আত্মসাৎ ও রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করল ভিয়েতনাম: আইন সংস্কারে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ

পড়তে 7 মিনিট
Here's one way to escape death row in Vietnam: Get pregnant | The World ...

ভিয়েতনামের ঐতিহাসিক পদক্ষেপ: আটটি গুরুতর অপরাধে মৃত্যুদণ্ড বাতিল

ভিয়েতনাম আত্মসাৎ, ঘুষ, গুপ্তচরবৃত্তি এবং সরকার উৎখাতের উদ্দেশ্যে পরিচালিত কর্মকাণ্ডসহ আটটি গুরুতর অপরাধে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে দেশটির ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২৫ সালের ২৫ জুন জাতীয় পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে দেশটির দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় পরিবর্তন এসেছে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে ভিয়েতনামের আরও সামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে।

সূচিপত্র
  1. ভিয়েতনামের ঐতিহাসিক পদক্ষেপ: আটটি গুরুতর অপরাধে মৃত্যুদণ্ড বাতিল
  2. কোন অপরাধগুলোতে আর মৃত্যুদণ্ড হবে না?
  3. তাৎক্ষণিক প্রভাব: ট্রুং মি লানের মামলা
  4. ভিয়েতনাম কেন এই পরিবর্তন আনছে?
  5. সময়ের সঙ্গে ভিয়েতনামে মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োগ কীভাবে বদলেছে?
  6. আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া
  7. বৃহত্তর তাৎপর্য: ভিয়েতনামের ভবিষ্যতের জন্য এর অর্থ কী?
  8. চ্যালেঞ্জ ও সমালোচনা
  9. তুলনামূলক চিত্র: বিশ্বে ভিয়েতনামের সংস্কারের অবস্থান কোথায়?
  10. এরপর কী?
  11. সংক্ষেপে

নতুন আইনটি ২০২৫ সালের ১ জুলাই কার্যকর হবে। এতে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধের সংখ্যা ১৮ থেকে কমে ১০-এ দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট অপরাধগুলোর সর্বোচ্চ শাস্তি হবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। এই সংস্কারের ফলে এসব অপরাধে বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের প্রাণদণ্ড থেকে রেহাই দেওয়ার পাশাপাশি ভিয়েতনামের আইনি ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বৃহত্তর পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত মিলেছে।

কোন অপরাধগুলোতে আর মৃত্যুদণ্ড হবে না?

ফৌজদারি আইনের সংশোধনীতে নিচের আটটি অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাদ দেওয়া হয়েছে:

  • সম্পদ আত্মসাৎ
  • ঘুষ
  • গুপ্তচরবৃত্তি
  • সরকার উৎখাতের চেষ্টা
  • রাষ্ট্রের অবকাঠামোতে নাশকতা
  • নকল ওষুধ উৎপাদন ও বাণিজ্য
  • অবৈধভাবে মাদক পরিবহন
  • আগ্রাসী যুদ্ধ শুরু করা বা শান্তি বিনষ্ট করা

এসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ডের বদলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হবে। আইনে আরও বলা হয়েছে, এসব অপরাধে যাদের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, কিন্তু ১ জুলাইয়ের মধ্যে তা কার্যকর করা হয়নি, সুপ্রিম পিপলস কোর্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর করবে।

বিজ্ঞাপন

তাৎক্ষণিক প্রভাব: ট্রুং মি লানের মামলা

আইনের এই পরিবর্তনে সবচেয়ে আলোচিত সুবিধাভোগীদের একজন হলেন আবাসন খাতের ধনকুবের এবং ভ্যান থিন ফাত হোল্ডিংস গ্রুপের চেয়ারওম্যান ট্রুং মি লান। সাইগন কমার্শিয়াল ব্যাংক (এসসিবি) থেকে প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার আত্মসাতের দায়ে ২০২৪ সালে লানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মামলাটি দেশজুড়ে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক মনোযোগ পায়। আত্মসাতের পরিমাণ ভিয়েতনামের জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশের সমান ছিল, আর এ ঘটনায় বিরল একাধিক জনবিক্ষোভও হয়।

লানের আইনজীবী জিয়াং হং থান নিশ্চিত করেছেন, তার সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হবে। থান বলেন:

আজ সকালে আমি মিসেস লানকে এ খবর জানিয়েছি, তিনি খুব খুশি।

লানের মামলা ভিয়েতনামের দুর্নীতিবিরোধী ব্যাপক অভিযানের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। এ অভিযানে বহু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতাকে আটক ও বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, আত্মসাৎ বা ঘুষের দায়ে দোষী সাব্যস্ত লান ও অন্যরা আত্মসাৎ করা অর্থের উল্লেখযোগ্য অংশ ফেরত দিলে এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে তাদের সাজা আরও কমানোর সুযোগও রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ভিয়েতনাম কেন এই পরিবর্তন আনছে?

এসব অপরাধে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে কয়েকটি কারণ:

  • আন্তর্জাতিক চাপ ও মানবাধিকার: দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক অপরাধের মতো অহিংস অপরাধে মৃত্যুদণ্ডসহ দেশটির এই শাস্তির প্রয়োগ নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও বিদেশি সরকারগুলোর সমালোচনার মুখে পড়েছে ভিয়েতনাম। এই সংস্কারকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভিয়েতনামের ভাবমূর্তি উন্নত করার এবং যেসব দেশ মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন এমন সন্দেহভাজনদের প্রত্যর্পণে রাজি হয় না, তাদের সঙ্গে সহযোগিতা সহজ করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
  • সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা: জননিরাপত্তামন্ত্রী লুয়ং তাম কুয়াংসহ কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, মৃত্যুদণ্ডের আগের কাঠামো ভিয়েতনামের পরিবর্তনশীল সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং অপরাধ প্রতিরোধের বাস্তবতার সঙ্গে ক্রমেই অসংগত হয়ে পড়েছিল। এসব অপরাধে দেওয়া অনেক মৃত্যুদণ্ড বাস্তবে কার্যকর করা হয়নি, যা আইন ও বাস্তব চর্চার মধ্যে ব্যবধানের প্রতিফলন।
  • আইনি ও কূটনৈতিক বিবেচনা: আইনমন্ত্রী নগুয়েন হাই নিন উল্লেখ করেছেন, এই পরিবর্তনে আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতা, বিশেষত প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত মামলায়, ভিয়েতনামের সক্ষমতা বাড়বে। অতীতে মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি থাকায় কিছু দেশ পলাতক আসামিদের ভিয়েতনামে ফেরত পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাবিষয়ক সংসদীয় কমিটির উপপ্রধান এবং পুলিশ লেফটেন্যান্ট জেনারেল নগুয়েন মিন ডুক ভিয়েতনামের চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান ও আন্তর্জাতিক সংযুক্তি বাড়াতে এই সংস্কারের ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সময়ের সঙ্গে ভিয়েতনামে মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োগ কীভাবে বদলেছে?

বিশেষত রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি বিবেচিত অপরাধে মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে ভিয়েতনামের। ১৯৮৫ সালে ৪৪টি ভিন্ন অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যেত। কয়েক দশকে এই সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমেছে:

  • ২০১০ সালের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধের সংখ্যা কমে ২২-এ দাঁড়ায়।
  • সর্বশেষ সংস্কারের পর মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধের সংখ্যা ১০-এ নেমে এসেছে।

যেসব অপরাধে এখনও মৃত্যুদণ্ড রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে হত্যা, রাষ্ট্রদ্রোহ, সন্ত্রাসবাদ, শিশুদের যৌন নির্যাতন এবং মাদক পাচার-সংক্রান্ত কিছু অপরাধ। উল্লেখযোগ্যভাবে, মাদক পাচারে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা উচিত কি না, তা নিয়ে বিশেষ বিতর্ক হয়েছে। কিছু আইনপ্রণেতার আশঙ্কা, এই শাস্তি তুলে নিলে মাদক-সম্পর্কিত অপরাধ বৃদ্ধির সময় ভুল বার্তা যেতে পারে।

২০১১ সাল থেকে ফায়ারিং স্কোয়াডের বদলে ভিয়েতনামে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের একমাত্র পদ্ধতি হিসেবে প্রাণঘাতী ইনজেকশন ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এবং মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় থাকা বন্দিদের তথ্যকে সরকার রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা হিসেবে বিবেচনা করে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের হিসাবে, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ ভিয়েতনামে ১,২০০ জনের বেশি মানুষ মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় ছিলেন। তবে প্রকৃত সংখ্যা অজানা।

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া

মানবাধিকারকর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞরা এই সংস্কারকে স্বাগত জানিয়েছেন, যদিও অনেকের মতে এটি যথেষ্ট নয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মৃত্যুদণ্ডবিষয়ক উপদেষ্টা চিয়ারা সাঙ্গিওর্জিও পরিবর্তনগুলোকে “ইতিবাচক পদক্ষেপ” বলে বর্ণনা করেছেন। তবে মৃত্যুদণ্ডের মামলায় বিচারের ন্যায্যতা এবং ভিয়েতনামের বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে উদ্বেগ এখনো রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

হ্যানয়ের ভিয়েতনাম ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের সাবেক উপপ্রধান নগুয়েন নগক চির মতো আইন বিশেষজ্ঞরা এই সংস্কারকে ভিয়েতনামে মৃত্যুদণ্ড শেষ পর্যন্ত বিলুপ্ত করার দিকে ধীরগতির প্রবণতার অংশ হিসেবে দেখছেন। চি বলেন:

আমি আশা করি, ভিয়েতনামে মৃত্যুদণ্ড পুরোপুরি বিলুপ্ত হবে।

ভিয়েতনামের ভেতরে এই পদক্ষেপকে আইন প্রয়োগ ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির বাস্তবতার প্রতি একটি বাস্তববাদী প্রতিক্রিয়া হিসেবেও দেখা হচ্ছে। আইনমন্ত্রী নগুয়েন হাই নিন ব্যাখ্যা করেছেন, বাস্তবে সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত অপরাধগুলোর অনেক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছিল না। ফলে আইনি পরিবর্তনটি বিদ্যমান প্রবণতার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।

বৃহত্তর তাৎপর্য: ভিয়েতনামের ভবিষ্যতের জন্য এর অর্থ কী?

আত্মসাৎ, ঘুষ ও রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের সুদূরপ্রসারী কয়েকটি তাৎপর্য রয়েছে:

  • বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন: ভিয়েতনামের আইনি ব্যবস্থা আধুনিক করা এবং বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ এই সংস্কার। এতে সবচেয়ে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বদলে পুনর্বাসন ও অপরাধের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ শাস্তির দিকে ঝোঁক প্রতিফলিত হয়েছে।
  • আন্তর্জাতিক সম্পর্ক: মৃত্যুদণ্ডের পরিধি কমিয়ে ভিয়েতনাম কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সহজ করতে চায়, বিশেষত প্রত্যর্পণ ও পারস্পরিক আইনি সহায়তার ক্ষেত্রে।
  • দুর্নীতিবিরোধী অভিযান: এই পরিবর্তন ভিয়েতনামের আলোচিত দুর্নীতিবিরোধী অভিযানেও প্রভাব ফেলতে পারে। মৃত্যুদণ্ড তুলে নিলে অপরাধ দমনের ভয় দুর্বল হতে পারে বলে কিছু সমালোচকের আশঙ্কা। তবে কর্মকর্তাদের বক্তব্য, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও কঠোর শাস্তি এবং এই সংস্কারে দুর্নীতিবিরোধী প্রচেষ্টা ব্যাহত হবে না।
  • মানবাধিকার অগ্রগতি: ভিয়েতনামে মানবাধিকারের অগ্রগতিতে এই পদক্ষেপটি একটি ধাপ। তবে কর্মীরা আরও স্বচ্ছতা, ন্যায্য বিচার এবং সব অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত বিলুপ্তির দাবি জানিয়ে যাচ্ছেন।

জননিরাপত্তামন্ত্রী লুয়ং তাম কুয়াং সরকারের যুক্তি সংক্ষেপে তুলে ধরেন:

মৃত্যুদণ্ডের বর্তমান কাঠামো সমস্যাজনক ছিল এবং কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তনশীল সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও অপরাধ প্রতিরোধের বাস্তবতার সঙ্গে অসংগত ছিল।

চ্যালেঞ্জ ও সমালোচনা

ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও, এই সংস্কার বিতর্কমুক্ত নয়। জাতীয় পরিষদের কিছু সদস্যের উদ্বেগ, মাদক পাচার ও রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড বাতিল হলে অপরাধীরা আরও সাহস পেতে পারে অথবা বিচারব্যবস্থার ওপর জনসাধারণের আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে। অন্যদের যুক্তি, ভিয়েতনামের আইনি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে অব্যাহত গোপনীয়তার কারণে এই পরিবর্তনের প্রকৃত প্রভাব মূল্যায়ন করা কঠিন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো মৃত্যুদণ্ডের মামলায় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার ঘাটতি এবং চাপ দিয়ে আদায় করা স্বীকারোক্তির ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে। সব আসামির ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করতে এবং বিচারিক ভুল ঠেকাতে আইনি ব্যবস্থার সংস্কারে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।

তুলনামূলক চিত্র: বিশ্বে ভিয়েতনামের সংস্কারের অবস্থান কোথায়?

মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার সীমিত করার ভিয়েতনামের পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে মৃত্যুদণ্ড বিলুপ্ত বা সীমিত করার প্রবণতার সঙ্গে মেলে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের হিসাবে, বিশ্বে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি দেশ আইন বা বাস্তবে মৃত্যুদণ্ড বিলুপ্ত করেছে। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশ, বিশেষত মাদক-সম্পর্কিত অপরাধে, এখনও মৃত্যুদণ্ড দিয়ে থাকে।

অহিংস ও অর্থনৈতিক অপরাধের একটি বিস্তৃত পরিসরে মৃত্যুদণ্ড তুলে নেওয়ায় ভিয়েতনামের সংস্কারের পরিধি উল্লেখযোগ্য। এতে দেশটি আন্তর্জাতিক রীতিনীতির আরও কাছাকাছি এসেছে এবং এ অঞ্চলে আরও সংস্কারে উৎসাহ জোগাতে পারে।

এরপর কী?

নতুন আইনটি ২০২৫ সালের ১ জুলাই কার্যকর হওয়ার কথা। তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হবে সংশ্লিষ্ট অপরাধে দেওয়া বিদ্যমান মৃত্যুদণ্ডগুলো কমিয়ে আনা। এই প্রক্রিয়ার তদারকির দায়িত্ব সুপ্রিম পিপলস কোর্টের। আইন বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই সংস্কার ভিয়েতনামে মৃত্যুদণ্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও বিতর্কের জন্ম দেবে, বিশেষত মাদক-সম্পর্কিত অপরাধ ও আইনে থাকা অন্যান্য গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে।

পাশাপাশি, জাতীয় পরিষদ প্রত্যর্পণ নিয়ে নতুন আইন বিবেচনা করছে, যা ফৌজদারি মামলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও সহজ করতে পারে। এই সংস্কারগুলো একসঙ্গে ন্যায়বিচার, অপরাধ প্রতিরোধ ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে ভিয়েতনামের দৃষ্টিভঙ্গিতে বৃহত্তর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সংক্ষেপে

  • আত্মসাৎ, ঘুষ, গুপ্তচরবৃত্তি ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডসহ আটটি গুরুতর অপরাধে ভিয়েতনাম মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছে; আইনটি ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।
  • এই সংস্কারে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধের সংখ্যা ১৮ থেকে ১০-এ নেমেছে। সংশ্লিষ্ট অপরাধগুলোর সর্বোচ্চ শাস্তি এখন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
  • আবাসন খাতের ধনকুবের ট্রুং মি লানের মতো আলোচিত দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হবে।
  • আন্তর্জাতিক চাপ, সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা, আইনি ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজন এই পরিবর্তনের পেছনে কাজ করেছে।
  • মানবাধিকারকর্মীরা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও আরও স্বচ্ছতা ও ন্যায্য বিচারসহ অতিরিক্ত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
  • ভিয়েতনামের এই সংস্কার মৃত্যুদণ্ড সীমিত বা বিলুপ্ত করার বৈশ্বিক প্রবণতার প্রতিফলন, যদিও চ্যালেঞ্জ ও বিতর্ক রয়ে গেছে।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে