বাক নিনে ছয়টি পরীক্ষার লাইনে কার্যক্রম শুরু
উত্তর ভিয়েতনামে একটি সেমিকন্ডাক্টর পরীক্ষা ও প্যাকেজিং কারখানায় পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে এফপিটি। কারখানাটিতে ছয়টি পরীক্ষার লাইন রয়েছে এবং এর নকশাগত সর্বোচ্চ সক্ষমতা বছরে ৩০ কোটি চিপ। ভিয়েতনামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এমন একটি শিল্পে নিজেদের ভূমিকা বাড়াচ্ছে, যেখানে দেশের ভেতরের কার্যক্রম এত দিন মূলত নকশা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দেওয়া সেবার মধ্যে সীমিত ছিল। এফপিটি ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেয়।
সূচিপত্র
- বাক নিনে ছয়টি পরীক্ষার লাইনে কার্যক্রম শুরু
- চিপ পরীক্ষা করা হয় কীভাবে?
- তাপ, আর্দ্রতা ও স্থির বিদ্যুৎও গুরুত্বপূর্ণ
- উন্নয়ন পরিকল্পনায় ব্যবস্থাপনার মানদণ্ড ও এআই
- অভিজ্ঞ প্রকৌশলীরা নতুন কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেবেন
- পাওয়ার চিপের নকশা থেকে বড় কারখানার পরিকল্পনা
- চিপ সরবরাহশৃঙ্খলের বিভিন্ন ধাপ গড়ে তুলছে ভিয়েতনাম
- ভিয়েতটেলের নিরাপত্তা চিপ ও এআই অংশীদারত্ব
- বৃহত্তর প্রযুক্তি গোষ্ঠীর নতুন ব্যবসা
- মূল বিষয়
কারখানাটি বাক নিন প্রদেশের ইয়েন ফং II-C শিল্পাঞ্চলে ১,৬০০ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে অবস্থিত। এটি পরিচালনা করছে এফপিটি অ্যানালাইসিস টেকনোলজিস জেএসসি। এফপিটির ভাষ্য, ভিয়েতনামে কোনো দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন ও পরিচালিত এ ধরনের এটিই প্রথম কারখানা।
দক্ষিণ কোরিয়ার এক অংশীদারের কাছ থেকে প্রথম বাণিজ্যিক পরীক্ষার আদেশ আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এফপিটি গ্রাহকের নাম জানায়নি, আদেশের পরিমাণ প্রকাশ করেনি বা কাজটি শেষ করার তারিখও দেয়নি। বছরে ৩০ কোটি চিপের হিসাবটি কারখানার নকশাগত সর্বোচ্চ সক্ষমতা বোঝায়; পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলাকালে প্রকৃত উৎপাদন নির্ভর করবে আদেশ ও পরিচালন পরিস্থিতির ওপর।
তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হলো চিপের কার্যকারিতা, গুণমান ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা। এফপিটি আরও উন্নত পরীক্ষা ও চিপ প্যাকেজিং প্রযুক্তি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ এবং ভিয়েতনাম ও বিদেশের গ্রাহকদের জন্য সেবা সম্প্রসারণেও কারখানাটি কাজে লাগাবে।
চিপ পরীক্ষা করা হয় কীভাবে?
