পরিবর্তিত উদীয়মান বাজারের বেঞ্চমার্কে যুক্ত হচ্ছে ১৭টি সিকিউরিটি
২০২৭ সালের ২৯ জানুয়ারি থেকে শুরু করে ১০ মাসে সৌদি আরব ও ফিলিপাইন জেপিমরগ্যানের জিবিআই-ইএম স্থানীয় মুদ্রার সরকারি বন্ড সূচক সিরিজে যুক্ত হবে। এতে মোট ১২৯ বিলিয়ন ডলারের অভিহিত মূল্যসম্পন্ন সিকিউরিটি অন্তর্ভুক্ত হবে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ব্যবহৃত এই বেঞ্চমার্কে রিয়ালে মূল্যায়িত সৌদি সরকারের আটটি সুকুক এবং পেসোতে মূল্যায়িত ফিলিপাইনের সরকারি বন্ড যুক্ত হবে।
সূচিপত্র
- পরিবর্তিত উদীয়মান বাজারের বেঞ্চমার্কে যুক্ত হচ্ছে ১৭টি সিকিউরিটি
- সৌদি আরব ও ফিলিপাইনের অবদান
- দেশভিত্তিক সীমা কেন গুরুত্বপূর্ণ
- অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে কীভাবে বিনিয়োগ আসতে পারে
- ব্লুমবার্গের মাধ্যমেও সুযোগ পাচ্ছে সৌদি আরব
- লেনদেন সংস্কারে সৌদি বাজারের প্রস্তুতি
- বাস্তবায়নের সময়সূচি
- দুই বাজারে কী পরিবর্তন আসছে
- মূল বিষয়গুলো
জেপিমরগ্যানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, অন্তর্ভুক্তি সম্পন্ন হলে সূচকে সৌদি আরবের ওজন হবে ২.৭১% এবং ফিলিপাইনের ১.৬৪%। এই পূর্বাভাস অনুযায়ী, দুই দেশ মিলে সূচকের ৪.৩৫% হবে। অন্তর্ভুক্তির সময়কালে তাদের অংশ ধীরে ধীরে বাড়বে।
এই সংযোজনের পাশাপাশি বেঞ্চমার্কের কয়েকটি বৃহত্তম বাজারকে প্রভাবিত করে এমন পরিবর্তনও আসছে। বৈচিত্র্যপূর্ণ সূচকে যেকোনো একটি দেশের জন্য বরাদ্দের সর্বোচ্চ অংশ ১০% থেকে কমিয়ে ৯% করবে জেপিমরগ্যান। চীন, ভারত, মেক্সিকো, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার ওজন কমিয়ে এই নতুন সীমায় আনা হবে।
বেঞ্চমার্ক অনুসরণকারী বিনিয়োগকারীদের জন্য এই পরিবর্তনে দেশগুলোর মধ্যে অর্থের বণ্টন বদলে যাবে। সূচকের গঠন ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণকারী তহবিলগুলোকে নতুন সিকিউরিটি যুক্ত হওয়া এবং বিদ্যমান দেশগুলোর ওজন পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পোর্টফোলিও সমন্বয় করতে হবে। সৌদি আরব ও ফিলিপাইনের জন্য এই অন্তর্ভুক্তি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আরও বিস্তৃত পরিসরে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করবে।
১২৯ বিলিয়ন ডলারের অঙ্কটি অন্তর্ভুক্তির জন্য বাছাই করা সিকিউরিটিগুলোর অভিহিত মূল্য নির্দেশ করে, অর্থাৎ ওই ঋণপত্রগুলোতে উল্লেখিত মূলধনের পরিমাণ। বিনিয়োগ তহবিল বাস্তবে কতটা কিনবে, তা নির্ভর করবে সূচক অনুসরণকারী অর্থের পরিমাণ, ব্যবস্থাপকরা সূচকটি কতটা ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করেন এবং পরিবর্তন শুরুর আগে তাদের পোর্টফোলিও কী অবস্থানে রয়েছে তার ওপর।
সৌদি আরব ও ফিলিপাইনের অবদান
ফিলিপাইনের সংযোজনে মোট ৫০ বিলিয়ন ডলারের অভিহিত মূল্যসম্পন্ন নয়টি সরকারি বন্ড রয়েছে। তুলনার সুবিধায় সম্মিলিত মূল্য ডলারে প্রকাশ করা হলেও সিকিউরিটিগুলো ফিলিপাইনের পেসোতে মূল্যায়িত। বিনিয়োগকারীরা স্থানীয় মুদ্রায় অর্থপ্রদান পাবেন।
