ভিয়েতনামি নাশতা: বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের নতুন অবশ্য-সংগ্রহযোগ্য স্মারক
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্যটকেরা ভিয়েতনামের সংস্কৃতিকে যেভাবে উপভোগ করেন, তাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। শুধু দর্শনীয় স্থান ঘোরা কিংবা ফো ও বান মির মতো জনপ্রিয় খাবারের স্বাদ নেওয়াতেই আর সন্তুষ্ট নন তাঁরা। ক্রমেই বাড়ছে এমন আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা, যাঁরা স্যুটকেস ভরে নিয়ে যাচ্ছেন ভিয়েতনামি নাশতা—সাধারণ এসব খাবারকে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্মারকে পরিণত করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভ্রমণাভ্যাসের পরিবর্তনে জোর পাওয়া এই প্রবণতা ভিয়েতনামের পর্যটন ও খাদ্যশিল্পকে নতুন রূপ দিচ্ছে, পাশাপাশি দেশটির রন্ধনসংস্কৃতি ছড়িয়ে দিচ্ছে বিশ্বজুড়ে।
সূচিপত্র
- ভিয়েতনামি নাশতা: বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের নতুন অবশ্য-সংগ্রহযোগ্য স্মারক
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেভাবে ভিয়েতনামি নাশতার উন্মাদনা ছড়াল
- ফো থেকে ভাজা নাশতা: রন্ধনপর্যটনে পরিবর্তন
- ভিয়েতনামি নাশতা এত আকর্ষণীয় কেন?
- আঞ্চলিক স্বাদ ও রন্ধনবৈচিত্র্য
- অর্থনৈতিক প্রভাব: দ্রুত বেড়ে ওঠা নাশতার বাজার
- বিশ্বের ব্র্যান্ড ও স্থানীয় উদ্ভাবকেরা
- ঐতিহ্যবাহী স্মারকের বদলে পর্যটকেরা নাশতা বেছে নিচ্ছেন কেন?
- কনভিনিয়েন্স স্টোর ও আধুনিক খুচরা বিক্রির ভূমিকা
- রাস্তার খাবারের সংস্কৃতি: ভিয়েতনামের নাশতার জগতের প্রাণ
- পর্যটনকেন্দ্র ও নাশতার গন্তব্য
- স্বাস্থ্য, উদ্ভাবন ও ভিয়েতনামি নাশতার ভবিষ্যৎ
- বৃহত্তর প্রভাব: বিশ্বজুড়ে ভিয়েতনামি রন্ধনসংস্কৃতির প্রসার
- সংক্ষেপে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেভাবে ভিয়েতনামি নাশতার উন্মাদনা ছড়াল
পর্যটকদের মধ্যে ভিয়েতনামি নাশতা নিয়ে বিপুল আগ্রহের পেছনে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব। টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্ম এখন ভার্চ্যুয়াল ভ্রমণ-পরামর্শকের কাজ করছে, লাখো মানুষকে ভিয়েতনামের প্রাণবন্ত খাবারের জগৎ ঘুরে দেখতে উৎসাহিত করছে। #snackvietnam হ্যাশট্যাগটি ভাইরাল হয়েছে। বিদেশিদের ইনস্ট্যান্ট নুডলস, নারকেলের কুকি ও স্থানীয় মিষ্টি কিনে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও লাখ লাখবার দেখা হচ্ছে।
এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ ফিলিপাইনের পর্যটক ড্যানিকা রেফে। ভিয়েতনামে এক মাসের বেশি সময় কাটিয়ে তিনি প্রায় ৭০ লাখ ভিয়েতনামি ডং (প্রায় ২৭৫ মার্কিন ডলার) মূল্যের নাশতা দুই স্যুটকেসে ভরে দেশে ফেরেন। নাশতা ও ইনস্ট্যান্ট কফির প্যাকেট গুছিয়ে নেওয়ার দৃশ্যসহ তাঁর টিকটক ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়। এতে অনেকে নিজেরাও “ভিয়েতনামি নাশতার সংগ্রহ” নিয়ে ফিরতে উৎসাহিত হন। অনলাইন প্রবণতা এবং দেশে প্রিয়জনদের সঙ্গে এসব স্বাদ ভাগ করে নেওয়ার ইচ্ছায় তাঁর কয়েকজন বন্ধু আরও বেশি খরচ করেছেন বলে জানা গেছে।
