ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ব্রুনেইয়ে ভিয়েতনামি সংস্কৃতির উজ্জ্বল উপস্থিতি
সাংস্কৃতিক কূটনীতির প্রাণবন্ত এক আয়োজনে ব্রুনেইয়ে ভিয়েতনামি দূতাবাস এবং ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ব্রুনেই (আইএসবি) সম্প্রতি একটি সাংস্কৃতিক বিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে ভিয়েতনামি সাহিত্য ও ঐতিহ্যবাহী হাতে সূচিকর্ম ব্রুনেইয়ের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরা হয়। ২০২৪ সালের ২ জুলাই অনুষ্ঠিত এ আয়োজন বিদেশে ভিয়েতনামের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য তুলে ধরা এবং ভিয়েতনাম ও ব্রুনেইয়ের জনগণের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ।
সূচিপত্র
- ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ব্রুনেইয়ে ভিয়েতনামি সংস্কৃতির উজ্জ্বল উপস্থিতি
- ভিয়েতনামি সাহিত্য পরিচিতি: নতুন প্রজন্মের জন্য উপহার
- ঐতিহ্যের হাতে-কলমে চর্চা: ভিয়েতনামের হাতে সূচিকর্মের শিল্প
- আইএসবি: আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের কেন্দ্র
- ভিয়েতনাম-ব্রুনেই সাংস্কৃতিক কূটনীতি: ক্রমবর্ধমান অংশীদারত্ব
- ব্রুনেইয়ে ভিয়েতনামি সম্প্রদায়ের ভূমিকা
- পরিবেশগত স্থায়িত্ব ও সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ
- বৃহত্তর প্রভাব: সংস্কৃতির মাধ্যমে সেতুবন্ধ গড়ে তোলা
- সারসংক্ষেপ
বিভিন্ন জাতীয়তার ৭ম থেকে ১২তম শ্রেণির আইএসবির ৩০ জন শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়। সাংস্কৃতিক দূত ও কারুশিল্পীদের নির্দেশনায় শিক্ষার্থীরা ভিয়েতনামি শিল্পকর্ম ও সাহিত্যের নৈপুণ্য এবং তাৎপর্য সরাসরি জানার পাশাপাশি পরিবেশগত স্থায়িত্ব ও আন্তঃসাংস্কৃতিক বোঝাপড়া নিয়ে আলোচনায় অংশ নেয়।
ভিয়েতনামি সাহিত্য পরিচিতি: নতুন প্রজন্মের জন্য উপহার
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল আইএসবি গ্রন্থাগারে ভিয়েতনামি সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক বাছাই করা বইয়ের সংগ্রহ উপহার দেওয়া। বইগুলোর মধ্যে ছিল ভিয়েতনামের বহুল প্রশংসিত কয়েকটি রচনার ইংরেজি অনুবাদ, যেমন তো হোয়াইয়ের “ঝিঁঝিঁ পোকার ডায়েরি” এবং নুয়েন ন্যাত আনহের “সবুজ ঘাসে হলুদ ফুল দেখি” ও “শৈশবে ফেরার টিকিট”। প্রশংসিত চলচ্চিত্র নির্মাণে অনুপ্রেরণা জোগানো এই বইগুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সামনে ভিয়েতনামের সমাজ, মূল্যবোধ ও কল্পনার জগৎ উন্মুক্ত করে।
ব্রুনেইয়ে নিযুক্ত ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত ত্রান আন ভু অনুষ্ঠানের লক্ষ্য সম্পর্কে বলেন, তাঁর আশা আইএসবির শিক্ষার্থী ও তাদের আন্তর্জাতিক সহপাঠীরা এসব সাহিত্যকর্ম এবং সেগুলোর চলচ্চিত্ররূপের মধ্য দিয়ে সক্রিয়ভাবে ভিয়েতনামি সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হবে। রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে বিভিন্ন পটভূমির তরুণদের মধ্যে সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া ও সহমর্মিতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সাহিত্যের ভূমিকা উঠে আসে।
রাষ্ট্রদূত ত্রান আন ভু তাঁর প্রত্যাশা জানিয়ে বলেন: "আমরা আশা করি, আইএসবির শিক্ষার্থী ও আন্তর্জাতিক বন্ধুরা ভিয়েতনামি সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানবে, যার মধ্যে প্রশংসিত চলচ্চিত্র নির্মাণে অনুপ্রেরণা জোগানো সাহিত্যকর্মও রয়েছে।"
ব্রুনেইয়ের তরুণদের কাছে এসব গল্প তুলে ধরে দূতাবাস ভিয়েতনামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সমকালীন জীবন সম্পর্কে কৌতূহল জাগাতে চায়। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে আরও শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে উৎসাহ দেওয়াও এর লক্ষ্য।
ঐতিহ্যের হাতে-কলমে চর্চা: ভিয়েতনামের হাতে সূচিকর্মের শিল্প
সাহিত্যের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ভিয়েতনামের ঐতিহ্যবাহী হাতে সূচিকর্মের একটি ব্যতিক্রমী হাতে-কলমে কর্মশালার আয়োজন করা হয়। রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী লে থি হং নোয়ান, রাটান হাউস হস্তশিল্প ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা মাইসারাহ নুয়েন এবং ব্রুনেইয়ে ভিয়েতনামি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ফাম থু ফুয়ং কর্মশালাটি পরিচালনা করেন। শিক্ষার্থীরা তাঁদের কাছ থেকে শতাব্দীপ্রাচীন এই শিল্পের সূক্ষ্ম কৌশল শেখে।
অংশগ্রহণকারীরা ভিয়েতনামের বহু সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর একটি, প্রাণবন্ত বস্ত্রঐতিহ্যের জন্য পরিচিত হমং জনগোষ্ঠীর অনুপ্রেরণায় তৈরি স্বতন্ত্র নকশায় তাদের সূচিকর্মের কাজ সাজায়। কর্মশালায় শুধু কারিগরি দক্ষতাই শেখানো হয়নি, ভিয়েতনামি সমাজে সূচিকর্মের সাংস্কৃতিক তাৎপর্যও তুলে ধরা হয়। এ ধরনের কারুশিল্প প্রায়ই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিচয় ও শিল্পসত্তার প্রকাশ হিসেবে কাজ করে।
কর্মশালায় পরিবেশগত স্থায়িত্বের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ব্যবহৃত সব উপকরণ ছিল পরিবেশবান্ধব; এর মধ্যে ছিল পুনর্ব্যবহৃত সংবাদপত্র, নতুন কাজে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল এবং শুকনো গাছপালা। এই পদ্ধতি ঐতিহ্য ও আধুনিক পরিবেশসচেতনতার যোগসূত্র তুলে ধরে এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক জগৎ—উভয়ই সংরক্ষণের গুরুত্বের বার্তা দেয়।
কর্মশালার অন্যতম পরিচালক লে থি হং নোয়ান বলেন: "ভিয়েতনামি হস্তশিল্পে ব্যবহারের জন্য ব্রুনেইয়ের প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। এর মাধ্যমে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা—দুটিই উৎসাহিত হবে।"
ঐতিহ্য ও স্থায়িত্বের এই সৃজনশীল সমন্বয় শিক্ষার্থীদের মনে সাড়া জাগায়। অনুষ্ঠান শেষে তারা ভিয়েতনামি সংস্কৃতি এবং পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতার বৈশ্বিক গুরুত্ব—উভয় বিষয়েই আরও গভীর উপলব্ধি নিয়ে ফেরে।
আইএসবি: আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের কেন্দ্র
৬০ বছরের ইতিহাস এবং বিভিন্ন দেশের প্রায় ১,৪০০ শিক্ষার্থীর এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাংস্কৃতিক বিনিময়ের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাক্রম এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈশ্বিক নাগরিকত্ববোধ গড়ে তোলার অঙ্গীকারের জন্য আইএসবি সুপরিচিত।
বিদ্যালয়ের নেতারা অনুষ্ঠানটি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি ভিয়েতনামি শিক্ষার্থী আইএসবির শিক্ষাক্রমে যোগ দেবে বলে আশা জানান। আইএসবি ও ভিয়েতনামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অংশীদারত্ব ও বিনিময় বাড়ানোর সম্ভাবনার কথাও তাঁরা তুলে ধরেন, যা দুই দেশের শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে।
এ ধরনের বিনিময় বিচ্ছিন্ন কোনো আয়োজন নয়; বরং দুই দেশের বিস্তৃত অংশীদারত্বের আওতায় সাংস্কৃতিক সহযোগিতা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বৃহত্তর কৌশলের অংশ। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সমর্থন রয়েছে এসব উদ্যোগে, আর পারস্পরিক বোঝাপড়া ও দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্ব গড়ে তোলার জন্য এগুলোকে অত্যাবশ্যক বলে মনে করা হয়।
ভিয়েতনাম-ব্রুনেই সাংস্কৃতিক কূটনীতি: ক্রমবর্ধমান অংশীদারত্ব
