চীনের তরুণদের বেকারত্ব সংকটের অপ্রচলিত সমাধান
চীনের বিভিন্ন শহরে অদ্ভুত এক নতুন শিল্প জমজমাট হয়ে উঠেছে: তরুণেরা চাকরি আছে—এমন ভান করতে টাকা দিচ্ছেন। দৈনিক ৩০ থেকে ৫০ ইউয়ান (প্রায় ৪–৭ ডলার) দিয়ে বেকার তরুণেরা ওয়াই-ফাই, কফি, নাশতা এবং এমনকি ভুয়া তত্ত্বাবধায়কদের সঙ্গে সাজানো কথোপকথনসহ একটি অনুকরণমূলক অফিসে ডেস্ক ভাড়া নিতে পারেন। ‘কাজের ভান’ করার এসব প্রতিষ্ঠান শেনঝেন, সাংহাই, চেংদু, হাংঝৌ ও বেইজিংয়ের মতো বড় শহরে গড়ে উঠেছে। এগুলো সহকর্মীদের সঙ্গে কাজের জায়গা, মানসিক সহায়তা ও সামাজিক পরীক্ষার এক কৌতূহলোদ্দীপক মিশ্রণ দিচ্ছে। চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই প্রবণতা দেশটির দীর্ঘস্থায়ী তরুণ বেকারত্ব সংকট এবং উৎপাদনশীল বলে দেখানোর তীব্র সামাজিক চাপের সরাসরি প্রতিক্রিয়া।
সূচিপত্র
- চীনের তরুণদের বেকারত্ব সংকটের অপ্রচলিত সমাধান
- ‘কাজের ভান’ করার শিল্প যেভাবে চলে
- চীনের তরুণেরা কাজের ভান করতে টাকা দিচ্ছেন কেন?
- অফিসের বাইরেও: গ্রন্থাগার, ক্যাফে ও পড়ার কক্ষ
- ভান করার ব্যবসা: এসব অফিস কারা চালান?
- নমনীয় কর্মসংস্থানের পেশাজীবী: নতুন পরিচয়
- সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব: চাপ ও কলঙ্ক সামলানো
- সামাজিক বিতর্ক: সৃজনশীলভাবে সামলানো, নাকি অনিবার্য বিষয় পিছিয়ে দেওয়া?
- সরকারের প্রতিক্রিয়া ও তরুণদের কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ
- সংক্ষেপে
‘কাজের ভান’ করার শিল্প যেভাবে চলে
প্রথম দেখায় এসব অফিসকে অন্য আধুনিক কর্মস্থলের মতোই মনে হয়: সারি সারি ডেস্ক, উচ্চগতির ইন্টারনেট, সভাকক্ষ এবং পর্যাপ্ত কফি ও নাশতা। তবে রয়েছে একটি মোড়—এখানে থাকা বেশির ভাগ মানুষ কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন না। বরং তাঁরা প্রচলিত সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কর্মদিবসের অনুকরণ করতে টাকা দেন। কিছু জায়গায় ভুয়া কাজ, সাজানো ইমেইল এবং ব্যবস্থাপক বা বিদ্রোহী কর্মীর ভূমিকায় অভিনয়ের সুযোগও থাকে। বাড়তি ফি দিয়ে গ্রাহকেরা ‘বসের’ সঙ্গে সাজানো তর্কে অংশ নিতে পারেন, যা অভিজ্ঞতাকে আরও বাস্তবসম্মত করে তোলে।
অনেকের কাছে এর আকর্ষণ কেবল অভিনয় করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। খাবারের ব্যবসার সাবেক মালিক ৩০ বছর বয়সী শুই ঝৌ দোংগুয়ানের একটি অনুকরণমূলক অফিসে যেতে প্রতিদিন ৩০ ইউয়ান দেন। তাঁর ভাষ্য, পরিবেশটি তাঁকে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং প্রয়োজনীয় সামাজিক যোগাযোগের সুযোগ দেয়। “এটা দলবদ্ধভাবে একসঙ্গে কাজ করার মতো মনে হয়,” বলেন ঝৌ। তাঁর ব্যবসা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে এই নিয়মিত রুটিন ও সহমর্মিতার পরিবেশ তাঁর মন-মেজাজ ও প্রেরণা বাড়িয়েছে বলেও জানান তিনি।
এসব অফিস শুধু দেখানোর জন্য নয়। অংশগ্রহণকারীরা চাকরি খোঁজা, স্টার্টআপের ধারণা নিয়ে কাজ করা বা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য জায়গাগুলোর সুবিধা ব্যবহার করেন। সাম্প্রতিক স্নাতক শিক্ষার্থী শিয়াওওয়েন তাংয়ের মতো কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টার্নশিপের শর্ত পূরণ করতে এসব জায়গায় সময় কাটান এবং চাকরির প্রমাণ হিসেবে তাঁদের ‘কর্মস্থলের’ ছবি পাঠান। অন্যরা পরিবার ও প্রতিবেশীদের জেরা এড়াতে চান; নইলে তাঁরা চাকরি না থাকার কারণ জানতে চাইতে পারেন।
চীনের তরুণেরা কাজের ভান করতে টাকা দিচ্ছেন কেন?
ভুয়া অফিসের উত্থানের পেছনে রয়েছে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানা কারণের জটিল মিশ্রণ। হিসাবের পদ্ধতি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনে তরুণ বেকারত্বের হার ১৪ থেকে ২১ শতাংশের মধ্যে ছিল। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের (শিক্ষার্থী বাদে) বেকারত্বের সরকারি হার ছিল ১৭.৬ শতাংশ, তবে অনেক বিশেষজ্ঞের ধারণা, প্রকৃত হার আরও বেশি। অর্থনৈতিক মন্দা, কোভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও চাকরির বাজারের চাহিদার মধ্যে অমিলের কারণে চাকরির বাজার বড় ধাক্কা খেয়েছে।
চীনা সমাজে চাকরির অবস্থান ব্যক্তিগত পরিচয় ও পরিবারের সম্মানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। সফল বলে প্রতীয়মান হওয়ার চাপ প্রচণ্ড, বিশেষ করে উচ্চশিক্ষায় বছরের পর বছর বিনিয়োগ করা তরুণদের জন্য। বেকারত্বকে প্রায়ই লজ্জার বিষয় হিসেবে দেখা হয়, ফলে কেউ কেউ নিজেদের অবস্থার আড়াল করতে অনেক দূর পর্যন্ত যান। কাজের ভান করা একটি অফিসের এক ব্যবহারকারী NewsBytes-কে বলেন, “আমি যে জিনিসটা বিক্রি করছি, তা কোনো কর্মস্থল নয়; বরং অকাজের মানুষ না হওয়ার মর্যাদা।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এই প্রবণতাকে আরও ছড়িয়ে দিয়েছে। শিয়াওহংশু (ইনস্টাগ্রামের চীনা সংস্করণ) ও দৌইনের (চীনের টিকটক) মতো প্ল্যাটফর্মে #IPretendedToGoToWorkToday-এর মতো হ্যাশট্যাগে লাখ লাখবার দেখা হয়েছে। ভিডিওতে তরুণদের ভুয়া অফিসে দৈনন্দিন কাজের রুটিন নথিবদ্ধ করতে দেখা যায়; পরিচিত কেউ দেখে ফেলবেন, এই আশঙ্কায় কেউ কেউ মুখও আড়াল করেন। ঘটনাটি অনলাইনে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কেউ চীনের তরুণদের সৃজনশীলতা ও ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতার প্রশংসা করছেন, আবার কেউ আশঙ্কা করছেন, এতে প্রকৃত চাকরি খোঁজার চেষ্টা পিছিয়ে যেতে পারে।
অফিসের বাইরেও: গ্রন্থাগার, ক্যাফে ও পড়ার কক্ষ
রুটিন ও কাঠামো বজায় রাখার তাগিদ শুধু ভুয়া অফিসেই সীমাবদ্ধ নয়। চীনের অনেক বেকার তরুণ গ্রন্থাগার, ইন্টারনেট ক্যাফে ও ভাড়া করা পড়ার কক্ষেও যান। এসব জায়গায় সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া, চাকরির আবেদন করা কিংবা পরিবারের সদস্যদের সতর্ক দৃষ্টি থেকে দূরে থাকার জন্য শান্ত পরিবেশ পাওয়া যায়। পড়ার কক্ষে ডেস্ক ভাড়া করা যায় ঘণ্টা, দিন বা মাসের হিসাবে; বেকারত্বের হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর চাহিদাও বেড়েছে।
গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও জটিল। ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত মানুষের বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকা সেখানে সাধারণ ঘটনা; কখনো তাঁরা পরিবারের পেনশন বা ছোট পরিসরের কৃষিকাজের আয়ে নির্ভর করেন। তবে কৃষিজমি উন্নয়নকাজে ব্যবহারের জন্য পুনর্বিন্যাস করায় অনেক পরিবার জীবিকার উপায় হারাচ্ছে, ফলে চাকরি খোঁজার প্রয়োজন আরও জরুরি হয়ে উঠছে।
ভান করার ব্যবসা: এসব অফিস কারা চালান?
গ্রাহকদের মতোই ‘কাজের ভান’ করার শিল্পেও রয়েছে বৈচিত্র্য। কিছু প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিক সহকর্মীদের সঙ্গে কাজের জায়গা হিসেবে চলে, অন্যগুলো উইচ্যাটের মতো অ্যাপের মাধ্যমে সমন্বিত অনানুষ্ঠানিক উদ্যোগ। দোংগুয়ানের ৩০ বছর বয়সী উদ্যোক্তা ফেইইউ মহামারির সময় নিজে বেকারত্বের অভিজ্ঞতার পর তাঁর ‘কাজের ভান করার প্রতিষ্ঠান’ শুরু করেন। এখন তিনি কাঠামো ও মর্যাদা খুঁজছেন, এমন তরুণদের কাছে কর্মস্থল ভাড়া দেন। “আমি এটাকে একটি সামাজিক পরীক্ষা হিসেবে দেখি,” বলেন ফেইইউ। তবে দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবসাটি লাভজনক হবে কি না, তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলেও জানান।
গ্রাহকদের বেশির ভাগই সাম্প্রতিক স্নাতক, ফ্রিল্যান্সার বা ডিজিটাল যাযাবর; তাঁদের গড় বয়স প্রায় ৩০। কেউ কেউ যোগাযোগ বাড়াতে, জীবনবৃত্তান্ত হালনাগাদ করতে বা নতুন দক্ষতা শিখতে জায়গাটি ব্যবহার করেন—বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ক্ষেত্রে, যেগুলোকে ভালো চাকরির সম্ভাবনা তৈরির পথ হিসেবে দেখা হয়। অন্যরা কেবল বেকারত্বের কলঙ্ক থেকে দূরে, স্বাভাবিক বোধ করার মতো একটি জায়গা চান।
কারও কারও জন্য ভুয়া অফিস এগিয়ে যাওয়ার সোপান। ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলিংটনের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ড. ক্রিশ্চিয়ান ইয়াও বলেন, “কাজের ভান করার প্রতিষ্ঠানগুলো উত্তরণের অন্যতম একটি সমাধান। অর্থনৈতিক রূপান্তর এবং শিক্ষা ও চাকরির বাজারের অমিলের কারণে তরুণদের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ভাবতে বা উত্তরণকালে খণ্ডকালীন কাজ করতে এসব জায়গার প্রয়োজন হয়।”
নমনীয় কর্মসংস্থানের পেশাজীবী: নতুন পরিচয়
সরকারি নথিতে এসব তরুণের অনেককে ‘নমনীয় কর্মসংস্থানের পেশাজীবী’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। আমলাতান্ত্রিক এই পরিভাষার আওতায় গিগ অর্থনীতির কাজ থেকে ফ্রিল্যান্স প্রকল্প পর্যন্ত নানা ধরনের অপ্রচলিত কর্মব্যবস্থা পড়ে। এর ফলে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান—উভয়েই চাকরিতে নিয়োজিত থাকার বাহ্যিক পরিচয় বজায় রেখে চীনের কঠোর শ্রমবিধির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য এটি ইন্টার্নশিপ বা কর্ম-অভিজ্ঞতার প্রমাণ দেখিয়ে স্নাতক হওয়ার শর্ত পূরণ করতে চাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ফাঁক তৈরি করে।
তবে সবাই একে টেকসই সমাধান বলে মনে করেন না। ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল অ্যানথ্রোপলজির পরিচালক ড. বিআও শিয়াং এই প্রবণতাকে গভীরতর হতাশা ও অসহায়ত্বের লক্ষণ হিসেবে দেখেন। তিনি বলেন, “কাজের ভান করা হলো তরুণদের নিজেদের জন্য তৈরি করা এক ধরনের আবরণ; এর মাধ্যমে তাঁরা মূলধারার সমাজ থেকে সামান্য দূরত্ব তৈরি করে নিজেদের একটু জায়গা দেন।”
সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব: চাপ ও কলঙ্ক সামলানো
চীনে বেকারত্বের মানসিক প্রভাব উল্লেখযোগ্য। উৎপাদনশীলতা ও পিতামাতার প্রতি কর্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া সংস্কৃতিতে কাজ না থাকলে উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও ব্যর্থতার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। অনেক তরুণ নিজেদের পরিস্থিতি নিয়ে বিব্রত বোধ করেন, বিশেষ করে বাড়িতে থাকলে বা বাবা-মায়ের সহায়তার ওপর নির্ভর করলে। ভুয়া অফিসে গিয়ে তাঁরা রুটিন ফিরে পাওয়ার, আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার এবং একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পান।
কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, এসব জায়গা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বাস্তব উপকার বয়ে আনে। কর্মদিবসের কাঠামো—সেটি কৃত্রিম হলেও—বেকারত্বের সঙ্গে প্রায়ই আসা লক্ষ্যহীনতা ও বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি কাটাতে সাহায্য করতে পারে। একজন অংশগ্রহণকারী Radii-কে বলেন, “এটা আমার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। নিজেকে আরও স্বাভাবিক, কম উদ্বিগ্ন মনে হয়।”
তবে ঝুঁকিও রয়েছে। চাকরির জন্য মরিয়া হয়ে ওঠায় কিছু তরুণ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। মোটা অঙ্কের ফি নিয়ে ভুয়া চাকরি বা ইন্টার্নশিপের প্রতিশ্রুতি দেওয়া প্রতারণামূলক চক্র গড়ে উঠেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের শোষণমূলক চুক্তিতে সই করানো হয়েছে বা অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানো হয়েছে। চীনা সরকার চাকরিপ্রার্থীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং কর্মসংস্থানসংক্রান্ত প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
সামাজিক বিতর্ক: সৃজনশীলভাবে সামলানো, নাকি অনিবার্য বিষয় পিছিয়ে দেওয়া?
কাজের ভান করার অফিসের উত্থান গবেষক, নীতিনির্ধারক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কেউ একে কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মুখে সৃজনশীল ও বিচক্ষণ প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখেন—কঠিন সময়ে তরুণদের মর্যাদা ও আশা ধরে রাখার একটি উপায়। অন্যরা আশঙ্কা করেন, এতে এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা উৎসাহিত হতে পারে বা প্রকৃত চাকরি খোঁজা পিছিয়ে যেতে পারে। উহান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির সমাজকর্মের অধ্যাপক ঝাং ইয়ং মনে করেন, ঘটনাটি তুলনামূলকভাবে বিচ্ছিন্ন; তবে তিনি তরুণদের ওপর তীব্র চাপের বিষয়টি স্বীকার করেন। তাঁর পরামর্শ, “তরুণদের উচিত নিজেদের পরিস্থিতি সৎভাবে মূল্যায়ন করা, চাকরির বাজার সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া এবং পেশা নির্বাচনের বিষয়ে সুস্থ দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে পরিবারের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলা।”
আপাতত এই প্রবণতা কমার কোনো লক্ষণ নেই। চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা তীব্র এবং সামাজিক প্রত্যাশা উঁচু থাকলে চীনের তরুণেরা সামলানো, যোগাযোগ গড়া ও জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়ার সৃজনশীল উপায় খুঁজতেই থাকবেন—কাজ করার ভান করতে টাকা দিতে হলেও।
সরকারের প্রতিক্রিয়া ও তরুণদের কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ
চীনা সরকার তরুণ বেকারত্বের সমস্যা স্বীকার করেছে এবং উচ্চমানের কর্মসংস্থানকে নীতিগত অগ্রাধিকার দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন, তবে বাস্তবসম্মত সমাধান আসতে দেরি হচ্ছে। সমালোচকদের বক্তব্য, বর্তমান অর্থনৈতিক নীতিতে প্রায়ই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানকে বেশি সুবিধা দেওয়া হয়; এতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও উদ্ভাবন বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
কিছু সরকারি কর্মসূচির লক্ষ্য উদ্যোক্তা হওয়া, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং নমনীয় কর্মব্যবস্থাকে উৎসাহিত করা। তবে এসব পদক্ষেপ কতটা কার্যকর, তা এখনও অনিশ্চিত—বিশেষ করে কাজের ভান করার অফিসের মতো অপ্রচলিত সমাধান জনপ্রিয়তা পাওয়ার প্রেক্ষাপটে। উল্লেখযোগ্য নীতিগত পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক সংস্কার না হলে চীনের তরুণদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা মলিনই থেকে যাবে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ আশঙ্কা করছেন।
এদিকে ভুয়া অফিসের প্রবণতা ক্রমে নতুন রূপ নিচ্ছে। কিছু প্রতিষ্ঠান দক্ষতা বাড়ানোর কর্মশালা, যোগাযোগ গড়ার অনুষ্ঠান, এমনকি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য ঘটকালির মতো নতুন সেবাও চালু করে দেখছে। অন্যরা ঘটনাটিকে সাময়িক পর্যায় হিসেবে দেখেন—অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানো এবং প্রচলিত কর্মসংস্থানের সুযোগ ফিরে আসা পর্যন্ত একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা।
সংক্ষেপে
- চীনের তরুণ বেকারত্ব সংকটের জেরে এমন এক ব্যতিক্রমী শিল্প গড়ে উঠেছে, যেখানে তরুণেরা ভুয়া অফিসে চাকরি আছে বলে ভান করতে টাকা দেন।
- তীব্র সামাজিক চাপের মধ্যে এসব অফিস রুটিন, সামাজিক যোগাযোগ এবং মর্যাদা বজায় রাখার সুযোগ দেয়।
- উচ্চ বেকারত্ব, শিক্ষা ও চাকরির বাজারের অমিল এবং চীনা সংস্কৃতিতে বেকারত্বের কলঙ্ক এই প্রবণতাকে জ্বালানি জোগাচ্ছে।
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ঘটনাটিকে আরও ছড়িয়ে দিয়েছে; এর মনস্তাত্ত্বিক উপকার ও সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে।
- কেউ ভুয়া অফিসকে সৃজনশীলভাবে পরিস্থিতি সামলানোর উপায় মনে করেন, অন্যরা আশঙ্কা করেন, এতে প্রকৃত চাকরি খোঁজার চেষ্টা পিছিয়ে যেতে পারে।
- চীনা সরকার সমস্যাটি স্বীকার করলেও কার্যকর সমাধান দিতে পারেনি; ফলে অনেক তরুণ অপ্রচলিত উপায়ে আশা ও জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজছেন।






