বসতবাড়ির কাছের আগুনে প্রথমবার পানি ছিটাল বিমান
অস্ট্রেলিয়ার একটি সি-১৩০ এয়ার ট্যাংকার ৬ নভেম্বর ২০২৬ জাকার্তা সময় বিকেল ৩টার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব কালিমান্তান প্রদেশের সামারিন্দার কাছে তিনটি অগ্নিনির্বাপণ অভিযান সম্পন্ন করেছে। কর্তৃপক্ষ আবাসিক এলাকার কাছের দুটি অগ্নিকেন্দ্রকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এই মোতায়েনে দুটি উড়োজাহাজ ও ২০ জন অস্ট্রেলীয় বিশেষজ্ঞ যুক্ত হয়েছেন। ইন্দোনেশিয়ার বেশ কয়েকটি দ্বীপজুড়ে চলা দাবানল মোকাবিলায় এটি একটি বিস্তৃত তৎপরতার অংশ।
সূচিপত্র
- বসতবাড়ির কাছের আগুনে প্রথমবার পানি ছিটাল বিমান
- পূর্ব কালিমান্তানে উড়োজাহাজ পাঠানো হলো কেন
- ট্যাংকার ও পথপ্রদর্শক উড়োজাহাজ যেভাবে একসঙ্গে কাজ করে
- ধোঁয়াশার কারণে আগুনের বাইরেও স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা
- হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে তৎপরতার জরুরিতা বেড়েছে
- সেপ্টেম্বরের সহায়তা থেকে নভেম্বরের অভিযান
- জাপানের আগের অভিযানে কী হয়েছিল
- দুর্যোগে সহায়তা দুই দিকেই চলে
- বসতি সুরক্ষাই তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার
- মূল তথ্য
অভিযানটি ৬ থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত চালানোর কথা। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা—বিএনপিবি—নেতৃত্বাধীন যৌথ কারিগরি মূল্যায়নের পর অস্ট্রেলীয় দূতাবাস সহায়তার ঘোষণা দেওয়ার এক দিন পর এটি শুরু হয়। প্রতিটি অভিযানে ট্যাংকারটি সর্বোচ্চ ১৫ হাজার লিটার পানি বহন করতে পারে। এর পথনির্দেশক উড়োজাহাজ হিসেবে কাজ করে একটি সেসনা সাইটেশন।
বিএনপিবির দুর্যোগ তথ্য, উপাত্ত ও যোগাযোগকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বেরতন পানজাইতান বলেন, সকালের ব্রিফিংয়ে কর্মীরা প্রথম লক্ষ্যগুলো ঠিক করেন। তাদের তাৎক্ষণিক কাজ ছিল আগুনের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষের ঝুঁকি কমানো।
ইন্দোনেশিয়ায় গত ১১ বছরের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র দাবানলের মৌসুম বলে বর্ণিত সময়ে অস্ট্রেলীয় এই মোতায়েন এসেছে। সুমাত্রা, বোর্নিও ও পাপুয়ায় আগুন ছড়িয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২ নভেম্বর পর্যন্ত সাতটি প্রদেশে তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঘটনা ৪ লাখ ছাড়িয়েছে।
পূর্ব কালিমান্তানে উড়োজাহাজ পাঠানো হলো কেন
অতিরিক্ত উড়োজাহাজ কোথায় সবচেয়ে কাজে লাগবে তা মূল্যায়নের পর বিএনপিবি ও অস্ট্রেলীয় কারিগরি দল পূর্ব কালিমান্তানকে বেছে নেয়। বিএনপিবির প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ক্রিস্তোমেই সিয়ানতুরি বলেন, অগ্নিনিয়ন্ত্রণে সহায়তার জরুরিতার দিক থেকে প্রদেশটি শুধু মধ্য কালিমান্তানের পরেই রয়েছে।
অস্ট্রেলীয় দূতাবাসের ৫ নভেম্বরের মোতায়েন-সংক্রান্ত ঘোষণায় নিশ্চিত করা হয়, সহায়তাটি পূর্ব কালিমান্তানের বিভিন্ন অভিযানে কাজে লাগানো হবে। এই সহায়তা প্যাকেজে রয়েছে নিউ সাউথ ওয়েলস রুরাল ফায়ার সার্ভিসের একটি সি-১৩০ লার্জ এয়ার ট্যাংকার, একটি সেসনা সাইটেশন পথপ্রদর্শক উড়োজাহাজ এবং আকাশপথে অগ্নিনির্বাপণ বিশেষজ্ঞসহ ২০ জনের একটি দল।
পূর্ব কালিমান্তানের উপ-গভর্নর সেনো আজি ৬ নভেম্বর বালিকপাপানের ধোম্বার বিমানঘাঁটি থেকে প্রথম অভিযান শুরু করেন। উড়োজাহাজটি সামারিন্দার একটি এলাকা মাকরোমানের দিকে যায়। অগ্রাধিকারের অন্য এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে আঙ্গানা, কুতাই কার্তানেগারার সান্তান উলু এবং পাসের জেলা।
সেনো বলেন, স্থলপথে পৌঁছানো কঠিন এমন আগুনের দিকে আকাশপথের অভিযানগুলো মনোযোগ দেবে। আলোচনায় থাকা অগ্নিকবলিত এলাকার আয়তন তিনি ৪০ থেকে ৫০ হেক্টর বলে উল্লেখ করেন। তাই প্রদেশটির তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকারে দুটি বিষয় রয়েছে: স্থলপথে পৌঁছানো কঠিন এলাকায় যাওয়া এবং সক্রিয় অগ্নিকেন্দ্রের কাছের বসতিগুলো সুরক্ষিত রাখা।
পূর্ব কালিমান্তানের আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে মধ্য কালিমান্তানের কাপুয়াস জেলায় সহায়তা পাঠানো হতে পারে বলে জানান সেনো। পূর্ব কালিমান্তানই প্রথম অগ্রাধিকার; সেখানে পরিস্থিতির ওপরই অন্যত্র সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে।
ট্যাংকার ও পথপ্রদর্শক উড়োজাহাজ যেভাবে একসঙ্গে কাজ করে
সি-১৩০ উড়োজাহাজটি পানি বহন করে, আর সেসনা সাইটেশনটি অগ্রগামী বা পথপ্রদর্শক উড়োজাহাজ হিসেবে কাজ করে। সর্টি বলতে একটি কার্যকরী উড্ডয়ন বোঝায়। প্রতিটি সর্টিতে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার লিটার পানি ফেলা যায়, ফলে নির্বাচিত অগ্নিকবলিত এলাকায় বিপুল পরিমাণ পানি কেন্দ্রীভূত করা সম্ভব হয়।
পানজাইতান বলেন, একটি সর্টির পর আবার অভিযান শুরু করার আগে ট্যাংকারটির জ্বালানি ভরতে প্রায় ২০ মিনিট লাগে। উড্ডয়নের সময়, পানি ভরা এবং আগুনের ওপর কাজ করাও দিনের তৎপরতার অংশ। তাই জ্বালানি ভরার বিরতিটি পরিচালন-সময়সূচির একটি অংশমাত্র।
অস্ট্রেলীয় দলে পাইলট ও সহায়তাকর্মী রয়েছেন; মোতায়েন করা কর্মীদের মধ্যে প্যারামেডিকদের কথাও জানানো হয়েছে। অগ্রাধিকারের আগুনের দিকে উড়োজাহাজ পাঠাতে বিএনপিবি অস্ট্রেলীয় দল ও ঘটনাস্থলে থাকা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করছে।
দিনে সর্বোচ্চ ছয়টি সর্টি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতি উড্ডয়নে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার লিটার বহন করা হলে ছয়টি সর্টিতে মোট ৯০ হাজার লিটার পানি ফেলা যাবে। দূতাবাস ট্যাংকারটির দৈনিক সক্ষমতা এক লাখ লিটারের কিছু বেশি বলে জানিয়েছে, যা পরিকল্পিত ছয়টি উড্ডয়নের পরিমাণের চেয়ে বেশি।
প্রতিদিন আসলে কত পানি ফেলা হবে, তা সম্পন্ন উড্ডয়নের সংখ্যা ও প্রতিবারে বহন করা পানির পরিমাণের ওপর নির্ভর করবে। ৬ নভেম্বর বিকেল পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ তিনটি অগ্নিনির্বাপণ অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে। তবে মোট কত পানি ফেলা হয়েছে বা কত এলাকা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তা জানানো হয়নি।
ধোঁয়াশার কারণে আগুনের বাইরেও স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২ নভেম্বর পর্যন্ত সাতটি প্রদেশে তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঘটনা ৪ লাখ ছাড়িয়েছে। এসব অসুখ নাক, গলা ও ফুসফুসসহ শ্বাসতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। ধোঁয়ার সংস্পর্শে শ্বাসনালিতে জ্বালাপোড়া হতে পারে এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
কয়েক মাস ধরে জ্বলতে থাকা আগুন সুমাত্রা, বোর্নিও ও পাপুয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ধোঁয়াশা জাতীয় সীমান্তও পেরিয়ে গেছে। ফলে আগুনের কাছের জনপদের বাইরেও এর প্রভাব পড়েছে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্কে চাপ তৈরি হয়েছে।
বন উজাড় পর্যবেক্ষণ উদ্যোগ নুসান্তারা অ্যাটলাসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে ১৯ লাখ হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়েছে। ১০০ হেক্টরে এক বর্গকিলোমিটার ধরে হিসাব করলে এর পরিমাণ ১৯ হাজার বর্গকিলোমিটারের বেশি।
জাতীয় পর্যায়ের এসব পরিসংখ্যান ব্যাখ্যা করে কেন অস্ট্রেলীয় অভিযানটি অনেক বড় একটি সাড়াদান কার্যক্রমের অংশমাত্র। সামারিন্দার কাছে কাজ করা উড়োজাহাজগুলো নির্দিষ্ট অগ্নিকবলিত এলাকায় সহায়তা দিচ্ছে, আর একাধিক প্রদেশে ধোঁয়ার পরিণতি সামলাতে কাজ করছে স্বাস্থ্যসেবা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো।
হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে তৎপরতার জরুরিতা বেড়েছে
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের একটি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৪ নভেম্বর মধ্য কালিমান্তানে একটি অগ্নিনির্বাপণ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে তিনজন ক্রু নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন। পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, হেলিকপ্টারটিতে আটজন ক্রু ছিলেন এবং পানি ভরার সময় এটি বিধ্বস্ত হয়।
অস্ট্রেলীয় ট্যাংকারের অভিযান শুরুর দুই দিন আগে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সক্রিয় আগুনের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া এবং পানি সংগ্রহ বা ভরার জন্য বারবার উড্ডয়নের প্রয়োজন হয়—এমন জরুরি সাড়াদান কার্যক্রমে এতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
সিয়ানতুরি বলেন, ইন্দোনেশিয়ার সাড়াদান কার্যক্রমে পানি ছিটানো, কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানো এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা রয়েছে। কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে উপযুক্ত মেঘে ক্ষুদ্র কণা ছড়িয়ে বৃষ্টি নামতে সহায়তা করা হয়। এর জন্য অনুকূল আবহাওয়া দরকার; আর পানি ছিটানোর মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকায় সরাসরি পানি পৌঁছে দেওয়া হয়।
উড়োজাহাজের পাশাপাশি স্থলভিত্তিক টাস্কফোর্সও সাড়াদান কার্যক্রমে রয়েছে। বিএনপিবি অগ্নিকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ এবং আগুনের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর কাজও চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে পিটল্যান্ড বা পিটভূমি, যেখানে মাটির নিচের জৈব পদার্থে আগুন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
সেপ্টেম্বরের সহায়তা থেকে নভেম্বরের অভিযান
অস্ট্রেলীয় অভিযানটি এর আগে জাপানের একটি মোতায়েন এবং কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ইন্দোনেশিয়ার নিজস্ব তৎপরতার পর শুরু হয়েছে। ধারাবাহিকতা থেকে বোঝা যায়, দেশীয় কর্মীরা কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহায়তা আলাদা আলাদা অভিযানের মাধ্যমে সংগঠিত হয়েছে।
- ১৬ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর: জাপান তিনটি সিএইচ-৪৭ চিনুক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে কালিমান্তানে আকাশপথে অগ্নিনির্বাপণ অভিযান চালায়।
- ১৩ অক্টোবর: বিএনপিবি জানায়, নির্ধারিত দায়িত্ব অনুযায়ী জাপানের অভিযান শেষ হয়েছে এবং ইন্দোনেশিয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
- ২ নভেম্বর: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে সাতটি প্রদেশে তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঘটনা ৪ লাখের বেশি বলে জানানো হয়।
- ৪ নভেম্বর: মধ্য কালিমান্তানে পানি ভরার সময় একটি অগ্নিনির্বাপণ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়।
- ৫ নভেম্বর: যৌথ কারিগরি মূল্যায়নের পর অস্ট্রেলীয় দূতাবাস উড়োজাহাজ ও বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর ঘোষণা দেয়।
- ৬ নভেম্বর: অস্ট্রেলীয়দের পানি ছিটানোর অভিযান শুরু হয়; জাকার্তা সময় বিকেল ৩টার মধ্যে তিনটি অভিযান সম্পন্ন হয়।
- ১২ নভেম্বর: অস্ট্রেলীয় অভিযান শেষ হওয়ার নির্ধারিত দিন।
নভেম্বরের সময়সূচি অনুযায়ী, অস্ট্রেলীয় দলের জন্য সাত দিনের অভিযান পরিকল্পনা করা হয়েছে। কাপুয়াসে সম্ভাব্য সহায়তা দেওয়ার আগে পূর্ব কালিমান্তানের অগ্রাধিকারের আগুন মোকাবিলায় অগ্রগতি হওয়া জরুরি।
জাপানের আগের অভিযানে কী হয়েছিল
সেপ্টেম্বরে জাপান প্রায় ৩৫০ জন আত্মরক্ষা বাহিনীর সদস্য এবং তিনটি হেলিকপ্টার পশ্চিম কালিমান্তানে পাঠায়। বিএনপিবি জানায়, ১৬ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বরের অভিযানে তিনটি চিনুক ৪০টির বেশি পানি ছিটানোর অভিযান সম্পন্ন করে এবং প্রায় ২২০ টন পানি ফেলে।
১৩ অক্টোবর পানজাইতান ব্যাখ্যা করেন, দুই সরকারের সমঝোতা অনুযায়ী অভিযানটি শেষ হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানায় এবং বলে, তাদের কর্তৃপক্ষ সাড়াদান কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে।
জাপানের দল চলে যাওয়ার পরও ইন্দোনেশিয়া স্থলভিত্তিক টাস্কফোর্স, আকাশপথে সহায়তা, অগ্নিকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ ও আগুন ঠেকানোর কাজ চালিয়ে যায়। পিটভূমিতে আবার আগুন জ্বলতে পারে বলেও সতর্ক করেন পানজাইতান। ফলে বারবার পর্যবেক্ষণ ও আগুন নেভানোর ওপর গুরুত্ব বজায় থাকে।
এবার অস্ট্রেলীয় দলের আগমন বিদেশি আকাশপথের সহায়তার আরেকটি পর্যায় যুক্ত করেছে, যার কেন্দ্র পূর্ব কালিমান্তান। দুটি মোতায়েনই ঘটেছে ভিন্ন প্রদেশে এবং চলমান জরুরি পরিস্থিতির ভিন্ন পর্যায়ে।
দুর্যোগে সহায়তা দুই দিকেই চলে
ইন্দোনেশিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত রড ব্রেজিয়ার এই মোতায়েনকে ২০২০ সালের ভয়াবহ দাবানলের সময় অস্ট্রেলিয়াকে ইন্দোনেশিয়ার সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। অপারেশন বুশফায়ার অ্যাসিস্টের আওতায় ইন্দোনেশিয়া দুর্যোগ সংস্থা ও সামরিক বাহিনীর সদস্য পাঠিয়েছিল।
নতুন সহায়তার ঘোষণা দিতে গিয়ে জাকার্তায় অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত ব্রেজিয়ার সেই ইতিহাসের কথা বলেন:
অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়া ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী এবং দীর্ঘদিনের বন্ধু। ২০২০ সালের ভয়াবহ দাবানলের সময় ইন্দোনেশিয়া অস্ট্রেলিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছিল। সেই সহায়তার কথা আমরা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি। প্রেসিডেন্ট প্রাবোও যেমন বলেছেন, কঠিন সময়ে ভালো প্রতিবেশীরা একে অপরের পাশে দাঁড়ায়।
ইন্দোনেশিয়ার রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক সমন্বয়মন্ত্রী দুডুং আবদুরাচমান এবং অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কের আলোচনার পর বর্তমান মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর কারিগরি দলগুলো উড়োজাহাজ কোথায় কাজ করবে, তা মূল্যায়ন করে।
অস্ট্রেলীয় দূতাবাসের মানবিক ও মানব উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী-উপদেষ্টা টিম স্ট্যাপলটনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে সুমাত্রায় অগ্নিনির্বাপণেও অস্ট্রেলিয়া সহায়তা করেছিল। নভেম্বরের অভিযান প্রতিবেশী দুই দেশের পারস্পরিক সহায়তার সেই ধারাবাহিকতাকে আরও এগিয়ে নিয়েছে।
বিএনপিবির প্রধান সিয়ানতুরি এই মোতায়েনকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠিত অংশীদারত্বের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন:
দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়া দীর্ঘদিনের অংশীদার। এই মোতায়েন তারই প্রমাণ। ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।
বসতি সুরক্ষাই তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার
সামারিন্দায় অস্ট্রেলীয় উড়োজাহাজের প্রথমবার পানি ছিটানোর লক্ষ্য ছিল আবাসিক এলাকার কাছের দুটি অগ্নিকেন্দ্র। সংশ্লিষ্ট জনপদের মানুষের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি লক্ষ্য হলো আগুনকে বাড়িঘর পর্যন্ত পৌঁছাতে না দেওয়া এবং জননিরাপত্তার হুমকি ঠেকানো।
মাকরোমান, আঙ্গানা, সান্তান উলু ও পাসের—এই এলাকাগুলো অভিযানের জন্য নির্দিষ্ট অগ্রাধিকারস্থল ঠিক করে দিয়েছে। নির্ধারিত সপ্তাহে কোন উড়োজাহাজ কখন কোথায় যাবে, তা বিএনপিবির সমন্বয় এবং অস্ট্রেলীয় দল ও স্থানীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের ভিত্তিতে ঠিক হবে।
দিনে সর্বোচ্চ ছয়টি সর্টির পরিকল্পনা থাকায় নির্বাচিত আগুনের বিরুদ্ধে বারবার অভিযান চালানোর সুযোগ তৈরি হবে। উড়োজাহাজের পাশাপাশি স্থলদল, পর্যবেক্ষণ ও আগুন প্রতিরোধের কাজও চলবে। এর মধ্যে রয়েছে এখনও উত্তপ্ত থাকা বা আবার জ্বলে উঠতে পারে এমন এলাকা খুঁজে বের করা।
অস্ট্রেলীয় অভিযানের নির্ধারিত শেষ দিন ১২ নভেম্বর। তত দিন পর্যন্ত পূর্ব কালিমান্তানের আগুনের পরিস্থিতিই ঠিক করবে উড়োজাহাজগুলো কোথায় কাজ কেন্দ্রীভূত করবে এবং কাপুয়াসে সহায়তা পাঠানো সম্ভব হবে কি না।
মূল তথ্য
- ৬ নভেম্বর সামারিন্দার কাছে অস্ট্রেলীয় উড়োজাহাজের অগ্নিনির্বাপণ অভিযান শুরু হয়; জাকার্তা সময় বিকেল ৩টার মধ্যে তিনটি পানি ছিটানোর অভিযান সম্পন্ন হয়।
- মোতায়েনে রয়েছে একটি সি-১৩০ ট্যাংকার, একটি সেসনা সাইটেশন পথপ্রদর্শক উড়োজাহাজ এবং নিউ সাউথ ওয়েলস রুরাল ফায়ার সার্ভিসের ২০ জন বিশেষজ্ঞ।
- আবাসিক এলাকার কাছের দুটি অগ্নিকেন্দ্রকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে; অভিযান ১২ নভেম্বর পর্যন্ত চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
- ট্যাংকারটি প্রতিটি সর্টিতে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার লিটার পানি বহন করতে পারে; দিনে সর্বোচ্চ ছয়টি সর্টির পরিকল্পনা রয়েছে।
- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২ নভেম্বর পর্যন্ত সাতটি প্রদেশে তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঘটনা ৪ লাখ ছাড়িয়েছে।
- পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের একটি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৪ নভেম্বর মধ্য কালিমান্তানে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় তিনজন ক্রু নিহত হন।
- জাপান সেপ্টেম্বরে আলাদা একটি অগ্নিনির্বাপণ অভিযান সম্পন্ন করেছে; ইন্দোনেশিয়া স্থল অভিযান, আকাশপথে সহায়তা ও আগুন পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।






