একাডেমিক হ্যান্ডবুক আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা, কপি ধ্বংসের নির্দেশ
থাইল্যান্ড Routledge Handbook of Contemporary Thailand-এর দ্বিতীয় সংস্করণ আমদানি নিষিদ্ধ করেছে। ৩৭টি অধ্যায় ও ৪৭৪ পৃষ্ঠার এই বইয়ে ৪৫ জন গবেষকের লেখা সংকলিত হয়েছে। এক আদেশে পুলিশকে বইয়ের কপি জব্দ ও ধ্বংসের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৬০ হাজার বাত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
সূচিপত্র
- একাডেমিক হ্যান্ডবুক আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা, কপি ধ্বংসের নির্দেশ
- পুলিশের আদেশে কী বলা হয়েছে
- দ্বিতীয় সংস্করণে কী পরিবর্তন এসেছে?
- ভিন্ন পরিণতির দুটি আইন
- শিক্ষার্থী ও গ্রন্থাগারের ওপর বাস্তব প্রভাব
- নিষেধাজ্ঞায় অনলাইনে পাঠক বাড়বে বলে মনে করেন পাভিন
- একই সম্পাদকের আরেকটি বই নিষিদ্ধ
- সম্পাদকের নির্বাসন ও পৃথক আইনি মামলা
- নিষেধাজ্ঞার পটভূমি
- মূল বিষয়গুলো
জাতীয় পুলিশপ্রধান সামরান নুয়ালমা ২০২৬ সালের ৩০ অক্টোবর প্রিন্টিং রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট বি.ই. ২৫৫০ (২০০৭)-এর ১০ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে আদেশে সই করেন। থাইল্যান্ডে বিতরণের উদ্দেশ্যে বিদেশি প্রকাশনাটি অর্ডার করা বা আমদানি করাই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে। পুলিশের ভাষ্য, বইটির বিষয়বস্তু জাতীয় নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা ও জননৈতিকতার জন্য হুমকি।
আগস্টে ইংরেজিতে প্রকাশিত হ্যান্ডবুকটি সম্পাদনা করেছেন পাভিন চাচাভালপংপুন। তিনি কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর সাউথইস্ট এশিয়ান স্টাডিজের অধ্যাপক এবং ২০১৪ সালে থাইল্যান্ডে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে নির্বাসনে আছেন। বইটির অধ্যায়গুলোতে রাজতন্ত্র, সামরিক বাহিনী, প্রতিবাদ আন্দোলন এবং দেশের রাজপরিবারকে অবমাননার আইন প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ২০১৯ সালে প্রকাশিত প্রথম সংস্করণটি নিষিদ্ধ করা হয়নি।
পাভিনের মতে, রাজতন্ত্র নিয়ে অধ্যায়গুলোই নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তের কারণ। সরকার বলেছে, নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি তারা একাডেমিক স্বাধীনতাকে সম্মান করে। থাইল্যান্ডের সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে গবেষণার প্রচার সীমিত করা উচিত কি না, তা নিয়ে মতভেদের কেন্দ্রবিন্দু এখানেই।
পুলিশের আদেশে কী বলা হয়েছে
রয়্যাল থাই পুলিশের আদেশে বলা হয়েছে, হ্যান্ডবুকের প্রবন্ধগুলো জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি বা অস্থিরতায় উসকানি দিতে পারে। আদেশের কার্যকর নিষেধাজ্ঞাটি থাইল্যান্ডে বিতরণের উদ্দেশ্যে বইটি আনার বিষয়ে। ফৌজদারি দণ্ডের পাশাপাশি কপি জব্দ ও ধ্বংসের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
আদেশটি সাধারণত ৫৫৫/২৫৬৯ নম্বর হিসেবে উল্লেখ করা হয়; এখানে ২৫৬৯ হলো ২০২৬ সালের সমতুল্য থাই বৌদ্ধ বর্ষপঞ্জির বছর। তবে প্রকাশিত একটি অনুলিপিতে নম্বরটি ৪৫৫/২৫৬৯ দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো প্রতিবেদনে রয়্যাল গেজেটে প্রকাশের তারিখ ৪ নভেম্বর, আবার অন্যগুলোতে ৫ নভেম্বর বলা হয়েছে। সইয়ের তারিখ ৩০ অক্টোবর বলে ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর বলে জানানো হয়।
পুলিশ আপত্তিকর মনে করা নির্দিষ্ট কোনো অধ্যায় বা অনুচ্ছেদের কথা জানায়নি; আদেশে ই-বুক সংস্করণ সম্পর্কেও স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। এসব অস্পষ্টতার কারণে কোন যুক্তিগুলো নিষেধাজ্ঞার কারণ হয়েছে বা ডিজিটাল সংস্করণে প্রবেশাধিকার কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, তা পাঠক ও একাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পরিষ্কার নয়।
থাইল্যান্ডে ছাপা কপি আনা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য তাৎক্ষণিক পরিণতি স্পষ্ট: বিতরণের উদ্দেশ্যে বিদেশ থেকে বই অর্ডার করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিচারের মুখে পড়তে পারেন, আর বইগুলো জব্দ করে ধ্বংস করা হতে পারে।
দ্বিতীয় সংস্করণে কী পরিবর্তন এসেছে?
পাভিন বলেছেন, ২০২০ সালের বিক্ষোভের পর রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলো তুলে ধরতেই সংস্করণটি সংশোধন করা হয়েছে। ওই বিক্ষোভে তরুণ প্রতিবাদকারীরা রাজতন্ত্র ও সামরিক বাহিনী, উভয় ক্ষেত্রেই সংস্কারের নজিরবিহীন দাবি তুলেছিলেন। হালনাগাদ হ্যান্ডবুকে একবিংশ শতাব্দীতে রাজতন্ত্র এবং দণ্ডবিধির ১১২ নম্বর ধারা, যা সাধারণত লেসে-মাজেস্টে আইন নামে পরিচিত, কর্তৃপক্ষের ব্যবহারের বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
বইটির আলোচনার পরিধি রাজনীতির রাজকীয় পরিসরের বাইরেও বিস্তৃত। অধ্যায়গুলোতে গণতন্ত্রপন্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত আইনি কৌশল, সংস্কারের দাবিতে তরুণদের আন্দোলন, রাষ্ট্রীয় নজরদারি, থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত প্রদেশগুলোর সহিংসতা এবং লিঙ্গ ও যৌন অধিকার নিয়ে আলোচনা আছে। এতে ক্ষমতা কীভাবে কাজ করে এবং বিভিন্ন গোষ্ঠী কীভাবে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের চেষ্টা করে, তার বিস্তৃত পর্যালোচনার মধ্যে রাজতন্ত্রকে বিবেচনা করা হয়েছে।
সম্পাদক ও রাজতন্ত্রের একজন বিশিষ্ট সমালোচক পাভিন নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে বইটির বিষয়বস্তুর সরাসরি যোগসূত্র টেনেছেন:
এ ধরনের বিষয়ই তাদের নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। থাইল্যান্ডের গণতন্ত্র পিছিয়ে যাচ্ছে, আর বই নিষিদ্ধ করা তার স্পষ্ট লক্ষণ।
২০১৯ সালের সংস্করণের সঙ্গে তুলনাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আগের বইটি নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই প্রচারিত হয়েছিল। ফলে নতুন নিষেধাজ্ঞা হ্যান্ডবুকটির নাম থাকা সব সংস্করণে নয়, বরং বিক্ষোভ-পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ ব্যাখ্যা করার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত সংস্করণটিকে প্রভাবিত করছে।
ভিন্ন পরিণতির দুটি আইন
প্রিন্টিং রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের ১০ নম্বর ধারা অনুযায়ী, রাজতন্ত্র, জাতীয় নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা বা জননৈতিকতার কারণ দেখিয়ে জাতীয় পুলিশপ্রধান কোনো প্রকাশনার আমদানি নিষিদ্ধ করতে পারেন। আইনটিতে জব্দ ও ধ্বংসের ব্যবস্থাও রয়েছে। আমদানি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের জন্য ২৭ নম্বর ধারায় সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৬০ হাজার বাত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান আছে।
দণ্ডবিধির ১১২ নম্বর ধারা ভিন্ন একটি অপরাধের বিষয়ে: রাজা, রানি, সিংহাসনের উত্তরাধিকারী বা রিজেন্টকে মানহানি, অপমান বা হুমকি দেওয়া। এ অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিটি অপরাধের জন্য তিন থেকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। হ্যান্ডবুকে এই আইন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, তবে আমদানি নিষেধাজ্ঞার ভিত্তি হলো প্রিন্টিং-সংক্রান্ত আইন।
মামলাটি অনুসরণকারীদের জন্য এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশনা আমদানির নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ কারাদণ্ড তিন বছর। ১১২ নম্বর ধারায় একটি অপরাধের জন্য এর পাঁচ গুণ পর্যন্ত সাজা হতে পারে—দুটি ধারায় সর্বোচ্চ সাজা যথাক্রমে তিন ও ১৫ বছর।
থাইল্যান্ডের ২০০৭ সালের প্রিন্টিং আইন আগের প্রকাশনা-অনুমতি ব্যবস্থা বাতিল করে নিবন্ধনব্যবস্থা চালু করে। প্রকাশকদের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য দিতে হয় এবং প্রকাশিত বইয়ের কপি জাতীয় গ্রন্থাগারে পাঠাতে হয়। ১০ নম্বর ধারার আমদানি নিষেধাজ্ঞা বিদেশি প্রকাশনা নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশকে আলাদা পথ দিয়েছে।
শিক্ষার্থী ও গ্রন্থাগারের ওপর বাস্তব প্রভাব
পাভিন বলেছেন, হ্যান্ডবুকটি মূলত শিক্ষার্থীদের জন্য লেখা একাডেমিক কাজ; এর বেশির ভাগ ক্রেতা বিশ্ববিদ্যালয় ও গ্রন্থাগার। তাই কপি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা বাণিজ্যিক পরিবেশকদের পাশাপাশি শিক্ষাদান, গবেষণা ও যৌথ সংগ্রহের জন্য বই কেনা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও প্রভাবিত করে।
গ্রন্থাগারের একটি কপি কয়েক বছর ধরে বহু পাঠকের কাজে লাগতে পারে। বইটি পৌঁছানো সীমিত হলে অর্ডারদাতার বাইরেও পাঠকের প্রবেশাধিকার বাধাগ্রস্ত হয়। বিশেষত বড় আকারের একাডেমিক বইয়ের ক্ষেত্রে, শিক্ষার্থীরা নিজের কপি না কিনেও গ্রন্থাগার থেকে পড়তে পারতেন।
বইটির ৪৫ জন লেখক ও ৩৭টি অধ্যায় নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রকাশনার ব্যাপকতাও তুলে ধরে। পাভিনের মতে, সিদ্ধান্তের কারণ রাজতন্ত্রবিষয়ক অংশ হলেও পুলিশ পুরো বইটিই সীমিত করেছে, যার মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্ত এলাকার সহিংসতা, নজরদারি ও যৌন অধিকার নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
সরকারের উপ-মুখপাত্র লালিদা পার্সভিভাতানা বলেছেন, জনসাধারণের সুরক্ষার পাশাপাশি ব্যক্তি ও একাডেমিক স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য রাখাই সরকারের অবস্থান। তিনি বলেন, থাইল্যান্ড:
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও একাডেমিক স্বাধীনতাকে সম্মান করার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দেয়।
এই বক্তব্যে সরকার তার ঘোষিত অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও পরিবেশকদের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা হলো পুলিশের আদেশ, যেখানে শাস্তির বিধান রয়েছে এবং ছাপা কপি বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞায় অনলাইনে পাঠক বাড়বে বলে মনে করেন পাভিন
নিষেধাজ্ঞার জবাবে পাভিন হ্যান্ডবুকটির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য পুলিশকে ধন্যবাদ জানান। তাঁর যুক্তি, ছাপা কপি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা পাঠকদের ই-বুক খুঁজতে উৎসাহিত করবে এবং প্রকাশনাটিকে এমন প্রচার এনে দেবে, যা অন্যথায় পাওয়া কঠিন হতো।
কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক ফেসবুক পোস্টে এ যুক্তি তুলে ধরেন:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটের যুগে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কাজে আসে না। মানুষ ছাপা কপি বাদ দিয়ে ই-বুক সংগ্রহ করতে পারে।
তাঁর প্রতিক্রিয়ায় ছাপা বইয়ের বিতরণ নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক প্রকাশনা-ব্যবস্থার মাধ্যমে পাঠকের কাছে পৌঁছানোর মধ্যে একটি বাস্তব টানাপোড়েন উঠে এসেছে। ছাপা বই আমদানিকারক, বইয়ের দোকান ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্রয়ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যায়। ই-বুক ভিন্ন পথে পাঠকের কাছে পৌঁছাতে পারে। এ কারণেই পাভিনের ধারণা, কিছু পাঠক মাধ্যম বদলাবেন।
পাভিন আরও বলেছেন, এ বিতর্কে তিনি ও প্রকাশক—দুজনই আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন। নিষেধাজ্ঞার ফলে মনোযোগ ও বিক্রি বাড়বে—এটি তাঁর সম্ভাব্য প্রভাবসংক্রান্ত মূল্যায়ন; এ বিষয়ে কোনো বিক্রির পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।
একই সম্পাদকের আরেকটি বই নিষিদ্ধ
এর আগে থাইল্যান্ড পাভিন সম্পাদিত আরেকটি বই Rama X: The Thai Monarchy under King Vajiralongkorn নিষিদ্ধ করেছিল। বইটি ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথইস্ট এশিয়া স্টাডিজ কর্মসূচি প্রকাশ করেছিল। বইটি প্রকাশের আগে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে কর্তৃপক্ষ নিষেধাজ্ঞার পদক্ষেপ নেয় এবং ২১ জুলাই সংশোধিত নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
আগের নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে প্রকাশিত পুলিশি বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, বইটির প্রচ্ছদ ও বিষয়বস্তু রাজতন্ত্রের জন্য অবমাননাকর এবং জনশান্তি ও জননৈতিকতার জন্য হুমকি। নতুন পদক্ষেপেও রাজপ্রতিষ্ঠান নিয়ে আলোচনা করা একটি প্রকাশনার বিরুদ্ধে প্রিন্টিং আইন ব্যবহার করা হয়েছে।
আইনি অধিকারবিষয়ক সংগঠন iLaw-এর তালিকা অনুযায়ী, ২০০৭ সালের আইনে অন্তত ছয়টি প্রকাশনা আমদানি নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে; সবগুলোতেই রাজতন্ত্র নিয়ে আলোচনা আছে। এর মধ্যে দুটি পাভিনের সম্পাদিত। অন্য চারটি হলো:
- জাইলস উংপাকর্নের Thailand's Crisis and the Fight for Democracy।
- অ্যান্ড্রু ম্যাকগ্রেগর মার্শালের A Kingdom in Crisis।
- ফরাসি সংস্করণের Marie Claire সাময়িকীর ২০১৫ সালের নভেম্বর সংখ্যা।
- The New Age of the Kings: Modern Monarchies in Malaysia and the World বইয়ে প্রকাশিত “Thailand: Colossally Popular” নিবন্ধ।
তালিকাটি দেখায়, একাধিক ধরনের প্রকাশনার বিরুদ্ধে এই ক্ষমতা ব্যবহার করা হয়েছে—বই, সাময়িকীর একটি সংখ্যা এবং বৃহত্তর সংকলনের একটি নিবন্ধ। তালিকাভুক্ত ছয়টি প্রকাশনার সাধারণ বিষয় হলো রাজতন্ত্র নিয়ে আলোচনা।
সম্পাদকের নির্বাসন ও পৃথক আইনি মামলা
একাডেমিক জগতে যোগ দেওয়ার আগে পাভিন ১৬ বছর থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাজ করেছেন। ২০১৪ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাসীন জান্তার তলব উপেক্ষা করেন তিনি। তাঁর পাসপোর্ট বাতিল করা হয় এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। এরপর থেকে তিনি কিয়োটোতে নির্বাসনে আছেন।
রয়্যালিস্ট মার্কেটপ্লেস, থাই ভাষায় তালাদ লুয়াং নামে পরিচিত একটি ফেসবুক গ্রুপ, ঘিরেও তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড রয়েছে। গ্রুপটিতে রাজতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হতো। এর সদস্যসংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়ে যায়। পাভিন বলেছেন, গ্রুপটি প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে ২০২০ সালে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
থাই লইয়ার্স ফর হিউম্যান রাইটস ২০২৬ সালের আগস্টে জানায়, আগের মাসে গ্রুপটিতে করা পোস্টের সূত্রে ১১২ নম্বর ধারায় অভিযুক্ত তিনজনের একজন পাভিন। ওই মামলাগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর কার্যক্রম নিয়ে; আর পুলিশের সর্বশেষ পদক্ষেপে হ্যান্ডবুক আমদানি সীমিত করা হয়েছে।
এই ঘটনাপ্রবাহ বিদেশে থেকেও রাজনীতি ও রাজতন্ত্র নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া এক শিক্ষাবিদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধের প্রেক্ষাপটে বই নিষিদ্ধের বিষয়টিকে তুলে ধরে। বিদেশে অবস্থান করায় তিনি আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশনা চালিয়ে যেতে পারছেন, আর আমদানি আদেশ থাইল্যান্ডের ভেতরে ছাপা বইটির প্রচার সীমিত করছে।
নিষেধাজ্ঞার পটভূমি
হ্যান্ডবুকটির প্রকাশনা-ইতিহাস থাইল্যান্ডের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সেন্সরশিপের ক্ষমতা বদলের আগের চেষ্টাগুলোর সঙ্গে যুক্ত। গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো হলো:
- ২০০৭: থাইল্যান্ড প্রিন্টিং রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট গ্রহণ করে; এতে নির্দিষ্ট বিদেশি প্রকাশনা নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা পুলিশকে দেওয়া হয়।
- ২০১১: সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় রয়্যাল গেজেটে আগে প্রকাশ না করেই তাৎক্ষণিকভাবে ছাপা, বিতরণ ও আমদানি নিষিদ্ধ করার বিস্তৃত ক্ষমতার প্রস্তাব দেয়। কাউন্সিল অব স্টেট সতর্ক করে, প্রস্তাবটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে এবং পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠায়।
- ২০১৪: সামরিক অভ্যুত্থানের পর পাভিনের প্রতি তলব জারি হয়, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন; এরপর থেকে তিনি নির্বাসনে আছেন।
- ২০১৯: হ্যান্ডবুকটির প্রথম সংস্করণ নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই প্রকাশিত হয়।
- ২০২০: তরুণ প্রতিবাদকারীরা রাজতন্ত্র ও সামরিক বাহিনীতে পরিবর্তনের দাবি তোলেন; পরবর্তী সংস্করণে এসব ঘটনাও আলোচিত হয়েছে।
- জুলাই ২০২৩: কর্তৃপক্ষ পাভিনের Rama X বইটি নিষিদ্ধ করে।
- আগস্ট ২০২৬: হ্যান্ডবুকটির দ্বিতীয় সংস্করণ ইংরেজিতে প্রকাশিত হয়।
- ৩০ অক্টোবর ২০২৬: জাতীয় পুলিশপ্রধান সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞায় সই করেন; নভেম্বরের শুরুতে তা প্রকাশ্যে আসে।
২০১১ সালের প্রস্তাবটি দেখায়, প্রকাশনা নিয়ন্ত্রণের পরিধি নিজেও সংবিধানগত পর্যালোচনার মুখে পড়েছে। বর্তমান হ্যান্ডবুক নিষেধাজ্ঞায় বিদেশি প্রকাশনাকে নিয়ন্ত্রণ করার বিদ্যমান ক্ষমতা ব্যবহার করা হয়েছে, ফলে বিরোধটি সরাসরি আমদানিকারক, পরিবেশক এবং বইটি সংগ্রহ করতে চাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এসে পড়েছে।
মূল বিষয়গুলো
- থাইল্যান্ডে বিতরণের উদ্দেশ্যে Routledge Handbook of Contemporary Thailand-এর দ্বিতীয় সংস্করণ অর্ডার বা আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
- নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৬০ হাজার বাত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। পুলিশ কপি জব্দ ও ধ্বংস করতে পারে।
- হ্যান্ডবুকটিতে ৪৫ জন গবেষকের ৩৭টি অধ্যায় রয়েছে। এতে রাজতন্ত্র, সামরিক বাহিনী, প্রতিবাদ আন্দোলনসহ নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় আলোচিত হয়েছে।
- ২০১৯ সালের প্রথম সংস্করণ নিষিদ্ধ করা হয়নি। পাভিনের মতে, সংশোধিত সংস্করণে ২০২০ সালের বিক্ষোভ-পরবর্তী পরিবর্তনগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
- পুলিশ নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার কথা বলেছে। পাভিনের মতে, রাজতন্ত্রবিষয়ক বিষয়বস্তুর কারণেই নিষেধাজ্ঞা এসেছে; তাঁর ধারণা, পাঠকেরা ই-বুক খুঁজবেন।
- ২০২৩ সালে Rama X-এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপের পর পাভিন সম্পাদিত বই নিয়ে এটি দ্বিতীয় নিষেধাজ্ঞা।






