বিদেশি বাবা-মায়ের ঘরে জন্মে রেকর্ড বৃদ্ধি
২০২৪ সালে জাপানে এমন এক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে, যা নীরবে ঘটে চলা জনমিতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। বিদেশি নাগরিক বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা ২২,৮৭৮-এ পৌঁছে ২০ হাজারের সীমা অতিক্রম করেছে। গত বছর দেশটিতে জন্ম নেওয়া মোট শিশুর প্রায় ৩.২ শতাংশ ছিল তারা। এ ধরনের জন্মের সংখ্যা ও অনুপাত—দুটিই ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। এই বৃদ্ধি তরুণ বিদেশি বাসিন্দাদের আগমন বৃদ্ধি এবং বিদেশি শ্রমিকেরা শিকড় গেড়েছেন এমন সম্প্রদায়গুলোতে পরিবার গঠনের ধরনে ধীরে ধীরে পরিবর্তনের প্রতিফলন। ১২ কোটির বেশি মানুষের দেশে মোট সংখ্যাটি এখনো তুলনামূলকভাবে কম হলেও প্রবণতাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জাপানি বাবা-মায়ের ঘরে জন্মের সংখ্যা কমতে থাকার সময় এটি নতুন পরিবার যুক্ত করছে।
সূচিপত্র
এর বৃহত্তর প্রেক্ষাপট হলো জাপানি নাগরিকদের মধ্যে জন্মহার আরও কমে যাওয়া। ২০২৪ সালে জাপানি বাবা-মায়ের ঘরে জন্মের সংখ্যা কমে প্রায় ৬ লাখ ৮৬ হাজারে দাঁড়ায়, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪১ হাজার কম। সরকারি হিসাবে ১৮৯৯ সালের পর এই প্রথম সংখ্যাটি ৭ লাখের নিচে থাকল। মোট প্রজনন হারও কমে রেকর্ড সর্বনিম্ন ১.১৫-তে দাঁড়িয়েছে, যা টানা নয় বছরের পতনের ধারাবাহিকতা। জাপানের সরকারি জন্ম ও প্রজনন হারের পরিসংখ্যানে জাপানে জন্ম নেওয়া বিদেশি নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। এ কারণেই ৭ লাখের কম জন্মের শিরোনামটি বিদেশি বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুদের হিসাবের বাইরে রাখে। জাপানি বাবা-মায়ের সরকারি সংখ্যার সঙ্গে বিদেশি বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া নবজাতকদের যোগ করলে জাপানে জন্ম নেওয়া মোট শিশুর সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ৯ হাজার হবে। মৃত্যুর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৬ লাখ। ফলে স্বাভাবিক জনসংখ্যা হ্রাস—অর্থাৎ মৃত্যু থেকে জন্ম বাদ দিলে—প্রায় ৯ লাখ ১৯ হাজারে পৌঁছায়। বিদেশি বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া নতুন প্রজন্ম এই হিসাব উল্টে দিতে পারবে না, তবে প্রান্তিকভাবে পতনের গতি ধীর করতে এবং নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায়ে নতুন প্রাণ সঞ্চার করতে সাহায্য করছে।
জাতীয় মোট সংখ্যা ও স্থানীয় অভিজ্ঞতার মধ্যে ব্যবধানটি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। টোকিওর কিছু অংশে এবং সারা দেশের শিল্পাঞ্চলীয় শহরগুলোতে বিদেশি পরিবারে জন্ম নেওয়া শিশুর অনুপাত জাতীয় গড়ের চেয়ে অনেক বেশি। স্থানীয় স্কুল, ক্লিনিক ও সিটি হল ইতিমধ্যেই সেই অনুযায়ী নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছে। এসব পরিবর্তন এবং বিদেশি পরিবারগুলো থাকতে ও সমৃদ্ধ হতে পারবে কি না, তার ওপর জনমিতির এই নতুন ধারার প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে।
সংখ্যা বাড়ছে কেন