জেপিমরগ্যানের মূল অন্তর্ভুক্তি-সংক্রান্ত হিসাব অনুযায়ী, সৌদি আরব মোট ৭৯ বিলিয়ন ডলারের অভিহিত মূল্যসম্পন্ন আটটি সার্বভৌম সুকুক দেবে। সুকুক হলো ইসলামি আর্থিক সনদ, যা ইসলামি অর্থায়নের নিয়ম মেনে চলার জন্য সম্পদ বা অনুমোদিত বিনিয়োগ ব্যবস্থার ভিত্তিতে গঠন করা হয়। প্রচলিত সুদভিত্তিক বন্ডের তুলনায় ভিন্ন আইনি কাঠামোর অর্থায়নে এগুলো বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়।
৭৯ বিলিয়ন ও ৫০ বিলিয়ন ডলারের হিসাব ধরে সৌদি সিকিউরিটিগুলোর অভিহিত মূল্য ফিলিপাইনের বন্ডগুলোর সম্মিলিত মূল্যের প্রায় ১.৫৮ গুণ। সূচকে সৌদি আরবের পূর্বাভাসিত ওজনও বেশি: ২.৭১%, যেখানে ফিলিপাইনের ১.৬৪%; ব্যবধান ১.০৭ শতাংশ পয়েন্ট।
একই সংখ্যক সুকুক ইস্যুর জন্য সৌদি আরবের অন্তর্ভুক্তির পূর্বাভাসিত ওজন ২.৫২% এবং অভিহিত মূল্য প্রায় ৬৯ বিলিয়ন ডলার বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। জেপিমরগ্যানের বৃহত্তর ঘোষণায় উল্লিখিত ২.৭১% ও ৭৯ বিলিয়ন ডলারের সঙ্গে এই হিসাবের পার্থক্যের কারণ জানানো হয়নি।
ঘোষণাটিকে পৃথক সিকিউরিটি কেনার সিদ্ধান্তে রূপ দিতে পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপকদের চূড়ান্ত সিকিউরিটি তালিকা ও বাস্তবায়নের সময়কার ওজন জানতে হবে। কোনো দেশের সূচকীয় অংশ নির্ধারণ করে ট্র্যাকিং পোর্টফোলিওতে তার অবস্থান; আর যোগ্য সিকিউরিটির সংখ্যা ও আকারের ওপর নির্ভর করে সেই বরাদ্দ বন্ডগুলোর মধ্যে কীভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
দেশভিত্তিক সীমা কেন গুরুত্বপূর্ণ
জেপিমরগ্যানের দেশভিত্তিক সীমা নির্ধারণ করে, বৈচিত্র্যপূর্ণ বেঞ্চমার্কের কতটা একটি দেশের বাজার থেকে আসতে পারে। সীমা ১০% থেকে কমিয়ে ৯% করার অর্থ হলো, যোগ্য বন্ডবাজার বড় হলেও সূচকের ওই সংস্করণে প্রতি ১০০ অংশের মধ্যে কোনো একটি দেশের অংশ নয়ের বেশি হতে পারবে না।
চীন, ভারত, মেক্সিকো, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার ওজন নতুন সীমায় কমিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। বেঞ্চমার্ক হুবহু অনুসরণকারী পোর্টফোলিওতে কোনো দেশের বরাদ্দ ১০% থেকে ৯%-এ নামলে তা এক শতাংশ পয়েন্ট কমবে, অর্থাৎ আগের অংশের এক-দশমাংশ হ্রাস পাবে।
ধরা যাক, একটি কাল্পনিক তহবিলের মূল্য ১ বিলিয়ন ডলার। মোট মূল্য অপরিবর্তিত থাকলে ১০% ওজনের কোনো দেশে তহবিলটি ১০০ মিলিয়ন ডলার এবং ৯% ওজনে ৯০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। এই উদাহরণ দেখায়, সামান্য মনে হওয়া সমন্বয়ের জন্যও বড় বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে উল্লেখযোগ্য লেনদেনের প্রয়োজন হতে পারে।
সীমা কমানো এবং দুই দেশের সংযোজন একই বৃহত্তর পুনর্বিন্যাসের অংশ। সৌদি আরব ও ফিলিপাইন বেঞ্চমার্কে স্থান পাচ্ছে, আর কয়েকটি প্রতিষ্ঠিত সদস্যের আপেক্ষিক ওজন কমছে। তাই তহবিল ব্যবস্থাপকদের নতুন বাজারে কেনাকাটার পাশাপাশি অন্যত্রও সমন্বয় করতে হবে।
অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে কীভাবে বিনিয়োগ আসতে পারে
প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বেঞ্চমার্ককে তুলনার মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহার করেন। কোনো ব্যবস্থাপক সূচকের সঙ্গে তহবিলের আয়ের তুলনা করতে পারেন, আর নিষ্ক্রিয় তহবিল সাধারণত একই ধরনের সিকিউরিটির মিশ্রণ ধরে রেখে সূচকের কর্মদক্ষতা অনুকরণ করতে চায়।
সূচকে অন্তর্ভুক্তি ও কেনার চাহিদার মধ্যে নিষ্ক্রিয় পোর্টফোলিওর যোগসূত্র সবচেয়ে সরাসরি। সৌদি ও ফিলিপাইনের সিকিউরিটি বেঞ্চমার্কে ঢুকলে, সূচক অনুসরণকারী তহবিলগুলোর সেগুলোতে বিনিয়োগের কারণ তৈরি হবে। ওজন ধীরে ধীরে বাড়ানো হলে ১০ মাসের বাস্তবায়নকালজুড়ে এই সমন্বয় ছড়িয়ে পড়বে।
সক্রিয় ব্যবস্থাপকদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা বেশি। আয়, মুদ্রার ওঠানামা ও অন্যান্য ঝুঁকি সম্পর্কে মূল্যায়নের ভিত্তিতে তারা বেঞ্চমার্কে কোনো দেশের অংশের চেয়ে বেশি বা কম কিনতে পারেন। কোনো বাজার সূচকে অন্তর্ভুক্ত হলে তা তাদের নিয়মিত তুলনামূলক বিশ্লেষণে আসতে পারে, যদিও তাতে তাৎক্ষণিকভাবে কেনাকাটা নাও হতে পারে।
অন্তর্ভুক্তির বিস্তারিত ঘোষণার সঙ্গে মোট বিনিয়োগ প্রবাহের কোনো হিসাব দেওয়া হয়নি। পূর্বাভাসিত ওজন বেঞ্চমার্কের ভেতরে আপেক্ষিক বরাদ্দ দেখায়; কিন্তু ডলারের অঙ্ক হিসাব করতে সূচক অনুসরণকারী সম্পদের পরিমাণ এবং এটি ব্যবহারকারী বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্ত সম্পর্কেও তথ্য দরকার।
বিদেশি ক্রেতাদের জন্য স্থানীয় মুদ্রায় বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি বিনিয়োগকারীর আয় নির্ভর করে সিকিউরিটির কর্মদক্ষতার পাশাপাশি যে মুদ্রায় অর্থপ্রদান পাওয়া হয় তার মূল্যের ওপরও। পেসোতে কোনো ফিলিপাইনের বন্ডের দাম বাড়তে পারে, আবার বিনিময় হারের ওঠানামায় অন্য মুদ্রায় বিনিয়োগকারীর আয়ও বদলাতে পারে।
ব্লুমবার্গের মাধ্যমেও সুযোগ পাচ্ছে সৌদি আরব
সৌদি সরকারের সুকুক ব্লুমবার্গের উদীয়মান বাজারের স্থানীয় মুদ্রার সরকারি বন্ড সূচকেও যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৭ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে সূচক পুনর্বিন্যাসের সময় এটি কার্যকর হওয়ার কথা। এর ফলে বড় আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কের নির্দেশনা মেনে বিনিয়োগ করা পোর্টফোলিওতে সৌদি বাজারের প্রবেশের দ্বিতীয় পথ তৈরি হবে।
ব্লুমবার্গের যোগ্যতার শর্ত অনুযায়ী, সরকারি সুকুক সৌদি রিয়ালে মূল্যায়িত হতে হবে, নির্দিষ্ট হারে অর্থপ্রদান করতে হবে, মেয়াদপূর্তির আগে অন্তত এক বছর বাকি থাকতে হবে এবং বাজারে প্রচলিত ইস্যুর পরিমাণ অন্তত ১ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল হতে হবে। মেয়াদপূর্তি হলো কোনো ঋণপত্রের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ। প্রচলিত পরিমাণ বলতে কোনো ইস্যুর কতটা এখনো বাজারে রয়েছে, তা বোঝায়।
সৌদি আরবকে অন্তর্ভুক্ত করে ব্লুমবার্গ সূচকের নতুন সংস্করণ ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রকাশিত হওয়ার কথা। ২০২৭ সালের এপ্রিলে পরিকল্পিত বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি আরও আগের একটি নির্দেশক হবে।
সৌদি অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আলজাদান বলেন, দুই সূচকে অন্তর্ভুক্তি সৌদি অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতার প্রতি আস্থার প্রতিফলন এবং সরকারের আর্থিক খাত উন্নয়নের লক্ষ্যকে সমর্থন করে। তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক পোর্টফোলিওতে সৌদি ঋণপত্রের প্রতিনিধিত্ব বাড়লে দ্বিতীয় বাজারে লেনদেন বাড়বে; এই বাজারে মূল ইস্যুর পর বিনিয়োগকারীরা সিকিউরিটি কেনাবেচা করেন।
সৌদি পরিকল্পনাগুলো ভিশন ২০৩০-এর অধীন আর্থিক খাত উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ। এর ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়ানো, বিনিয়োগকারীদের পরিসর বিস্তৃত করা এবং সরকারি অর্থায়নের দক্ষতা উন্নত করা।
লেনদেন সংস্কারে সৌদি বাজারের প্রস্তুতি
সৌদি আরব আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে তার প্রাইমারি ডিলার কর্মসূচি সম্প্রসারিত করেছে। প্রাইমারি ডিলাররা সরকারি ঋণগ্রহণের সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের সংযোগ স্থাপন এবং সরকারি ঋণপত্রের লেনদেনে সহায়তা করেন। এই নেটওয়ার্কে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাজারে প্রবেশের আরও পথ তৈরি হতে পারে।
২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে দেশটি ওভার দ্য কাউন্টার নিষ্পত্তি কাঠামোও চালু করে। ওভার দ্য কাউন্টার লেনদেন এক্সচেঞ্জের অর্ডার বুকের বদলে সরাসরি লেনদেনকারী পক্ষগুলোর মধ্যে সম্পন্ন হয়। নিষ্পত্তি হলো সিকিউরিটি ও অর্থ হস্তান্তরের মাধ্যমে লেনদেন সম্পূর্ণ করার প্রক্রিয়া।
ইউরোক্লিয়ারসহ আন্তর্জাতিক কেন্দ্রীয় সিকিউরিটিজ ডিপোজিটরিগুলোর সঙ্গে আরও শক্তিশালী সংযোগও এই পরিবর্তনের অংশ। এসব প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন বাজারে সিকিউরিটি সংরক্ষণ ও লেনদেন সম্পন্ন করার অবকাঠামো দেয়। বিদেশি তহবিলের বিনিয়োগের জন্য নির্ভরযোগ্য হেফাজত ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা একটি বাস্তব প্রয়োজন।
জেপিমরগ্যান ও ব্লুমবার্গ অন্তর্ভুক্তির পক্ষে সহায়ক কারণ হিসেবে বাজারে প্রবেশাধিকার ও অবকাঠামোর উন্নতির কথা বলেছে। এসব সংস্কারের সঙ্গে সূচকের সিদ্ধান্তের যোগসূত্র রয়েছে: বিনিয়োগকারীরা কীভাবে সৌদি সিকিউরিটি কিনবেন, ধরে রাখবেন এবং লেনদেন করবেন, তা এই পরিবর্তনগুলো প্রভাবিত করে।
বাস্তবায়নের সময়সূচি
জেপিমরগ্যান প্রথম সৌদি আরব ও ফিলিপাইনকে যুক্ত করার প্রস্তাবের কথা জানায় এপ্রিল মাসে। পরবর্তী সিদ্ধান্তে শুরুর তারিখ, অন্তর্ভুক্তির সময়কাল এবং পূর্বাভাসিত ওজন নির্ধারণ করা হয়েছে। সৌদি আরবের পূর্বাভাসিত অংশ প্রাথমিক ইঙ্গিতের চেয়ে সামান্য বেশি, আর ফিলিপাইনেরটি সামান্য কম।
- ২০২৫ সালের মাঝামাঝি: সৌদি আরব ওভার দ্য কাউন্টার নিষ্পত্তি কাঠামো চালু করে।
- এপ্রিল, বছর উল্লেখ নেই: জেপিমরগ্যান প্রাথমিক অন্তর্ভুক্তি প্রস্তাব প্রকাশ করে।
- ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিক: সৌদি আরবকে অন্তর্ভুক্ত করে ব্লুমবার্গ সূচকের নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হওয়ার কথা।
- ২৯ জানুয়ারি, ২০২৭: সৌদি আরব ও ফিলিপাইনকে জেপিমরগ্যানের সূচকে অন্তর্ভুক্তি শুরু হবে; ১০ মাসে তাদের ওজন যুক্ত করা হবে।
- ২০২৭ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে: ব্লুমবার্গের উদীয়মান বাজারের স্থানীয় মুদ্রার সরকারি বন্ড সূচকে সৌদি সুকুক অন্তর্ভুক্তি কার্যকর হওয়ার কথা।
জেপিমরগ্যান ও ব্লুমবার্গের সময়সূচি আলাদা। দুই বেঞ্চমার্ক ব্যবহারকারী বিনিয়োগকারীদের ভিন্ন বাস্তবায়নের তারিখ ও যোগ্যতার নিয়মের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে, যদিও দুই পরিবর্তনেই সৌদি সরকারি সুকুক বৃহত্তর আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কাঠামোতে যুক্ত হবে।
দুই বাজারে কী পরিবর্তন আসছে
ফিলিপাইনের নয়টি সরকারি বন্ড বেঞ্চমার্কে স্থান পাবে। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নিয়মিত যেসব উদীয়মান বাজারের সিকিউরিটির সঙ্গে তুলনা করেন, সেগুলোর পাশে দেশটির পেসো-ভিত্তিক ঋণপত্রও থাকবে। বিনিয়োগকারীদের পরিসর বাড়লে এসব বন্ডের অতিরিক্ত চাহিদা ও লেনদেনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
দুই সূচক সরবরাহকারীর মাধ্যমে সৌদি আরবের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ছে; পাশাপাশি দেশটি তার অভ্যন্তরীণ ঋণবাজারের সহায়ক অবকাঠামোও উন্নত করছে। আলজাদানের ঘোষিত প্রত্যাশার কেন্দ্রে রয়েছে আন্তর্জাতিক মালিকানা বৃদ্ধি, দ্বিতীয় বাজারে বেশি লেনদেন এবং সৌদি ঋণপত্রের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী করা।
দুই দেশই এমন বিনিয়োগ কাঠামোতে যুক্ত হবে, যা যোগ্য সিকিউরিটির দিকে চাহিদা পরিচালিত করতে পারে। বাস্তব পরিবর্তন হলো প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী বেঞ্চমার্কের বরাদ্দে স্থান পাওয়া। ঋণগ্রহণের ব্যয় ও লেনদেনের ওপর শেষ পর্যন্ত কী প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের সময় বিনিয়োগকারীদের কেনাকাটা ও বাজার পরিস্থিতির ওপর।
মূল বিষয়গুলো
- জেপিমরগ্যান ২০২৭ সালের ২৯ জানুয়ারি থেকে ১০ মাসে সৌদি আরব ও ফিলিপাইনকে তার জিবিআই-ইএম সিরিজে যুক্ত করা শুরু করবে।
- মূল অন্তর্ভুক্তি-সংক্রান্ত হিসাব অনুযায়ী, এতে ৭৯ বিলিয়ন ডলারের আটটি সৌদি সুকুক এবং ৫০ বিলিয়ন ডলারের অভিহিত মূল্যসম্পন্ন নয়টি ফিলিপাইনের বন্ড রয়েছে।
- পূর্বাভাসিত চূড়ান্ত ওজন সৌদি আরবের ২.৭১% এবং ফিলিপাইনের ১.৬৪%।
- সৌদি আরবের অন্তর্ভুক্তির জন্য ২.৫২% ও প্রায় ৬৯ বিলিয়ন ডলারের হিসাবও উল্লেখ করা হয়েছে; পার্থক্যের কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি।
- বৈচিত্র্যপূর্ণ সূচকে দেশভিত্তিক সীমা ১০% থেকে ৯%-এ নামবে; এতে চীন, ভারত, মেক্সিকো, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার ওজন কমবে।
- ২০২৭ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে ব্লুমবার্গ যোগ্য সৌদি সরকারি সুকুক অন্তর্ভুক্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।