এফপিটির কারখানায় স্বয়ংক্রিয় পরীক্ষার সরঞ্জাম, সংক্ষেপে ATE, এবং হ্যান্ডলার নামে পরিচিত যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। পরীক্ষক যাচাই করে চিপটি নির্ধারিত কাজ করতে পারে কি না এবং কারিগরি শর্ত পূরণ করে কি না। হ্যান্ডলার প্রতিটি চিপকে ঠিক জায়গায় বসায়, তারপর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে কি না, সে অনুযায়ী বাছাই করে।
একটি চিপে অসংখ্য ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক সার্কিট থাকতে পারে, তাই পরীক্ষা মানে শুধু চিপটি চালু করে দেখা নয়। নির্দিষ্ট নকশার ক্ষেত্রে কোন পরিমাপগুলো গুরুত্বপূর্ণ, কী পরিস্থিতিতে সেগুলো নিতে হবে এবং ফলাফল কীভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে, তা প্রকৌশলীদের নির্ধারণ করতে হয়। বৈদ্যুতিক শক্তি নিয়ন্ত্রণকারী চিপের পরীক্ষার কর্মসূচি ছবি প্রক্রিয়াকরণকারী চিপের কর্মসূচি থেকে আলাদা।
এফপিটির প্রকৌশলীরা প্রতিটি চিপের কাজ ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী পরীক্ষার কর্মসূচি তৈরি করছেন। কোন কোন পরামিতি মাপতে হবে, পরীক্ষার পরিস্থিতি কেমন হবে এবং পণ্যটি নির্ধারিত শর্ত পূরণ করছে কি না তা ঠিক করতে কীভাবে ফলাফল বিশ্লেষণ করতে হবে, এসব বিষয় তাদের কাজের আওতায় রয়েছে।
পরীক্ষার এলাকা ISO Class 7-এর সমতুল্য Class 10,000 ক্লিনরুমের ভেতরে অবস্থিত। এই শ্রেণিবিন্যাসে বাতাসে ভাসমান কণার ঘনত্ব বিবেচনা করা হয়। ধুলা ও আশপাশের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখলে ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক উপাদান সুরক্ষিত থাকে এবং পরীক্ষার পরিস্থিতিও স্থিতিশীল রাখা যায়।
প্যাকেজিংয়ের কাজ আলাদা: এতে চিপকে সুরক্ষামূলক কাঠামোর মধ্যে রাখা হয় এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্রে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সংযোগ দেওয়া হয়। এফপিটির প্রাথমিক কার্যক্রমে পরীক্ষার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে; তবে উন্নয়ন পরিকল্পনায় আরও উন্নত প্যাকেজিং সক্ষমতাও রয়েছে।
তাপ, আর্দ্রতা ও স্থির বিদ্যুৎও গুরুত্বপূর্ণ
চিপ কঠিন পরিস্থিতি সহ্য করতে পারে কি না, সেটিও যাচাই করছে এফপিটি। কারখানার নির্ভরযোগ্যতা পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে উচ্চ তাপমাত্রায় রাখা, বারবার তাপমাত্রা পরিবর্তন এবং তাপ ও আর্দ্রতার সম্মিলিত প্রভাব পরীক্ষা করা। নির্দিষ্ট ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতিতে কোনো উপাদান কাজ করতে পারবে কি না, এসব পরীক্ষা থেকে প্রকৌশলীরা তা মূল্যায়ন করতে পারেন।
সংক্ষিপ্ত বৈদ্যুতিক পরীক্ষায় কাজ করলেও চূড়ান্ত পণ্যে ব্যবহারের সময় একটি চিপকে দীর্ঘক্ষণ তাপ বা বারবার তাপমাত্রা পরিবর্তন সহ্য করতে হতে পারে। নির্ভরযোগ্যতা পরীক্ষায় এসব চাহিদা যাচাই করা হয়। ফলে গ্রাহকেরা মৌলিক কাজের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বা অনুত্তীর্ণ হওয়ার তথ্যের চেয়ে বেশি কিছু জানতে পারেন।
চিপ ধরাধরির সময় স্থির বিদ্যুৎও একটি ঝুঁকি। কোনো ব্যক্তি বা যন্ত্র থেকে সৃষ্ট সামান্য বৈদ্যুতিক নির্গমন সংবেদনশীল উপাদানের ক্ষতি করতে পারে। কারখানায় চিপ বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করার সময় এই ঝুঁকি কমানোর জন্য নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়।
এফপিটি জানিয়েছে, পরীক্ষাগারগুলোর সক্ষমতা এবং ক্যালিব্রেশনের জন্য আন্তর্জাতিক শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ভরযোগ্যতা পরীক্ষার এলাকা সম্প্রসারণ করা হবে। ক্যালিব্রেশন হলো পরিমাপক যন্ত্র নির্ভরযোগ্য পাঠ দিচ্ছে কি না তা যাচাই করা; গ্রাহকের কাজে লাগবে এমন ফলাফল পাওয়ার জন্য এটি অপরিহার্য।
উন্নয়ন পরিকল্পনায় ব্যবস্থাপনার মানদণ্ড ও এআই
কারখানার বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য ব্যবস্থাপনা মানদণ্ড অর্জনে কাজ করছে এফপিটি: গুণমানের জন্য ISO 9001, পরিবেশ ব্যবস্থাপনার জন্য ISO 14001 এবং পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য ISO 45001। ক্লিনরুম পরিচালনায় ISO 14644 কাঠামো অনুসরণ করা হয়।
কারখানাটির মানদণ্ড বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে বিভিন্ন বিবরণে পার্থক্য রয়েছে। কিছু বিবরণে ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিগুলো ওই মানদণ্ড অনুযায়ী চালু রয়েছে বলা হয়েছে, অন্যগুলোতে মানদণ্ড মেনে চলাকে চলমান লক্ষ্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বাস্তব কর্মসূচির আওতায় রয়েছে গুণমানসংক্রান্ত পদ্ধতি, পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণ, কর্মীদের নিরাপত্তা এবং পণ্য পরীক্ষার শর্ত।
পরীক্ষার কর্মসূচি তৈরির কিছু ধাপ স্বয়ংক্রিয় করতে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্ল্যাটফর্মও তৈরি করছে এফপিটি। পরিকল্পিত কাজের মধ্যে রয়েছে তথ্যের মান নির্ধারণ, কারিগরি শর্ত প্রক্রিয়াকরণ, পরীক্ষা কনফিগার করা এবং ফলাফল মূল্যায়ন।
প্রস্তাবিত এআই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো প্রতিটি চিপের নকশার জন্য প্রয়োজনীয় প্রকৌশলগত প্রস্তুতির কাজ। প্রকৌশলীরা বর্তমানে কী পরীক্ষা করতে হবে এবং পরিমাপের ফলাফল কীভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে, তা নির্ধারণ করেন। প্রস্তুতির কিছু অংশ স্বয়ংক্রিয় করা গেলে গ্রাহক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এফপিটির পক্ষে আরও বিভিন্ন ধরনের পণ্য সামলানো সহজ হতে পারে। প্ল্যাটফর্মটি এখনো উন্নয়নাধীন।
অভিজ্ঞ প্রকৌশলীরা নতুন কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেবেন
এফপিটি সেমিকন্ডাক্টর পরীক্ষা ও প্যাকেজিং বিশেষজ্ঞদের একটি দল গড়েছে। তাঁদের মধ্যে এমন প্রকৌশলীরাও রয়েছেন, যাঁরা ইন্টেলের ভিয়েতনাম কারখানায় বছরের পর বছর কাজ করেছেন। তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে কারিগরি পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা, যন্ত্রপাতি পরিচালনা এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া।
২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে এফপিটি পলিটেকনিক কলেজের সঙ্গে একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের জন্য কারখানাটি খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার সরঞ্জাম, উৎপাদন লাইন ও পরিচালন পদ্ধতি নিয়ে সরাসরি কাজের অভিজ্ঞতা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভিয়েতনামের সেমিকন্ডাক্টর খাতের কর্মীসংখ্যার হিসাব দেখায়, হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ কেন গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় চিপ প্রোটোটাইপ সহায়তা কেন্দ্র চালুর অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, দেশটির এই খাতে প্রায় ৬০টি চিপ নকশা প্রতিষ্ঠান, ৭,০০০ চিপ প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পাঠক্রম রয়েছে এমন ১৬৬টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
শ্রেণিকক্ষের শিক্ষায় একা যে সরঞ্জাম ও কাজের পদ্ধতির অভিজ্ঞতা দেওয়া সম্ভব নয়, কারখানাটি শিক্ষার্থীদের সেই সুযোগ দেবে। এফপিটির জন্য বাণিজ্যিক পরীক্ষার একই স্থানে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ফলে নিজস্ব যন্ত্রপাতি ও কারিগরি প্রক্রিয়ায় অভ্যস্ত কর্মী গড়ে তোলার পথ তৈরি হচ্ছে।
পাওয়ার চিপের নকশা থেকে বড় কারখানার পরিকল্পনা
এফপিটির দাবি, সেমিকন্ডাক্টর খাতে তাদের এক দশকের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাদের নকশা করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে পাওয়ার ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট এবং পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট, বা PMIC। এসব উপাদান ইলেকট্রনিক পণ্যের ভেতরে বিদ্যুৎ সরবরাহ, নিয়ন্ত্রণ ও বিতরণে সহায়তা করে।
নিজস্ব নকশার পাওয়ার চিপের প্রথম চালান ২০২৫ সালে জাপানি এক অংশীদারকে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বাক নিনের কারখানায় পরীক্ষার সেবা যুক্ত হওয়ায় নকশার পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর পণ্য গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এফপিটির আরেকটি ভূমিকা তৈরি হলো।
এজে এআই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে এমন সিস্টেম-অন-আ-চিপও গবেষণা করছে এফপিটি। সিস্টেম-অন-আ-চিপে একটিমাত্র উপাদানের মধ্যে একাধিক কম্পিউটিং কার্যক্রম যুক্ত থাকে। এজ এআই বলতে তথ্য সংগ্রহের জায়গার কাছাকাছি, যেমন ক্যামেরা বা অন্য কোনো যন্ত্রের ভেতরে, তথ্য প্রক্রিয়াকরণ বোঝায়; প্রতিটি কাজ দূরের ডেটা সেন্টারে পাঠানো হয় না।
পরবর্তী সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বেশ বড়। ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিতীয় পর্যায়ে কারখানার আয়তন ১,৬০০ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৬,০০০ বর্গমিটার করার এবং পরীক্ষা ও প্যাকেজিংয়ের লাইন যুক্ত করার পরিকল্পনা এফপিটির। এতে কারখানাটি বর্তমানের প্রায় ৩.৭৫ গুণ বড় হবে, অর্থাৎ আয়তন বাড়বে প্রায় ৪,৪০০ বর্গমিটার।
কারখানার ঘোষণা থেকে শুরু করে বিস্তৃত সেবা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পর্যন্ত প্রধান মাইলফলকগুলো হলো:
- জানুয়ারি ২০২৬: এফপিটি পরীক্ষা ও প্যাকেজিং কারখানার ঘোষণা দেয়।
- ২৬ জুন ২০২৬: ভিয়েতনামের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জাতীয় VNMPW/CC চিপ প্রোটোটাইপ সহায়তা কেন্দ্র চালু করে।
- ৩ নভেম্বর ২০২৬: বাক নিনের কারখানায় পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেয় এফপিটি।
- ডিসেম্বর ২০২৬: এফপিটি পলিটেকনিক কলেজের সঙ্গে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের পরীক্ষামূলক কর্মসূচি শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।
- ২০২৮ থেকে ২০৩০: কারখানার আয়তন প্রায় ৬,০০০ বর্গমিটারে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা এফপিটির।
চিপ সরবরাহশৃঙ্খলের বিভিন্ন ধাপ গড়ে তুলছে ভিয়েতনাম
ভিয়েতনামের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশটিতে প্রায় ৬০টি চিপ নকশা প্রতিষ্ঠান, প্যাকেজিং ও পরীক্ষার আটটি প্রকল্প এবং সেমিকন্ডাক্টর উপকরণ ও সরঞ্জামের ২০টির বেশি সরবরাহকারী ছিল। ইন্টেল, অ্যামকর টেকনোলজি ও হানা মাইক্রনের মতো বিদেশি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে দেশটিতে সংযোজন, পরীক্ষা ও প্যাকেজিংয়ের কাজ করছে।
জাতীয় সেমিকন্ডাক্টর কৌশলে ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ১০০টি নকশা প্রতিষ্ঠান, একটি ছোট উৎপাদন কারখানা এবং ১০টি প্যাকেজিং ও পরীক্ষা কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। ২০৫০ সালের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে ৩০০টি নকশা প্রতিষ্ঠান, তিনটি উৎপাদন কারখানা এবং ২০টি প্যাকেজিং ও পরীক্ষা কেন্দ্র।
এফপিটির কারখানাটি এই পরিকল্পনার পরীক্ষা ও প্যাকেজিং অংশে অবদান রাখে। ওয়েফার উৎপাদন একটি আলাদা ধাপ, যেখানে সেমিকন্ডাক্টর উপাদানের পাতলা চাকতিতে ইলেকট্রনিক সার্কিট তৈরি করা হয়। পরে সেগুলো থেকে আলাদা চিপ কেটে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হয়।
জাতীয় VNMPW/CC কেন্দ্রটি আরেকটি ধাপে সহায়তা করে: গবেষক ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নকশা থেকে বাস্তব প্রোটোটাইপ তৈরিতে সাহায্য করে। দেশীয় নকশার চাহিদার সঙ্গে উৎপাদন সেবার সংযোগ এবং উৎপাদনের পর পরীক্ষা ও মূল্যায়নে সহায়তা করাই এর ভূমিকা।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প বিভাগের পরিচালক নগুয়েন খাক লিচ নকশাকে বাস্তব চিপে রূপ দেওয়ার সক্ষমতাকে ভিয়েতনামের অগ্রগতির পথে একটি বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। প্রোটোটাইপ উৎপাদনে ব্যয়বহুল বিভিন্ন ধাপ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে টেপ-আউট, অর্থাৎ উৎপাদনের জন্য সম্পূর্ণ চিপ নকশা জমা দেওয়া।
প্রোটোটাইপ কেন্দ্র ও এফপিটির পরীক্ষাকেন্দ্র একসঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন ব্যবহারিক চাহিদা পূরণ করে। নকশাকারদের বাস্তব চিপ পেতে উৎপাদনসেবায় প্রবেশাধিকার প্রয়োজন; এরপর চিপটি প্রত্যাশিতভাবে কাজ করছে কি না জানতে পরিমাপের দরকার হয়।
ভিয়েতটেলের নিরাপত্তা চিপ ও এআই অংশীদারত্ব
ভিয়েতটেল ও সরকারি সাইফার কমিটিও ৩ নভেম্বর দেশীয় নিরাপত্তা সেমিকন্ডাক্টর সক্ষমতার ঘোষণা দেয়। ভিয়েতটেলের VGC v1.0 নিরাপত্তা চিপে ৩০ কোটি ট্রানজিস্টর রয়েছে। এটি ২৮ ন্যানোমিটার উৎপাদন প্রক্রিয়ায় তৈরি এবং ১০ বাই ১০ মিলিমিটার মাপের প্যাকেজে বসানো হয়েছে।
উন্নয়নকারীদের ভাষ্য, পরীক্ষায় দেখা গেছে, শুধু সফটওয়্যারের মাধ্যমে একই কাজ করা সমাধানের তুলনায় চিপটি প্রায় ১৫ গুণ দ্রুত তথ্য এনক্রিপ্ট ও ডিক্রিপ্ট করতে পারে। এনক্রিপশনের মাধ্যমে পাঠযোগ্য তথ্যকে সুরক্ষিত তথ্যে রূপান্তর করা হয়, যা খুলতে সঠিক কী প্রয়োজন।
ভিয়েতটেল জানিয়েছে, সরকারি ও প্রতিরক্ষা সংস্থার জন্য নিরাপদ USB সংরক্ষণযন্ত্রে VGC v1.0 ইতিমধ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। ভিয়েতটেল ও সরকারি সাইফার কমিটি বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের পরিকল্পনা এবং একাধিক প্রসেসিং কোর ও বিশেষায়িত ক্রিপ্টোগ্রাফিক উপাদানসহ নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্ম তৈরির লক্ষ্যে একটি চুক্তি করেছে।
সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যাটফর্মে RISC-V ব্যবহার করা হয়েছে। এটি একটি উন্মুক্ত মান, যা প্রসেসর কোন নির্দেশনা চালাতে পারে তা নির্ধারণ করে। ভিয়েতটেলের ভাষ্য, এর ফলে তাদের প্রকৌশলীরা প্রসেসরের নকশা ও পরিবর্তন করতে পারবেন এবং কোরের নকশা ও যাচাইয়ের কাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবেন।
ভিয়েতটেলের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী তাও দুক থাং দেশীয় প্রযুক্তি গড়ে তোলার প্রতিষ্ঠানের উচ্চাকাঙ্ক্ষা তুলে ধরে বলেন:
দেরিতে শুরু করা মানেই অন্যের ওপর নির্ভরতা মেনে নেওয়া নয়,
ভিয়েতটেল কীভাবে এগোতে চায়, তা-ও তিনি তুলে ধরেন:
সঠিক কৌশল, নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক সম্পদ এবং ধারাবাহিক অঙ্গীকার থাকলে আমরা ধীরে ধীরে ব্যবধান কমাতে পারি এবং শেষ পর্যন্ত দেশের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ অর্জন করতে পারি।
ক্যামেরা, ড্রোন ও অন্যান্য স্মার্ট যন্ত্রের জন্য এআই চিপ যৌথভাবে তৈরির পরিকল্পনা জানুয়ারিতে ঘোষণা করেছিল এফপিটি ও ভিয়েতটেল। নকশা, উৎপাদন, পরীক্ষা ও প্যাকেজিং জুড়ে বিস্তৃত এই অংশীদারত্ব এফপিটির নতুন সেবাকে দেশের বৃহত্তর উন্নয়ন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করছে।
বৃহত্তর প্রযুক্তি গোষ্ঠীর নতুন ব্যবসা
বৃহত্তর ব্যবসায় প্রবৃদ্ধির খবরের মধ্যেই এফপিটির কারখানা কর্মসূচি এগোচ্ছে। ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে সমন্বিত আয় দাঁড়ায় ৪০,০২৩ বিলিয়ন ভিয়েতনামি ডং, যা প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের সমান; আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে ১২.৪ শতাংশ। কর-পূর্ব মুনাফা ১৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৮,৭৭০ বিলিয়ন ডং।
দেশীয় ও বিদেশি তথ্যপ্রযুক্তি সেবাসহ প্রযুক্তি বিভাগ থেকে এসেছে আয়ের ৮৯ শতাংশ এবং কর-পূর্ব মুনাফার ৫৮ শতাংশ। নতুন সেমিকন্ডাক্টর কার্যক্রমের পাশাপাশি বিদ্যমান সেবাভিত্তিক ব্যবসার আকারও এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে।
শিক্ষা, বিনিয়োগ ও অন্যান্য বিভাগে আয় ৩.১ শতাংশ কমে হয়েছে ৪,৫০৮ বিলিয়ন ডং, তবে কর-পূর্ব মুনাফা ১৭.৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩,৭১৯ বিলিয়ন ডং। বাক নিনের কারখানার আয় বা মুনাফার আলাদা হিসাব প্রকাশ করেনি এফপিটি।
পরবর্তী সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার অংশীদারের কাছ থেকে প্রত্যাশিত পরীক্ষার আদেশ এবং ডিসেম্বরে শুরুর পরিকল্পনা করা শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। পরবর্তী বছরগুলোতে পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বাড়ানো, প্যাকেজিং প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং কারখানা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে এফপিটির। ভিয়েতনামের চিপ নকশাকারীদের জন্য তাৎক্ষণিক পরিবর্তন হলো, এখন দেশে আরও একটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা পণ্য ঠিকভাবে কাজ করছে কি না এবং কঠিন পরিস্থিতি সহ্য করতে পারবে কি না, তা যাচাই করতে পারে।
মূল বিষয়
- বাক নিনে সেমিকন্ডাক্টর পরীক্ষা ও প্যাকেজিং কারখানায় ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়েছে এফপিটি।
- ১,৬০০ বর্গমিটারের কারখানাটিতে ছয়টি পরীক্ষার লাইন রয়েছে এবং বছরে সর্বোচ্চ ৩০ কোটি চিপ পরীক্ষার নকশাগত সক্ষমতা রয়েছে।
- প্রাথমিক সেবায় চিপের কার্যকারিতা, গুণমান ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে; দক্ষিণ কোরিয়ার এক অংশীদারের কাছ থেকে প্রথম পরীক্ষার আদেশ আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
- পরীক্ষার কর্মসূচি তৈরিতে সহায়তার জন্য এআই সরঞ্জাম তৈরি করছে এফপিটি এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।
- ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে কারখানার আয়তন প্রায় ৬,০০০ বর্গমিটারে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
- ভিয়েতনামের চিপ নকশা, প্রোটোটাইপ তৈরি ও নিরাপত্তা সেমিকন্ডাক্টর উদ্যোগের পাশাপাশি এই কারখানা দেশীয় পরীক্ষা সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।