এর পেছনে কয়েকটি শক্তি একসঙ্গে কাজ করছে। জাপানে দ্রুত বার্ধক্য, দীর্ঘস্থায়ী শ্রমিকের ঘাটতি এবং বহু বছর ধরে চলা কঠোর পারিবারিক বাজেটের কারণে আরও বেশি বিদেশি শ্রমিক ও শিক্ষার্থী দেশটিতে আসছেন। অভিবাসন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বৈধ বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৪০ লাখ হয়েছে; তাঁদের বড় একটি অংশের বয়স ২০ ও ৩০-এর কোঠায়। তাঁদের অনেকে স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন, সরবরাহব্যবস্থা, আতিথেয়তা ও নির্মাণ খাতে কাজ করেন। নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের কর্মসূচি এবং উচ্চদক্ষ পেশাজীবীদের জন্য বিভিন্ন পথসহ একাধিক ভিসার সুযোগ সম্প্রসারিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সমালোচিত টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেনিং প্রোগ্রামের পরিবর্তে সরকার নতুন কাঠামো চালু করছে, যাতে উন্নত প্রশিক্ষণ ও বেশি কর্ম-সুযোগ রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী শ্রমিকের ঘাটতি রয়েছে এমন খাতের কর্মীদের থাকার মেয়াদও বাড়ানো হচ্ছে। এসব পদক্ষেপের ফলে বিদেশি বাসিন্দাদের দীর্ঘদিন বসবাস এবং পরিবার গড়ার সম্ভাবনা বেড়েছে।
একই সময়ে, জাপানে কম প্রজনন হারের পেছনের কাঠামোগত কারণগুলো রয়ে গেছে। জাপানে বিয়ের সঙ্গে সন্তান জন্মদানের সম্পর্ক এখনো ঘনিষ্ঠ, আর কয়েক দশক ধরে বিয়ের সংখ্যা কমছে। ২০২৪ সালে সংখ্যাটি সামান্য বেড়ে প্রায় ৪ লাখ ৮৫ হাজারে দাঁড়ালেও এই পুনরুদ্ধার ছিল সীমিত। আবাসন ব্যয়, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, সীমিত পারিবারিক বাজেট এবং শিশুযত্ন নিয়ে উদ্বেগ—সবই অল্প বয়সে বিয়ে ও বড় পরিবার গড়তে নিরুৎসাহিত করে। লিঙ্গভিত্তিক রীতিনীতি এখনো মায়েদের ওপর অতিরিক্ত প্রত্যাশার বোঝা চাপায়, আর কাজ থেকে বিরতি নেওয়া নারীদের কর্মজীবনে ক্ষতির মুখে পড়া সাধারণ ঘটনা। এসব চাপের কারণে অনেক সম্ভাব্য বাবা-মা একাধিক সন্তান, এমনকি কোনো সন্তান নেওয়ার বিষয়েও দ্বিধায় থাকেন।
জন্মের হিসাব কীভাবে করা হয় এবং কারা অন্তর্ভুক্ত
জাপানের বহুল আলোচিত জন্ম ও প্রজনন হারের পরিসংখ্যান স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রকাশ করে। এতে জাপানে জন্ম নেওয়া বিদেশি নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। এ কারণেই ২০২৪ সালে প্রায় ৬ লাখ ৮৬ হাজার জন্মের সরকারি হিসাব রেকর্ড সর্বনিম্ন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং তা হতাশাজনক চিত্র তুলে ধরে, যদিও এর বাইরে বিদেশি বাবা-মায়ের ঘরে ২২ হাজারের বেশি শিশুর জন্ম হয়েছে। প্রজনন হার বলতে একজন নারী তাঁর জীবদ্দশায় গড়ে কত সন্তানের জন্ম দেবেন বলে প্রত্যাশা করা হয়, তা বোঝায়। এটিও জাপানি নাগরিকদের জনসংখ্যার ভিত্তিতে হিসাব করা হয় এবং এতে বিদেশি নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। সরকারি প্রকাশনায় এ ধরনের হিসাব প্রচলিত হলেও অন্য কোথাও ভিন্ন মোট সংখ্যা দেখলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
শ্রেণিবিভাগের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি। পরিসংখ্যানে কোনো শিশুকে বিদেশি নাগরিক হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়, যখন বাবা-মা দুজনই বিদেশি নাগরিক, অথবা মা অবিবাহিত বিদেশি নাগরিক। একজন জাপানি ও একজন বিদেশি বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুকে জাপানি জন্ম হিসেবে গণনা করা হয়। অর্থাৎ অন্তত একজন বিদেশি বাবা বা মা আছেন—এমন শিশুর প্রকৃত সংখ্যা বিদেশি নাগরিক হিসেবে জন্মের পরিসংখ্যান থেকে যা বোঝা যায়, তার চেয়ে বেশি।
