ভিয়েতনামের উচ্চাভিলাষী ২০২৫ সালের ভিসা অব্যাহতি নীতি: বিশ্বের অভিজাতদের জন্য দ্বার উন্মুক্ত
আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, পর্যটন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন এক সাহসী যুগের ইঙ্গিত দিয়ে ভিয়েতনাম ২০২৫ সালে ভিসা অব্যাহতি নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনে আলোচনায় এসেছে। সরকারের সর্বশেষ সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ভিসা ছাড়া ভ্রমণের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি বিলিয়নিয়ার ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে বিশ্বমানের ক্রীড়াবিদ ও সাংস্কৃতিক আইকন—উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের জন্য নজিরবিহীন অব্যাহতির ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। প্রতিভা, বিনিয়োগ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে আগ্রহী, গতিশীল ও বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক গন্তব্য হিসেবে ভিয়েতনামকে তুলে ধরেছে এই পদক্ষেপ।
সূচিপত্র
- ভিয়েতনামের উচ্চাভিলাষী ২০২৫ সালের ভিসা অব্যাহতি নীতি: বিশ্বের অভিজাতদের জন্য দ্বার উন্মুক্ত
- ভিয়েতনামের নতুন ভিসা অব্যাহতির জন্য কারা যোগ্য?
- উচ্চপর্যায়ের বিদেশিদের লক্ষ্য করা হচ্ছে কেন?
- ভিসা ছাড়া ভ্রমণের পরিধি বাড়ছে: কোন কোন দেশ অন্তর্ভুক্ত?
- আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের তুলনায় ভিয়েতনামের অবস্থান কেমন?
- ই-ভিসায় বিপ্লব: সবার জন্য প্রবেশ সহজ করা
- বিশেষ ক্ষেত্র: ফুকোক দ্বীপ ও এপেক কার্ডধারীরা
- গোল্ডেন ভিসা ও দীর্ঘমেয়াদি থাকার সুযোগ: বৈশ্বিক প্রতিভা আকৃষ্ট করা
- পর্যটন ও অর্থনীতিতে প্রভাব: আন্তর্জাতিক আগমনে উল্লম্ফন
- পর্যটনের বাইরেও: বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবন জোরদার
- শর্ত ও আবেদনের প্রক্রিয়া: ভ্রমণকারীদের যা জানা দরকার
- চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়: ভারসাম্য রক্ষা
- সংক্ষেপে
ভিয়েতনামের নতুন ভিসা অব্যাহতির জন্য কারা যোগ্য?
ভিয়েতনামের ২০২৫ সালের ভিসা সংস্কারের মূল ভিত্তি হলো ৮ আগস্ট জারি করা ডিক্রি ২২১। এতে সাময়িক ভিসা অব্যাহতির যোগ্য বিদেশিদের ছয়টি স্বতন্ত্র শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়েছে। যাঁদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে, তাঁদের আকৃষ্ট করে ভিয়েতনামের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহায়তা করাই এই নীতির উদ্দেশ্য।
প্রধান শ্রেণিগুলো হলো:
- উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আমন্ত্রিত অতিথি: পার্টির সাধারণ সম্পাদক, প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রী ও প্রাদেশিক নেতাদের মতো শীর্ষ নেতাদের আমন্ত্রিত ব্যক্তিরা।
- পণ্ডিত, বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ: বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সদস্য, প্রধান প্রকৌশলী এবং মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল প্রযুক্তি পেশাজীবীরা।
- বিনিয়োগকারী ও করপোরেট নেতা: বিশ্বস্ত আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বীকৃতি অনুযায়ী বাজার মূলধনের ভিত্তিতে বিশ্বের শীর্ষ ১০০ প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্ত কোম্পানির নির্বাহীরা।
- সাংস্কৃতিক, শিল্পকলা ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব: সংস্কৃতি, শিল্পকলা, খেলাধুলা ও পর্যটন খাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা; এর মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ১০০-তে স্থান পাওয়া এবং ভিয়েতনামের পেশাদার ক্লাবগুলোর আমন্ত্রণ পাওয়া ফুটবলাররাও রয়েছেন।
- ভিয়েতনামের অনারারি কনসাল ও অতিথিরা: বিদেশে নিযুক্ত অনারারি কনসাল এবং অনুমোদিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও বৃহৎ উদ্যোগের অতিথিরা।
- অন্যান্য বিশেষ ক্ষেত্র: পররাষ্ট্রনীতি বা আর্থসামাজিক প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত ব্যক্তিরা, যাঁদের বিষয়ে জননিরাপত্তামন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন।
যোগ্য ব্যক্তিদের বিশেষ ভিসা অব্যাহতি কার্ড দেওয়া হবে—এটি ইলেকট্রনিক বা চিপযুক্ত হতে পারে। কার্ডটি সর্বোচ্চ পাঁচ বছর একাধিকবার প্রবেশের জন্য বৈধ থাকবে, তবে পাসপোর্টের অবশিষ্ট মেয়াদ থেকে ৩০ দিন বাদ দিলে যে সময় থাকে, তার বেশি নয়। প্রতিবার প্রবেশে সর্বোচ্চ ৯০ দিন থাকা যাবে; প্রয়োজন হলে মেয়াদ বাড়ানো বা অন্য ধরনের ভিসায় রূপান্তরের সুযোগ থাকবে।
উচ্চপর্যায়ের বিদেশিদের লক্ষ্য করা হচ্ছে কেন?
উচ্চমূল্যের বিদেশি নাগরিকদের জন্য সীমিত মেয়াদের ভিসা অব্যাহতি চালুর ঘটনা ভিয়েতনামে এই প্রথম। লক্ষ্যটি স্পষ্ট: অগ্রাধিকার খাত—যেমন সেমিকন্ডাক্টর, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও সৃজনশীল শিল্পে—শীর্ষ প্রতিভা, উচ্চমানের মানবসম্পদ, স্টার্টআপ উদ্ভাবক এবং বিশেষজ্ঞদের আকৃষ্ট করা। খ্যাতনামা বিনিয়োগকারী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও ক্রীড়াবিদদের স্বাগত জানিয়ে ভিয়েতনাম একটি গতিশীল, বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের পরিচিতি বাড়াতে চায়।
ভিসা ছাড়া ভ্রমণের পরিধি বাড়ছে: কোন কোন দেশ অন্তর্ভুক্ত?
ব্যক্তিবিশেষের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক অব্যাহতির পাশাপাশি নির্বাচিত কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ছাড়া প্রবেশের নীতিও বাড়িয়েছে ও সম্প্রসারিত করেছে ভিয়েতনাম। ২০২৫ সালের ১৫ মার্চ থেকে ১২টি দেশের নাগরিকেরা পাসপোর্টের ধরন বা প্রবেশের উদ্দেশ্য যা-ই হোক, সর্বোচ্চ ৪৫ দিন ভিসা ছাড়া ভিয়েতনামে প্রবেশ করতে পারবেন। দেশগুলো হলো:
- জার্মানি
- ফ্রান্স
- ইতালি
- স্পেন
- যুক্তরাজ্য
- রাশিয়া
- জাপান
- দক্ষিণ কোরিয়া
- ডেনমার্ক
- সুইডেন
- নরওয়ে
- ফিনল্যান্ড
এই সুবিধা ২০২৮ সালের ১৪ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং পরে নবায়ন করা হতে পারে। ভ্রমণ সহজ করা, পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং ভিয়েতনাম ও এসব দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করাই এই নীতির লক্ষ্য। উল্লেখ্য, আগে তালিকায় থাকা বেলারুশ এখন আলাদা দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় প্রতি প্রবেশে ৩০ দিন ভিসা ছাড়া থাকার সুবিধা পাচ্ছে।
২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পোল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র ও সুইজারল্যান্ডের নাগরিকেরাও পর্যটনের উদ্দেশ্যে সর্বোচ্চ ৪৫ দিন ভিয়েতনামে ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারবেন। আরও বেশি ইউরোপীয় পর্যটক আকৃষ্ট করার বৃহত্তর পর্যটন প্রণোদনা কর্মসূচির অংশ এই সাময়িক ব্যবস্থা।
আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের তুলনায় ভিয়েতনামের অবস্থান কেমন?
এই সংস্কারগুলো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও ভিসা অব্যাহতি পাওয়া দেশের তালিকা থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো আঞ্চলিক প্রতিযোগীদের তুলনায় এখনও সীমিত। এসব দেশ আরও বিস্তৃত পরিসরে ভিসা ছাড়া প্রবেশের সুযোগ দেয়। তবে ই-ভিসা কর্মসূচি বাড়িয়ে এবং উচ্চমূল্যের ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর জন্য নমনীয়, লক্ষ্যভিত্তিক অব্যাহতি চালু করে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে ভিয়েতনাম।
ই-ভিসায় বিপ্লব: সবার জন্য প্রবেশ সহজ করা
২০২৩ সালের আগস্ট থেকে সব দেশের নাগরিকদের জন্য ভিয়েতনামের ই-ভিসা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এতে একাধিকবার প্রবেশসহ সর্বোচ্চ ৯০ দিন থাকা যায়। অনলাইনে আবেদনের প্রক্রিয়াটি সহজ; এতে ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্টের বিবরণ ও ভ্রমণ পরিকল্পনা দিতে হয়। অনুমোদন পাওয়ার পর ভ্রমণকারীরা ৪২টি নির্ধারিত প্রবেশপথ দিয়ে ভিয়েতনামে ঢুকতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে ১৩টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ১৬টি স্থল সীমান্ত প্রবেশপথ ও ১৩টি সমুদ্রবন্দর।
এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে পর্যটন, ব্যবসা বা পারিবারিক কারণে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণ আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে। আগে ভিসা ছাড়া প্রবেশের পর পুনরায় প্রবেশের আগে ৩০ দিন অপেক্ষার যে নিয়ম ছিল, তা তুলে নেওয়ায় ভিসা-মুক্ত দেশের ভ্রমণকারীরা ভিয়েতনাম ছেড়ে যাওয়ার পরপরই আবার প্রবেশ করতে পারেন। এতে ভ্রমণের নমনীয়তা আরও বেড়েছে।
বিশেষ ক্ষেত্র: ফুকোক দ্বীপ ও এপেক কার্ডধারীরা
ফুকোক দ্বীপের ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে: বিদেশ থেকে সরাসরি আসা ভ্রমণকারীরা সর্বোচ্চ ৩০ দিন ভিসা ছাড়া থাকতে পারেন, তবে ভিয়েতনামের অন্য কোনো অঞ্চলে ভ্রমণ করা যাবে না। এপেক বিজনেস ট্রাভেল কার্ডধারীরা সর্বোচ্চ ৬০ দিন ভিসা ছাড়া প্রবেশের সুবিধা পান, যা ব্যবসা ও আঞ্চলিক সহযোগিতা সহজ করার প্রতি ভিয়েতনামের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
গোল্ডেন ভিসা ও দীর্ঘমেয়াদি থাকার সুযোগ: বৈশ্বিক প্রতিভা আকৃষ্ট করা
উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক বা সাংস্কৃতিক অবদান রাখেন এমন ব্যক্তিদের জন্য পাঁচ থেকে দশ বছর মেয়াদি নবায়নযোগ্য ভিসা দেওয়ার একটি “গোল্ডেন ভিসা” কর্মসূচিও বিবেচনা করছে ভিয়েতনাম। বড় শহর ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে; লক্ষ্য উদ্ভাবন, অর্থনীতি, শিল্পকলা ও পর্যটন খাতের বৈশ্বিক প্রতিভা। বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের ভিসা ব্যবস্থা মূলত পুঁজিনির্ভর এবং পরিসরে সীমিত। সেই ব্যবস্থার ঘাটতি পূরণ করাই গোল্ডেন ভিসার লক্ষ্য।
খসড়া ডিক্রি অনুযায়ী, ব্যবসায়ী নেতা, বিজ্ঞানী, শিল্পী, চিকিৎসা পেশাজীবী, ডিজিটাল নির্মাতা এবং অন্যান্য উচ্চদক্ষতার পেশাজীবীরা পাঁচ বছর মেয়াদি ভিসা অব্যাহতি কার্ড পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। যোগ্যতার মানদণ্ডের মধ্যে রয়েছে:
- বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীরা
- ওইসিডি দেশগুলোর স্টেম বিশেষজ্ঞরা
- আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা
- বিশ্বজুড়ে খ্যাতি আছে এমন শিল্পী ও ক্রীড়াবিদরা
- অগ্রাধিকার খাতের প্রযুক্তি পেশাজীবীরা
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুল অনুসারী আছে এমন পর্যটন দূতরা
এই কার্ডের আওতায় পাঁচ বছরের মেয়াদে প্রতিবার সর্বোচ্চ ৯০ দিন থাকা যাবে। এতে ইলেকট্রনিক পরিচয় শনাক্তকরণ সুবিধাও থাকতে পারে। অনুমোদিত হলে এই সংস্কারগুলো ভিয়েতনামকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বৈশ্বিক প্রতিভা ও দীর্ঘমেয়াদি বাসিন্দাদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করবে।
পর্যটন ও অর্থনীতিতে প্রভাব: আন্তর্জাতিক আগমনে উল্লম্ফন
ভিয়েতনামের ভিসা সংস্কারে ইতিমধ্যেই সুফল মিলছে। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশটি ১০৬ লাখের বেশি বিদেশি পর্যটককে স্বাগত জানিয়েছে—আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০.৭ শতাংশ বেশি। ইউরোপীয়দের আগ্রহও বেড়েছে: পোল্যান্ড থেকে ভ্রমণসংক্রান্ত অনুসন্ধান ৩০৬ শতাংশ বেড়েছে; চেক প্রজাতন্ত্র ও সুইজারল্যান্ডে বেড়েছে যথাক্রমে ১৫৫ ও ৬৮ শতাংশ। ২০২৫ সালে ২ কোটি ২০ লাখ থেকে ২ কোটি ৩০ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়েছে সরকার, যা মহামারির আগের মাত্রাকেও ছাড়িয়ে যাবে।
ইউরোপীয় ভ্রমণকারীদের জনপ্রিয় গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে দা নাং, হো চি মিন সিটি, হ্যানয়, ফুকোক ও ন্যা ট্রাং। এসব জায়গায় ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি, আধুনিক উন্নয়ন ও নৈসর্গিক প্রাকৃতিক দৃশ্যের মেলবন্ধন রয়েছে। ভিসা ছাড়া প্রবেশের সুযোগ বাড়ায় পর্যটন ও আতিথেয়তা খাত উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে; এতে ভ্রমণের সংখ্যা ও থাকার মেয়াদ—দুটিই বাড়তে পারে।
পর্যটনের বাইরেও: বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবন জোরদার
ভিয়েতনামের ভিসা নীতির ব্যাপক সংস্কারের বৃহত্তর লক্ষ্য হলো শুধু পর্যটন নয়, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়েও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদার করা। ব্যবসায়ী নেতা, বিনিয়োগকারী ও উদ্ভাবকদের জন্য ভ্রমণ সহজ করে ভিয়েতনাম নিজেকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতার কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে। অগ্রাধিকার খাতগুলোতে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা, ডিজিটাল নির্মাতা ও উচ্চদক্ষতার পেশাজীবীদের আকৃষ্ট করবে বলেও আশা করা হচ্ছে এই সংস্কার থেকে, যা জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে ভিয়েতনামের উত্তরণে সহায়তা করবে।
শর্ত ও আবেদনের প্রক্রিয়া: ভ্রমণকারীদের যা জানা দরকার
ভিসা অব্যাহতির সুবিধা পেতে ভ্রমণকারীদের কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে:
- বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে, যার মেয়াদ আগমনের পর অন্তত ছয় মাস থাকবে এবং অন্তত দুটি ফাঁকা পৃষ্ঠা থাকবে
- ভিয়েতনামের আইন অনুযায়ী প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা বা বহিষ্কারের আওতায় থাকা যাবে না
- ফেরত বা পরবর্তী গন্তব্যের ভ্রমণ এবং আবাসনের প্রমাণ দিতে হবে (কিছু ক্ষেত্রে)
- বিশেষ শ্রেণির (বিশেষজ্ঞ, বিনিয়োগকারী, ক্রীড়াবিদ) ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র বা মনোনয়নপত্র দিতে হবে
ভিসা অব্যাহতি কার্ড ইলেকট্রনিকভাবে অথবা চিপযুক্ত ভৌত কার্ড হিসেবে দেওয়া হয়; দুটিরই আইনি বৈধতা সমান। অব্যাহতির মেয়াদ পাঁচ বছরের বেশি হতে পারবে না এবং পাসপোর্টের অবশিষ্ট মেয়াদের চেয়ে অন্তত ৩০ দিন কম হতে হবে। প্রতিবার প্রবেশে সর্বোচ্চ ৯০ দিন থাকা যাবে; প্রয়োজন হলে মেয়াদ বাড়ানো বা অন্য ধরনের ভিসায় রূপান্তরের সুযোগ থাকবে।
যাঁরা ভিসা ছাড়া প্রবেশের যোগ্য নন, তাঁদের জন্য ভিয়েতনামের ই-ভিসা ব্যবস্থা একটি সুবিধাজনক বিকল্প। অনলাইনে আবেদন করা যায় এবং সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে অনুমোদন দেওয়া হয়।
চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়: ভারসাম্য রক্ষা
এই অগ্রগতি সত্ত্বেও আঞ্চলিক প্রতিযোগীদের কয়েকটির মতো ভিসা ব্যবস্থায় নমনীয়তা অর্জনে ভিয়েতনামকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। শিল্প খাতের নেতারা মৌসুমি ভিসা, জাতীয়তাভিত্তিক চুক্তি এবং ব্যবসায়িক ভ্রমণকারী ও নিয়মিত ভ্রমণকারীদের জন্য বিশেষ পাসের মতো আরও নমনীয় ভিসা ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দিয়েছেন। সুনামসম্পন্ন সংস্থার মাধ্যমে বুকিং করা পর্যটকদের জন্য শর্তসাপেক্ষ ভিসা অব্যাহতি এবং পরীক্ষামূলক মৌসুমি ছাড়ের প্রস্তাবও রয়েছে।
ভিসা নীতির পাশাপাশি দীর্ঘ সময় থাকা ও বারবার ভ্রমণে উৎসাহ দিতে ভিয়েতনামকে সেবার মান বাড়ানো, অবকাঠামো উন্নত করা এবং স্বতন্ত্র পর্যটন পণ্য তৈরি করতে হবে। সেবার মানে বৈষম্য, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, দূষণ এবং পর্যটনের ভরা মৌসুমে দুর্বল ব্যবস্থাপনা—এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য ভিসা নীতির উন্নয়ন, অবকাঠামোতে বিনিয়োগ, বিপণন জোরদার, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন প্রচারে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সংক্ষেপে
- ভিয়েতনামের ২০২৫ সালের ভিসা সংস্কারে বিলিয়নিয়ার, পণ্ডিত, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক অব্যাহতি চালু হয়েছে; উদ্দেশ্য বৈশ্বিক প্রতিভা ও বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা।
- ১২টি দেশের নাগরিক—যার মধ্যে জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া রয়েছে—২০২৮ সালের মার্চ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪৫ দিন ভিসা ছাড়া ভিয়েতনামে প্রবেশ করতে পারবেন। পোল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র ও সুইজারল্যান্ডের নাগরিকেরা ২০২৫ সালে পর্যটনের জন্য সাময়িক অব্যাহতি পাবেন।
- ই-ভিসা ব্যবস্থা এখন সব দেশের নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত; এতে একাধিকবার প্রবেশসহ সর্বোচ্চ ৯০ দিন থাকা যায় এবং অনলাইনে আবেদন করা সহজ হয়েছে।
- প্রস্তাবিত গোল্ডেন ভিসা ও পাঁচ বছর মেয়াদি অব্যাহতি কার্ড দীর্ঘমেয়াদি বাসিন্দা, বিনিয়োগকারী ও উদ্ভাবকদের আরও আকৃষ্ট করতে পারে।
- ভিসা সংস্কারে পর্যটন ইতিমধ্যেই চাঙা হয়েছে; ইউরোপীয় পর্যটকের আগমনে রেকর্ড বৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৫ সালে ২ কোটি ২০ লাখ থেকে ২ কোটি ৩০ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্য সরকারের।
- বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদার করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ গন্তব্য হিসেবে দেশকে প্রতিষ্ঠা করা ভিয়েতনামের বৃহত্তর কৌশলের লক্ষ্য।
- সেবার মান ও অবকাঠামো নিয়ে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, তবে চলমান সংস্কার ও বিনিয়োগ ভিয়েতনামের বৈশ্বিক আকর্ষণ বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।






