নিহোনবাসিতে পর্যটকদের পথ দেখাচ্ছে অ্যাভাটার রোবট
টোকিওর নিহোনবাসি ব্যবসায়িক এলাকায় এখন একদল দর্শনার্থীকে দেখা যায়, তাঁদের একজনের কাঁধে বসানো ছোট্ট সাদা রোবট নিয়ে রাস্তায় ঘুরছেন তাঁরা। ডিভাইসটির নাম ওরিহিমে। ওরিল্যাবের তৈরি এই অ্যাভাটার রোবটটি সরাসরি ট্যুর গাইডের কাজ করে। ‘পাইলট’ নামে পরিচিত একজন মানব অপারেটর দূর থেকে রোবটটি নিয়ন্ত্রণ করেন। এর স্পিকারের মাধ্যমে কথা বলেন, ক্যামেরায় চারপাশ দেখেন এবং দলটি দোকান, মন্দির ও গলিপথ ঘুরে দেখার সময় সবার সঙ্গে কথোপকথনে অংশ নেন। এর লক্ষ্য একই সঙ্গে আকর্ষণীয় ও বাস্তবসম্মত। প্রতিবন্ধিতা, দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা বা পরিচর্যার দায়িত্বের কারণে যাঁরা সহজে বাড়ি থেকে বের হতে পারেন না, তাঁরাও গাইড হিসেবে কাজ করতে পারেন। পর্যটকেরা স্থানীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ইংরেজি বা জাপানি ভাষায় বর্ণনা শোনেন, এমন একজনের কাছ থেকে যিনি শহরটিকে চেনেন এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলতে চান। এই ব্যবস্থা টেলিপ্রেজেন্সকে এমন একটি কাঠামোবদ্ধ পেশায় রূপ দেয়, যা সামাজিক, সৃজনশীল এবং জনসম্মুখে সম্পাদিত।
সূচিপত্র
- নিহোনবাসিতে পর্যটকদের পথ দেখাচ্ছে অ্যাভাটার রোবট
- কাঁধে থাকা রোবট নিয়ে ভ্রমণ যেভাবে চলে
- ক্যাফের কাউন্টার থেকে শহরের রাস্তায়
- পাইলট কারা, তাঁরা কীভাবে কাজ করেন?
- নিহোনবাসির হাঁটা ট্যুরের পথ
- ওরিহিমের ভেতরের প্রযুক্তি
- অবয়বনির্ভর অ্যাভাটার কেন কথোপকথনে সাহায্য করে
- অংশীদারত্ব ও ব্যবসায়িক মডেল
- দর্শনার্থীদের প্রতিক্রিয়া
- কী কী চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে
- সামাজিক রোবটকে ক্রমবর্ধমানভাবে গ্রহণ করছে জাপান
- যা জানা দরকার
দলের একজনের পিঠে থাকা ব্যাকপ্যাকে লাগানো স্ট্যান্ডের ওপর রোবটটি বসানো থাকে। ওরিহিমে মাথার কাছাকাছি উচ্চতায় থাকায় পাইলট স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারেন, মোড়ের আশপাশের দৃশ্য দেখে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেন এবং প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন। অভিজ্ঞতাটি আগে থেকে রেকর্ড করা অডিও শোনার চেয়ে বরং এমন একজন সঞ্চালকের সঙ্গে দেখা হওয়ার মতো, যিনি ছোট্ট পাখিসদৃশ রোবটের অবয়বে উপস্থিত। জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে এবং আতিথেয়তার নতুন ধরন গড়ে তুলতে অ্যাভাটার রোবট ব্যবহারের যে উদ্যোগ বাড়ছে, এই পরীক্ষাটি তারই অংশ।
কাঁধে থাকা রোবট নিয়ে ভ্রমণ যেভাবে চলে
ওরিহিমের ওজন প্রায় চার কেজি। এর চোখ সবুজ আলোয় জ্বলে এবং কথা বলার সময় ডানার মতো বাহু নেড়ে ইশারা করে। রোবটটিতে ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ও স্পিকার রয়েছে, ফলে পাইলট সরাসরি দেখতে, শুনতে ও কথা বলতে পারেন। দলটি কোনো মন্দিরে থামলে ওরিহিমে প্রার্থনার ভঙ্গির মতো করে দুই বাহু জোড় করতে পারে। এর বাহ্যিক নকশা ইচ্ছাকৃতভাবেই সরল রাখা হয়েছে। এতে রোবটটির পেছনের ব্যক্তির কণ্ঠ ও গল্পের ওপর মনোযোগ থাকে, যা এই অভিজ্ঞতার মূল অংশ।
পাইলট বাড়ি বা পরিচর্যাকেন্দ্র থেকে যুক্ত হয়ে ভ্রমণকারীর কাঁধে থাকা ইউনিটের মাধ্যমে ট্যুর পরিচালনা করেন। ট্যুরের বর্ণনা, প্রশ্ন ও হালকা কথাবার্তা সামান্য বিলম্বে রোবটের মাইক্রোফোন ও স্পিকারের মাধ্যমে আদান-প্রদান হয়। ইংরেজি ও জাপানি ভাষার সুবিধা থাকায় দলে আন্তর্জাতিক পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দা—দুই পক্ষই থাকতে পারেন। কথোপকথন এমনভাবে এগোয়, যেন গাইডটি পাশাপাশি হাঁটছেন। কারণ রোবটটি ব্যবহারকারীর কান ও মুখের কাছাকাছি থাকে, আর আশপাশের রাস্তার শব্দও শহরের যেকোনো হাঁটার মতো অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে ওঠে।
ক্যাফের কাউন্টার থেকে শহরের রাস্তায়
নিহোনবাসির অ্যাভাটার রোবট ক্যাফে ডন-এর ভেতরে পরীক্ষিত একটি ধারণা থেকেই এই ট্যুরের সূচনা। ক্যাফেতে পাইলটরা গ্রাহকদের সেবা দেন, টেলি-বারিস্তা ব্যবস্থায় পানীয় তৈরি করেন এবং বাড়ি থেকে রোবট পরিচালনা করে টেবিলে অতিথিদের আপ্যায়ন করেন। ক্যাফের মডেলটি দেখিয়েছে, দূর থেকে কাজ করাও কর্মীদের জন্য উদ্দীপনাময় এবং অতিথিদের জন্য আনন্দদায়ক হতে পারে। এই মডেলকে হাঁটা ট্যুরে সম্প্রসারণ করায় সামাজিক যোগাযোগ কাউন্টার ছাড়িয়ে পাড়ার ভেতরে পৌঁছেছে। পথে রয়েছে ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ঐতিহাসিক স্থান ও সাংস্কৃতিক শিষ্টাচারের নানা দিক। ফলে পাইলট কথোপকথনের পাশাপাশি পথও ঠিক করে দিতে পারেন।
ওরিল্যাব তাদের আনুষ্ঠানিক তথ্যে এসব প্রকল্পের বৃহত্তর লক্ষ্য তুলে ধরেছে। বাড়ির বাইরে যেতে অক্ষম বা শয্যাশায়ী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ, কাজ ও যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ার উপকরণ হিসেবে কোম্পানিটি ক্যাফে ও অ্যাভাটার রোবটকে উপস্থাপন করে। নিজেদের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে কোম্পানিটি যে ভাষা ব্যবহার করে:
প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সামাজিক অংশগ্রহণের নতুন একটি ধরন গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।
পাইলট কারা, তাঁরা কীভাবে কাজ করেন?
ওরিহিমের পেছনের মানব অপারেটররাই পাইলট। তাঁদের অনেকের অ্যামিওট্রফিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিস, স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রফি, মাসকুলার ডিস্ট্রফি, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস বা চলাফেরায় গুরুতর প্রতিবন্ধকতার মতো শারীরিক অবস্থা রয়েছে। কেউ কেউ টোকিও থেকে অনেক দূরে থাকেন, আবার স্থানীয়দের মধ্যে এমন ব্যক্তিও আছেন যাঁদের পক্ষে যাতায়াত করা বা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব নয়। পাইলটরা মাউস, ট্যাবলেট বা দৃষ্টিনির্ভর ট্র্যাকিং ইন্টারফেস ব্যবহার করে ওরিহিমে নিয়ন্ত্রণ করেন। তাঁরা রোবটের মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারেন, প্রয়োজন হলে টেক্সট-টু-স্পিচও ব্যবহার করেন। রোবটের ক্যামেরা থেকে অপারেটর চারপাশের দৃশ্য দেখেন। দলটি বাইরে থাকলে সহায়তাকারী কর্মীরা ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা যাচাইয়ে সাহায্য করতে পারেন।
ডন ক্যাফেতে ইতিমধ্যেই কয়েক ডজন পাইলট কাজ করেন। তাঁরা বাড়ি বা হাসপাতাল থেকে লগ ইন করে বিভিন্ন দায়িত্বে শিফট করেন। হাঁটা ট্যুরে যুক্ত হয়েছে পারিশ্রমিকভিত্তিক নতুন ধরনের কাজ, যা চলমান এবং সংলাপনির্ভর। প্রশিক্ষণে থাকে ট্যুরের পথ, স্থানীয় ইতিহাস, আন্তঃসাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং দলের সদস্যদের নানা ধরনের প্রবেশগম্যতার চাহিদা সামলানোর কৌশল। এই মডেলের লক্ষ্য হলো প্রতিটি পাইলটের দক্ষতার সঙ্গে কাজের মিল রাখা, শিফটে নমনীয়তা নিশ্চিত করা এবং একই কর্মস্থলে শারীরিকভাবে উপস্থিত না থেকেও দলগত কাজের অনুভূতি তৈরি করা।
নিহোনবাসির হাঁটা ট্যুরের পথ
ওরিহিমে ট্যুর সাধারণত নিহোনবাসির ডন ক্যাফে থেকে শুরু হয়। এরপর পথটি এগোয় দীর্ঘদিনের পুরোনো দোকান, কারুশিল্পের পণ্য এবং প্রাচীন মন্দিরের জন্য পরিচিত রাস্তাগুলো ধরে। নিয়মিত ট্যুরে প্রায়ই বাদ পড়ে যায়—এমন জায়গার সঙ্গে পাইলট পরিচয় করিয়ে দেন, যেমন শতাব্দীপ্রাচীন বিশেষায়িত দোকান কিংবা ইতিহাসজড়িত নিরিবিলি কোনো কোণ। দলটি মন্দির প্রাঙ্গণে ঢুকলে হাত ধোয়া থেকে শুরু করে প্রধান উপাসনালয়ের দিকে এগোনো পর্যন্ত বিভিন্ন শিষ্টাচার ব্যাখ্যা করেন পাইলট। দলটি একটু থেমে ভাবনার মুহূর্ত কাটানোর সময় রোবটটির ছোট্ট বাহু জোড় করার ভঙ্গিতে মানবিক আবহ যোগ হয়।
অপারেটররা প্রায়ই ভ্রমণপথের বর্ণনায় নিজেদের ব্যক্তিগত গল্প জুড়ে দেন। নিহোনবাসির জন্য এই ধরনটি মানানসই, যেখানে ঐতিহ্য ও আধুনিক ব্যবসা পাশাপাশি রয়েছে। দর্শনার্থীরা পারিবারিক রেসিপি, ঋতুভিত্তিক আচার কিংবা পাড়ার কোনো দোকানের ইতিহাসের কথা শোনেন। অনেক অংশগ্রহণকারী অভিজ্ঞতাটিকে জাপানি বাক্যাংশ ‘ইচি গো ইচি এ’ দিয়ে বর্ণনা করেছেন, যার অর্থ জীবনে একবারই ঘটে এমন সাক্ষাৎ। এই ভাবনাটি হাঁটা ট্যুরের সঙ্গে ভালোভাবে মেলে। প্রতিটি ট্যুর নির্ভর করে পাইলটের দৃষ্টিভঙ্গি, দলের আগ্রহ এবং দিনের মেজাজের ওপর। তাই অন্য ট্যুরের সঙ্গে পথের মিল থাকলেও কথোপকথন ব্যক্তিগত মনে হয়।
ওরিহিমের ভেতরের প্রযুক্তি
ওরিহিমে মানুষের অনুকরণে তৈরি কোনো হিউম্যানয়েড নয়; এটি সামাজিক কথোপকথনের উপযোগী করে বানানো একটি টেলিপ্রেজেন্স ব্যবস্থা। রোবটটির ছোট্ট অবয়বে রয়েছে একটি মাথা, দুটি বাহু এবং অভিব্যক্তিপূর্ণ চোখ, যা পাইলট কথা বলার সময় উজ্জ্বল বা ম্লান হয়। প্রতিটি অংশের নির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে। ক্যামেরা পাইলটকে চারপাশ সম্পর্কে ধারণা দেয়, মাইক্রোফোন কাছের কণ্ঠস্বর ধরে এবং স্পিকার দলের কাছে পরিষ্কারভাবে কণ্ঠ পৌঁছে দেয়। ভেতরের ব্যাটারি হাঁটা ট্যুরের সময়সূচি সামলাতে পারে, আর ব্যাকপ্যাকে লাগানো স্ট্যান্ড ভিড়ের মধ্যেও রোবটটিকে স্থির রাখে। এই ব্যবস্থায় স্থায়িত্ব, ব্যবহারকারীর স্বাচ্ছন্দ্য এবং পাইলটের কাছে পরিষ্কার শব্দ পৌঁছানোর মধ্যে ভারসাম্য রাখা হয়েছে।
সংযোগব্যবস্থাই এর আড়ালের মূল ভিত্তি। অডিওর দ্রুত আদান-প্রদান এবং ক্যামেরার মসৃণ সম্প্রচারের জন্য স্থিতিশীল মোবাইল ডেটা প্রয়োজন। কেউ কোনো সাইনবোর্ডের দিকে ইশারা করলে বা পাশের রাস্তা নিয়ে প্রশ্ন করলে পাইলট যাতে দ্রুত উত্তর দিতে পারেন, সে জন্য প্রকৌশলীরা ডেটা সংকোচন ও বাফারিং ব্যবস্থা সমন্বয় করেন। গোপনীয়তার বিষয়েও সতর্ক ওরিল্যাব। রোবটটি যোগাযোগের মাধ্যম, নজরদারির যন্ত্র নয়। রেকর্ডিং, সম্মতি ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে অপারেটর ও সহায়তাকারী দল নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলে। ট্যুর শুরুর আগে ক্যামেরা কী ধারণ করে আর কী করে না, তা দলকে জানানো হয়।
অবয়বনির্ভর অ্যাভাটার কেন কথোপকথনে সাহায্য করে
সামাজিক রোবটের নকশাকারীরা প্রায়ই ইচ্ছাকৃতভাবে বিমূর্ত অবয়ব বেছে নেন। ওরিহিমে মানুষের মতো দেখতে হওয়ার চেষ্টা করে না। এতে রোবটটি নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তির কণ্ঠ, কথার ছন্দ ও আন্তরিকতার দিকে মনোযোগ থাকে। ট্যুরের সদস্যরা পাইলট কী বলছেন, তাঁর মন্তব্যের সুর কেমন এবং কথোপকথনে তিনি কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, সেদিকে সাড়া দেন। সরল মুখাবয়ব মানবসদৃশ মডেলের সঙ্গে যুক্ত পক্ষপাত এড়ায় এবং পাইলটদের মুখের অনুকরণের বদলে কণ্ঠ, রসবোধ ও জ্ঞানের মাধ্যমে নিজেদের প্রকাশের সুযোগ দেয়।
অংশীদারত্ব ও ব্যবসায়িক মডেল
এই ট্যুর কর্মসূচিটি ওরিল্যাব এবং নিহোনবাসির পথঘাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে কাজ করা স্থানীয় অংশীদারদের যৌথ উদ্যোগ। অ্যাভাটার রোবট ক্যাফে থেকে যাত্রা শুরু হওয়ায় সরঞ্জাম পরীক্ষা, দলের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং বের হওয়ার আগে প্রত্যাশা ঠিক করে নেওয়া সহজ হয়। পথে এমন কিছু বিরতির জায়গা রাখা হয়েছে, যেখানে ব্যবসায়ীরা ট্যুরের দলকে স্বাগত জানান। ইংরেজিভাষী সেবাও পাওয়া যায়। দর্শনার্থীদের আনাগমনে এলাকার ব্যবসা উপকৃত হয়, আর গল্প বলা ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদাননির্ভর কাজে পাইলট পারিশ্রমিক পান।
প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা আরও পরিণত হলে ধারণাটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছেন আয়োজকেরা। জাদুঘর, বিমানবন্দর ও দপ্তর কমপ্লেক্সে অ্যাভাটার পরিচালিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে। সেখানে যাঁরা যাতায়াত করতে বা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না, তাঁরাও অতিথিদের স্বাগত জানাতে, পথ দেখাতে ও সহায়তা করতে পারবেন। আরও জানতে বা সরাসরি যেতে আগ্রহীদের জন্য ক্যাফের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে প্রবেশগম্যতার সুবিধা ও কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। তথ্য পাওয়া যাবে অ্যাভাটার রোবট ক্যাফে ডন-এ।
দর্শনার্থীদের প্রতিক্রিয়া
প্রাথমিক অংশগ্রহণকারীরা হাঁটা ট্যুরকে বন্ধুত্বপূর্ণ, চমকপ্রদ এবং সহজে অনুসরণযোগ্য বলে বর্ণনা করেছেন। বিদেশি দর্শনার্থীরা মনে করেন, দ্বিভাষিক পাইলট বড় দলের ট্যুরের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই ইতিহাস তুলে ধরতে এবং ব্যবহারিক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন। কাঁধের কাছে থাকায় ব্যস্ত রাস্তাতেও রোবটের কণ্ঠ কাছে ও স্পষ্ট শোনা যায়। ফলে কথোপকথন সম্প্রচার শোনার বদলে স্থানীয় কারও সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার মতো লাগে। কেউ কেউ প্রবেশগম্যতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া ভ্রমণসূচিতে ক্যাফেটিকেও রেখেছেন, কারণ এটি দেখায় কীভাবে দূর থেকে কাজ মুখোমুখি আতিথেয়তায় রূপ নিতে পারে।
টোকিওর বাসিন্দারা সাধারণত সামাজিক রোবটকে সংশয়ের বদলে কৌতূহল নিয়ে স্বাগত জানান। দোকান, স্টেশন ও পরিচর্যাকেন্দ্রে সহায়ক রোবট দেখার অভিজ্ঞতা দেশটিতে বহু বছরের। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলা কোনো মিষ্টির দোকানের গল্প বলা এবং তার দিকে ইশারা করা বন্ধুত্বপূর্ণ অ্যাভাটারকে পরিচিত ধারার অংশ বলেই মনে হয়। বেশির ভাগ অতিথির কাছে প্রযুক্তি আড়ালে থাকে, আর মনোযোগের কেন্দ্রে উঠে আসেন রোবটটির পেছনের ব্যক্তি।
কী কী চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে
নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের বাইরে অভিজ্ঞতাটি নির্বিঘ্ন রাখতে খুঁটিনাটির দিকে নজর দেওয়া জরুরি। একেক ব্লকে মোবাইল নেটওয়ার্কের মান বদলাতে পারে, আর সামান্য সংযোগ বিচ্ছিন্নতাও পাইলটের দেখা বা কথা বলায় বাধা দিতে পারে। আয়োজকেরা সংকেতের মান বিবেচনায় রেখে পথ ঠিক করেন। সংযোগ দুর্বল হলে সহায়তাকারী কর্মীরা দলকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নিতে পাইলটকে সাহায্য করেন। আবহাওয়াও আরেকটি বিষয়। বৃষ্টি, গরম ও বাতাস দলের চলাফেরা এবং স্পিকারের শব্দ—দুটিই বদলে দেয়। ব্যবহারকারীর ওপর অতিরিক্ত ওজন বা অস্বস্তি না চাপিয়ে সরঞ্জামকে এসব পরিবর্তন সামলাতে হয়।
হার্ডওয়্যার ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ব্যাকপ্যাকের স্ট্যান্ডে রোবটের ওজন এমনভাবে ভারসাম্য করতে হয়, যাতে ট্যুরের পুরো সময় ব্যবহারকারী স্বচ্ছন্দে হাঁটতে পারেন। ব্যস্ত এলাকায় রাস্তার শব্দে কণ্ঠ চাপা পড়তে পারে, তাই অডিও প্রক্রিয়াকরণ এবং ভেবেচিন্তে পথ নির্বাচন কথোপকথন পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। মোড়ে দলের নিরাপত্তা কীভাবে সামলাতে হবে এবং মনোযোগ আকর্ষণে রোবটের ইশারা কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, প্রশিক্ষণে তা শেখানো হয়। পাইলট ও অতিথিদের কাছ থেকে নিয়মিত মতামত নিয়ে ব্যবস্থার প্রতিটি অংশে উন্নতি আনা হয়।
সামাজিক রোবটকে ক্রমবর্ধমানভাবে গ্রহণ করছে জাপান
জাপানের জনমিতিক চিত্র ও শ্রমবাজারের বাস্তবতা বহু বছর ধরে কোম্পানি ও বিভিন্ন সম্প্রদায়কে সেবামূলক কাজে রোবট ব্যবহারে উৎসাহিত করেছে। পরিচর্যাকেন্দ্রে বাসিন্দাদের সহায়তা এবং কর্মীদের চাপ কমাতে সঙ্গী রোবট ও চলাচলের সহায়ক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। দোকান ও যাতায়াতকেন্দ্রে দর্শনার্থীদের পথ দেখাতে এবং তথ্য দিতে নির্দেশনামূলক রোবট মোতায়েন করা হয়। কর্মীর ঘাটতি মোকাবিলা ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করার লক্ষ্যে পরিচর্যা প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা ও পরীক্ষামূলক উদ্যোগে সরকারি কর্মসূচি অর্থায়ন করেছে। জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে রোবটকে দীর্ঘদিন ধরে সহায়ক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যা দৈনন্দিন পরিবেশে রোবট দেখার বিষয়ে মানুষের স্বাচ্ছন্দ্য গড়ে তুলেছে।
এই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে অ্যাভাটার পরিচালিত ট্যুরকে স্বাভাবিক মনে হয়, লোকদেখানো নয়। ওরিহিমে মডেল মানব গাইডদের জায়গা নেয় না; বরং যাঁরা গাইড হতে চান কিন্তু ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতে পারেন না, তাঁদের কাজের পরিধি বাড়ায়। এটি সামাজিক ও পারিশ্রমিকভিত্তিক কাজ, যার শিকড় বাস্তব পাড়ায়। দর্শনার্থীরা এলাকার পরিচিতি পান যত্নসহকারে, আর পাইলটরা বাড়ি ছাড়াই নিজেদের শহরের গল্প তুলে ধরতে পারেন।
যা জানা দরকার
- নিহোনবাসির অ্যাভাটার রোবট ট্যুরে ওরিল্যাবের ওরিহিমে ব্যবহার করা হয়, যা একজন মানব পাইলট দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করেন।
- ব্যাকপ্যাকে লাগানো স্ট্যান্ডের মাধ্যমে রোবটটি ভ্রমণকারীর কাঁধের কাছে থাকে এবং ইংরেজি বা জাপানি ভাষায় কথা বলে।
- পাইলটরা পারিশ্রমিকভিত্তিক কর্মী। তাঁদের অনেকে প্রতিবন্ধিতা বা অসুস্থতার কারণে বাড়ি থেকে বের হতে পারেন না।
- ট্যুর শুরু হয় অ্যাভাটার রোবট ক্যাফে ডন থেকে; পথে মন্দির, ঐতিহাসিক দোকান ও স্থানীয় দর্শনীয় স্থান দেখা হয়।
- ওরিহিমেতে ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ও স্পিকার রয়েছে। এটি ইশারা করতে এবং মন্দিরে বাহু জোড় করতে পারে।
- টেলিপ্রেজেন্সের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও সামাজিক অংশগ্রহণ বাড়ানোই এই কর্মসূচির লক্ষ্য।
- স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব এলাকার দোকানগুলোতে দর্শনার্থীদের আনাগোনা বাড়ায়।
- নির্বিঘ্নে হাঁটা ট্যুরের জন্য স্থিতিশীল সংযোগ, আরামদায়ক স্ট্যান্ড এবং পরিষ্কার অডিও জরুরি।
- সামাজিক রোবট ব্যবহারে জাপানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অ্যাভাটার গাইডকে জনসাধারণের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে সাহায্য করে।
- জাদুঘর, স্টেশন ও করপোরেট ক্যাম্পাসে একই ধরনের ভূমিকা চালুর সম্ভাবনা দেখছেন আয়োজকেরা।