এই প্রবণতা শুধু ভিয়েতনামে সীমাবদ্ধ নয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়েই পর্যটকেরা ঐতিহ্যবাহী স্মারকের বদলে খাবার হিসেবে উপভোগ করা যায় এমন স্মারক বেশি বেছে নিচ্ছেন। সম্প্রতি এক ব্রিটিশ পর্যটক ২৮ কেজি মালয়েশীয় নাশতা দেশে নিয়ে গিয়ে ভাইরাল হন। এ ঘটনা ভ্রমণাভ্যাসের আঞ্চলিক পরিবর্তন এবং বাস্তব জীবনের আচরণে ডিজিটাল প্রবণতার ক্রমবর্ধমান প্রভাব তুলে ধরেছে।
ফো থেকে ভাজা নাশতা: রন্ধনপর্যটনে পরিবর্তন
আগে ভিয়েতনামে বেড়াতে আসা বিদেশি পর্যটকেরা রেস্তোরাঁয় ফো, বান মি কিংবা বুন চা-র মতো জনপ্রিয় খাবার খুঁজতেন। এখন আগ্রহের কেন্দ্র হয়েছে রাস্তার নাশতা ও স্থানীয় খাবার, যেগুলোর সন্ধান প্রায়ই মেলে অনলাইন খাবারবিষয়ক পর্যালোচনা ও ইনফ্লুয়েন্সারদের সুপারিশে। ভিএনএ ট্রাভেলের প্রধান নির্বাহী হোয়াং এনগিয়া দাতের ভাষ্য, পর্যটকেরা এখন খাবারের নিবিড় অভিজ্ঞতা চান—ফুটপাতে নাশতার স্বাদ নেওয়া, স্থানীয় ড্রাফট বিয়ার পান করা এবং bo bia (চীনা সসেজ দিয়ে তৈরি স্প্রিং রোল)-এর মতো বিশেষ খাবার বিক্রির রাস্তার ঠেলাগাড়ি খুঁজে বের করা।
হ্যানয়ের একটি মিষ্টি স্যুপের দোকানের মালিক থুই জানিয়েছেন, স্থানীয় মিষ্টান্ন—যেমন কাসাভার পুডিং এবং আঠালো চালের মধ্যে মুড়ে গ্রিল করা কলা—চেখে দেখতে আগ্রহী বিদেশি ক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে। পর্যটনকেন্দ্রগুলোর কনভিনিয়েন্স স্টোর ও সুপারমার্কেটেও এখন আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়, যা মাত্র কয়েক বছর আগেও ছিল বিরল।
ভিয়েতনামি নাশতা এত আকর্ষণীয় কেন?
বৈচিত্র্য, সাশ্রয়ী দাম ও অনন্য স্বাদের কারণে ভিয়েতনামি নাশতা আলাদা। অনেক নাশতাই তৈরি হয় স্থানীয়ভাবে পাওয়া সাধারণ উপকরণ—যেমন কচি সবুজ চাল, নারকেল কিংবা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফল—দিয়ে; তবে সেগুলো থেকে তৈরি হয় নানা রকমের মজাদার খাবার। গ্রিল করা নারকেলের কুকি, হাতে টেনে বানানো মাল্ট চিনির মিষ্টি, কলার বড়া এবং মচমচে নোনতা চালের কেক—এমন আরও অনেক খাবার দর্শনার্থীদের মন ও রসনাকে জয় করেছে।
নিউজিল্যান্ডের পর্যটক জেন হ্যানসনের কাছে ভিয়েতনামি নাশতার বৈচিত্র্য ও কম দাম ছিল বিস্ময়কর। তাঁর দেশে রাস্তার খাবার তেমন প্রচলিত নয়, আর নাশতা বলতে সাধারণত কুকি বা চিপসই বোঝায়। ভিয়েতনামে তিনি keo chi (হাতে টেনে তৈরি মাল্ট চিনির মিষ্টি, যা নারকেল কুচিসহ ওয়েফারের মধ্যে মোড়ানো হয়) এবং ফলের সিরাপ দেওয়া বরফকুচি খুঁজে পান, যা তাঁর পরিচিত দামের তুলনায় অনেক সস্তা।
হ্যানয়ে বসবাসরত জার্মান প্রবাসী ম্যাক্সিমিলিয়ান রলফের কাছে নাশতা খাওয়া এখন দৈনন্দিন অভ্যাস। তিনি কলার বড়া ও মাছের সস এবং কাঁচা পেঁপে দিয়ে খাওয়া নোনতা চালের কেক পছন্দ করেন। তাঁর ভাষায়, এসব খাবার “নেশা ধরিয়ে দেয়” এবং ভিয়েতনামে তাঁর অভিজ্ঞতার স্মরণীয় অংশ।
