দক্ষিণ কোরিয়ার বিদেশি জনসংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে
দক্ষিণ কোরিয়া জনসংখ্যাগত এক মাইলফলকে পৌঁছেছে: বিচার মন্ত্রণালয়ের কোরিয়া ইমিগ্রেশন সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত দেশটির বিদেশি জনসংখ্যা বেড়ে অভূতপূর্ব ২৭ লাখ ৩০ হাজারে পৌঁছেছে। আগের মাসের তুলনায় এই সংখ্যা ১.৫ শতাংশ বেশি এবং দেশটির ইতিহাসে নথিভুক্ত বিদেশি বাসিন্দার সর্বোচ্চ সংখ্যা। দ্রুত বয়স্ক হয়ে ওঠা সমাজ, রেকর্ড-সর্বনিম্ন জন্মহার এবং ক্রমবর্ধমান শ্রমিকসংকটের মুখে এই বৃদ্ধি ঘটেছে—যে বিষয়গুলো দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক চিত্রকে মৌলিকভাবে বদলে দিচ্ছে।
সূচিপত্র
- দক্ষিণ কোরিয়ার বিদেশি জনসংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে
- দক্ষিণ কোরিয়ার বিদেশি জনসংখ্যায় কারা রয়েছেন?
- ভিসার ধরন: জটিল এক ব্যবস্থা
- বিদেশি বাসিন্দারা কোথায় থাকেন?
- দক্ষিণ কোরিয়ার বিদেশি জনসংখ্যা কেন বাড়ছে?
- শ্রমিকসংকট ও অর্থনৈতিক চাপ
- সময়ের সঙ্গে বিদেশি জনসংখ্যা কীভাবে বদলেছে?
- জাপানের সঙ্গে তুলনা ও আঞ্চলিক প্রবণতা
- সরকারের পদক্ষেপ: নীতিতে পরিবর্তন ও আদমশুমারিতে অন্তর্ভুক্তি
- একীভূত হওয়ার চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ
- সামনে কী: দক্ষিণ কোরিয়ার জনসংখ্যার ভবিষ্যৎ
- সংক্ষেপে
দক্ষিণ কোরিয়ার বিদেশি জনসংখ্যায় কারা রয়েছেন?
দক্ষিণ কোরিয়ার ২৭ লাখ ৩০ হাজার বিদেশি বাসিন্দা নানা পটভূমির মানুষ। শিক্ষা, চাকরি, পর্যটন ও পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনসহ বিভিন্ন কারণে তাঁরা দেশটিতে থাকেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ ৫০ হাজার দীর্ঘমেয়াদি বাসিন্দা, যাঁরা স্থানীয় অভিবাসন দপ্তরে নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য নিবন্ধন করেছেন। আরও ৫ লাখ ৫২ হাজার প্রবাসী কোরীয় নাগরিকের কাছে রয়েছে এফ-৪ ভিসা, যা তাঁদের কোরীয় নাগরিকদের মতো ব্যাংক হিসাব খোলা ও জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিতে নাম লেখানোর অধিকার দেয়। বাকি ৬ লাখ ২০ হাজার স্বল্পমেয়াদি দর্শনার্থী, যাঁদের অধিকাংশই ৯০ দিনের কম সময়ের জন্য থাকা পর্যটক।
বিদেশি জনসংখ্যার সবচেয়ে বড় অংশ চীনা নাগরিক, যাঁরা মোটের ৩৫.৬ শতাংশ (৯ লাখ ৭২ হাজার ১৭৬ জন)। এরপর রয়েছেন ভিয়েতনামের নাগরিক (৩ লাখ ৪১ হাজার ১৫৩), আমেরিকান (১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৬৪), থাই (১ লাখ ৭৩ হাজার ৭১০) এবং উজবেক (৯৮ হাজার ৪৫৭)। বয়সের দিক থেকে এই জনগোষ্ঠী অপেক্ষাকৃত তরুণ; প্রায় অর্ধেক বিদেশি বাসিন্দার বয়স ২০ থেকে ৩৯ বছরের মধ্যে, যা কর্মক্ষম বয়সী অভিবাসীদের চাহিদার প্রতিফলন।
ভিসার ধরন: জটিল এক ব্যবস্থা
দক্ষিণ কোরিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থায় নানা ধরনের ভিসা রয়েছে, যার প্রতিটির অধিকার ও বিধিনিষেধ আলাদা। সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী এফ-৪ ভিসাধারী—কোরীয় বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিক—যাঁদের সংখ্যা ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৮৯৫। অ-পেশাদার কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থান অনুমতি ব্যবস্থার (ইপিএস) আওতায় দেওয়া ই-৯ ভিসাধারী রয়েছেন ৩ লাখ ৪১ হাজার ৪৫৩ জন। ২০০৪ সালে চালু হওয়া এই কর্মসূচির মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন, কৃষি ও নির্মাণের মতো খাতে দীর্ঘস্থায়ী শ্রমিকসংকট মোকাবিলায় স্বল্পদক্ষতার কাজে আইনিভাবে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিতে পারে।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ভিসার মধ্যে রয়েছে স্থায়ী বসবাসের এফ-৫ ভিসা (২ লাখ ১৪ হাজার ৩৬ জন), শিক্ষার্থীদের ডি-২ ভিসা (১ লাখ ৯১ হাজার ২৯৭ জন) এবং পর্যটকদের বি-২ ভিসা (১ লাখ ৭১ হাজার ৬৩ জন)। ভিসার ধরন বাড়ায় বহুস্তরবিশিষ্ট একটি ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, যেখানে কেবল নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠী দীর্ঘমেয়াদি বা বেশি সুবিধাজনক মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য।
বিদেশি বাসিন্দারা কোথায় থাকেন?
দক্ষিণ কোরিয়ার অর্ধেকের বেশি বিদেশি বাসিন্দা সিউল ও আশপাশের মহানগর এলাকায় থাকেন। এর মধ্য দিয়ে দেশটির উচ্চ নগরায়ণ এবং রাজধানী অঞ্চলে অর্থনৈতিক সুযোগের কেন্দ্রীভবন প্রতিফলিত হয়। ইয়ংনাম অঞ্চলে (দেগু, বুসান ও উলসানসহ) বিদেশি বাসিন্দার ২০.৩ শতাংশের বসবাস। এরপর রয়েছে চুংচং অঞ্চল (১২.৯ শতাংশ) এবং হনাম অঞ্চল (৮.৮ শতাংশ)। শহরাঞ্চলে এই কেন্দ্রীভবন বৃহত্তর জনসংখ্যাগত প্রবণতারই প্রতিফলন: দক্ষিণ কোরিয়ার মোট জনসংখ্যার ৮২ শতাংশের বেশি শহরে বাস করেন, ফলে দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে নগরায়িত দেশগুলোর একটি।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিদেশি জনসংখ্যা কেন বাড়ছে?
বিদেশি বাসিন্দার রেকর্ডসংখ্যা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি দক্ষিণ কোরিয়ার জনসংখ্যাগত সংকটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, যার বৈশিষ্ট্য হলো জনসংখ্যা কমে যাওয়া ও বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি। ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশটির মোট জনসংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ১৬ লাখ ৭০ হাজার, তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ঋণাত্মক হয়েছে এবং পূর্বাভাসে আগামী কয়েক দশক ধরে ধারাবাহিক পতনের ইঙ্গিত রয়েছে। একজন নারী তাঁর জীবদ্দশায় গড়ে যত সন্তানের জন্ম দেবেন বলে প্রত্যাশা করা হয়, সেই মোট প্রজনন হার সংকটজনক ০.৭৫-এ রয়ে গেছে—যা বিশ্বে সর্বনিম্ন এবং জনসংখ্যার প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ২.১-এর অনেক নিচে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জনসংখ্যা ২০২১ সালে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর কমতে শুরু করেছে। দেশটির মধ্যম বয়স এখন ৪৫.৬ বছর, আর জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। ফলে দেশটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে “অতি-বয়স্ক” সমাজ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। এসব প্রবণতায় কর্মশক্তি কমছে, পেনশন ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
শ্রমিকসংকট ও অর্থনৈতিক চাপ
জনসংখ্যাগত এই পরিবর্তনের তাৎক্ষণিক প্রভাবগুলোর একটি হলো শ্রমিকের ঘাটতি, বিশেষ করে স্বল্পদক্ষতা ও শ্রমনির্ভর শিল্পে। এই ঘাটতি মোকাবিলায় কর্মসংস্থান অনুমতি ব্যবস্থা (ইপিএস) চালু করা হয়, যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ তিন বছরের জন্য বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিতে পারে। ইপিএস অনেক অভিবাসী কর্মীর মর্যাদা নিয়মিত করতে সহায়তা করলেও স্থায়ী বসবাস বা নাগরিকত্ব পাওয়ার সুস্পষ্ট পথ দেয় না; এতে অভিবাসনের বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সতর্ক অবস্থান প্রতিফলিত হয়।
মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় দক্ষিণ কোরিয়ার অভিবাসন নীতি এখনো কঠোর; জনসংখ্যার মাত্র ৫ শতাংশের কিছু কম অভিবাসী। অধিকাংশ বিদেশি বাসিন্দার রয়েছে অস্থায়ী ভিসা, আর স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ সীমিত এবং তা প্রায়ই নির্দিষ্ট ভিসার ধরন ও তাঁদের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক উপযোগিতার সঙ্গে যুক্ত।
সময়ের সঙ্গে বিদেশি জনসংখ্যা কীভাবে বদলেছে?
দক্ষিণ কোরিয়ার বিদেশি জনসংখ্যার বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক ঘটনা। ১৯৯০-এর দশক পর্যন্ত দেশটি অভিবাসীদের গন্তব্যের চেয়ে তাঁদের উৎস হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিল। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শ্রমের চাহিদায় চালিত হয়ে গত কয়েক দশকেই উল্লেখযোগ্য অভিবাসন শুরু হয়। বিদেশি জনসংখ্যা ২০১৯ সালে আগের সর্বোচ্চ ২৫ লাখ ২০ হাজারে পৌঁছেছিল। তবে কোভিড-১৯ মহামারির সময় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ২০২১ সালে তা দ্রুত কমে ১৯ লাখ ৬০ হাজারে নেমে আসে।
মহামারির প্রকোপ কমে আসার পর দক্ষিণ কোরিয়া যখন এন্ডেমিক পর্যায়ে প্রবেশ করে, তখন বিদেশি জনসংখ্যা আবার বাড়তে থাকে। ২০২৩ সালে তা ২৫ লাখ ১০ হাজারে এবং ২০২৪ সালের শেষে ২৬ লাখ ৫০ হাজারে পৌঁছায়। সর্বশেষ পরিসংখ্যান শুধু পুনরুদ্ধারই নয়, নতুন রেকর্ডও নির্দেশ করে; যা দেশটির জনসংখ্যাগত ভবিষ্যতে অভিবাসনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার ইঙ্গিত দেয়।
জাপানের সঙ্গে তুলনা ও আঞ্চলিক প্রবণতা
প্রতিবেশী জাপানের অভিজ্ঞতার সঙ্গেও দক্ষিণ কোরিয়ার পরিস্থিতির মিল রয়েছে। জাপানও অতি-বয়স্ক সমাজ ও শ্রমিকসংকটের মুখোমুখি। ২০২৪ সালে জাপানের বিদেশি জনসংখ্যা ৩৮ লাখে পৌঁছায়; সেখানে অস্থায়ী অভিবাসন ও কঠোর বসতি নীতির একই ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। উভয় দেশই ধীরে ধীরে অভিবাসনের কোটা বাড়িয়েছে এবং ভিসার ধরন বৈচিত্র্যময় করেছে, তবে নীতিতে উল্লেখযোগ্য উদারীকরণ অদূর ভবিষ্যতে হওয়ার সম্ভাবনা কম।
জনসংখ্যাবিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৬৫ সালের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মশক্তি অর্ধেকে নেমে আসতে পারে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। সরকার এর জবাবে সন্তান জন্মদানে আর্থিক প্রণোদনা, শিশুযত্নে সহায়তা সম্প্রসারণ এবং বিদেশি বাসিন্দাদের জন্য দেশটিকে আরও স্বাগতপূর্ণ করে তোলাসহ বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করেছে।
সরকারের পদক্ষেপ: নীতিতে পরিবর্তন ও আদমশুমারিতে অন্তর্ভুক্তি
জনসংখ্যার বৈচিত্র্য বাড়ার বিষয়টি স্বীকার করে কোরীয় সরকার জাতীয় পরিসংখ্যান ও নীতিনির্ধারণে বিদেশি বাসিন্দাদের আরও ভালোভাবে অন্তর্ভুক্ত করার পদক্ষেপ নিচ্ছে। পরিসংখ্যান সংস্থা ২০২৫ সালের জাতীয় আদমশুমারির জন্য বিদেশিদের উপযোগী আরও সহজ একটি জরিপ তৈরি করছে, যাতে কোরীয় ভাষায় কথা বলেন না এমন ব্যক্তিদের জন্য প্রক্রিয়াটি সহজবোধ্য ও ব্যবহারযোগ্য হয়। জাতীয় তথ্যের নির্ভুলতা ও অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর বৃহত্তর কৌশলেরই অংশ এই উদ্যোগ, যাতে বিদেশি বাসিন্দাদের চাহিদা ও অবদান যথাযথভাবে স্বীকৃতি পায়।
২০২৫ সালে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং জনসংখ্যা পুনরুদ্ধারকে তাঁর প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য করেছেন। তাঁর প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে নববিবাহিত দম্পতিদের উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ঋণ দেওয়া, যা জন্ম নেওয়া সন্তানের সংখ্যার ভিত্তিতে মওকুফ করা হবে; শিশুভাতা বাড়ানো এবং পরিবারবান্ধব কর সংস্কার কার্যকর করা। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, জনসংখ্যা হ্রাসের ধারা বদলাতে শুধু আর্থিক প্রণোদনা যথেষ্ট নাও হতে পারে। আবাসনের উচ্চ ব্যয়, তীব্র শিক্ষাগত প্রতিযোগিতা এবং বিয়ে ও পরিবার সম্পর্কে বদলে যাওয়া দৃষ্টিভঙ্গির মতো গভীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ও তাঁরা উল্লেখ করেছেন।
একীভূত হওয়ার চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ
বিদেশি জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একীভূত হওয়া ও সামাজিক সংহতির প্রশ্নগুলো সামনে আসছে। অনেক বিদেশি বাসিন্দা চীন ও অন্যান্য দেশ থেকে ফিরে আসা জাতিগতভাবে কোরীয় হলেও, অন্যরা নানা পটভূমি থেকে এসেছেন এবং ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা, বৈষম্য ও সেবা পেতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন। আদমশুমারি ও অন্যান্য সরকারি সেবাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার উদ্যোগ সঠিক পথে এগোনোর পদক্ষেপ; তবে দক্ষিণ কোরিয়া ক্রমেই বহুসাংস্কৃতিক হয়ে ওঠায় সমাজের আরও বিস্তৃত অভিযোজন প্রয়োজন হবে।
একই সঙ্গে বিদেশি বাসিন্দাদের আগমন অর্থনৈতিক গতিশীলতা, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি করে। অভিবাসীরা শ্রমবাজারের গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি পূরণ করেন, করভিত্তিতে অবদান রাখেন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করেন—বিশেষ করে জনসংখ্যা কমে যাওয়া অঞ্চলগুলোতে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও দক্ষ পেশাজীবীরাও গবেষণা, উদ্যোক্তা কার্যক্রম এবং বৈশ্বিক যোগাযোগ এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখেন।
সামনে কী: দক্ষিণ কোরিয়ার জনসংখ্যার ভবিষ্যৎ
জন্মহার সম্প্রতি বেড়েছে—কোরিয়া পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী, এক প্রজন্মের মধ্যে এটাই দ্রুততম বৃদ্ধি—তবে দেশটির মোট প্রজনন হার প্রতিস্থাপন পর্যায়ের অনেক নিচে। পূর্বাভাস বলছে, উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না এলে ২১২৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার জনসংখ্যা বর্তমানের মাত্র ১৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। বয়স্ক জনসংখ্যার সংকট আরও গভীর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে; আগামী কয়েক দশকে প্রতি ১০০ জন কর্মক্ষম মানুষের বিপরীতে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বাড়বে।
অভিবাসন কোনো সর্বসমাধান না হলেও, সমাধানের অপরিহার্য অংশ হিসেবে ক্রমেই বিবেচিত হচ্ছে। অর্থনৈতিক চাহিদা, রাজনৈতিক সতর্কতা ও সামাজিক উদ্বেগের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চাপ নীতিনির্ধারকদের ওপর বাড়ছে। জনসংখ্যাগত এই সন্ধিক্ষণে দেশটি যখন সামনে এগোনোর পথ খুঁজছে, তখন বিদেশি বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা এবং তাঁদের জীবনকে প্রভাবিত করা নীতিগুলো দক্ষিণ কোরিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে।
সংক্ষেপে
- শ্রমিকসংকট, কম জন্মহার ও বয়স্ক সমাজের কারণে ২০২৫ সালের জুনে দক্ষিণ কোরিয়ার বিদেশি জনসংখ্যা রেকর্ড ২৭ লাখ ৩০ হাজারে পৌঁছেছে।
- বিদেশি বাসিন্দাদের মধ্যে চীনা নাগরিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি; এরপর রয়েছেন ভিয়েতনামি, আমেরিকান, থাই ও উজবেক নাগরিকেরা।
- অধিকাংশ বিদেশি বাসিন্দা সিউল ও আশপাশের মহানগর এলাকায় থাকেন, যা দেশে শহরাঞ্চলের জনসংখ্যার কেন্দ্রীভবনকে প্রতিফলিত করে।
- ভিসার ধরন জটিল; অধিকাংশ অভিবাসীর ভিসা অস্থায়ী বা সীমিত মর্যাদার। স্থায়ী বসবাসের সুযোগ রয়েছে কেবল নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর।
- বিদেশি বাসিন্দাদের আরও ভালোভাবে অন্তর্ভুক্ত ও সহায়তা করার জন্য সরকারি নীতিতে পরিবর্তন আসছে, তবে একীভূত হওয়া ও দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যাগত স্থায়িত্বের পথে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
- দক্ষিণ কোরিয়ার জনসংখ্যাগত ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে অভিবাসন বৃদ্ধি, নীতিগত উদ্ভাবন এবং আরও বহুসাংস্কৃতিক বাস্তবতার সঙ্গে সমাজের অভিযোজনের সমন্বয়ের ওপর।






