জরায়ুমুখের ক্যানসার নির্মূলে ইন্দোনেশিয়ার উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ: ডিএনএ-ভিত্তিক স্ক্রিনিং ও জাতীয় কর্মপরিকল্পনা

পড়তে 9 মিনিট
The Impact of Low Screening Coverage on Cervical Cancer Incidence in ...

২০৩০ সালের মধ্যে জরায়ুমুখের ক্যানসার নির্মূলে ইন্দোনেশিয়ার নতুন কৌশল

২০৩০ সালের মধ্যে নারীদের স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হিসেবে জরায়ুমুখের ক্যানসার নির্মূল করতে জনস্বাস্থ্যবিষয়ক একটি উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ শুরু করছে ইন্দোনেশিয়া। এ প্রচেষ্টার কেন্দ্রে রয়েছে দেশজুড়ে জরায়ুমুখের ক্যানসার শনাক্তে ডিএনএ-ভিত্তিক পরীক্ষা চালু করা, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) লক্ষ্যমাত্রা ও বৈশ্বিক সর্বোত্তম চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সরকারের পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো, টিকাদানের হার বৃদ্ধি করা এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা। ইন্দোনেশীয় নারীদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বাধিক দেখা ক্যানসারটি মোকাবিলায় এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সূচিপত্র
  1. ২০৩০ সালের মধ্যে জরায়ুমুখের ক্যানসার নির্মূলে ইন্দোনেশিয়ার নতুন কৌশল
  2. ইন্দোনেশিয়ায় জরায়ুমুখের ক্যানসার কেন এখনো বড় স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ
  3. VIA থেকে ডিএনএ: স্ক্রিনিং প্রযুক্তিতে পরিবর্তন
  4. ডিএনএ-ভিত্তিক স্ক্রিনিং কীভাবে কাজ করে এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
  5. বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য
  6. HPV টিকাদান সম্প্রসারণ: পরবর্তী প্রজন্মকে সুরক্ষা
  7. স্ক্রিনিং ও টিকাদানের পথে বাধা: সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ
  8. উদ্ভাবন ও অংশীদারত্ব: স্ক্রিনিংকে আরও সহজলভ্য করা
  9. বৃহত্তর স্বাস্থ্য কর্মসূচির সঙ্গে স্ক্রিনিং যুক্ত করা
  10. আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট: ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান
  11. সামনের পথ: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
  12. সংক্ষেপে

ইন্দোনেশিয়ায় জরায়ুমুখের ক্যানসার কেন এখনো বড় স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ

জরায়ুমুখের ক্যানসারের প্রধান কারণ হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাসের (HPV) উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ধরনগুলোর দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ। ভাইরাসটি যৌন সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসার (IARC)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়ায় জরায়ুমুখের ক্যানসারে প্রায় ৩৬ হাজার নতুন রোগী শনাক্ত হয় এবং ২১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। স্তন ক্যানসারের পর নারীদের মধ্যে এটি দেশটির দ্বিতীয় সর্বাধিক দেখা ক্যানসার। জরায়ুমুখের ক্যানসারে দেশটির বয়স-সমন্বিত রোগ শনাক্ত ও মৃত্যুহার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্বোচ্চ হারগুলোর মধ্যে রয়েছে। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগীর ক্ষেত্রে রোগটি এমন অগ্রসর পর্যায়ে শনাক্ত হয়, যখন চিকিৎসা কম কার্যকর হয়।

এই উচ্চ রোগভার কয়েকটি কারণে তৈরি হয়েছে:

  • স্ক্রিনিংয়ের হার কম: ২০২০ সালে ৩০-৫০ বছর বয়সী নারীদের ১০ শতাংশেরও কম বিনা মূল্যে স্ক্রিনিং করিয়েছিলেন।
  • দেরিতে রোগ শনাক্ত: জরায়ুমুখের ক্যানসারের প্রায় ৭০ শতাংশ ঘটনা অগ্রসর পর্যায়ে শনাক্ত হয়।
  • স্ক্রিনিংয়ের পথে বাধা: এর মধ্যে রয়েছে জনসচেতনতার অভাব, সাংস্কৃতিক ট্যাবু, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা নিয়ে অস্বস্তি এবং পরিবারের, বিশেষত স্বামীদের, সমর্থনের অভাব।
  • আধুনিক স্ক্রিনিং পদ্ধতিতে সীমিত প্রবেশাধিকার: অধিকাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্র অ্যাসিটিক অ্যাসিড দিয়ে চাক্ষুষ পরীক্ষা (VIA) পদ্ধতির ওপর নির্ভর করেছে। পদ্ধতিটি সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হলেও আধুনিক বিকল্পগুলোর তুলনায় কম সংবেদনশীল।

ইন্দোনেশিয়ার বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড, শহর ও গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার প্রবেশাধিকারের বৈষম্য এবং নারীদের প্রতিরোধমূলক সেবা নিতে বাধা দেয় এমন আর্থসামাজিক কারণগুলো এসব চ্যালেঞ্জকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

VIA থেকে ডিএনএ: স্ক্রিনিং প্রযুক্তিতে পরিবর্তন

বহু বছর ধরে জরায়ুমুখের ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ে ইন্দোনেশিয়ার প্রধান পদ্ধতি ছিল VIA। এটি সহজ ও স্বল্পব্যয়ের পরীক্ষা, যেখানে জরায়ুমুখে অ্যাসিটিক অ্যাসিড প্রয়োগ করে স্বাস্থ্যকর্মীরা অস্বাভাবিক পরিবর্তন চাক্ষুষভাবে পরীক্ষা করেন। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় VIA সহজে চালু করা গেলেও এর সংবেদনশীলতা ও নির্দিষ্টতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে কিছু রোগী শনাক্ত না-ও হতে পারেন, আবার কারও ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় পরবর্তী পরীক্ষা লাগতে পারে।

এই সীমাবদ্ধতাগুলো বিবেচনায় নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এখন ৩০ থেকে ৬৯ বছর বয়সী নারীদের জন্য HPV ডিএনএ পরীক্ষা প্রাথমিক স্ক্রিনিং পদ্ধতি হিসেবে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। জরায়ুমুখের নমুনায় উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ HPV-এর ডিএনএ শনাক্ত করে এই পদ্ধতি; কোষে পরিবর্তন বা ক্যানসার হওয়ার আগেই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের শনাক্ত করা যায়। নতুন পদ্ধতিতে VIA ও ডিএনএ পরীক্ষা একত্রে করা হবে (কো-টেস্টিং), যা প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত ও প্রতিরোধে বেশি নির্ভুল ও কার্যকর বলে বিবেচিত।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক সিতি নাদিয়া তারমিজি সম্প্রতি এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন:

২০২৫ সাল থেকে দেশজুড়ে VIA-এর সঙ্গে HPV ডিএনএ কো-টেস্টিং চালু করতে শুরু করব আমরা।

বৃহত্তর জাকার্তায় সফল পরীক্ষামূলক কর্মসূচির পর ২০২৪ সালে ১৬টি প্রদেশের ২৫টি জেলা ও শহরে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, কো-টেস্টিং পদ্ধতিতে স্ক্রিনিং করা নারীদের প্রায় ২.৫ শতাংশের HPV সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এতে আরও সংবেদনশীল স্ক্রিনিং পদ্ধতির গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ডিএনএ-ভিত্তিক স্ক্রিনিং কীভাবে কাজ করে এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

HPV ডিএনএ পরীক্ষা একটি আণবিক রোগনির্ণয় পদ্ধতি, যা জরায়ুমুখের নমুনায় উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ HPV ধরনের জিনগত উপাদান শনাক্ত করে। VIA বা প্যাপ স্মিয়ারের মতো পদ্ধতিতে চাক্ষুষ বা কোষগত পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করা হয়। বিপরীতে, ডিএনএ পরীক্ষায় দৃশ্যমান বা অণুবীক্ষণিক কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দেওয়ার আগেই সংক্রমণ শনাক্ত করা যায়। ফলে আগেভাগে হস্তক্ষেপ সম্ভব হয় এবং ক্যানসারে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি কমে।

HPV ডিএনএ পরীক্ষার প্রধান সুবিধাগুলো হলো:

  • বেশি সংবেদনশীলতা ও নির্দিষ্টতা: ঝুঁকিতে থাকা নারীদের আরও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা যায়, ফলে ভুলভাবে নেগেটিভ ফল এবং অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা কমে।
  • স্ক্রিনিংয়ের মধ্যবর্তী সময় বেশি: HPV ডিএনএ পরীক্ষায় নেগেটিভ ফল এলে ৫-১০ বছর পর্যন্ত আশ্বস্ত থাকা যায়; প্যাপ স্মিয়ারের ক্ষেত্রে এ সময় ৩ বছর।
  • নিজে নমুনা সংগ্রহের সুযোগ: প্রস্রাবভিত্তিক পরীক্ষা বা নিজে যোনির নমুনা সংগ্রহের মতো উদ্ভাবন স্ক্রিনিংকে আরও সহজলভ্য ও কম শারীরিকভাবে অস্বস্তিকর করতে পারে, পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও ব্যবহারিক বাধাও কমায়।

ইন্দোনেশিয়ায় এ সুবিধাগুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অস্বস্তি, লজ্জা বা সামাজিক কলঙ্কের ভয়ে অনেক নারী পেলভিক পরীক্ষা করাতে চান না। কম আক্রমণাত্মক বিকল্প ও আরও নির্ভুল ফল দেওয়ার মাধ্যমে নতুন স্ক্রিনিং কৌশলটির লক্ষ্য হলো অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং রোগটি আগেভাগে শনাক্ত করা।

বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য

জরায়ুমুখের ক্যানসার নির্মূলে ইন্দোনেশিয়ার প্রচেষ্টা ২০৩০ সালের জন্য WHO-এর ৯০-৭০-৯০ লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ:

  • ১৫ বছর বয়সের মধ্যে ৯০ শতাংশ মেয়েকে HPV-এর পূর্ণ টিকা দেওয়া
  • ৩৫ ও ৪৫ বছর বয়সে ৭০ শতাংশ নারীকে উচ্চ-কার্যকারিতার পরীক্ষায় স্ক্রিনিং করা
  • প্রাক-ক্যানসার পর্যায়ে থাকা ৯০ শতাংশ নারীর চিকিৎসা করা এবং আক্রমণাত্মক ক্যানসারে আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা

জরায়ুমুখের ক্যানসারের হার প্রতি এক লাখ নারীর মধ্যে ৪-এর নিচে নামিয়ে আনতে বৈশ্বিক কৌশলের অংশ হিসেবে এ লক্ষ্যমাত্রাগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় জরায়ুমুখের ক্যানসার নির্মূল পরিকল্পনা (২০২৩-২০৩০) এবং বৃহত্তর জাতীয় ক্যানসার কর্মপরিকল্পনা (২০২৪-২০৩৪)—দুটিতেই এসব লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। দেশজুড়ে স্ক্রিনিং, টিকাদান ও চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

HPV টিকাদান সম্প্রসারণ: পরবর্তী প্রজন্মকে সুরক্ষা

HPV-এর বিরুদ্ধে টিকাদান জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। ২০১৬ সালে ইন্দোনেশিয়া HPV টিকাদান চালু করে; শুরুতে কয়েকটি নির্বাচিত শহরের মেয়েদের লক্ষ্য করা হয়। ২০২৩ সালে স্কুলশিশু টিকাদান মাস (BIAS) কর্মসূচির আওতায় পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণির ১১-১২ বছর বয়সী মেয়েদের জন্য কর্মসূচিটি দেশজুড়ে সম্প্রসারণ করা হয়। দুই ডোজের টিকাদানের হার ইতিমধ্যে ৯০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। ২১ লাখ ৫০ হাজারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ২০ লাখ মেয়েকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

এই সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে সরকার পরিকল্পনা করছে:

  • পঞ্চম শ্রেণির মেয়েদের জন্য এক ডোজের HPV টিকা চালু করা। WHO-এর সুপারিশ অনুযায়ী, এক ডোজে দুই ডোজের মতোই সুরক্ষা পাওয়া যায়।
  • আগে টিকা না পাওয়া ১৫ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বাদ পড়া টিকা দেওয়া।
  • হার্ড ইমিউনিটির দিকে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে এবং HPV সংক্রমণ কমাতে ছেলেদেরও টিকাদানের আওতায় আনা; ২০২৬ সালেই তা শুরু হতে পারে।

ইন্দোনেশিয়ায় WHO-এর প্রতিনিধি ডা. এন. পারানিয়েথারন এসব উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন:

ইন্দোনেশিয়ার দেশব্যাপী HPV টিকাদান কর্মসূচি জনস্বাস্থ্য ও লিঙ্গসমতার প্রতি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এক ডোজের সময়সূচি আরও দক্ষতা আনবে, ব্যয় কমাবে এবং ইন্দোনেশীয় মেয়ে ও নারীদের সুরক্ষা ত্বরান্বিত করবে; জরায়ুমুখের ক্যানসার নির্মূলের অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনেও অগ্রগতি হবে।

স্ক্রিনিং ও টিকাদানের পথে বাধা: সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ

এ অগ্রগতি সত্ত্বেও স্ক্রিনিং ও টিকাদানের উচ্চ হার অর্জনে ইন্দোনেশিয়ার সামনে স্থায়ী কিছু বাধা রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণা ও জরিপে কয়েকটি প্রধান চ্যালেঞ্জ উঠে এসেছে:

  • সচেতনতা ও জ্ঞানের অভাব: অনেক নারী ও পরিবার HPV, জরায়ুমুখের ক্যানসার এবং স্ক্রিনিং ও টিকাদানের উপকারিতা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য জানেন না।
  • সাংস্কৃতিক ট্যাবু ও সামাজিক কলঙ্ক: অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা প্রায়ই বিব্রতকর বা অনুচিত বলে বিবেচিত হয়। অনেক সম্প্রদায়ে যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা এখনো স্পর্শকাতর।
  • পরিবারের সমর্থনের অভাব: প্রতিরোধমূলক সেবা নিতে নারীদের প্রায়ই স্বামী বা পরিবারের সদস্যদের উৎসাহের প্রয়োজন হয়।
  • অর্থনৈতিক বাধা: সরকারি কর্মসূচিতে বিনা মূল্যে স্ক্রিনিং ও টিকা দেওয়া হলেও পরবর্তী চিকিৎসা বা বেসরকারি সেবার খরচ অনেকের সাধ্যের বাইরে, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারের ক্ষেত্রে।
  • স্বাস্থ্যব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা: প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি, পরীক্ষাগারের সীমিত সক্ষমতা এবং শহর ও গ্রামাঞ্চলে সেবার অসম বণ্টন প্রবেশাধিকারে বাধা সৃষ্টি করে।

জাকার্তার শহরাঞ্চলে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিরোধ সম্পর্কে মনোভাব সাধারণত ইতিবাচক হলেও বাস্তব চর্চায় তার প্রতিফলন কম। মাত্র প্রায় ৩০ শতাংশ নারী প্রতিরোধমূলক আচরণে ইতিবাচক বলে জানিয়েছেন, আর সরকারি কর্মসূচির বাইরে টিকা নেওয়ার হার এখনো কম। শিক্ষা, আয় ও অভিভাবকের সমর্থনের মতো আর্থসামাজিক ও জনমিতিক উপাদান—বিশেষ করে মায়েদের সমর্থন—জ্ঞান, মনোভাব ও চর্চা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিজ্ঞাপন

উদ্ভাবন ও অংশীদারত্ব: স্ক্রিনিংকে আরও সহজলভ্য করা

এসব বাধা অতিক্রম করতে ইন্দোনেশিয়া প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং স্থানীয় জৈবপ্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব কাজে লাগাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ইন্দোনেশীয় বায়োটেক প্রতিষ্ঠান নুসান্টিকস PathoScan hrHPV qPCR Kit তৈরি করেছে, যা উচ্চ সংবেদনশীলতায় HPV-এর ১৪টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ধরন শনাক্ত করতে পারে। প্রচলিত নমুনা সংগ্রহপদ্ধতিতে অস্বস্তি বোধ করেন এমন নারীদের জন্য কম আক্রমণাত্মক বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি প্রস্রাবভিত্তিক HPV ডিএনএ পরীক্ষার পরীক্ষামূলক কার্যক্রমও চালাচ্ছে।

অন্যান্য উদ্ভাবনের মধ্যে রয়েছে Cerviray A.I.-এর মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সরঞ্জাম। এসব প্রযুক্তি স্ক্রিনিংয়ের ফল ব্যাখ্যায় স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তা করতে এবং দূরবর্তী পরামর্শের জন্য টেলিমেডিসিন সেবা দিতে পারে। প্রযুক্তিগুলো এখনো মূল্যায়ন করা হলেও, বিশেষত সেবাবঞ্চিত এলাকায় প্রবেশাধিকার বাড়ানো ও রোগনির্ণয়ের নির্ভুলতা উন্নত করার সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃহত্তর স্বাস্থ্য কর্মসূচির সঙ্গে স্ক্রিনিং যুক্ত করা

ইন্দোনেশিয়ার কৌশলে বৃহত্তর স্বাস্থ্য উদ্যোগের সঙ্গে জরায়ুমুখের ক্যানসার স্ক্রিনিং যুক্ত করার বিষয়টিও রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, নতুন ডিএনএ-ভিত্তিক স্ক্রিনিং প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর প্রধান বিনা মূল্যের জন্মদিনের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কর্মসূচিতে যুক্ত করা হবে। এতে ৩০-৬৯ বছর বয়সী নারীদের নিয়মিত প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার অংশ হবে স্ক্রিনিং। HPV পরীক্ষা সহায়তায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কোভিড-১৯ মোকাবিলায় ব্যবহৃত RT-PCR ও GeneXpert যন্ত্রের মতো পরীক্ষাগারের সরঞ্জামও নতুন করে কাজে লাগাচ্ছে।

WHO ও UNFPA-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কারিগরি সহায়তা, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং প্রমাণভিত্তিক প্রটোকল বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে এসব প্রচেষ্টায় সহায়তা করছে। সরকারের জাতীয় ক্যানসার কর্মপরিকল্পনায় স্বাস্থ্য অবকাঠামো শক্তিশালী করা, অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ এবং দেশজুড়ে সেবায় ন্যায়সংগত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট: ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান

ইন্দোনেশিয়ার উদ্যোগ এশিয়া ও অন্যান্য নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে (LMICs) জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে আরও কার্যকর পদ্ধতির দিকে বৃহত্তর পরিবর্তনের প্রতিফলন। দ্য ল্যানসেটের এক পর্যালোচনা অনুযায়ী, এশিয়ার হাতেগোনা কয়েকটি দেশে HPV টিকাদান ও স্ক্রিনিংয়ের হার উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অধিকাংশ দেশ এখনো ডিএনএ-ভিত্তিক পরীক্ষার বদলে VIA বা কোষবিদ্যাভিত্তিক পরীক্ষার ওপর নির্ভরশীল। সাশ্রয়ী মূল্যে সেবার অভাব, সরবরাহে ঘাটতি ও সচেতনতার অভাবের মতো বাধা পুরো অঞ্চলেই সাধারণ।

তবে WHO-এর ৯০-৭০-৯০ লক্ষ্যমাত্রার প্রতি ইন্দোনেশিয়ার অঙ্গীকার, দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং উচ্চ-কার্যকারিতার স্ক্রিনিং পদ্ধতি গ্রহণের ফলে জরায়ুমুখের ক্যানসার নির্মূলে দেশটি আঞ্চলিকভাবে অগ্রণীদের কাতারে রয়েছে। দেশটির অভিজ্ঞতা এ-ও দেখায় যে দীর্ঘস্থায়ী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, বিভিন্ন খাতের অংশীদারত্ব এবং কমিউনিটির সম্পৃক্ততা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

সামনের পথ: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

ইন্দোনেশিয়ার পরিকল্পনা উচ্চাভিলাষী হলেও কয়েকটি চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে:

  • পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বাড়ানো: প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ এলাকাসহ দেশজুড়ে HPV ডিএনএ পরীক্ষা সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করা।
  • স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ ও ধরে রাখা: স্ক্রিনিং, টিকাদান ও পরবর্তী চিকিৎসাসেবা দিতে দক্ষ কর্মীবাহিনী গড়ে তোলা।
  • সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাধা মোকাবিলা: দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে ও অংশগ্রহণ বাড়াতে ধারাবাহিক জনসচেতনতামূলক প্রচার এবং কমিউনিটির সম্পৃক্ততা প্রয়োজন।
  • অগ্রগতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা: অগ্রগতি ধরে রাখতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন, শক্তিশালী নজরদারি ব্যবস্থা এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্যসুরক্ষার সঙ্গে সমন্বয় অপরিহার্য।

নিজে নমুনা সংগ্রহ, AI-সহায়তায় রোগনির্ণয় এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্য প্ল্যাটফর্মের মতো উদ্ভাবন প্রবেশাধিকার ও সেবার মানের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করতে পারে। ২০৩০ সালের মধ্যে নির্মূলের লক্ষ্য অর্জনে স্থানীয় শিল্প, নাগরিক সমাজ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সংক্ষেপে

  • ২০৩০ সালের মধ্যে জরায়ুমুখের ক্যানসার নির্মূলের লক্ষ্যে ২০২৫ সাল থেকে ৩০-৬৯ বছর বয়সী নারীদের জন্য দেশজুড়ে HPV ডিএনএ-ভিত্তিক স্ক্রিনিং চালু করছে ইন্দোনেশিয়া।
  • নতুন স্ক্রিনিং কৌশলে VIA ও ডিএনএ পরীক্ষা একত্র করা হয়েছে। এতে নির্ভুলতা বাড়বে এবং কম আক্রমণাত্মক, নিজে নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতির সুযোগ তৈরি হবে।
  • মেয়েদের মধ্যে HPV টিকাদানের হার ৯০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। আরও কার্যকরভাবে টিকাদান সম্প্রসারণে ছেলেদের টিকা দেওয়া এবং এক ডোজের সময়সূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
  • স্ক্রিনিং ও টিকাদানের পথে বাধার মধ্যে রয়েছে সচেতনতার অভাব, সাংস্কৃতিক ট্যাবু, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা।
  • রোগনির্ণয়ের উদ্ভাবন, বৃহত্তর স্বাস্থ্য কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় এবং জোরালো রাজনৈতিক অঙ্গীকার অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখছে।
  • ইন্দোনেশিয়ার প্রচেষ্টা WHO-এর ৯০-৭০-৯০ লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এ অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর জন্য উদাহরণ হতে পারে।
  • অগ্রগতির গতি ধরে রাখতে এবং ইন্দোনেশীয় নারীদের জরায়ুমুখের ক্যানসারমুক্ত ভবিষ্যতের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ধারাবাহিক বিনিয়োগ, কমিউনিটির সম্পৃক্ততা ও বিভিন্ন খাতের অংশীদারত্ব অপরিহার্য।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে