১২ মিনিটে চার গোল, বদলে গেল ফাইনালের চিত্র
২০২৬ সালের ৫ নভেম্বর পুরুষদের এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে ৪২ থেকে ৫৪ মিনিটের মধ্যে চার গোল করে জাপানকে ৪-১ গোলে হারায় ভারত। এর মধ্য দিয়ে রেকর্ড ষষ্ঠ শিরোপা এবং টানা তৃতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ নিশ্চিত করে তারা। শিলানন্দ লাকরা ঘুরে দাঁড়ানোর সূচনা করেন, এরপর গোল করেন দিলপ্রীত সিং, জুগরাজ সিং ও বিবেক সাগর প্রসাদ।
সূচিপত্র
- ১২ মিনিটে চার গোল, বদলে গেল ফাইনালের চিত্র
- শুরুর সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় জাপান
- বিরতির পরিসংখ্যানে দুই দলের দুই ছবি
- হার্দিক ও নীলকান্তের দখলে বদলে যায় খেলার গতি
- জাপানের আপত্তির পরও বহাল থাকে লাকরার সমতাসূচক গোল
- আরও তিন গোলে নিশ্চিত হয় জয়
- ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে হারমানপ্রীত ও ফুলটনের ব্যাখ্যা
- একাধিক গোলদাতার অবদানে ষষ্ঠ শিরোপা
- ঘুরে দাঁড়িয়ে ব্রোঞ্জ জিতল মালয়েশিয়া
- মূল বিষয়গুলো
কাজুমাসা মাতসুমোতোর গোলে তৃতীয় মিনিট থেকেই এগিয়ে ছিল জাপান। ফলে ৩৯ মিনিট ধরে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করতে হয় ভারতকে। সাত ম্যাচে ৪৬ গোল করে অপরাজিত থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করে স্বাগতিকরা। তবে তাদের সবচেয়ে কঠিন সন্ধ্যায় আক্রমণ ছন্দ খুঁজে পাওয়ার আগে ধৈর্য ধরতে হয়েছে।
ফাইনালটি অনুষ্ঠিত হয় মোহালির অলিম্পিয়ান বলবীর সিং সিনিয়র হকি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে। গ্রুপ পর্বেও জাপানকে একই ৪-১ গোলে হারিয়েছিল ভারত, তবে ফাইনালের পথটা ছিল অনেক বেশি কঠিন।
প্রতিযোগিতার নবম আসরে ষষ্ঠবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। টানা তিন শিরোপা জয়ের অভিযানে তারা ২০ জয় ও একটি ড্র পেয়েছে; টানা অপরাজিত থেকেছে ২১ ম্যাচ।
শুরুর সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় জাপান
ভারত গুছিয়ে ওঠার আগেই গোল করেন মাতসুমোতো। বাঁ দিকে বল পেয়ে তিনি শুটিং সার্কেলে ঢুকে ভারতীয় গোলরক্ষক সুরাজ কারকেরার পাশ দিয়ে রিভার্স হিটে বল জালে পাঠান। পোস্টের কাছে সরু ফাঁক গলে যাওয়া শটটি আক্রমণাত্মক শুরুর তাৎক্ষণিক পুরস্কার এনে দেয় জাপানকে।
প্রচলিত ফোরহ্যান্ড স্ট্রোকের বিপরীত দিক ও প্রান্ত ব্যবহার করে রিভার্স হিট মারা হয়। মাতসুমোতো এত দ্রুত শটটি নেন যে ভারতের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক প্রতিক্রিয়া জানানোর তেমন সময় পাননি।
এরপর কাছ থেকে মার্কিং এবং উঁচু করে মারা পাসের সমন্বয়ে ভারতের চাপ এড়িয়ে যায় জাপান। রক্ষণভাগের খেলোয়াড়েরা ভারতীয়দের কড়া নজরে রাখেন, আর প্রতিপক্ষের প্রথম সারির ওপর দিয়ে উঁচু পাস মেরে ভিড়ে ঠাসা মাঝমাঠ দিয়ে বারবার বল নেওয়ার চেষ্টা ছাড়াই সামনে এগোয় জাপান।
অভিষেক নাইন, দিলপ্রীত, সুখজিত সিং ও হার্দিক সিংয়ের মাধ্যমে সুযোগ তৈরি করেছিল ভারত, কিন্তু ফিনিশিংয়ে ব্যর্থ হয় তারা। সার্কেলের ভেতরে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগে করা আবেদন নাকচ হলে শুরুতেই ভিডিও রিভিউয়ের সুযোগও হারায় স্বাগতিকরা।
বিরতির পরিসংখ্যানে দুই দলের দুই ছবি
বিরতিতে ভারতের বল দখলে ছিল ৫২ শতাংশ এবং জাপানের সার্কেলে তারা ১১ বার বল নিয়ে ঢোকে। জাপানের ক্ষেত্রে সংখ্যাটি ছিল ছয়। লক্ষ্যে ভারতের শট ছিল দুটি, জাপানের একটি। তবু এগিয়ে ছিল জাপান, যারা দুটি পেনাল্টি কর্নার পেয়েছিল; ভারত পায়নি একটিও।
গোলের চারপাশে চিহ্নিত শুটিং এলাকায় বল নিয়ে ঢোকাকে সার্কেল এন্ট্রি বলা হয়। আক্রমণ কতবার বিপজ্জনক জায়গায় পৌঁছেছে, তা এর মাধ্যমে বোঝা যায়। তবে ভারতের প্রথমার্ধ দেখিয়েছে, বল সেখানে পৌঁছালেও কাজের অনেকটা বাকি থাকতে পারে।
চাপকে গোলে রূপ দিতে ভারতকে বারবার বাধা দেন জাপানের গোলরক্ষক কিশো কুরোদা। তাঁর রক্ষণভাগের খেলোয়াড়েরা পাসের পথ আটকে দেন, ফরোয়ার্ডদের কাছাকাছি থাকেন এবং গোলের কাছে ভারতীয়দের পরিষ্কারভাবে বল নিতে বাধা দেন।
ব্যবধান বাড়ানোর হুমকিও দিয়েছিল জাপান। ২০ মিনিটের কাছাকাছি দুটি পেনাল্টি কর্নার ভারতের রক্ষণকে পরীক্ষায় ফেলে। জাপান অধিনায়ক রাইকি ফুজিশিমার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ব্লক করেন অমিত রোহিদাস। ব্যবধান এক গোলে থাকায় বড় ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার চাপ ছাড়াই সমতা ফেরানোর চেষ্টা চালাতে পেরেছে ভারত।
হার্দিক ও নীলকান্তের দখলে বদলে যায় খেলার গতি
নিজের ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা হার্দিক, নীলকান্ত শর্মা ও বিবেক ভারতের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বিরতির পর তাদের মাঝমাঠের তৎপরতায় বলের দখল ফিরে পায় ভারত এবং জাপানের মার্কিং ভেদ করে আরও উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে বল এগিয়ে নেয়।
৩৩ মিনিটে প্রথম পেনাল্টি কর্নার পায় ভারত। কিছু রক্ষণাত্মক অপরাধের জন্য পেনাল্টি কর্নার দেওয়া হয়; এতে আক্রমণকারী দল গোছানোভাবে শট নেওয়ার সুযোগ পায়, আর রক্ষণভাগের খেলোয়াড়েরা গোললাইন থেকে দৌড়ে বেরিয়ে আসেন। হারমানপ্রীত সিংয়ের ফ্লিক ঠেকিয়ে ভারতকে পিছিয়ে রাখেন কুরোদা।
সুখজিতের একটি শটও ঠেকান তিনি। রিবাউন্ড থেকে রিভার্স শটে হারমানপ্রীতের বল পোস্টে লাগে। অন্য প্রান্তেও হুমকি হয়ে ছিল জাপান; তৃতীয় কোয়ার্টারে শোতা ইয়ামাদার দল পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করতে পারেনি।
ভারতের চাপ ক্রমেই স্থায়ী হচ্ছিল। মাঝমাঠে হার্দিক ও নীলকান্তের সমন্বিত আক্রমণের পর ৪২ মিনিটে পরপর পাওয়া পেনাল্টি কর্নার থেকে অবশেষে গোল পায় ভারত।
জাপানের আপত্তির পরও বহাল থাকে লাকরার সমতাসূচক গোল
হারমানপ্রীতের শট ঠেকান কুরোদা, তবে আক্রমণ ধরে রাখে ভারত। আলগা বলের কাছে পৌঁছে আদিত্য অর্জুন লালাগে রিভার্সে উঁচু করে লাকরার দিকে পাস পাঠান। কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে ১-১ করেন লাকরা।
লালাগের উঁচু পাসটি বিপজ্জনক ছিল, এই যুক্তিতে গোলটির বিরুদ্ধে আপত্তি জানায় জাপান। ভিডিও আম্পায়ার গোলটি বহাল রাখেন। ফলে মাতসুমোতোর শুরুর গোলের জবাব খুঁজতেই না থেকে সমতা নিয়ে শেষ কোয়ার্টারে যায় ভারত।
রিবাউন্ডের কাছে ভারতের লেগে থাকার পুরস্কার ছিল সমতাসূচক গোলটি। কুরোদা প্রথম শট ঠেকালেও পরের পাসে লাকরাকে খুঁজে নিতে লালাগেকে আটকাতে পারেনি জাপানের রক্ষণ।
এরপর গোলরক্ষক বদল করে কুরোদার জায়গায় তাকুমি কিতাগাওয়াকে নামায় জাপান। তবে তাতে ভারতের ছন্দ থামেনি। লাকরার গোলের ছয় মিনিট পরই প্রথমবারের মতো এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
আরও তিন গোলে নিশ্চিত হয় জয়
৪৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোলের পথ তৈরি করেন হার্দিক। তাঁর প্রথম পাসটি ব্লক হলেও সার্কেলের ভেতরে বলের দখল ফিরে পেয়ে দিলপ্রীতকে খুঁজে নেন তিনি। গোলের দিকে পিঠ দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে এনে দারুণ ফিনিশিংয়ে ভারতকে ২-১ গোলে এগিয়ে দেন এই ফরোয়ার্ড।
মাঝমাঠে পাস আটকে ভারতের তৃতীয় গোলের আক্রমণ শুরু করেন বিবেক। বল পৌঁছায় সুখজিতের কাছে। তাঁর শট থেকে পেনাল্টি কর্নার পায় ভারত। শক্তিশালী ড্র্যাগ ফ্লিকে গোল করেন জুগরাজ। এই কৌশলে খেলোয়াড় স্টিক বরাবর বল টেনে নিয়ে এরপর গোলের দিকে জোরে শট করেন।
ম্যাচের বিবরণে জুগরাজের গোলটি ৫৩ মিনিটে বলা হয়েছে, তবে প্রকাশিত ফলাফলের তালিকায় গোলের সময় ৫২ মিনিট উল্লেখ করা হয়েছে। ৫৪ মিনিটে ভারতের চতুর্থ গোলটি করেন বিবেক। তাতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইটি একতরফা জয়ে পরিণত হয়।
শেষ গোলের আক্রমণ শুরু করতে আলগা বল দখলে নেন নীলকান্ত। লাকরার শট ঠেকানো হলেও রিবাউন্ডে গোল করেন বিবেক। শেষ কয়েক সেকেন্ডে আরও একটি পেনাল্টি কর্নার পায় জাপান, তবে ব্যবধান কমাতে পারেনি।
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ গোলগুলোতে দেখা যায়, কত দ্রুত পাল্টে গিয়েছিল খেলার চিত্র:
- ৩ মিনিট: মাতসুমোতোর গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় জাপান।
- ৪২ মিনিট: ভারতের আক্রমণ ধরে রাখার পর লালাগের পাস থেকে সমতা ফেরান লাকরা।
- ৪৮ মিনিট: হার্দিকের পাস থেকে গোল করে ভারতকে এগিয়ে দেন দিলপ্রীত।
- ৫৩ মিনিট: পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করেন জুগরাজ; ফলাফলের তালিকায় গোলটির সময় এক মিনিট আগে দেওয়া হয়েছে।
- ৫৪ মিনিট: রিবাউন্ড থেকে ভারতের চতুর্থ গোল করেন বিবেক।
ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে হারমানপ্রীত ও ফুলটনের ব্যাখ্যা
ভারত অধিনায়ক হারমানপ্রীত বলেন, জাপানের প্রস্তুতি এবং কাছ থেকে মার্কিংয়ের কারণে প্রথম দুই কোয়ার্টার কঠিন হয়ে উঠেছিল। সুযোগ নষ্ট হওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, জাপানের রক্ষণ ভেদ করার পথ খুঁজতে মাঝমাঠকে আরও বেশি করতে হতো।
সতীর্থদের দেওয়া বার্তার কথা জানিয়ে হারমানপ্রীত বলেন:
দলের প্রতি বার্তা ছিল নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। আমরা জানতাম, পরিকল্পনা ও কাঠামো মেনে খেললে গোল আসবেই।
ভারতের কোচ ক্রেগ ফুলটন বলেন, জাপান প্রথমার্ধে খুব ভালো খেলেছিল। জাপান ও কোরিয়ার বিপক্ষে আগের ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা পিছিয়ে থাকার সময় খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে সহায়তা করেছে বলে জানান তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে চাপ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় ফুলটন বলেন:
আমরা তিন গোলে পিছিয়ে ছিলাম না। এরপর আমরা চার গোল করেছি। শেষ দুই কোয়ার্টারে আমরা পুরো মাঠে চাপ ও সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছি এবং জানতাম, আরও ভালো করতে পারব।
ফুল প্রেস বলতে আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করা প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানাতে খেলোয়াড়দের সামনে এগিয়ে যাওয়াকে বোঝায়। মাঝমাঠে ভারতের বল পুনরুদ্ধার এবং সার্কেলের আশপাশে বারবার আক্রমণের ফলে শেষ কোয়ার্টারে এই কৌশলের সুফল মেলে।
একাধিক গোলদাতার অবদানে ষষ্ঠ শিরোপা
ভারত এর আগে ২০১১, ২০১৬, ২০১৮, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতেছিল। সর্বশেষ জয়ের ফলে আয়োজিত নয় আসরের ছয়টিতেই চ্যাম্পিয়ন হলো তারা, অর্থাৎ মোট শিরোপার দুই-তৃতীয়াংশই ভারতের দখলে।
ফাইনালে গোল না করলেও ১০ গোল নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন হারমানপ্রীত। দিলপ্রীত করেছেন সাতটি এবং সুখজিত ও লাকরা করেছেন পাঁচটি করে গোল। এই চার খেলোয়াড় মিলে ভারতের ৪৬ গোলের মধ্যে ২৭টি করেছেন, যা দলের মোট গোলের প্রায় ৫৯ শতাংশ।
সাত ম্যাচে ভারত গড়ে প্রায় ৬.৬ গোল করেছে। তাই ৪২ মিনিট পর্যন্ত তাদের গোলশূন্য রাখতে পারা ফাইনালে আক্রমণভাগের জন্য ছিল অস্বাভাবিক কঠিন পরীক্ষা।
ফাইনালের পরিসংখ্যানে ভারতের সার্কেল এন্ট্রি ছিল ২২টি এবং গোলের দিকে শট ১২টি; জাপানের ক্ষেত্রে সংখ্যা ছিল যথাক্রমে সাত ও দুটি। শেষ পর্যন্ত পাস, পেনাল্টি কর্নার এবং গোলরক্ষকের সেভের পর দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় তৈরি সুযোগ কাজে লাগিয়ে আক্রমণে এগিয়ে থাকার প্রতিফলন ঘটায় ভারত।
দলে নতুন খেলোয়াড়দের যুক্ত করা এবং লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের প্রস্তুতির সঙ্গেও এই টুর্নামেন্টের যোগসূত্র টানেন ফুলটন। পরবর্তী ১৮ মাসের কথা উল্লেখ করে তিনি অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ও নতুনদের একসঙ্গে শেখার প্রস্তুতিপর্বের দিকে মনোযোগ দেন।
ঘুরে দাঁড়িয়ে ব্রোঞ্জ জিতল মালয়েশিয়া
ফাইনাল দিনের ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫-২ গোলে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জেতে মালয়েশিয়া। দ্বিতীয় মিনিটে গোল করেন ফিতরি সাআরি, তবে পঞ্চম মিনিটে সমতা ফেরান জিওনউ পার্ক এবং ১৩ মিনিটে কোরিয়াকে এগিয়ে দেন সেমিন চুন।
বিরতিতে ২-১ গোলে পিছিয়ে ছিল মালয়েশিয়া। ৩৪ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করেন ফাইজাল সাআরি। এরপর ৪৫ ও ৫০ মিনিটে আবু কামাল আজরাই গোল করে ম্যাচে মালয়েশিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেন।
খেলার শেষ দিকে গোল করে ব্যবধান পূর্ণ করেন অধিনায়ক মারহান জলিল। এশিয়ান গেমসে রৌপ্যজয়ী মালয়েশিয়া জাপানের কাছে সেমিফাইনালে হেরে তৃতীয় স্থান অর্জন করে।
চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত, দ্বিতীয় জাপান এবং ব্রোঞ্জ পেয়েছে মালয়েশিয়া। চ্যাম্পিয়নদের জন্য সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জন ছিল শুরুর ধাক্কা সামলে ওঠা এবং দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও জাপানকে জয় পেতে না দেওয়া।
মূল বিষয়গুলো
- জাপানকে ৪-১ গোলে হারিয়ে রেকর্ড ষষ্ঠ পুরুষদের এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতেছে ভারত; এটি তাদের টানা তৃতীয় শিরোপা।
- তৃতীয় মিনিটে মাতসুমোতো জাপানকে এগিয়ে দেন; ৪২ মিনিটে লাকরার গোলে সমতা ফেরায় ভারত।
- শেষ কোয়ার্টারে দিলপ্রীত, জুগরাজ ও বিবেকের তিন গোলে ঘুরে দাঁড়ায় ভারত।
- সাত ম্যাচে ৪৬ গোল করে অপরাজিত থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে ভারত।
- টানা তিন শিরোপা জয়ের অভিযানে ভারতের অপরাজিত থাকার ধারা দাঁড়িয়েছে ২১ ম্যাচে; এর মধ্যে জয় ২০টি এবং ড্র একটি।
- ১০ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন হারমানপ্রীত; ফাইনালে নিজের ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন হার্দিক।
- দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫-২ গোলে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছে মালয়েশিয়া।






