ইন্দোনেশিয়ার সাউন্ড হোরেগ: সংস্কৃতি, বিতর্ক ও নিয়ন্ত্রণের দাবি

পড়তে 8 মিনিট
ইন্দোনেশিয়ার সাউন্ড হোরেগ: সংস্কৃতি, বিতর্ক ও নিয়ন্ত্রণের দাবি

সাউন্ড হোরেগের উত্থান: ইন্দোনেশিয়ার তুমুল শব্দের পথ-উৎসব

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইন্দোনেশিয়াজুড়ে, বিশেষ করে পূর্ব ও মধ্য জাভায়, পথের এক অনন্য ও তুমুল শব্দের বিনোদন ছড়িয়ে পড়েছে। জাভানিজ শব্দ “কাঁপা” থেকে আসা সাউন্ড হোরেগ নামে পরিচিত এই আয়োজনে ট্রাক বা নৌকার ওপর উঁচু করে স্পিকারের স্তূপ বসিয়ে বিয়ে, কার্নিভাল, ধর্মীয় উৎসব, এমনকি রাজনৈতিক সমাবেশের সময় পাড়ায় পাড়ায় বেস-প্রধান গান বাজানো হয়। অনেকের কাছে সাউন্ড হোরেগ উৎসব ও সামাজিক সংহতির প্রতীক, যা সাধারণ অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত দৃশ্যে রূপ দেয়। তবে অন্যদের কাছে এটি জনদুর্ভোগ, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সামাজিক সংঘাতের কারণ হয়ে উঠেছে। এ নিয়ে তীব্র জাতীয় বিতর্ক চলছে, যেখানে এখন ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ, সরকারি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীও যুক্ত হয়েছে।

সূচিপত্র
  1. সাউন্ড হোরেগের উত্থান: ইন্দোনেশিয়ার তুমুল শব্দের পথ-উৎসব
  2. সাউন্ড হোরেগ কী?
  3. সংস্কৃতি, পরিচয় ও সাউন্ড হোরেগের অর্থনীতি
  4. জনরোষ: স্বাস্থ্য, দুর্ভোগ ও সামাজিক সংঘাত
  5. ধর্মীয় ফতোয়া ও এমইউআইয়ের ভূমিকা
  6. সরকার ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া
  7. সাউন্ড হোরেগ ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন
  8. সমাধানের পথ: নিয়ন্ত্রণ, সংলাপ ও সাংস্কৃতিক ভারসাম্য
  9. সংক্ষেপে

সাউন্ড হোরেগ কী?

সাউন্ড হোরেগ কেবল জোরে গান বাজানো নয়—এটি এক সর্বগ্রাসী অভিজ্ঞতা। ট্রাক বা বড় যানবাহনে শক্তিশালী অ্যাম্প্লিফায়ার, সাবউফার ও ঝলমলে আলোসহ বিশেষভাবে তৈরি সাউন্ড সিস্টেম বসানো হয়। এসব চলমান অডিও সেটআপ রাস্তায় শোভাযাত্রা করে; ইলেকট্রনিক ড্যান্স মিউজিক, দাংদুত কোপলো ও রিমিক্সের তালে মেতে ওঠেন তরুণ-তরুণী ও দর্শকেরা। শব্দ এত তীব্র হয় যে জানালা কাঁপে, দেয়াল ঝনঝন করে এবং কিছু ক্ষেত্রে সম্পত্তির ক্ষতিও হয়।

সাউন্ড হোরেগের সূচনা খুঁজে পাওয়া যায় পূর্ব জাভায় ১৯৭০-এর দশকে। তখন পশ্চিমা রক ও পপ সংগীতের প্রতি আগ্রহ থেকে উন্নতমানের সাউন্ড সিস্টেমের চাহিদা তৈরি হয়। সময়ের সঙ্গে এসব সাউন্ড সিস্টেম পারিবারিক সমাবেশ থেকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত কার্নিভাল পর্যন্ত স্থানীয় উদ্‌যাপনের কেন্দ্রীয় অংশ হয়ে ওঠে। কোভিড-১৯ মহামারির পর এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়ে যায়, কারণ মানুষ খোলা জায়গায় উদ্‌যাপনের নতুন উপায় খুঁজছিল। আজ স্বাধীনতা দিবসের শোভাযাত্রা, ধর্মীয় উৎসব, এমনকি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানেও সাউন্ড হোরেগের নিয়মিত উপস্থিতি রয়েছে। মৌসুমের ব্যস্ত সময়ে কিছু আয়োজক উল্লেখযোগ্য আয় করেন।

সংস্কৃতি, পরিচয় ও সাউন্ড হোরেগের অর্থনীতি

অনেক ইন্দোনেশীয়ের কাছে, বিশেষ করে তরুণ ও শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর কাছে, সাউন্ড হোরেগ বিনোদনের চেয়ে বেশি কিছু—এটি পরিচয় ও সমবেত অভিব্যক্তির একটি মাধ্যম। সমাজবিজ্ঞানীরা একে তৃণমূল পর্যায়ের উদ্‌যাপন হিসেবে বর্ণনা করেন; সাশ্রয়ী বিনোদনের সুযোগ সীমিত এমন এলাকায় জনগোষ্ঠীর জন্য জনপরিসর নিজেদের মতো করে ব্যবহার এবং নিজস্ব বিনোদনব্যবস্থা গড়ে তোলার একটি উপায়। সাউন্ড হোরেগ দলের অংশ হওয়া গর্বের বিষয়। “সাউন্ড ব্যাটল” প্রতিযোগিতায় আয়োজকেরা সবচেয়ে জোরালো ও চিত্তাকর্ষক অডিও পরিবেশনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই প্রতিযোগিতা হয় তুমুল, আর বিজয়ীরা খ্যাতি ও বাড়তি ব্যবসা পান।

এর অর্থনৈতিক প্রভাবও উল্লেখযোগ্য। বৃহত্তর মালাং এলাকায় আনুমানিক ১,২০০ জন সাউন্ড হোরেগ পরিচালনাকারী রয়েছেন; তাঁদের মধ্যে ৫০০ জনের প্রতিষ্ঠানে হাজারো মানুষ কাজ করেন বলে জানা গেছে। একটি সাউন্ড হোরেগ সেটআপ ভাড়া নিতে ২০ লাখ থেকে ১০ কোটি রুপিয়াহ (প্রায় ১২১ থেকে ৯,৪০০ মার্কিন ডলার) পর্যন্ত খরচ হতে পারে। এমন এক অঞ্চলে এটি বড় অঙ্কের অর্থ, যেখানে মাসিক ন্যূনতম মজুরি ২০ লাখ রুপিয়াহর সামান্য বেশি। আগস্ট মাসে, যখন ইন্দোনেশিয়া স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন করে, তখন কোনো কোনো আয়োজক এক মাসে ৫০ কোটি রুপিয়াহর (৩০ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি) আয় করতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

সাউন্ড হোরেগের প্রতি পূর্ব জাভার আইন ও মানবাধিকার মন্ত্রণালয়েরও নজর পড়েছে। স্থানীয় সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনের স্বীকৃতি হিসেবে সাউন্ড সিস্টেমটির মেধাস্বত্ব (আইপিআর) দেওয়ার প্রস্তাব করেছে মন্ত্রণালয়। সমর্থকদের যুক্তি, এতে আরও ভালো নিয়ন্ত্রণ ও স্বীকৃতি আসতে পারে। তবে সমালোচকেরা আশঙ্কা করছেন, এতে এমন একটি চর্চা বৈধতা পেতে পারে, যা ইতিমধ্যে সামাজিক টানাপোড়েন ও শব্দদূষণ ঘটাচ্ছে।

জনরোষ: স্বাস্থ্য, দুর্ভোগ ও সামাজিক সংঘাত

জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও সাউন্ড হোরেগ নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই বেড়েছে। জাভাজুড়ে বাসিন্দারা শব্দদূষণ, সম্পত্তির ক্ষতি এবং দৈনন্দিন জীবনে ব্যাঘাতের অভিযোগ জানিয়েছেন। এসব সাউন্ড সিস্টেমের শব্দমাত্রা প্রায়ই ১০০ ডেসিবেল ছাড়িয়ে যায়—যা উড্ডয়নরত জেট বিমানের শব্দের কাছাকাছি এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নিরাপদ বলে বিবেচিত ৮৫ ডেসিবেল সীমার অনেক বেশি। দীর্ঘ সময় এ শব্দের সংস্পর্শে থাকলে স্থায়ী শ্রবণশক্তি হ্রাস, ঘুমের সমস্যা, মানসিক চাপ বৃদ্ধি, এমনকি হৃদ্‌রোগও হতে পারে; শিশু ও বয়স্কদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে বিপদ আরও বেশি।

সাউন্ড হোরেগের সঙ্গে সম্পর্কিত উদ্বেগজনক ঘটনাও ঘটেছে। আগস্টের শুরুতে লুমাজাং জেলার এক নারী সাউন্ড হোরেগ অনুষ্ঠান দেখার সময় মাথা ঘোরার কথা জানানোর পর মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং মারা যান বলে জানা গেছে। আরেক ঘটনায়, শোভাযাত্রার সময় সাউন্ড সিস্টেম পড়ে এক কিশোর ও নয় বছর বয়সী এক শিশু আহত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিশাল সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রাক গেট, সেতুর রেলিং ও সড়কের চিহ্ন ভেঙে ফেলছে। এতে জনক্ষোভ আরও বেড়েছে।

অনেকের কাছে সমস্যাটি শুধু শব্দ নিয়ে নয়, ক্ষমতা ও সামাজিক বৈষম্য নিয়েও। সমালোচকদের যুক্তি, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা—জমির মালিক, ব্যবসায়ী বা গ্রামের কর্মকর্তা—কখনো কখনো নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠায় সাউন্ড হোরেগ ব্যবহার করেন। আপত্তি জানানোর সামর্থ্য বা প্রভাব যাঁদের নেই, তাঁদের কণ্ঠ স্তব্ধ করে শব্দকে অস্ত্রে পরিণত করা হয়। অভিযোগ জানালে সামাজিক প্রতিক্রিয়া, এমনকি ভয়ভীতি দেখানোর মুখেও পড়তে হতে পারে, বিশেষ করে আয়োজকদের পেছনে প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষক থাকলে।

বিজ্ঞাপন

ধর্মীয় ফতোয়া ও এমইউআইয়ের ভূমিকা

২০২৫ সালের জুলাইয়ে বিতর্ক নতুন মাত্রায় পৌঁছায়। ওই সময় ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ ইসলামি ধর্মীয় সংস্থা ইন্দোনেশিয়ান উলামা কাউন্সিলের (এমইউআই) পূর্ব জাভা শাখা একটি ফতোয়া জারি করে জানায়, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মুসলমানদের জন্য সাউন্ড হোরেগ হারাম (নিষিদ্ধ)। বাসিন্দা ও ইসলামি বোর্ডিং স্কুলগুলোর ক্রমবর্ধমান অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ফতোয়াটি দেওয়া হয়। তাঁদের অভিযোগে শব্দ ও জনদুর্ভোগের পাশাপাশি অনুপযুক্ত নাচ, মদ্যপান এবং সাউন্ড হোরেগ অনুষ্ঠানে শিশুদের জন্য অনুপযোগী পরিবেশনার বিষয়ও উঠে আসে।

এমইউআইয়ের ফতোয়া কমিশনের সচিব কে এইচ মিফতাহুল হুদা ব্যাখ্যা করেন, “এ ধরনের কর্মকাণ্ডে পরিবেশের ক্ষতি হলে এবং জনশৃঙ্খলা ব্যাহত হলে, বিষয়টি পুলিশ বা সাটপল পিপির মতো নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। শুধু ফতোয়া দিয়ে এর সমাধান করা যায় না, কারণ ফতোয়া আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়।”

ফতোয়াটি বিশেষভাবে এমন চলমান সাউন্ড হোরেগ অনুষ্ঠানকে লক্ষ্য করেছে, যেখানে শরিয়াহ লঙ্ঘন হয় বা সামাজিক শান্তি বিঘ্নিত হয়। তবে যুক্তিসংগত শব্দমাত্রায় সরকারি বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। কেন্দ্রীয় এমইউআই স্পষ্ট করেছে, তারা কোনো জাতীয় ফতোয়া জারি করেনি; পূর্ব জাভার পাসুরুয়ানের একটি ইসলামি বোর্ডিং স্কুলে আয়োজিত ফোরাম থেকে এই সিদ্ধান্ত এসেছে। তা সত্ত্বেও এই নির্দেশ সরকারি নিয়ন্ত্রণের দাবি জোরালো করেছে এবং ধর্মীয় বিধিবিধান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জনকল্যাণের মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

