আসিয়ান পাওয়ার গ্রিডের নেতৃত্বে মালয়েশিয়া: আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই প্রবৃদ্ধিতে গতি

পড়তে 7 মিনিট
ASEAN Power Grid - The Institute for Democracy and Economic Affairs (I…

আসিয়ান পাওয়ার গ্রিডের নেতৃত্বে মালয়েশিয়া: আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই প্রবৃদ্ধিতে গতি

আসিয়ান পাওয়ার গ্রিড (এপিজি) উদ্যোগের অন্যতম প্রধান সমর্থক হয়ে উঠেছে মালয়েশিয়া। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর ত্বরান্বিত করা এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এগিয়ে নেওয়াই এই রূপান্তরমূলক আঞ্চলিক উদ্যোগের লক্ষ্য। ২০২৫ সালে আসিয়ানের সভাপতিত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে মালয়েশিয়া। এ সময় এপিজির পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে দেশটির সরকার, শিল্প খাতের নেতারা এবং আঞ্চলিক অংশীদারেরা প্রচেষ্টা জোরদার করছেন। তাঁদের বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন সীমান্তপারের সহযোগিতা, অবকাঠামোয় বিনিয়োগ এবং নীতিমালার সমন্বয়ে।

সূচিপত্র
  1. আসিয়ান পাওয়ার গ্রিডের নেতৃত্বে মালয়েশিয়া: আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই প্রবৃদ্ধিতে গতি
  2. আসিয়ান পাওয়ার গ্রিড কী এবং এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
  3. এপিজিতে মালয়েশিয়ার কৌশলগত ভূমিকা ও রূপকল্প
  4. সীমান্তপারের প্রকল্প: ভিয়েতনাম-মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুর সংযোগ
  5. নীতি, অবকাঠামো ও সামনের পথ
  6. আঞ্চলিক সহযোগিতার বাস্তব উদাহরণ: সাম্প্রতিক ঘটনা থেকে শিক্ষা
  7. গ্রিডের সম্প্রসারণ: মালয়েশিয়ার বৃহত্তর আঞ্চলিক অংশীদারত্ব
  8. চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ: সামনে কী?
  9. সংক্ষেপে

আসিয়ান পাওয়ার গ্রিড কী এবং এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

আসিয়ান পাওয়ার গ্রিড হলো আসিয়ানের ১০টি সদস্যরাষ্ট্র—ব্রুনেই, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের—বিদ্যুৎ গ্রিডগুলোকে আন্তসংযুক্ত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। এর লক্ষ্য হলো সীমান্ত পেরিয়ে নির্বিঘ্নে বিদ্যুৎ সরবরাহের সুযোগ তৈরি করা, যাতে দেশগুলো সম্পদ ভাগাভাগি করতে পারে, সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে এবং সম্মিলিতভাবে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে পারে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধি, কার্বন নিঃসরণ কমানোর জরুরি প্রয়োজন এবং সৌর ও বায়ুশক্তির মতো অনিয়মিত নবায়নযোগ্য উৎসকে গ্রিডে যুক্ত করার চ্যালেঞ্জের কারণে এই উদ্যোগ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় গ্রিডগুলোকে যুক্ত করে এপিজির লক্ষ্য:

  • জরুরি পরিস্থিতি বা সরবরাহে বিঘ্নের সময় জ্বালানি সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা ও স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানো
  • সম্পদসমৃদ্ধ দেশ থেকে বেশি চাহিদার কেন্দ্রগুলোতে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি করা
  • পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে সামগ্রিক কার্বন নিঃসরণ কমানো
  • অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা

উপপ্রধানমন্ত্রী ফাদিল্লাহ ইউসুফ, যিনি মালয়েশিয়ার জ্বালানি রূপান্তর ও পানি রূপান্তরবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন, এপিজিকে “সত্যিকারের সমন্বিত আসিয়ান জ্বালানি বাজারের মেরুদণ্ড” বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো অঞ্চলের অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থান ও পরিপূরক সম্পদ কাজে লাগিয়ে আরও সবুজ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।

এপিজিতে মালয়েশিয়ার কৌশলগত ভূমিকা ও রূপকল্প

এপিজির প্রতি মালয়েশিয়ার অঙ্গীকার রাজনৈতিক ও বাস্তব—দুই দিক থেকেই। আসিয়ানের পরবর্তী সভাপতি হিসেবে মালয়েশিয়া ২০২৫ সালের নেতৃত্বের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে “আসিয়ানকে শক্তিশালী করা: সীমানা পেরিয়ে সমৃদ্ধি গড়া”; এর মাধ্যমে অঞ্চলের ভবিষ্যতে জ্বালানি সংযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সরকার অন্তর্ভুক্তি, টেকসই উন্নয়ন এবং আসিয়ানের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে তাদের কর্মসূচির প্রধান ভিত্তি হিসেবে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম এপিজির প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়ে আসছেন, বিশেষ করে ভিয়েতনাম ও অন্যান্য আঞ্চলিক অংশীদারের সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রে। ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী ফাম মিন চিনের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের পর আনোয়ার দক্ষিণ ভিয়েতনামে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগে মালয়েশিয়ার সমর্থনের কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে দুই দেশের বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক জোরদার করার লক্ষ্যে উচ্চাভিলাষী সমুদ্রতলদেশীয় তার প্রকল্প।

মালয়েশিয়ার পরিকল্পনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিস্তৃত। এপিজির দ্বিতীয় ধাপ ত্বরান্বিত করতে দেশটি লাওস, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এই ধাপে সংযোগ বাড়বে এবং সম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চল থেকে বড় শহর ও শিল্পকেন্দ্রে পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন

সীমান্তপারের প্রকল্প: ভিয়েতনাম-মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুর সংযোগ

সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলো মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় শিল্পজোট গঠন। মালয়েশিয়ার প্রধান জ্বালানি কোম্পানি তেনাগা ন্যাশনাল বারহাদ (টিএনবি) ও পেট্রোলিয়াম ন্যাশনাল বারহাদ (পেট্রোনাস), ভিয়েতনামের পেট্রোভিয়েতন টেকনিক্যাল সার্ভিসেস করপোরেশন (পিটিএসসি) এবং সিঙ্গাপুরের সেম্বকর্প ইউটিলিটিজ ভিয়েতনাম থেকে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ রপ্তানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে যৌথ উন্নয়ন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

এই অংশীদারত্বের লক্ষ্য ভিয়েতনামের বিপুল সমুদ্র উপকূলীয় বায়ুশক্তির সম্পদ কাজে লাগানো এবং নতুন সমুদ্রতলদেশীয় তারের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা। এই বিদ্যুৎ মালয়েশিয়ার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে এবং সেখান থেকে সিঙ্গাপুরে পৌঁছাবে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সম্প্রসারণযোগ্য সীমান্তপারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি সহযোগিতার একটি মডেল হিসেবে প্রকল্পটিকে দেখা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিত্বকারী এমওয়াই এনার্জি কনসোর্টিয়ামের সদস্যরা এক যৌথ ঘোষণায় বলেন:

এই ত্রিপক্ষীয় অংশীদারত্ব আন্তদেশীয় সবুজ অবকাঠামো এগিয়ে নেওয়া, ভিয়েতনামের নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং জনগোষ্ঠী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নির্ভরযোগ্য, কম-কার্বন বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার পথে এক ধাপ অগ্রগতি। নিট শূন্য নির্গমনের লক্ষ্য অর্জনে আমাদের সম্মিলিত যাত্রায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

ভিয়েতনাম সরকার সমুদ্র উপকূলীয় বায়ুশক্তিকে জাতীয় অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং আঞ্চলিক নবায়নযোগ্য জ্বালানিকেন্দ্র হয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়েছে। অন্যদিকে, সিঙ্গাপুর ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রায় ৬ গিগাওয়াট কম-কার্বন বিদ্যুৎ আমদানির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে—যা দেশটির পূর্বাভাসিত জ্বালানি চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। ফলে কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে আঞ্চলিক সংযোগ অত্যাবশ্যক।

নীতি, অবকাঠামো ও সামনের পথ

এপিজিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও বিশেষজ্ঞ ও শিল্প খাতের নেতারা সতর্ক করেছেন, বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। পুরোনো বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো, নিয়ন্ত্রক কাঠামোর ঘাটতি এবং প্রকল্পের অনুমোদন পেতে দীর্ঘসূত্রতা বাস্তবায়ন বিলম্বিত করতে পারে। মাসদার ক্লিন এনার্জির এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ব্যবসা উন্নয়নপ্রধান ফাতিমা আল সুয়াইদি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা ব্যাপক হলেও “গ্রিডের সীমিত সক্ষমতা প্রকল্পের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে।” দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নিশ্চিত করতে তিনি সুস্পষ্ট নীতি, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি এবং শক্তিশালী স্থানীয় অংশীদারত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

এসব সমস্যা মোকাবিলায় আসিয়ানের জ্বালানিবিষয়ক কর্মকর্তারা এপিজির জন্য সমঝোতা স্মারকের উন্নত সংস্করণে একমত হয়েছেন। অক্টোবরে আসিয়ান জ্বালানিমন্ত্রীদের বৈঠকে এটি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। নতুন চুক্তিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে:

  • আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাজার সংযুক্তি জোরদার করা
  • পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তর ত্বরান্বিত করা
  • সমুদ্রতলদেশীয় বিদ্যুৎ তার প্রকল্পের কাঠামো নির্ধারণ করা
  • বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও কারিগরি সহযোগিতায় উৎসাহ দেওয়া

মালয়েশিয়ার জাতীয় জ্বালানি রূপান্তর রূপরেখায় এপিজিকে একটি প্রধান ভিত্তি হিসেবে স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও অন্যান্য সদস্যরাষ্ট্রও একই ধরনের অঙ্গীকার করেছে। আসিয়ান সেন্টার ফর এনার্জি (এসিই) সীমান্তপারের ১৮টি সংযোগকে অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে পুরোপুরি সমন্বিত ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত গ্রিড গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে অঞ্চলটি।

বিজ্ঞাপন

আঞ্চলিক সহযোগিতার বাস্তব উদাহরণ: সাম্প্রতিক ঘটনা থেকে শিক্ষা

মালয়েশিয়ায় সম্প্রতি একটি গ্যাস পাইপলাইনে দুর্ঘটনার ফলে স্থানীয় শিল্পকারখানায় সরবরাহ ব্যাহত হয়। আগে থেকে থাকা সীমান্তপারের অবকাঠামোর সাহায্যে থাইল্যান্ডের সময়োচিত সহায়তা এর প্রভাব কমাতে ভূমিকা রাখে। উপপ্রধানমন্ত্রী ফাদিল্লাহ ইউসুফ এই ঘটনাকে জরুরি অবস্থায় আঞ্চলিক জ্বালানি সহযোগিতা কীভাবে স্থিতিস্থাপকতা জোগাতে পারে, তার বাস্তব উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও লাওসের মতো দেশগুলোর বায়ুশক্তির সম্পদ প্রচুর। তবে বায়ুপ্রবাহ কমে গেলে অন্য সদস্যরাষ্ট্রগুলো সহায়তায় এগিয়ে আসতে পারে। সবার জন্য নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাই এপিজির লক্ষ্য, আর পারস্পরিক সহায়তা সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের মূল ভিত্তি।

গ্রিডের সম্প্রসারণ: মালয়েশিয়ার বৃহত্তর আঞ্চলিক অংশীদারত্ব

এপিজি নিয়ে মালয়েশিয়ার কৌশল শুধু ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরকে ঘিরে নয়। গ্রিডের পরিধি বাড়াতে দেশটি লাওস, কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের সঙ্গেও সহযোগিতা গভীর করছে। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সম্প্রতি এপিজির দ্বিতীয় ধাপ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এই ধাপে লাওস, কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে মালয়েশিয়ার উপদ্বীপীয় অংশ ও সিঙ্গাপুরের সংযোগ স্থাপন করা হবে। লাওস-থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুর বিদ্যুৎ সংযোগ প্রকল্পের সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে এই ধাপ এগোবে। বিদ্যমান আন্তসংযোগের মাধ্যমে ইতিমধ্যে লাওস থেকে সিঙ্গাপুরে জলবিদ্যুৎ আমদানি সম্ভব হয়েছে।

সীমান্ত পেরিয়ে পণ্য ও জ্বালানির চলাচল সহজ করতে নতুন বন্দর ও রেল সংযোগসহ বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থার সংযোগ বাড়াতেও মালয়েশিয়া ও লাওস একমত হয়েছে। অঞ্চলজুড়ে অবকাঠামো, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও দক্ষ জনশক্তির উন্নয়নকে সমন্বিত করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ এসব উদ্যোগ।

বিজ্ঞাপন

চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ: সামনে কী?

গতি সঞ্চার হলেও এপিজির সামনে বেশ কিছু বাধা রয়েছে। অনুমোদন পেতে দীর্ঘসূত্রতা, পুরোনো বিধিবিধান এবং সীমিত ডিজিটাল ব্যবস্থার কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রকল্পের সময়সীমা প্রায়ই অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক দীর্ঘ হয়। বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামোয় বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ করাও চ্যালেঞ্জ। গ্রিড-সংশ্লিষ্ট উন্নয়নে উৎসাহ দিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সনদের মতো উদ্ভাবনী অর্থায়ন ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে।

তবে সুযোগও ব্যাপক। কম খরচে উৎপাদিত পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ বেশি চাহিদার এলাকায় পৌঁছে দিয়ে এপিজি আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোকে জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টিতে সহায়তা করতে পারে। জাতীয় গ্রিডগুলোর সংযুক্তি সরবরাহে আকস্মিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় অঞ্চলটিকে আরও স্থিতিস্থাপক করবে।

আসিয়ান সেন্টার ফর এনার্জির আয়োজনে এবং জাতিসংঘের সহায়তায় অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক পরামর্শ সভাগুলো ঐকমত্য গড়ে তুলতে, কারিগরি জ্ঞান ভাগাভাগি করতে এবং নীতিমালা প্রণয়নের সমন্বয়ে সহায়তা করছে। বহুপক্ষীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্যের প্রযুক্তিগত ও নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এসব প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞাপন

সংক্ষেপে

  • ২০২৫ সালে আসিয়ানের সভাপতিত্ব গ্রহণের প্রস্তুতির মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন ও আঞ্চলিক সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসিয়ান পাওয়ার গ্রিডের নেতৃত্বে রয়েছে মালয়েশিয়া।
  • এপিজির লক্ষ্য জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডগুলোকে যুক্ত করা, যাতে সীমান্তপারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাণিজ্য সম্ভব হয় এবং জরুরি পরিস্থিতিতে স্থিতিস্থাপকতা বাড়ে।
  • ভিয়েতনাম-মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুর সমুদ্রতলদেশীয় তারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপারের প্রকল্প সরকার ও শিল্প খাতের জোরালো সমর্থনে এগিয়ে যাচ্ছে।
  • চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও এপিজির রূপকল্প বাস্তবায়নে নীতিমালার সমন্বয়, অবকাঠামোয় বিনিয়োগ এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।
  • আঞ্চলিক সহযোগিতা ইতিমধ্যে বাস্তব সুফল দিচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তর ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য এপিজি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে