শূন্য ডোজপ্রাপ্ত শিশুর সংখ্যা কমাতে ফিলিপাইনের অগ্রগতি
জনস্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য এক মাইলফলক অর্জন করেছে ফিলিপাইন: ২০২৩ সালে এক বছরের কম বয়সী যেসব শিশু নিয়মিত কোনো টিকাই পায়নি—যাদের "শূন্য ডোজপ্রাপ্ত" শিশু বলা হয়—তাদের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমেছে। দ্য ল্যানসেট-এ প্রকাশিত একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ফিলিপাইনে শূন্য ডোজপ্রাপ্ত শিশুর সংখ্যা কমে ৮৫,৯০৭-এ দাঁড়িয়েছে, যা ২০২২ সালের ১ লাখ ৬৩ হাজারের তুলনায় ৪৭% কম। ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে শূন্য ডোজপ্রাপ্ত শিশুর সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছেছিল। সেই সময়ে টিকা না পাওয়া শিশুর সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে পঞ্চম স্থানে ছিল ফিলিপাইন।
সূচিপত্র
- শূন্য ডোজপ্রাপ্ত শিশুর সংখ্যা কমাতে ফিলিপাইনের অগ্রগতি
- শূন্য ডোজপ্রাপ্ত শিশু কারা এবং কেন তারা গুরুত্বপূর্ণ?
- কীভাবে এই অগ্রগতি অর্জন করল ফিলিপাইন?
- চ্যালেঞ্জ: টিকা নিয়ে দ্বিধা, ভুল তথ্য ও প্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা
- কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব
- বর্তমান টিকাদানের হার ও বাকি ঘাটতি
- বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট: টিকাপ্রতিরোধযোগ্য রোগের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে লড়াইয়ে ফিলিপাইন
- উদ্ভাবন ও সামনের পথ
- সারসংক্ষেপ
এই অগ্রগতির ফলে শূন্য ডোজপ্রাপ্ত শিশুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—এমন শীর্ষ ২০টি দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে এসেছে ফিলিপাইন; এখন বিশ্বে দেশটির অবস্থান ৩৬তম। এটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে এবং জীবনরক্ষাকারী টিকা প্রতিটি শিশুর কাছে পৌঁছে দিতে অব্যাহত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
শূন্য ডোজপ্রাপ্ত শিশু কারা এবং কেন তারা গুরুত্বপূর্ণ?
যেসব শিশু প্রথম জন্মদিনের মধ্যে ডিপথেরিয়া, টিটেনাস ও পারটুসিস (DTP) টিকার প্রথম ডোজও পায়নি, তাদের শূন্য ডোজপ্রাপ্ত শিশু বলা হয়। এই টিকা শিশুদের টিকাদান কর্মসূচির অন্যতম ভিত্তি এবং মৌলিক স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকারের একটি পরোক্ষ সূচক হিসেবে প্রায়ই ব্যবহৃত হয়। এই ও অন্যান্য নিয়মিত টিকা না পাওয়া শিশুদের হাম, পোলিও ও পারটুসিস (হুপিং কাশি)-এর মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
বিশ্বজুড়েই সমস্যাটি গুরুতর। রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (CDC)-এর তথ্যমতে, ২০২৩ সালে এক বছরের কম বয়সী ১ কোটি ৪৫ লাখের বেশি শিশু মৌলিক টিকা পায়নি। এদের বেশির ভাগই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে বাস করে; অর্ধেকের বেশি শিশু মাত্র ১০টি দেশে কেন্দ্রীভূত। সম্প্রতি পর্যন্ত এই বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখা শীর্ষ পাঁচ দেশের একটি ছিল ফিলিপাইন।
কীভাবে এই অগ্রগতি অর্জন করল ফিলিপাইন?
সরকারি নেতৃত্ব, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব, কমিউনিটির সম্পৃক্ততা এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তির সমন্বিত উদ্যোগের ফলে ফিলিপাইনে শূন্য ডোজপ্রাপ্ত শিশুর সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমেছে।
প্রধান কৌশলগুলোর মধ্যে ছিল:
- স্কুলভিত্তিক টিকাদান কর্মসূচি: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DOH) শিক্ষা বিভাগের সঙ্গে অংশীদারত্বে বাকুনা এসকুয়েলা কর্মসূচি চালু করে। এর আওতায় প্রথম, চতুর্থ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাদ পড়া টিকা দেওয়া হয়। শৈশবে নিয়মিত টিকা নিতে না পারা শিশুদের কাছে পৌঁছানো ছিল এই উদ্যোগের লক্ষ্য; বিশেষ করে মহামারির কারণে বিঘ্নের শিকার শিশুদের।
- কমিউনিটিতে প্রচার ও সচেতনতা: স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী, তরুণ স্বেচ্ছাসেবক এবং ধর্মীয় নেতারাও টিকার প্রতি আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, বিশেষত দুর্গম ও টিকা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত কমিউনিটিগুলোতে। উদাহরণস্বরূপ, মুসলিম মিন্দানাওয়ের বাংসামোরো স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে (BARMM) মুসলিম ধর্মীয় নেতারা সক্রিয়ভাবে টিকাদানে উৎসাহ দেন।
- উদ্ভাবনী পর্যবেক্ষণ সরঞ্জাম: ইউনিসেফের সহায়তায় তৈরি রিয়েল টাইম ভ্যাকসিনেশন অ্যান্ড মনিটরিং অ্যানালাইসিস (RT-VaMA) টুলকিট টিকাদান অগ্রগতি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেয়। এই প্রযুক্তি তথ্য সংগ্রহ সহজ করে, ঘাটতি শনাক্ত করে এবং বাদ পড়া শিশুদের টিকা দিতে দ্রুত "মপ-আপ" কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করে।
- স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করা: কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা, সরবরাহ ব্যবস্থার লজিস্টিকস এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণে বিনিয়োগের ফলে দুর্গম এলাকাতেও টিকার কার্যকারিতা বজায় রাখা এবং সেগুলো সহজলভ্য করা সম্ভব হয়েছে।
জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে জোট গঠনের মাধ্যমে এসব উদ্যোগে সহায়তা করা হয়েছে। ইউএসএআইডি ও অস্ট্রেলিয়া সরকারের মতো অংশীদারেরাও উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছে। ২০২৪-২০২৫ সালের জাতীয় টিকাদান ত্বরান্বিতকরণ পরিকল্পনায় এখনো টিকা না পাওয়া শিশুদের কাছে পৌঁছানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
চ্যালেঞ্জ: টিকা নিয়ে দ্বিধা, ভুল তথ্য ও প্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা
অগ্রগতি সত্ত্বেও সর্বজনীন টিকাদান নিশ্চিত করতে ফিলিপাইনকে এখনো স্থায়ী নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। টিকা নিয়ে দ্বিধা একটি বড় বাধা। এর পেছনে আংশিকভাবে রয়েছে ডেংভ্যাক্সিয়া ডেঙ্গু টিকা নিয়ে অতীতের বিতর্ক, যা টিকার প্রতি জনসাধারণের আস্থা ক্ষুণ্ন করেছে। টিকার নিরাপত্তা নিয়ে ভুল তথ্য ও নানা ধারণা এখনো ছড়াচ্ছে, ফলে কিছু অভিভাবক সন্তানকে টিকা দিতে অনিচ্ছুক।
তাগুইগে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির চিকিৎসা সমন্বয়ক ডা. জেনিফার লু লোরিকো-দে গুজমান বলেন:
এমন কিছু ভ্রান্ত ধারণা আছে যে এই নির্দিষ্ট টিকাগুলো দিলে সেই রোগই হয়। এ নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। টিকার গুরুত্ব সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করার চেষ্টা করছি আমরা।
স্বাস্থ্যকর্মী ও কমিউনিটির স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে গঠিত প্রচার দলগুলো বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য দিচ্ছে এবং পরিবারের সদস্যদের উদ্বেগের সরাসরি জবাব দিচ্ছে। কিছু কমিউনিটিতে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্তে দাদা-দাদিরা উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখেন; আস্থা গড়তে তাই লক্ষ্যভিত্তিক যোগাযোগ কৌশল প্রয়োজন।
ভৌগোলিক বাধাও চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ২ হাজারের বেশি জনবসতিপূর্ণ দ্বীপ নিয়ে গঠিত ফিলিপাইনে দুর্গম এলাকায় টিকা পৌঁছে দেওয়া ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা জটিল। টিকা হিমায়িত অবস্থায় রাখার প্রয়োজনীয়তা এই জটিলতা আরও বাড়ায়, বিশেষত অবকাঠামো সীমিত এমন অঞ্চলগুলোতে।
কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব
কোভিড-১৯ মহামারিতে বিশ্বজুড়েই স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হয়েছিল, ফিলিপাইনও এর ব্যতিক্রম নয়। লকডাউন ও চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে পরিবারগুলো নিয়মিত চিকিৎসাসেবা নিতে পারেনি, ফলে ২০২০ ও ২০২১ সালে শূন্য ডোজপ্রাপ্ত শিশুর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায়। দ্য ল্যানসেট-এর গবেষণা অনুযায়ী, মহামারির সময়ে গুরুত্বপূর্ণ টিকাগুলোর বৈশ্বিক হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং অনেক দেশেই তা এখনো মহামারিপূর্ব পর্যায়ে ফেরেনি।
তবে মহামারি টিকাদানে নতুন উদ্যোগ ও অঙ্গীকারও জোরদার করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার "বিগ ক্যাচ-আপ" প্রচারাভিযান এবং ফিলিপাইন সরকারের ত্বরান্বিতকরণ পরিকল্পনায় হারানো অগ্রগতি পুনরুদ্ধারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে নেওয়া হয়েছে লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ।
বর্তমান টিকাদানের হার ও বাকি ঘাটতি
২০২৩ সালে ফিলিপাইনে এক বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে DTP টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার হার ছিল ৯৬%; ২০৪টি দেশের মধ্যে দেশটির অবস্থান ৭৫তম। তবে প্রথম জন্মদিনের মধ্যে সুপারিশ করা গুরুত্বপূর্ণ টিকাগুলোর সব ডোজ পেয়েছে—এমন শিশু ছিল মাত্র ৬২%। ২০২২ সালের ৬০% থেকে এটি সামান্য উন্নতি, তবে হাম ও পোলিওর মতো রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ৯৫% লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এখনো কম।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী তেওদোরো হারবোসা ২০২৫ সালের মধ্যে পূর্ণ টিকাদানের হার ৯৫%-এ উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকা পাওয়া শিশুদের তথ্যসহ বিভিন্ন ঘাটতি পূরণে এবং কোনো শিশু যেন বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে DOH।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট: টিকাপ্রতিরোধযোগ্য রোগের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে লড়াইয়ে ফিলিপাইন
বিশ্বজুড়ে নানা চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে ফিলিপাইনের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য। CDC-এর তথ্যমতে, বিশ্বে প্রতি পাঁচ শিশুর একজন এখনো জীবনরক্ষাকারী টিকা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। শূন্য ডোজপ্রাপ্ত শিশুদের অধিকাংশই সংঘাতকবলিত অঞ্চল এবং সম্পদস্বল্প দেশের বাসিন্দা; বিশেষ করে সাব-সাহারান আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের সংখ্যা বেশি।
শিশুদের নিয়মিত টিকাদান জনস্বাস্থ্যের সবচেয়ে কার্যকর ও সাশ্রয়ী উদ্যোগগুলোর অন্যতম। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে টিকাদানে ব্যয় করা প্রতি ডলার ৫২ ডলারের সাশ্রয় করে, আর বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোতে একটি শিশুকে পূর্ণ টিকা দিতে খরচ হয় মাত্র ১৮ ডলার। তবু দীর্ঘস্থায়ী বৈষম্য, মহামারির কারণে সৃষ্ট বিঘ্ন এবং টিকা নিয়ে ভুল তথ্যের বিস্তার কয়েক দশকের অগ্রগতিকে থামিয়ে দেওয়ার বা উল্টে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।
দ্য ল্যানসেট গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক ডা. জোনাথন মোসার বলেন:
নিয়মিত শৈশবকালীন টিকাদান জনস্বাস্থ্যের সবচেয়ে কার্যকর ও সাশ্রয়ী উদ্যোগগুলোর অন্যতম। কিন্তু বৈশ্বিক বৈষম্য, কোভিড-১৯ মহামারিজনিত চ্যালেঞ্জ এবং টিকা নিয়ে ভুল তথ্য ও দ্বিধার বিস্তার—সবই টিকাদানে অগ্রগতি শ্লথ হওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। এসব প্রবণতায় টিকাপ্রতিরোধযোগ্য রোগের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বাড়ে। তাই প্রতিটি শিশু জীবনরক্ষাকারী টিকার সুফল পায়, তা নিশ্চিত করতে লক্ষ্যভিত্তিক উন্নয়ন জরুরি।
উদ্ভাবন ও সামনের পথ
শূন্য ডোজপ্রাপ্ত শিশুর সংখ্যা কমানোর লক্ষ্যে কাজ করা অন্য দেশগুলোর জন্য ফিলিপাইনের অভিজ্ঞতা মূল্যবান শিক্ষা দেয়। RT-VaMA-এর মতো তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণ সরঞ্জামের ব্যবহার, স্থানীয় নেতা ও তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের সক্রিয় করা এবং সমতা ও কমিউনিটির সম্পৃক্ততায় গুরুত্ব দেওয়া—সবই দেশটির সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে।
বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা এবং স্থানীয় নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি বেহজাদ নুবারি:
নিয়মিত টিকাদানের ফলে মাতৃ ও নবজাতকের টিটেনাস নির্মূল, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ এবং ২০২১ সালে পোলিও সংক্রমণের অবসানের মাধ্যমে ফিলিপাইনে বহু মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে। জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে সরকারের অব্যাহত বিনিয়োগ—বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকায়—সহনশীল ও টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। আমাদের শিশুদের সুস্থ, সুরক্ষিত, বেঁচে থাকা ও বিকশিত হওয়ার ভবিষ্যৎই অনিশ্চিত সময়ে আমাদের প্রয়োজনীয় সুখবরের টিকা।
সামনে DOH, WHO ও ইউনিসেফ আরও বিস্তৃত স্বাস্থ্য কৌশলের সঙ্গে টিকাদানকে যুক্ত করতে কাজ করছে, যাতে প্রতিটি কিশোর-কিশোরী, মা, নবজাতক ও শিশু টিকার সুফল পায়। আসন্ন বিশ্ব টিকাদান সপ্তাহ এবং চলমান স্কুলভিত্তিক প্রচারাভিযান এই ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ।
সারসংক্ষেপ
- ফিলিপাইনে শূন্য ডোজপ্রাপ্ত শিশুর সংখ্যা ২০২৩ সালে ৪৭% কমে ১ লাখ ৬৩ হাজার থেকে ৮৫,৯০৭-এ নেমেছে; ২০২০-২০২২ সালের ১০ লাখের তুলনায়ও এটি অনেক কম।
- টিকা না পাওয়া শিশুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—এমন শীর্ষ ২০ দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে এসে বিশ্বে এখন ৩৬তম স্থানে রয়েছে দেশটি।
- প্রধান কৌশলগুলোর মধ্যে ছিল স্কুলভিত্তিক টিকাদান, কমিউনিটিতে প্রচার, উদ্ভাবনী পর্যবেক্ষণ সরঞ্জাম এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করা।
- টিকা নিয়ে দ্বিধা, ভুল তথ্য এবং দুর্গম এলাকায় সরবরাহের বাধাসহ নানা চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে।
- কোভিড-১৯ মহামারিতে অগ্রগতি ব্যাহত হলেও টিকাদান প্রচেষ্টায় নতুন অঙ্গীকার ও উদ্ভাবন জোরদার হয়েছে।
- পূর্ণ টিকাদানের হার এখনো ৯৫% লক্ষ্যমাত্রার নিচে; ২০২৫ সালের মধ্যে এই ঘাটতি পূরণে কাজ চলছে।
- প্রতিটি শিশুর কাছে জীবনরক্ষাকারী টিকা পৌঁছে দেওয়ার বৈশ্বিক উদ্যোগের জন্য ফিলিপাইনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।