সরকার ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া

ফতোয়া জারির পর সাউন্ড হোরেগ ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে স্পষ্ট বিধিমালা প্রণয়নের জন্য সরকারকে আহ্বান জানায় এমইউআই। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্মীদল গঠন করে এবং সাউন্ড হোরেগ পরিচালনাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করে সাড়া দিয়েছে। এর ফলে শব্দমাত্রা সীমিত রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সম্মতি নেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। তবে বিধি কার্যকর করা এখনো কঠিন। পুলিশের জনবল ও উপকরণ সীমিত, আর নিয়ম ভাঙার শাস্তিও সামান্য—সাধারণত অল্প জরিমানা বা কয়েক দিনের কারাদণ্ড। মালাং ও ব্লিতারের মতো কিছু শহরে জনসাধারণের রাস্তায় জোরে মাইক বাজানোর ওপর স্থানীয় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে, তবে এসব নিয়ম ধারাবাহিকভাবে কার্যকর করা হয় না।

বিজ্ঞাপন

সাউন্ড হোরেগকে মেধাস্বত্ব দেওয়ার আইন ও মানবাধিকার মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সুরাবায়াভিত্তিক বেতারকেন্দ্র সুয়ারা সুরাবায়ার এক জরিপে দেখা গেছে, উত্তরদাতাদের ৬৩ শতাংশ এ পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন; তাঁদের কারণ চলমান শব্দদূষণ ও জনশৃঙ্খলার সমস্যা। কোনো কোনো শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সমালোচকের যুক্তি, রেওগ বা জারানানের মতো ঐতিহ্যবাহী শিল্পরূপ স্বীকৃতি ও সুরক্ষার বেশি যোগ্য। অন্যদিকে সাউন্ড হোরেগকে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী এবং “সংস্কৃতিবিরোধী” বলে দেখা হয়।

সাউন্ড হোরেগ ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন

সাউন্ড হোরেগ নিয়ে বিতর্ক শুধু শব্দের নয়—এর গভীরে রয়েছে সামাজিক কাঠামোর প্রশ্ন: কে কথা বলার সুযোগ পায়, আর কাকে শুনে যেতে হয়; কে উদ্‌যাপন করে, আর কে ভোগে। সমর্থকেরা একে “জনগণের কণ্ঠ” হিসেবে তুলে ধরেন, এমন এক সমাজে তৃণমূলের ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে, যেখানে জনপরিসর প্রায়ই সীমিত। তবে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন, একটি পূর্ণাঙ্গ সাউন্ড হোরেগ সেটআপ ভাড়া নেওয়ার খরচ সাধারণ গ্রামবাসীর নাগালের বাইরে থাকে। প্রকৃত সুবিধাভোগীরা কখনো কখনো স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, যাঁরা নিজেদের সম্পদ ও প্রভাব প্রদর্শন করতে চান।

যাঁদের ওপর এর শব্দ এসে পড়ে, তাঁদের জন্য—বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু এবং বিশ্রামের প্রয়োজন এমন শ্রমিকদের জন্য—সাউন্ড হোরেগ ভোগান্তির কারণ হতে পারে। অভিযোগ জানালে প্রায়ই বাধা বা এমনকি সহিংসতার মুখে পড়তে হয়। সাম্প্রতিক এক ঘটনায়, অসুস্থ সন্তানের জন্য শান্ত পরিবেশ চেয়ে অনুরোধ করা এক বাবাকে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা মারধর করেন। কার্যত, সাউন্ড হোরেগ একটি “শাব্দিক স্তরবিন্যাস” তৈরি করতে পারে, যেখানে অর্থ ও ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা গ্রামের শব্দপরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করেন, আর অন্যদের নীরবে তা সহ্য করতে হয়।

বিজ্ঞাপন

সমাধানের পথ: নিয়ন্ত্রণ, সংলাপ ও সাংস্কৃতিক ভারসাম্য

বিতর্ক থামার কোনো লক্ষণ না থাকায় বিশেষজ্ঞ ও সমাজনেতারা সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি এবং জনকল্যাণ—দুটোকেই সম্মান জানিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। অর্থনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব বিবেচনায় সাউন্ড হোরেগ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা বাস্তবসম্মত বা ন্যায়সংগত বলে মনে করা হয় না। এর বদলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো অংশগ্রহণমূলক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, পরিচালনাকারীদের কারিগরি প্রশিক্ষণ, যুক্তিসংগত সময়সীমা ও ডেসিবেল সীমা এবং নিয়ম মেনে চলার জন্য প্রণোদনার পক্ষে মত দিচ্ছে।

একজন শিক্ষাবিদ তাঁর বিশ্লেষণে বলেছেন, “এটি জনগোষ্ঠীর কণ্ঠ স্তব্ধ করার বিষয় নয়। বরং উদ্‌যাপনকে এমনভাবে নতুন করে ভাবার বিষয়, যাতে সবাই অংশ নিতে পারে—শুধু তাঁরাই নয়, যাঁদের কথা শোনানোর সামর্থ্য আছে।”

কিছু জনগোষ্ঠী সমঝোতার উপায় পরীক্ষা করে দেখছে; যেমন শোভাযাত্রার সময় সীমিত করা, আবাসিক এলাকা এড়িয়ে অনুষ্ঠানের পথ নির্ধারণ এবং পারস্পরিক সম্মান নিয়ে নাগরিক শিক্ষা প্রচার করা। ধর্মীয় নেতা, ব্যবসায়ী, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বাসিন্দাদের মধ্যে সংলাপের ব্যবস্থা করতে এবং অতিরিক্ত শব্দের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সরকারকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ার নিজস্ব দার্শনিক মূল্যবোধ—যেমন জাতীয় আদর্শ পাঞ্চাশিলা-তে থাকা ন্যায়সংগত ও সভ্য মানবতা, ঐক্য এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের ধারণা—থেকে শিক্ষা নেওয়ারও আহ্বান রয়েছে। এসব নীতির ভিত্তিতে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তুললে ইন্দোনেশিয়া সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ভারসাম্য রক্ষা করতে এবং সাংস্কৃতিক প্রাণচাঞ্চল্য ও সামাজিক সম্প্রীতি—দুটিই ধরে রাখতে পারে।

সংক্ষেপে

  • সাউন্ড হোরেগ ইন্দোনেশিয়ায় পথের জনপ্রিয় কিন্তু বিতর্কিত এক ধরনের বিনোদন, যেখানে জনসমাগমের অনুষ্ঠানে শক্তিশালী চলমান সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা হয়।
  • এই চর্চার গভীর সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক শিকড় রয়েছে। এটি অনেকের আয় ও পরিচয়ের উৎস হলেও স্বাস্থ্যঝুঁকি, সম্পত্তির ক্ষতি এবং সামাজিক সংঘাতও ঘটায়।
  • জনক্ষোভের জেরে ধর্মীয় নির্দেশনা এসেছে; ইন্দোনেশিয়ান উলামা কাউন্সিলের পূর্ব জাভা শাখা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সাউন্ড হোরেগকে হারাম ঘোষণা করেছে।
  • সাউন্ড হোরেগ নিয়ন্ত্রণে সরকার ও পুলিশের উদ্যোগ সীমিত সম্পদ ও বিধি কার্যকরের জটিলতার কারণে বাধার মুখে পড়ছে।
  • এই বিতর্ক সামাজিক ন্যায়বিচার, ক্ষমতা এবং জনপরিসর ব্যবহারের অধিকার নিয়ে বৃহত্তর প্রশ্ন তুলে ধরেছে; পাশাপাশি অংশগ্রহণমূলক নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক সংলাপের দাবি জোরালো হয়েছে।
  • সাউন্ড হোরেগ সামলাতে স্থানীয় মূল্যবোধ ও উদ্ভাবনী সমাধানের সহায়তায় সাংস্কৃতিক উদ্‌যাপন ও জনকল্যাণের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজছে ইন্দোনেশিয়া।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে