটি খুচরা বিক্রেতার পণ্য বাছাই থেকে লেবেল ছাপানো পর্যন্ত সব ধাপ থেমে যায়।
খুচরা বিক্রেতারা যে পদক্ষেপ নিতে পারেন
গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য একাধিক পণ্য সরবরাহকারী অংশীদার ব্যবহার, অর্ডার গ্রহণের পেজকে গুদাম সিস্টেম থেকে আলাদা রাখা এবং জরুরি অর্ডারের জন্য সীমিত অফলাইন প্রক্রিয়া বজায় রাখার মাধ্যমে খুচরা বিক্রেতারা ঝুঁকি কমাতে পারেন। নিয়মিত সরবরাহকারী-ঝুঁকি পর্যালোচনায় অংশীদারেরা কীভাবে তথ্য সংরক্ষণ করে, অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক আলাদা রাখে এবং হামলাকারীরা প্রায়ই অপব্যবহার করে এমন দূরবর্তী প্রবেশের সরঞ্জাম সুরক্ষিত রাখে, তা যাচাই করা উচিত। খুচরা বিক্রেতা ও লজিস্টিকস সরবরাহকারীদের যৌথ ঘটনা মোকাবিলার মহড়া করলে প্ল্যাটফর্ম অচল হলে কে কী করবে, তা দলগুলো অনুশীলন করতে পারে। অফলাইনে সংরক্ষিত ও নিয়মিত পরীক্ষা করা ব্যাকআপ থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিকর সফটওয়্যার আবার চালু না করেই সিস্টেম পুনরুদ্ধারের নির্ভরযোগ্য অবস্থায় ফিরতে পারে।
র্যানসমওয়্যার কীভাবে লজিস্টিকস ও অর্ডার সিস্টেমে বিঘ্ন ঘটায়
সাধারণত চুরি হওয়া লগইন তথ্য, দুর্বল সফটওয়্যার বা ফিশিংয়ের মাধ্যমে অনুপ্রবেশের পর র্যানসমওয়্যার ফাইল ও সার্ভার এনক্রিপ্ট করে। হামলাকারীরা প্রশাসকের প্রবেশাধিকার পাওয়ার চেষ্টা করে, নেটওয়ার্কের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাকআপে হস্তক্ষেপ করে। লজিস্টিকস পরিবেশে ঝুঁকিতে থাকা সিস্টেমগুলোর মধ্যে রয়েছে অর্ডার ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম, গুদাম ব্যবস্থাপনা সিস্টেম, লেবেল ছাপানো ও রুট নির্ধারণের সেবা এবং পরিবহনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের সমন্বয় টুল। এসব সেবা অচল হলে প্রতিষ্ঠান অর্ডার নিতে বা পণ্য পাঠাতে পারে না। কল সেন্টারের সফটওয়্যারের মতো আপাতদৃষ্টিতে সম্পর্কহীন ক্ষেত্রও আক্রান্ত হতে পারে, যদি তা একই পরিচয় যাচাই ও নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত থাকে।
পুনরুদ্ধারে কত সময় লাগে এবং কেন
পুনরুদ্ধারের কাজ শুধু ব্যাকআপ ফিরিয়ে আনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দলগুলোকে ম্যালওয়্যার সরাতে, সার্ভার নতুন করে তৈরি বা পুনরায় ইমেজ করতে, লগইন তথ্য বদলাতে এবং তথ্য অক্ষত আছে কি না যাচাই করতে হয়। এরপর সবচেয়ে জরুরি সেবাগুলো দিয়ে শুরু করে ধাপে ধাপে সিস্টেম চালু করা হয়। কার্যক্রম নিরাপদ কি না নিশ্চিত করতে প্রতিটি ধাপ পরীক্ষা করা হয়। সরবরাহকারী ও অংশীদারদের আবার সংযোগ স্থাপন করে তথ্যপ্রবাহ যাচাই করতে হয়। তদন্তের শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠানগুলো কেন প্রায়ই সেবা ফেরার নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারে না, এ সতর্ক প্রক্রিয়াই তা ব্যাখ্যা করে।
এখনই ভোক্তারা যা করতে পারেন
বিভ্রাটের কাছাকাছি সময়ে অর্ডার দেওয়া ভোক্তাদের বাতিল ও অর্থ ফেরত বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ইমেইলের দিকে নজর রাখা উচিত। অর্ডার নম্বর ও অর্থ পরিশোধের নিশ্চয়তাপত্র সংরক্ষণ করুন। অর্ডারটি জরুরি হলে অনলাইন সেবা ফিরে আসা পর্যন্ত সরাসরি দোকানে যাওয়া বা বিকল্প খুচরা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনার কথা বিবেচনা করুন। ব্যাংক ও কার্ডের বিবরণীতে অস্বাভাবিক লেনদেন আছে কি না দেখুন। পাসওয়ার্ড, কোড বা অর্থ পরিশোধের তথ্য চাওয়া অপ্রত্যাশিত বার্তার বিষয়ে সতর্ক থাকুন এবং অর্ডারের অবস্থা জানতে কেবল আনুষ্ঠানিক সাইট ও অ্যাপ ব্যবহার করুন।
একাধিক সেবায় একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা গ্রাহকদের তা বদলানো উচিত; সবচেয়ে সংবেদনশীল অ্যাকাউন্টগুলো দিয়ে শুরু করুন। তথ্য প্রকাশের কোনো ঘটনা ঘটলে আসকুল বা খুচরা বিক্রেতারা পাসওয়ার্ড পুনর্নির্ধারণের নির্দেশনা বা ক্রেডিট পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা জানালে সেগুলো অনুসরণ করুন। সেবা ফেরার পর অ্যাপের অনুমতিগুলো যাচাই করা এবং সর্বশেষ সংস্করণ ইনস্টল আছে কি না নিশ্চিত করাও সহায়ক। ধাপে ধাপে সেবা ফেরার সময় ধৈর্য ধরতে হবে, কারণ সাধারণত বিভিন্ন সুবিধা পর্যায়ক্রমে চালু হয়।
সংক্ষেপে
- ১৯ অক্টোবর র্যানসমওয়্যার-সম্পর্কিত সিস্টেম ত্রুটির কথা জানিয়ে অনলাইন অর্ডার নেওয়া ও পণ্য পাঠানো স্থগিত করে আসকুল।
- আসকুলের প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত অনলাইন বিক্রি বা পণ্য পাঠানো বন্ধ রেখেছে মুজি, লফট এবং সোগো ও সেইবু; সরাসরি দোকানগুলো চালু রয়েছে।
- আসকুলের অফিস সরঞ্জামের ওয়েব স্টোর, ভোক্তাদের জন্য লোহাকো এবং করপোরেট গ্রাহকদের জন্য সোলোয়েল অ্যারেনা—সবই আক্রান্ত হয়েছে।
- ব্যক্তিগত বা গ্রাহকের তথ্য কেউ দেখতে পেরেছে কি না, তা তদন্ত করছে আসকুল। পুরো সেবা ফেরার কোনো সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি।
- কোনো অপরাধী গোষ্ঠী প্রকাশ্যে হামলার দায় স্বীকার করেনি।
- বিভ্রাটের পর প্রথম লেনদেনের দিনে আসকুলের শেয়ার সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ এবং রিওহিন কেইকাকুর শেয়ার সর্বোচ্চ ৬.৬ শতাংশ কমেছে।
- অক্টোবরের শেষ দিকে প্রকাশের কথা থাকা মাসিক আয়ের তথ্য প্রকাশ পিছিয়ে দিতে পারে বলে জানিয়েছে আসকুল।
- সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে আসাহি গ্রুপে সাইবার হামলা এবং জাপানের লজিস্টিকস ও গণমাধ্যম খাতে সাম্প্রতিক অন্যান্য নিরাপত্তা ঘটনার পর এ ঘটনা ঘটল।






