২০২৫ সালের গ্লোবাল পিস ইনডেক্সে জাপানের উচ্চ অবস্থান: এশিয়ায় স্থিতিশীলতার বাতিঘর
বিশ্বের অন্যতম শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে জাপান আবারও নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। গ্লোবাল পিস ইনডেক্স (জিপিআই) ২০২৫ অনুযায়ী, বিশ্বে দেশটির অবস্থান ১২তম এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তৃতীয়। ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস (আইইপি) প্রকাশিত এই বার্ষিক প্রতিবেদনে সহিংসতা ও অপরাধের মাত্রা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামরিকীকরণ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক—এমন ২৩টি সূচকের সমন্বিত ভিত্তিতে ১৬৩টি দেশের মূল্যায়ন করা হয়। বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক শান্তির ধারাবাহিক অবনতির বছরে জাপানের স্থিতিশীল অবস্থান নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও কার্যকর শাসনব্যবস্থার প্রতি দেশটির দীর্ঘস্থায়ী অঙ্গীকারের প্রমাণ হিসেবে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
সূচিপত্র
- ২০২৫ সালের গ্লোবাল পিস ইনডেক্সে জাপানের উচ্চ অবস্থান: এশিয়ায় স্থিতিশীলতার বাতিঘর
- গ্লোবাল পিস ইনডেক্স সম্পর্কে
- এশিয়া ও বিশ্বে জাপানের অবস্থান
- জাপানকে এত শান্তিপূর্ণ করে তুলেছে কী?
- অন্যান্য এশীয় দেশের সঙ্গে তুলনা
- বৈশ্বিক প্রবণতা: চাপে শান্তি
- ২০২৫ সালের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ১০ দেশ
- আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে জাপানের স্থিতিস্থাপকতা
- পর্যটন ও জনধারণা
- বৃহত্তর তাৎপর্য: শান্তি কেন গুরুত্বপূর্ণ
- সংক্ষেপে
গ্লোবাল পিস ইনডেক্স সম্পর্কে
জাতীয় পর্যায়ে শান্তির পরিমাপক হিসেবে গ্লোবাল পিস ইনডেক্সকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সূচক বলে ব্যাপকভাবে বিবেচনা করা হয়। এতে দেশগুলোর মূল্যায়ন করা হয় তিনটি প্রধান ক্ষেত্রে:
- সামাজিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা: অপরাধের হার, অপরাধপ্রবণতা সম্পর্কে মানুষের ধারণা এবং সহিংস বিক্ষোভের আশঙ্কা পরিমাপ করে।
- চলমান অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংঘাত: সংঘাতে নিহতের সংখ্যা, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং বাইরের সংঘাতে সম্পৃক্ততার মূল্যায়ন করে।
- সামরিকীকরণ: সামরিক ব্যয়, অস্ত্রের প্রাপ্যতা এবং পারমাণবিক বা ভারী অস্ত্রের উপস্থিতি বিবেচনা করে।
বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল প্রতিটি সূচক সতর্কতার সঙ্গে নির্বাচন করে। বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রবণতা বুঝতে নীতিনির্ধারক, গবেষক ও সাধারণ মানুষ এসব ফলাফল ব্যবহার করেন।
এশিয়া ও বিশ্বে জাপানের অবস্থান
২০২৫ সালের জিপিআইয়ে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তৃতীয় সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ জাপান; তার আগে রয়েছে শুধু নিউজিল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর। বিশ্বে দেশটির অবস্থান ১২তম। নিরাপত্তা, কম অপরাধের হার এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে উচ্চ নম্বর পাওয়ারই প্রতিফলন এই অবস্থান। কোরীয় উপদ্বীপ ও পূর্ব চীন সাগরসহ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাপ্রবণ এলাকাগুলোর কাছাকাছি জাপানের অবস্থানের কারণে এই অর্জন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
এশিয়ায় শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর, যার অবস্থান বিশ্বে ষষ্ঠ। কঠোর আইন প্রয়োগ, কম অপরাধের হার এবং উচ্চ মাত্রার জনশৃঙ্খলার সুবাদে দেশটি এই স্থান পেয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সামাজিক সংহতির জন্য প্রায়ই প্রশংসিত নিউজিল্যান্ড এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ এবং বিশ্বে তৃতীয়। মালয়েশিয়াও উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে; বিশ্বে দেশটির স্থান ১৩তম, যা বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এ অঞ্চলের অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল অবস্থাকে আরও স্পষ্ট করে।
গ্লোবাল পিস ইনডেক্সে জাপানের উচ্চ অবস্থান নতুন নয়। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটি ধারাবাহিকভাবে শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। এর পেছনে রয়েছে সম্প্রীতির গভীর সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং নাগরিক ও রাষ্ট্রের মধ্যে দৃঢ় সামাজিক চুক্তি।
জাপানকে এত শান্তিপূর্ণ করে তুলেছে কী?
শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে জাপানের সুনামের পেছনে রয়েছে বেশ কয়েকটি কারণ:
- কম অপরাধের হার: সহিংস অপরাধের হার অত্যন্ত কম হওয়ার জন্য জাপান সুপরিচিত। হত্যা ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বিরল। দেশটির শহরগুলোকে বাসিন্দা ও পর্যটক—উভয়ের জন্যই বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ শহরগুলোর মধ্যে ধরা হয়।
- কঠোর অস্ত্র আইন: আগ্নেয়াস্ত্র ও অন্যান্য অস্ত্রের ওপর বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণগুলোর কয়েকটি জাপানে রয়েছে, যা আগ্নেয়াস্ত্র-সংশ্লিষ্ট সহিংসতার ঘটনা কম রাখতে সহায়তা করে।
- কার্যকর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা: জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে জাপানের পুলিশ বাহিনীর ওপর মানুষের আস্থা বেশি; তারা জনসমক্ষে সক্রিয় এবং আগাম উদ্যোগী। কমিউনিটি পুলিশিং ও পাড়াভিত্তিক টহল নিরাপত্তা ও আস্থার অনুভূতি জোরদার করে।
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা: দুর্নীতির মাত্রা কম এবং শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকায় জাপানের রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল। এই স্থিতিশীলতা সামাজিক সংহতি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থার ভিত্তি জোগায়।
- দৃঢ় সামাজিক রীতিনীতি: শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও দলগত ঐকমত্যকে গুরুত্ব দেওয়া সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ অসামাজিক আচরণ নিরুৎসাহিত করতে এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এসব বিষয় মিলেই এমন পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে বাসিন্দা ও পর্যটক—উভয়েই নিরাপদ বোধ করেন। ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকেই জাপানে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ পর্যটক গিয়েছেন। তাঁদের অনেকেই ভ্রমণের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করেছেন।
অন্যান্য এশীয় দেশের সঙ্গে তুলনা
জাপান উচ্চ অবস্থানে থাকলেও শান্তিপূর্ণ হিসেবে স্বীকৃত একমাত্র এশীয় দেশ নয়। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, সিঙ্গাপুর এ অঞ্চলের শীর্ষে। নগর নিরাপত্তা, কঠোর আইন এবং দক্ষ জনসেবার জন্য দেশটি প্রশংসিত। বিশ্বে ১৩তম স্থানে থাকা মালয়েশিয়া, বিশেষ করে পর্যটন এলাকাগুলোতে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রেখেছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও ইন্দোনেশিয়াও অগ্রগতি করেছে। সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে ইন্দোনেশিয়া; সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিম পাপুয়া ছাড়া দেশটিতে বড় কোনো হামলা হয়নি।
তবে এ অঞ্চলের সব দেশের অগ্রগতির ধারা ইতিবাচক নয়। উদাহরণস্বরূপ, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে কম শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে রয়েছে মিয়ানমার। তাইওয়ান তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হলেও বিশ্বে ৪০তম স্থানে রয়েছে, যা পূর্ব এশিয়ার জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রতিফলন।
বৈশ্বিক প্রবণতা: চাপে শান্তি
২০২৫ সালের গ্লোবাল পিস ইনডেক্সে বিশ্বের নিরাপত্তা পরিস্থিতির এক উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। টানা নবম বছরের মতো বিশ্বে শান্তির অবনতি হয়েছে; ৯৪টি দেশের পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে, আর উন্নতি হয়েছে মাত্র ৬৬টি দেশের। আগের বছরের তুলনায় শান্তির গড় মান কমেছে ০.৩৬ শতাংশ। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সামরিকীকরণের মতো বড় সংঘাতের পূর্বাভাসবাহী অনেক সূচক দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
২০২৫ সালের জিপিআইয়ের প্রধান তথ্যগুলো হলো:
- সংঘাতে নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি: ২০২৪ সালে সংঘাতে ১ লাখ ৫২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই ইউক্রেন, ফিলিস্তিন ও রাশিয়ার সংঘাতগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
- বাস্তুচ্যুতি বৃদ্ধি: শরণার্থী ও দেশের ভেতরে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১২ কোটি ২০ লাখে পৌঁছেছে। ১৭টি দেশে জনসংখ্যার অন্তত ৫ শতাংশ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
- অর্থনৈতিক প্রভাব: ২০২৪ সালে সহিংসতার কারণে বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২০ ট্রিলিয়ন ডলার, যা বৈশ্বিক জিডিপির ১১ শতাংশেরও বেশি। এই অঙ্কের প্রায় অর্ধেকই সামরিক ব্যয়।
- ক্ষমতার খণ্ডিত রূপ: শীতল যুদ্ধের অবসানের পর প্রভাবশালী দেশের সংখ্যা প্রায় তিন গুণ হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক ব্যবস্থা আরও খণ্ডিত ও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ইউরোপ এখনো সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ অঞ্চল; শীর্ষ দশ দেশের মধ্যে আটটিই এ অঞ্চলের। সবচেয়ে কম শান্তিপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা। কিছু প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিশ্বে দ্বিতীয় সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ অঞ্চল।
২০২৫ সালের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ১০ দেশ
জিপিআইয়ে ২০২৫ সালের শীর্ষ ১০টি দেশ হলো:
- আইসল্যান্ড
- আয়ারল্যান্ড
- নিউজিল্যান্ড
- অস্ট্রিয়া
- সুইজারল্যান্ড
- সিঙ্গাপুর
- পর্তুগাল
- ডেনমার্ক
- স্লোভেনিয়া
- ফিনল্যান্ড
এই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য: কম অপরাধের হার, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক আস্থার উচ্চ মাত্রা। সেরা দশের ঠিক বাইরে থাকলেও জাপানের মধ্যেও এসব বৈশিষ্ট্যের অনেকগুলোই দেখা যায়।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে জাপানের স্থিতিস্থাপকতা
পূর্ব এশিয়ার জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করলে জাপানের উচ্চ অবস্থান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ভৌগোলিকভাবে দেশটি উত্তর কোরিয়ার কাছাকাছি; দেশটি এখনও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায় এবং বড় সামরিক অস্ত্রভাণ্ডার বজায় রেখেছে। পূর্ব চীন সাগরের আঞ্চলিক বিরোধ এবং চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে চলমান উত্তেজনাও আঞ্চলিক অনিশ্চয়তা বাড়ায়।
এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও কূটনৈতিক যোগাযোগ, শক্তিশালী মিত্রতা—বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে—এবং আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির উপায় হিসেবে যুদ্ধ পরিহারের অঙ্গীকারবদ্ধ সংবিধানের সমন্বয়ে জাপান শান্তিপূর্ণ সমাজ বজায় রাখতে পেরেছে। জাপানের সংবিধানের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদ, যা প্রায়ই “শান্তি ধারা” নামে পরিচিত, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে শান্তিবাদী দেশ হিসেবে জাপানের পরিচয় গঠনে কেন্দ্রীয় ভূমিকা রেখেছে।
জাপানের আত্মরক্ষা বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত বাহিনীগুলোর একটি হলেও তাদের ভূমিকা কঠোরভাবে প্রতিরক্ষামূলক। দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি ও নাগরিক সুরক্ষায় দেশটি ব্যাপক বিনিয়োগ করে, যা নিরাপত্তা ও স্থিতিস্থাপকতার ক্ষেত্রে দেশটির সুনাম আরও বাড়ায়।
পর্যটন ও জনধারণা
নিরাপদ দেশ হিসেবে জাপানের সুনাম আন্তর্জাতিক পর্যটকদের, বিশেষ করে একা ভ্রমণকারী ও নারী পর্যটকদের, আকৃষ্ট করে। দক্ষ গণপরিবহন, পরিচ্ছন্ন সড়ক এবং শিষ্টাচারী সমাজ—নতুন সংস্কৃতি ঘুরে দেখার সময় নিশ্চিন্ত থাকতে চান এমন ভ্রমণকারীদের কাছে দেশটিকে আকর্ষণীয় গন্তব্য করে তুলেছে।
ভ্রমণশিল্পের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এশিয়ায় নিরাপদ ভ্রমণের জন্য জাপান ধারাবাহিকভাবে শীর্ষ পছন্দগুলোর মধ্যে রয়েছে। কিছু জরিপে শুধু নিউজিল্যান্ডের পরেই রয়েছে দেশটি। রাতে একা হাঁটতে পারা, রাস্তায় আক্রমণাত্মক অপরাধের অনুপস্থিতি এবং স্থানীয়দের সাধারণভাবে সহায়ক মনোভাবকে পর্যটকেরা তাঁদের ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কারণ হিসেবে প্রায়ই উল্লেখ করেন।
বৃহত্তর তাৎপর্য: শান্তি কেন গুরুত্বপূর্ণ
শান্তিপূর্ণ সমাজে বসবাসের সুফল সহিংসতার অনুপস্থিতির চেয়ে অনেক বিস্তৃত। গবেষণায় দেখা যায়, শান্তিপূর্ণ দেশগুলোতে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, স্বাস্থ্যগত ফলাফল এবং সামগ্রিক সুখের মাত্রা বেশি। জাপানের অভিজ্ঞতা দেখায়, শান্তি ও স্থিতিশীলতা কীভাবে সামাজিক অগ্রগতি এবং জাতীয় কল্যাণের ভিত্তি হতে পারে।
শান্তিপূর্ণ সমাজে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হওয়ার, উদ্ভাবন বিকশিত হওয়ার এবং শিক্ষা ও ব্যক্তিগত উন্নয়নের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা বেশি। সহিংসতার অর্থনৈতিক ক্ষতি বিপুল—শুধু ২০২৪ সালেই বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০ ট্রিলিয়ন ডলার। সংঘাত নিরসন, সামাজিক সংহতি এবং কার্যকর শাসনব্যবস্থা উৎসাহিত করে এমন নীতির গুরুত্ব এই হিসাবেই স্পষ্ট।
জাপানের উদাহরণ দেখায়, শান্তি কেবল ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা বা ইতিহাসের আকস্মিক ফল নয়। এটি সচেতন সিদ্ধান্তের ফল: শিক্ষায় বিনিয়োগ, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, আইনের শাসন বজায় রাখা এবং শ্রদ্ধা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার সংস্কৃতি লালন করা।
সংক্ষেপে
- ২০২৫ সালের গ্লোবাল পিস ইনডেক্সে বিশ্বে জাপানের অবস্থান ১২তম এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তৃতীয়; এতে দেশটির উচ্চ নিরাপত্তা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সংহতির প্রতিফলন রয়েছে।
- সামাজিক নিরাপত্তা, সংঘাত ও সামরিকীকরণ—এই তিন ক্ষেত্রে ২৩টি সূচক ব্যবহার করে গ্লোবাল পিস ইনডেক্স ১৬৩টি দেশের মূল্যায়ন করে।
- বিশ্বে ষষ্ঠ স্থানে থাকা সিঙ্গাপুর এশিয়ায় শীর্ষে; নিউজিল্যান্ড ও মালয়েশিয়াও উচ্চ অবস্থানে রয়েছে।
- কম অপরাধ, কঠোর অস্ত্র আইন, কার্যকর পুলিশি ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী সাংস্কৃতিক রীতিনীতিকে জাপানের শান্তিপূর্ণ অবস্থানের কারণ হিসেবে ধরা হয়।
- টানা নবম বছরের মতো বিশ্বে শান্তির অবনতি হয়েছে; সংঘাতে নিহতের সংখ্যা, বাস্তুচ্যুতি ও অর্থনৈতিক ক্ষতি বেড়েছে।
- আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও জাপানের স্থিতিস্থাপকতা কূটনীতি, প্রতিরক্ষামূলক নিরাপত্তা এবং শান্তিবাদী সংবিধানের গুরুত্ব তুলে ধরে।
- জাপানের মতো শান্তিপূর্ণ সমাজগুলো অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, সামাজিক আস্থা ও উচ্চ জীবনমান উপভোগ করে এবং বিশ্বের জন্য আদর্শ হয়ে উঠতে পারে।