আইএসবির এ অনুষ্ঠান ভিয়েতনাম ও ব্রুনেইয়ের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক কূটনীতির একটি উদাহরণ মাত্র। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশই তাদের বিস্তৃত অংশীদারত্বের অগ্রাধিকার হিসেবে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগকে চিহ্নিত করেছে। ২০২৩-২০২৭ সালের কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে এ অংশীদারত্ব আনুষ্ঠানিক রূপ পায়।
২০২৩ সালে ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী ফাম মিন চিনের ব্রুনেই সফরের মতো উচ্চপর্যায়ের সফরগুলোতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ভিয়েতনামি ভাষা অধ্যয়নরত ব্রুনেইয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০২২ সালে চালু হওয়া ইউনিভার্সিটি ব্রুনেই দারুসসালাম (ইউবিডি)-এর ভিয়েতনামি ভাষা কর্মসূচিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে; প্রতি সেমিস্টারে ৬০-৯০ জন শিক্ষার্থী এতে ভর্তি হয়। ব্রুনেইবাসীর মধ্যে ভিয়েতনামি সংস্কৃতি নিয়ে ক্রমবর্ধমান কৌতূহল এবং শিক্ষা সহযোগিতায় দুই দেশের অঙ্গীকারের প্রমাণ এই কর্মসূচি।
উল্লেখযোগ্য অন্য সাংস্কৃতিক উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ভিয়েতনাম-ব্রুনেই মৈত্রী কনসার্ট, যেখানে দুই দেশের শিল্পীরা সংগীত ও অভিন্ন ঐতিহ্য উদযাপনে একত্র হয়েছিলেন। এ ছাড়া আসিয়ান বস্ত্র প্রদর্শনী এবং ব্রুনেইয়ের হারি রায়া উৎসবের মতো বড় আয়োজনেও ভিয়েতনামের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। এসব অনুষ্ঠানে ভিয়েতনামের ঐতিহ্যবাহী পোশাক (আও দাই), খাবার ও হস্তশিল্প তুলে ধরা হয়েছে, যা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
ব্রুনেইয়ে ভিয়েতনামি সম্প্রদায়ের ভূমিকা
বর্তমানে শিক্ষার্থী, প্রভাষক, প্রকৌশলী, উদ্যোক্তা ও বহুসাংস্কৃতিক পরিবারের সদস্যসহ প্রায় ৩০০ ভিয়েতনামি নাগরিক ব্রুনেইয়ে বসবাস করেন। দুই সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে এই সম্প্রদায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা দূতাবাসের উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয় এবং নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিচিতিমূলক কর্মকাণ্ডও আয়োজন করে।
ব্রুনেইয়ে ভিয়েতনামি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো হস্তশিল্প ও বেতের পণ্য থেকে শুরু করে কৃষিপণ্য ও বস্ত্র পর্যন্ত নানা পণ্য এনেছে, যেগুলো গুণমান ও সাশ্রয়ী দামের জন্য ক্রেতাদের কাছে সমাদৃত হয়েছে। ভিয়েতনামি ও ব্রুনেইয়ের অংশীদারদের যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা সাই নগন কফি ব্র্যান্ড স্থানীয় সুপারমার্কেটগুলোতে দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এর ফলে ব্রুনেইয়ে ভিয়েতনামের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক উপস্থিতি আরও জোরদার হয়েছে।
সম্প্রদায়ের সদস্যদের আয়োজনে ভিয়েতনামি হস্তশিল্প ও খাবারবিষয়ক কর্মশালা ব্রুনেইবাসীর মধ্যে ভিয়েতনামি সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। তৃণমূল পর্যায়ের এসব উদ্যোগ আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিপূরক এবং দুই সমাজের মধ্যে প্রাণবন্ত ও চলমান বিনিময় বজায় রাখতে সহায়তা করে।
পরিবেশগত স্থায়িত্ব ও সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ
আইএসবির অনুষ্ঠানের একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ছিল পরিবেশগত স্থায়িত্বের ওপর গুরুত্বারোপ। সূচিকর্মের কর্মশালায় পুনর্ব্যবহৃত ও প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে আয়োজকেরা ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের সঙ্গে আধুনিক পরিবেশগত মূল্যবোধের সামঞ্জস্যের জোরালো বার্তা দেন। এ পদ্ধতি ভিয়েতনামের সাংস্কৃতিক কূটনীতির বৃহত্তর একটি প্রবণতার প্রতিফলন, যেখানে ঐতিহ্য সংরক্ষণের সঙ্গে পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতার সম্পর্ক ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
লে থি হং নোয়ান ও তাঁর সহপ্রশিক্ষকেরা ভিয়েতনামি হস্তশিল্পে ব্রুনেইয়ের প্রাকৃতিক উপকরণ নিয়ে গবেষণা ও সেগুলোর ব্যবহার চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এতে হস্তশিল্প যেমন সমৃদ্ধ হবে, তেমনি দুই দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদান অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সাংস্কৃতিক বিনিময়ও গভীর হবে।
সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও টেকসই করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পৃথিবী রক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর বৈশ্বিক প্রচেষ্টার সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগ সামঞ্জস্যপূর্ণ। তরুণদের এসব কর্মকাণ্ডে যুক্ত করে আইএসবির অনুষ্ঠানটি সৃজনশীলতা, দায়িত্ববোধ ও আন্তঃসাংস্কৃতিক সম্মানের মূল্যবোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।
বৃহত্তর প্রভাব: সংস্কৃতির মাধ্যমে সেতুবন্ধ গড়ে তোলা
আইএসবির সাংস্কৃতিক বিনিময় বিভিন্ন জাতির মধ্যে সেতুবন্ধ গড়তে সংস্কৃতিকে কাজে লাগানোর বৃহত্তর প্রচেষ্টারই প্রতীক। দ্রুত বিশ্বায়ন ও জটিল আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এ যুগে জনগণের মধ্যে এমন যোগাযোগ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সাংস্কৃতিক কূটনীতিতে ভিয়েতনামের দৃষ্টিভঙ্গি বহুমুখী; এতে সাহিত্য, শিল্পকলা, খাবার, ভাষা ও সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশ্বের সঙ্গে নিজ ঐতিহ্য ভাগ করে নিয়ে ভিয়েতনাম শুধু আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিই সমৃদ্ধ করছে না, বৈশ্বিক বৈচিত্র্য ও পারস্পরিক বোঝাপড়ায়ও অবদান রাখছে।
ব্রুনেইয়ের জন্য এ ধরনের বিনিময় গতিশীল এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে শেখা ও তার সঙ্গে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করে। এতে তরুণদের শিক্ষাগত অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ হয় এবং উদারতা ও কৌতূহলের মনোভাব গড়ে ওঠে। যৌথ উদ্যোগ, শিক্ষার্থী বিনিময় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সংখ্যা বাড়তে থাকায় এ সহযোগিতার পারস্পরিক সুফল স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
সারসংক্ষেপ
- ব্রুনেইয়ে ভিয়েতনামি দূতাবাস ও ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ব্রুনেই (আইএসবি) ভিয়েতনামি সাহিত্য ও ঐতিহ্যবাহী হাতে সূচিকর্ম নিয়ে একটি সাংস্কৃতিক বিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
- শিক্ষার্থীরা পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার করে হাতে-কলমে কর্মশালায় অংশ নেয় এবং হমং জনগোষ্ঠীর সূচিকর্মের নকশা সম্পর্কে শেখে।
- আন্তঃসাংস্কৃতিক বোঝাপড়া বাড়াতে দূতাবাস আইএসবি গ্রন্থাগারে ভিয়েতনামের ধ্রুপদি সাহিত্যকর্মের ইংরেজি অনুবাদ উপহার দেয়।
- দুই দেশের সাংস্কৃতিক, শিক্ষাগত ও জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক জোরদারে ভিয়েতনাম ও ব্রুনেইয়ের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ এ অনুষ্ঠান।
- ব্রুনেইয়ে ভিয়েতনামি সম্প্রদায়ের সদস্য ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভিয়েতনামি সংস্কৃতি ও পণ্যের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- পরিবেশগত স্থায়িত্ব ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম মূল বিষয়; ভবিষ্যতে ভিয়েতনামি হস্তশিল্পে ব্রুনেইয়ের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজকদের।
- জাতিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা গড়ে তুলতে এ ধরনের সাংস্কৃতিক বিনিময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।






