চীনের সবুজ প্রযুক্তি বিপ্লবে কমছে দূষণ

পড়তে 12 মিনিট
চীনের সবুজ প্রযুক্তি বিপ্লবে কমছে দূষণ

চীনের পরিচ্ছন্নতর প্রবৃদ্ধির উদ্যোগের ভেতরের চিত্র

দুই দশকের মাঠপর্যায়ের কাজ ও নীতিগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে চীন সংকট মোকাবিলা থেকে ব্যাপক পরিবেশ পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়েছে। ২০০৬ সালে বেইজিংভিত্তিক ইনস্টিটিউট অব পাবলিক অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাফেয়ার্সের প্রতিষ্ঠাতা মা জুন নথিবদ্ধ করেন, পর্যবেক্ষণাধীন পানির উৎসগুলোর প্রায় ২৮ শতাংশ মারাত্মকভাবে দূষিত ছিল। ফলে প্রায় ৩০ কোটি মানুষ পর্যাপ্ত নিরাপদ পানীয় জল থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। আজ জাতীয় নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলোর প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, পর্যবেক্ষণাধীন পানির ৯০ শতাংশের বেশি উৎকৃষ্ট, ভালো বা মোটামুটি মানের। পানির পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি বায়ুর মানও ভালো হয়েছে। ২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশজুড়ে বার্ষিক গড় PM2.5-এর মাত্রা প্রায় ৩৫.৬ শতাংশ কমেছে। এই হ্রাসের মাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিন এয়ার অ্যাক্টের অধীনে প্রায় তিন দশকে অর্জিত অগ্রগতির সমতুল্য। PM2.5 হলো সূক্ষ্ম কণা, যা ফুসফুসের গভীরে জমা হতে পারে এবং রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে হৃদ্‌রোগ ও শ্বাসতন্ত্রের রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। PM2.5-এর মাত্রা ধারাবাহিকভাবে কমলে হাসপাতালে ভর্তি কমে, আয়ু বাড়ে এবং উৎপাদনশীলতায় পরিমাপযোগ্য উন্নতি ঘটে।

সূচিপত্র
  1. চীনের পরিচ্ছন্নতর প্রবৃদ্ধির উদ্যোগের ভেতরের চিত্র
  2. যে কারণে মোড় ঘুরেছে: নীতি, প্রযুক্তি ও শিল্পের সমন্বয়
  3. তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও স্বচ্ছতা
  4. মানদণ্ড, কর ও কার্যসম্পাদনের লক্ষ্য
  5. সমাধানের অংশ হিসেবে কারখানা
  6. ভিত্তি হিসেবে পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ
  7. ব্যাটারি, পরিবহন ও নতুন শিল্প মডেল
  8. একই সঙ্গে দূষণ ও কার্বন নির্গমন কমানোর বিষয়ে গবেষণার ফল
  9. যে অঞ্চলগুলো দ্রুত এগিয়েছে, এবং কেন
  10. পানি পরিচ্ছন্নতা ও আইন প্রয়োগের দীর্ঘমেয়াদি ধারা
  11. যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়ে গেছে
  12. বিদেশে এর প্রভাব
  13. মূল বিষয়গুলো

কারখানা ব্যাপক হারে বন্ধ করে এই পরিচ্ছন্ন বায়ু অর্জিত হয়নি। বরং শিল্প সম্প্রসারণের সঙ্গে কঠোরতর বিধিনিষেধ, তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণ এবং পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির দ্রুত প্রয়োগ যুক্ত করার সুপরিকল্পিত উদ্যোগ থেকে এসেছে এ অগ্রগতি। গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের অগ্রগতির চিত্রে শিল্পায়ননির্ভর কার্বনমুক্তির একটি ধারা দেখা যায়। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক পরিবহন এবং ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় বড় বিনিয়োগের ফলে অনেক অঞ্চলে উৎপাদন বাড়লেও নির্গমন ও দূষণ কমেছে।

চীনের শহর ও প্রদেশগুলোর গবেষণা দেখায়, এই পরিবর্তনের পেছনে কী কাজ করেছে। কঠোরতর পরিবেশগত বিধি গবেষণা ও উন্নয়নে অর্থায়ন বাড়িয়েছে, জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ডেটাবেস নিয়ম মেনে চলার চাপ জোরদার করেছে এবং নতুন সরঞ্জাম উৎপাদনের প্রতি একক নির্গমন কমানোর ব্যয় হ্রাস করেছে। উৎপাদনশিল্পও বায়ু ও পানি পরিচ্ছন্ন করার হাতিয়ার হয়ে উঠেছে; প্রতিষ্ঠানগুলো সৌর প্যানেল, বায়ু টারবাইন, ব্যাটারি, উন্নত মোটর এবং বর্জ্য শোধনব্যবস্থার উৎপাদন বাড়িয়েছে। এর ফলে শিল্প সংকুচিত না করেই তথ্যনির্ভর পরিচ্ছন্ন প্রবৃদ্ধি এসেছে।

বিজ্ঞাপন

যে কারণে মোড় ঘুরেছে: নীতি, প্রযুক্তি ও শিল্পের সমন্বয়

তিনটি বিষয়ের সমন্বয়ের ওপর এই অগ্রগতি দাঁড়িয়ে আছে। প্রথমত, নিয়ন্ত্রকেরা মানদণ্ড কঠোর করেছেন এবং দূষণের জন্য আর্থিক জরিমানা চালু করেছেন। দ্বিতীয়ত, ব্যাপক পর্যবেক্ষণ ও তথ্য প্রকাশব্যবস্থা নির্গমনকে কর্মকর্তা, প্রতিষ্ঠান ও জনসাধারণের সামনে দৃশ্যমান করেছে। তৃতীয়ত, দেশীয় উদ্ভাবন ও সরবরাহব্যবস্থার ব্যাপ্তি বৃদ্ধির সহায়তায় শিল্প পরিচ্ছন্ন উৎপাদন ও পণ্যে বিনিয়োগ করেছে।

তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও স্বচ্ছতা

চীন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও চিমনিনির্ভর শিল্পে ধারাবাহিক নির্গমন পর্যবেক্ষণের ঘন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শহরভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং জাতীয় পানি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত দূষণ মানচিত্র ও তথ্য প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম নাগরিক, বিনিয়োগকারী এবং পণ্য ক্রেতাদের কারখানার কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে। উপগ্রহ পর্যবেক্ষণ ও নিরীক্ষার সহায়তায় এই তথ্যব্যবস্থা নিয়ম লঙ্ঘন আড়াল করা কঠিন করে এবং নিয়ম মেনে চলা প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা সহজ করে। এখন দেশে ও বিদেশে ক্রেতাদের শর্ত পূরণ করতে অনেক প্রতিষ্ঠাকেই পরিবেশগত কার্যক্রমের নথিভুক্ত প্রমাণ দিতে হয়।

স্বচ্ছতা ও প্রয়োগ একসঙ্গে চলে। তথ্যনির্ভর পরিদর্শনে দ্রুত ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি শনাক্ত হয়। স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা অবৈধভাবে বর্জ্য নির্গমন বন্ধ করে। ভালো বায়ুর দিনের সংখ্যা থেকে শুরু করে বর্জ্য পানিশোধনবিধি মেনে চলার হার পর্যন্ত স্পষ্ট সূচকে প্রদেশগুলো নিজেদের কার্যক্রমের তুলনা করে। এই পরিবেশে পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি বোঝা না হয়ে নিয়ম মেনে চলার ব্যয় সাশ্রয়ী উপায় হয়ে ওঠে।

মানদণ্ড, কর ও কার্যসম্পাদনের লক্ষ্য

আর্থিক প্রণোদনা পর্যবেক্ষণভিত্তিক উদ্যোগকে জোরদার করেছে। ২০১৮ সালে দেশজুড়ে পরিবেশ সুরক্ষা কর দূষণ ফি-র জায়গা নেয়। ২৮৭টি শহরের তথ্য নিয়ে পার্থক্য-ভিত্তিক বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে করা সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, করটি আঞ্চলিক কার্বন নির্গমন ৫.৬৩ শতাংশ কমিয়েছে। সবুজ গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা এবং শিল্পের আধুনিকায়নের মাধ্যমে এই ফল এসেছে। প্রচলিত বায়ুদূষণকারী উপাদানের নির্গমনও কমেছে। পূর্বাঞ্চল ও জ্বালানিনিবিড় এলাকাগুলোয় এই অগ্রগতি সবচেয়ে স্পষ্ট, যেখানে আইন প্রয়োগ ও আর্থিক সক্ষমতা বেশি।

শহরভিত্তিক কার্যসম্পাদনের লক্ষ্য ও প্রদর্শনী কর্মসূচি উদ্ভাবনের ওপর মনোযোগ বাড়িয়েছে। জ্বালানি সাশ্রয় ও নির্গমন হ্রাসের প্রদর্শনী শহর নীতিকে আধা-প্রাকৃতিক পরীক্ষা হিসেবে মূল্যায়ন করে গবেষকেরা দেখেছেন, এটি ২০০৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত শহুরে সবুজ প্রযুক্তি উদ্ভাবন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। কঠোরতর পরিবেশগত লক্ষ্য থাকা শহর এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সরকারি সহায়তা বাড়ানো এলাকাগুলোয় এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি ছিল। পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো ও শিল্প কাঠামোর আধুনিকায়নের মাধ্যমে উদ্ভাবন কার্বন নির্গমন কমিয়েছে এবং বায়ুর মান উন্নত করেছে।

আঞ্চলিক সমন্বয়ও ফলাফলে প্রভাব ফেলছে। ইয়াংসি নদী অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রদেশগুলোর মধ্যে মানদণ্ডের সমন্বয় এবং প্রযুক্তি ও জ্ঞান ভাগাভাগির নীতিগুলো দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও কার্বন হ্রাসে যৌথ অগ্রগতি ত্বরান্বিত করেছে। তিনটি পথে এই সমন্বয় কাজ করে: স্থানীয় শিল্পকে পরিচ্ছন্নতর খাতে সরানো, পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তর দ্রুত করা এবং শহর ও প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কম-কার্বন প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়া।

বিজ্ঞাপন

সমাধানের অংশ হিসেবে কারখানা

চীনের শিল্প সক্ষমতা বিশ্বজুড়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির প্রসারে শক্তিশালী চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। বৈশ্বিক বাজারের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিশ্বের বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি বাজারের প্রায় ৬০ শতাংশ চীনের দখলে। ২০২৩ সালে দেশটি যত সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা স্থাপন করেছে, আগের বছর পুরো বিশ্ব মিলেও ততটা স্থাপন করেনি। একই বছর বিশ্বজুড়ে বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশও চীন করেছে। এত বেশি উৎপাদনে সবুজ প্রযুক্তির ব্যয় কমেছে, ফলে এশিয়া থেকে আফ্রিকা ও আমেরিকা পর্যন্ত তা আরও সহজলভ্য হয়েছে। এর প্রভাব নিউজিল্যান্ডের মতো দূরের সরবরাহব্যবস্থাতেও দেখা যায়; ২০২৩ সালে দেশটি সৌর ফটোভোল্টাইক সরঞ্জামের প্রায় ৮৯ শতাংশ চীন থেকে আমদানি করেছে। আফ্রিকার গ্রামগুলোয় স্বল্পমূল্যের প্যানেল দিয়ে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও স্কুল চালানো হচ্ছে।

ভিত্তি হিসেবে পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ

বায়ু ও সৌরবিদ্যুতের দ্রুত সম্প্রসারণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎসকে পরিচ্ছন্নতার দিকে সরাচ্ছে। সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের ব্যাপ্তি নজিরবিহীন: মরুভূমি ও ভবনের ছাদজুড়ে নতুন সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে উঠছে, আর উপকূলজুড়ে বসানো হচ্ছে সমুদ্রের বায়ু টারবাইন। ব্যয় কমেছে, নির্মাণের সময়সীমা ছোট হয়েছে এবং স্থানীয় উপাদান ব্যবহারের নিয়ম প্রতিটি বড় উপকরণ খাতে দেশীয় সরবরাহকারী গড়ে তুলেছে। তবে বিদ্যুৎ গ্রিডে এসব উৎস যুক্ত করা এখনও চ্যালেঞ্জ। বিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ সময়ে উৎপাদন সীমিত রাখার ঝুঁকি, কয়লানির্ভর অঞ্চলে নমনীয়তার অভাব এবং সঞ্চালনব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতায় পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ অপচয় হতে পারে। দীর্ঘ দূরত্বের সঞ্চালন, পাম্পড হাইড্রো ও ব্যাটারি সংরক্ষণ এবং আরও বুদ্ধিদীপ্ত বিদ্যুৎ বণ্টনে বিনিয়োগ ধাপে ধাপে এসব সীমাবদ্ধতা কমাচ্ছে।

ব্যাটারি, পরিবহন ও নতুন শিল্প মডেল

ব্যাটারি সক্ষমতা পরিবহন ও ভবন খাতকে বদলে দিচ্ছে। চীনের শহরগুলোয় বড় বহরে বৈদ্যুতিক বাস ও ট্যাক্সি চলছে। দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে লাতিন আমেরিকা পর্যন্ত বাজারে ছোট আকারের বৈদ্যুতিক গাড়ি, ট্রাক ও বাস রপ্তানি করছে। শিল্পকারখানাগুলো কম নির্গমনভিত্তিক কার্যক্রমের জন্য নিজেদের নতুন করে গড়ে তুলতে শুরু করেছে। সিচুয়ানে একটি প্রদর্শনীমূলক শূন্য-কার্বন কারখানা সেন্সর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে জ্বালানি খরচ সর্বোত্তমভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে; এতে বছরে কয়েক লাখ টন নির্গমন কমছে। হাইড্রোজেন প্রকল্পও সম্প্রসারিত হচ্ছে। বিশ্বের বৃহত্তম সবুজ হাইড্রোজেন স্থাপনাগুলোর একটি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি ভরার কেন্দ্রগুলোর উল্লেখযোগ্য অংশ চীনে রয়েছে। এসব ব্যবস্থা শুধু দেশের অভ্যন্তরের সমাধান নয়, বিশ্বজুড়ে পরিচ্ছন্ন সরঞ্জাম সরবরাহকারী রপ্তানি শিল্পকেও সহায়তা করছে।

বিজ্ঞাপন

একই সঙ্গে দূষণ ও কার্বন নির্গমন কমানোর বিষয়ে গবেষণার ফল

বিশেষজ্ঞ-পর্যালোচিত গবেষণার ক্রমবর্ধমান ভাণ্ডার ব্যাখ্যা করছে, নীতি ও প্রযুক্তির মাধ্যমে কীভাবে বায়ুর মান উন্নত এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো যায়। ২০০৮ থেকে ২০২১ সালের প্যানেল উপাত্ত ব্যবহার করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, শিল্পে সবুজ প্রযুক্তি উদ্ভাবন শিল্প কাঠামোর আধুনিকায়ন ত্বরান্বিত করে পরিচ্ছন্নতর উন্নয়ন ঘটায়। সবুজ উৎপাদনপ্রক্রিয়া ও পণ্য উদ্ভাবন সবচেয়ে শক্তিশালী চালিকাশক্তি। প্রতিষ্ঠান কীভাবে কাজ করে এবং কী উৎপাদন করে, তা বদলে দিয়ে এসব উদ্ভাবন একই সঙ্গে প্রচলিত দূষণ ও কার্বন-নিবিড়তা কমায়। তবে অঞ্চলভেদে এর প্রভাব আলাদা।

শহর নিয়ে করা গবেষণায়ও একই ধরনের চিত্র দেখা যায়। ২০২২ সাল পর্যন্ত ২৭২টি শহরের তথ্য ব্যবহার করে গবেষকেরা দেখেছেন, সবুজ প্রযুক্তি উদ্ভাবন শহুরে কার্বন নির্গমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়। পরিবেশগত বিধিনিষেধ এবং জ্বালানি ব্যবহারের কাঠামোর মধ্য দিয়ে এই প্রভাব কাজ করে। কঠোরতর বিধি ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে ঝোঁক, দুটিই মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে এবং ধারাবাহিকভাবে একে অন্যকে শক্তিশালী করে; ফলে উদ্ভাবন ও কম নির্গমনের যোগসূত্র দৃঢ় হয়। পূর্বাঞ্চল, বড় শহর এবং সম্পদনির্ভর নয় এমন শহরগুলোয় প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্ট, যেখানে জটিল নীতি বাস্তবায়নের সক্ষমতা সাধারণত বেশি।

বায়ুদূষণের বিভিন্ন উপাদান ও অঞ্চলে প্রভাবও ভিন্নভাবে দেখা যায়। ইয়াংসি ও ইয়েলো নদী অববাহিকা নিয়ে সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে উদ্ভাবনের সংখ্যা ও গুণমান আলাদা করে দেখা হয়েছে। এতে দেখা যায়, সবুজ পেটেন্টের সংখ্যা এবং উচ্চমূল্যের পেটেন্টের অনুপাত, দুটিই PM2.5 ও PM10-কে ভিন্নভাবে প্রভাবিত করে এবং এই সম্পর্ক সরলরৈখিক নয়। উদ্ভাবন বাড়লে PM10 প্রায়ই আগে কমে। PM2.5-এর উন্নতি ধীরগতির এবং উচ্চমূল্যের পেটেন্টের অনুপাত বেশি হলে এর উপকার সবচেয়ে বেশি হয়। এতে বোঝা যায়, সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করা অতি সূক্ষ্ম কণার ক্ষেত্রে অনেক ধারণা থেকে আরও ভালো ধারণায় পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ।

আরেক ধারার গবেষণায় প্রাদেশিক পর্যায়ে কার্বন কমানোর বৃহত্তর সক্ষমতা অনুসরণ করা হয়েছে। ২০০৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত চীনের প্রদেশগুলো কার্বন হ্রাসের সক্ষমতা বাড়িয়েছে। পূর্বাঞ্চলের প্রদেশগুলো এগিয়ে, মধ্যাঞ্চলের ফল উন্নত হচ্ছে এবং পশ্চিমাঞ্চল ব্যবধান কমাচ্ছে। সবুজ উদ্ভাবনের সরাসরি প্রভাব যেমন ছিল, তেমনি প্রতিবেশী প্রদেশগুলোর ওপর ইতিবাচক প্রভাবও পড়েছে; নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করার পর এই সুফল আরও বেড়েছে। বায়ুদূষণ নিয়ে আগের গবেষণার সঙ্গেও এ ফল মেলে, যেখানে পরিবেশগত বিধিনিষেধের শক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত ভৌগোলিক প্রভাব ও সীমা-নির্ভর ফল চিহ্নিত হয়েছিল। সহজ কথায়, বিধি স্পষ্ট ও কঠোর হলে এবং শহরগুলোর নেটওয়ার্কে যথেষ্ট সক্ষমতা তৈরি হলে সবুজ উদ্ভাবনের সুফল আরও বিস্তৃত হয়।

সবশেষে, কর ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিয়ে গবেষণায় ব্যবহারিক শিক্ষা পাওয়া যায়। পরিবেশ সুরক্ষা কর বায়ুর মান ও জনকল্যাণ উন্নত করার পাশাপাশি কার্বন নির্গমন কমিয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক উন্মুক্ততার নিদর্শন মুক্ত বাণিজ্য পরীক্ষামূলক অঞ্চলগুলো শিল্পের আধুনিকায়ন, জ্বালানি দক্ষতা ও উদ্ভাবন বাড়িয়ে অঞ্চলগুলোর ভেতরে বায়ুর মান ও কার্বন হ্রাসে যৌথ অগ্রগতি করেছে। একই সময়ে কিছু প্রতিবেশী শহর নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়েছে, যা স্থানীয় সীমানা পেরিয়ে প্রবৃদ্ধি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরে গেলে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

বিজ্ঞাপন

যে অঞ্চলগুলো দ্রুত এগিয়েছে, এবং কেন

অগ্রগতি সব জায়গায় সমান ছিল না, আর এর কারণগুলো শিক্ষণীয়। পূর্বাঞ্চলের শহরগুলো সাধারণত দ্রুত এগিয়েছে, কারণ সেখানে কঠোর আইন প্রয়োগ, বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে উন্নত দক্ষতা এবং অর্থায়নের ভালো সুযোগ একসঙ্গে ছিল। প্রাতিষ্ঠানিক উন্মুক্ততা এই সুবিধাগুলো আরও জোরদার করেছে। মুক্ত বাণিজ্য পরীক্ষামূলক অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত শহরগুলোতে বায়ু ও কার্বন নির্গমনের সম্মিলিত সূচকে বড় উন্নতি দেখা গেছে। এর পেছনে ছিল শিল্প কাঠামোর আধুনিকায়ন, জ্বালানির আরও দক্ষ ব্যবহার এবং সবুজ উদ্ভাবনে জোর। প্রশাসনিক দক্ষতা ও জনসাধারণের পরিবেশ সচেতনতা এর প্রভাব বাড়িয়েছে।

প্রতিষ্ঠান বা বিনিয়োগ যখন সীমানা পেরিয়ে অন্য এলাকায় গেছে, তখন দূষণ কাছাকাছি এলাকায় সরে যাওয়ায় কিছু অগ্রগতির সুফল নষ্ট হয়েছে। এ কারণেই সীমান্ত পেরিয়ে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। ইয়াংসি নদী অর্থনৈতিক অঞ্চলে যৌথ মানদণ্ড ও কর্মসূচি সময়ের সঙ্গে ফল উন্নত করেছে। এই পদ্ধতিতে পরিচ্ছন্ন শিল্পকে বিচ্ছিন্নভাবে অর্জনযোগ্য প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা নয়, বরং একটি অভিন্ন উদ্যোগ হিসেবে দেখা হয়।

পানি পরিচ্ছন্নতা ও আইন প্রয়োগের দীর্ঘমেয়াদি ধারা

পানির মানোন্নয়নের পেছনে রয়েছে বছরের পর বছর বিনিয়োগ ও আইন প্রয়োগ। শহরগুলো বর্জ্য পানি শোধন বাড়িয়েছে, নাইট্রোজেন ও ফসফরাস অপসারণের ব্যবস্থা যোগ করেছে এবং স্লাজ ব্যবস্থাপনা উন্নত করেছে। শিল্পাঞ্চলগুলোকে একত্র করে কেন্দ্রীয় শোধন ও কঠোর তদারকিসহ শিল্প পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। ছোট ও অতিমাত্রায় দূষণকারী কারখানা বন্ধ হয়েছে বা নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। এখন নদী অববাহিকার উজান থেকে শুরু করে বড় নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ চলে। জাতীয় গ্রেডিং স্থানীয় কার্যসম্পাদনের মূল্যায়নে যুক্ত হয়। এর ফলে পর্যবেক্ষণাধীন পানির ১০টির মধ্যে ৯টিরও বেশি কেন্দ্র এখন অন্তত মোটামুটি মান পূরণ করছে। ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি, যখন ব্যাপকভাবে মারাত্মক দূষণ ছিল, সেই পরিস্থিতি থেকে এটি বড় পরিবর্তন।

২০১৩ সাল থেকে বায়ু ও পানির কর্মসূচি একই সঙ্গে এগিয়েছে। সে বছর নতুন নীতিমালার ঢেউ বাধ্যতামূলক লক্ষ্য নির্ধারণ করে এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে অর্থায়ন করে। দীর্ঘদিন ধরে ইয়াংসি নদীর চেয়ে বেশি দূষিত ইয়েলো নদী অববাহিকায় কণাদূষণ কমেছে এবং বর্জ্য পানি শোধনের আওতা বেড়েছে। তবে শিল্প কাঠামো ও শীতকালীন তাপের চাহিদা এখনও চ্যালেঞ্জ। অগ্রগতি ধরে রাখতে ধারাবাহিক বিনিয়োগ, স্বচ্ছ প্রতিবেদন এবং বর্জ্য নির্গমন ও দূষণের জন্য কঠোর অনুমতিপত্রের ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ।

যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়ে গেছে

নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য চীনের জ্বালানি ব্যবস্থায় এখনও কয়লার ওপর নির্ভরতা রয়েছে, বিশেষ করে চাহিদার সর্বোচ্চ সময়ে এবং শুষ্ক মৌসুমে। বায়ু ও সৌরবিদ্যুতের অংশ বাড়াতে আরও নমনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন, দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ সংরক্ষণ, উন্নত আঞ্চলিক বণ্টন এবং শিল্প ও ভবন খাতে চাহিদা ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। এসব পদক্ষেপে পরিচ্ছন্ন বিদ্যুতের উৎপাদন সীমিত রাখার প্রয়োজন কমে এবং নির্ভরযোগ্যতা অক্ষুণ্ণ রেখে জীবাশ্ম জ্বালানির বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রতিস্থাপন করা যায়।

ভারী শিল্প আরেকটি চ্যালেঞ্জ। ইস্পাত, সিমেন্ট ও রাসায়নিক শিল্পের কার্বন নির্গমন কমানো কঠিন, কারণ এসব উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় উচ্চ তাপমাত্রার তাপ ও কার্বন নির্গতকারী রাসায়নিক বিক্রিয়া লাগে। পরীক্ষামূলক প্রকল্পগুলোয় ইস্পাত উৎপাদনে সবুজ হাইড্রোজেন, বৈদ্যুতিক চুল্লি, সিমেন্ট কারখানায় কার্বন ধারণ এবং উচ্চ দক্ষতার বিদ্যুতায়িত সরঞ্জাম পরীক্ষা করা হচ্ছে। ব্যয় কমাতে আরও বড় পরিসরে প্রদর্শনীমূলক প্রকল্প, মানসম্মত নকশা এবং নতুন সরঞ্জাম চালানোর জন্য নির্ভরযোগ্য পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ দরকার।

পরিচ্ছন্ন জ্বালানির সরঞ্জাম তৈরিরও পরিবেশগত প্রভাব রয়েছে। জীবনচক্রভিত্তিক গবেষণায় দেখা যায়, খনন ও উৎপাদনের সময় প্যানেল, ব্যাটারি এবং বায়ু বিদ্যুতের যন্ত্রাংশ তৈরিতেও নির্গমন হয় এবং সম্পদ ব্যবহৃত হয়। কারখানাগুলো পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ ব্যবহার, বেশি উপকরণ পুনর্ব্যবহার এবং দক্ষতা বাড়ানোয় পরিস্থিতি সঠিক দিকে এগোচ্ছে; তবে অগ্রগতি অব্যাহত রাখা জরুরি। দূষণকারী প্রতিষ্ঠানকে নিয়ম এড়ানোর সুযোগ না দেওয়া, শহরের সীমানা পেরিয়ে নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলার ব্যবস্থা এবং তথ্যের মান নিশ্চিত করার সুরক্ষা ব্যবস্থা নীতিগতভাবে প্রয়োজন। পর্যবেক্ষণের তথ্যের ওপর আস্থা না থাকলে বাজার ও জনগোষ্ঠী পরিমাপ করা অগ্রগতিকে বাস্তব বলে বিশ্বাস করবে না।

বিদেশে এর প্রভাব

চীনের উৎপাদন সক্ষমতা পরিচ্ছন্ন জ্বালানির বৈশ্বিক ব্যয় কমিয়ে বিশ্বজুড়ে এর ব্যবহার দ্রুত করেছে। চীনের সৌর প্যানেল জিম্বাবুয়ের গ্রামীণ স্কুলে আলো জ্বালায়, আর সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যাংকক থেকে মেক্সিকো সিটির রাস্তায় চলছে। চীন থেকে সৌর সরঞ্জাম আমদানি নিউজিল্যান্ডের মতো দেশকে দ্রুত পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সহায়তা করেছে। অংশীদার দেশগুলোর জন্য সুযোগ হলো সহজলভ্য দামের সঙ্গে শক্তিশালী মানদণ্ড, যাচাই ও স্বচ্ছতা যুক্ত করা। স্পষ্ট ক্রয়বিধি এবং কারখানার নির্গমন প্রকাশের ব্যবস্থা আস্থা গড়ে তুলতে পারে এবং আমদানি করা পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি যেন জলবায়ু ও বায়ুর মানসংক্রান্ত লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করতে পারে।

পুঁজিবাজারও এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, পরিবেশ, সমাজ ও সুশাসনভিত্তিক কৌশল ২০৩০ সালের মধ্যে দশ ট্রিলিয়ন ডলারের অঙ্কে পৌঁছাবে। বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ব্যাটারি, সৌর উপকরণ ও অন্যান্য সহায়ক প্রযুক্তির উৎপাদকদের সংযোগ ঘটাতে শেয়ারবাজারগুলো তালিকাভুক্তির নিয়ম হালনাগাদ করছে এবং সবুজ অর্থায়নের পণ্য বাড়াচ্ছে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাতুর দায়িত্বশীল সংগ্রহ বিষয়ে পণ্যবাজারগুলোও নিয়ম হালনাগাদ করছে। উন্নয়নশীল অর্থনীতির নীতিনির্ধারকেরা চীনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে স্পষ্ট মানদণ্ডের সঙ্গে পর্যবেক্ষণে বিনিয়োগ, স্থানীয় উদ্ভাবনে সহায়তা এবং দূষণ অন্যত্র সরে যাওয়া ঠেকাতে অঞ্চলগুলোর মধ্যে সমন্বয় করতে পারেন।

মূল বিষয়গুলো

  • জাতীয় পানি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলোর ৯০ শতাংশের বেশি এখন অন্তত মোটামুটি মান পূরণ করছে; ২০০৬ সালে ব্যাপক মারাত্মক দূষণের পরিস্থিতি থেকে এটি বড় পরিবর্তন।
  • ২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বার্ষিক গড় PM2.5-এর মাত্রা প্রায় ৩৫.৬ শতাংশ কমেছে। এই হ্রাসের মাত্রা যুক্তরাষ্ট্রে ক্লিন এয়ার অ্যাক্টের অধীনে তিন দশকের অগ্রগতির সমতুল্য।
  • তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও জনসাধারণের জন্য তথ্য প্রকাশ নিয়ম মেনে চলা বাড়িয়েছে; পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি পরিবেশগত বিধিকে শিল্পের ব্যয় সাশ্রয়ের উপায়ে পরিণত করেছে।
  • পরিবেশ সুরক্ষা কর গবেষণা ও উন্নয়ন, দক্ষতা এবং শিল্পের আধুনিকায়ন ত্বরান্বিত করে আঞ্চলিক কার্বন নির্গমন প্রায় ৫.৬ শতাংশ কমিয়েছে এবং বায়ুর মান উন্নত করেছে।
  • প্রদর্শনী শহর কর্মসূচি শহুরে সবুজ প্রযুক্তি উদ্ভাবন জোরদার করেছে, বিশেষ করে যেখানে পরিবেশগত লক্ষ্য কঠোর ছিল এবং বিজ্ঞান খাতে সরকারি অর্থায়ন বেড়েছিল।
  • ইয়াংসি নদী অর্থনৈতিক অঞ্চলে সমন্বিত নীতির ফলে পরিচ্ছন্ন শিল্প, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের মাধ্যমে দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও কার্বন হ্রাসে যৌথ অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়েছে।
  • চীনের কারখানাগুলো বিশ্বজুড়ে পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির উৎপাদন বাড়িয়েছে; দেশে রেকর্ড পরিমাণ সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ স্থাপন করেছে, ব্যাটারিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং এসব পণ্য আমদানিকারী দেশগুলোর ব্যয় কমাচ্ছে।
  • গবেষণায় দেখা যায়, PM2.5 কমাতে সবুজ উদ্ভাবনের গুণমান গুরুত্বপূর্ণ। বিধি কঠোর হলে এবং উদ্ভাবন নির্দিষ্ট সীমা ছাড়ালে এর সুফল প্রতিবেশী অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে।
  • পূর্বাঞ্চলের এবং তুলনামূলকভাবে উন্মুক্ত শহরগুলো দ্রুত এগিয়েছে। তবে কিছু প্রতিবেশী এলাকা নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়েছে, যা সীমান্ত পেরিয়ে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
  • প্রধান চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় কয়লার ওপর নির্ভরতা কমানো, ভারী শিল্পের কার্বন নির্গমন হ্রাস এবং পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি উৎপাদনের পরিবেশগত প্রভাব কমানো; পাশাপাশি তথ্যের মান ও আইন প্রয়োগ শক্তিশালী রাখা।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে