কেন এই বার্ষিকী গুরুত্বপূর্ণ
প্রশান্ত মহাসাগরীয় যুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পণের ঘোষণার আট দশক পরও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি পূর্ব এশিয়ায় বিরোধের এক জীবন্ত উৎস। জাপানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধযুদ্ধের সমাপ্তি হিসেবে যা বর্ণনা করে, তা স্মরণে ৩ সেপ্টেম্বর বড় আয়োজন করবে বেইজিং। সামরিক কুচকাওয়াজ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানসহ এসব আয়োজনের বার্তা দ্বিমুখী। এগুলো যুদ্ধকালীন আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়, পাশাপাশি সংঘাত এবং যুদ্ধোত্তর বিশ্বব্যবস্থায় চীনের অবস্থান নিয়ে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির বয়ানকে জোরদার করে। সেই বয়ানের কেন্দ্রে রয়েছে তাইওয়ান। ১৮৯৫ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত দ্বীপটি জাপানের উপনিবেশ ছিল। চীনা সরকারের বয়ান অনুযায়ী, যুদ্ধের শেষে তাইওয়ানের চীনে ফিরে আসা একটি মৌলিক অর্জন, যা আজও সম্মান করতে হবে।
সূচিপত্র
- কেন এই বার্ষিকী গুরুত্বপূর্ণ
- বেইজিংয়ের বার্তা ও আমন্ত্রণ
- তাইপেইয়ের প্রতিক্রিয়া ও বিধিনিষেধ
- কে জাপানের বিরুদ্ধে লড়েছিল, আর কে আত্মসমর্পণ গ্রহণ করেছিল
- নথিপত্রে কী বলা হয়েছে
- কায়রো ও পটসডাম
- সান ফ্রান্সিসকো শান্তি চুক্তি ও তাইপেই চুক্তি
- তাইওয়ানে ইতিহাস, পাঠ্যবই ও পরিচয়
- জনমত ও কুচকাওয়াজের দৃশ্যপট
- প্রণালিজুড়ে নিরাপত্তা ও পরবর্তী পরিস্থিতি
- মূল কথা
তাইপেইয়ে এই বয়ান নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তাইওয়ানের ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি (ডিপিপি) বেইজিংয়ের সমালোচনা করে বলেছে, যে যুদ্ধে তাইপেইয়ের মতে কুওমিনতাংয়ের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিক অব চায়না সরকার লড়েছে ও জয়ী হয়েছে, সেই যুদ্ধে কমিউনিস্ট পার্টিকে প্রধান ভূমিকায় দেখানো হচ্ছে। তাইওয়ানের মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল সরকারি কর্মকর্তাদের ৩ সেপ্টেম্বরের কুচকাওয়াজ ও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মূল ভূখণ্ডে না যাওয়ার সতর্কতা দিয়েছে এবং নাগরিকদের অংশগ্রহণ না করার পরামর্শ দিয়েছে। এই বিরোধ নিছক তাত্ত্বিক বিতর্ক নয়। সার্বভৌমত্ব, তাইওয়ানের পরিচয় এবং তাইওয়ান প্রণালিজুড়ে নিরাপত্তার প্রশ্নগুলোর মূলে রয়েছে এটি।
যুদ্ধকালীন স্মৃতি নিয়ে এই দ্বন্দ্ব ভাষা নিয়েও দ্বন্দ্ব। ঐক্য এবং চীনা ভূখণ্ডের ধারাবাহিকতার ওপর জোর দিতে বেইজিং ‘প্রতিরোধযুদ্ধে বিজয়’ ও ‘তাইওয়ানের পুনরুদ্ধার’-এর মতো শব্দ ব্যবহার করে। অন্যদিকে, তাইপেইয়ের স্বাধীনতাপন্থী রাজনীতিকেরা ক্রমেই ‘জাপানি শাসনের অবসান’ কথাটি ব্যবহার করছেন, যাতে দ্বীপটি বেইজিংয়ে অবস্থিত কোনো সরকারের কাছে ফিরে গিয়েছিল—এমন ইঙ্গিত না থাকে। ৮০তম বার্ষিকীকে সামনে রেখে দুই পক্ষই বক্তব্য আরও কড়া করেছে, অনুষ্ঠানে মিত্রদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে এবং নিজেদের যুক্তি তুলে ধরতে জাদুঘর, প্রদর্শনী ও গণমাধ্যম ব্যবহার করেছে।
বেইজিংয়ের বার্তা ও আমন্ত্রণ
বেইজিং বলছে, তাদের স্মরণানুষ্ঠান সর্বজনীন এবং জাতীয় পরিসরের। স্টেট কাউন্সিলের তাইওয়ান অ্যাফেয়ার্স অফিসের মুখপাত্র ঝু ফেংলিয়ান ডিপিপির সমালোচনা করে বলেছেন, জাপানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে কমিউনিস্ট পার্টির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে তারা খাটো করে দেখছে। তিনি বলেন, তাইওয়ানের মানুষসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের রাজধানীতে ৮০তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তাঁর যুক্তি, জাপানের বিরুদ্ধে বিজয় এবং ঔপনিবেশিক শাসনের পর তাইওয়ানের প্রত্যাবর্তন একটি অভিন্ন ইতিহাসের অংশ। তাঁর মতে, সেই ইতিহাস বর্ণনার সময় তাইওয়ানের মানুষদের অনুপস্থিত থাকা উচিত নয়।
চীনা সরকার এই স্মরণানুষ্ঠানকে স্মৃতিচারণের পাশাপাশি যুদ্ধোত্তর বন্দোবস্তের স্বীকৃতি হিসেবেও তুলে ধরে। চীনা কর্মকর্তারা ১৯৪৩ সালের যুদ্ধকালীন কায়রো ঘোষণা এবং ১৯৪৫ সালের পটসডাম ঘোষণার উল্লেখ করেন, যেখানে কায়রো ঘোষণার প্রসঙ্গ ছিল। তাঁদের যুক্তি, যুদ্ধের সময়ই মিত্রশক্তির নেতারা তাইওয়ানের চীনে প্রত্যাবর্তনে সম্মত হয়েছিলেন এবং জাপানের আত্মসমর্পণের সময় সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জিয়াং বিন বার্ষিকীর আগে ১৯৪৫ সালের ইতিহাসের সঙ্গে বর্তমান নীতিকে যুক্ত করেন। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে পুনর্মিলনকে ঐতিহাসিকভাবে অনিবার্য বলে তুলে ধরা হয়।
এই বার্তা দেওয়ার আগে বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জিয়াংয়ের ভূমিকা ও পদবি স্পষ্ট করে জানানো হয়। এরপর তিনি সরকারের অবস্থান জোরালো ভাষায় তুলে ধরেন।
চীনের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জিয়াং বিন: “তাইওয়ানের চীনে প্রত্যাবর্তন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ের ফলাফল এবং যুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ... চীনের পুনর্মিলনের দিকে অগ্রযাত্রা অপ্রতিরোধ্য।”
বেইজিং তাইওয়ানের সাবেক কুওমিনতাং নেতাদের ও যুদ্ধপ্রবীণদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এই উদ্যোগে যুদ্ধে রিপাবলিক অব চায়না সেনাবাহিনীর ভূমিকাকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি সমগ্র চীনা জাতির হয়ে কথা বলার মূল ভূখণ্ডের দাবিও জোরালো হয়। ২০১৫ সালে ৭০তম বার্ষিকীতে চীন একই ধরনের কুচকাওয়াজ আয়োজন করলে তাতে তাইপেইয়ের অংশগ্রহণ সীমিত ছিল। এ বছর রাজনৈতিক উত্তাপ বেশি, জনমনোযোগও ব্যাপক; অতীতে তাইওয়ানের বড় গণমাধ্যমগুলো সামরিক কুচকাওয়াজ সরাসরি সম্প্রচার করেছে। চীনা গণমাধ্যম ও শিক্ষাবিদদের ভাষ্যেও জোর দেওয়া হয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চীনে আধা-ঔপনিবেশিক ব্যবস্থার অবসান এবং দেশটির নতুন আন্তর্জাতিক ভূমিকার সূচনা করেছিল। এসব বক্তব্য যুদ্ধকালীন আত্মত্যাগের গর্বকে বর্তমান উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত করে।
তাইপেইয়ের প্রতিক্রিয়া ও বিধিনিষেধ
ঐতিহাসিক বয়ান এবং বেইজিংয়ে বড় সামরিক কুচকাওয়াজের দৃশ্য—উভয় বিষয়েই আপত্তি জানিয়েছে তাইওয়ান সরকার। মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল সরকারি কর্মকর্তাদের কুচকাওয়াজে যোগ দিতে মূল ভূখণ্ডে যাওয়া নিষিদ্ধ করেছে এবং আয়োজকদের সঙ্গে সহযোগিতা করলে আইনি শাস্তি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে। কর্মকর্তাদের যুক্তি, চীন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস ব্যবহার করে তাইওয়ানের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং যে বিজয় অন্য একটি সরকার অর্জন করেছিল, তার কৃতিত্ব দাবি করছে। চীনা বিমান ও জাহাজ প্রায় প্রতিদিনই তাইওয়ানের আশপাশে চলাচল করার সময় অস্ত্রের প্রদর্শনী নিয়েও ডিপিপি নেতারা আপত্তি জানিয়েছেন।
বেইজিংয়ের অনুষ্ঠানের সুরের নিন্দা জানিয়ে দলটির অবস্থান তুলে ধরে ডিপিপির চীনবিষয়ক বিভাগ। কুচকাওয়াজ ও এর দৃশ্যপটকে কেন্দ্র করে অভিযোগ জানানোর আগে বিভাগের পরিচয় ও ভূমিকা উল্লেখ করা হয়।
ডিপিপির চীনবিষয়ক বিভাগ: “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে আগ্রাসনের বিরোধিতা এবং শান্তির পথে চলার শিক্ষা মানবজাতির নেওয়া উচিত ছিল। অথচ বেইজিং তার বদলে সেই সেনা ও অস্ত্র প্রদর্শনের পথ বেছে নিয়েছে, যেগুলো এখন প্রতিবেশীদের ভয় দেখাতে ব্যবহার করা হয়... চরম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সামরিকতন্ত্র।”
জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ প্রচেষ্টার নেতৃত্ব কে দিয়েছিল, সেই প্রশ্নে বক্তব্য দিয়েছেন তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু। আইনসভায় তিনি বলেন, জাপানের আত্মসমর্পণ গ্রহণ করেছিল পিআরসি নয়, আরওসি; চীনা রণাঙ্গনে যুদ্ধের সিংহভাগও লড়েছিল আরওসি। তাঁর বক্তব্যে যুদ্ধকালীন রেকর্ডকে স্পষ্টভাবে আরওসির পক্ষে তুলে ধরা হয়।
তাইওয়ানের জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু: “প্রতিরোধযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিল এবং জয়ী হয়েছিল রিপাবলিক অব চায়না, পিপলস রিপাবলিক অব চায়না নয়—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।”
এ বছরের শুরুতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে বক্তব্যের জন্য রাশিয়া ও চীন—উভয়ের সমালোচনা করে তাইওয়ান। তাইওয়ানের মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের ভাষায়, চীনা কমিউনিস্ট বাহিনী “জাপানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো অবদান রাখেনি” এবং নিজেদের শক্তি বাড়াতে যুদ্ধকে কাজে লাগিয়েছে। প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে তাইওয়ানের বর্তমান অবস্থান আরও সরাসরি ভাষায় ব্যাখ্যা করেছেন। চীন যে ভাষণকে উসকানিমূলক বলে নিন্দা করেছে, তাতে তিনি বলেন, তাইওয়ানের সার্বভৌমত্বের সিদ্ধান্ত নেবে তার জনগণ এবং দ্বীপটি পিপলস রিপাবলিক অব চায়নার অংশ নয়।
তাঁর বক্তব্যের আগে দপ্তর ও পদবি উল্লেখ করা হয়; বেইজিংয়ে তা তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে: “তাইওয়ান অবশ্যই একটি দেশ, আর চীনের সেটির দাবি করার কোনো আইনি বা ঐতিহাসিক অধিকার নেই।”
কে জাপানের বিরুদ্ধে লড়েছিল, আর কে আত্মসমর্পণ গ্রহণ করেছিল
চীনে যুদ্ধের ইতিহাস জটিল। কয়েক বছরের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের পর ১৯৩৭ সালে কুওমিনতাং ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টি জাপানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে দ্বিতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে। জাতীয়তাবাদী ন্যাশনাল রেভল্যুশনারি আর্মি বড় প্রচলিত যুদ্ধে লড়ে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়। কমিউনিস্ট বাহিনী জাপানি নিয়ন্ত্রিত এলাকার পেছনে শক্তি বাড়ায় এবং গেরিলা কৌশলের ওপর নির্ভর করে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এই যৌথ প্রতিরোধ ভেঙে যায় এবং গৃহযুদ্ধ আবার শুরু হয়।
মিত্রশক্তির শর্তে স্বাক্ষরের এক সপ্তাহ পর, ৯ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ সালে নানজিংয়ে জাপান আনুষ্ঠানিকভাবে আরওসি সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। অর্ধশতাব্দী ধরে জাপানের শাসনে থাকা তাইওয়ানে ২৫ অক্টোবর আলাদা আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান হয়। আরওসি কর্মকর্তারা দ্বীপটির প্রশাসনের দায়িত্ব নেন। এরপরের প্রক্রিয়া ছিল জটিল। আগত আরওসি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনেক তাইওয়ানবাসী আরও ভালো শাসন প্রত্যাশা করেছিল, কিন্তু তা পায়নি; নতুন শাসকদের কঠোর আচরণে অনেকে ক্ষুব্ধও হয়। এই উত্তেজনা ১৯৪৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির ঘটনায় বিস্ফোরিত হয় এবং কয়েক প্রজন্মের রাজনীতিকে প্রভাবিত করে। শেষ পর্যন্ত ১৯৪৯ সালে মূল ভূখণ্ডে গৃহযুদ্ধে কমিউনিস্টরা জয়ী হয় এবং একই বছর আরওসি সরকার তাইপেইয়ে চলে যায়।
এই ঘটনাগুলোর উত্তরাধিকার আজকের বয়ানগুলোকে প্রভাবিত করে। তাইওয়ানের অনেকের কাছে চীন ও তাইওয়ানে জাপানের আত্মসমর্পণ গ্রহণের ঘটনা প্রমাণ করে, বেইজিংয়ের বর্তমান সরকার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দেওয়ার দাবি করতে পারে না। বেইজিংয়ের দৃষ্টিতে, সে সময় যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, যুদ্ধ ছিল সমগ্র চীনা জাতির; প্রণালির দুই পাড়ের চীনা জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন ফল এসেছিল, যার পর দখলদারিত্বের অবসানে তাইওয়ান চীনে ফিরে যায়।
নথিপত্রে কী বলা হয়েছে
নিজেদের অবস্থানের সমর্থনে বেইজিং ও তাইপেই ভিন্ন ভিন্ন আইনি নথির উল্লেখ করে। উভয় পক্ষই যুদ্ধকালীন ঘোষণাগুলো উদ্ধৃত করে। ওই ঘোষণাগুলোর সঙ্গে যুদ্ধোত্তর চুক্তির সম্পর্ক কী এবং বিজয়ের সুফল গ্রহণের অধিকার কোন সরকারের ছিল—এসব বিষয়ে তাদের মতবিরোধ রয়েছে। আরেকটি বিতর্ক হলো, ১৯৪৫ সালের পর জাতিসংঘ ও বড় শক্তিগুলো চীনের সঙ্গে কী আচরণ করেছিল এবং আজ তাইওয়ানের অবস্থানের ক্ষেত্রে তার অর্থ কী।
কায়রো ও পটসডাম
১৯৪৩ সালের কায়রো ঘোষণা ছিল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও রিপাবলিক অব চায়নার নেতাদের জারি করা একটি যৌথ বিবৃতি। এতে বলা হয়েছিল, চীনের কাছ থেকে জাপানের দখল করা অঞ্চল—ফরমোসা ও পেসকাডোরেসসহ—রিপাবলিক অব চায়নার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। ১৯৪৫ সালের জুলাইয়ে জারি করা পটসডাম ঘোষণায় জাপানকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয় এবং বলা হয়, কায়রো ঘোষণার শর্তগুলো কার্যকর করা হবে। জাপান ১৯৪৫ সালের আগস্টে পটসডামের শর্ত মেনে নেয়। বেইজিংয়ের যুক্তি, এসব নথিতে যুদ্ধোত্তর বন্দোবস্তের অংশ হিসেবে তাইওয়ানের প্রত্যাবর্তন নির্ধারিত হয়েছিল এবং দ্বীপটির ওপর চীনের সার্বভৌমত্বের ভিত্তি হলো মিত্রশক্তির চুক্তি ও আত্মসমর্পণসংক্রান্ত নথি। তাইওয়ান সরকারও কায়রো ও পটসডাম ঘোষণার উল্লেখ করে, তবে জোর দেয় যে সেগুলোতে রিপাবলিক অব চায়নার কথা বলা হয়েছে—যুদ্ধের পর যে সরকার তাইওয়ান শাসন করেছিল এবং এখনো সেখানে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।
সান ফ্রান্সিসকো শান্তি চুক্তি ও তাইপেই চুক্তি
১৯৫১ সালে জাপান ও মিত্রশক্তির ৪৮টি দেশ সান ফ্রান্সিসকো শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। জাপান তাইওয়ান ও পেসকাডোরেসের ওপর সার্বভৌমত্বের দাবি ত্যাগ করে, কিন্তু চুক্তিতে এগুলো কাকে দেওয়া হবে তা উল্লেখ করা হয়নি। এই চুক্তিতে আরওসি বা পিআরসি—কেউই অংশ নেয়নি। ফলে পরস্পরবিরোধী আইনি যুক্তির অবকাশ তৈরি হয়, যা আজও টিকে আছে। ১৯৫২ সালে জাপান ও আরওসি শান্তি চুক্তি সম্পাদন করে, যা সাধারণত তাইপেই চুক্তি নামে পরিচিত। এতে তাইওয়ানের ওপর জাপানের দাবি ত্যাগের স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং দুই সরকারের মধ্যে ব্যবহারিক বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বেইজিংয়ের বক্তব্য, তারা যুদ্ধে অংশ নেওয়া রিপাবলিক অব চায়নার উত্তরসূরি রাষ্ট্র এবং মিত্রশক্তির যুদ্ধকালীন নথি, আত্মসমর্পণসংক্রান্ত দলিলের সমর্থনে, তাদের দাবির ভিত্তি। ওয়াশিংটনের আইনি ভাষায় প্রায়ই সান ফ্রান্সিসকো চুক্তির প্রেক্ষাপটের উল্লেখ থাকে। বিশ্লেষকেরা বলেন, এসব ভিন্ন পাঠ যুদ্ধোত্তর বিশ্বব্যবস্থা এবং এশিয়ায় বৈধতার উৎস নিয়ে বৃহত্তর মতবিরোধের প্রতিফলন। ১৯৭১ সালে জাতিসংঘে চীনের আসন আরওসি থেকে পিআরসির কাছে যায়। এই পরিবর্তনে জাতিসংঘে চীনের প্রতিনিধিত্ব বেইজিংয়ের হাতে যায়, তবে সব রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে তাইওয়ানের অবস্থান নিয়ে পৃথক প্রশ্নটির মীমাংসা হয়নি।
এই আইনি যুক্তিগুলোর পাশাপাশি রয়েছে রাজনৈতিক দাবি। তাইওয়ানের সরকারি কালপঞ্জিতে বলা হয়, পিআরসি কখনো দ্বীপটির ওপর সার্বভৌমত্ব প্রয়োগ করেনি; ১৯৪৫ সাল থেকে আরওসি তাইওয়ান শাসন করে আসছে এবং এখন তা একটি পৃথক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রূপ নিয়েছে। বেইজিং এই পার্থক্য মানে না এবং দুই পক্ষই এক চীনের অংশ বলে দাবি করে। উভয় পক্ষই উদ্ধৃত করার মতো নথি খুঁজে পায়, যে কারণে ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক তীব্র রয়ে গেছে।
তাইওয়ানে ইতিহাস, পাঠ্যবই ও পরিচয়
তাইওয়ানে ইতিহাস কীভাবে পড়ানো হয়, তা সময়ের সঙ্গে বদলেছে। কয়েক দশকের সামরিক শাসনে পাঠ্যক্রম ও বইয়ে চীনকেন্দ্রিক বয়ানের প্রতিফলন ছিল এবং তাইওয়ানের স্বতন্ত্র অতীতকে খাটো করে দেখা হতো। আশির দশকের শেষ ও নব্বইয়ের দশকে গণতন্ত্রায়নের সঙ্গে নতুন পাঠ্যসামগ্রীতে ভিন্ন শাসকদের অধীনে দ্বীপটির নিজস্ব অভিজ্ঞতা এবং জনগণের বৈচিত্র্যের ওপর জোর দেওয়া হয়। এই পরিবর্তন নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। ২০১৫ সালে পাঠ্যবইয়ের ভাষা আবার চীনকেন্দ্রিক ধারায় ফেরানোর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভের ফলে পরিবর্তনগুলো আংশিকভাবে ফিরিয়ে নেওয়া হয় এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে ইতিহাস কীভাবে উপস্থাপিত হবে, তা নিয়ে জনসাধারণের গভীর আগ্রহ স্পষ্ট হয়।
এই বিতর্কগুলোতে পরিচয়ের প্রশ্নও জড়িত। তাইওয়ানের সমাজে রয়েছে এমন মানুষ, যাদের পরিবারের সদস্যরা শত শত বছর আগে ফুজিয়ান ও গুয়াংডং থেকে এসেছিলেন; ১৯৪৯ সালের পর আরওসি সরকারের সঙ্গে আসা মানুষ; প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে গভীর শিকড় থাকা প্রাণবন্ত আদিবাসী জনগোষ্ঠী; এবং বড় একটি হাক্কা সম্প্রদায়। ২৮ ফেব্রুয়ারির ঘটনা ও এর পরের শ্বেত সন্ত্রাসের সময়সহ অতীতের ক্ষত মোকাবিলায় নাগরিক সমাজ কাজ করেছে। স্মৃতিসৌধ, জাদুঘর ও অন্তর্বর্তীকালীন ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইতিহাসের আরও অনেক কিছু সামনে এসেছে। আজ অনেক নাগরিকের পরিচয়ের কেন্দ্রে রয়েছে বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্রের অভিজ্ঞতা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ব্যবহৃত ভাষায় এর প্রভাব পড়ে। কিছু জাদুঘর ও অনুষ্ঠানে এখনো ‘পুনর্দখল’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়, তবে দৈনন্দিন কথাবার্তায় ‘জাপানি শাসনের অবসান’ বেশি প্রচলিত এবং এতে রাজনৈতিক অনুমান তুলনামূলক কম থাকে।
তাইওয়ানের অতীতকে আরও বিস্তৃতভাবে দেখার আহ্বান জানানো ভাষ্যে বলা হয়, দ্বীপটির ইতিহাসে ইউরোপ ও জাপানের ঔপনিবেশিক শাসনের পাশাপাশি চীনা সরকারের নিয়ন্ত্রণও ছিল। এই দৃষ্টিতে তাইওয়ানকে বৃহত্তর চীনা বয়ানের নিষ্ক্রিয় বস্তু হিসেবে নয়, বরং নিজস্ব অধিকারসম্পন্ন একটি কর্তা হিসেবে দেখা উচিত। এই দৃষ্টিভঙ্গির সমর্থকেরা বলেন, চীনা কমিউনিস্ট পার্টি কখনো তাইওয়ান শাসন করেনি, ছিং রাজবংশও পুরো দ্বীপ শাসন করেনি, আর শতাব্দীর পর শতাব্দী তাইওয়ানের মানুষ বাইরের আধিপত্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করেছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি চীনের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সাংস্কৃতিক যোগসূত্র অস্বীকার করে না, তবে সংস্কৃতি একাই বর্তমান সার্বভৌমত্ব নির্ধারণ করতে পারে—এ ধারণা প্রত্যাখ্যান করে।
জনমত ও কুচকাওয়াজের দৃশ্যপট
চীনের সামরিক কুচকাওয়াজের সম্প্রচার তাইওয়ানে বিপুল দর্শক টেনেছে। তাইপেই থেকে আসা প্রতিবেদনে দর্শকদের মধ্যে বিভক্ত মতের কথা বলা হয়েছে। কেউ কেউ প্রদর্শিত চীনা সামরিক সরঞ্জামের অগ্রগতি দেখে মুগ্ধ। অন্যদের চোখে এটি তাইওয়ানের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টির প্রচারণার অংশ এবং যুদ্ধকালীন কৃতিত্বের এমন দাবি, যা নথিপত্রের সঙ্গে মেলে না। এ বছর প্রদর্শনীটিকে গম্ভীর স্মরণানুষ্ঠানের বদলে রাজনৈতিক বার্তা প্রচারের মঞ্চ হিসেবে সমালোচনা করেছে ডিপিপি। দ্বীপটির আশপাশে পিপলস লিবারেশন আর্মির নিয়মিত মহড়ার কারণে এই তুলনা আরও তীক্ষ্ণ হয়েছে।
স্মৃতিকে মঞ্চস্থ করার ক্ষেত্রে চীনের ব্যবস্থাপনা অন্যান্য রাষ্ট্রে দেখা বৃহত্তর চর্চার সঙ্গে মেলে। গবেষকেরা লক্ষ করেন, চীন ও রাশিয়া—উভয় দেশই বড় কুচকাওয়াজের মাধ্যমে শুধু নিহতদের সম্মান জানায় না, ফ্যাসিবাদ পরাজিত করতে তাদের ভূমিকা তুলে ধরে এবং বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্যকে সমর্থন করে। এ দৃষ্টিতে যুদ্ধকালীন নথি এবং চীনা জাতির ঐক্যের ওপর চীনের জোর এমন এক বয়ানের অংশ, যা এখনো অমীমাংসিত সার্বভৌমত্বের বিরোধকে বিশ্ব কীভাবে দেখবে, তা নির্ধারণ করতে চায়। তাইওয়ানে সাংস্কৃতিক পরিসরে আরেকটি আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সংঘাত নিয়ে একটি জনপ্রিয় স্ট্রিমিং নাটক এ বছর দর্শকদের মনে দাগ কেটেছে; এটি আনুষ্ঠানিক বার্তার চেয়ে বাস্তব প্রতিরক্ষা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ ও আগ্রহের প্রতিফলন।
প্রণালিজুড়ে নিরাপত্তা ও পরবর্তী পরিস্থিতি
ইতিহাস নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি তাইওয়ান প্রণালির ভেতরে ও আশপাশে সামরিক তৎপরতা বেড়েছে। এ বছর চীন কয়েক দফা মহড়া চালিয়েছে, যার মধ্যে এপ্রিলে যুদ্ধের অনুশীলনও ছিল। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, চীনা বিমান প্রতিদিনই দ্বীপটির আকাশ প্রতিরক্ষা শনাক্তকরণ অঞ্চলের কাছে আসে এবং নৌবাহিনীর তৎপরতাও ঘন ঘন দেখা যায়। বেইজিং এসব অভিযানকে অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরে। বেইজিংয়ের এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে চীনের তাইওয়ান অ্যাফেয়ার্স অফিসকে জিজ্ঞাসা করা হয়, এসব পদক্ষেপ কি আগ্রাসনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে? মুখপাত্র প্রশ্নটির ভিত্তিই নাকচ করেন, যা তাইওয়ানের অবস্থান নিয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কয়েকটি শব্দে তুলে ধরে।
তিনি কোন প্রতিষ্ঠান ও পদ থেকে কথা বলছেন, তা প্রথমে জানানো হয়। এরপর তাঁর সুনির্দিষ্ট বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
চীনের তাইওয়ান অ্যাফেয়ার্স অফিসের মুখপাত্র ঝু ফেংলিয়ান: “তাইওয়ান চীনের অংশ; আগ্রাসনের কোনো প্রশ্নই নেই।”
তাইপেইয়ে তাইওয়ানের নেতারা জবাব দেন, দ্বীপটির নাগরিকেরাই শুধু তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারেন। তাঁদের মতে, রিপাবলিক অব চায়না একটি গণতান্ত্রিক সরকার, যার নিজস্ব সেনাবাহিনী, মুদ্রা ও আইন রয়েছে। অধিকাংশ দেশ তাইওয়ানকে পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না, তবে নানা নামে সম্পর্ক বজায় রাখে এবং সতর্ক করে যে প্রণালির ওপারে শক্তি প্রয়োগ করলে অঞ্চল অস্থিতিশীল হবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মরণানুষ্ঠান এসব মতপার্থক্যের মীমাংসা করবে না। তবে অতীতকে কীভাবে আজকের জনমত গঠনে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা এগুলো দেখিয়ে দেয়। ১৯৪৫ থেকে বর্তমান পর্যন্ত জাতীয় ঐক্য ও আইনি ধারাবাহিকতার বয়ানের প্রতি মনোযোগ ধরে রাখতে চায় বেইজিং। তাইপেই জোর দেয় যুদ্ধে আরওসির ভূমিকা, ১৯৪৯ সাল থেকে কার্যত স্বশাসনের বাস্তবতা এবং তাইওয়ানের জনগণের পছন্দের ওপর। এই দুই বয়ান পরস্পরের সঙ্গে খাপ খায় না; এ কারণেই বার্ষিকীগুলো প্রায়ই বিরোধ মেটানোর বদলে আরও তীব্র করে।
মূল কথা
- ৩ সেপ্টেম্বরের বেইজিংয়ের অনুষ্ঠান জাপানের বিরুদ্ধে বিজয়ের ৮০তম বার্ষিকী স্মরণ করে এবং ১৯৪৫ সালে তাইওয়ানের প্রত্যাবর্তন আজও চীনের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করে—এমন বয়ান তুলে ধরে।
- তাইপেই কর্মকর্তাদের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া সীমিত করেছে এবং বলেছে, জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পিপলস রিপাবলিক অব চায়না নয়, রিপাবলিক অব চায়না নেতৃত্ব দিয়েছিল ও জয়ী হয়েছিল।
- চীনা কর্মকর্তারা কায়রো ঘোষণা ও পটসডাম ঘোষণা উদ্ধৃত করেন। অন্যদিকে, তাইপেই যুদ্ধের পর তাইওয়ানে আরওসির প্রশাসনের ওপর জোর দেয় এবং বলে, পিআরসি কখনো দ্বীপটি শাসন করেনি।
- ১৯৪৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর নানজিংয়ে জাপান আরওসি সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে এবং ২৫ অক্টোবর তাইওয়ানে জাপানি বাহিনী আরওসির প্রতিনিধিদের কাছে আত্মসমর্পণ করে।
- সান ফ্রান্সিসকো শান্তি চুক্তি ও ১৯৫২ সালের তাইপেই চুক্তিসহ যুদ্ধোত্তর চুক্তিগুলো নিয়েও মতবিরোধ রয়েছে; তাইওয়ানের অবস্থান নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যার অবকাশ রয়ে গেছে।
- তাইওয়ানের ভেতরে ইতিহাস শিক্ষা ও পরিচয়-রাজনীতি যুদ্ধ এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে জনপরিসরে ব্যবহৃত ভাষাকে প্রভাবিত করে।
- সামরিক কুচকাওয়াজ ও রাষ্ট্রীয় বার্তা যুদ্ধকালীন স্মৃতিকে বর্তমান নীতিগত লক্ষ্য, বিশেষ করে তাইওয়ানের ওপর চাপ সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত করার চীনের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ।
- প্রণালিজুড়ে উত্তেজনা এখনো তীব্র; তাইওয়ানের আশপাশে পিএলএর বিমান চলাচল ও নৌ তৎপরতা ঘন ঘন হচ্ছে এবং বেইজিং ও তাইপেইয়ের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডাও তীব্র।


![[Photos] From Taiwan to South Korea: Remembering WWII without spectacle](/media/uploads/2025/09/7227-3185395778.webp)



