সূচিপত্র
- প্রাণঘাতী বিক্ষোভে উত্তাল ইন্দোনেশিয়া, আইনপ্রণেতাদের সুযোগ-সুবিধা কমাল সরকার
- অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সরকারি ব্যয় নিয়ে সহিংস অস্থিরতায় কাঁপছে ইন্দোনেশিয়া; সংসদ সদস্যদের নানা সুযোগ-সুবিধায় বড় ধরনের কাটছাঁটের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো।
- বিক্ষোভের সূত্রপাত কীভাবে?
- শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ থেকে সহিংস অস্থিরতা
- অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও কৃচ্ছ্রসাধনে বাড়ছে অসন্তোষ
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠিত “অন্ধকার ইন্দোনেশিয়া” আন্দোলন
- সরকারের পদক্ষেপ: সুযোগ-সুবিধা কমানো, সংলাপ ও নিরাপত্তা অভিযান
- রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি: সার্বভৌম সম্পদ তহবিল ও জনআস্থা
- শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজের দাবি
- আন্তর্জাতিক ও ডিজিটাল প্রতিক্রিয়া
- যা জানা জরুরি
প্রাণঘাতী বিক্ষোভে উত্তাল ইন্দোনেশিয়া, আইনপ্রণেতাদের সুযোগ-সুবিধা কমাল সরকার
অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সরকারি ব্যয় নিয়ে সহিংস অস্থিরতায় কাঁপছে ইন্দোনেশিয়া; সংসদ সদস্যদের নানা সুযোগ-সুবিধায় বড় ধরনের কাটছাঁটের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো রোববার ঘোষণা করেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো আইনপ্রণেতাদের সুযোগ-সুবিধা কমাতে একমত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আবাসন ভাতায় বড় অঙ্কের কাটছাঁট এবং বিদেশ সফর। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ প্রশমিত করার জরুরি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ হিসেবে শুরু হওয়া অস্থিরতা দ্রুত কয়েক দশকের মধ্যে দেশটির সবচেয়ে সহিংস রাজনৈতিক সংকটে রূপ নেয়। এতে দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য ও কৃচ্ছ্রসাধনমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার জাকার্তায় বিক্ষোভ শুরু হয়, এরপর দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য বড় শহরে। সংসদ সদস্যদের অতিরিক্ত বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বলে মনে করা বিষয়গুলো নিয়ে জনরোষ বিক্ষোভে ইন্ধন জোগায়। শুক্রবার একটি বিক্ষোভস্থলে পুলিশের অভিযানের সময় মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহনকারী এক চালক নিহত হওয়ার পর উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। এর জেরে দাঙ্গা, রাজনীতিকদের বাড়িতে হামলা এবং সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সহিংসতায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে; ইন্দোনেশিয়ার শেয়ার ও মুদ্রাবাজারে ব্যাপক বিক্রির চাপ দেখা দিয়েছে।বিক্ষোভের সূত্রপাত কীভাবে?
অস্থিরতার তাৎক্ষণিক কারণ ছিল আইনপ্রণেতাদের আবাসন ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব। খবরে বলা হয়, সংসদ সদস্যরা মাসে ৫ কোটি রুপিয়াহ (প্রায় ৩ হাজার ডলার) করে নতুন ভাতা পেতে যাচ্ছিলেন—যা জাকার্তার ন্যূনতম মজুরির প্রায় ১০ গুণ। ব্যাপক অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও সরকারি বাজেট কাটছাঁটের মধ্যে এই খবর সাধারণ ইন্দোনেশীয়দের ক্ষুব্ধ করে তোলে। তাঁদের অনেকেই নিত্যদিনের খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। শিক্ষার্থী সংগঠন ও অধিকারকর্মীরা দ্রুত সংগঠিত হয়ে “ইন্দোনেশিয়া গেলাপ” (অন্ধকার ইন্দোনেশিয়া) স্লোগানে সমাবেশের আয়োজন করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনটি দ্রুত সমর্থন পায়। কালো পোশাক পরা অনেক বিক্ষোভকারী সরকারের সমালোচনা করে পোস্টার বহন করেন; অভিজাতদের বিশেষ সুবিধার প্রতীক হিসেবে তাতে প্রেসিডেন্ট প্রবোওর পোষা বিড়ালের কথাও উল্লেখ করা হয়। পরে কৃচ্ছ্রসাধনমূলক ব্যবস্থা, শিক্ষা ও সামাজিক কর্মসূচিতে কাটছাঁট এবং রাজনৈতিক অভিজাতদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান বৈষম্য নিয়ে ক্ষোভও বিক্ষোভে যুক্ত হয়। জাকার্তার শিক্ষার্থী নেতা হেরিয়ান্তোর মতে, আন্দোলনটি শুধু সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধার বিরুদ্ধে নয়। তিনি বলেন,অনেক নীতি অস্পষ্ট বলে ইন্দোনেশিয়া অন্ধকারে। বিনা মূল্যে খাবার কর্মসূচির খরচ জোগাতেই এই কাটছাঁট করা হচ্ছে, কিন্তু এর প্রভাব শিক্ষার ওপর পড়তে পারে এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষুব্ধ করতে পারে।
শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ থেকে সহিংস অস্থিরতা
শুরুতে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও ২১ বছর বয়সী রাইড-হেইলিং চালক আফান কুর্নিয়াওয়ানের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে। পুলিশের একটি সাঁজোয়া যান চাপা দিলে তিনি প্রাণ হারান। ঘটনাটি এখন পুলিশের তদন্তাধীন। তাঁর মৃত্যু দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে দেয় এবং দাঙ্গা, লুটপাট ও রাজনৈতিক দলের সদস্যদের বাড়ি এবং সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। দক্ষিণ সুলাওয়েসির মাকাসারে একদল লোক অনলাইন মোটরসাইকেল ট্যাক্সির এক চালককে পিটিয়ে হত্যা করে। তাদের অভিযোগ, তিনি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট। স্থানীয় পার্লামেন্ট ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আরও তিনজন মারা যান। সহিংসতায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন; কিছু খবরে এ সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে বলা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট প্রবোও দাঙ্গাকারী ও লুটেরাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশকে নির্দেশ দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কিছু অস্থিরতার মধ্যে সন্ত্রাসবাদ ও রাষ্ট্রদ্রোহের লক্ষণ রয়েছে। পাশাপাশি তিনি চীন সফর বাতিল করে জাকার্তার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। প্রাসাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তায় সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়। দেশজুড়ে উত্তেজনা চলতে থাকায় অনেক মন্ত্রী ও কর্মকর্তা নিজেদের সরকারি গাড়ির বদলে বেসামরিক নম্বরপ্লেটযুক্ত গাড়িতে করে আসেন।বিজ্ঞাপন
আইনপ্রণেতাদের সুযোগ-সুবিধা কমানোই যথেষ্ট নয়। সরকারকে গভীরে প্রোথিত সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে। রাস্তায় মানুষের ক্ষোভের কারণ আছে।
অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও কৃচ্ছ্রসাধনে বাড়ছে অসন্তোষ
প্রেসিডেন্ট প্রবোওর প্রশাসনের নেওয়া ব্যাপক কৃচ্ছ্রসাধনমূলক ব্যবস্থার মধ্যে এই বিক্ষোভ চলছে। গত বছরের অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রবোও প্রশাসনিক ব্যয়, সরকারি অনুষ্ঠান ও ব্যবসায়িক সফরসহ বিভিন্ন খাতে বিপুল অঙ্কের বাজেট কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এ কাটছাঁটের পরিমাণ ৪৪ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত, যা রাষ্ট্রীয় বাজেটের ১৫ শতাংশের বেশি। সরকারের দাবি, এসব সাশ্রয় থেকে জনপ্রিয় কর্মসূচির অর্থায়ন করা হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো স্কুলশিক্ষার্থী ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য ৪.৩ বিলিয়ন ডলারের বিনা মূল্যে পুষ্টিকর খাবার কর্মসূচি। তবে কাটছাঁটের প্রভাব পড়েছে জরুরি জনসেবাতেও। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার বরাদ্দ ৪৮ কোটি ডলার কমানো হয়েছে, আর উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট কমেছে ২৫ শতাংশ। এসব পদক্ষেপে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি বাড়বে, বৃত্তি বাতিল হবে এবং শিক্ষকদের কল্যাণ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অনেক বিক্ষোভকারীর বক্তব্য, উদ্দেশ্য ভালো হলেও বিনা মূল্যে খাবার কর্মসূচি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার খরচে বাস্তবায়িত হচ্ছে। পশ্চিম পাপুয়ায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিনা মূল্যে খাবারের বদলে বিনা মূল্যে শিক্ষা ও স্কুলের উন্নত সুযোগ-সুবিধার দাবি জানিয়েছে। বেসামরিক জীবনে সামরিকায়ন বাড়ার উদাহরণ হিসেবে খাবার বিতরণে সেনা ব্যবহারেরও নিন্দা করেছে তারা। সরকারের দাবি, বাজেট কাটছাঁটে শিক্ষা বা শিক্ষকদের কল্যাণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। তবে মন্ত্রণালয়গুলোর ব্যাপক ব্যয় কমানোয় জনসেবার মান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, তরুণদের মধ্যে উচ্চ বেকারত্ব এবং ভর্তুকিযুক্ত রান্নার গ্যাসের ঘাটতিসহ বৃহত্তর অর্থনৈতিক উদ্বেগও বিক্ষোভে উঠে এসেছে।বিজ্ঞাপন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠিত “অন্ধকার ইন্দোনেশিয়া” আন্দোলন
বিক্ষোভ সংগঠিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। #IndonesiaGelap হ্যাশট্যাগটি সরকারি নীতিতে হতাশ এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বিগ্ন মানুষের প্রতিবাদের স্লোগানে পরিণত হয়েছে। #KaburAjaDulu (“আগে পালাও”) নামে আরেকটি প্রবণতা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বিদেশে সুযোগ খুঁজতে ইন্দোনেশীয় তরুণদের মধ্যে বাড়তে থাকা আগ্রহের প্রতিফলন। জাকার্তা, সুরাবায়া, ইয়োগ্যাকার্তা, মেদান, বান্দা আচেহ, মাকাসার ও সামারিন্দাসহ বিভিন্ন শহরে হাজারো শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমেছে। ২০ ফেব্রুয়ারি জাকার্তায় প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের বাইরে সবচেয়ে বড় সমাবেশে হাজারো শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তারা বাজেট কাটছাঁট ও বিনা মূল্যে খাবার কর্মসূচি পুনর্বিবেচনা, রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির অবসান এবং সরকারে সামরিক বাহিনীর প্রভাব কমানোর দাবি জানায়। কিছু বিক্ষোভ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গড়ায়। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করেছে। সুরাবায়ায় স্থানীয় পরিষদ কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভের সময় কর্তৃপক্ষ পাঁচ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।সরকারের পদক্ষেপ: সুযোগ-সুবিধা কমানো, সংলাপ ও নিরাপত্তা অভিযান
অস্থিরতার জবাবে প্রেসিডেন্ট প্রবোও ঘোষণা করেন, পার্লামেন্টের নেতারা কয়েকটি নীতি বাতিল করবেন। এর মধ্যে রয়েছে সংসদ সদস্যদের ভাতার পরিমাণ কমানো এবং বিদেশ সফরে স্থগিতাদেশ। সোমবার থেকে কিছু সুযোগ-সুবিধা বাতিল করা হবে। আফান কুর্নিয়াওয়ানের মৃত্যুর কারণ হওয়া পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সরকার। প্রবোও বলেন, ইন্দোনেশিয়ার সংবিধান ও আন্তর্জাতিক সনদে নিশ্চিত করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি তাঁর প্রশাসনের শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দেন, সহিংসতা সহ্য করা হবে না। জনগণকে শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলকভাবে নিজেদের দাবি জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি আশ্বাস দেন, তাঁদের কথা শোনা হবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে প্রবোওর পাশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মেগাওয়াতি সুকর্ণপুত্রী, জুলকিফলি হাসান, এধি বস্কোরো ইউধোয়োনো, হারমান খায়েরন ও আহমাদ মুজানি। সংকট মোকাবিলায় তাঁদের উপস্থিতি ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের বার্তা দেয়। প্রবোও প্রতিনিধি পরিষদকে সামাজিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে উন্মুক্ত সংলাপের আহ্বান জানান। জাতিকে বিভক্ত করতে চায় এমন গোষ্ঠীর উসকানি সম্পর্কেও সতর্ক করেন তিনি। তবে সরকারের প্রতিক্রিয়াকে কিছু অধিকারকর্মী ও মানবাধিকার সংগঠন অতিরিক্ত কঠোর বলে সমালোচনা করেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ইন্দোনেশিয়া শাখা এক বিবৃতিতে প্রবোওর ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ ও ‘সন্ত্রাসবাদ’-এর মতো শব্দ ব্যবহারের সমালোচনা করে একে “মাত্রাতিরিক্ত” বলে আখ্যা দিয়েছে। সংগঠনটির সতর্কতা, এ ধরনের বক্তব্য বৈধ ভিন্নমত দমনের অজুহাত হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।বিজ্ঞাপন
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি: সার্বভৌম সম্পদ তহবিল ও জনআস্থা
প্রেসিডেন্ট প্রবোওর জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক সময়ে এই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত বছর বিপুল ব্যবধানে নির্বাচনে জয়ের পর তাঁর জনপ্রিয়তার হারও বেশ উঁচু ছিল; কিছু জরিপে তা প্রায় ৮০ শতাংশ। তাঁর প্রশাসন উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দানান্তারা নামে নতুন সার্বভৌম সম্পদ তহবিল গঠন, যার মাধ্যমে প্রায় ৯০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের বিশাল পোর্টফোলিওর নিয়ন্ত্রণ এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ এখন সরাসরি দানান্তারায় জমা হবে; অর্থ মন্ত্রণালয়কে পাশ কাটিয়ে প্রেসিডেন্টকে দেশের সম্পদ ব্যবহারে নজিরবিহীন স্বাধীনতা দেবে এই ব্যবস্থা। সরকার বলছে, এসব সংস্কারে দক্ষতা বাড়বে এবং সামাজিক কর্মসূচির অর্থায়ন হবে। তবে সমালোচকদের সতর্কতা, একজন নেতার হাতে এত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি দুর্বল হতে পারে। সাম্প্রতিক সহিংসতায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা নড়বড়ে হয়েছে; ইন্দোনেশিয়ার শেয়ার ও মুদ্রাবাজারে ব্যাপক বিক্রি দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের সতর্কতা, অস্থিরতা চলতে থাকলে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রবোওর রাজনৈতিক অবস্থান হুমকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণি কৃচ্ছ্রসাধনমূলক ব্যবস্থার প্রভাব টের পেতে শুরু করলে ঝুঁকি বাড়বে।শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজের দাবি
শিক্ষার্থী নেতা ও নাগরিক সমাজের গোষ্ঠীগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে, আইনপ্রণেতাদের সুযোগ-সুবিধা কমানো কেবল প্রথম পদক্ষেপ। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:- বাজেট কাটছাঁট ও বিনা মূল্যে খাবার কর্মসূচি পুনর্মূল্যায়ন
- শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক কল্যাণ খাতে বরাদ্দ সুরক্ষা
- রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি এবং সরকারে সামরিক বাহিনীর প্রভাবের অবসান
- সরকারি ব্যয়ে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
- সামাজিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও ক্ষতিগ্রস্ত গোষ্ঠীর সঙ্গে সংলাপ
বিজ্ঞাপন
আন্তর্জাতিক ও ডিজিটাল প্রতিক্রিয়া
অস্থিরতা আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে; বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠন ও বিদেশি সংবাদমাধ্যম পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। চীনের বাইটড্যান্সের মালিকানাধীন টিকটক ভুল তথ্য ছড়ানো এবং বিক্ষোভের সময় ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় কয়েক দিনের জন্য সাময়িকভাবে লাইভ সুবিধা বন্ধ রেখেছিল। চীন সফর বাতিলের সিদ্ধান্ত সংকটের গুরুত্ব এবং ইন্দোনেশিয়ার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বিনিয়োগ পরিবেশে এর সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরেছে।যা জানা জরুরি
- সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা ও কৃচ্ছ্রসাধনমূলক ব্যবস্থা নিয়ে প্রাণঘাতী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর আইনপ্রণেতাদের সুবিধা কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো।
- দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ এবং রাজনীতিকদের বাড়ি ও সরকারি ভবনে হামলাসহ অস্থিরতায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
- সংসদ সদস্যদের অতিরিক্ত বেতন নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে শিক্ষা ও সামাজিক কর্মসূচিতে বাজেট কাটছাঁটের বিরুদ্ধে ক্ষোভে বিস্তৃত হয়।
- শিক্ষার্থী সংগঠন ও অধিকারকর্মীদের বক্তব্য, সুযোগ-সুবিধা কমানো যথেষ্ট নয়; বৈষম্য ও সরকারি জবাবদিহির ঘাটতি দূর করতে বৃহত্তর সংস্কার দরকার।
- পুলিশের ভূমিকা তদন্ত ও সংলাপে বসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার; একই সঙ্গে দাঙ্গাকারী ও লুটেরাদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা অভিযান চালানোর নির্দেশও দিয়েছে।
- বিনিয়োগকারীদের আস্থা নড়বড়ে হয়েছে, আর এ সংকট প্রবোওর প্রশাসনের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
- #IndonesiaGelap-এর মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আন্দোলন বিক্ষোভ সংগঠিত করতে এবং জনঅসন্তোষ প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।