আঞ্চলিক স্বাদ ও রন্ধনবৈচিত্র্য
ভিয়েতনামের নাশতার সংস্কৃতিতে আঞ্চলিক রন্ধনঐতিহ্যের গভীর প্রভাব রয়েছে। উত্তরে banh gio (পিরামিড আকৃতির চালের পিঠা) এবং xoi (আঠালো চাল)-এর মতো হালকা ও মৃদু স্বাদের নাশতা জনপ্রিয়। মধ্যাঞ্চলে banh beo (ভাপে তৈরি চালের কেক)-এর মতো ঝাল ও জোরালো স্বাদের খাবার পছন্দ করা হয়। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চল পরিচিত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় উপকরণে তৈরি অপেক্ষাকৃত মিষ্টি নাশতার জন্য; যেমন banh trang tron (চালের কাগজের সালাদ) ও বেন ত্রের নারকেলের মিষ্টি।
এই বৈচিত্র্যের কারণে দেশের প্রতিটি প্রান্তে পর্যটকেরা নতুন ও আকর্ষণীয় কিছু খুঁজে পান, ফলে নাশতা খুঁজে বেড়ানো নিজেই এক অভিযানে পরিণত হয়।
অর্থনৈতিক প্রভাব: দ্রুত বেড়ে ওঠা নাশতার বাজার
নাশতাকে ঘিরে পর্যটনের উত্থান কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাময়িক প্রবণতা নয়—এটি অর্থনীতির একটি উল্লেখযোগ্য চালিকাশক্তি। ২০২৩ সালে ভিয়েতনামের নাশতার বাজারের মূল্য ছিল ৩২০ কোটি মার্কিন ডলার। আয় বৃদ্ধি, নগরায়ণ ও ভোক্তাদের পছন্দের পরিবর্তনে বাজারটি দ্রুত বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পর্যটকেরা খাবার ও পানীয়তে ভ্রমণ বাজেটের উল্লেখযোগ্য অংশ খরচ করে সরাসরি এই প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখেন। শিল্পখাতের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পর্যটকেরা তাঁদের মোট ব্যয়ের প্রায় ২৪ শতাংশ রন্ধন-অভিজ্ঞতার পেছনে ব্যয় করেন। এর মধ্যে নাশতা ও রাস্তার খাবারের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো পণ্যের পরিসর বাড়িয়েছে এবং মোড়ক উন্নত করেছে। সুপারমার্কেট, কনভিনিয়েন্স স্টোর ও বিশেষায়িত দোকানে এখন সহজে বহনযোগ্য নানা ধরনের নাশতা পাওয়া যায়। ফলে পর্যটকদের পক্ষে ভিয়েতনামের স্বাদ দেশে নিয়ে যাওয়া সহজ হয়েছে।
বিশ্বের ব্র্যান্ড ও স্থানীয় উদ্ভাবকেরা
ভিয়েতনামের নাশতার বাজারে দেশি ও আন্তর্জাতিক—দুই ধরনের ব্র্যান্ডই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। মন্ডেলেজ (ওরিও, কিন দো), পেপসিকো (লে’স, পোকা) ও ওরিয়ন (চোকো পাই)-এর মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান কিন দো করপোরেশন ও ইউআরসি ভিয়েতনামের (জ্যাক ‘এন জিল) মতো স্থানীয় জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। কোরিয়া, জাপান ও পশ্চিমা দেশ থেকে আমদানি করা নাশতাও জনপ্রিয় হচ্ছে, বিশেষত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় তরুণদের মধ্যে।
একই সময়ে স্থানীয় উদ্যোক্তারা নতুন নাশতার ধারণা নিয়ে আসতে এবং বৈশ্বিক ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কাজে লাগাচ্ছেন। বেন ত্রের নারকেলের মিষ্টির মতো ভিয়েতনামি নাশতা আন্তর্জাতিক পরিচিতি পাচ্ছে। স্বাস্থ্যসচেতন ও উদ্ভাবনী পণ্যসমৃদ্ধ প্রিমিয়াম নাশতার বাজারও বাড়ছে।
ঐতিহ্যবাহী স্মারকের বদলে পর্যটকেরা নাশতা বেছে নিচ্ছেন কেন?
অনেক পর্যটকের কাছে নাশতা স্মারকের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসার কয়েকটি কারণ রয়েছে:
- ব্যবহারিকতা: নাশতা সহজে গুছিয়ে নেওয়া, ভাগ করে খাওয়া ও পরিবেশন করা যায়; তাই বন্ধু ও পরিবারের জন্য উপহার হিসেবেও আদর্শ।
- সাশ্রয়ী দাম: হস্তশিল্প বা বিলাসপণ্যের তুলনায় ভিয়েতনামি নাশতা সস্তা, অথচ স্বাদ ও অভিনবত্বের দিক থেকে দারুণ মূল্য দেয়।
- অকৃত্রিমতা: খাবার হিসেবে উপভোগ করা যায় এমন স্মারক স্থানীয় সংস্কৃতি ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি পরিচয় করায়, ফলে পর্যটকেরা দেশে ফিরে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আবার উপভোগ করতে পারেন।
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণ: অনলাইনে নাশতার সংগ্রহ ও স্বাদ যাচাইয়ের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করা ভ্রমণকারীদের জন্য তাঁদের অভিযান নথিবদ্ধ ও প্রচারের উপায় হয়ে উঠেছে, যা প্রবণতাটিকে আরও জোরদার করছে।
এক পর্যটকের কথায়, “ভিয়েতনামি খাবার দারুণ আর সাশ্রয়ী!”—ভ্রমণবিষয়ক ফোরাম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই একই অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।
কনভিনিয়েন্স স্টোর ও আধুনিক খুচরা বিক্রির ভূমিকা
কনভিনিয়েন্স স্টোর ও আধুনিক খুচরা বিক্রির প্রসার নাশতা ঘিরে পর্যটনের উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। স্থানীয় ও বিদেশি—দুই ধরনের ভিয়েতনামি ক্রেতাই নাশতা কিনতে ক্রমে বেশি করে মিনিমার্ট ও কনভিনিয়েন্স স্টোরে যাচ্ছেন। এসব দোকানে প্রতিযোগিতামূলক দাম, আকর্ষণীয় ছাড় ও পণ্যের বিস্তৃত বৈচিত্র্য থাকায় হঠাৎ কেনাকাটার জন্য এগুলো জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে।
এনআইকিউর ২০২৪ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, ভিয়েতনামের ভোক্তারা পণ্য বাছাইয়ে আরও বিচক্ষণ ও দামসচেতন হয়ে উঠছেন। তবে তাঁরা নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ডের প্রতি অনুগত এবং মানসম্মত পণ্যের জন্য বেশি দাম দিতেও রাজি। পর্যটকদের মধ্যেও একই প্রবণতা দেখা যায়। তাঁরা প্রায়ই পরিচিত স্থানীয় ব্র্যান্ড খোঁজেন এবং দোকানের প্রচার ও ডিজিটাল বিপণনে প্রভাবিত হন।
রাস্তার খাবারের সংস্কৃতি: ভিয়েতনামের নাশতার জগতের প্রাণ
ভিয়েতনামের রাস্তার খাবারের সংস্কৃতি কিংবদন্তিতুল্য, আর এর কেন্দ্রেই রয়েছে নাশতা। ভোরের বাজার থেকে শুরু করে সন্ধ্যার জমজমাট দোকান—বিক্রেতারা স্থানীয় ও পর্যটক সবার জন্য নানা রকমের খাবার পরিবেশন করেন। ফুটপাতে বসে খাওয়া একটি সম্মিলিত অভিজ্ঞতা, যার নিয়মকানুন সহজ এবং যাতে নতুন কিছু চেখে দেখার আগ্রহ রয়েছে।
ভ্রমণকারীদের পরামর্শ দেওয়া হয়, স্থানীয়রা যখন খান তখন খেতে, জমজমাট দোকান খুঁজতে এবং পাশের টেবিলের মানুষ যা খাচ্ছেন তা চেখে দেখতে। খাবারের সঙ্গে নানা মসলা ও সস অপরিহার্য; এগুলো দিয়ে খাওয়াদাওয়াকে নিজের রুচিমতো সাজিয়ে নেওয়া যায়। অনেকের কাছে ভিয়েতনামে নাশতা খাওয়ার অভিজ্ঞতাটিও খাবারের মতোই স্মরণীয়—এটি ভাষার বাধা পেরিয়ে মানুষ ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেয়।
পর্যটনকেন্দ্র ও নাশতার গন্তব্য
হ্যানয়, হো চি মিন সিটি, দা নাং ও হোই আনের মতো বড় শহরগুলো নাশতা ঘিরে পর্যটনের প্রবণতায় এগিয়ে রয়েছে। হো চি মিন সিটির বেন এনগে স্ট্রিট ফুড মার্কেটে নতুনদের জন্য ভিয়েতনামি খাবারের সহজ পরিচিতি মেলে। আর হ্যানয়ের পুরোনো শহরাঞ্চলে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী নাশতা ও মিষ্টান্নের বিপুল সমাহার। প্রতিটি গন্তব্যে রয়েছে আঞ্চলিক বিশেষ খাবার, তাই প্রতিটি জায়গাতেই নতুন কিছু পাওয়া যায়।
স্বাস্থ্য, উদ্ভাবন ও ভিয়েতনামি নাশতার ভবিষ্যৎ
নাশতার বাজার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য ও টেকসই উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হয়ে উঠছে। ভোক্তারা পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ, কম চর্বিযুক্ত এবং উপকরণের স্বচ্ছ বিবরণসহ নাশতা খুঁজছেন। গ্লুটেনমুক্ত, কিটো ও উদ্ভিদভিত্তিক খাবারের জনপ্রিয়তা বাড়ছে, আর এসব চাহিদা মেটাতে কোম্পানিগুলো নতুন পণ্য উদ্ভাবন করছে।
ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রবণতা বাজারকে ক্রমেই প্রভাবিত করছে। দ্রুত বাড়ছে ই-কমার্স ও সরাসরি ভোক্তার কাছে বিক্রির মাধ্যম। মহামারির সময় থেকে গতি পাওয়া ডেলিভারি অ্যাপ ও অনলাইনে মুদি কেনাকাটার কারণে স্থানীয় ও পর্যটক—সবার জন্য প্রিয় নাশতা পাওয়া আগের চেয়ে সহজ হয়েছে।
বৃহত্তর প্রভাব: বিশ্বজুড়ে ভিয়েতনামি রন্ধনসংস্কৃতির প্রসার
পর্যটকদের মধ্যে ভিয়েতনামি নাশতার জনপ্রিয়তা কেবল সাময়িক প্রবণতা নয়—এটি সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। ভ্রমণকারীরা নারকেলের কুকি, চালের ক্র্যাকার ও ইনস্ট্যান্ট নুডলসের প্যাকেট দেশে নিয়ে গিয়ে বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের ভিয়েতনামের স্বাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তৃণমূল পর্যায়ের এই রন্ধন-কূটনীতি বৈশ্বিক পরিসরে দেশটির পরিচিতি বাড়াতে এবং স্থানীয় ব্যবসায় সহায়তা করতে ভূমিকা রাখে।
হ্যানয় পর্যটন সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট এনগুয়েন তিয়েন দাত জোর দিয়ে বলেন, পর্যটন উন্নয়নে খাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাঁর মতে, পর্যটকেরা ভিয়েতনামি নাশতা দেশে নিয়ে গেলে দেশটির রন্ধনসংস্কৃতি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে; নাশতা নিয়ে ফেরার প্রতিটি ঘটনাই হয়ে ওঠে দেশের পরিচিতি তুলে ধরার এক উদ্যোগ।
সংক্ষেপে
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রবণতা এবং অকৃত্রিম খাবারের অভিজ্ঞতার আকাঙ্ক্ষায় আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে ভিয়েতনামি নাশতা পছন্দের স্মারক হয়ে উঠেছে।
- ফো ও বান মির মতো ঐতিহ্যবাহী খাবারের পাশাপাশি রাস্তার নাশতা ও স্থানীয় খাবারের চাহিদাও এখন বাড়ছে। পর্যটকেরা ভিড় করছেন কনভিনিয়েন্স স্টোর, বাজার ও রাস্তার খাবারের দোকানে।
- নাশতাকে ঘিরে পর্যটনের প্রবণতা ভিয়েতনামের খাদ্য ও পানীয়শিল্পকে চাঙা করছে, স্থানীয় ব্যবসায় সহায়তা করছে এবং পণ্য ও মোড়কে উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করছে।
- আঞ্চলিক বৈচিত্র্য, সাশ্রয়ী দাম ও অনন্য স্বাদের কারণে ভিয়েতনামি নাশতা সারা বিশ্বের পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
- ভোক্তাদের পছন্দের পরিবর্তন ও বৈশ্বিক খাদ্যপ্রবণতার প্রতিফলন হিসেবে স্বাস্থ্যসচেতন এবং প্রিমিয়াম নাশতার বাজার গড়ে উঠছে।
- ভিয়েতনামি নাশতা দেশে নিয়ে গিয়ে পর্যটকেরা দেশটির রন্ধনসংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে এবং শীর্ষ খাদ্যগন্তব্য হিসেবে এর ক্রমবর্ধমান সুনাম গড়ে তুলতে সহায়তা করছেন।