বিদেশি নবজাতকেরা যেখানে বেশি
জাপানজুড়ে বিদেশি বাবা-মায়েরা সমানভাবে ছড়িয়ে নেই। একাডেমিক গবেষণায় দেখা গেছে, অভিবাসী মায়েদের জীবিত সন্তান জন্মদানের সংখ্যা তিন দশক ধরে বেড়েছে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে এর বণ্টন আরও অসম হয়েছে। প্রিফেকচারভিত্তিক তথ্য নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভৌগোলিক বৈষম্য বেড়েছে; অভিবাসী মায়েদের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশু ক্রমেই নির্দিষ্ট কিছু প্রিফেকচার ও শহরে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। গত এক দশকে এই কেন্দ্রীভবন দ্রুত হয়েছে, যা চাকরির ভৌগোলিক অবস্থান, ভাষাভিত্তিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক এবং সম্প্রদায়ের বন্ধনের সঙ্গে মিলে যায়।
মাঠপর্যায়ের চিত্রও এই প্রবণতার প্রতিফলন। টোকিওর কেন্দ্রস্থলের ২৩টি ওয়ার্ডের কিছু এলাকায় স্থানীয় নবজাতকদের মধ্যে বিদেশি পরিবারে জন্ম নেওয়া শিশুর অনুপাত এখন দুই অঙ্কে পৌঁছেছে। ওটা ওয়ার্ডে এই হার ১০ শতাংশের বেশি। রাজধানীর ঠিক উত্তরে সাইতামা প্রিফেকচারের ওয়ারাবি শহর জানিয়েছে, তাদের নবজাতকদের ২১.৮ শতাংশের বাবা-মা বিদেশি। চিবা ও আইচি প্রিফেকচারের কয়েকটি শহরেও উল্লেখযোগ্য অনুপাত দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিটি শহরে মোট সংখ্যা এখনো তুলনামূলকভাবে কম, বছরে কয়েক শ শিশুর মতো। তবু স্কুল ও ক্লিনিকের পরিষেবা পরিকল্পনায় এই অনুপাত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি হিসাবে মিশ্র জাপানি ও বিদেশি পরিচয়ের বাবা-মায়ের সন্তানদের জাপানি হিসেবে গণনা করায় শিরোনামে উল্লেখিত অনুপাত আন্তর্জাতিকীকরণের প্রকৃত মাত্রাকে কম করে দেখায়।
স্থানীয় সরকারগুলো পদক্ষেপ নিচ্ছে। আইচি প্রিফেকচারের নিশিওতে কয়েক ডজন দেশের বিদেশি বাসিন্দারা এখন জন্মের একটি বড় অংশের সঙ্গে যুক্ত। পরিবারগুলোকে শিশু দিবাযত্ন ও স্বাস্থ্যসেবা নিতে সহায়তা করার জন্য শহরটি পর্তুগিজ ও ভিয়েতনামি ভাষার দোভাষী নিয়োগ করেছে। চিবা প্রিফেকচারের নারিতায় কর্তৃপক্ষ স্থানীয় পরিষেবা ও রীতিনীতি সম্পর্কে বহুভাষিক নির্দেশিকা বিতরণ করে। শহরটি জানিয়েছে, ২০২০ সালের পর বিদেশি পরিবারে জন্মের সংখ্যা তীব্রভাবে বেড়েছে। নতুন বাবা-মায়েদের বিচ্ছিন্নতা কমানো এবং পরিবার ও সরকারি পরিষেবার মধ্যে যোগাযোগ উন্নত করাই এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য।
কোন সম্প্রদায়গুলো বাড়ছে
বিদেশি বাবা-মায়েদের গঠন বৃহত্তর অভিবাসন প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। ২০২৪ সালে চীনা মায়েদের ঘরে প্রায় ৪,২০০ শিশুর জন্ম হয়েছে। এরপর ফিলিপাইনের মায়েদের ঘরে প্রায় ১,৮০০ এবং ব্রাজিলের মায়েদের ঘরে প্রায় ১,৩৫০ শিশুর জন্ম হয়েছে। একটি বড় অংশকে ‘অন্যান্য জাতীয়তা’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে, যার মধ্যে নেপাল ও ভিয়েতনামের মতো দেশ রয়েছে। এসব সংযোগ প্রায়ই কাজের সুযোগ ও আগে থেকে গড়ে ওঠা সম্প্রদায়ের প্রতিফলন। পরিচর্যাকেন্দ্র ও কারখানাগুলোতে অনেক ভিয়েতনামি ও নেপালি কর্মী কাজ করেন। আইচি, শিজুওকা ও গুনমার কিছু এলাকায় ব্রাজিলীয় পরিবার সুপ্রতিষ্ঠিত। মহানগর এলাকাগুলোতে এবং কয়েকটি আঞ্চলিক কেন্দ্রে নানা উৎসদেশ ও ভাষাভাষী মানুষের উপস্থিতি বাড়ছে।
স্কুল, ক্লিনিক ও সিটি হলের জন্য এর অর্থ
বিদেশি পরিবারে জন্মের সংখ্যা বাড়ায় বাস্তব কিছু চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিদেশি বাসিন্দাদের ঘনত্ব বেশি এমন এলাকার প্রসূতি ও শিশুরোগ বিভাগে দোভাষী, সাংস্কৃতিক মধ্যস্থতাকারী এবং গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সেবার ভিন্ন রীতিনীতি সম্পর্কে প্রশিক্ষিত কর্মী প্রয়োজন। জন্মনিবন্ধন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও শিশুভাতার আবেদন যেন একাধিক ভাষায় করা যায়, তা পৌর কার্যালয়গুলোর নিশ্চিত করতে হবে। টিকাদানের সময়সূচি থেকে জরুরি সতর্কবার্তা পর্যন্ত জনস্বাস্থ্যবিষয়ক বার্তা এমন বাবা-মায়েদের কাছেও পৌঁছাতে হবে, যাঁরা এখনো সাবলীলভাবে জাপানি পড়তে পারেন না। এসব সহায়তা থাকলে পরিবারগুলো সহজে সমাজের সঙ্গে একীভূত হতে পারে এবং শিশুরা কিন্ডারগার্টেন ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরুর জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হয়।
এই প্রবণতা পর্যবেক্ষণকারী গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, নির্দিষ্ট কিছু প্রিফেকচার ও শহরে জনসংখ্যার কেন্দ্রীভবন আরও বাড়তে পারে। এই বাস্তবতার জন্য পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে অনুবাদে বাজেট বরাদ্দ, বিদেশি যোগ্য নার্স ও ধাত্রীদের কাজের সুযোগ তৈরির স্পষ্ট পথ এবং বেসরকারি ক্লিনিকগুলোকে মানিয়ে নিতে সহায়তা করা। আঞ্চলিক সমন্বয়ও কাজে আসে। একই শ্রমবাজারের সিটি হলগুলো ভাষাসেবা ও অভিভাবক শিক্ষার জন্য সম্পদ ভাগাভাগি করতে পারে।
নীতিবিশেষজ্ঞদের মতে, সহায়তা সন্তান জন্মদানের পরও অব্যাহত থাকতে হবে। বাবা-মা ও ছোট শিশুদের ভাষা শিক্ষা, স্কুল-পরবর্তী কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ এবং কাজের ক্ষেত্রে ন্যায্য সুযোগ—সবকিছুই পরিবারগুলো স্থায়ীভাবে শিকড় গাড়বে কি না, তা প্রভাবিত করে। তাঁদের সতর্কবার্তা, তাৎক্ষণিক ও বিচ্ছিন্ন সহায়তায় প্রায়ই ঘাটতি থেকে যায়। প্রিফেকচারজুড়ে ধারাবাহিকতা থাকলে বিচ্ছিন্ন ও অসম ফল এড়ানো সহজ হয়।
এমন একটি মতের প্রবক্তা হলেন তোশিহিরো মেনজু। তিনি কানসাই ইউনিভার্সিটি অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ভিজিটিং প্রফেসর এবং কয়েক দশক ধরে একীভূতকরণ নীতি ও অভিবাসন নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি স্থানীয় ও জাতীয় কর্তৃপক্ষকে বিদেশি বাসিন্দাদের শিক্ষা, ভাষা এবং ন্যায্য মজুরিকে জনমিতিক কৌশলের মূল অংশ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন, পার্শ্ববর্তী বিষয় হিসেবে নয়।
ভাষা, শিক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগসহ বিদেশি পরিবারগুলোর জন্য ধারাবাহিক সহায়তা না থাকলে জাপানে এমন এক বিভক্ত সমাজ গড়ে ওঠার ঝুঁকি রয়েছে, যেখানে অনেক নতুন মানুষ উপস্থিত থাকবেন, কিন্তু প্রান্তিক অবস্থানে থেকে যাবেন
রাজনীতি ও জনমত
বিদেশি বাসিন্দাদের সংখ্যা এবং বিদেশি পরিবারে জন্মের হার বাড়ায় অভিবাসন রাজনৈতিক আলোচ্যসূচিতে আরও গুরুত্ব পেয়েছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রচারে বিদেশি শ্রমিকদের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের আহ্বানের পাশাপাশি সব পরিবারের জন্য আবাসন ও শিশুযত্ন বাড়ানোর প্রস্তাবও এসেছে। কিছু এলাকায় জনতুষ্টিবাদী গোষ্ঠীগুলো সামাজিক চাপের আশঙ্কা তুলে ধরে সমর্থন পেয়েছে। অন্যরা বলছেন, আরও নতুন মানুষ না এলে জাপানের শ্রমবাজার ও পেনশন ব্যবস্থা টিকে থাকতে পারবে না। জনসাধারণের উদ্বেগের মধ্যে পর্যটকে ভিড়াক্রান্ত এলাকা ও নগর অবকাঠামোর ওপর চাপও রয়েছে, যেসব বিষয়কে রাজনীতিকেরা প্রায়ই অভিবাসন ও সম্প্রদায়ের জীবন নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত করেন।
বিচার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৪০ সালের মধ্যে বিদেশি বাসিন্দাদের অনুপাত ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। সাম্প্রতিক অতীত পর্যন্ত বিদেশ থেকে তুলনামূলকভাবে কম মানুষ আসত—এমন একটি দেশের জন্য এটি বড় পরিবর্তন হবে। স্থায়ীভাবে বসবাসের হার বাড়লে ভাষাসেবায় প্রবেশাধিকার, বৈষম্যবিরোধী ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি আবাসনের সুযোগ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, যাতে পরিবারগুলো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে পারে।
জাতীয় নেতারা জনমিতিক চ্যালেঞ্জকে গুরুতর হিসেবে তুলে ধরছেন। প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা পরিস্থিতিকে নীরব জরুরি অবস্থা বলে বর্ণনা করেছেন। একই সময়ে ছুটি নেওয়া দম্পতিদের জন্য শিশু ভাতা বাড়ানো, উচ্চবিদ্যালয় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং অভিভাবকত্বকালীন ছুটিতে আয় সহায়তা জোরদার করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
আমরা এক নীরব জরুরি অবস্থার মুখোমুখি, আর শিশুযত্নের খরচ থেকে শুরু করে স্থিতিশীল কাজ ও ঘরে সময় কাটানোর সুযোগ পর্যন্ত—সবকিছু নিশ্চিত করে মানুষ যেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সন্তান লালন-পালন করতে পারে, তা আমাদের সম্ভব করতে হবে
বিদেশি পরিবার কি এই প্রবণতা বদলাতে পারে
হিসাবের অঙ্কে সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা—দুটিই দেখা যায়। ২০২৪ সালে বিদেশি বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া ২২,৮৭৮ শিশু জাপানি বাবা-মায়ের ঘরে জন্মের এক বছরের পতনের অর্ধেকেরও বেশি পুষিয়ে দিয়েছে। স্থানীয় স্কুল ও ক্লিনিকের জন্য এই অবদান গুরুত্বপূর্ণ এবং যেসব সম্প্রদায় থেকে তরুণ বাসিন্দারা চলে গেছেন, সেগুলোর জন্য এটি একটি ভিত্তি তৈরি করে। তবে জাতীয় পর্যায়ে মৃত্যুর সংখ্যা এখনো জন্মের চেয়ে অনেক বেশি, আর ১.১৫ প্রজনন হার জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার অনেক নিচে। বিদেশি বাসিন্দাদের সংখ্যা বাড়তে থাকলেও এবং আরও পরিবার স্থায়ী হলেও, সব পটভূমির বাসিন্দাদের মধ্যে সন্তান জন্মদানের ব্যাপক পুনরুদ্ধার না হলে জনসংখ্যা কমতেই থাকবে।
শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত প্রক্ষেপণ করলে অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়। ২০৪০ সালের মধ্যে বিদেশি বাসিন্দাদের অনুপাত জনসংখ্যার ১০ শতাংশে পৌঁছালে বা তা ছাড়ালে, বিদেশি বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কর্মশক্তিতে তাদের প্রভাব নির্ভর করবে, তারা শক্তিশালী ভাষাদক্ষতা, মানসম্মত শিক্ষায় সমান সুযোগ এবং কারিগরি ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষায় যাওয়ার স্পষ্ট পথ নিয়ে বড় হয় কি না, তার ওপর। সাশ্রয়ী শিশুযত্ন, কম কর্মঘণ্টা এবং ন্যায্য মজুরিসহ পারিবারিক জীবনের বাধা কমানোর নীতি সব বাবা-মায়ের উপকার করবে এবং বিদেশি পরিবারগুলো থাকতে চাইবে কি না, তা প্রভাবিত করবে।
নাগরিকত্ব ও আবাসনসংক্রান্ত নিয়মও ফলাফলকে প্রভাবিত করে। জাপান সে দেশের ভূখণ্ডে জন্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেয় না। জাপানে অ-জাপানি বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিক হয় না, যদিও পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আবেদনকারীদের সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি বসবাস, আর্থিক স্থিতিশীলতা ও জাপানি ভাষায় দক্ষতা থাকতে হয় এবং অন্য নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে হয়। এসব নিয়মের পাশাপাশি স্কুল ও কর্মক্ষেত্রে ভাষাগত বাধা একীভূত হওয়ার গতি ধীর করতে পারে। পুরোনো প্রশিক্ষণ প্রকল্পের বদলে স্থিতিশীল আবাসনের পথ তৈরি এবং কর্মীদের সুরক্ষার মান এক করার সরকারি উদ্যোগ অনিশ্চয়তা কমিয়ে পরিবার গঠনে সহায়তা করতে পারে।
কম প্রজনন হারের নতুন যুগের মুখোমুখি জাপান একা নয়। যুক্তরাষ্ট্রে এখন প্রজনন হার প্রায় ১.৬। চিলিতে তা কমে নারীপ্রতি প্রায় এক সন্তানে দাঁড়িয়েছে। অনেক অর্থনীতিই দেরিতে বিয়ে, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং কাজ ও পরিবার সম্পর্কে বদলে যাওয়া প্রত্যাশার সঙ্গে লড়ছে। পরিবর্তনের গতি এবং ইতিমধ্যে বিদ্যমান বয়সকাঠামোর কারণে জাপান আলাদা। প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০৭০ সালের মধ্যে দেশটির জনসংখ্যা কমে প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখ হতে পারে, যার প্রায় ৪০ শতাংশের বয়স হবে ৬৫ বছর বা তার বেশি। এই প্রেক্ষাপটে তরুণ পরিবারভিত্তিক জনসংখ্যায় প্রতিটি সংযোজন গুরুত্বপূর্ণ, আর বিদেশি বাবা-মায়ের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি সবচেয়ে স্পষ্ট আশাব্যঞ্জক দিকগুলোর একটি।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৪ সালে বিদেশি নাগরিক বাবা-মায়ের ঘরে ২২,৮৭৮ শিশুর জন্ম হয়েছে, যা জাপানের মোট নবজাতকের প্রায় ৩.২ শতাংশ
- ২০২৪ সালে জাপানি বাবা-মায়ের ঘরে জন্মের সংখ্যা কমে প্রায় ৬ লাখ ৮৬ হাজারে দাঁড়িয়েছে এবং প্রজনন হার নেমেছে ১.১৫-তে
- সরকারি জন্ম ও প্রজনন হারের পরিসংখ্যানে জাপানে জন্ম নেওয়া বিদেশি নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয় না
- ২০২৪ সালে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৬ লাখ, ফলে স্বাভাবিক জনসংখ্যা হ্রাস হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ১৯ হাজার
- বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৪০ লাখ হয়েছে; তাঁদের অনেকে ২০ ও ৩০-এর কোঠায়
- বিদেশি পরিবারে জন্ম নেওয়া শিশুরা টোকিওর কিছু এলাকা ও ওয়ারাবির মতো শহরসহ নির্দিষ্ট কিছু স্থানে কেন্দ্রীভূত
- মায়েদের মধ্যে চীন, ফিলিপাইন ও ব্রাজিলের নাগরিকেরা উল্লেখযোগ্য; ভিয়েতনাম ও নেপালের সম্প্রদায়ও বাড়ছে
- স্থানীয় সরকারগুলো ভাষা ও শিশুযত্নে সহায়তা বাড়াচ্ছে, তবে পরিষেবার মান এখনো একরকম নয়
- বিচার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ২০৪০ সালের মধ্যে বিদেশি বাসিন্দারা জনসংখ্যার ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারেন
- বিদেশি পরিবারে জন্মের বৃদ্ধি জনসংখ্যা হ্রাসের গতি কমাতে সাহায্য করছে, তবে দেশজুড়ে জনসংখ্যা কমে যাওয়া থামাতে পারছে না






